বরাকর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বরাকর
আসানসোলের প্রতিবেশী অঞ্চল
বরাকর নদী বরাকর, আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান জেলা
বরাকর নদী বরাকর, আসানসোল, পশ্চিম বর্ধমান জেলা
বরাকর পশ্চিমবঙ্গ-এ অবস্থিত
বরাকর
বরাকর
আসানসোল, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতে বরাকরের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৪′ উত্তর ৮৬°৫১′ পূর্ব / ২৩.৭৩° উত্তর ৮৬.৮৫° পূর্ব / 23.73; 86.85স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৪′ উত্তর ৮৬°৫১′ পূর্ব / ২৩.৭৩° উত্তর ৮৬.৮৫° পূর্ব / 23.73; 86.85
দেশ ভারত
রাজ্যপশ্চিমবঙ্গ
জেলাপশ্চিম বর্ধমান জেলা
শহরআসানসোল
পৌরসংস্থাআসানসোল পৌরসংস্থা
এএমসি ওয়ার্ডওয়ার্ড নং. ৬৬,৬৭,৬৮,৬৯
ভাষা
 • অফিসিয়ালবাংলা, ইংলিশ
সময় অঞ্চলআইএসটি (ইউটিসি+৫:৩০)
লোকসভা কেন্দ্রআসানসোল
বিধানসভা কেন্দ্রকুলটি
ওয়েবসাইটbardhaman.gov.in
হনুমান মন্দির, বরাকর, আসানসোল

বরাকর হল ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের একটি প্রতিবেশী অঞ্চল। এটি আসানসোল পৌরসংস্থা কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে।[১] এটি ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সীমান্তে অবস্থিত। গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডটি বরাকারের উপর দিয়ে গেছে। এই প্রতিবেশী শহর বরাকর নদীর তীরে অবস্থিত।

ভৌগোলিক অঞ্চল[সম্পাদনা]

নগরায়ণ[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, আসানসোল সদর মহকুমার জনসংখ্যার ৮৩.৩৩% শহুরে এবং ১৬.৬৭% গ্রামীণ ছিল।[২] আসানসোল সদর মহকুমার ২৬ (+১ আংশিকভাবে) আদমশুমারি শহর রয়েছে।

এলাকা[সম্পাদনা]

আসানসোল ঢেউ খেলানো ল্যাটেরাইট অঞ্চল দ্বারা গঠিত। এই অঞ্চল দামোদর এবং অজয় - এ ​​দুটি শক্তিশালী নদীর মধ্যে অবস্থিত। এ অঞ্চলে উপর দিয়ে একে অপরের সাথে সমান্তরালভাবে প্রবাহিত হয়, দুটি নদীর মাঝখানের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। যুগ যুগ ধরে এই অঞ্চলটিতে প্রচুর বনভূমি সৃষ্টি হয় এবং তার ফলে অপহরণ ও লুটেরাদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে কয়লার আবিষ্কারের ফলে এই অঞ্চলটি শিল্পায়নের দিকে অগ্রসর হয়। তবে, এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হিসেবে বেশিরভাগ বনভূমি সাফ হয়ে গেছে।[৩] আসানসোলের পশ্চিম সীমানায় বরাকর, ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সাথে সীমানা গঠন করেছে।

আসানসোল পৌরসংস্থা[সম্পাদনা]

৩ জুন ২০১৫ সালের কলকাতা গেজেটের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, কুলটি, রাণীগঞ্জ এবং জামুরিয়া পৌরসভা অঞ্চলগুলি আসানসোল পৌরসংস্থা অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।[৪]

বেগুনিয়া মন্দিরগুলি[সম্পাদনা]

এই অঞ্চলটি সিদ্ধেশ্বর মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। নবম শতাব্দীর গোড়ার দিকে উড়িষ্যা সংস্কৃতির আদলে হিন্দু ধর্মীয় কাঠামো বিশিষ্ট শিখারা তৈরি করা হয়। এটি পরে ষোড়শ শতাব্দীতে অন্যান্য মন্দির যেমন গণেশ, দুর্গা এবং পঞ্চাননের জন্য অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করেছিল।[৫]

একটি মন্দির চত্ত্বরে আরও চারটি মন্দির রয়েছে যা বেগুনিয়া মন্দির নামে পরিচিত। প্রবেশপথ থেকে শেষ পর্যন্ত চারটি মন্দির প্রাচীনতম বলে মনে হয় এবং এটি অষ্টম-নবম শতাব্দীর দিকে নির্মিত হয়েছিল। এটি পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম রেখ-দেউল মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম। এছাড়া আরও দুটি মন্দির আছে ১৪-১৫ শতাব্দীর দিকে নির্মিত হয়েছিল। মন্দিরে শিব লিঙ্গ, গণেশদুর্গার মূর্তি রয়েছে। মন্দির চত্ত্বরে অনেক পাথরের মূর্তি আবিষ্কৃত হয়েছে। কয়েকটি বিষ্ণুর মূর্তি কিছু অন্য জৈন মূর্তি সম্ভবত এটি পুরানো চতুর্থ মন্দিরের অংশ। এটা স্পষ্ট যে বরাকর এক সময় বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মের কেন্দ্রস্থল ছিল। এরপরে এটি একটি শৈব কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল এবং কোনও এক সময়ে বৈষ্ণব কেন্দ্রও হয়ে উঠেছিল।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি" (PDF)। ১২ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০১৯ 
  2. "District Statistical Handbook 2014 Burdwan"Table 2.2, 2.4(a)। Department of Statistics and Programme Implementation, Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  3. Chattopadhyay, Akkori, Bardhaman Jelar Itihas O Lok Sanskriti (History and Folk lore of Bardhaman District.), (বাংলা), Vol I, pp 14-15, Radical Impression. আইএসবিএন ৮১-৮৫৪৫৯-৩৬-৩
  4. "The Kolkata Gazette" (PDF)Notification No. 335/MA/O/C-4/1M-36/2014 dated 3 June 2015। Department of Municipal Affairs, Government of West Bengal। ১২ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১৭ 
  5. G. Mitchell (1989). The Monuments of India, vol. I, p. 218. New York: Viking Penguin.
  6. Ghosh, Binoy, Paschim Banger Sanskriti, (in Bengali), part I, 1976 edition, pp. 219-221, Prakash Bhaban