মানো মেনেজেস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
মানো মেনেজেস
Mano Menezes Corintians.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম লুইজ এন্টোনিও ভেঙ্কার দ্য মেনেজস
জন্ম (১৯৬২-০৬-১১) ১১ জুন ১৯৬২ (বয়স ৫৬)
জন্ম স্থান পাসো দো সোব্রাদো, ব্রাজিল
উচ্চতা ১.৭৮ মিটার (৫ ফুট ১০ ইঞ্চি)
দলসমূহ পরিচালিত
বছর দল
১৯৯৭-২০০২ গুয়ারানি-ভিএ
২০০২ ব্রাজিল দ্য পেলোটাস
২০০৩ গুয়ারানি-ভিএ
২০০৩ আইরাটি
২০০৩-০৪ ১৫ দ্য নভেম্ব্রো
২০০৪-০৫ ক্যাক্সিয়াস
২০০৫-০৭ গ্রীমিও
২০০৭-২০১০ করিন্থিয়ান্স
২০১০-২০১২ ব্রাজিল
২০১২ ব্রাজিল

মানো মেনেজেস (স্পেনীয়: Mano Menezes; জন্ম: ১১ জুন, ১৯৬২) পাসো দো সোব্রাদোয় জন্মগ্রহণকারী ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কোচ ছিলেন। ব্রাজিলে জন্মগ্রহণকারী মেনেজেসের পুরো নাম লুইজ এন্টোনিও ভেঙ্কার দ্য মেনেজস। শৈশবকালেই তাঁর ডাক নামটির প্রবর্তন করেন নিজ বোন। সে তাঁকে মানো (ভাই) নামে ডাকতো যা পর্তুগীজ ভাষা থেকে এসেছে।[১]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

ফুটবলের মাধ্যমেই নিজের কর্মজীবনের সূচনা ঘটান মানো। ১৯৭০-এর দশকের শেষার্ধ থেকে ১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে গুয়ারানি দ্য ভেনানসিও এয়ার্স দলের পক্ষে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে শারীরিক শিক্ষায় প্রশিক্ষণ নিয়ে পেশাদারীভাবে সেসি, রিও গ্রান্দে দো সাল দলে যোগদান করেন। এরপর জুভেনতুদে এবং ইন্তারন্যাশিওনাল দলে যোগ দেন।[২]

কোচ[সম্পাদনা]

২০০৫ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত মানো একাধারে গ্রেমিও দলের কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন যা ব্রাজিলীয় ফুটবলের জন্যে দীর্ঘ সময়। ২০০৫ সালে দলের উত্তরণ ঘটান এবং ২০০৬ সাল শেষে ব্রাজিলেইরো প্রতিযোগিতায় ৩য় স্থানে নিয়ে যান। করিন্থিয়ানস দলকে ২০০৮ সালে ক্যাম্পিওনাতো ব্রাজিলেইরো সিরি বি প্রতিযোগিতায় শিরোপা জয়ে সহায়তা করেন। দলটি ২৫ জয়, ১০ ড্র এবং ৩ পরাজয়ের মাধ্যমে ৮৫ পয়েন্ট লাভ করেছিল।[৩]

