রিক্কি ক্লার্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রিক্কি ক্লার্ক
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরিক্কি ক্লার্ক
জন্ম (1981-09-29) ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮১ (বয়স ৪০)
অরসেট, এসেক্স, ইংল্যান্ড
ডাকনামক্লার্কি ক্রাউচি
উচ্চতা৬ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৯৩ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৬২০)
২১ অক্টোবর ২০০৩ বনাম বাংলাদেশ
শেষ টেস্ট১ নভেম্বর ২০০৩ বনাম বাংলাদেশ
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১৭৪)
১৭ জুন ২০০৩ বনাম পাকিস্তান
শেষ ওডিআই৫ সেপ্টেম্বর ২০০৬ বনাম পাকিস্তান
ওডিআই শার্ট নং২০
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
২০০২–২০০৭সারে (জার্সি নং ৯)
২০০৮ডার্বিশায়ার
২০০৯–২০১৭ওয়ারউইকশায়ার (জার্সি নং ৮১)
২০১৭সারে (ধারকৃত)
২০১৮–বর্তমানসারে (জার্সি নং ৮১)
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ২০ ২৫৬ ২৩২
রানের সংখ্যা ৯৬ ১৪৪ ১১,১৯৫ ৪,০৮৭
ব্যাটিং গড় ৩২.০০ ১১.০৭ ৩২.৫৪ ২৫.২২
১০০/৫০ ০/১ ০/০ ১৭/৫৭ ০/২১
সর্বোচ্চ রান ৫৫ ৩৯ ২১৪ ৯৮*
বল করেছে ১৭৪ ৪৬৯ ২৮,৭৬৩ ৬,৪১৭
উইকেট ১১ ৫১৮ ১৫৪
বোলিং গড় ১৫.০০ ৩৭.৭২ ৩০.৩৩ ৩৭.৬৬
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ২/৭ ২/২৮ ৭/৫৫ ৫/২৬
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/– ১১/– ৩৭৮/– ১০৬/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৭ জানুয়ারি ২০২১

রিক্কি ক্লার্ক (ইংরেজি: Rikki Clarke; জন্ম: ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৮১) এসেক্সের অরসেট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ২০০১ সালে লিস্ট এ ও ২০০২ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। পরের বছর ইংল্যান্ডের একদিনের আন্তর্জাতিক দলের পক্ষে খেলেন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে নিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। সবমিলিয়ে ২০০৩ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে মাত্র দুইটি টেস্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পান। উভয় টেস্টেই দলের প্রতিপক্ষ ছিল বাংলাদেশ দল। এছাড়াও, ২০টি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নিয়েছেন তিনি।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার, সারে ও ওয়ারউইকশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন ‘ক্লার্কি ক্রাউচি’ ডাকনামে পরিচিত রিক্কি ক্লার্ক।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

ব্রডওয়াটার স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন তিনি।[১] এরপর, গোডালমিং কলেজে পড়াশুনো করেছেন। ২০০০ সালে সারে দলের পক্ষে পেশাদারী পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০০২ সাল থেকে রিক্কি ক্লার্কের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রয়েছে। ২০০১ সালে সারের দ্বিতীয় একাদশ চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ২০০২ সালে কেমব্রিজ ইউসিসিই’র বিপক্ষে অভিষেক ঘটা প্রথম-শ্রেণীর খেলায় শতরান করেন। এরপর, টানটনে সমারসেটের বিপক্ষে দর্শনীয় ১৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। ঐ বছর সারে দলের চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা লাভে সহায়তা করেন। ফলশ্রুতিতে এনবিসি ডেনিস কম্পটন পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৬ সালে তিনি নিজস্ব প্রথম ও একমাত্র সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ওয়ারউইকশায়ারে স্থানান্তরিত হবার পূর্বে কোন মৌসুমেই ২২-এর অধিক প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভে সক্ষম হননি। ২০০৭ সাল শেষে সারে দল ত্যাগ করেন ও ডার্বিশায়ার ক্লাবে যুক্ত হন। ২০০৭ সালে সারে দল থেকে পরিত্যাজ্য হন ও নতুনভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন।

