পুরস্কার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

পুরস্কার বলতে ব্যক্তি বা দলগত পর্যায়ে সাফল্যের স্বীকৃতি কিংবা কর্মদক্ষতার উজ্জ্বল নিদর্শনের ফলস্বরূপ প্রাপ্ত পদক বা সম্মাননাকে বুঝায়।[১] সাধারণতঃ ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা দলগতভাবে বিশেষ বিশেষ পর্যায়ে অনন্য সাধারণ অবদান, কুশলতা, দক্ষতা, নৈপুণ্যতাকে স্বীকৃতি বা মূল্যায়ণের লক্ষ্যে যে পদক্ষেপ নেয়া হয় কিংবা খেতাব দেয়া হয়, তা-ই সাধারণ অর্থে বখশিশ, সম্মাননা বা পুরস্কার। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দলগত পর্যায়ে এ অবদান প্রতিযোগিতামূলক বা স্বতঃস্ফূর্ত - উভয়ভাবেই হতে পারে। বলা হয়ে থাকে যে, "জয়লাভই বড় কথা নয়, অংশগ্রহণই বড় কথা"। কিন্তু, সাধারণভাবে বিজয়ীকে অভিনন্দন এবং পরাজিতকে তিরস্কৃত করা হয়। প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে যে ব্যক্তি বা দল ১ম হয় সাধারণতঃ সে ব্যক্তি বা দলকেই পুরস্কার লাভের একমাত্র দাবীদার হিসেবে সর্বসমক্ষে স্বীকৃত ও চিহ্নিত করা হয়। অবশ্য তা প্রতিযোগিতা আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কিংবা পূর্ব নির্ধারিত নিয়মাবলীর উপর নির্ভরশীল। যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বা দল সমপর্যায়ের বলে প্রতীয়মান হয়, তখন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ব্যক্তি কিংবা দলকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কার প্রদান করে। তখন পুরস্কারের মূল্যমান সমভাবে বন্টন করা হয়।

কখনোবা সমপর্যায়ের ব্যক্তি বা দলকে পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে নিরপেক্ষ বিচারক বা লটারীর মাধ্যমে ফলাফলের মাধ্যমে ১ম স্থান নির্ধারণ করা হয়। এছাড়াও, প্রায় সকল পর্যায়েই ১ম, ২য় ও ৩য় পুরস্কার প্রদান করা হলেও অনেকক্ষেত্রে পুরস্কার ৪র্থ পর্যায়ে এসে দাঁড়ায়। আবার প্রতিযোগী কিংবা অবদানকারীর সংখ্যা অনেক হলে ১ম থেকে ১০ম কিংবা আরো অধিক হতে পারে। ঐ ক্ষেত্রে মূল পুরস্কার হিসেবে ১ম, ২য় ও ৩য় পুরস্কার প্রদান করে বাকী প্রতিযোগীদেরকে স্বান্তনা বা বিশেষ পুরস্কার দেয়া হয়। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্রতিযোগীর সংখ্যা খুব কম হলে কম-বেশী সবাইকেই পুরস্কৃত করা হয়।

অন্যদিকে সাবলীল বা স্বতস্ফূর্তভাবে কিংবা স্বেচ্ছায় সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে যখন ব্যক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক বা দলগতভাবে বিশেষ উদ্দেশ্য সাধন করে ও সফলকাম হয় এবং তা ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্রের চোখে প্রশংসার দাবীদার বলে প্রতীয়মান হয়, তখন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দলকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রায় ক্ষেত্রেই ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দলকে পুরস্কৃত করার জন্য অন্য কোন ব্যক্তি, সংস্থা, সমগোত্রীয় প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্রের সহযোগিতার দরকার পড়ে থাকে।

পরিচ্ছেদসমূহ

শিক্ষাক্ষেত্রে পুরস্কারের প্রয়োজনীয়তা[সম্পাদনা]

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শাস্তিদানের পাশাপাশি পুরস্কার প্রদানের প্রথাও বহু প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, "কোন কাজের জন্য দু'টি জিনিস প্রয়োজন হয়। এদের একটি উদ্বুদ্ধকরণ এবং অপরটি প্রেষণা"। উদ্বুদ্ধকরণ ব্যক্তির মধ্যে কর্মমুখী প্রেষণার সঞ্চার করে এবং এ প্রেষণা ব্যক্তিকে প্ররোচিত বা প্রলুদ্ধ করে। ফলাফল হিসেবে সবশেষে শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষার উপযোগী প্রেষণার সৃষ্টি করে। শিক্ষাক্ষেত্রে পুরস্কার সাধারণতঃ দু'ধরণের হতে পারে - (ক) বস্তুগত পুরস্কার এবং (খ) মানসিক পুরস্কার।

