বিষয়বস্তুতে চলুন

জীব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

পৃথিবীতে জীবন
সময়গত পরিসীমা: শেষ হেডিয়ান - বর্তমান
These Escherichia coli cells provide an example of a prokaryotic microorganism
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
শ্রেণীবিহীন: পৃথিবীর জীবন (Gaeabionta)
অধিজগৎজগৎ

জীব হলো কোনো জীবন্ত সত্তা বা সজীব বস্তু যা স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে।[] ভিন্নভাবে বললে, মহাবিশ্বের যে সমস্ত সত্তা জীবনের বৈশিষ্ট্যাবলি স্বতন্তরভাবে ধারণ ও প্রদর্শন করে তাঁরাই জীব। এই সংজ্ঞাটি সমস্যার সমাধান করার চেয়ে বরং আরও অনেক সমস্যার জন্ম দেয়, কারণ স্বতন্ত্র ধারণাটিও বেশ জটিল। একটি জীব কী দিয়ে গঠিত, তা সংজ্ঞায়িত করার জন্য কয়েকটি মানদণ্ড প্রস্তাব করা হয়েছে, যদিও এর মধ্যে খুব কমই ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। সবচেয়ে প্রচলিত একটি মানদণ্ড হলো, প্রতিটি জীবের স্বায়ত্তশাসিত প্রজনন, বৃদ্ধি এবং বিপাক প্রক্রিয়া থাকবে। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী ভাইরাসকে জীব হিসেবে ধরা যায় না, যদিও তারা জীবের মতোই বিবর্তিত হয়। জীব শব্দটি জীববিজ্ঞানে সকল জীবনের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন: প্রাণী, কীটপতঙ্গ, উদ্ভিদ কিংবা ব্যাকটেরিয়া[][]

জীবদেরকে শ্রেণিকরণবিজ্ঞানের মাধ্যমে বিভিন্ন দলে ভাগ করা হয়েছে যাদের মধ্যে আছে বহুকোষীয় প্রাণী, উদ্ভিদছত্রাক শ্রেণির জীব এবং এককোষীয় অণুজীব যেমন প্রোটিস্ট, ব্যাকটেরিয়া এবং আর্কিয়া শ্রেণির জীব।[] সব ধরনের জীব প্রজনন, বৃদ্ধি ও বিকাশ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উদ্দীপনায় সাড়া দিতে সক্ষম। বহুকোষীয় জীবগুলির দেহ বিকাশ লাভের সময় এগুলির কোষগুলির পৃথকীকরণ ঘটে এবং বিশেষ বিশেষ কাজের জন্য কলা, অঙ্গ এবং তন্ত্রের উদ্ভব ঘটে।

একটি জীব হয় প্রাককেন্দ্রিক বা সুকেন্দ্রিক। প্রাককেন্দ্রিক জীবগুলিকে দুইটি অধিরাজ্যে (ডোমেইন) ভাগ করা হয়েছে - ব্যাকটেরিয়া ও আর্কিয়া। অন্যদিকে সুকেন্দ্রিক জীবগুলির কোষগুলির ভেতরে ঝিল্লিতে আবৃত একটি কোষকেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস থাকে এবং একই সাথে ঝিল্লি দ্বারা আবৃত কোষীয় অঙ্গাণু নামের বিভিন্ন প্রকোষ্ঠ থাকে (যেমন প্রাণীকোষের মাইটোকন্ড্রিয়া এবং উদ্ভিদকোষের প্লাস্টিড)।[] ছত্রাক, প্রাণী ও উদ্ভিদ হলো সুকেন্দ্রিক জীবসমূহের তিনটি রাজ্যের উদাহরণ।

বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীতে বর্তমানে জীব প্রজাতির সংখ্যা ২০ লক্ষ থেকে ১ লক্ষ কোটি পর্যন্ত হতে পারে।[] এদের মধ্যে প্রায় ১৭ লক্ষ প্রজাতির জীব সম্পর্কে তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।[] পৃথিবীর ইতিহাসে এ পর্যন্ত ৫০০ কোটির বেশি প্রজাতির জীবের আবির্ভাব হয়েছে এবং এদের শতকরা ৯৯ ভাগই[] বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়।[][১০]

২০১৬ সালে বর্তমান বিশ্বে বিরাজমান সমস্ত জীবের সর্বশেষ সার্বজনীন অভিন্ন পূর্বপুরুষ জীব-এর ৩৫৫টি বংশাণুর একটি সংকলন চিহ্নিত করা হয়।[১১][১২]

জীবজগৎ

[সম্পাদনা]