সারে অধ্যায়[সম্পাদনা]

২০০১ সালে সারের দ্বিতীয় একাদশ দলের চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী দলে কিছু সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে পরবর্তী মৌসুমে তাকে দ্রুত প্রথম একাদশে ঠাঁই দেয়া হয়। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের অভিষেক খেলায় কেমব্রিজ ইউসিসিই দলের বিপক্ষে ১০৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এছাড়াও, সমারসেটের বিপক্ষে ১৫৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। ৫০-এর অধিক গড়ে ৭৭১ রান তুলেন। ফলশ্রুতিতে, ২০০২ সালে ক্রিকেট রাইটার্স ক্লাব কর্তৃক বর্ষসেরা তরুণ ক্রিকেটার ও এনবিসি ডেনিস কম্পটন পুরস্কার লাভ করেন।

২০০৪ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটে মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তার ব্যাটিং গড় ছিল মাত্র ৩১.১৭ ও সব মিলিয়ে ঐ মৌসুমে মাত্র নয় উইকেট লাভ করেছিলেন। একদিনের খেলায় তার খেলার মান আরও বাজে প্রকৃতির ছিল। ১১ ইনিংসে তিনি মাত্র একবার অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। ২৯ এপ্রিল তারিখে ৫০ ওভারের খেলায় তিনি মাত্র ২৮ বলে ৮২ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলেন। ঐ ইনিংসে তিনি নয়টি চার ও ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে সারে দল ৪৯৪/৫ রান তুলতে সক্ষম হয়।

অধিনায়কত্ব লাভ[সম্পাদনা]

২০০৬ সালে তাকে সারে ক্লাবের সহঃ অধিনায়কের মর্যাদা দেয়া হয়। মার্ক বুচারের পরিবর্তে তাকে অধিনায়কের দায়িত্ব প্রদানের উদ্দেশ্যেই এ অভিজ্ঞতা লাভের জন্যে এ সুযোগ দেয়া হয়।[২] ঐ বছর টুয়েন্টি২০ কাপে সারে দলের নেতৃত্ব ভার তার উপর অর্পণ করা হয়।[৩]

মে মাসে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ও ইংল্যান্ডের পক্ষে বিবেচিতদেরকে নিয়ে ২৫-সদস্যের উন্নয়ন দল গঠন করা হয়। ঐ দলে রিক্কি ক্লার্ককে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[৪] তবে, অন্তর্ভুক্তি সত্ত্বেও তাকে ঐ গ্রীষ্মে ইংল্যান্ড দল থেকে উপেক্ষার শিকার হতে হয় ও ইংল্যান্ডের অগোছালো ওডিআই দলে তালিকার বাইরে থেকে খেলোয়াড়দেরকে রাখা হয়।[৩] ২০০৭ সালে সারে দলের পক্ষে মাত্র দশটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ৩০১ রান ও ১৫ উইকেট পান।[৫]

ডার্বিশায়ার অধ্যায়[সম্পাদনা]

অক্টোবর, ২০০৭ সালে ডার্বিশায়ার দ্বিতীয় একাদশের অধিনায়ক হিসেবে ২০০৮ সালের জন্যে চুক্তিতে উপনীত হবার কথা ঘোষণা করা হয়। তবে, বেশ কয়েকটি ক্লাব থেকে তাকে আকর্ষণীয় প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছিল। এরফলে, সারে দলের সাথে দুই বছরের বর্দ্ধিত মেয়াদ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, পরিবর্তন প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।[৬]

২০০৮ সালে ডার্বিশায়ারের অধিনায়ক হিসেবে স্থানান্তরিত হন। তবে, তাকে দূর্ভাগ্যের কবল পড়তে হয়। রান খরায় ভোগাসহ কোচিং কর্মকর্তাদের সাথে দূরত্ব সম্পর্ক থাকায় আগস্ট মাসে তাকে পদত্যাগ করতে হয়। শেষোক্ত ক্লাবে সময়ে সময়ে অধিনায়কের দায়িত্বে থাকতেন ও আশাবাদ ব্যক্ত করতেন যে হয়তোবা ইংল্যান্ড দল নির্বাচকমণ্ডলী তার নেতৃত্ব আকৃষ্ট হয়ে তাকে দলে যুক্ত করবে।

