গ্লেন ফিলিপস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গ্লেন ফিলিপস
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামগ্লেন ডমিনিক ফিলিপস
জন্ম (1996-12-06) ৬ ডিসেম্বর ১৯৯৬ (বয়স ২৪)
পূর্ব লন্ডন, দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান
সম্পর্কডেল ফিলিপস (ভ্রাতা)
ডনোভান গ্রোবেলার (শ্যালক)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ২৭৮)
৩ জানুয়ারি ২০২০ বনাম অস্ট্রেলিয়া
টি২০আই অভিষেক
(ক্যাপ ৭৪)
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টি২০আই২২ ডিসেম্বর ২০২০ বনাম পাকিস্তান
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
২০১৪/১৫ - বর্তমানঅকল্যান্ড (জার্সি নং ৬)
২০১৭ - বর্তমানজ্যামাইকা তাল্লাহজ (জার্সি নং ২৩)
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট টি২০আই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১৭ ৩৪ ৩৭
রানের সংখ্যা ৫২ ৩২৪ ২,১০১ ১,২৪৯
ব্যাটিং গড় ২৬.০০ ২৪.৯২ ৩৯.৬৪ ৩৪.৬৯
১০০/৫০ ০/১ ১/১ ৬/১৩ ৪/২
সর্বোচ্চ রান ৫২ ১০৮ ১৩৮* ১৫৬
বল করেছে ১,৪৩৭ ১৪৪
উইকেট ২০
বোলিং গড় ৪৩.০৫ ৩১.৭৫
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৪/৭০ ৩/৪০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/– ১২/২ ৩০/০ ২৫/২
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২২ ডিসেম্বর ২০২০

গ্লেন ডমিনিক ফিলিপস (ইংরেজি: Glenn Phillips; জন্ম: ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৬) পূর্ব লন্ডন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ও দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য তিনি। ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কাল থেকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে অকল্যান্ড দলে খেলছেন। ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার।[১]

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেন গ্লেন ফিলিপস। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলছেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী তিনি।

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

দক্ষিণ আফ্রিকায় গ্লেন ফিলিপসের জন্ম। পাঁচ বছর বয়সে তার পরিবার নিউজিল্যান্ডে চলে আসে।[২] অকল্যান্ডে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন।

ডিসেম্বর, ২০১৫ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলার উদ্দেশ্যে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[৩] ডিসেম্বর, ২০১৭ সালে তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা ডেল ফিলিপসকেও ২০১৮ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলার উদ্দেশ্যে নিউজিল্যান্ড দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[৪]

১৮ বছর বয়সে ২৪ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে ফোর্ড ট্রফি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে লিস্ট এ ক্রিকেটে তার অভিষেক ঘটে। নিউ প্লাইমাউথে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় দলের প্রতিপক্ষ ছিল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস দল[৫]

৪ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে সুপার স্ম্যাশ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার টুয়েন্টি২০ ক্রিকেটে অভিষেক হয়। অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রতিপক্ষীয় ওতাগোর বিপক্ষে অকল্যান্ডের সদস্যরূপে তিনি ৩২ বলে ৫৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।[৬] ২০১৬-১৭ মৌসুমের সুপার স্ম্যাশ প্রতিযোগিতায় ৩৬৯ রান তুলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। ঐ মৌসুমের শেষ খেলায় নিজস্ব প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেন। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে তিনি ৫৭ বলে ১১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাসত্ত্বেও, ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে স্ট্যাগস দল বিজয়ী হয়। এরফলে, হামিশ মার্শালের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটে সকল স্তরের ক্রিকেটে শতরান করার কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। তবে, গ্লেন ফিলিপস প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে এ সফলতা পেয়েছেন।[৭][৮][৯]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

২০১৭ সাল থেকে গ্লেন ফিলিপসের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রয়েছে। শীর্ষসারির উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে গ্লেন ফিলিপস তার খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে সাদা বলের ক্রিকেটে অংশ নেন।

৬ মার্চ, ২৯১৭ তারিখে প্লাঙ্কেট শীল্ড প্রতিযোগিতায় ক্যান্টারবারির বিপক্ষে তার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয়।[১০] জুন, ২০১৮ সালে অকল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ২০১৮-১৯ মৌসুমের জন্যে তাকে চুক্তির আওতায় আনে ও জেসি রাইডারের সাথে চুক্তিছিন্ন করে।[১১]

