আব্দুর রহমান মুবারকপুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আব্দুর রহমান মুবারকপুরী (রহ.) (উর্দু:عبد الرحمن مبارکپوری) ইলমে হাদিসের অন্যতম দিকপাল,সুনানে তিরমিযির বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ তুহফাতুল আহওয়াযির লেখক ও একজন অগ্রগণ্য মুহাদ্দিস।

আল মুহাদ্দিস, আল আল্লামাহ

আব্দুর রহমান মুবারকপুরী

(রহ.)
Abdur Rahman Mubarakpuri Arabic Calligraphy Name.jpg
ব্যক্তিগত
জন্ম১৮৬৫
মৃত্যু১৯৩৫
ধর্মইসলাম
জাতিসত্তাব্রিটিশ ভারত
অঞ্চলভারত
আখ্যাআহলুল হাদিস
ধর্মীয় মতবিশ্বাসআছারি
প্রধান আগ্রহফিকহ, হাদিস
উল্লেখযোগ্য কাজতুহফাতুল আহওয়াযি

জার্মানির বন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক,বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়কার এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর,এছাড়াও মরক্কোর পঞ্চম মুহাম্মেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার,ভারতের নাদওয়াতুল ওলামার শিক্ষক সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ডঃ তাকিউদ্দীন হেলালী(রহ.)[১] বলেন,

میں اپنے رب کو شاھد بنا کر کھتا ھوں ہمارے شیخ عبدالرحمن بن عبد الرحيم مبارك پوری اگر تیسری صدى هجری کی شخصیت ھوتے تو آپ کی تمام وہ حدیثیں جنہیں آپ نبی كريم صلى الله عليه وسلم. سے یا آپ کے صحابه رضوان الله عليهم سے روایت کرتے صحیح ترین احادیث هوتیں اور ھر وہ چیز جسے آپ روایت کرتے، حجت بنتی اور اس بات میں دو آدمیوں کا بھی اختلاف نه هوتا

অনুবাদঃ "আমি আমার প্রভুকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমাদের শিক্ষক আব্দুর রহমান বিন আব্দুর রহীম মুবারকপুরী যদি হিজরী তৃতীয় শতকের ব্যক্তিত্ব হতেন, তাহলে তাঁর ঐ সকল হাদিস যেগুলি তিনি নবী করীম (সা.) অথবা তাঁর ছাহাবাগণের (রা.) কাছ থেকে বর্ণনা করতেন, সেগুলি বিশুদ্ধতম হাদিস হতো এবং তিনি যা কিছু বর্ণনা করতেন তা প্রামাণ্য বলে বিবেচিত হত এবং সে ব্যাপারে দু'জন ব্যক্তিরও মতভেদ হতো না।"[২]

তাকাউদ্দীন হেলালী(রহ.) এর বক্তব্য থেকে মুবারকপুরী(রহ.) এর ইলম,সত্যবাদীতা,ন্যায়পরায়ণতার এক সুন্দর চিত্র ফুটে উঠে।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

জন্ম ও শৈশব[সম্পাদনা]

মুবারকপুরকে ভারতের অন্যতম ইলমী অঞ্চল বললে তাতে দূষণীয় কিছু হবে না।মুবারকপুরের সম্ভ্রান্ত ইলমী পরিবারেই ১৮৬৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন হাদিস শাস্ত্রের অন্যতম দিকপাল আল্লামা আব্দুর রহমান মুবারকপুরী(রহ.)।তিরমিযির বিশ্ববিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ তুহফাতুল আহওয়াযি লিখে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন আরব-আজম সর্বত্র। তার পিতা আব্দুর রহিম ছিলেন বিশিষ্ট কারী ও আলিম।দাদা হাজি শায়খ বাহাদুরও ছিলেন বিশিষ্ট বিদ্বান।এই ইলমি পরিবারে জন্মগ্রহণ করে নিজের ইলমী দ্যুতি জগতময় ছড়িয়েছেন যিনি তিনিই হলেন আল্লামা আব্দুর রহমান মুবারকপুরী(রহ.)।[৩] অত:পর বাল্যকালেই জ্ঞানার্জনের দিকে ঝুকে পড়েন তিনি।ধীরে ধীরে হয়ে উঠেন হাদিস শাস্ত্রের এক কান্ডারী।