ক্লার্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ডার্বিশায়ারের পক্ষে যোগ দেয়ার ফলে ইংল্যান্ড দলে খেলার সম্ভাবনা জোড়ালো হবে।[৫] তবে, ২০০৮ সালে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে রান খরায় ভুগেন ও এক পর্যায়ে অধিনায়কত্ব ত্যাগ করতে হয়। এ সময়ে তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২১ গড়ে রান সংগ্রহসহ আটটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় ৩৮ গড়ে উইকেট পেয়েছিলেন।[৭] কেবলমাত্র মে মাসে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে অধিনায়ক থাকা অবস্থায় একটি প্রথম-শ্রেণীর অর্ধ-শতরান করতে পেরেছিলেন।[৮] এক পর্যায়ে আরও অবনতি হলে নিজেকে দলের বাইরে রাখতে বাধ্য হন।[৭] তার খেলায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলার খেসারতস্বরূপ ২০০৮ সাল শেষ হবার পূর্বেই তাকে অধিনায়কত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এক বছর ঐ ক্লাবে কাটানোর পর ২০০৯ সালের শুরুতে ওয়ারউইকশায়ারের সদস্য হন। ২০১৭ সালের সূচনালগ্নে পুনরায় সারে দলে ফিরে যান।

দল পরিবর্তন[সম্পাদনা]

কয়েক সপ্তাহ বাদেই ওয়ারউইকশায়ারে যোগ দেন। এ পর্যায়ে তার খেলোয়াড়ী জীবনে বিরাট প্রভাব ফেলে। শারীরিক সচেতনতার অংশ হিসেবে ক্রিকেট পরিচালক অ্যাশলে জাইলসের নির্দেশনায় তাকে বেশ পরিশ্রমী হতে হয়। ওয়ারউইকশায়ারের বোলিং কোচ গ্রেইম ওয়েলচের সহযোগিতায় ধারাবাহিকতাপূর্ণ বোলিং করতে থাকেন। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট পান। ২০১১ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ঐ সময়ে তার ব্যক্তিগত সেরা ৪৬ উইকেট লাভ করেন।

ডার্বিশায়ারের পক্ষে এক মৌসুম সফলভাবে খেলতে না পারায় সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সালে ওয়ারউইকশায়ারের সাথে তিন বছর মেয়াদে চুক্তিতে আবদ্ধ হন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ওয়ারউইকশায়ার কর্তৃপক্ষ ক্লার্কের প্রতি আগ্রহান্বিত ছিল। ক্লাবের ক্রিকেট পরিচালক অ্যাশলে জাইলস মন্তব্য করেন যে,[৯]

বাংলাদেশে আমি রিক্কি’র সাথে ইংল্যান্ডের সদস্যরূপে খেলেছি। তাকে সর্বদাই প্রতিভাবান ও চিত্তাকর্ষক ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচিত করতাম। এ মুহূর্তে হয়তোবা তার মাঝে প্রতিভার ঘাটতি রয়েছে। তবে, এক সময় ঠিকই এগুলো বেরিয়ে আসবে। তার মাঝে অপার সম্ভাবনা রয়েছে ও আমাকেই তা বের করতে হবে। তার ন্যায় শীর্ষমানের ক্রিকেটারের কাছ থেকে প্রশিক্ষণার্থীরা তার কাছ থেকে অভিজ্ঞতা লাভ করবে।

— অ্যাশলে জাইলস, সেপ্টেম্বর, ২০০৮

স্বর্ণালী সময়[সম্পাদনা]

