আমঝুপি নীলকুঠি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আমঝুপি নীলকুঠি
আমঝুপি নীলকুঠি বর্তমান মেহেরপুরের পর্যটন স্থান.jpg
ধরনপ্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন
অবস্থানমেহেরপুর
পরিচালকবর্গবাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর
মালিকবাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর
সূত্র নংBD-D-39-81

আমঝুপি নীলকুঠি মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত তৎকালীন ইংরেজ নীলকুঠি ও বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন[১] এটি মেহেরপুর জেলা থেকে ৬ কিলোমিটার পূর্বে আমঝুপি নামক গ্রামে অবস্থিত। এর পাশেই রয়েছে কাজলা নদী

ইতিহাস[সম্পাদনা]

উপমহাদেশে নীলচাষের অবসানের পর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে ১৯৭২ সালে এটি প্রথম সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি তৈরির শুরুর দিকে নীলকুঠি হিসেবে ব্যবহার করলেও ক্রমেই এটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। ইতিহাসবিদদের মতে, এই নীলকুঠিটি খুব সম্ভবত ১৮০০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[২]

কুঠিটিতে কেনি, সিম্পসন, জেমস হিল, ফারগুন ক্রফোর্ড, ওয়ার্টস, হ্যামিল্টন এবং আরও অনেক ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও শোষণের সাক্ষ্য রয়েছে।

অবকাঠামো[সম্পাদনা]

আমঝুপি নীলকুঠিটির দুটি প্রবেশপথ রয়েছে। পুরো নীলকুঠি কমপ্লেক্সটি ৭৭ একরের বেশি জায়গাজুড়ে অবস্থিত। কমপ্লেক্সের মাঝখানে কুঠির মূল ভবনটি অবস্থিত ও এর দুপাশে রয়েছে ফুল বাগান। মাঝখানের প্রধান ভবনটির ভিতর রয়েছে ১৫টি কক্ষ। এছাড়াও ভবনটিতে রয়েছে বড় হল রুম, খাবার কক্ষ, নাচঘর ও অতিথিদের থাকার কক্ষ।

কিংবদন্তী[সম্পাদনা]

জনশ্রুতি অনুসারে, এই নীলকুঠিতেই রবার্ট ক্লাইভমীরজাফর বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের ষড়যন্ত্র করেছিল। সিরাজউদ্দৌলার নবম প্রজন্ম নবাবজাদা আব্বাসউদ্দৌলার ভাষ্যমতে নবাব আলীবর্দি ও নবাব সিরাজউদ্দৌলা বজরায় করে এখানে এসেছিলেন ৷

মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারও গঠিত হয়েছিল বৈদ্যনাথ তলার আম্রকাননে নীলকুঠির কাছেই অবস্থিত।

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. লাবলু, আবু লায়েছ (২৫ অক্টোবর ২০১৩)। "মেহেরপুরের ঐতিহাসিক আমঝুপি নীলকুঠি আজ ধ্বংসের পথে"দৈনিক ইত্তেফাক 
  2. Express, The Financial। "Amjhupi Nilkuthi bearing a false accusation of Plassey conspiracy"The Financial Express (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-০২