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

বাল্যকালেই পিতার কাছ থেকে অর্জন করা শুরু করেন।ছোট্ট বয়সেই হিফয করেন কুরআন। এছাড়া উর্দু আর ফারসী ভাষা শিখে পড়া শুরু করেন উর্দু আর ফারসি ভাষার বিভিন্ন বই।

পিতা ও মুবারকপুরের অন্যান্য বিদ্বানদের নিকট থেকে সাহিত্য রচনা ও চরিত্র গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে ফারসি বইগুলো পড়ে ফেলেন।সেসময় সহপাঠীদের ছাড়িয়ে যান আব্দুর রহমান মুবারকপুরী। অত:পর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার বিদ্বানদের কাছ থেকে তিনি নাহু,ছরফ,ফিকহ,উসুলে ফিকহ,মানতেক প্রভৃতি সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করেন।

এরপর আরো উচ্চ শিক্ষার জন্য তিনি চলে যান গাযীপুরে।সেখানে তখন চাশমায়ে রাহমাত মাদরসার খ্যাতি ছিলো তুঙ্গে। সেখানে শিক্ষকতা করতেন ভারতের অন্যতম শিক্ষাগুরু উস্তাযুল আসাতিযা হাফেয আব্দুল্লাহ গাযীপুরি (রহ.)।তাঁর একান্ত সহচার্যে পাঁচ বছর কাল সময় নিয়ে নাহু,ছরফ,ইলমে মাআনী,মানতেক,সাহিত্য,দর্শন,অংক,ফিকহ,উসুলে ফিকহ,হাদিস,উসুলে হাদিস,তাফসির,উসুলে তাফসির ইত্যাদিতে অগাধ জ্ঞান ও পান্ডিত্য লাভ করেন।দীর্ঘ এই শিক্ষা জীবনেই তিনি ইলমে দ্বীনের বিস্তীর্ণ অংশের বুৎপত্তি লাভ করেন।অত:পর হাফেয(রহ.) এর নির্দেশে তিনি গমন করেন দিল্লিতে।যেখানে তখন অবস্থান করছিলেন সে সময়ের ভারতবর্ষের হাদিস শাস্ত্রের একচ্ছত্র সম্রাট, সর্বকালের সেরা বিদ্বান খ্যাত সাইয়েদ নাজীর হুসাইন দেহলভী (রহ.)। মাত্র ১৯ বছরের টগবগে যুবক মিয়া সাহেবের সহচার্য লাভ করে ডুব দেন ইলমে সাগরে।তিনি তাঁর কাছ থেকে ছহীহ বুখারী, ছহীহ মুসলিম, জামে তিরমিযী, সুনানে আবূ দাউদ, নাসাঈ'র শেষাংশ, ইবনু মাজাহ'র প্রথমাংশ, মিশকাতুল মাছাবীহ, বুলূগুল মারাম, তাফসীরে জালালাইন, তাফসীরে বায়যাবী, হেদায়া'র প্রথমাংশ, নুখবাতুল ফিকারের অধিকাংশ ভাষ্য অধ্যয়ন করেন এবং কুরআন মাজীদের ২৪ পারা পর্যন্ত তর্জমা শুনান। ১৩০৬ হিজরীতে তিনি তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা সমাপনী সনদ ও ইজাযাহ লাভ করেন। এছাড়া তিনি ১৩১৩ হিজরিতে মুহাম্মদ বিন আব্দুল আযিয মিছলিশহরী(রহ.) এবং ১৩১৪ হিজরিতে কাযী হুসাইন বিন মহসিন আনসারী ইয়ামানী(রহ.) এর নিকট থেকেও ইজাযাহ লাভ করেন।

