বিষয়বস্তুতে চলুন

কাতার

(কাতারের রাজনীতি থেকে পুনর্নির্দেশিত)
কাতার রাষ্ট্র

دولة قطر (আরবি)
Dawlat Qatar
কাতারের প্রতীক
প্রতীক
জাতীয় সঙ্গীত: السلام الأميري
As Salam al Amiri  (transliteration)
রাজকীয় শান্তি বর্ষিত হোক


কাতার এর অবস্থান ( সবুজ অংশ )
কাতার এর অবস্থান ( সবুজ অংশ )
কাতারের অবস্থান
রাজধানী
ও বৃহত্তম নগরী বা বসতি
দোহা
২৫°১৮′ উত্তর ৫১°৩১′ পূর্ব / ২৫.৩০০° উত্তর ৫১.৫১৭° পূর্ব / 25.300; 51.517
সরকারি ভাষাআরবী
স্বীকৃত ভাষাইংরেজি
ধর্ম
ইসলাম
জাতীয়তাসূচক বিশেষণকাতারি
সরকারএকক সাংবিধানিক রাজতন্ত্র
তামিম বিন হামাদ আলে সানি
 ডেপুটি আমির
আবদুল্লাহ বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি
মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জসিম আলে সানি
আইন-সভাপরামর্শমূলক পরিষদ
প্রতিষ্ঠিত
১৮ ডিসেম্বর ১৮৭৮
 স্বাধীনতা ঘোষণা

১ সেপ্টেম্বর ১৯৭১
 যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা

৩ সেপ্টেম্বর ১৯৭১
আয়তন
 মোট
১১,৫৮১ কিমি (৪,৪৭১ মা) (১৬৪তম)
 পানি (%)
০.৮
জনসংখ্যা
 ২০১৬ আনুমানিক
২,৬৭৫,৫২২[a][] (১৪২তম)
 ২০১০ আদমশুমারি
১,৬৯৯,৪৩৫[] (১৪৮তম)
 ঘনত্ব
১৭৬/কিমি (৪৫৫.৮/বর্গমাইল) (৭৬তম)
জিডিপি (পিপিপি)২০১৭ আনুমানিক
 মোট
$৩৫৩.১৪৩ বিলিয়ন[] (৪৯তম)
 মাথাপিছু
$১৪৫,৮৯৪[] (১ম)
জিডিপি (মনোনীত)২০১৫ আনুমানিক
 মোট
$১৮৫.৩৯৫ বিলিয়ন[]
 মাথাপিছু
$৬৮,৯৪০[] (৪র্থ)
জিনি (২০০৭)৪১.১[]
মাধ্যম
মানব উন্নয়ন সূচক (২০১৪)বৃদ্ধি ০.৮৫০[]
অতি উচ্চ · ৩২তম
মুদ্রারিয়াল (কিউএআর)
সময় অঞ্চলইউটিসি+৩ (এএসটি)
গাড়ী চালনার দিকঅধিকার[]
কলিং কোড+৯৭৪
আইএসও ৩১৬৬ কোডQA
ইন্টারনেট টিএলডি

কাতার পারস্য উপসাগরের একটি দেশ।[] এটি আরব উপদ্বীপের পূর্ব উপকূল থেকে উত্তর দিকে প্রসারিত কাতার উপদ্বীপে অবস্থিত। কাতারের দক্ষিণে সৌদি আরব, এবং এর পশ্চিমে দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন অবস্থিত। আরব উপদ্বীপের মত কাতারও একটি উত্তপ্ত ও শুষ্ক মরু এলাকা। এখানে ভূ-পৃষ্ঠস্থ কোন জলাশয় নেই এবং প্রাণী ও উদ্ভিদের সংখ্যাও যৎসামান্য। বেশির ভাগ লোক শহরে, বিশেষত রাজধানী দোহা শহরে বাস করে। দেশটিতে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ আছে। এই প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে দেশটির অর্থনীতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৮শ শতকের শেষভাগ থেকে আল-থানি গোত্রের লোকেরা কাতার অঞ্চলটিকে একটি আমিরাত হিসেবে শাসন করে আসছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে দেশটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে। ১৯৭১ সালে এটি পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্তও এটি একটি তুলনামূলকভাবে দরিদ্র দেশ ছিল। ঐ সময় দেশটিতে পেট্রোলিয়ামের মজুদ আবিষ্কৃত হয় এবং এগুলি উত্তোলন শুরু হয়। বর্তমানে মাথাপিছু আয়ের হিসেবে কাতার বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলির একটি।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

