মেরিল স্ট্রিপ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মেরিল স্ট্রিপ
Streep san sebastian 2008 2.jpg
স্পেনে ২০০৮ সালে মেরিল স্ট্রিপ
জন্ম মেরি লুইস স্ট্রিপ
(১৯৪৯-০৬-২২) জুন ২২, ১৯৪৯ (বয়স ৬৪)
সামিট, নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র
পেশা অভিনেত্রী
কার্যকাল ১৯৭১–বর্তমান
দম্পতি ডন গামার
(১৯৭৮–বর্তমান; ৪ সন্তান)
সন্তান ৪ (ম্যামি গামার এবং গ্রেস গামার-সহ)

মেরিল স্ট্রিপ (জন্মঃ ২২ জুন, ১৯৪৯) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত অভিনেত্রী ও গায়িকা হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত ব্যক্তিত্ব।[১] তাঁর পুরো নাম মেরি লুইস মেরিল স্ট্রিপ। সাম্প্রতিককালে তিনি বিশ্বের সর্বত্র সবচেয়ে প্রতিভাশালী এবং সম্মানীয় অভিনেত্রী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন।[২][৩][৪]

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

নিউজার্সির সামিটে তিনি মেরি লুইস স্ট্রিপ নামে জন্মগ্রহণ করেন।[৫] তাঁর মা মেরি ওল্ফ একজন পেশাদার চিত্রকর ও সাবেক চিত্র সম্পাদক ছিলেন। বাবা হ্যারি উইলিয়াম স্ট্রিপ, জুনিয়র ছিলেন একজন ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক।[৬][৭][৮] ডানা ডেভিড এবং ৩য় হ্যারি উইলিয়াম নামে তাঁর দু'টো ভাই রয়েছে।[৯] পৈত্রিকসূত্রে তাঁর পূর্বপুরুষগণ জার্মানির লোফেনাউ বংশোদ্ভূত। পরবর্তীকালে তারা অভিবাসিত হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। তন্মধ্যে পূর্বপুরুষদের একজন মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পিতার পূর্বপুরুষদের অন্য একটি গোষ্ঠী সুইজারল্যান্ডের ছোট্ট নগরী গিসুইল বংশোদ্ভূত। তাঁর মায়ের পূর্বপুরুষেরা পেনসিলভানিয়া এবং রোড আইল্যান্ডে জন্মেছেন ও কিয়দংশ সপ্তদশ শতকে ইংল্যান্ড থেকে অভিবাসিত হয়ে এসেছেন।[৮]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

মেরিল স্ট্রিপ পেশাজীবি মঞ্চ অভিনেত্রী হিসেবে অভিষেক ঘটান ১৯৭১ সালে দ্য প্লেবয় অব সেভিলের মাধ্যমে। ১৯৭৭ সালে টেলিভিশন চলচ্চিত্র দ্য ডেডলিয়েস্ট সিজনে অভিষিক্ত হন। একই বছরে তিনি জুলিয়া (১৯৭৭) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে অভিষেক ঘটান।

চলচ্চিত্র সমালোচনা এবং ব্যবসায়িক সাফল্য - উভয় পর্যায়েই তাঁর অভিনীত দ্য ডিয়ার হান্টার (১৯৭৮) এবং ক্রেমার ভার্সাস ক্রেমার (১৯৭৯) চলচ্চিত্র দু'টি একাডেমী পুরস্কার বা অস্কারের জন্য মনোনীত হয়। তন্মধ্যে ক্রেমার ভার্সাস ক্রেমার চলচ্চিত্রটি অস্কার বিজয়ী হবার পাশাপাশি তাঁকেও সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। পরবর্তীতে সোফি'স চয়েজ (১৯৮২) চলচ্চিত্রের জন্য তিনি সেরা অভিনেত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন।

ক্রেমার ভার্সাস ক্রেমার[সম্পাদনা]

১৯৭৯ সালে ক্রেমার ভার্সাস ক্রেমার চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়।। এভারি কোরমানের উপন্যাস অবলম্বনে এ চলচ্চিত্রের পরিচালক ছিলেন রবার্ট বেনটন। আমেরিকান এক দম্পতির বিবাহ-বিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্রটিতে আশেপাশের মানুষজন, বিশেষত ক্রেমার দম্পতির শিশুপুত্রের ওপর এ ঘটনার প্রভাবকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত হয়েছে এর প্রেক্ষাপট। জোয়ানা ক্রেমার চরিত্রে মেরিল স্ট্রিপ তাঁর অভিনয় দক্ষতা প্রদর্শন করে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে একাডেমী পুরস্কার লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, প্রায় $১০৬,২৬০,০০০ ডলার আয় করে চলচ্চিত্রটি।[১০]

সঙ্গীত জগৎ[সম্পাদনা]

২০০৮ সালে স্ট্রিপ বাণিজ্যধর্মী চলচ্চিত্র হিসেবে ফাইলিডা লয়েডের পরিচালনায় মামা মিয়া! ছবিতে নায়িকা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। চলচ্চিত্রে একই নামে অর্থাৎ মামা মিয়া শিরোনামে গানও রয়েছে। সুইডেনের অ্যাবা পপ দলের গানের উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে।