পূর্ণাঙ্গতা পায় ইলমের।[৪]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

ভারতীয় উপমহাদেশে হাদিস চর্চা,হাদিসের প্রচার প্রাসারের অন্যতম অতন্দ্র প্রহরী আল্লামা আব্দুর রহমান মুবারকপুরী(রহ.)।ইলমে হাদিসের খিদমাত তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত করে গেছেন।লেখনী ও দারসের ময়দানের এই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ১৯৩৫ সালের ২২ জানুয়ারি ইহধাম ত্যাগ করেন।পতন হয় ইলমে হাদিসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের।[৫][৬]

কর্ম জীবন[সম্পাদনা]

শিক্ষকতা[সম্পাদনা]

শিক্ষায় ইতি টেনে মুবারকপুরী(রহ.) শুরু করেন দারস তাদরীসের কাজ।১৯০৬ সালে তার পিতা হাফেয আব্দুর রহিম প্রতিষ্ঠা করেন 'মাদরাসা দারুত তা'লীম'। সেখানেই প্রথমে শুরু করেন শিক্ষকতার।এরপর নিজেই বিভিন্ন জায়গায় মাদরাসা প্রতিষ্ঠা শুরু করেন এবং ইলমে হাদিসের প্রসারে রখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।[৭]

তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'ফায়যুল উলুম','জামিআ সিরাজুল উলুম' সহ আরো অনেক মাদরাসা।[৮]অত:পর মিয়া সাহেবের অপর ছাত্র ইবরাহিম আরাভী(রহ.) কর্তৃক বিহারে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা আহমাদিয়ায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।সে সময় উক্ত মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের ভূমিকায় ছিলেন তারই উস্তায হাফেয আব্দুল্লাহ গাযীপুরি(রহ.)।[৯]এছাড়াও মুবারকপুরী(রহ.) কলকাতার 'দারুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ' মাদরাসায়ও কয়েক বছর শিক্ষকতা করেন।[১০][১১]

উল্লেখ্য সে সময় সমগ্র বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়ে আব্দুর রহমান মুবারকপুরী(রহ.) এর সুনাম ও সুখ্যাতি। তৎকালীন সৌদি বাদশাহ আব্দুল আযিয তাকে মসজিদুল হারাম অর্থাৎ কাবা ঘরে হাদিসের দারস দেওয়ার জন্য আহবান জানান। কিন্তু সে সময় তিনি তুহফাতুল আহওয়াযি লেখার কাজে ব্যস্ত ছিলেন তাই বাদশাহর আহবান ফিরিয়ে দেন।[১২]

এ সুদীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে বহু ছাত্র তাঁর কাছ থেকে ইলমে দ্বীন অর্জন করেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হ'লেন[১৩][১৪][১৫][১৬][১৭]

১. 'সীরাতুল বুখারী' (ইমাম বুখারীর জীবন চরিত) গ্রন্থের রচয়িতা মাওলানা আব্দুস সালাম মুবারকপুরী

২. মিশকাতের বিশ্ববিশ্রুত আরবী ভাষ্য ‘মি র'আতুল মাফাতীহ'-এর রচয়িতা আল্লামা ওবাইদুল্লাহ মুবারকপুরী

৩. জার্মানীর বন ইউনিভার্সিটির আরবী ভাষার অধ্যাপক ডঃ মুহাম্মাদ তাকিউদ্দীন বিন আব্দুল কাদের আল-হেলালী আল-মাগরেবী।

৪. উর্দূ ভাষায় রচিত 'আহলেহাদীছ আওর সিয়াসাত' (আহলেহাদীছ ও রাজনীতি) গ্রন্থের রচয়িতা মাওলানা নাযীর আহমাদ রহমানী আমলুবী ।