২০০৮ সাল শেষে ওয়ারউইকশায়ার দল কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের প্রথম বিভাগে উত্তরণ ঘটায়।[১০] এপ্রিল, ২০০৯ সালের শেষদিকে এজবাস্টনে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে রিক্কি ক্লার্ক অপূর্ব খেলেন। প্রথম ইনিংসে তিনি ২/৬৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। এরপর, ৮৬ বলে ১১২ রানের দূর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন। ফলশ্রুতিতে, ওয়ারউইকশায়ার দল প্রতিপক্ষের প্রত্যুত্তরে ৬৩০/৮ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে।[১১] মে, ২০১০ সালে কেন্টের বিপক্ষে খেলায় তিনি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৬/৬৩।[১২] ঐ মৌসুমে ১৫টি চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় অংশ নিয়ে ২৩.২১ গড়ে ৩২ উইকেট লাভ করেছিলেন।[১৩] এছাড়াও, একটি শতরান সহযোগে ২৯.২৬ গড়ে ৬৭৩ রান তুলেন।[১৪]

এপ্রিল, ২০১১ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ-উইকেট পান। সমারসেটের বিপক্ষে ৫/১০ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে প্রতিপক্ষকে ৫০ রানে গুটিয়ে ইনিংস বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।[১৫] ঐ বছরের শেষদিকে ওয়ারউইকশায়ার কর্তৃপক্ষ তাকে ক্যাপ প্রদান করে।[১৬] আগস্টে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে খেলায় তিনি নয়টি ক্যাচ মুঠোয় পুড়েন। এরফলে, উইকেট-রক্ষকবিহীন অবস্থায় ওয়ালি হ্যামন্ডের খেলায় সর্বাধিক ক্যাচ নেয়ার রেকর্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন।[১৭] ঐ মৌসুম শেষে তার সাথে ক্লাবের চুক্তিনামা শেষ হয়ে যায়। এরফলে, সাসেক্স দল এ সুযোগ কাজে লাগায় ও তাকে চুক্তিতে আবদ্ধ হবার আমন্ত্রণ জানায়। তাসত্ত্বেও, নতুনভাবে দুই বছরের চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও প্রত্যাশা করা হয়েছিল যে তিনি হয়তোবা সাসেক্স দলে যোগ দিবেন। সেখানে তিনি একদিনের খেলাগুলোয় উপরের দিকে ব্যাটিংয়ে নামবেন।[১৬][১৮] তবে, সেপ্টেম্বরে তাদের প্রস্তাবনা ফিরিয়ে দেন। এর পরপরই ঐ মৌসুমে তিনি তার একমাত্র প্রথম-শ্রেণীর শতরানের ইনিংস খেলেন। নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে ১০১ বলে ১২৬ রানের দূর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন।[১৯] ঐ মৌসুম শেষে ১৫ খেলায় অংশ নিয়ে ২৬.৫৭ গড়ে ৫৫৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে শতরানের পর মৌসুমের শেষদিকে তিনি আরও দুইটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন।[২০]

২০১২ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে একটি শতরান করেন তিনি। দলের সংগ্রহ ৮১/৭ থাকা অবস্থায় ব্যাট হাতে নামেন। ড্যারেন ম্যাডি’র সাথে ২২৪ রানের জুটি গড়েন। তাদের মধ্যকার সংগ্রহটি অষ্টম উইকেটে ওয়ারউইকশায়ারের রেকর্ডের চেয়ে চার রান কম ছিল।[২১]

সারে দলে প্রত্যাবর্তন[সম্পাদনা]

২০১৭ সালে সারে দলে ফিরে যান। খেলোয়াড় বিনিময় চুক্তির আওতায় ডম সিবলিকে ওয়ারউইকশায়ারে যুক্ত করা হয়।[২২] ওয়ারউইকশায়ারের সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে উপনীত না হয়ে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে দুই বছর মেয়াদের চুক্তিতে সারে দলে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। টি২০ কোয়ার্টার-ফাইনালে সারে-ওয়ারউইকশায়ারের মধ্যকার খেলায় তাকে বেশ কঠিন পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়। চ্যাম্পিয়নশীপে সারে দলের বোলিং গড়ে শীর্ষে অবস্থান করেন তিনি। ১৯.৮১ গড়ে ২২ উইকেট পান। তন্মধ্যে, সমারসেটের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৭/৫৫ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন।

