রিচার্ড ডসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রিচার্ড ডসন
RichardDawson crop.jpg
২০০৭ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে রিচার্ড ডসন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরিচার্ড কেভিন জেমস ডসন
জন্ম (1980-08-04) ৪ আগস্ট ১৯৮০ (বয়স ৪১)
ডনকাস্টার, ইয়র্কশায়ার, ইংল্যান্ড
ডাকনামবিলি ডগ
উচ্চতা৬ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৯৩ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকাবোলার, কোচ
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৬০৮)
৩ ডিসেম্বর ২০০১ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট২ জানুয়ারি ২০০৩ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
২০০৯ - ২০১১গ্লুচেস্টারশায়ার
২০০৭ - ২০০৮নর্দাম্পটনশায়ার
২০০২মেরিলেবোনক্রিকেটক্লাব
২০০১ - ২০০৬ইয়র্কশায়ার
১৯৯৯ - ২০০০ডেভন
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি এলএ টি২০
ম্যাচ সংখ্যা ১০৩ ১২২ ৪১
রানের সংখ্যা ১১৪ ২৯২৭ ৫৯৪ ১৭৮
ব্যাটিং গড় ১১.৪০ ২১.৫২ ১০.০৬ ১০.৪৭
১০০/৫০ -/- -/১২ -/- -/-
সর্বোচ্চ রান ১৯* ৮৭ ৪১ ২৭*
বল করেছে ১১১৬ ১৫,৪৬৭ ৪৫৬৮ ৮০৯
উইকেট ১১ ১৯৯ ১২৩ ৩৯
বোলিং গড় ৬১.৫৪ ৪৪.০৭ ৩০.৩২ ২৬.৭৯
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৪/১৩৪ ৬/৮২ ৪/১৩ ৩/২৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/- ৬৩/- ৪৩/- ১৩/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৯ জানুয়ারি ২০২১

রিচার্ড কেভিন জেমস ডসন (ইংরেজি: Richard Dawson; জন্ম: ৪ আগস্ট, ১৯৮০) ইয়র্কশায়ারের ডনকাস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি ক্রিকেট কোচের দায়িত্বে রয়েছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার, নর্দাম্পটনশায়ার ও ইয়র্কশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি অফ ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন ‘বিলি ডগ’ ডাকনামে পরিচিত রিচার্ড ডসন

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

২০০০ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রিচার্ড ডসনের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৬৮ সালের পর ইয়র্কশায়ারের প্রথম চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে সহায়তা করেন। নিশানা বরাবর আক্রমণধর্মী বোলার হিসেবে বেশ বড় ধরনের দূরত্বে পা ফেলে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। তার বোলিং অনেকাংশেই পিটার সাচের অনুরূপ ছিল। এছাড়াও, বলকে শূন্যে আলতো ভাসিয়ে খেলাসহ বাঁক খাওয়াতে পারতেন। ২০০১ সালে এনবিসি ডেনিস কম্পটন পুরস্কার লাভ করেন।

৪ আগস্ট, ১৯৮০ তারিখে ইয়র্কশায়ারের ডনকাস্টার এলাকায় রিচার্ড ডসনের জন্ম।[১] ব্যাটলি গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন শেষে এক্সটার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছিলেন তিনি। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। এরপর, ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একই স্তরে খেলেছিলেন। পরবর্তী গ্রীষ্মে সফররত জিম্বাবুয়ীয় একাদশের বিপক্ষে ব্রিটিশ ইউনিভার্সিটিজের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২০০১ সালে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।[১]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন রিচার্ড ডসন। ৩ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে মোহালিতে স্বাগতিক ভারত দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২ জানুয়ারি, ২০০৩ তারিখে সিডনিতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি। তাকে কোন ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হয়নি।

২১ বছর বয়সে ২০০১-০২ মৌসুমে ভারত ও নিউজিল্যান্ড গমনার্থে ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ভারতের বিপক্ষে রিচার্ড ডসনের টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মোহালিতে অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে চার উইকেট পান। পরবর্তী শীতকালে আঘাতপ্রাপ্ত অ্যাশলে জাইলসের পরিবর্তে অ্যাশেজ সিরিজ খেলার জন্যে মনোনীত হন। ২০০২-০৩ মৌসুমে তার বল থেকেই স্টিভ ওয়াহ ঐ দিনের শেষ বলে শতক হাঁকিয়েছিলেন।

অবসর[সম্পাদনা]

জেসন ব্রাউন ও গ্রেইম সোয়ানের চেয়েও ভালো খেলতেন। ২০০৪ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ৩০-সদস্যের প্রাথমিক তালিকায় তাকে রাখা হয়েছিল। এরপর থেকেই তার খেলার মান ক্রমশঃ অবনতির দিকে যেতে থাকে।

২০০৬ সালে ইয়র্কশায়ার দ্বিতীয় একাদশের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। তবে, ঐ মৌসুম শেষে তাকে ইয়র্কশায়ার কর্তৃপক্ষ অব্যাহতি প্রদান করে।[১] এরপর, ইংল্যান্ডের স্পিনার মন্টি পানেসরের শূন্যতা পূরণে নর্দাম্পটনশায়ারের সাথে এক বছরের চুক্তিতে যুক্ত হন। তবে, ২০০৭ সাল শেষে নর্দাম্পটনশায়ার থেকে তার অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছিল।

সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সালে সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। ২০০৮ সালে তাকে আবারও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিতে দেখা যায়। এবার তিনি গ্লুচেস্টারশায়ার দলের সদস্য হন। দলে তিনি নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পেতেন না। তবে, তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে স্পিন কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল। দুই মৌসুম পর তার খেলা ব্যাপক অর্থেই অকার্যকর ছিল। তরুণ স্পিনারদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। ২০১১ সাল শেষে তার খেলোয়াড়ী জীবন শেষ হয়ে যায়। এরপর, ঐ মৌসুমে কেবলমাত্র দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে অংশ নিতেন। সবমিলিয়ে ১৯৯টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট পেয়েছেন। গ্লুচেস্টারশায়ারের স্পিন-বোলিং কোচ হিসেবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

কোচিংয়ে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সালে ইয়র্কশায়ারের দ্বিতীয় একাদশের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। তিনি পল ফারব্রেসের স্থলাভিষিক্ত হন।[২] ৩০ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে গ্লুচেস্টারশায়ার ক্লাবের প্রধান কোচ হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন। ক্রিকেট পরিচালক জন ব্রেসওয়েলের চলে যাবার ফলে তিনি এ সুযোগ পান।[৩] ডিসেম্বর, ২০১৯ সালে তাকে ইংল্যান্ড লায়ন্স দলের কোচ হিসেবে মনোনীত করা হয়। তিনি ফেব্রুয়ারি ও মার্চ, ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় আট খেলায় দলকে পরিচালনা করবেন।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Warner, David (২০১১)। The Yorkshire County Cricket Club: 2011 Yearbook (113th সংস্করণ)। Ilkley, Yorkshire: Great Northern Books। পৃষ্ঠা 367। আইএসবিএন 978-1-905080-85-4 
  2. "Yorkshire appoint Richard Dawson as Second team Coach"। ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০১৫ 
  3. "Gloucestershire appoint Richard Dawson as head coach"। BBC Sport। ৩০ জানুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০১৫ 
  4. "Richard Dawson to coach England Lions on tour of Australia"BBC Sport। ২ ডিসেম্বর ২০১৯। 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]