  • বস্তুগত পুরস্কার: প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থী কোন দক্ষতা প্রদর্শন করলে তাকে বই, খেলনা, টাকা, পদক ইত্যাদি দিয়ে পুরস্কার প্রদানই বস্তুগত পুরস্কার। এ ধরণের পুরস্কারের উপযোগীতা ব্যবহারিক মূল্যের উপর নির্ভর করে। বস্তুগত পুরস্কারের প্রভাব হচ্ছে - ক্ষণস্থায়ী, পুরস্কারের আর্থিক মূল্য উপযোগীতার মূল্য দ্বারা নির্ধারিত, শিক্ষার্থীর মনে লোভের সঞ্চার করে, অনেক সময় কু-অভ্যাস গঠনে অনুপ্রেরণা দেয় এবং অপেক্ষাকৃত সহজ যা শিক্ষার্থীর উপর প্রভাব বিস্তারে সহায়ক।
  • মানসিক পুরস্কার: শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীর ভাল কাজের জন্য প্রশংসা, অভিনন্দন প্রদান করাই হচ্ছে মানসিক পুরস্কার। এ ধরণের পুরস্কার শিক্ষার্থীদেরকে আত্মসচেতন করে গড়ে তুলতে সহায়তা করে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আন্তরিক আগ্রহ সৃষ্টিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই, মানসিক পুরস্কার বস্তুগত পুরস্কারের চেয়ে অনেক বেশী শক্তিশালী, ফলপ্রসূ ও যথেষ্ট কার্যকর। মানসিক পুরস্কারের প্রভাব হচ্ছে - অনেক বেশী স্থায়ী, মানসিক প্রেষণা দ্বারা নির্ধারিত, শিক্ষার্থীকে অনুপ্রেরণা যোগায় এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে।[২]

শিক্ষাবৃত্তি: শিক্ষাবৃত্তি বা বৃত্তি হল শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার জন্য এক ধরণের আর্থিক পুরস্কার বা সম্মাননা যা বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়। এসব মানদণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল - শিক্ষার্থীর মেধাভিত্তিক[৩], প্রয়োজনভিত্তিক, শিক্ষার্থীভিত্তিক[৪], কর্ম জীবনভিত্তিক[৫] ইত্যাদি।(অনুগ্রহপূর্বক এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন - শিক্ষাবৃত্তি নিবন্ধে)

প্রচার লাভ ও জনপ্রিয়তা[সম্পাদনা]

সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ক্রীড়াঙ্গন, শান্তি ইত্যাদি বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যক্তি বা সংগঠনের কর্মদক্ষতাকে স্বীকৃতি ও যথাযথ মূল্যায়ণের মাধ্যমে আরো উৎসাহিত করতে বা উদ্বুদ্ধ করতেই পুরস্কার দেয়া হয় বা পুরস্কৃত করা হয়। এর ফলে অন্যান্য সমজাতীয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের নির্দিষ্ট কর্ম পরিকল্পনাকে ঘিরে আরো সৃজনশীলতার মাধ্যমে দেশ, সমাজ তথা সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রভূত উন্নতি সাধন করতে ও ব্যাপক স্পৃহাবোধের উদ্ভব হয়। পুরস্কারকে ঘিরে পুরস্কার প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিজেদের প্রচারলাভ, ব্যক্তি কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম বা জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিও এর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়। এছাড়াও, প্রতিষ্ঠানের নামকরণ কিংবা মনোগ্রামের জন্য অথবা সুন্দর হস্তাক্ষরের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়।

মনোনয়ন[সম্পাদনা]

মেধা, দক্ষতা, নৈপুণ্যতার স্বীকৃতি হিসেবে মূলতঃ বিশ্বব্যাপী ব্যক্তি, দল বা সংগঠনকে বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভাজন করে পুরস্কার দেয়া হয়। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, দেশ, চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, বই, স্টল, প্যাভিলিয়ন, স্থাপত্যকর্ম, প্রবন্ধ, শিল্পকর্ম, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, স্থিতিশীল রাজনীতি, আবৃত্তি, নৃত্য, চিত্রাঙ্কন, রাসায়নিক দ্রব্য আবিস্কার, ক্রীড়াঙ্গন, বিরত্ব, সাফল্যগাঁথা, ঝুকিঁ নিয়ে দেশ ও সমাজের উন্নয়ন, সামাজিক বনায়ণ, খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলা, চিকিৎসা ইত্যাদিতে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা দেশকে পুরস্কার প্রদানের জন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবরে প্রাথমিকভাবে লিখিত বা অলিখিতভাবে নাম প্রস্তাব করা হয়।