প্রাগৈতিহাসিক কাতারে স্থায়ী জনবসতির কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। তবে প্রাগৌতিহাসিক কাল থেকে কাতারে প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। প্রত্নতত্তবিদ ডে কার্ডির মতে, কাতারে প্রাণের অস্তিত্ব ছিলো। এখানের আবহাওয়া ছিলো বৃষ্টিবহুল, জলপ্রপাত, উচু ঘাস ও স্বচ্ছ পানির নালা ছিলো বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। আধুনিক ইতিহাসের জনক হেরাডোটাসের মতে, কাতারে 'কান্নানিয়ান' নামক জেলে সম্প্রদায়ের বসবাস ছিলো। এরা মাছ ধরার মৌসুমে অস্থায়ী অভিযান করে মাছ শিকার করত। খ্রিঃপূঃ ৪৯৯-৪৪৯ অব্দে পারস্য ও প্রাচীন গ্রিক সাম্রাজ্যের যুদ্ধের রেকর্ড হতে এ তথ্য পাওয়া যায়। প্রাচীনকালে কাতারের বিভিন্ন প্রত্নতত্ত যেমন, মাটির বাসন, চকমকি পাথর, পাথর কাটার যন্ত্র বিশ্লেষণ করে পাওয়া যায়, এ কাতারের পূর্ব উপকূল রাস আব্রুখের সাথে মেসোপটেমিয়ান আল উবায়েদ গোত্রের ব্যবসা ছিলো। পরবর্তিতে টলেমির মানচিত্রে কাতারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। যেখানে একে কাথারা ও এর একটি শহর কাদারা নামে দেখানো হয়।

ইসলাম পূর্ব যুগে কাতার আরব উপ দ্বীপের অন্যান্য দেশের মতোই পারস্যের 'শাসানী' রাজবংশের অধীনস্থ ছিলো। পরবর্তিতে সপ্তম শতকে সমগ্র আরব উপ দ্বীপে ইসলাম প্রসার লাভ করলে এ অঞ্চলও ইসলামের ছায়ায় চলে আসে। এ সময় বনু আমের বিন আবদ উল কায়েস, বনু সা'দ বিন যায়েদ মিনাহ বিন তামি্ম নামক বিভিন্ন গোত্রের বসবাস ছিলো। বর্তমান শাসক গোষ্ঠী আল-থানি, আ্ল তামিমিরই একটি শাখা। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলাম দক্ষিণ আরবীয় অঞ্চলে ইসলাম প্রসারে আলা আল হাদরামি কে প্রেরণ করেন ৬২৮ সালে। তখন কাতার অঞ্চলে শাসন করছিলো স্থানীয় বনু তামিম গোত্র। বনু তামিমের গোত্র প্রধান মুনযির বি্ন সাওয়া আল তামিমি ইসলাম গ্রহণে সম্মত হন এবং পরবর্তীতে অন্যান্য গোত্রে ইসলাম প্রসারে ভূমিকা রাখেন।