২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো ২০১৮ সালে সারে দল ষোলো বছরের মধ্যে প্রথমবার শিরোপা জয়ী হয়। ৪৯ উইকেটসহ ৫০০ রান তুলেশিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ফলশ্রুতিতে, ৩৮ বছর বয়সী রিক্কি ক্লার্ককে পিসিএ’র বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়। ২০১৯ সালেও ব্যক্তিগতভাবে সেরা অবস্থানে ছিলেন। এ বছর সারের বর্ষসেরা সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নামাঙ্কিত হন।[২৩] এ পর্যায়েও চ্যাম্পিয়নশীপে দলের সর্বাপেক্ষা নির্ভরযোগ্য অল-রাউন্ডার হিসেবে বিবেচিত হন। টি২০ দল থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন।

২০২১ সালে তাকে আর্থিক সুবিধে গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত করা হয়।[২৪]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে দুইটিমাত্র টেস্ট ও বিশটি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন রিক্কি ক্লার্ক। সবগুলো টেস্টই বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি। ২১ অক্টোবর, ২০০৩ তারিখে ঢাকায় স্বাগতিক বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এরপর, ২৯ অক্টোবর, ২০০৩ তারিখে চট্টগ্রামে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

২১ বছর বয়সে ইংল্যান্ড দলে দ্রুত তার অন্তর্ভুক্তি ঘটে। ২০০৩ সালের শুরুরদিকে ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও কিছু দূর্দান্ত ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শনের কারণে ইংল্যান্ড দলের পক্ষে খেলার সুযোগ লাভ করেন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে পাকিস্তানের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে তার। ওডিআইয়ে নিজস্ব প্রথম বলেই উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন তিনি। এ সাফল্যটি তিন দশকের মধ্যে প্রথম ইংরেজ ক্রিকেটারের সাফল্য ছিল। তবে, সামগ্রিকভাবে খেলায় তিনি দূর্বলমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। সুইপ শট মারতে গিয়ে পায়ের ফাঁক দিয়ে শূন্য রানে বিদেয় নেন। এছাড়াও, ৭.২ ওভার বোলিং করে ৪১ রান খরচ করেন। তাসত্ত্বেও, ঐ গ্রীষ্মের বাদ-বাকী ওডিআইয়ে তাকে দলে রাখা হয়। এ পর্যায়ে মাত্র তিন উইকেট পেয়েছিলেন ও সর্বোচ্চ সংগ্রহ করেছিলেন মাত্র ৩৭ রান।

টেস্ট অভিষেক[সম্পাদনা]

কুঁচকিতে আঘাত লাভের কারণে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফকে দলের বাইরে রাখা হলে ২০০৩-০৪ মৌসুমে বাংলাদেশ সফরে তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ সফরে টেস্ট দলে ছিলেন। ঢাকায় তার টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, খেলায় তিনি সুবিধে করতে পারেননি। একটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন ও দুই টেস্টে বেশ মিতব্যয়ী বোলিং করেন।

অবশ্য চট্টগ্রামে তুলনামূলকভাবে ভালো খেলেন। প্রথম ইনিংসে ৫৫ রান সংগ্রহের পর দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুতগতিতে ১৬ বলে ২৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের ইনিংস ঘোষণায় সবিশেষ ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে তিন উইকেট দখল করেন। প্রথম ইনিংসে তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৭-৪-৭-২। ঐ খেলায় তার দল জয়লাভ করেছিল। তবে, এর পর থেকেই তার খেলায় স্থবিরভাব লক্ষ্য করা যায়।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজের প্রথমটিতে অংশ নেন। খেলায় তার দল শোচনীয়ভাবে দশ উইকেটে পরাভূত হয়। এরপর, ঐ সফরে তাকে আর খেলার জন্যে মনোনীত করা হয়নি। ঐ মৌসুমের শীতকালে ইংল্যান্ড দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমন করে। সাত ওডিআই নিয়ে গড়া সিরিজের পাঁচটিতে তার অংশগ্রহণ ছিল। পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। চার ইনিংসের কোনটিতে দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। সবমিলিয়ে ১৮ ওভার বোলিং করে ১০৮ রান খরচায় তিন উইকেট পান। মে মাসের শুরুতে ঐ সফরটি শেষ হয়। এ পর্যায়ে তার আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন গুরুতর ঝুঁকিতে অবস্থান করে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি[সম্পাদনা]

