পাক সার জমিন সাদ বাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পাক সার জমিন সাদ বাদ
পাক সার জমিন সাদ বাদ (২০০৪).jpg
লেখকহুমায়ুন আজাদ
মূল শিরোনামপাক সার জমিন সাদ বাদ
প্রচ্ছদ শিল্পীসমর মজুমদার
দেশবাংলাদেশ
ভাষাবাংলা
বিষয়ধর্মীয় মৌলবাদ
ধরনউপন্যাস
প্রকাশিতফেব্রুয়ারি ২০০৪
প্রকাশকআগামী প্রকাশনী
মিডিয়া ধরনছাপা (শক্তমলাট)
পৃষ্ঠাসংখ্যা১১২[১]
আইএসবিএন৯৮৪-৭-০০০-৬০০২১-৯ আইএসবিএন বৈধ নয়
ওসিএলসি৮০৮১০৯৪৯৭
পূর্ববর্তী বই১০,০০০, এবং আরো ১টি ধর্ষণ (২০০৩) 
পরবর্তী বইএকটি খুনের স্বপ্ন (২০০৪) 

পাক সার জমিন সাদ বাদ হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি উপন্যাস। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের[২] একুশে গ্রন্থমেলায় বাংলাদেশের আগামী প্রকাশনী, ঢাকা থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতাকারী ​​একটি মৌলবাদী রাজনৈতিক দলের উপর ভিত্তি করে এটি রচিত হয়।[৩]

হুমায়ুন আজাদ এই উপন্যাসটি উৎসর্গ করেছিলেন '১৯৭১' সালকে; পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীতের নামানুসারে এই উপন্যাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে কটাক্ষ করা হয়েছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

শিরোনাম

উপন্যাসের শিরোনাম কওমী তারানা নামে একটি সঙ্গীত থেকে নেয়া হয়েছে যেটি পাক সার জমিন নামে বেশি পরিচিত এবং পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে ব্যবহৃত। ১৯৫২ সালে পাকিস্তানি উর্দু ভাষার কবি, হাফিজ জলন্ধরি কর্তৃক এটি রচিত হয়।[৪]

বিষয়বস্তু

এই উপন্যাসটিতে হুমায়ুন আজাদ তীব্র রূপক-ঋণাত্মক ভাবে বাংলাদেশের একটি কাল্পনিক মৌলবাদী সংগঠনের চিত্র তুলে ধরেছিলেন।

উপন্যাসটির প্রধান নায়ক একটি কাল্পনিক ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের সদস্য থাকে যে একটি হিন্দু মেয়ের প্রেমে পড়ে উপন্যাসটির শেষের দিকে তাকে বিয়ে করে এবং ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলটি ত্যাগ করে।

সমালোচনা

এই বই গ্রন্থাকারে প্রকাশের পূর্বে দৈনিক ইত্তেফাকে পাক সার জমিন সাদ বাদ ছাপা হওয়ার পর সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী আমির এবং প্রাক্তন সংসদ সদস্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী জাতীয় সংসদে এই ধরণের বই নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে মন্তব্য রাখেন।[৫] বইটির জের ধরে ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত বইমেলা থেকে বেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজের বাসায় যাওয়ার পথে ঘাতকদের দ্বারা আক্রমণের শিকার হন হুমায়ুন আহমেদ। প্রথমে বাংলাদেশের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, ঢাকাতে[৬] এবং পরে থাইল্যান্ডে নিবিড় চিকিৎসার মাধ্যমে হুমায়ুন আহমেদ কিছুটা সুস্থ হন। জামাত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশ সংক্ষেপে জেএমবি নামক ইসলামি জঙ্গী সংগঠনের একজন শীর্ষনেতা শায়খ আব্দুর রহমান পরবর্তীতে হুমায়ুন আজাদ এবং একইসাথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম ইউনুসকে হত্যার নির্দেশ দেবার কথা স্বীকার করেন।[৭]

পরে ২০০৪ সালের জুলাই মাসের শেষের দিকে হুমায়ুন আজাদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের কাছে একটি আবেগী চিঠি লেখেন। এতে তিনি বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান এবং নিজের ও তার পরিবারের সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করেন।

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে

২০১১ সালে হুমায়ুন আজাদের পাক সার জমিন সাদ বাদ উপন্যাস অবলম্বনে অনৈতিহাসিক শিরোনামে একটি মঞ্চনাটক তৈরি হয়েছে।[৮]

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

  1. "পাক সার জমিন সাদ বাদ - হুমায়ুন আজাদ"রকমারী.কম 
  2. মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম (২০১২)। "আজাদ, হুমায়ুন"। ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওএল 30677644Mওসিএলসি 883871743 
  3. Umme Sadat, Nazmun Nahar, Al-wazedi (২০০৮)। Hearing 'subaltern' Voices of Resistance in the Works of Mahasweta Devi, Taslima Nasrin and Monica Ali। পৃষ্ঠা ১৪৯। 
  4. "Information of Pakistan"। Infopak.gov.pk। ২৬ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ জুন ২৩, ২০১৩ 
  5. পার্থ সঞ্জয় (আগস্ট ১২, ২০১২)। "হুমায়ুন আজাদ হত্যার বিচার না হওয়ায় পরিবারের হতাশা"একাত্তর টিভি। ১৫ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৫ 
  6. "President, PM visit Prof Azad at CMH"দ্য ডেইলি স্টার। ৪ মার্চ ২০০৪। সংগ্রহের তারিখ ৪ মার্চ ২০২০ 
  7. "জেএমবি নেতার স্বীকারোক্তি"বিবিসি। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০১-০৬ 
  8. "'পাক সার জমিন সাদ বাদ' নিয়ে নাটক মঞ্চে আসছে"দৈনিক প্রথম আলো। আগস্ট ৩, ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