২০১৮ সালের ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লীগকে ঘিরে প্রতিযোগিতার পাঁচজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে নজরদারীতে আসেন।[১২] জুন, ২০২০ সালে অকল্যান্ড কর্তৃপক্ষ তাকে ২০২০-২১ মৌসুমের জন্যে চুক্তির প্রস্তাবনা দেয়।[১৩][১৪] জুলাই, ২০২০ সালে ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লীগে জ্যামাইকা তাল্লাহজের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন।[১৫][১৬]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্ট ও সতেরোটি টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন গ্লেন ফিলিপস। ৩ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে সিডনিতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি। এখনো তাকে কোন ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হয়নি।

ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সালে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে তাকে নিউজিল্যান্ডের টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিক দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মার্টিন গাপটিলের আঘাতের কারণে তিনি এ সুযোগ লাভ করেন।[১৭] ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ তারিখে অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টি২০আইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তার অভিষেক হয়।[১৮]

টেস্ট অভিষেক[সম্পাদনা]

অক্টোবর, ২০১৭ সালে ভারত গমনার্থে তাকে নিউজিল্যান্ডের ওডিআই দলে ঠাঁই দেয়া হয়। তবে, তাকে ঐ সিরিজের কোন খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি।[১৯] ডিসেম্বর, ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের টেস্ট দলে তাকে যুক্ত করা হয়। দলের সাথে তাকে রাখা না হলেও পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। এ পর্যায়ে কেন উইলিয়ামসন, হেনরি নিকোলস সর্দি জ্বরে ভুগছিলেন।[২০] ৩ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়।[২১]

২৯ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি২০আইয়ে দূর্দান্ত খেলা উপহার দেন। টি২০আইয়ে নিজস্ব প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেন তিনি।[২২] এরফলে, তিনি কলিন মানরো’র রেকর্ড ভঙ্গ করেন। নিউজিল্যান্ডীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি টি২০আই খেলায় দ্রুততম শতরান করেন মাত্র ৪৬ বলে।[২৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Glenn Phillips"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  2. "Ford Trophy: Forgotten Black Cap Glenn Phillips smashes 156, overshadows Guptill century"Stuff। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০১৯ 
  3. "NZ appoint Finnie as captain for Under-19 World Cup"ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  4. "New Zealand name squad for ICC Under19 Cricket World Cup 2018"New Zealand Cricket। ৮ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  5. "The Ford Trophy, 1st Preliminary Final: Central Districts v Auckland at New Plymouth, Jan 24, 2015"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  6. "Super Smash, Auckland v Otago at Auckland, Dec 4, 2016"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  7. "Records: Super Smash, 2016/17 Most runs"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০১৭ 
  8. Cricket, New Zealand। "Historic first for young Glenn Phillips"nzc.nz। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  9. Cricket, New Zealand। "2016/17 — What a season that was"www.supersmash.co.nz। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  10. "Plunket Shield, Auckland v Canterbury at Auckland, Mar 6–9, 2017"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০১৭ 
  11. "Central Districts drop Jesse Ryder from contracts list"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০১৮ 
  12. "After Rashid, another Afghan leggie at the CPL"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৮ আগস্ট ২০১৮ 
  13. "Daryl Mitchell, Jeet Raval and Finn Allen among major domestic movers in New Zealand"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২০ 
  14. "Auckland lose Jeet Raval to Northern Districts, Finn Allen to Wellington in domestic contracts"Stuff। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০২০ 
  15. "Nabi, Lamichhane, Dunk earn big in CPL 2020 draft"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০২০ 
  16. "Teams Selected for Hero CPL 2020"Cricket West Indies। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০২০ 
  17. "Injured Guptill out of T20I, first two ODIs"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  18. "South Africa tour of New Zealand, Only T20I: New Zealand v South Africa at Auckland, Feb 17, 2017"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  19. "Phillips and Astle picked in updated New Zealand squad"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০১৭ 
  20. "Australia vs New Zealand: Glenn Phillips flown to Sydney as cover for sick duo"Stuff। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৯ 
  21. "3rd Test, ICC World Test Championship at Sydney, Jan 3-7 2020"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০২০ 
  22. "Glenn Phillips shades Colin Munro's record for fastest T20I ton by a New Zealander"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০২০ 
  23. "New Zealand vs West Indies: Blazing century from Glenn Phillips spearheads win"Stuff। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০২০ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]