অহীরা গান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

অহীরা গান বা কপিলা গীত বা ডহরিয়া গীত ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্য এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলার কুর্মী, ভূমিজ, লোধা প্রভৃতি জনজাতির বাঁধনা পরব নামক কৃষিভিত্তিক উৎসবের লোকসঙ্গীত।

রীতি[সম্পাদনা]

বাঁধনা পরবে অহীরা গান গরুদের জাগরণের উদ্দেশ্যে পুরুষকন্ঠে সমবেত কন্ঠে মাদল, ধামসা, ধোল, ঝুমকা ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র সহকারে গাওয়া হয়ে থাকে। রাখাল বা পশুপালক শ্রেণীর এই সকল গায়কদের স্থানীয়দের ভাষায় ধাঁগড় বলা হয়ে থাকে। কৃষি সহায়ক হিসেবে গোরুদের স্তুতি, গৃহস্থের সমৃদ্ধি কামনা এবং গৃহকর্তার নিকট অর্থ প্রত্যাশাই এই গানের বিষয়বস্তু। ধাঁগড়রা একটি স্তাবক গাওয়ার পর বাদ্যযন্ত্রগুলি বাজানো হয়ে থাকে, আবার বাজনা বন্ধ হলে আবার গাওয়া হয়, এই রীতিতে অহীরা গীত গাওয়া হয়ে থাকে। বিদায়বেলায় তাদের খাদ্য ও অর্থ প্রদান করা হয়ে থাকে। গরু জাগরণের গানগুলি ছাড়াও কথোপকথনমূলক বা প্রশ্নোত্তরমূলক অহীরা গীতের প্রচলনও আছে। এই ধরনের গানে গরুর জীবন প্রণালী ও বৈশিষ্টি প্রশ্নোত্তরের মতন করে ব্যাখ্যা করে করে গাওয়া হয়ে থাকে।[১]:৭৩,৭৪

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

অহীরা গানের ধারা প্রাচীন। সুনির্দিষ্ট সময় ছাড়া এই গান পরিবেশিত হয় না। এই গান লিখে রাখার রীতি না থাকলেও এই গানের নতুন সংস্করণ কখনো তৈরী হয়না। মুলতঃ আচারধর্মী এই সমস্ত প্রাচীন গানের ভাষায় মৈথিলী ভাষার প্রভাব রয়েছে। পরিবর্তনশীল না হওয়ায় এই গানের ভাষা প্রাচীন রয়ে গেছে, তাই অনেক সময় গানের অর্থ দুর্বোধ্য থেকে যায়।[১]:৭৩,৭৪ এই গানের সুরের বৈচিত্র্যও খুব বেশি নেই।[২]:৮৩

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দিলীপ কুমার গোস্বামী, সীমান্ত রাঢ়ের লোকসংস্কৃতি, প্রকাশক- পারিজাত প্রকাশনী, বিদ্যাসাগর পল্লী, পুরুলিয়া-৭২৩১০১, প্রথম প্রকাশ- ২৪শে ডিসেম্বর, ২০১৪
  2. ডঃ বঙ্কিমচন্দ্র মাহাতো, ঝাড়খণ্ডের লোকসাহিত্য, প্রথম বাণীশিল্প শোভন সংস্করণ, জানুয়ারী, ২০০০