হানসি ক্রনিয়ে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
হানসি ক্রনিয়ে
Hansie Cronje.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামওয়েসেল জোহানেস ক্রনিয়ে
জন্ম(১৯৬৯-০৯-২৫)২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯
ব্লোমফন্তেইন, ফ্রি স্টেট, দক্ষিণ আফ্রিকা
মৃত্যু১ জুন ২০০২(2002-06-01) (বয়স ৩২)
ক্রাডক পিক, আউটেনিকুয়া মাউন্টেইন্স, দক্ষিণ আফ্রিকা
ডাকনামদ্য ঘোস্ট
উচ্চতা১.৯৩ মিটার (৬ ফুট ৪ ইঞ্চি)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার, অধিনায়ক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৩৭)
১৮ মে ১৯৯২ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট২ মার্চ ২০০০ বনাম ভারত
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১৫)
২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ ওডিআই৩১ মার্চ ২০০০ বনাম পাকিস্তান
ওডিআই শার্ট নং
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৮৭ - ২০০০ফ্রি স্টেট
১৯৯৫লিচেস্টারশায়ার
১৯৯৭আয়ারল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৬৮ ১৮৮ ১৮৪ ৩০৪
রানের সংখ্যা ৩,৭১৪ ৫,৫৬৫ ১২,১০৩ ৯,৮৬২
ব্যাটিং গড় ৩৬.৪১ ৩৮.৬৪ ৪৩.৬৯ ৪২.৩২
১০০/৫০ ৬/২৩ ২/৩৯ ৩২/৫৭ ৫/৩২
সর্বোচ্চ রান ১৩৫ ১১২ ২৫১ ১৫৮
বল করেছে ৩,৮০০ ৫,৩৫৪ ৯,৮৯৭ ৭,৬৫১
উইকেট ৪৩ ১১৪ ১১৬ ১৭০
বোলিং গড় ২৯.৯৫ ৩৪.৭৮ ৩৪.৪৩ ৩৩.৫০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৩/১৪ ৫/৩২ ৪/৪৭ ৫/৩২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩৩/– ৭৩/– ১২১/১ ১০৫/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২২ ডিসেম্বর ২০১৯

ওয়েসেল জোহানেস " হানসি " ক্রনিয়ে (ইংরেজি: Wessel Johannes "Hansie" Cronje; সেপ্টেম্বর ২৫, ১৯৬৯ - জুন ১, ২০০২) একজন দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকান জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন। তাকে একটি পাতানো খেলার ভূমিকা রাখার জন্য পেশাদার ক্রিকেট থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়। তাসত্ত্বেও ২০০৪ সালে ১১শ সফল দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে ভোট দেওয়া হয়েছিল। ২০০২ সালে বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছিল। ক্রনিয়ে মোট ৫৩টি টেস্ট খেলায় দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে নেতৃত্বে দিয়েছিলেন যার মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক ২৩টি জয় আর মাত্র ১১টি হার ছিল। তার অধিনায়কত্বে দলটি ৯৯টি ওয়ানডে জিতেছিল। তিনি এবং কোচ বব উলমার পারস্পরিক বোঝাপড়ায় অনন্য ছিলেন যা দক্ষিণ আফ্রিকাকে অনেকগুলো জয় এনে দিয়েছিল।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

