সূরা তাকাসুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
তাকাসুর
পরিসংখ্যান
সূরার ক্রম ১০২
আয়াতের সংখ্যা
পারার ক্রম ৩০
রুকুর সংখ্যা
পূর্ববর্তী সূরা সূরা ক্বারিয়াহ
পরবর্তী সূরা সূরা আছর

আরবি পাঠ্য · বাংলা অনুবাদ


সূরা আত তাকাসুর মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ১০২ নম্বর সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ৮ টি এবং রূকুর সংখ্যা ১। আত তাকাসুর সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।

তাকাসুর শব্দটি আরবি: كثرة থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এর অর্থ প্রচুর ধন-সম্পদ সঞ্চয় করা। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও হাসান বসরী (রহঃ) তফসীর করেছেন। এ শব্দটি প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা অর্থেও ব্যবহূত হয়। কাতাদাহ্‌ (রহঃ) এ অর্থই করেছেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) একবার এ আয়াত তেলাওয়াত করে বললেনঃ এর অর্থ অবৈধ পন্থায় সম্পদ সংগ্রহ করা এবং আল্লাহ্‌র নির্ধারিত খাতে ব্যয় না করা।[১][২]

নাযিল হওয়ার সময় ও স্থান[সম্পাদনা]

শানে নুযূল[সম্পাদনা]

ইবনে আবু হাতেম আবু বুরাইদার (রাঃ) রেওয়ায়েত উদ্ধৃত করেছেন। তাতে বলা হয়েছেঃ বনী হারেসা ও বনিল হারস নামক আনসারদের দুটি গোত্রের ব্যপারে এ সূরাটি নাযিল হয়। উভয় গোত্র পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে প্রথমে নিজেদের জীবিত লোকদের গৌরবগাঁধা বর্ণনা করে। তারপর কবরস্থানে গিয়ে মৃত লোকদের গৌরবগাঁধা বর্ণনা করে। তাদের এই আচরণের ফলে আল্লাহ্‌র এই বাণী নাযিল হয়। কিন্তু শানে নূযুলের জন্য সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈগণ যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তাকে এই সূরা নাযিলের উপলহ্ম বলে মেনে নেবার সপহ্মে প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করা যায় না।

ইমাম বুখারী ও ইবনে জারীর হযরত উবাই ইবনে কাবের (রাঃ) একটি উক্তি উদ্ধৃত করেছেনঃ তাতে তিনি বলেছেনঃ "আমরা রসূলে করীম (সাঃ) এর এ বাণীটিকে

কুরআনের মধ্যে মনে করতাম। এমন কি শেষ পর্যন্ত আলহাকুমুত্‌ তাকাসুর সূরাটি নাযিল হয়।"[৩]

বিষয়বস্তুর বিবরণ[সম্পাদনা]

আয়াত সমূহ[সম্পাদনা]

1. প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে

2এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌছে যাও।

3. এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে।

4. অতঃপর এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে।

5. কখনই নয়; যদি তোমরা নিশ্চিত জানতে।

6. তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে,

7. অতঃপর তোমরা তা অবশ্যই দেখবে দিব্য প্রত্যয়ে,

8. এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।

ফযীলত[সম্পাদনা]

রসূলে করীম (সাঃ) একবার সাহাবায়ে কেরামকে লহ্ম্য করে বললেন তোমাদের মধ্যে কারও এমন হ্মমতা নেই যে, এক হাজার আয়াত পাঠ করবে। সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেনঃ হাঁ, এক হাজার আয়াত পাঠ করার শক্তি কয়জনের আছে। তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ কি সূরা তাকাছুর পাঠ করতে পারবে না? উল্লেখ্য এই যে, দৈনিক এই সূরা পাঠ করা এক হাজার আয়াত পাঠ করার সমান।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. কুরতবী
  2. তফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন (১১ খন্ডের সংহ্মিপ্ত ব্যাখ্যা)।
  3. তাফহীমুল কোরআন।
  4. মাযহারী

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]