কর্তৃপক্ষ[সম্পাদনা]

ব্যক্তি, সংঘ, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্র পুরস্কার প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ হতে পারেন। তন্মধ্যে -

  • কর্তৃপক্ষ হিসেবে যেহেতু ব্যক্তি একাই হর্তা-কর্তা, তাই তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন যে কাকে বা কোন প্রতিষ্ঠান বা দলীয় সদস্যদেরকে পুরস্কৃত করা যেতে পারে। যেমন : ১৯ মার্চ, ২০১১ইং তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের গ্রুপ পর্যায়ে বাংলাদেশ বনাম ইংল্যাণ্ডের মধ্যকার খেলায় অবিস্মরণীয় জয়ে বাংলাদেশী ক্রিকেটারদেরকে আরো অনুপ্রাণিত করতে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার নগদ অর্থ পুরস্কার হিসেবে প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম রড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বায়েজিদ স্টিল লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু বকর চৌধুরী।[৬]
  • সংগঠন বা রাষ্ট্রের জন্য নির্দিষ্ট একটি কমিটি বা ট্রাস্টি বোর্ডে নির্ধারিতসংখ্যক সদস্য থাকেন যারা সংশ্লিষ্ট মনোনীতকের সাথে যোগাযোগসহ যাচাই-বাছাই করে চিঠি-পত্রাদি দিয়ে সম্যক অবগত করান।

সময়কাল[সম্পাদনা]

বছরের যে-কোন সময়ে বা দিনে পুরস্কার প্রদান করা হলেও এর ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বছরের শেষে বা শুরুতে কিংবা প্রতিষ্ঠানের জন্মদিনে পুরস্কার দেয়া হয়। এছাড়াও, পুরস্কার প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ বা তার প্রতিনিধি নির্দিষ্ট মাসে কিংবা দিনে পুরস্কার ঘোষণা করে ঐ দিনেই বা ঘোষিত পরবর্তী নির্দিষ্ট তারিখে পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়।

রকমারী পুরস্কার[সম্পাদনা]

বৈশ্বিক[সম্পাদনা]

রামোন ম্যাগসেসে পুরস্কারঃ ফিলিপাইনের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট রামোন ম্যাগসেসে'র স্মরণে ১৯৫৭ সালে এ পুরস্কারের প্রবর্তন করা হয়। পুরস্কার কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা ও বন্টনের দায়িত্বে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রকফেলার ব্রাদার্স ফাণ্ডের সম্মানিত ট্রাস্টিবৃন্দ হিসেবে ফিলিপাইনের সাতজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন। এশিয়ার বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সংগঠনকে সরকারী সেবা; জনসেবা; সামাজিক নেতৃত্ব; সাংবাদিকতা, সাহিত্য এবং যোগাযোগে উদ্ভাবনী কলা; শান্তি ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং উদীয়মান নেতৃত্ব - এ ছয়টি শ্রেণীতে বিভক্ত করে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। রামোন ম্যাগসেসে পুরস্কারকে এশিয়ার নোবেল পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।(অনুগ্রহপূর্বক এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন রামোন ম্যাগসেসে পুরস্কার নিবন্ধে)

নোবেল পুরস্কার[সম্পাদনা]

নোবেল পুরস্কারের ভেক্টর ইমেজ

সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট আবিস্কারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেন। উক্ত অর্থ শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা শাস্ত্র, অর্থনীতি, সাহিত্য এবং শান্তি - এ ৬টি শাখায় নোবেল পুরস্কারের প্রচলন ঘটান ১৯০১ সালে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বিভিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে সফল এবং অনন্য সাধারণ গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিকভাবে অবদান রাখার জন্য একক কিংবা যৌথভাবে এ পুরস্কার ও মানপত্র দেয়া হয়। পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কারকে অদ্যাবধি বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। (অনুগ্রহপূর্বক এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন নোবেল পুরস্কার নিবন্ধে)

চলচ্চিত্র বিষয়ক[সম্পাদনা]

