সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন


সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়
জন্ম (1937-02-22) ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৭ (বয়স ৮২)[১]
কুমিল্লা, বৃটিশ ভারত, (বর্তমানে বাংলাদেশ)[১]
পেশাঅভিনেত্রী[১]
উল্লেখযোগ্য কর্ম
'রাত ভোর'
'উপহার'
"অভয়ার বিয়ে"
"নুপুর"
'গলি থেকে রাজপথ'
' 'মরুতীর্থ‌ হিংলাজ'
"কুহক"
",বধু"
ভ্রান্তি বিলাস
'উত্তরায়ণ'
'জয়া'
"কাল তুমি আলেয়া"
নিশিপদ্ম
'ধন্য়ি‌ মেয়ে'
"মাল্য়‌দান
পিতা-মাতা
  • শশধর চট্টোপাধ্যায়[১] (পিতা)
পুরস্কারবেঙ্গল ফিল্ম সাংবাদিকস এসোসিয়েশন (বিএফজেএ)
সঙ্গীত নাটক একাডেমী পুরস্কার
বঙ্গ বিভূষণ
পদ্ম শ্রী

সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় (জন্ম: ২১শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৩৭ কুমিল্লা, বাংলা প্রদেশ, বৃটিশ ভারত) একজন বিখ্যাত ভারতীয় বাঙালি অভিনেত্রী। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত করেন।[২]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

জন্ম কুমিল্লার কামালপুরে । কিন্তু ঢাকার কমলাপুরে কেটেছে তার শৈশব।বাবা ছিলেন রেলের স্টেশনমাস্টার। তবে তার বাবা শশধর চট্টোপাধ্যায়[৩]-এর কর্মস্থল ছিল ফুলবাড়িয়ায়, যেখানে ছিল ঢাকার পুরনো রেল ষ্টেশান। ১০ বোন। ভাই ছিল না।১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ভারতে চলে গিয়েছিলেন কিশোরী বয়সে। দুই বোনকে তাদের বাবা কলকাতায় পাঠিয়ে দেন। উঠেছিলেন দিদির বাড়ি কলকাতার টালিগঞ্জে।[৩] বাবা শশধর চট্টোপাধ্যায় ঠিকমতো টাকা পাঠাতে পারতেন না। তাই খুব কষ্টে কাটছিল ১০ বছর বয়সী ছোট্ট মেয়েটার জীবন। স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন ক্লাস থ্রিতে। আধপেটা খেয়েই কাটিয়ে দিতে হতো দিন। কখনো কখনো ভালো খাওয়ার লোভে আত্মীয়দের বাড়ি চলে যেতেন রাতে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই আত্মীয়রা ফন্দিটা টের পেল। তখন সেখান থেকেও আধপেটা খেয়ে ফিরতে হতো।

ব্যক্তি জীবন[সম্পাদনা]

অবিবাহিত। অবসরে সঙ্গী বই। উপন্যাসেই বেশি আনন্দ পান।

অভিনয় জীবন[সম্পাদনা]

অর্থাভাব আর ছোটবেলা থেকে সিনেমার প্রতি আকর্ষণ তাকে টেনে নিয়ে যায় সিনেমা জগতে।উত্তম কুমার থেকে শুরু করে বহু বড় বড় তারকার সঙ্গে অভিনয় করেছেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়।অভিনয়ের শুরু নাটক দিয়ে। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় লতায়-পাতায় তাঁদের আত্মীয় হতেন। তিনিই অভিনয়ে সুযোগ দেন। নাটকের দলের নাম উত্তর সারথী। নতুন ইহুদি নামের একটা নাটক। নাটক করতে করতেই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ডাক এল।[৩] পাশের বাড়ি ছবির জন্য যখন তাঁর সঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল, তখন তাঁর ‘বাঙাল’ উচ্চারণের কারণে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু আর কোনো অভিনেত্রীকে না পেয়ে আবার ফিরে আসতে হয় সাবিত্রীর কাছে। ২০০ টাকা মাস মাইনের শিল্পী তখন তিনি। কিন্তু পাশের বাড়ির শুটিংও বন্ধ ছিল কিছুকাল। সে সময় জীবনটা কেটেছে খুব কষ্টে। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর সাবিত্রীর অভিনয় দেখে মুগ্ধ হন অনেকেই। ফলে আর থেমে থাকতে হয়নি।গলি থেকে রাজপথ, অবাক পৃথিবী, অনুপমা, দুই ভাই, ধন্যি মেয়ে, মাল্যদান, নিশিপদ্ম ছবিগুলো। কিংবা হালের হ্যামলক সোসাইটির ঝুলন গুপ্ত। এখনো অভিনয় করে চলেছেন সাবিত্রী। টিভি সিরিয়ালে করছেন, চলচ্চিত্রেও করছেন। ৭৫ বছর বয়সেও অভিনয়ের নেশা কাটেনি তাঁর।

