কোঠাবাড়ির থান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
কোঠাবাড়ির থান
বিকল্প নাম কোঠাবাড়ির দরগা
সাধারণ তথ্য
অবস্থান কলারোয়া
ঠিকানা কলারোয়া উপজেলা
শহর খুলনা
দেশ বাংলদেশ
স্বত্বাধিকারী বাংলাদেশ প্রত্নতাত্বিক অধিদপ্তর

কোঠাবাড়ির থান মুলত মোগল আমলে গড়ে উঠা একটি থান বা খানকা, যেটি বর্তমানে কোঠাবাড়ির থান নামে পরিচিতি ।[১] এর গঠনশৈলী থেকে ধারণা করা হয়, এটি সম্রাট জাহাঙ্গীর এর আমলে নির্মিত হয়েছিল । সেসময় সম্রাটের কয়েকজন দেওয়ান এই কোঠাবাড়িতে একটি দুর্গ নির্মাণ করার কাজ করেন এবং রাজ্য রক্ষার জন্য সৈন্যদের নিয়ে এখানেই অবস্থান করতেন । এই থান নিয়ে অনেক কুসস্কার রয়েছে সকলের মাঝে । অনেকেই বলেন একজন সিদ্ধ পুরুষ বা সাধু তার নিজের কবরের ওপর তার নিয়ন্ত্রিত জিনের দ্বারা এটি নির্মাণ করিয়ে নেন , কিন্তু কাজ না শেষ হতেই যখন মোরগ ডেকে উঠে তখন তারা ভাবে সকাল হয়ে গেছে সকাল হয়ে গেছে তাই নির্মাণ শেষ না করেই চলে জায় । সূর্য ওঠার আভাস দিয়ে মোরগ ডেকে ওঠে। ১৯৩৭ সাল থেকে সকলে এখানে নামাজ পড়া এবং মানত করা শুরুে করে, যা বর্তমানে তেমনই চলছে । স্থানটি বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে ।

অবস্থান[সম্পাদনা]

সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলা থেকে কয়েক মাইল দূরেই কোঠাবাড়ি থান অবস্থিত ।[২]

ইতিহাস ও বিবরণ[সম্পাদনা]

কোঠাবাড়ি থান এর পাশেই রয়েছে ৫টি বড় পাথর । এই পাথরগুলোর কারুকাজ দেখে সহজেই অনুমান করা যায় যে, এটি কোন পিলারের ভাঙা অংশ । এই থানের মূল দালানের পুরুত্ব প্রায় ৬ ফুট, এখানে রয়েছে বেশকিছু টেরাকোটা ইট, যেগুলোতে পদ্মফুল, মানুষ, লতাপাতা, হাতিসহ বিভিন্ন ধরনের ছবি অঙ্কিত আছে । এগুলো দেখে ইতিহাসবিদগণ সহজেই অনুমান করেন এটি মোঘল শাসনামলের কোন সময়ে তৈরি । এই থান বর্তমানে প্রায় ধ্বংসাবশেস অবস্থায় রয়েছে । থানের বিভিন্ন জায়গায় দেয়াল ভেদ করে কিছু বটগাছ রয়েছে । অনেককাল এটি লোকচক্ষুর অন্তরালে ঢাকা ছিল । এটি আবিস্কারের পরে ১৯৩৭ সাল এর দিকে কুসংস্কার এর বশিভুত হয়ে সকলে নামাজ পড়া ও মানত করা শুরু করে । বর্তমানে নামাজ পড়া বন্ধ হলেও মানত এর প্রচলন রয়েছে । প্রতি শুক্রবার এখানে থানে 'মিসকিন মেলা' এবং মানতকারীদের সমাবেশ বসে। বর্তমানে এই স্থানটি বাংলাদেশ সরকারের সংরক্ষিত স্থাপনা হিসাবে নিয়ন্ত্রনে রয়েছে ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]