অস্কার বা একাডেমি পুরস্কারঃ অস্কার বা একাডেমি পুরস্কার হচ্ছে একাডেমি অফ মোশন পিকচার আর্টস এন্ড সায়েন্সেস বা এএমপিএএস কর্তৃক প্রদত্ত বার্ষিক পুরস্কার যা চলচ্চিত্রাঙ্গনের সাথে জড়িত পরিচালক, অভিনেতা, এবং লেখকদের সম্মিলিত প্রয়াসে গড়া ছবি-সহ সংশ্লিষ্টদেরকে - সেরা ছবি; সেরা পরিচালক; সেরা অভিনেতা; সেরা অভিনেত্রী; সেরা পার্শ্ব অভিনেতা; সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী; সেরা মূল চিত্রনাট্য; সেরা অভিযোজিত চিত্রনাট্য; সেরা এনিমেশন চিত্র; সেরা শিল্প নির্দেশনা; সেরা সিনেমাটোগ্রাফি; সেরা পোশাক সজ্জা; সেরা প্রামাণ্য চিত্র; সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র; সেরা চলচ্চিত্র সম্পাদনা; সেরা বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র; সেরা মেকআপ; সেরা মূল সঙ্গীত; সেরা মূল স্কোর; সেরা মূল সুর; সেরা এনিমেশন চিত্র; সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য এনিমেশন চলচ্চিত্র; সেরা লাইভ অ্যাকশন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র; সেরা শব্দ সংযোগ; সেরা শব্দ ইফেক্ট; সেরা ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট; সেরা মূল সুর; সেরা মেকআপ; একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কার; একাডেমি বিশেষ অর্জন পুরস্কার; গর্ডন ই সইয়ার পুরস্কার; একাডেমি পুরস্কার, বৈজ্ঞানিক বা প্রাযুক্তিক; আরভিং জি থ্যালবার্গ স্মৃতি পুরস্কার; জ্য হার্শল্ট মানবতাবাদী পুরস্কার ইত্যাদি বহুবিধ বিভাগে বিভাজন করে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে যথাযোগ্যভাবে সম্মানিত করা হয়। (অনুগ্রহপূর্বক এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন অস্কার নিবন্ধে)

সবিশেষ উল্লেখ্য যে, চলচ্চিত্র ভুবনে অসাধারণ অবদানের জন্য উপমহাদেশের বিশিষ্ট বাঙ্গালী পরিচালক ও প্রবাদপুরুষ প্রয়াত সত্যজিৎ রায় ১৯৯১ সালে একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কারের বিরল অভিধায় ভূষিত হন।[৭]

কম্পিউটার সংক্রান্ত[সম্পাদনা]

টুরিং পুরস্কারঃ বিশিষ্ট কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞ অ্যালান টুরিং-এর নামানুসারে এ পুরস্কারের নামকরণ করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্পিউটিং মেশিনারি বা এসিএম কর্তৃপক্ষ সাংবাৎসরিক কম্পিউটার বিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের জন্য কম্পিউটার বিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত টুরিং পুরস্কার একক বা যৌথভাবে প্রদান করে থাকে।[৮] (অনুগ্রহপূর্বক এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন টুরিং পুরস্কার নিবন্ধে)

ক্রীড়া সংক্রান্ত[সম্পাদনা]

বিবিধ[সম্পাদনা]

বঙ্গবন্ধু পুরস্কার; অলক্ত পুরস্কার; অগ্রণী ব্যাংক শিশু সাহিত্য পুরস্কার; আদমজী সাহিত্য পুরস্কার; মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার; আবুল কালাম শামসুদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার; ড: মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক; আলাওল সাহিত্য পুরস্কার; স্মৃতি পুরস্কার; বিশ্ব জ্যোতিষ সমিতি পুরস্কার; হুমায়ুন কাদির সাহিত্য পুরস্কার; কথাসাহিত্য পুরস্কার; নান্দিকার পুরস্কার; যশোর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার; আবুল হাসান কবিতা পুরস্কার; হুমায়ুন কবির পুরস্কার; রায়পুরা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণ সংসদ পুরস্কার; মানিক মিয়া পদক; শঙ্খচিল সাহিত্য পুরস্কার; উত্তর শিকাগো সাহিত্য পুরস্কার অন্যতম।

শর্তাবলী[সম্পাদনা]

