চিত্তেশ্বরী মন্দির

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আদি চিত্তেশ্বরী মন্দির,চিৎপুর
Adi chitteshwari temple 2.jpg
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিহিন্দুধর্ম
অবস্থান
অবস্থানকাশীপুর
রাজ্যপশ্চিমবঙ্গ
দেশভারত
স্থাপত্য
ধরনবঙ্গীয় স্থাপত্যশৈলী
সৃষ্টিকারীমনোহর ঘোষ

চিত্তেশ্বরী মন্দির হল পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার কাশীপুরে 'গান-অ্যান্ড-শেল' কারখানার পাশে অবস্থিত। জনশ্রুতি, প্রাচীন কলকাতার চিৎপুর ('চিত্রপুর') অঞ্চলের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন 'চিত্তেশ্বরী'/'চিত্রেশ্বরী'। দেবীমূর্তি প্রাচীন হলেও বর্তমান চিত্তেশ্বরী মন্দিরটি অপেক্ষাকৃত নবীন। মন্দিরের বাইরের গাত্রে 'আদি চিত্তেশ্বরী মন্দির'-এর স্থাপনা ১৬১০ খ্রিস্টাব্দ বলে উল্লেখ আছে।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

লোককাহিনী অনুসারে, জঙ্গলাকীর্ণ প্রাচীন চিত্রপুর গ্রামে 'চিতে' বা 'চিত্তেশ্বর' নামে এক দুর্ধর্ষ ডাকাত বাস করত। একবার একটিমাত্র নিমগাছের গুড়ি থেকে চিতে একটি দেবীপ্রতিমা তৈরী করে তান্ত্রিক মতে পূজার্চনা করতে থাকে। তাঁর নামানুসারে দেবীর নাম হয় 'চিত্তেশ্বরী'।
চিতে ডাকাতের মৃত্যুর পর দেবীমূর্তি মাটির তলায় সমাধিস্থ হয়। পরবর্তীতে, নৃসিংহ ব্রহ্মচারী নামে এক তান্ত্রিক সন্ন্যাসী দেবীবিগ্রহ ভূগর্ভ থেকে উদ্ধার করে সেই স্থানে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। শেওড়াফুলি রাজবংশের রাণী ব্রহ্মচারীর অলৌকিকত্বের পরিচয় পেয়ে দেবী চিত্তেশ্বরীর নামে ঐ স্থানের অনেক সম্পত্তি দেবোত্তর করে দেন এবং তাকে পূজারী ও সেবায়েত নিযুক্ত করেন। সেই থেকে মন্দিরের পূজারীর উপাধি 'ব্রহ্মচারী' আজও চলে আসছে।[১]

মূর্তির এবং মন্দিরের বিবরণ[সম্পাদনা]

চিত্তেশ্বরী দেবীমূর্তি হল সিংহবাহিনী দুর্গামূর্তি। দুর্গার সঙ্গে অন্য দেবদেবীরা অনুপস্থিত। দেবীমূর্তির পাশে একটি বাঘের মূর্তি আছে, যা সুন্দরবনের ব্যাঘ্রদেবতা দক্ষিণরায়ের দ্যোতক। দেবীর প্রতিষ্ঠাকালে চব্বিশ পরগণা ও কলকাতার এই অঞ্চল যে সুন্দরবনের একটি অংশ হিসাবে জলাজঙ্গলময় ছিল এবং বাঘের উপদ্রুত ছিল, এই মূর্তি তারই পরিচয় দেয়। চিত্তেশ্বরী দেবীর পূজার আগে এই বাঘের দেবতার পূজা করার প্রাচীন রীতি বিদ্যমান।
দেবীমূর্তি প্রাচীন হলেও আদি মন্দিরটি স্থানীয় কোন গাছতলা বা পর্ণকুটীরে ছিল বলে মনে করা হয়। বর্তমান মন্দিরের পিছনে একটি ছোট বাগানের মধ্যে পূর্বোক্ত তান্ত্রিক ব্রহ্মচারী প্রতিষ্ঠিত পঞ্চমুণ্ডের আসনটি এখনও আছে। [১]

চিত্রকক্ষ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ঘোষ, বিনয়, "পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি", তৃতীয় খন্ড, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশ ভবন, পৃষ্ঠা: ১৭১-১৭৪