কুড়মালি ভাষা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কুড়মালি ভাষা
মাতৃভাষী

এই জনগণনায় বাংলা, ওড়িয়া এবং হিন্দিভাষীদের সাথে কিছু কুড়মালিভাষীকে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
দেবনাগরী, বাংলা, ওড়িয়া, অসমিয়া, কৈথি, চিসই
সরকারি অবস্থা
সরকারি ভাষা
 ভারত
ভাষা কোডসমূহ
আইএসও ৬৩৯-৩দুইয়ের মধ্যে এক:
kyw – কুড়মালি
tdb – পাঁচপরগনিয়া
গ্লোটোলগkudm1238  (কুড়মালি)[১]
panc1246  (পাঁচ পরগনিয়া)[২]
Kudmali language region.svg
ভারতের কুড়মালি-ভাষী অঞ্চল

কুড়মালি (দেবনাগরী: कुड़मालि, বাংলা: কুর্মালী, কুড়মালি, ওড়িয়া: କୁଡ଼ମାଲି/କୁର୍ମାଲି, kur(a)mālī) বিহারি ভাষাদলের অধীনস্থ একটি ইন্দো-আর্য শ্রেণীভুক্ত ভাষা। যদিও আধুুনিক গবেষকদের একাংশ গবেষক মনে করেন, মুল কুড়মালি ভাষার উৎস আর্য, দ্রাবিড়, এমনকি মুন্ডা অস্ট্রিক কোনো ভাষা পরিবারের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায় না।[৩] [৪] পূর্ব ভারতে ব্যবহৃত এই ভাষাটি ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুড়মি মাহাতো সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্কিত। মূলত কুড়মি মাহাতো সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা কুড়মালি ভাষা হলেও ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলের বিশেষ করে পুরুলিয়া জেলার আড়সা, ঝালদা, জয়পুর ও বাঘমুণ্ডি। এছাড়াও ঝাড়খণ্ডে এখনও ডম, ঘাসি, কুমহার, জলহা প্রভৃতি সম্প্রদায়ের মাতৃভাষাও কুড়মালি ভাষা। এছাড়াও মহারাষ্ট্র, আসাম, বাংলাদেশ ও নেপালেও অত্যল্প পরিমানে কুড়মি মাহাতো জনগোষ্ঠীর মধ্যে কুড়মালি ভাষার প্রচলন রয়েছে। কুড়মি মাহাতোরা, মাহাতো, মোহান্ত এবং মহন্ত নামেও পরিচিত যাদের অত্যল্প পরিমাণ মহারাষ্ট্র, আসাম, বাংলাদেশ ও নেপালেও বসবাস করেন। চা বাগানের শ্রমিক হিসেবে এসব অঞ্চলের কুড়মি সম্প্রদায়ের আসামে আগমন ঘটলে সেখানকার চা বাগান ও অন্যান্য অঞ্চলে এ ভাষা ছড়িয়ে পড়ে।[৫] কুড়মালি ভাষাটি চর্যাপদে ব্যবহৃত ভাষার নিকটতম রূপ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন।[৬] পাঁচটি অঞ্চল বা তামারিয়ায় এই ভাষা প্রচলিত থাকায় এটি পাঁচপরগনিয়া নামক একটি বাণিজ্যিক উপভাষা হিসেবে স্বীকৃত। কুড়মালি ভাষার বক্তা পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশার প্রান্তিক অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে। যেগুলোতে বাংলা, নাগপুরি ও ওড়িয়া ভাষার প্রাধান্য রয়েছে। তাই দ্বান্দ্বিক পরিবর্তন এবং ভাষার পরিবর্তনও লক্ষ্য করা গেছে। যেহেতু ছোটনাগপুরের কুড়মিরা নিজেদেরকে কুড়মালি ভাষার বক্তা হিসেবে পরিচয় দেয়। জঙ্গলমহলের মানুষেরা জঙ্গলমহলে বিশেষ করে মানভূম অঞ্চলে তাদের বহুকাল ধরে বসবাসের কারণে তাদের ভাষায় বাংলার ভাষার প্রভাব পড়েছে। যেমনটি বাংলা ও ওড়িয়া সংমিশ্রণে উত্তর ওড়িশায় হয়েছিল। কুড়মিরা পূর্বে তাঁদের নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র ভাষায় কথা বলতো, যা ইন্দো-আর্য, মুন্ডা বা দ্রাবিড় কোনও ভাষা পরিবারেরই সদস্য ছিল না। পরবর্তীতে কুড়মিরা তাদের আদিভাষা ত্যাগ করে একটি মিশ্রিত ইন্দো-আর্য ভাষারূপকে গ্রহণ করে, যার মধ্যে তাঁদের আদিভাষার বৈশিষ্ট্যগুলির একটি স্তর আজোও রয়ে গেছে।[৭]