জীবিত বা মৃত উভয় ব্যক্তিকেই পুরস্কার প্রদান করা যায়। তবে যে-কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে পুরস্কার প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে কখনো কখনো এর ভিন্নতা দেখা দেয়। তন্মধ্যে মৃত ব্যক্তি যদি পুরস্কারের জন্য মনোনিত হন, তাহলে পুরস্কারের পার্শ্বে মরণোত্তর শব্দটি লেখা থাকে। সেক্ষেত্রে প্রয়াত ব্যক্তির পক্ষে পুরস্কার গ্রহণের জন্য তার সহধর্মিনী বা সন্তান বা নিকটতম আত্মীয়-স্বজনকে যোগাযোগ করে অনুষ্ঠানে আসতে হয়। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণসাপেক্ষে পুরস্কৃত করা যেতে পারে। যেমন: বয়স, লিঙ্গ, পেশা, নির্দিষ্ট কুপণ, সময়কালে প্রেরণসহ বিজ্ঞাপনে লিখিত অন্যান্য শর্তাবলী।

স্থান নির্ধারণ[সম্পাদনা]

সাধারণত বেশ ঘটা করে পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। পদক বা পুরস্কারের গুরুত্ব অনুযায়ী মাইক, পোস্টার, লিফলেট, প্রচার মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ইত্যাদির মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে কিংবা জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান, মাঠে-ময়দানে বা বিরাট হলরুমে শত শত বা হাজারো গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পদক হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। বিশিষ্ট জনগুরুত্বপূর্ণ ও আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে প্যাণ্ডেল বা তোরণ নির্মাণ করে ঘোষক বা ঘোষিকা কর্তৃক মাইকে প্রচার করে উন্মুক্ত মঞ্চে বা টেবিলে প্রধান অতিথি বা তার প্রতিনিধি নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিদেরকে পুরস্কার বিতরণ করে থাকেন। ক্রীড়াঙ্গনের ক্ষেত্রে ছাউনী ঘেরা উন্মুক্ত মঞ্চে নির্ধারিত স্ট্যান্ডে উঠে প্রধান অতিথি বা প্রতিনিধি কর্তৃক করমর্দনের মাধ্যমে মেডেল পরিধান করে পুরস্কৃত করা হয়। সাধারণতঃ পুরস্কার প্রদানের সময় উপস্থিত আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গের ব্যাপক করতালি দেয়া হয়।

রকমফের[সম্পাদনা]

প্রতিযোগী বা ব্যক্তি পর্যায়ে[সম্পাদনা]

প্রতিযোগীতাকে সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য ও আকর্ষণীয় করতে ব্যক্তিগতভাবে বিভাজন কিংবা দলীয়ভাবে বিভাজন করে পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে - লিঙ্গ, শ্রেণী, উচ্চতা যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। পরবর্তী পর্যায়ে উন্মুক্তভাবে সকল বয়সীদেরকে নিয়ে প্রতিযোগীতার আয়োজন করা অন্যতম উদ্যোগ।এছাড়াও, প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও নির্দিষ্ট দিবস বা প্রতিষ্ঠার দিনে অভ্যন্তরীণ কিংবা খোলা মাঠে খেলাধূলাসহ বিভিন্ন ধরণের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে স্মরণীয় ও উদ্বুদ্ধ করা হয়। সময়ে সময়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্যেও পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়। তবে, এর মূল্যমান কিংবা মূল্যায়ণ সাধারণত কম হয়ে থাকে এবং সমাজে ততোটা গ্রহণযোগ্য হয় না।

প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে[সম্পাদনা]

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠান প্রধান বা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক পুরস্কারের জন্য নোটিশ বোর্ড কিংবা প্রচার মাধ্যমে নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে দরখাস্ত আহ্বান বা সংগ্রহ এবং জমাদান, মনোনয়ন, যোগাযোগ, স্থান, পুরস্কার সংগ্রহ ইত্যাদির যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।সাধারণত নির্দিষ্ট ও পূর্ব নির্ধারিত মানদণ্ডের আলোকে কিংবা শাখাওয়ারী বা বিভাগওয়ারী বিষয়েই পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কারকে যথাযথ মূল্যায়ণের লক্ষ্যে পদক, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আর্থিক সুবিধাদি, সার্টিফিকেট প্রদানসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

জাতীয় কিংবা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে[সম্পাদনা]

