ফ্রান্স–বাংলাদেশ সম্পর্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ফ্রান্স–বাংলাদেশ সম্পর্ক
মানচিত্র Bangladesh এবং France অবস্থান নির্দেশ করছে

বাংলাদেশ

ফ্রান্স

ফ্রান্সবাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে সুসম্পর্ক বিদ্যমান। উভয় রাষ্ট্রে পরস্পরের দূতাবাস ব্যাবস্থার মাধ্যমে আর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বজায় রাখে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ফরাসিরা প্রথম বাংলাদেশে আসে সপ্তাদশ শতকে। তারা এই দেশে এসেছিলো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে। ফরাসিরা ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন জায়গায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেছিলো।[১] তাদের বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দী ছিলো ব্রিটিশরা। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধও ছিলো। ১৭৫৭ সালে যখন ব্রিটিশদের সাথে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পলাশীর যুদ্ধ হয়, তখন নবাবের সহায়তার জন্য ফরাসিরা সৈন্য পাঠিয়েছিলো।[২]

উচ্চ পর্যায়ের পরিদর্শন[সম্পাদনা]

১৯৯০ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়া মিটারেন্ড একটি সরকারী সফরে বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন। এরপর ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সরকারী সফরে প্যারিসে যান। তাছাড়া বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোর্শেদ খানদীপু মনি যথাক্রমে ২০০৬ ও ২০১০ সালে ফ্রান্স ভ্রমণ করেন।[৩]

২০২১ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সে সফর করেন এবং ফরাসি রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে দেখা করে ৩টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।[৪]

সাংস্কৃতিক সম্পর্ক[সম্পাদনা]

Alliance Française এর মাধ্যমে ১৯৫৯ সাল থেকে বাংলাদেশে ফরাসি সংস্কৃতি প্রচার করা হয়।[৫] এছাড়া ১৯৯৩ সাল থেকে ফরাসি প্রত্নতত্ত্ববিদ বাংলাদেশের মহাস্থানগড়ে খনন কাজ করছেন। তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন।[৬]

অর্থনৈতিক সম্পর্ক[সম্পাদনা]

২০১২ সালের হিসাবে, উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়েছে মোট ১.৬৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১.৫১৩ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ প্রধানত বোনা গার্মেন্টস, হিমায়িত খাদ্য, কৃষি পণ্য, চামড়া, পাট ও পাটজাত পণ্য ফ্রান্সে রপ্তানি করে। ফ্রান্স এর প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো রাসায়নিক, ইলেকট্রনিক্স, যানবাহন, কাঠ এবং কাগজ।[৭]

২০২১ সালের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী উভয় দেশের বাণিজ্যের আকার দ্বিগুণ হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।[৪] এই সফরে বাংলাদেশকে দেওয়া এএফডি-র মোট সাহায্যের পরিমাণ এক শত কোটি ইউরো অতিক্রম করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Ray, Aniruddha (২০১২)। "French, The"। Jamal, Ahmed A.। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh  Editors list-এ |শেষাংশ1= অনুপস্থিত (সাহায্য)
  2. Harrington, Peter (১৯৯৪)। Plassey 1757, Clive of India's Finest Hour; Osprey Campaign Series #36। London: Osprey Publishing। পৃষ্ঠা 61-65। আইএসবিএন 1-85532-352-4 
  3. "France and Bangladesh"। France Diplomatie। ১৭ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১৫ 
  4. "ঢাকা-প্যারিস ৩ চুক্তি"দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। ২০২১-১১-১১। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-১২ 
  5. "The French Connection"। The Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০১৫ 
  6. Hossain, Md. Mosharraf (২০০৬)। Mahasthan: Anecdote to History। Dibyaprakash। পৃষ্ঠা 21-23। আইএসবিএন 9844832454 
  7. "Bangladesh-France bilateral trade statistics" (PDF)Dhaka Chamber of Commerce and Industries। ৩ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০১৫