১৯৬৯ সালে বিজ্ঞানী হুইটেকার পৃথিবীর জীবজগৎ কে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করেন। এই পাঁচটি রাজ্য হল; মোনেরা,প্রোটিস্টা, ফানজি, প্ল্যান্টি এবং অ্যানিমালিয়া[১৩][১৪]

রাজ্য-মোনেরা

[সম্পাদনা]
  • এই রাজ্যের জীব এক কোষী এবং আদি প্রকৃতির।
  • এদের পুষ্টি মৃতজীবী,পরজীবী বা মিথোজীবী ধরনের হয়।
  • কোষের মধ্যে পর্দাবেষ্টিত কোনো কোষ অঙ্গাণু থাকে না।
  • এরা অযৌন জননএর মাধ্যমে বংশবিস্তার করে।
  • উদাহরণ: ই কোলাই (ব্যাকটেরিয়া), অ্যানাবিনা (সায়ানো ব্যাকটেরিয়া) ইত্যাদি।[১৫]

রাজ্য-প্রোটিস্টা

[সম্পাদনা]
  • এই রাজ্যের জীব এককোষী সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত।
  • কোষের মধ্যে পর্দাবেষ্টিত কোষ অঙ্গাণু থাকে।
  • পুষ্টি স্বভোজী বা পরভোজী।
  • এই রাজ্যের জীব ক্ষণপদ, সিলিয়া বা ফ্লাজেলার সাহায্যে গমন করে।
  • এরা যৌন জনন বা অযৌন জনন পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করে।
  • উদাহরণ: অ্যামিবা, ক্ল্যামাইডোমোনাস, ইউগ্লিনা, ভলভক্স ইত্যাদি।[১৬]

রাজ্য - ফানজি

[সম্পাদনা]
  • এরা ক্লোরোফিলবিহীন, রেণু উৎপাদনকারী, বহু কোষী এবং সুগঠিত কোষযুক্ত জীব।
  • কোষ প্রাচীর কাইটিন নির্মিত।
  • এদের পুষ্টি পদ্ধতি মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী প্রকৃতির।
  • এদের দেহে খাদ্যবস্তু হিসেবে গ্লাইকোজেন থাকে।
  • উদাহরণ: ঈস্ট, মিউকর এগারিকাসবা ব্যাঙের ছাতা ইত্যাদি। [১৭]

রাজ্য-প্ল্যান্টি

[সম্পাদনা]

রাজ্য - অ্যানিমালিয়া

[সম্পাদনা]
  • এই রাজ্যের জীব বহুকোষী ,সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত, দেহে কলা, অঙ্গ এবং তন্ত্র থাকে।
  • কোষে কোষ প্রাচীর থাকে না।
  • এদের পুষ্টি পদ্ধতি পরভোজী প্রকৃতির।
  • বাস্তুতন্ত্র-এ এরা খাদক এর ভূমিকা পালন করে।
  • এরা গমনে সক্ষম।
  • উদাহরণ: সাইকন, হাইড্রা, স্থলশামুক, কেউটে সাপ, গরু, ছাগল, ভেড়া, কুকুর, মানুষ ইত্যাদি।[১৯]

জীবের বৈশিষ্ট্য

[সম্পাদনা]

সমস্ত জীবের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে এবং জীবদেহ একটি বা অনেকগুলি কোষ নিয়ে গঠিত হয়। জীবকোষে প্রোটোপ্লাজম থাকে। জীবদেহে শ্বসন, রেচনক্রিয়া, পুষ্টি, বৃদ্ধি, চলন ও গমন হয়। জীবের জনন হয়, উত্তেজনায় সাড়া দেয় এবং নির্দিষ্ট জীবনচক্র থাকে। জীবের বিপাকক্রিয়া, পরিব্যক্তি, জন্ম ও মৃত্যু ঘটে।[২০]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

