সূরা আল-কাওসার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
আল কাওসার
سورة الكوثر
Sura108.pdf
শ্রেণীমাক্কী সূরা
পরিসংখ্যান
সূরার ক্রম১০৮
আয়াতের সংখ্যা
পারার ক্রম৩০
রুকুর সংখ্যা
← পূর্ববর্তী সূরাসূরা আল-মাউন
পরবর্তী সূরা →সূরা কাফিরুন
----

আরবি পাঠ্য · বাংলা অনুবাদ


সূরা আল কাওসার (আরবি: سورة الكوثر‎‎) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ১০৮ তম সূরা। এই সূরাটি মক্কায অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ৩ টি।

নাযিল হওয়ার সময় ও স্থান[সম্পাদনা]

শানে নুযূল[সম্পাদনা]

যে ব্যক্তির পুত্রসন্তান মারা যায়, আরবে তাকে নির্বংশ বলা হয়। রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর পুত্র কাসেম আথবা ইবরাহীম যখন শৈশবেই মারা গেলেন, তখন কাফেররা তাঁকে নির্বংশ বলে উপহাস করতে লাগল। ওদের মধ্যে 'আস ইবনে ওয়ায়েলের' নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার সামনে রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর কোন আলোচনা হলে সে বলতঃ আরে তার কথা বাদ দাও, সে তো কোন চিন্তারই বিষয় নয়। কারণ, সে নির্বংশ। তার মৃত্যু হয়ে গেলে তার নাম উচ্চাচরণ করারও কেউ থাকবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে সূরা আল কাওসার অবতীর্ণ হয়।[১][২]

আয়াতসমূহ[সম্পাদনা]

আরবি ভাষায় উচ্চারণ বাংলায় অনুবাদ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম

إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ

ইন্না আ'তাইনা-কাল্ কাওছার ৷
ফাসাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ান্'হা'র৷
ইন্না শানিয়াকা হুয়া'আলআবতার৷

নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাউসার (বা প্রভূত কল্যাণ) দান করেছি।,
অতএব আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামায আদায় পড়ুন এবং কুরবানী করুন।
নিশ্চয় আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই লেজকাটা, নির্বংশ।

বিষয়বস্তুর বিবরণ[সম্পাদনা]

সারকথা, পুত্রসন্তান না থাকার কারণে কাফেররা রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর প্রতি দোষরোপ করত আথবা অন্যান্য কারণে তাঁর প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন করত। এরই প্রেক্ষাপটে সূরা কাউসার অবতীর্ণ হয়। এতে দোষরোপের জওয়াব দেয়া হয়েছে যে, শুধু পুত্রসন্তান না থাকার কারণে যারা রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-কে নির্বংশ বলে, তারা তাঁর প্রকৃত মর্যাদা সম্পর্কে বে-খবর। রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর বংশগত সন্তান-সন্ততিও কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যদিও তা কন্যা-সন্তানের তরফ থেকে হয়। অনন্তর নবী আধ্যাত্নিক সন্তান অথাৎ, উম্মত তো এত অধিকসংখ্যক হবে যে, পূর্ববর্তী সকল নবীর উম্মতের সমষ্টি অপেহ্মাও বেশি হবে। এছাড়া এ সূরায় রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) যে আল্লাহ্‌ তা'আলার কাছে প্রিয় ও সম্মানিত তাও তৃতীয় আয়াতে বিবৃত হয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ইবনে-কাসীর, মাযহারী।
  2. তফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন (১১ খন্ডের সংহ্মিপ্ত ব্যাখ্যা)।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]