রাষ্ট্র বা সরকারের সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় কিংবা বিভাগ কর্তৃক নির্দিষ্ট ফরমে দরখাস্ত আহ্বান, মনোনয়ন বা নির্বাচন, যোগাযোগ, স্থান, সময়, পুরস্কার সংগ্রহ, প্রধান অতিথির সম্মতি গ্রহণ ইত্যাদির যাবতীয় ব্যবস্থা নির্ধারিত নির্বাচকমণ্ডলী বা ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে করা হয়। সাধারণত নির্দিষ্ট মানদণ্ড কিংবা বিষয় বা বিভাগওয়ারী পুরস্কার দেয়া হয়। পুরস্কারকে যথাযোগ্যভাবে স্মরণীয় করে রাখতে পদক, নগদ অর্থ বা চেক, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আর্থিক সুবিধাদি, সার্টিফিকেট বা সনদ ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখা হয়। সকলক্ষেত্রেই পুরস্কৃতদের সংখ্যা ও সময়কাল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আগ্রহ, চিন্তা-ভাবনা, আর্থিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে।

তবে, কর্তৃপক্ষীয় উদাসীনতায় মনোনয়ন যথাযথভাবে না হওয়া, নির্দিষ্ট সময়ে প্রদান না করা, আয়োজন সুন্দর না হওয়া বিশেষ প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূল পরিবেশের সৃষ্টি করে।

বিলাস দ্রব্য, অর্থ ও সনদ[সম্পাদনা]

পুরস্কার মূলতঃ ট্রফি, মেডেল বা পদক, অর্থ, বিলাস দ্রব্য, সার্টিফিকেট বা সনদ বা মানপত্র ইত্যাদির সমষ্টি। ট্রফি বা পদকের নীচে সাধারণত ১ম, ২য়, ৩য় স্থান উল্লেখ করাসহ প্রতিযোগিতার নাম, তারিখ, সাল ইত্যাদি লেখা থাকে।

  • মেডেল বা পদক প্রধানত স্বর্ণ বা সোনা, রৌপ্য বা রূপা, ব্রোঞ্জ কিংবা পিতলের হয়ে থাকে।
  • গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতাসমূহে পদকের পাশাপাশি নগদ অর্থ বা প্রাইজমানি কিংবা চেক পুরস্কার হিসেবে দেয়া হয়।
  • বিলাস দ্রব্য হিসেবে - মোটরগাড়ী, মোটর সাইকেল, রঙ্গীন টেলিভিশন, কম্পিউটার, বাই-সাইকেল, দামী ঘড়ি ইত্যাদি সামগ্রী প্রদান করা হয়।
  • পুরস্কারের পাশাপাশি প্রতিযোগী বা দলকে অনেক সময় সার্টিফিকেট বা সনদ দেয়া হয় যাতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে স্ব-স্ব অবদানের কথা উল্লেখসহ পুরস্কার দেয়ার কথা লেখা থাকে।

ফলাফল[সম্পাদনা]

প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

পুরস্কার লাভের ফলে ব্যক্তি, সংস্থা বা দেশ নবরূপে উৎসাহিত ও উজ্জ্বীবিত হয় এবং শীর্ষস্থান ধরে রাখার নিরন্তর প্রয়াস চালায়। ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি অনেকাংশেই বৃদ্ধি পায়।এর ফলে পুরস্কার পাওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী কিংবা গুণীজনদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা অথবা গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করতে দেখা যায়। ব্যক্তিগত পর্যায়ে পুরস্কার লাভের ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্খীদের মধ্যে আনন্দের ফল্গুধারা প্রবাহিত হয়। তখন ব্যক্তির আন্তঃমনে প্রবাহিত হয় যে, তার আনন্দের সাথে সাথে পৃথিবীর সবাই যেন হাসছে। সংস্থা কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আশেপাশের প্রতিবেশী, সমস্তরের প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্যান্যদের মধ্যেও একই প্রতিক্রিয়া বহমান। এছাড়া, রাষ্ট্রীয় বা দেশ পর্যায়ে সফলতা লাভের ফলে আনন্দ মিছিল, রং ছিটানো ইত্যাদির অভুতপূর্ব হাসি, খুশীর ফোয়ারা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। অনেক সময় সরকার প্রচার মাধ্যমে সরকারী ছুটির দিন হিসেবেও ঘোষণা করে থাকে। উপরের সবগুলো ক্ষেত্রেই মিষ্টি বিতরণ একটি অবশ্য অংশ হয়ে দাঁড়ায়। পত্র-পত্রিকা, প্রচার মাধ্যমে সাফল্যের সংবাদ বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

বহুল আকাঙ্খিত পুরস্কার প্রাপ্তি আশানুরূপ না হলে কিংবা না পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার ব্যক্তিবর্গ পুরস্কার প্রদান পক্ষপাতদুষ্ট বা স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে থাকে। এছাড়াও, অনেক সময় স্থান নির্ধারণীয় পুরস্কার গ্রহণে উপস্থিত হয় না।