তবে, ২০০৪ সালের গ্রীষ্মের শুরুতে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ ও মার্কাস ট্রেসকোথিকের আঘাতের কারণে আরও একবার খেলার সুযোগ পান। লিডসে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে ওডিআই খেলার জন্যে তাকে দলে রাখা হয়। তবে, আবারও ব্যর্থ হন। চার ওভার ৩০ রান দেন তিনি। ফলশ্রুতিতে, দল নির্বাচকমণ্ডলী তাকে দল থেকে বাদ দেন ও আর তাকে ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলানো হয়নি। ২০০৫ সালে তুলনামূলকভাবে বেশ ভালোমানের খেলা উপহার দেন। একাডেমি দলের পক্ষে বিদেশ গমনের সুযোগ পান।

২০০৬ সালে তার ভাগ্যের মোড় ঘুরে যায়। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২১৪ রান সংগ্রহসহ ৬৪.৬৬ গড়ে রান তুলেন। পাকিস্তান গমনার্থে ইংল্যান্ডের একদিনের দলে তাকে খসড়া তালিকায় রাখা হয়। লর্ডসের ব্যাটিং অনুপযোগী পিচে ৩৯ রান তুলেন। তবে, তিন খেলায় আর মাত্র ৪৫ রান যুক্ত করতে পেরেছিলেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে বল হাতে ব্যর্থ হবার নেয় ১০.৫ ওভারে ৬৪ রান খরচায় এক উইকেট পান। ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় তাকে যুক্ত করা হয়। তবে, তাকে খেলানো হয়নি। এছাড়াও, ইংল্যান্ড এ দলের সফরেও ব্যর্থ হয়েছিলেন।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

হঠাৎ আলোর ঝলকানির ন্যায় তার আবির্ভাব ঘটেছিল। ২০০৬ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে ইংল্যান্ড দল থেকে বাদ পড়েন। তবে, তিনি তার সহজাত অল-রাউন্ডার হবার বিষয়টি তুলে ধরতে পারেননি। তৃতীয় কাউন্টি দলে নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হন ও চমৎকার অল-রাউন্ডার হবার বিষয়টি ক্রিকেটবোদ্ধাদের ধারনায় ছিল। এ অগ্রসরতা বেশ ভালোভাবে উপভোগ করতে থাকেন তিনি। সচারচর তিনি স্লিপ অঞ্চলে দণ্ডায়মান থেকে ফিল্ডিং করতেন।

দীর্ঘদেহী, মজবুত গড়নের অধিকারী রিক্কি ক্লার্ক ব্যাট হাতে বেশ ভারসাম্য বজায় রেখে ব্যাটিং কার্য পরিচালনা করেন ও বল হাতে কার্যকরী তীক্ষ্ণগতিসম্পন্ন পেস বোলিং করতেন। ২০১১ সালে লিভারপুলে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের এক ইনিংসে সাতটি ক্যাচ নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। এরফলে, ইংল্যান্ড দল নির্বাচকমণ্ডলী নতুনভাবে তাকে নজর দিতে শুরু করে। তবে, ব্যাট, বল ও ফিল্ডিংয়ে তার এ সফলতা কেবলমাত্র ঘরোয়া ক্রিকেটেই হয়েছিল। তাকে বেশ বড় মাপের খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনায় আনা হয়েছিল। কিন্তু, তার শুভাকাঙ্খীদের এ প্রত্যাশা পূরণে পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যর্থ হয়েছিলেন।[২১]