সেপ্টেম্বর ২৫, ১৯৬৯ সালে, ক্রনিয়ের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার ব্লোমফন্টেইনে হয়েছিল। তার পিতা এভি ক্রনিয়ে এবং মাতা সান-মেরি ক্রনিয়ে ছিলেন। ১৯৮৭ সালে ব্লয়েমফন্টেইনের গ্রে কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন এবং তিনি হেড বয়ও ছিলেন। তার খেলোয়াড় জীবন সেই সময়েই শুরু হয়ে গিয়েছিল। তিনি তৎকালীন অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট প্রদেশের ক্রিকেট এবং স্কুল পর্যায়ে রাগবিতে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তিনি তার স্কুলের ক্রিকেট এবং রাগবি দলের অধিনায়কও ছিলেন। ক্রনিয়ে ফ্রি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তারা দুই ভাই এবং এক বোন ছিলেন, তার বড় ভাই ফ্রান্স ক্রনিয়ে এবং ছোট বোন হস্টার পার্সনস ছিলেন। তার পিতা ১৯৬০-এর দশকে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের হয়ে ক্রিকেট খেলেছিলেন এবং তার বড় ভাই ফ্রান্স প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটও খেলেছিলেন।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৮৮ সালের জানুয়ারিতে জোহানেসবার্গে, ক্রনিয়ে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ট্রান্সওয়ালের বিপক্ষে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। পরের মৌসুমে তিনি নিয়মিত ক্রিকেট খেলেছিলেন। তিনি আটটি কারি কাপের ম্যাচের সাথে বেনসন এবং হেজেস সিরিজেও অংশ হয়েছিলেন এবং চূড়ান্ত খেলায় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসাবে ৭৩ রানের স্কোর তার দলকে বিজয়ী হতে সাহায্য করেছিল। তবে ১৯৮৯-৯০ মৌসুমের শুরুটা তার ভালো ছিল না। প্রত্যেকটা কারি কাপ ম্যাচ খেলেও তিনি সেঞ্চুরি করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং তার গড় ছিল মাত্র ১৯.৭৬; তবে ওয়ানডতে তার গড় ৬০.১২ ছিল। সেই মৌসুমে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলির হয়ে মাইক গ্যাটিংয়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী দলের বিরুদ্ধে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন।[১]

১৯৯৭ সালে, ক্রনিয়ে আয়ারল্যান্ডের হয়ে বেনসন ও হেজেস কাপে বিদেশী খেলোয়াড় হিসাবে খেলেছিলেন এবং মিডলসেক্সের বিরুদ্ধে ৪৬ রানের জয় ছিনিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল। তিনি ৯৪ রান করে অপরাজিত থেকে যান এবং তিন উইকেট তুলে নেন।[২] ইংলিশ কাউন্টি প্রতিপক্ষীয় দলের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের এটি ছিল প্রথম জয়।[৩] পরে সেই মৌসুমে তিনি ৮৫ রান করেছিলেন এবং গ্ল্যামারগানের বিপক্ষে একটি উইকেট নিয়েছিলেন।[৪]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৯১-৯২ মৌসুমে, ক্রনিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন বিশেষত ওয়ানডতে তার গড় ছিল ৬১.৪০, ফলে ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার ডাক পেলেন, সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল তার। প্রতিযোগিতা চলাকালীন তিনি দলের নয়টি আটটি খেলায় ব্যাট হাতে গড়ে ৩৪.০০ রান এবং ২০ ওভার বোলিংও করানো হয়েছিল।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

৮ এপ্রিল ১৯৯৫ সালে, হানসি ক্রনিয়ে বার্থা হান্সকে বিবাহ করেছিলেন। তাদের কোনও সন্তান ছিল না। পরে ২০০৩ সালে ক্রনিয়ের বিধবা পত্নী জ্যাক ডু প্লেসিস নামীয় এক আর্থিক নিরীক্ষককে বিয়ে করেন। শোনা যায় সেই বিবাহ অনুষ্ঠানে ক্রনিয়ের বাবা-মা, ভাই এবং বোন উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "South African Universities v England XI, England XI in South Africa 1989/90"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১০ 
  2. "Ireland v Middlesex, Benson and Hedges Cup 1997 (Group D)"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১০ 
  3. James, Daniel (৩০ এপ্রিল ১৯৯৭)। "Irish 'weekend amateurs' enjoy historic success"। Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১০ 
  4. "Glamorgan v Ireland, Benson and Hedges Cup 1997 (Group D)"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

পূর্বসূরী
কেপলার ওয়েসেলস
দক্ষিণ আফ্রিকান টেস্ট ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৯৪/৯৫ - ১৯৯৯/২০০০
উত্তরসূরী
শন পোলক
পূর্বসূরী
কেপলার ওয়েসেলস
দক্ষিণ আফ্রিকান ওডিআই অধিনায়ক
১৯৯৪ - ২০০০
উত্তরসূরী
শন পোলক