সত্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

"সত্র" হল মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শঙ্করদেব ও শ্রীশ্রী মাধবদেবের অসমে নববৈষ্ণব ধর্মর প্রচার ও প্রসারের জন্য স্থাপন করা এক প্রতিষ্ঠান[১]। প্রথমে অসমে ৬৬৫ টি সত্র ছিল যদিও এখন তার বেশিরভাগেরই অস্তিত্ব নেই। এগুলির মধ্যে ৬৫ টি কেবল মাজুলীতে স্থাপন করা হয়েছিল যার মধ্যে এখন ২২ টি আছে[২]। ধর্ম চর্চা ছাড়াও সত্রসমূহে মহাপুরুষীয়া তথা অসমীয়া সংস্কৃতি যেমন বরগীত, সত্রীয়া নৃত্য, চালি নৃত্য, ঝুমুরা নৃত্য, দশাবতার নৃত্য ইত্যাদির সাথে পুরানো পুঁথি-পাঁজি ও অন্যান্য তালিকামূলক জিনিসের প্রদর্শনী[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের ধর্ম প্রচারের আদিকালে সত্রের উৎপত্তি হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। শঙ্করদেব তাঁর জন্মস্থান বরদোয়াতে প্রথম সত্র স্থাপন করেছিলেন। নতুন ধর্ম প্রচার করার স্থানে তিনি "প্রার্থনা ঘর" (হরি গৃহ) স্থাপন করেছিলেন যা পরে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের রূপ নেয়। একে "থান"(সংস্কৃত- স্থান) বলে অভিহিত করা হত। অসমের একজায়গা থেকে অন্য জায়গায় ধর্ম প্রচারের জন্য যাত্রা করাকালীন তিনি স্থানে স্থানে থান স্থাপন করেছিলেন।[১]

শঙ্করদেবের প্রধান শিষ্য মাধবদেবের বরপেটাতে স্থাপন করা থানটিই ছিল সর্ববৃহৎ। মাধবদেবের এক শরণ নাম ধর্ম প্রচারের দায়িত্ব ন্যস্ত করা বারজন মুখ্য শিষ্যও অসমের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে থান স্থাপন করেন। এই থানগুলিই কালক্রমে বৈষ্ণব ধর্মেের প্রাণকেন্দ্র "সত্র" নামে পরিচিত হয়।[১]

সত্র নামের উৎপত্তি[সম্পাদনা]

"সত্র" শব্দটি প্রথমে "শতপথ ব্রাহ্মণ"-এ "আহুতি" বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছিল। ভগবদ্গীতায় এই শব্দটি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু অসমের নববৈষ্ণব ধর্মের আমলে এটি এক আলাদা অর্থ গ্রহণ করে। শঙ্করদেবের ধর্ম প্রচারের জন্য কিছুকাল থাকা স্থানসমূহই "সত্র" বলে পরিচিত হয়। গুরুজনের বরদোয়া বা বট্রদয়াতে স্থাপন করা সত্রটিই প্রথম সত্র। সেখানে তিনি একটা প্রার্থনা ঘর সাজিয়ে নাম-কীর্তনের সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনাও করেছিলেন। শঙ্করদেবের পরবর্তী যুগে তিনি বা অন্যান্য গুরুদের কিছুকাল থাকা সত্রসমূহ যেমন বরদোয়া, বেলগুরি, বরপেটা ইত্যাদিকে সত্রের পরিবর্তে "থান" বলে অভিহিত করা হয়। কোনো কোনো জীবনীকার অবশ্য "সত্র" ও "থান"র প্রভেদ রাখেননি [১]

সত্রের পদসমূহ[সম্পাদনা]

সত্রাধিকার ও তাঁর সহকারীবৃন্দ সত্রগুলির কাজ-কর্ম পরিচালনা করেন। সত্রে নিম্নলিখিত সদস্যগণ থাকেন [১]:

  • অধিকার : তিনি হলেন সত্রের ধার্মিক ও আধ্যাত্মিক দিকের প্রধান। দীক্ষা গ্রহণের অনুষ্ঠান "শরণ" ও "ভজন" তাঁর প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। তাঁকে "সত্রীয়া" বা "মহন্ত" বলেও ডাকা হয়।
  • ডেকা-অধিকার : সহকারী প্রধান। ক্ষমতা ও সম্মানের ক্ষেত্রে অধিকারের পরই তাঁর স্থান। অধিকারের মৃত্যু হলে বা অধিকারের অনুপস্থিতিতে ডেকা-অধিকারই সত্রের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
  • ভকত : যদিও যেকোনো ভক্তকে "ভকত" বলা যায় তথাপি সত্রের পরিচালনায় সাহায্য করা বা সত্রের চৌহদ্দিতে বসবাস করা ভক্তদেরকে "ভকত" বলে ডাকা হয়। অবিবাহিত এই ভকতদেরকে "কেবলীয়া ভকত" বলেও ডাকা হয়।
  • শিষ্য : সত্রের অন্যান্য ভক্তদেরকে শিষ্য বলে ডাকা হয়। অসমের বহু বৈষ্ণব পরিবারের সত্রের প্রতি আনুগত্য থাকে।

এছাড়াও ব্যবস্থাপনা ও ধর্মীয় কার্য সুষ্ঠভাবে চালানোর জন্য বিভিন্ন পদ থাকে। বড়ো সত্রে থাকা এমন পদসমূহ হ'ল :

  • বর-ভাগতী
  • বর-শ্রাবণী
  • বর-পাঠক
  • বর-নাম লগোয়া
  • বর-গায়ন
  • বর-বায়ন
  • বর-ভাণ্ডারী
  • চাউল-ভঁরালী
  • গুবা-ভাণ্ডারী
  • বর-আলধরা
  • বর-কাকতী
  • বর-মেধি
  • বর-খাটনিয়ার

সত্র ঘরের গঠন[সম্পাদনা]

সত্রের কাজ-কর্ম[সম্পাদনা]

সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম[সম্পাদনা]

বিভিন্ন সত্রসমূহ[সম্পাদনা]

অসমের চারটি রাজ সত্র হ'ল:-

  1. আউনীআটী সত্র
  2. দক্ষিণপাট সত্র
  3. গড়মূর সত্র
  4. কুরুয়াবাহী সত্র

যদিও এই চারটি রাজসত্র সমশ্রেণীতে পড়ে, তবুও আউনীআটী সত্র প্রথম শ্রেণী, দ্বিতীয়ত দক্ষিণপাট সত্র, তৃতীয়ত গড়মূর সত্র, চতুর্থত কুরুবাবাহী সত্র হয়।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Satras"। atributetosankaradeva। ২০০৯-০৯-০৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৩-২৪ 
  2. The Government of Assam official websiteআহরণ করা তারিখ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১১ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে
  3. "Assam. Jorhat"। Travelmasti.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৩-২৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]