৫. হাফেয আব্দুল্লাহ নাজদী অতঃপর মিসরী।

৬. রুকাইয়া বিনতে আল্লামা খলীল ।

৭. মাওলানা আব্দুল জব্বার গোন্দলবী জয়পুরী।

৮. মাওলানা আব্দুস সামী' মুবারকপুরী (ইনি 'তুহফাতুল আহওয়াযি'র মুকাদ্দিমা খণ্ডের শেষে আল্লামা মুবারকপুরীর তথ্যবহুল জীবনী লিখেছেন)।

৯. মাওলানা মুহাম্মাদ আমীন আছরি

১০. মাওলানা আমীন আহসান ইছলাহী।

১১. মাওলানা মুহাম্মাদ ইসহাক আছারী

১২. মাওলানা শাহ্ মুহাম্মাদ সিরয়ানবী।

১৩. মাওলানা আব্দুর রাযযাক ছাদেকপুরী ।

১৪. মাওলানা আব্দুছ ছামাদ মুবারকপুরী।

১৫. মাওলানা আব্দুর রহমান নগরনাহসাবী।

১৬. মাওলানা মুহাম্মাদ বাশীর মুবারকপুরী।

১৭. মাওলানা আবূ নু'মান আব্দুর রহমান মউবী।

১৮. মাওলানা নে'আমাতুল্লাহ বারদোয়ানী।

১৯. মাওলানা মুহাম্মাদ ইসমাঈল মুবারকপুরী ।

২০. মাওলানা আব্দুল হাকীম ফতেহপুরী।

২১. মাওলানা মুহাম্মাদ জা'ফর টোংকী ।

২২. মাওলানা মুহাম্মাদ আছগার মুবারকপুরী ।

২৩. মাওলানা হাকীম ইলাহীবখ্শ মুবারকপুরী প্রমুখ।

ইলমী খিদমাত[সম্পাদনা]

দারস তাদরীসের পাশাপাশি আল্লামা মরহুম ছিলেন এক কলম সৈনীক।লেখনী ও গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে তিনি আঞ্জাম দিয়েছেন ইলমী খিদমাতের।

গ্রন্থ রচনা[সম্পাদনা]

আরবী গ্রন্থ সমূহঃ

আল্লামা মুবারকপুরী(রহ.) শামসুল হক আযিমাবাদী(রহ.) লিখিত সুনানে আবু দাউদের বিশ্ব বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ আওনুল মাবুদ রচনার সময় তাকে সহায়তা করেছেন এ বিষয়ে বিশেষ খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন।[১৮][১৯]

সুনানে তিরমিযির এক নিরপেক্ষ,বিশ্বস্ত ও গ্রহণযোগ্য শরাহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ এটি।যা আল্লামার অনন্য খিদমত,ওলামায়ে হিন্দ ও ওলামায়ে আহলে হাদিসেরও অবিস্মরণীয় খিদমাত।আল্লামা আনুয়ার শাহ কাশ্মীরী আল হানাফি(রহ.) যেখানে আল আরফুশ শাযী নামে তিরমিযির ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন এবং তাতে মাযহাবের মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন সে দিক থেকে বিচারে তুহফাতুল আহওয়াযি একটি নিরপেক্ষ ও প্রামাণ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থই বটে।আর তার স্বীকার উক্তি খোদ ওলামায়ে আহনাফদের আকাবির থেকেই পাওয়া যায়।

আবুল হাসান আলী নদভী(রহ.) লিখেছেন,

ولعلماء الهند في هذا العصر مؤلفات جليلة في فنون الحديث وشروح لأمهات كتبه تلقاها العلماء بالقبول، منها عون المعبود في شرح سنن أبى داود و تحفة الأحوذي في شرح سنن الترمذي للعلامة عبد الرحمن المباركفوري و مرعاة المفاتيح في شرح مشكاة المصابيح لشيخ الحديث مولانا عبيد الله المباركفورى

