সূরা কুরাইশ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কুরাইশ
Sura106.pdf
শ্রেণীমাক্কী সূরা
পরিসংখ্যান
সূরার ক্রম১০৬
আয়াতের সংখ্যা
পারার ক্রম৩০
← পূর্ববর্তী সূরাসূরা ফীল
পরবর্তী সূরা →সূরা আল-মাউন
আরবি পাঠ্য · বাংলা অনুবাদ

সূরা কুরাইশ মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ১০৬ তম সূরা। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ৪ টি।

এই সূরার ব্যাপারে সব তফসীরকারকই একমত যে, অর্থ ও বিষয়বস্তুর দিক দিয়ে এই সূরা সূরা-ফীলের সাথেই সম্পৃক্ত। সম্ভবতঃ এ কারণেই কোন কোন মাসহাফে এ দু'টিকে একই সূরারূপে লেখা হয়েছিল। উভায় সূরার মাঝেখানে বিসমিল্লাহ্‌ লিখিত ছিল না। কিন্তু হযরত ওসমান যখন তাঁর খেলাফতকালে কোরআনের সব মাসহাফ একত্রিত করে একটি কপিতে সংযোজিত করান এবং সাহাবায়ে-কেরামের তাতে ইজমা হয়, তখন তাতে এ দু'টি সূরাকে স্বতন্ত্র দু'টি সূরারূপে সন্নিবেশিত করা এবং উভয়ের মাঝখানে বিসমিল্লাহ্‌ লিপিবদ্ধ করা হয়। হযরত ওসমান -এর তৈরি এ কপিকে 'ইমাম' বলা হয়।[১]

শানে নুযূল[সম্পাদনা]

সূরার প্রথম আয়াতে উল্লিখিত কুরাইশ শব্দ থেকেই উক্ত নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে। একে "সূরা ইলাফ" বলা হয়।[২] উম্মু হানি বিনতু আবূ তালেব হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ বলেন, আল্লাহ কুরাইশদের সাতটি বিষয়ে মর্যাদা দান করেছেন:

(১) আমি তাদের মধ্য হতে।

(২) নবুওয়াত তাদের মধ্য হতে এসেছে।

(৩) কাবাগৃহের তত্ত্বাবধান।

(৪) হাজীদের পানি পান করানোর দায়িত্ব পালন।

(৫) আল্লাহ তাদেরকে হস্তীবাহিনীর বিরুদ্ধে সাহায্য করেছেন।

(৬) উক্ত ঘটনার পর কুরাইশরা দশবছর যাবৎ আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত কারো ইবাদত করেনি।

(৭) আল্লাহ তাদের বিষয়ে কুরআনে পৃথক একটি সূরা নাযিল করেছেন যাতে তাদের ব্যতীত আর কারো আলোচনা করা হয়নি।

আয়াতসমূহ[সম্পাদনা]

আরবি ভাষায় উচ্চারণ বাংলায় অনুবাদ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ বিস্‌মিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহীম
 لِإِيلَافِ قُرَيْشٍ 

إِيلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ

فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَٰذَا الْبَيْتِ

الَّذِي أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍ وَآمَنُم مِّنْ خَوْفٍ


লি-ঈলাফি কুরাইশিন৷

ঈলাফিহিম রিহ্ লাতাশ শীতায়ি ওয়াছ ছাইফ।

ফালইয়া’বুদূ রাব্বা হাযাল বাইত।

আল্লাযী আত্য়ামাহুম মিন্ জু-ইওঁ ওয়া অমানাহুম মিন খাউফ।

যেহেতু কুরাইশরা অভ্যস্ত;

অভ্যস্ত শীত ও গ্রীষ্মের সফরে,

এই ঘরের রবের ইবাদাত তাদের করা উচিত।

যিনি তাদের ক্ষুধামুক্তি দিয়েছেন এবং নিরাপদ রেখেছেন।

বিষয়বস্তুর বিবরণ[সম্পাদনা]

সুরা কুরাইশের মধ্যে কুরায়েশদের নিকট বায়তুল্লাহর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে এবং একনিষ্ঠভাবে কাবার মালিকের ইবাদতের প্রতি আহবান করা হয়েছে। নিম্নে এ বিস্তারিত আলোচনা করা হল—

মুহাম্মদের আগমনের পূর্বকাল থেকেই মক্কার কুরাইশরা বিভিন্ন প্রকার কুসংস্কার ও কাবা শরীফে অবস্থিত ৩৬০টি মূর্তির পূজা করা হতো। তা সত্ত্বেও আল্লাহ তাদের প্রতি বহুবিদ নিয়ামত ও সুযোগ সুবিধা প্রদান করেছিলেন শুধু মাত্র কা’বার কারণেই। এমনকি তারা শীতকালে ইয়ামেন ও গ্রীষ্মে সিরিয়া বা সাম দেশে ব্যবসা বাণিজ্য করতে অভ্যস্ত ছিল। আর পবিত্র কা’বার কারণেই তারা ইয়ামেন ও সিরিয়া নিরাপদে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারত। তাছাড়া কাবার জন্যই তারা আবরাহ বাদশাহর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল। আর এসমস্থ বহুবিদ নিয়ামত তারা প্রাপ্ত হয়েছিল শুধু মাত্র কাবার অধিবাসী বলেই। তাই আল্লাহ আলোচ্য সূরায় কাবার গুরুত্ব তুলে ধরে, তথায় অবস্থিত দেব-দেবীর পূজা-আর্চনা না করে, উক্ত ঘরের প্রভু তথা আল্লাহর প্রতি ইবাদত করার আহ্বান করেছেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. তফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন (১১ খন্ডের সংহ্মিপ্ত ব্যাখ্যা)।
  2. Hossain, Shariar। "Surah Al Quraish (আল-কুরাইশ) in English & Bangla Translation"হ য ব র ল। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]