বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক
মানচিত্র Bangladesh এবং United Kingdom অবস্থান নির্দেশ করছে

বাংলাদেশ

যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক বলতে বাংলাদেশযুক্তরাজ্যের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বোঝায়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য উভয়ই কমনওয়েলথ অব নেশনস এবং জাতিসংঘের সদস্য।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ব্রিটেন ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক ব্রিটিশ ভারত থেকে শুরু। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পালিয়ে যাওয়া কূটনীতিকদের ব্রিটেন আশ্রয় দেয়। ব্রিটিশ সরকার, রাজনীতিবিদ এবং গণমাধ্যম বাংলাদেশে অত্যাচারের সমালোচনা করে এবং মুক্তি বাহিনীর জন্য সহানুভূতি প্রদর্শন করে। ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়, এর ফলে পরবর্তীতে ইউরোপীয় ও কমনওয়েলথের অন্যান্য দেশ থেকে বাংলাদেশ স্বীকৃতি লাভ করে এবং ১৯৭২ সালের ১৮ ই এপ্রিল বাংলাদেশকে কমনওয়েলথের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৭২ সালে ব্রিটেন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় একটি হাই কমিশন প্রতিষ্ঠা করে, বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রথম ব্রিটিশ হাই কমিশনার ছিলেন এন্টোনি গোল্ড্‌স।

আধুনিক সম্পর্ক[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ বাংলাদেশী[সম্পাদনা]

টাওয়ার হ্যামলেটের ব্রিক লেন রাস্তার নাম ইংরেজিতে ও বাংলায়

পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বাংলাদেশী ব্রিটেনে বসবাস করে। ব্রিটিশ বাংলাদেশী সম্প্রদায় যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম অভিবাসী সম্প্রদায়। তারা প্রধানত ইস্ট লন্ডন, টাওয়ার হ্যামলেট্‌সে বসবাস করে। এখানে বসবাসকারী মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৩ শতাংশই বাংলাদেশী। জাতীয় আদম শুমারির তথ্যমতে প্রায় ৫,০০,০০০ প্রবাসী বাংলাদেশী ব্রিটেনে বসবাস করে, যাদের ৯৫ ভাগই সিলেটি।[১] লন্ডনের বাইরেও যেমন ম্যানচেস্টার, ওয়েস্টমিনস্টার ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমানে সিলেটি প্রবাসী বাংলাদেশী বসবাস করে। ব্রিটেন ইউরোপের সর্ববৃহৎ ওপেন এয়ার এশীয় উৎসব বৈশাখী মেলা উৎযাপন করে থাকে, যা লন্ডনে অনুষ্ঠিত একটি বাংলাদেশি অনুষ্ঠান।

লন্ডনে অনুষ্ঠিত বৈশাখী মেলা

যুক্তরাজ্যে বাংলা জাতিগত প্রচার মাধ্যম, পৃথিবীর প্রাচীনতম ও বৃহত্তম বাংলা প্রচার মাধ্যম; ৫ টি টিভি চ্যানেল এবং ১২ টি বাংলা ও ইংরেজি জাতিগত দৈনিক / সাপ্তাহিক পত্রিকার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য খ্যাতির সাথে পরিচালনা করছে। এই প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশি সংস্কৃতি সম্পর্কে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রজন্মের ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রশংসনীয় কাজ করছে।[২]

রাষ্ট্র পরিদর্শন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে গার্ল সামিটের জন্য ইউকে যান। আরো উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সফর ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার কোন পশ্চিমা দেশে প্রথম সফর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে গার্ল সামিটে অংশগ্রহণের ইতিবাচক ফলাফল ব্যাখ্যা করার জন্য বাংলাদেশ-ব্রিটেনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর জোর দিয়েছেন।[৩]

বাংলাদেশে ব্রিটিশ সহায়তা[সম্পাদনা]

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ[সম্পাদনা]

২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ১১৯% বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাজ্য ২০১৩ সালে বাংলাদেশে ৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের পণ্য ও সেবার রপ্তানি করে। এর মধ্যে ৭১% ছিল সেবাভিত্তিক। ২০১৪ সালে পণ্য রপ্তানি ছিল ১৩১ মিলিয়ন পাউন্ডে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের প্রধান রপ্তানি ছিল চিকিত্সার উদ্দেশ্যে পারমাণবিক চুল্লি, বয়লার, যন্ত্রপাতি ও যান্ত্রিক প্রয়োগ / বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম / সাউন্ড রেকর্ডার এবং পুনরূত্পাদনকারক, টেলিভিশন ইমেজ এবং সাউন্ড রেকর্ডার এবং প্রডাক্টর, এবং অংশ / জিনিসপত্র, লোহা ও ইস্পাত অবশিষ্ট, খাদ্য শিল্পের বর্জ্য, গবাদি পশুর জাব।[৪]

২০১২-২০১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যে ২.২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং যুক্তরাজ্য থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা আমদানি করে।[৫]

প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Tower Hamlets - Ethnic groups - 2001 Census - ONS
  2. "Bangladesh-UK Partnership in Education and Culture"। Bangladesh Government। সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৫ 
  3. "Girl Summit Diplomacy and Bangladesh-UK Relations"। Institute of Peace and Conflict Studies। আগস্ট ১৮, ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৫ 
  4. "UK and Bangladesh trade"। UK Government। সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৫ 
  5. "Bangladesh–U.K. Bilateral Trade Statistics" (PDF)। Dhaka Chamber of Commerce। সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৩। ৮ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৫