হতাশা[সম্পাদনা]

অন্যদিকে পুরস্কারের বিপরীত শব্দ হিসেবে আশানুরূপ ফলাফল অর্জন না করলে তিরস্কার জোটে প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা বা দেশের। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ধিক্কার, হতাশা কিংবা আত্মগ্লানির কালো ছায়া এসে পড়ে। কাজে-কর্মে নিরুৎসাহিত থাকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং অনেকক্ষেত্রে ঐ দিনটি তাদের জন্যে শোকের দিন হিসেবে চিহ্নিত বা আখ্যায়িত হয়। সময়ে সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগীতা কিংবা প্রতিযোগীতা আয়োজককারীদেরকে গালিগালাজ, কুশপুত্তলিকা দাহ করার মতো গর্হিত ও নিন্দনীয় বিষয়গুলো এসে দাঁড়ায়।

সমালোচনা[সম্পাদনা]

যথাযথভাবে পুরস্কৃত না করার ফলে সংশ্লিষ্ট পুরস্কার প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের ব্যাপক সমালোচনা করা হয়। ভালোকে ভালো না বলে, মন্দকে ভালো বললে তা সমালোচনার দাবীদার হয় বৈকি!

পদোন্নতি কিংবা চাকুরী লাভ[সম্পাদনা]

সাধারণত ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রতিভার ব্যাপক স্ফূরণ, অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য বা আশাতীত সাফল্য লাভের প্রেক্ষাপটে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পুরস্কৃত ব্যক্তিকে যথাযোগ্য সম্মান ও আর্থিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে চাকুরী প্রদান করে থাকে। কিংবা চাকুরীরত অবস্থায় সাফল্যকে যথাযথভাবে উপভোগ্য ও মর্যাদা দানের লক্ষ্যে পদোন্নতি প্রদান করা হয়।

বিজ্ঞাপন, শুভেচ্ছা দূত[সম্পাদনা]

কোম্পানী বিশেষত বহুজাতিক কোম্পানীগুলো তাদের পণ্যের প্রচার কার্যক্রমকে আরো গ্রহণযোগ্য, বিক্রয় বৃদ্ধি ও সুনাম বৃদ্ধিকল্পে সর্বসাধারণের কাছে আরো জনপ্রিয় করে তোলার লক্ষ্যে পুরস্কারপ্রাপ্ত কিংবা অতি জনপ্রিয় ব্যক্তিকে চুক্তির মাধ্যমে ব্রাণ্ড এম্বাসেডর হিসেবে বিজ্ঞাপন চিত্রে অংশগ্রহণ করায়। জার্মানীর এডিডাস কোম্পানী শচীন তেণ্ডুলকারের সাথে চুক্তিপূর্বক বিজ্ঞাপন চিত্র তৈরী করে গণমাধ্যমে তাদের প্রচার কার্যক্রম চালায়।[৯] এছাড়াও, দেশের ভাবমূর্তিকে আরো বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাগুলো বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে বিপন্ন মানুষের সেবায় অগ্রসর হবার জন্য দেশবাসীসহ বিশ্ববাসীর কাছে তাদের অমিয় ও মহান বাণী পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিযুক্ত করে।

পুরস্কার প্রত্যাখ্যান ও প্রত্যাহার[সম্পাদনা]

নিজেকে যাচাই কিংবা গ্রহণযোগ্যতার লক্ষ্যে সুনাম ও পুরস্কার অর্জনের জন্য যেমন অনেকেই প্রতীক্ষা করেন, ঠিক তেমনি অনেক ব্যক্তি বা সংস্থাই পুরস্কারকে তেমন প্রাধান্য ও গুরুত্ব দেন না। ঐ সকল ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান দেশ, জাতি তথা সমাজের তরে নিজেকে নিঃশেষিত করাকেই স্বার্থক জীবন মনে করেন। এমনকি ব্যক্তিগতভাবে অর্জিত পুরস্কারলদ্ধ সকল অর্থ পুণরায় দেশ, জাতি তথা সমাজের উন্নয়নে কিংবা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রদান করে তাঁরা নিজেকে আরো সকলের ঊর্ধ্বে নিয়ে যান।

