ইউক্রেন জাতীয় ফুটবল দল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইউক্রেন
দলের লোগো
ডাকনামГоловна команда (মূল দল)
Жовто-Сині (হলুদ-নীল)
অ্যাসোসিয়েশনইউক্রেনীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন
কনফেডারেশনউয়েফা (ইউরোপ)
প্রধান কোচআন্দ্রেই শেভচেঙ্কো
অধিনায়কআন্দ্রেই পিয়াতভ
সর্বাধিক ম্যাচআনাতলি তিমাশ্চুক (১৪৪)
শীর্ষ গোলদাতাআন্দ্রেই শেভচেঙ্কো (৪৮)
মাঠবিভিন্ন
ফিফা কোডUKR
ওয়েবসাইটuaf.ua
প্রথম জার্সি
দ্বিতীয় জার্সি
ফিফা র‌্যাঙ্কিং
বর্তমান ২৭ অপরিবর্তিত (৩১ মার্চ ২০২২)[১]
সর্বোচ্চ১১ (ফেব্রুয়ারি ২০০৭)
সর্বনিম্ন১৩২ (সেপ্টেম্বর ১৯৯৩)
এলো র‌্যাঙ্কিং
বর্তমান ২৪ হ্রাস ৪ (৩০ এপ্রিল ২০২২)[২]
সর্বোচ্চ১৪ (নভেম্বর ২০১০)
সর্বনিম্ন৬৯ (২৯ মার্চ ১৯৯৫)
প্রথম আন্তর্জাতিক খেলা
 ইউক্রেন ১–৩ হাঙ্গেরি 
(উজহরদ, ইউক্রেন; ২৯ এপ্রিল ১৯৯২)
বৃহত্তম জয়
 ইউক্রেন ৯–০ সান মারিনো 
(লভিউ, ইউক্রেন; ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩)
বৃহত্তম পরাজয়
 ফ্রান্স ৭–১ ইউক্রেন 
(সাঁ-দ্যনি, ফ্রান্স; ৭ অক্টোবর ২০২০)
বিশ্বকাপ
অংশগ্রহণ১ (২০০৬-এ প্রথম)
সেরা সাফল্যকোয়ার্টার-ফাইনাল (২০০৬)
উয়েফা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ
অংশগ্রহণ৩ (২০১২-এ প্রথম)
সেরা সাফল্যগ্রুপ পর্ব (২০১২, ২০১৬)

ইউক্রেন জাতীয় ফুটবল দল (ইউক্রেনীয়: збірна України з футболу. ইংরেজি: Ukraine national football team) হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইউক্রেনের প্রতিনিধিত্বকারী পুরুষদের জাতীয় দল, যার সকল কার্যক্রম ইউক্রেনের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউক্রেনীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই দলটি ১৯৯২ সাল হতে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার এবং একই বছর হতে তাদের আঞ্চলিক সংস্থা উয়েফার সদস্য হিসেবে রয়েছে। ১৯৯২ সালের ২৯শে এপ্রিল তারিখে, ইউক্রেন প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণ করেছে; ইউক্রেনের উজহরদে অনুষ্ঠিত উক্ত ম্যাচে ইউক্রেন হাঙ্গেরির কাছে ১–৩ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল।

হলুদ-নীল নামে পরিচিত এই দলটি বেশ কয়েকটি স্টেডিয়ামে তাদের হোম ম্যাচগুলো আয়োজন করে থাকে। এই দলের প্রধান কার্যালয় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের হাউস অফ ফুটবলের অলিম্পিস্কি জাতীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সের কাছে অবস্থিত। বর্তমানে এই দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন আন্দ্রেই শেভচেঙ্কো এবং অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন শাখতার দোনেৎস্কের গোলরক্ষক আন্দ্রেই পিয়াতভ

ইউক্রেন এপর্যন্ত ১ বার ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছে, যেখানে ২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছেছিল; উক্ত ম্যাচে তারা ইতালির কাছে ৩–০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। অন্যদিকে, উয়েফা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ইউক্রেন এপর্যন্ত ৩ বার অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে সেরা সাফল্য হচ্ছে উয়েফা ইউরো ২০১২ এবং উয়েফা ইউরো ২০১৬-এর গ্রুপ পর্বে পৌঁছানো।

আনাতলি তিমাশ্চুক, আন্দ্রেই শেভচেঙ্কো, আন্দ্রেই ইয়ার্মলেঙ্কো, ইয়েভহেন কনপ্লিয়াঙ্কা এবং রুসলান রতানের মতো খেলোয়াড়গণ ইউক্রেনের জার্সি গায়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন।

র‌্যাঙ্কিং[সম্পাদনা]

ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে, ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে ইউক্রেন তাদের ইতিহাসে সর্বপ্রথম সর্বোচ্চ অবস্থান (১১তম) অর্জন করে এবং ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা ১৩২তম স্থান অধিকার করে, যা তাদের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, বিশ্ব ফুটবল এলো রেটিংয়ে ইউক্রেনের সর্বোচ্চ অবস্থান হচ্ছে ১৪তম (যা তারা ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে অর্জন করেছিল) এবং সর্বনিম্ন অবস্থান হচ্ছে ৫৯। নিম্নে বর্তমানে ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং এবং বিশ্ব ফুটবল এলো রেটিংয়ে অবস্থান উল্লেখ করা হলো:

ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং
৩১ মার্চ ২০২২ অনুযায়ী ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং[১]
অবস্থান পরিবর্তন দল পয়েন্ট
২৫ অপরিবর্তিত  সার্বিয়া ১৫৪৭.৫৩
২৬ বৃদ্ধি  পোল্যান্ড ১৫৪৪.২
২৭ অপরিবর্তিত  ইউক্রেন ১৫৩৫.০৮
২৮ হ্রাস  চিলি ১৫২৬.৪
২৯ অপরিবর্তিত  দক্ষিণ কোরিয়া ১৫১৯.৫৪
বিশ্ব ফুটবল এলো রেটিং
৩০ এপ্রিল ২০২২ অনুযায়ী বিশ্ব ফুটবল এলো রেটিং[২]
অবস্থান পরিবর্তন দল পয়েন্ট
২৩ বৃদ্ধি  ইরান ১৮২০
২৪ হ্রাস  ইউক্রেন ১৮১৭
২৫ হ্রাস  সুইডেন ১৮০৯
২৬ বৃদ্ধি  দক্ষিণ কোরিয়া ১৮০০

প্রতিযোগিতামূলক তথ্য[সম্পাদনা]

ফিফা বিশ্বকাপ[সম্পাদনা]

ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
সাল পর্ব অবস্থান ম্যাচ জয় ড্র হার স্বগো বিগো ম্যাচ জয় ড্র হার স্বগো বিগো
সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ হিসেবে
উরুগুয়ে ১৯৩০ অংশগ্রহণ করেনি অংশগ্রহণ করেনি
ইতালি ১৯৩৪
ফ্রান্স ১৯৩৮
ব্রাজিল ১৯৫০
সুইজারল্যান্ড ১৯৫৪
সুইডেন ১৯৫৮ কোয়ার্টার-ফাইনাল ৬ষ্ঠ ১৬
চিলি ১৯৬২ কোয়ার্টার-ফাইনাল ৬ষ্ঠ ১১
ইংল্যান্ড ১৯৬৬ ৩য় স্থান নির্ধারণী ৪র্থ ১০ ১৯
মেক্সিকো ১৯৭০ কোয়ার্টার-ফাইনাল ৫ম
পশ্চিম জার্মানি ১৯৭৪ প্রত্যাহার[৩]
আর্জেন্টিনা ১৯৭৮ উত্তীর্ণ হয়নি
স্পেন ১৯৮২ দ্বিতীয় গ্রুপ পর্ব ৭ম ২০
মেক্সিকো ১৯৮৬ ১৬ দলের পর্ব ১০ম ১২ ১৩
ইতালি ১৯৯০ গ্রুপ পর্ব ১৭তম ১১
ইউক্রেন হিসেবে ইউক্রেন হিসেবে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৪ ১৯৯২ সালে ফিফার সদস্যপদ লাভ করে, তাই এই আসরে অন্তর্ভুক্ত হয়নি[ক] ১৯৯২ সালে ফিফার সদস্যপদ লাভ করে, তাই এই আসরে অন্তর্ভুক্ত হয়নি[ক]
ফ্রান্স ১৯৯৮ উত্তীর্ণ হয়নি ১২ ১১
দক্ষিণ কোরিয়া জাপান ২০০২ ১২ ১৫ ১৩
জার্মানি ২০০৬ কোয়ার্টার-ফাইনাল ৮ম ১২ ১৮
দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০ উত্তীর্ণ হয়নি ১২ ২১
ব্রাজিল ২০১৪ ১২ ৩০
রাশিয়া ২০১৮ ১০ ১৩
কাতার ২০২২ অনির্ধারিত অনির্ধারিত
মোট কোয়ার্টার-ফাইনাল ১/৭ ৭০ ৩৫ ২২ ১৩ ১০৮ ৫২

টীকা[সম্পাদনা]

  1. ১৯৯১ সালের ৮ই ডিসেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বের ড্রয়ে প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের যে সকল জাতীয় দল অংশগ্রহণ করেনি, তাদের ফিফা ১৯৯৪ ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করার অনুমতি প্রদান করেনি।[৪] ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়নের সকল উত্তরসূরির জন্য একটি আলাদা টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব করেছিল; যা জর্জিয়া ও আর্মেনিয়া সমর্থন করেছিল, তবে রাশিয়া তা প্রত্যাখ্যান করা দিয়েছিল।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ফিফা/কোকা-কোলা বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং"ফিফা। ৩১ মার্চ ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মার্চ ২০২২ 
  2. গত এক বছরে এলো রেটিং পরিবর্তন "বিশ্ব ফুটবল এলো রেটিং"eloratings.net। ৩০ এপ্রিল ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০২২ 
  3. ১৯৭৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পরে চিলিতে প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়
  4. At the crossing (На переправе). Kopanyi myach.
  5. We hacked window to America (Прорубили окно в Америку). Komanda newspaper (by Fanat)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]