উদ্ভিদ

প্রাণী

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Mosby's Dictionary of Medicine, Nursing and Health Professions (10th সংস্করণ)। St. Louis, Missouri: Elsevier। ২০১৭। পৃ. ১২৮১আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩২৩২-২২০৫-১
  2. "organism"। Online Etymology Dictionary। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০১৬
  3. "Organism"। ৭ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০২০
  4. Hine, RS. (২০০৮)। A dictionary of biology (6th সংস্করণ)। Oxford: Oxford University Press। পৃ. ৪৬১আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯২০৪৬২-৫
  5. Cavalier-Smith T. (১৯৮৭)। "The origin of eukaryotic and archaebacterial cells"। Annals of the New York Academy of Sciences৫০৩ (1): ১৭–৫৪। বিবকোড:1987NYASA.503...17Cডিওআই:10.1111/j.1749-6632.1987.tb40596.xপিএমআইডি 3113314এস২সিআইডি 38405158
  6. Brendan B. Larsen; Elizabeth C. Miller; Matthew K. Rhodes; John J. Wiens (সেপ্টেম্বর ২০১৭)। "Inordinate Fondness Multiplied and Distributed:The Number of Species on Earth and the New Pie of Life" (পিডিএফ)The Quarterly Review of Biology৯২ (3): ২৩০। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০১৯
  7. Anderson, Alyssa M. (২০১৮)। "Describing the Undiscovered"Chironomus: Journal of Chironomidae Research (31): ২–৩। ডিওআই:10.5324/cjcr.v0i31.2887
  8. Kunin, W.E.; Gaston, Kevin, সম্পাদকগণ (১৯৯৬)। The Biology of Rarity: Causes and consequences of rare – common differencesআইএসবিএন ৯৭৮-০-৪১২-৬৩৩৮০-৫। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০১৫
  9. Stearns, Beverly Peterson; Stearns, S.C.; Stearns, Stephen C. (২০০০)। Watching, from the Edge of Extinction। Yale University Press। পৃ. preface x। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩০০-০৮৪৬৯-৬। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০১৭
  10. Novacek, Michael J. (৮ নভেম্বর ২০১৪)। "Prehistory's Brilliant Future"New York Times। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ২০১৪
  11. Weiss, Madeline C.; Sousa, Filipa L.; Mrnjavac, Natalia; Neukirchen, Sinje; Roettger, Mayo; Nelson-Sathi, Shijulal; Martin, William F. (২০১৬)। "The physiology and habitat of the last universal common ancestor"। Nature Microbiology (9): ১৬১১৬। ডিওআই:10.1038/nmicrobiol.2016.116পিএমআইডি 27562259এস২সিআইডি 2997255
  12. Wade, Nicholas (২৫ জুলাই ২০১৬)। "Meet Luca, the Ancestor of All Living Things"New York Times। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুলাই ২০১৬
  13. বই উদ্ধৃতি=জীবন বিজ্ঞান ও পরিবেশ পরিচয়(ix) | লেখক=চৌধুরী -ভট্টাচার্য -সাঁতরা | শিরোনাম=জীবজগৎ | প্রকাশক=সাঁতরা পাবলিকেশন প্রাইভেট লিমিটেড কলকাতা | আইএসবিএন=978-81-978903-4-5 | বছর=২০২৫ | পাতা=১১
  14. "জীবজগৎ" সংগ্রহের তারিখ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  15. বই উদ্ধৃতি=জীবন বিজ্ঞান ও পরিবেশ পরিচয়(ix) | লেখক=চৌধুরী- ভট্টাচার্য- সাঁতরা | শিরোনাম=জীব জগৎ | প্রকাশক=১৭ পাবলিকেশন প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা | আইএসবিএন= | বছর=২০২৫ | পাতা=১১
  16. বই উদ্ধৃতি= জীবন বিজ্ঞান ও পরিবেশ পরিচয়(ix) | লেখক=চৌধুরী- ভট্টাচার্য- সাঁতরা | শিরোনাম=জীবজগৎ | প্রকাশক=সাঁতরা পাবলিকেশন প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা | আইএসবিএন= | বছর=২০২৫ | পাতা=১১
  17. বই উদ্ধৃতি=জীবন বিজ্ঞান ও পরিবেশ পরিচয়(ix) | লেখক=চৌধুরী- ভট্টাচার্য- সাঁতরা | শিরোনাম=জীবজগৎ | প্রকাশক=সাঁতরা পাবলিকেশন প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা | আইএসবিএন= | বছর=২০২৫ | পাতা=১২
  18. বই=জীবন বিজ্ঞান ও পরিবেশ পরিচয়(ix) | লেখক=চৌধুরী- ভট্টাচার্য- সাঁতরা | শিরোনাম=জীবজগৎ | প্রকাশক= সাঁতরা পাবলিকেশন প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা | আইএসবিএন= | বছর=২০২৫ | পাতা=১২
  19. বই উদ্ধৃতি=জীবন বিজ্ঞান ও পরিবেশ পরিচয়(ix) | লেখক=চৌধুরী- ভট্টাচার্য- সাঁতরা | শিরোনাম=জীবজগৎ | প্রকাশক=সাঁতরা পাবলিকেশন প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা | আইএসবিএন= | বছর=২০২৫ | পাতা=১২
  20. মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান: তুষারকান্তি ষন্নিগ্রহী, শ্রীভূমি পাবলিশিং কোম্পানি, কলকাতা,১৯৮৬, পৃঃ ৭