২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বল হাতে ২০-এর নীচে গড়ে রান দেন। ২০১২ সালে ব্যাট হাতে ৪৫-এর অধিক গড়ে তিনটি শতরান সহযোগে ওয়ারউইকশায়ারের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে বিশাল ভূমিকা পালন করেন। ফলশ্রুতিতে ২০১৩ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ৩০-সদস্যের প্রাথমিক দলে তাকে ঠাঁই দেয়া হয়। ২০১৫ সালে পিসিএ’র সর্বাপেক্ষা মূল্যবান খেলোয়াড়দের তালিকায় চতুর্থ স্থান লাভ করেন তিনি। এছাড়াও, ২০১৫ সাল শেষে ন্যাটওয়েস্ট ব্ল্যাস্ট টি২০ প্রতিযোগিতায় সর্বাপেক্ষা মিতব্যয়ী নিয়মিত বোলারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. [১]
  2. "Clarke wins Surrey vice-captaincy"। BBC Sport। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০০৬।  Retrieved on 22 April 2012.
  3. Thompson, Jenny (৭ জুলাই ২০০৬)। "England's forgotten man"। Cricinfo।  Retrieved on 22 April 2012.
  4. "ECB announces 25-man development squad"। Cricinfo। ১৯ মে ২০০৬।  Retrieved on 22 April 2012.
  5. Andrew McGlashan (১৭ এপ্রিল ২০০৮)। "Moving and maturing"। Cricinfo।  Retrieved on 2 September 2008.
  6. "Clarke joins Derbyshire as captain"। Cricinfo। ১৭ অক্টোবর ২০০৭।  Retrieved on 2 September 2008.
  7. "Rikki Clarke quits as Derbyshire captain"। Cricinfo। ১২ আগস্ট ২০০৮।  Retrieved on 2 September 2008.
  8. "County Championship Division Two Derbyshire v Warwickshire"। Cricinfo। ১০ মে ২০০৮।  Retrieved on 2 September 2008.
  9. "Clarke leaves Derbyshire for Warwickshire"। Cricinfo। ২ সেপ্টেম্বর ২০০৮।  Retrieved on 2 September 2008.
  10. "Warwickshire seal promotion"। ECB। ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৮। ৫ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা।  Retrieved on 22 April 2012.
  11. "f51575 Warwickshire v Hampshire: LV County Championship 2009 (Division 1)"। CricketArchive।  Retrieved on 22 April 2012.
  12. "Kent on top despite Clarke's five"। Cricinfo। ৫ মে ২০১০।  Retrieved on 22 April 2012.
  13. "Records / County Championship Division One, 2011 / Most wickets"। Cricinfo।  Retrieved on 22 April 2012.
  14. "Records / County Championship Division One, 2010 / Most runs"। Cricinfo।  Retrieved on 22 April 2012.
  15. Dobell, George (১৬ এপ্রিল ২০১১)। "Sorry Somerset collapse to defeat"। Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০১২ 
  16. Bolton, Paul (২৪ আগস্ট ২০১১)। "Clarke lines up move from Warwickshire to Sussex"। The Cricketer।  Retrieved on 21 April 2012.
  17. Culley, Jon (৩ আগস্ট ২০১১)। "Croft ton shares limelight with Clarke's catching"। Cricinfo।  Retrieved on 21 April 2012.
  18. Dobell, George (২৪ আগস্ট ২০১১)। "Chanderpaul ton gives Warwickshire lead"। Cricinfo।  retrieved on 21 April 2011.
  19. "Troughton and Clarke prosper at Edgbaston"। Cricinfo। ৮ সেপ্টেম্বর ২০১১।  Retrieved on 21 April 2012.
  20. "First-class batting and fielding in each season by Rikki Clarke"। CricketArchive।  Retrieved on 21 April 2012.
  21. Edwards, Paul (২১ এপ্রিল ২০১২)। "Clarke deepens Lancs anxiety"। Cricinfo।  Retrieved on 22 April 2012.
  22. https://www.espncricinfo.com/story/_/id/20161496/rikki-clarke-returns-where-started-surrey-move
  23. https://www.kiaoval.com/squad-players/rikki-clarke/
  24. https://www.kiaoval.com/main-news/clarke-granted-2021-testimonial-year/

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ক্রীড়া অবস্থান
পূর্বসূরী
সাইমন ক্যাটিচ
ডার্বিশায়ার ক্রিকেট অধিনায়ক
২০০৮
উত্তরসূরী
ক্রিস রজার্স