চলচ্চিত্রটিতে মামা মিয়া গানটি স্ট্রীপের মাধ্যমে ধারণ করা হয়। এর ফলে গানটি অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন করে। অক্টোবর, ২০০৮ সালে পর্তুগীজ মিউজিক চার্টে ৮ম শীর্ষস্থানীয় গান হিসেবে মর্যাদা পায়।[১১]

৩৫তম পিপলস চয়েজ এ্যাওয়ার্ডের সাউন্ডট্র্যাক হতে জনপ্রিয় গান বিভাগে তাঁর কণ্ঠে গীত গানটি পুরস্কৃত হয়।[১২] এ গানের জন্যেই স্ট্রিপ ২০০৮ সালে ৫ম বারের মতো গ্র্যামি এ্যাওয়ার্ডের জন্যে মনোনীত হন।

সম্মাননা[সম্পাদনা]

মেরিল স্ট্রিপ এ পর্যন্ত ১৭ বার একাডেমী পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন; তন্মধ্যে বিজয়ী হয়েছেন ২ বার। গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারে মনোনীত হয়েছে ২৬ বার; বিজয়ী হয়েছেন ৮ বার। উভয়ক্ষেত্রেই তিনি যে-কোন অভিনেত্রীর চেয়ে সবচেয়ে বেশী মনোনয়ন কিংবা পুরস্কার প্রাপ্তির দিক দিয়ে এগিয়ে আছেন। এছাড়াও, দুইবার এমি পুরস্কার, দুইবার স্ক্রীণ এক্টর গিল্ড পুরস্কার, একবার কান চলচ্চিত্র উৎসব পুরস্কার, পাঁচবার নিউইয়র্ক ফিল্ম ক্রিটিক্স সার্কেল পুরস্কার, পাঁচবার গ্র্যামি এ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন, দুইবার বাফটা পুরস্কার, একবার অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ম ইনস্টিটিউট পুরস্কার এবং একবার টনি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। ২০০৪ সালে এএফআই আজীবন সম্মাননা পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।

সামাজিক কর্মকাণ্ড[সম্পাদনা]

ন্যাশনাল উইমেনস্ হিস্ট্রি মিউজিয়ামের মুখপাত্র হিসেবে মেরিল স্ট্রিপ নিযুক্ত রয়েছেন। এতে তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণের অর্থ দান করেছেন। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত দি আইরন লেডি চলচ্চিত্র থেকে প্রাপ্ত ফিও এতে রয়েছে। এছাড়াও তিনি অগণিত অনুষ্ঠানে আতিথ্য বরণ করছেন।[১৩]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

মেরিল স্ট্রিপ অভিনেতা জন কেজেলের সাথে মার্চ, ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বিবাহ-বহির্ভূতভাবে ৩ বছর বসবাস করেছিলেন।[১৪] অতঃপর ভাস্কর ডন গামারকে ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৮ সালে বিয়ে করেন।[১৫] এ সংসারে ৪ সন্তান - হেনরী হ্যাঙ্ক ওল্ফ গামার (জন্মঃ ১৩ নভেম্বর, ১৯৭৯), মেরি উইলা মেমি গামার (জন্মঃ ৩ আগস্ট, ১৯৮৩), গ্রেস জেন গামার (জন্মঃ ৯ মে, ১৯৮৬) এবং লুইসা জেকবসন গামার (জন্মঃ ১২ জুন, ১৯৯১) রয়েছে। তন্মধ্যে - মেরি উইলা মেমি গামার এবং গ্রেস জেন গামার অভিনেত্রী হিসেবে কর্মরত।[৬] এছাড়াও, হেনরী হ্যাঙ্ক ওল্ফ গামার কণ্ঠশিল্পী হিসেবে রয়েছে।[১৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Happy Birthday, Meryl!"rte.ie। 2011-06-21। সংগৃহীত 14 August 2011 
  2. Santas, Constantine (2002)। Responding to Film। Rowman & Littlefield‏। পৃ: 187। আইএসবিএন 0830415807 
  3. Hollinger, Karen (2006)। The Actress: Hollywood Acting and the Female Star। CRS Press। পৃ: 94–95। আইএসবিএন 0415977924 
  4. The Middle East। Library Information and Research Service। 2005। পৃ: 204। 
  5. Robert Battle। "Meryl Streep"। Ancestry.com। সংগৃহীত 2009-01-16 
  6. ৬.০ ৬.১ "Meryl Streep Biography (1949–)"। Film Reference.com। সংগৃহীত 2009-01-16 
  7. ASSOCIATED PRESS (2001-10-03)। "Artist Mary W. Streep , mother of actress Meryl, dies at 86"। The Star-Ledger। সংগৃহীত 2009-12-16 
  8. ৮.০ ৮.১ http://www.telegraph.co.uk/culture/film/baftas/9080244/Baftas-Meryl-Streeps-British-ancestor-helped-start-war-with-Native-Americans.html
  9. "Meryl Streep Biography"। Yahoo! Movies। 
  10. "Kramer vs Kramer (1979)"। Box Office Mojo। সংগৃহীত 2008-11-17 
  11. "Portuguese Music Charts" 
  12. "People Choice Awards Results"People's Choice Awards 
  13. "About"। National Women's History Museum। সংগৃহীত 11 January 2012 
  14. John Cazale’s brief, brilliant career. KansasCity.com. Retrieved on 2011-11-24.
  15. The Lewiston Daily Sun, October 3, 1978. News.google.com. Retrieved on 2011-11-24.
  16. Bio. Henry Wolfe. Retrieved on 2011-11-24.

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]