২৪ জুলাই, ২০১০ তারিখে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) ঘোষণা করে যে, দুঙ্গা'র পরিবর্তে মানো ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের পরবর্তী ম্যানেজার হিসেবে নিযুক্ত হবেন। তিনি সিবিএফের পছন্দের তালিকায় প্রথম ছিলেন না কিন্তু ফ্লুমিনিজ মুরিশি রামালহোকে ঐদিনের পূর্বে ছাড়পত্র প্রদান করতে প্রত্যাখ্যান করেছিল।[৪][৫] মানো'র নিযুক্তিকে সকলে স্বাগতঃ জানালেও কিছু মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায় যে, তিনি দুঙ্গা'র রক্ষণভাগ পদ্ধতিতে অগ্রসর হতে আগ্রহী।[৬] তাঁর পরিচালনায় ১০ আগস্ট, ২০১০ সালে ব্রাজিল প্রথম খেলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের মুখোমুখি হয়। এতে তারা ২-০ ব্যবধানে জয়ী হয়। এ খেলার মাধ্যমে দিয়েগো তারদেলি, আন্দ্রে, ডেভিড লুইজ প্রমূখ তরুণ খেলোয়াড়কে চিহ্নিত করা হয়। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ২০১০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে মাত্র চার জনকে (দানিয়েল আলভিস, রামিরেস, থিয়াগো সিলভা এবং রবিনহো) দলে রাখেন। কিন্তু আলেকজান্দ্রে পাতো, মার্সিলো ভিয়েরা এবং নেইমারের ন্যায় খেলোয়াড়দেরকে বাদ দেন।[৭] জুলাই, ২০১১ সালের কোপা আমেরিকা প্রতিযোগিতায় ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ০-০ ড্র হলে চারটি পেনাল্টি করতেই তারা ব্যর্থ হয়।[৮]

ফলাফল[সম্পাদনা]