অনুবাদঃ "এ যুগে ইলমে হাদিসেরর বিভিন্ন বিষয়ে এবং হাদিসের উৎসগ্রন্থগুলির ভাষ্য প্রণয়নে ভারতের ওলামায়ে কেরামের গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলী রয়েছে, যেগুলিকে ওলামায়ে কেরাম সানন্দে গ্রহণ করেছেন। তন্মধ্যে সুনানে আবূদাউদের ভাষ্য 'আওনুল মাবূদ', আল্লামা আব্দুর রহমান মুবারকপুরী রচিত সুনানে তিরমিযীর ভাষ্য 'তুহফাতুল আহওয়াযী' এবং শায়খুল হাদীছ মাওলানা ওবাইদুল্লাহ মুবারকপুরী রচিত 'মিশকাতুল মাছাবীহ'-এর ভাষ্য মিরআতুল মাফাতীহ' অন্যতম।"[২০]

এই গ্রন্থখানাই বিশ্বব্যাপী আব্দুর রহমান মুবারকপুরী(রহ.) এর খ্যাতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।তার বিদ্যাবত্তার সুখ্যাত আরব থেকে আজম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে!

  • أبكار المنن في تنقيد آثار السنن(আবকারুল মিনান) রচনাঃ

আবকারুল মিনান গ্রন্থটি মূলত যহীর আহসান নিমবী হানাফি রচিত 'আসারুস সুনান" গ্রন্থের পর্যালোচনা ও খন্ডনে লিখেন।মূলত আসারুস সুনান গ্রন্থটি যহীর আহসান সাহেব হানাফি মাযহাবকে মদদপুষ্ট করতে লিখেছেন।যেখানে অসংখ্য সহিহ হাদিসকে বাতিল করার অপচেষ্টা ও অসংখ্য যঈফ ও জাল হাদিসকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন।মুবারকপুরী(রহ.) তাঁর গ্রন্থে নিমবী সাহেবের বিস্তারিত জবাব দিয়েছেন।ইলমে হাদিসের ছাত্র এবং সত্যপয়াসীদের এই বইটি অবশ্য পাঠ্য।[২১]

মাওলানা আব্দুস সামি মুবারকপুরী গ্রন্থটি সম্পর্কে বলেন,

يضطر من طالعه إلى الاعتراف بأن شيخنا بحر في علوم الحديث ليس له من ساحل كأنه ذهبى زمانه في نقد الرجال، وبخارى أوانه في معرفة علل الحديث، وابن تيمية عصره في الاستبحار وشدة المعارضة والبحث

অনুবাদঃ "গ্রন্থটি যে পড়বে সেই স্বীকার করতে বাধ্য হবে যে, আমাদের শায়খ (মুবারকপুরী) ইলমে হাদীছের এমন সমুদ্র যার কোন কিনারা নেই। যেন তিনি বর্ণনাকারীদের সমালোচনায় সমকালীন ইমাম যাহাবী, হাদীছের দোষ-ত্রুটি জ্ঞাতির ব্যাপারে সমকালীন ইমাম বুখারী এবং গভীর পাণ্ডিত্য, কঠিন বিরোধিতা ও বিতর্কের ব্যাপারে সমকালীন ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ।"[২২]

উর্দু গ্রন্থ সমূহঃ

  • তাহকীকুল কালাম ফী উযুবিল কিরআত খালফাল ইমামঃ

এটি উর্দুতে রচিত যা ২ খন্ডে প্রকাশিত।ইমামের পেছনে সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ ফরয প্রমাণে আল্লামা(রহ.) এটা লিখেছেন।স্পষ্ট দলিল প্রমাণের ভিত্তিতে রচিত এই গ্রন্থ খানা তাঁর আরেক বিস্ময়কর খিদমত!

