বিষয়বস্তুতে চলুন

সূরা ওয়াকিয়াহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আল ওয়াক্বিয়াহ্‌
الواقعة
শ্রেণীমাক্কী সূরা
নামের অর্থনিশ্চিত ঘটনা
পরিসংখ্যান
সূরার ক্রম৫৬
আয়াতের সংখ্যা৯৬
পারার ক্রম২৭
রুকুর সংখ্যা৩
সিজদাহ্‌র সংখ্যানেই
← পূর্ববর্তী সূরাসূরা আর-রহমান
পরবর্তী সূরা →সূরা হাদীদ
আরবি পাঠ্য · বাংলা অনুবাদ

সূরা আল ওয়াক্বিয়াহ্‌ (আরবি ভাষায়: الواقعة) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ৫৬ তম সূরা, এর আয়াত অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ৯৬ এবং রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ৩। সূরা আল ওয়াক্বিয়াহ্‌ মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।

নামকরণ

[সম্পাদনা]

এই সূরাটির প্রথম আয়াতের الواقعة বাক্যাংশে থেকে এই সূরার নামটি গৃহীত হয়েছে; অর্থাৎ, যে সূরার মধ্যে واقعة (‘ওয়াক্বিয়াহ্‌’) শব্দটি আছে এটি সেই সূরা।[১] ওয়াকিয়াহ শব্দটির অর্থ "ঘটনা" বা বলা যেতে পারে কিয়ামত দিবসের ঘটনা।

নাযিল হওয়ার সময় ও স্থান

[সম্পাদনা]

কুরআনের ব্যাখ্যাকারগণ মতে, এই সূরাটি একটি মক্কী সূরা, অর্থাৎ এটি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কী জীবনে অবতীর্ণ হয়েছে। তবে কিছু মুফাসসিরের মতে (যদিও তারা সংখ্যায় অল্প), সূরার কিছু অংশ মাদানী সময়ে নাজিল হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ বলেন, আয়াত ৩৯–৪০ মাদানী কালে নাজিল হয়েছে, আবার কারো মতে আয়াত ৮১–৮২, আর অন্যরা বলেন আয়াত ৮৩ মাদানী কালের।

কুরআনের বর্তমান বিন্যাস অনুযায়ী (যা অবতরণের ক্রম অনুসারে নয়), এটি হলো ৫৬তম সূরা, এবং এটি অবস্থিত সূরা আর-রহমান-এর পরেই, যেখানে আংশিকভাবে সম্পর্কিত বিষয় আলোচিত হয়েছে।

সারসংক্ষেপ

[সম্পাদনা]

মক্কায় নাজিল হওয়া এই সুরায় মহান আল্লাহর অনন্ত-অসীম ক্ষমতার বিবরণ স্থান পেয়েছে। কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার বর্ণনা, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান বিষয়ে সন্দেহ পোষণকারীদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাশরের ময়দানের ভয়াবহতা, অগ্রবর্তী দলের পরিচয়, ডান-বাঁ দিকের লোকদের অবস্থান, আমল অনুযায়ী নিয়ামত ও আজাব ভোগের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিবরণও দেওয়া হয়েছে। আখিরাত এই অধ্যায়ে আলোচিত প্রধান বিষয়। এর আগের অধ্যায় আর-রহমান-এ জান্নাতের পুরস্কারসমূহের বর্ণনা এসেছে। এই অধ্যায়েও সেই পুরস্কারের উল্লেখ করা হয়েছে, তবে পাশাপাশি জাহান্নামের শাস্তির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

এখানে আখিরাতের তিন শ্রেণীর মানুষের পার্থক্য স্পষ্ট করা হয়েছে: ১. সাবেকুন (অগ্রগণ্যরা) ২. আশহাবুল ইয়ামীন (ডানদিকের সঙ্গীরা) ৩. আশহাবুশ শিমাল (বামদিকের সঙ্গীরা)

প্রথম দুই শ্রেণীর লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর বামদিকের সঙ্গীরা জাহান্নামে যাবে।

“ডান” শব্দটি কল্যাণ ও নেককারিত্বের প্রতীক। সৎকর্ম পরায়ণকারীদের আল্লাহর আরশের ডানদিকে বসানো হবে এবং তাদের আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, সাবেকুন (অগ্রগণ্যরা) বলতে একটি বিশেষ দলকে বোঝানো হয়েছে, যাদের আখিরাতে সাধারণ ডানদিকের সঙ্গীদের চেয়েও উত্তম পরিণতি হবে। তাফসীরবিদগণ এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন—কেউ তাদের নবী-রাসূল, কেউ অলিয়া, সিদ্দিক, শহীদ, ইসলাম গ্রহণে অগ্রগণ্য ব্যক্তিবর্গ বা অনুরূপ অন্যদের সাথে অভিহিত করেছেন।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ "সূরার নামকরণ"। www.banglatafheem.com। তাফহীমুল কোরআন, ২০ অক্টোবর ২০১০। ১১ আগস্ট ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০১৫। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |প্রকাশক=-এ ইটালিক বা গাঢ় লেখা অনুমোদিত নয় (সাহায্য); |সংগ্রহের-তারিখ= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগে থাকা "নাম" বৈধ প্যারামিটার নয়। সমর্থিত প্যারামিটারগুলি হল: details, dir, follow, group, name।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]
  • Wikipedia উইকিপিডিয়া ইংলিশ এডিশনের অনুবাদ