# তারিখ মাঠ প্রতিপক্ষ ফলাফল গোলদাতা প্রতিযোগিতার ধরন
২০১০
আগস্ট ১০, ২০১০ নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২–০ নেইমার, আলেকজান্দ্রো পাতো প্রীতিখেলা
সেপ্টেম্বর ৭, ২০১০ সান্ট জোন দেস্পি, স্পেন স্পেন বার্সেলোনা বি ৩–০ লুকাস লেইভা, আলেকজান্দ্রো পাতো, ফার্নান্দিনহো অনানুষ্ঠানিক খেলা
অক্টোবর ৭, ২০১০ আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত  ইরান ৩–০ ড্যানিয়েল আলভেস, আলেকজান্দ্রো পাতো, নিলমার প্রীতিখেলা
অক্টোবর ১১, ২০১০ ডার্বি, ইংল্যান্ড  ইউক্রেন ২–০ ড্যানিয়েল আলভেস, আলেকজান্দ্রো পাতো প্রীতিখেলা
নভেম্বর ১৭, ২০১০ দোহা, কাতার  আর্জেন্টিনা ০–১ প্রীতিখেলা
২০১১
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১১ সেন্ট-ডেনিস, ফ্রান্স  ফ্রান্স ০-১ প্রীতিখেলা
মার্চ ২৭, ২০১১ লন্ডন, ইংল্যান্ড  স্কটল্যান্ড ২-০ নেইমার (২) প্রীতিখেলা
জুন ৪, ২০১১ গোইয়ানিয়া, ব্রাজিল  নেদারল্যান্ডস ০-০ প্রীতিখেলা
জুন ৭, ২০১১ সাও পাওলো, ব্রাজিল  রোমানিয়া ১-০ ফ্রেদ প্রীতিখেলা
১০ জুলাই ৩, ২০১১ লা প্লাতা, আর্জেন্টিনা  ভেনেজুয়েলা ০-০ ২০১১ কোপা আমেরিকা
১১ জুলাই ৯, ২০১১ কর্ডোভা, আর্জেন্টিনা  প্যারাগুয়ে ২-২ ফ্রেদ, জাদসন ২০১১ কোপা আমেরিকা
১২ জুলাই ১৩, ২০১১ কর্ডোভা, আর্জেন্টিনা  ইকুয়েডর ৪-২ আলেকজান্দ্রো পাতো (২), নেইমার (২) ২০১১ কোপা আমেরিকা
১৩ জুলাই ১৭, ২০১১ লা প্লাতা, আর্জেন্টিনা  প্যারাগুয়ে ০-০
(০-২ পেনাল্টি শ্যুট-আউট)
২০১১ কোপা আমেরিকা
১৪ আগস্ট ১০, ২০১১ স্টুটগার্ট, জার্মানি  জার্মানি ২-৩ রবিনহো, নেইমার প্রীতিখেলা
১৫ সেপ্টেম্বর ৫, ২০১১ ফুলহ্যাম, ইংল্যান্ড  ঘানা ১-০ লিওনার্দো ডেমিয়াও প্রীতিখেলা
১৬ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১১ কর্ডোভা, আর্জেন্টিনা  আর্জেন্টিনা ০-০ সুপারক্লাসিকো দ্য লাস আমিরাকাস
১৭ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১১ বেলিম, ব্রাজিল  আর্জেন্টিনা ২-০ লুকাস, নেইমার সুপারক্লাসিকো দ্য লাস আমিরাকাস
১৮ অক্টোবর ১১, ২০১১ এস্তাদিও করোনা, মেক্সিকো  মেক্সিকো ২-১ রোনাল্দিনহো, মার্সেলো প্রীতিখেলা
১৯ নভেম্বর ১০, ২০১১ স্ট্যাডি ওমর বঙ্গো, গ্যাবন  গ্যাবন ২-০ সান্দ্রো, হার্নেনেস প্রীতিখেলা
২০ নভেম্বর ১৪, ২০১১ আহমেদ বিন আলী স্টেডিয়াম, আল রায়ান  মিশর ২-০ জোনাস (২) প্রীতিখেলা
২০১২
২১ ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১২ এএফজি এরিনা, সুইজারল্যান্ড  বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ২-১ মার্সেলো, সাসা পাপাক প্রীতিখেলা
২২ মে ২৬, ২০১২ ভকস্পার্কস্ট্যাডিওন, ডেনমার্ক  ডেনমার্ক ৩-১ হাক (২), নিকি জিমলিং প্রীতিখেলা
২৩ মে ৩০, ২০১২ ফেডএক্সফিল্ড, যুক্তরাষ্ট্র  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ নেইমার, থিয়াগো সিলভা, মার্সেলো, আলেকজান্দ্রে পাতো প্রীতিখেলা
২৪ জুন ৩, ২০১২ কাউবয়েজ স্টেডিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র  মেক্সিকো ০-২ প্রীতিখেলা
২৫ জুন ৯, ২০১২ মেটলাইফ স্টেডিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র  আর্জেন্টিনা ৩-৪ রোমুলো, অস্কার, হাক প্রীতিখেলা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Mano Menezes já fala em ganhar a Copa do Mundo de 2014" (Portuguese ভাষায়)। ClicRN। জুলাই ২৭, ২০১০। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ২, ২০১০ 
  2. "A trajetória de Mano Menezes aos 48 anos comando da seleção brasileira" (Portuguese ভাষায়)। O Globo। জুলাই ২৩, ২০১০। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২৬, ২০১০ 
  3. "Classificação" (Portuguese ভাষায়)। UOL। ২০০৮। 
  4. "CBF convida Mano Menezes e já fala na primeira convocação" (Portuguese ভাষায়)। GloboEsporte.com। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২৪, ২০১০ 
  5. "Brazil name Dunga's replacement as they rebuild for the next World Cup"Guardian। জুলাই ২৪, ২০১০। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২৬, ২০১০ 
  6. "Meet Mano Menezes the new Brazil coach"। goal.com। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২৬, ২০১০ 
  7. "Menezes' Brazil start with impressive victory"Zonalmarking.net। আগস্ট ১১, ২০১০। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ১১, ২০১০ 
  8. "Brazil lose out to Paraguay after missing four penalties in shoot-out"Guardian। মে ১৮, ২০১১। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ১৮, ২০১১ 
পূর্বসূরী
ব্রাজিল নেলসিনহো বাপতিস্তা
করিন্থিয়ান্স ম্যানেজার
২০০৮-২০১০
উত্তরসূরী
ব্রাজিল এডিলসন বাতিস্তা