  • খাইরুল মাউন ফী মানইল ফিরার মিনাত তাউনঃ

১৯০৩-১৯০৪ সালে মুবারকপুরে প্লেগ মহামারী দেখা দেয়।ফলে সে এলাকার জীবিত মানুষ অন্যত্র চলে যেতে চায়।যা স্পষ্ট হাদিস বিরোধী। আল্লামা(রহ.) এর বিরুদ্ধে কলম ধরেন এবং মহামরী অঞ্চল থেকে অন্যত্র চলে যাওয়া বৈধ নয় মর্মে দলিল প্রমাণ উপস্থাপন করেন।গ্রন্থটি ২ খন্ডে প্রকাশিত হয়েছিলো।[২৩][২৪]

  • আল কাওলুল সাদীদ ফীমা ইয়াতা আল্লাকু বিতাকবিরাতিল ঈদঃ

এই গ্রন্থটিতে ঈদের তাকবীর নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।এটি বাংলা ভাষায়ও অনুবাদ হয়েছে।[২৫]

ইত্যাদি।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

১.সফিউর রহমান মুবারকপুরী

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Muhammad Taqi-ud-Din al-Hilali"Wikipedia (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২২-১১-০৩। 
  2. আল ইতিছাম(উর্দু),৫৬ বর্ষ,১৮ তম সংখ্যা,২০০৪,পৃষ্ঠাঃ২৫
  3. মাসিক আত তাহরীক, জুন ২০০৫,পৃষ্ঠা-২৮
  4. তাযকেরায়ে উলামেয়ে মুবারকপু,পৃষ্ঠা:১৪৬-১৪৭
  5. তাযকেরায়ে উলামায়ে মুবারকপুর, পৃষ্ঠা-১৫৬।
  6. তারাজিমে উলামায়ে হাদিস হিন্দ, পৃষ্ঠা-৩২৬।
  7. জামআতে আহলে হাদিস কি তাদরিসি খিদমাত,পৃষ্ঠা-৫৬
  8. জামআতে আহলে হাদিস কি তাদরিসি খিদমাত,পৃষ্ঠা-৬৮
  9. উর্দু মাসিক আল ইতিছাম,৬ মে ২০০৪,পৃষ্ঠা-১৮
  10. তাযকেরায়ে উলামায়ে মুবারকপুর, পৃষ্ঠা-১৬৮।
  11. হায়াতুল মুহাদ্দিস,পৃষ্ঠা-২৫৬।
  12. তাযকেরায়ে উলামায়ে মুবারকপুর, পৃষ্ঠা-১৫০।
  13. তাযকেরায়ে ওলামায়ে মুবারকপুর, পৃষ্ঠাঃ ১৫১।
  14. তারাজিমে ওলামায়ে হাদীছ হিন্দ, পৃষ্ঠাঃ ৩২৫।
  15. জাম'আতে আহলেহাদীছ কী তাদরীসী খিদমাত, পৃষ্ঠাঃ ৯৪।
  16. তুহফাতুল আহওয়াযী, মুক্কাদ্দিমা ১-২ খণ্ড, পৃষ্ঠাঃ ৫৩৭-৩৮।
  17. উর্দু মাসিক আল ইতিছাম,৬ মে ২০০৪,পৃষ্ঠাঃ১৭-১৮।
  18. তারাজিমে ওলামায়ে হাদিস হিন্দ,পৃষ্ঠা:৩২৫।
  19. তুহফাতুল আহওয়াযি, মুকাদ্দিমাহ অংশ
  20. আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.), আল মুসলিমুনা ফিল হিন্দ,নাদওয়াতুল ওলামা প্রকাশিত(১৯৮৭),পৃষ্ঠা ৪১।
  21. "আবকারুল মিনান(আরবী)" (পিডিএফ) 
  22. তুহফাতুল আহওয়াযি,মুকাদ্দিমাহ অংশ।
  23. তারাজিমে ওলামায়ে হাদিস হিন্দ,পৃষ্ঠা:৩২৫।
  24. তাযকেরায়ে ওলামায়ে মুবারকপুর,পৃষ্ঠা:১৫৪-১৫৫।
  25. "ঈদের তাকবীর সংখ্যা" (পিডিএফ)