উত্তম -সাবিত্রী জুটি

উত্তম সুচিত্রা এবং উত্তম সুপ্রিয়াকে নিয়ে ক্রেজ তখন প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। একদম শেষ দিকে উত্তম কুমারের সাথে সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের জুটি খুবই জনপ্রিয় হয়। উত্তম কুমার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সাবিত্রীর বেশ ‍সুনাম গেয়েছেন। তার অভিনয়গুনে মুগ্ধ ছিলেন মহানায়ক। হাত বাড়ালেই বন্ধু, দুই ভাই, নিশিপদ্ম, মোমের আলো ইত্যাদি সিনেমায় তাদের কেমিস্ট্রি প্রশংসিত হয়েছে।ধন্যি মেয়ে বা মৌচাকের মত কমেডি ছবিতে সাবিত্রীর সাথে জুটি বেঁধে উত্তম কুমারের কমেডি চরিত্র রীতিমত লেখা হয়ে গেছে ইতিহাসের পাতায়।[৩] তার সাথে অবশ্য উত্তম কুমারের কোনো অন্তরঙ্গতার খবর আসেনি।

অভিনীত চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

  1. হাইওয়ে (২০১৪)
  2. হেমলক সোসাইটি (২০১২)
  3. পদক্ষেপ (২০০৬)
  4. তপস্যা (২০০৬)
  5. হার-জীত (২০০০)
  6. বাহাদুর (১৯৯২)
  7. আনন্দলোক (১৯৮৮)
  8. মামণি (১৯৮৬)
  9. ব্রজবুলি (১৯৭৯)
  10. ফুলশয্যা (১৯৭৯)
  11. হীরে মাণিক (১৯৭৯)
  12. সেই চোখ (১৯৭৬)
  13. মৌচাক (চলচ্চিত্র) (১৯৭৪)
  14. শেষ পর্ব (১৯৭২)
  15. ধন্যি মেয়ে (১৯৭১)
  16. মাল্যদান (১৯৭১)
  17. প্রথম প্রতিশ্রুতি (১৯৭১)
  18. নিশিপদ্ম (১৯৭০)
  19. কলঙ্কিত নায়ক (১৯৭০)
  20. মঞ্জরী অপেরা (১৯৭০)
  21. পথে হল দেখা (১৯৬৮)
  22. গৃহদাহ (১৯৬৭)
  23. কাল তুমি আলেয়া (১৯৬৬)
  24. অন্তরাল (১৯৬৫)
  25. জয়া (১৯৬৫)
  26. মোমের আলো (১৯৬৪)
  27. শেষ অঙ্ক (১৯৬৩)
  28. উত্তরায়ন (১৯৬৩)
  29. নব দিগন্ত (১৯৬২)
  30. দুই ভাই (১৯৬১)
  31. হাত বাড়ালেই বন্ধু (১৯৬০)
  32. কুহক (১৯৬০)
  33. রাজসজ্জা (১৯৬০)
  34. গলি থেকে রাজপথ (১৯৫৯)
  35. মরুতীর্থ হিংলাজ (১৯৫৯)
  36. ডাকহরকরা (১৯৫৮)
  37. ডাক্তারবাবু (১৯৫৮)
  38. পুনর্মিলন (১৯৫৭)
  39. দানের মর্যাদা (১৯৫৬)
  40. নবজন্ম (১৯৫৬)
  41. পরাধীন (১৯৫৬)
  42. রাত ভোরে (১৯৫৬)
  43. রাইকমল (১৯৫৫)
  44. গোধূলি (১৯৫৫)
  45. পরেশ (১৯৫৫)
  46. উপহার (১৯৫৫)
  47. অন্নপূর্ণার মন্দির (১৯৫৪)
  48. অনুপমা (১৯৫৪)
  49. বিধিলিপি (১৯৫৪)
  50. ব্রতচারিণী (১৯৫৪)
  51. চাঁপাডাঙ্গার বৌ (১৯৫৪)
  52. কল্যাণী (১৯৫৪)
  53. কাজরী (১৯৫৩)
  54. লাখ টাকা (১৯৫৩)
  55. নতুন বৌদি (১৯৫৩)
  56. সুভদ্রা (১৯৫২)
  57. বসু পরিবার (১৯৫২)
  58. পাশের বাড়ি (১৯৫২)
  59. অবাক পৃথিবী
  60. মোমের আলো
  61. রাজনন্দিনী (১৯৮০)
  62. মাটি (২০১৮)
  63. প্রাক্তন (২০১৬)
  64. থাম্মা‌র বয়ফ্রেন্ড (২০১৬) ...( নন্দিনী মিত্র হিসেবে)
  65. পথে হলো দেখা (১৯৬৮)

পুরস্কার[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; :0 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  2. "Padma Awards Announced"। Press Information Bureau, Ministry of Home Affairs। ২৫ জানুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০১-২৬ 
  3. Das, Monish K. (২০১৬-১০-২২)। "Sabitri Chatterjee"Upperstall.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৩-১৪ 
  4. "পদ্মা অ্যাওয়ার্ডস ঘোষিত"। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারত সরকার। ২৫ জানুয়ারী ২০১৪। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জানুয়ারী ২০১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]