  • রবিঠাকুর, যিনি ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নাইট বা নাইটহুড বা স্যার পদবী খেতাব বর্জন করেন।
  • শিল্পী হামিদুর রহমান ১৯৭০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার প্রদত্ত প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড অব প্রাইড অব পারফরমেন্স ফর পেইন্টিং পদক প্রত্যাখ্যান করেন৷
  • ভিয়েতনাম যুদ্ধে বিশ্বখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী যিনি ক্যাসিয়াস ক্লে নামে পরিচিত, তিনি ঐ যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করায় আমেরিকান সরকার তাকে মুষ্টিযুদ্ধে ৩ বছরের জন্যে নিষিদ্ধ ঘোষনা-সহ পদক প্রত্যাহার করে নেয়।
  • তৎকালীন বিশ্বের দ্রুততম মানব হিসেবে কানাডার বেন জনসন ১৯৮৮ সালে সিউলে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমসে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বিশ্বরেকর্ড গড়েও নিষিদ্ধ মাদকজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করার অপরাধে পরবর্তীতে তার পদক কেড়ে নেয়া হয়। .
  • ১৯৯২ সালে স্বাধীনতাকামী বীর সুভাষচন্দ্র বসুকে মরণোত্তর ভারতরত্ন প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে ভারত সরকার তাঁর মৃত্যুর কোনও প্রমাণ দাখিল করতে না পারায় কমিটি পুরস্কার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। (অনুগ্রহপূর্বক ভারতরত্ন নিবন্ধের অনুচ্ছেদ দেখুন)
  • জীবিত থাকাকালীন মৌলানা আবুল কালাম আজাদকে ভারতরত্ন পুরস্কার প্রদানের কথা ঘোষণা করা হলেও "পুরস্কার নির্বাচক সমিতির কাউকে এ পুরস্কার দেয়া উচিত নয়" - এ কারণে তিনি বিনম্র শ্রদ্ধায় উক্ত পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। পরে অবশ্য ১৯৯২ সালে তাঁকে মরণোত্তর ভারতরত্ন পুরস্কার প্রদান করা হয়।[১০]

পুলিশের পুরস্কার ঘোষণা[সম্পাদনা]

  • ব্রিটিশ বিরোধী বাঙ্গালী ব্যক্তিত্ব ও বিখ্যাত বিপ্লবী বিনয় বসু রাজবন্দীদের উপর পুলিশী নির্যাতনের বদলা নিতে ১৯৩০ সালের ২৯ আগস্ট সাধারণ বেশভূষায় নিরাপত্তা গণ্ডীকে ফাঁকি দিয়ে গুলি করে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) লোম্যানকে হত্যা করেন। ফলে, পুলিশ তাঁকে ধরে দেয়ার জন্য পাঁচ হাজার রূপি পুরস্কার ঘোষণা করে। (অনুগ্রহপূর্বক এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন - বিনয় বসু নিবন্ধে)
  • ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী, প্রাক্তন সাংসদ ও বিধায়ক সুশীল কুমার ধাড়া-কে ১৯৪৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় ধরে দেয়ার জন্য দশ হাজার রূপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। এছাড়াও, ঐ আমলে তিনি বারো বছর চার মাস জেল খেটেছিলেন।[১১] (অনুগ্রহপূর্বক এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন - সুশীল কুমার ধাড়া নিবন্ধে)

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের পুরস্কারসমূহ -

ভারতের পুরস্কারসমূহ -

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. দ্য ফ্রি ডিকশনারীর সংজ্ঞা
  2. আবশ্যকীয় শিক্ষণ দক্ষতা, ড. শেখ আমজাদ হোসেন, প্রভাতী লাইব্রেরি, ঢাকা, ১ম প্রকাশ, ২০০৯ইং, পৃষ্ঠা নং: ১৪৫-১৪৬
  3. শিক্ষা মেধাভিত্তিক বৃত্তি
  4. শিক্ষার্থীভিত্তিক বৃত্তি
  5. কর্ম জীবনভিত্তিক বৃত্তি
  6. দৈনিক কালের কণ্ঠ, মুদ্রিত সংস্করণ, বাংলা, পৃষ্ঠা নং ৮, মার্চ ১৪, ২০১১ইং
  7. সত্যজিৎ রায়ের একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কার অর্জন
  8. টুরিং পুরস্কারের ওয়েবসাইট
  9. সচিন তেন্ডুলকারকে ব্রান্ড এ্যাম্বাসেডর করলো এডিডাস
  10. মৌলানা আবুল কালাম আজাদের পদক গ্রহণে অস্বীকৃতি
  11. কলকাতার কর্চা, আনন্দ বাজার পত্রিকা, মুদ্রিত সংস্করণ (বাংলা), ১৭ আগস্ট, ২০০৯