ভৌগোলিক বিস্তৃতি[সম্পাদনা]

দক্ষিণ-পূর্ব ঝাড়খণ্ডের সরাইকেল্লা খরসোয়া, পূর্ব সিংভূম, পশ্চিম সিংভূমরাঁচি জেলা এবং উত্তর-পূর্ব উড়িষ্যার ময়ূরভঞ্জ, কেন্দুঝর, যাজপুর, সুন্দরগড় জেলা উপরন্তু পশ্চিম বঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রামপশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় কুড়মালি ভাষা ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও মহারাষ্ট্র, আসাম, বাংলাদেশ ও নেপালেও অত্যল্প পরিমানে কুড়মালি ভাষা প্রচলিত রয়েছে।

ময়ূরভঞ্জের কুড়মালি উপ কথ্যভাষা[সম্পাদনা]

ময়ূরভঞ্জ অঞ্চলের কুড়মালি উপ কথ্যভাষার সাথে মানভূমের কুড়মালি ঠারের সাথে অনেকটাই মিল পাওয়া যায়।[৮]

বাণিজ্যিক ভাষা[সম্পাদনা]

বাণিজ্যিক উপভাষা হল ব্যবসা এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ব্যবহৃত লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কাবিশেষ। ঝাড়খণ্ডের রাঁচি জেলার বুন্ডু, তামাড়, সিল্লি, সোনাহাতু, অর্কি এবং আঙ্গারা ব্লকে যোগাযোগের সাধারণ ভাষা পাঁচপরগনিয়া ব্যবহার করা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. হ্যামারস্ট্রোম, হারাল্ড; ফোরকেল, রবার্ট; হাস্পেলম্যাথ, মার্টিন, সম্পাদকগণ (২০১৭)। "কুড়মালি"গ্লোটোলগ ৩.০ (ইংরেজি ভাষায়)। জেনা, জার্মানি: মানব ইতিহাস বিজ্ঞানের জন্য ম্যাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট। 
  2. হ্যামারস্ট্রোম, হারাল্ড; ফোরকেল, রবার্ট; হাস্পেলম্যাথ, মার্টিন, সম্পাদকগণ (২০১৭)। "পাঁচ পরগনিয়া"গ্লোটোলগ ৩.০ (ইংরেজি ভাষায়)। জেনা, জার্মানি: মানব ইতিহাস বিজ্ঞানের জন্য ম্যাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট। 
  3. Paudyal, Netra P.; Peterson, John (২০২০-০৯-০১)। "How one language became four: the impact of different contact-scenarios between "Sadani" and the tribal languages of Jharkhand"Journal of South Asian Languages and Linguistics (ইংরেজি ভাষায়)। 7 (2): 327–358। আইএসএসএন 2196-078Xডিওআই:10.1515/jsall-2021-2028 
  4. Alam, Qaiser Zoha (১৯৯৬)। Language and Literature: Divers Indian Experiences (ইংরেজি ভাষায়)। Atlantic Publishers & Dist। আইএসবিএন 978-81-7156-586-3 
  5. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Ethnologue নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  6. Basu, Sajal (১৯৯৪)। Jharkhand movement: ethnicity and culture of silence – Sajal Basu – Google Booksআইএসবিএন 9788185952154। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১২ 
  7. Paudyal, Netra P.; Peterson, John (২০২০-০৯-০১)। "How one language became four: the impact of different contact-scenarios between "Sadani" and the tribal languages of Jharkhand"Journal of South Asian Languages and Linguistics (ইংরেজি ভাষায়)। 7 (2): 327–358। আইএসএসএন 2196-078Xডিওআই:10.1515/jsall-2021-2028 
  8. Grierson, George Abraham (১৯২৮)। "Linguistic Survey of India"Nature121 (3055): 173। এসটুসিআইডি 4079658ডিওআই:10.1038/121783a0বিবকোড:1928Natur.121..783T