ইসলামের প্রথম যুগে, কাতারে স্থায়ী বসবাস ছিলো। এছাড়া 'মুরওয়াব' নামক স্থানে একটি দুর্গ ও একশটির মতো পাথুরে বাড়ীর সন্ধান মিলে। এ সময় কাতারের মূল ব্যবসা মাছ এর পাশাপাশি উট ও ঘোড়া পালন ও বিক্রয় ও জনপ্রিয়তা লাভ করে। হাদীস থেকে জানা যায়, কাতারে এক ধরনের কাপড় তৈরি হতো উটের পশম থেকে। এটিও কাতারের অন্যতম ব্যবসায়িক আকর্ষণ ছিলো। উমাইয়া (৬৬১-৭৫০ খ্রী) ও আব্বাসীয় (৭৫০-১২৫৮ খ্রী) আমলে দামেস্ক ও বাগদাদ কেন্দ্রিক ব্যবসা গড়ে ওঠে। উমাইয়া আমলে এ অঞ্চল বিখ্যাত উট ও ঘোড়া ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত হয়। আব্বাসীয় আমলে মুক্তা ব্যবসার উন্নতি পরিলক্ষিত হয়। কাতারি মুক্তার চাহিদা প্রাচ্যের দেশগুলোয় বেড়ে চলে, চীনেও কাতারি মুক্তার চাহিদা ছিলো।

পরবর্তীতে ব্যবসায়র প্রাণকেন্দ্র হয় দুইটি উপসাগর ও লোহিত সাগর। ষোড়শ শতকে কাতার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতার মুখে পড়ে। এ শতকের প্রথমার্ধ ছিলো মামলুকের অধিকারে। পরবর্তীতে মামলুকের প্রভাব কমে যাওয়ায় আরব অঞ্চলে অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হয় উসমানীয় সালতানাত। এছাড়া, স্থানীয় শক্তি ছিলো হরমুজ। উসমানীয় সালতানাত মামলুককে সরিয়ে আরব অঞ্চলে অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। ইরানের সাফাভি রাজবংশ উসমানীয় থেকে বাগদাদ দখল করে। একই সময় স্প্যানিশ- পর্তুগীজদের হাতে মুসলিম ইউরোপীয় শক্তি আল আন্দালুসের পতন হয়। পর্তুগীজ নৌ শক্তি বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তারে ছড়িয়ে পরে। এরা খুব অল্প সময়ে দূর্ধর্ষতার জন্য খ্যাতি অর্জন করে। ১৫০৯ সালে উসমানিয়া, মামলুক ও ভারতীয় মুসলিম রাজশক্তি মিলিত হয়ে পর্তুগীজদের দমনে শক্তি প্রয়োগ করেন। ইতিহাসে এটি তিন রাজার যুদ্ধ নামে পরিচিত। এ যুদ্ধে পর্তুগীজ দের নৌবহরের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়।

আধুনিক কাতারের জন্মঃ কাতার ও ব্রিটিশ চুক্তি ১৯১৬ সালে ব্রিটিশ – আল থানি চুক্তির মাধ্যমে জন্ম লাভ করে আধুনিক কাতারের। ১৯১৬ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে লুইস পেলি আল ওয়াকরায় মুহাম্মাদ আল থানি ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে মিলিত হন। ১২ সেপ্টেম্বর ১৯১৬ সালে আব্দুল্লাহ বিন থানি চুক্তিবদ্ধ হতে সম্মত হন। বিষয় গুলো ছিলোঃ ১। দোহায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান করা। ২। সমুদ্রে অশান্তি সৃষ্টি হতে বিরত থাকা। ৩। যে নিজেদের ও প্রতিবেশীর মাঝে সৃষ্ট যে কোন ধরনের সমস্যায় ব্রিটিশদের ফয়সালা গ্রহণ করা। ৪। বাহরাইনের তৎকালীন আমীর আলি বিন খলিফার সাথে সুসম্পর্ক রাখা। ৫। বাহরাইনের পূর্ববর্তী আমির মোহাম্মদ বিন খলিফাকে কাতারে পাওয়া গেলে তাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়া।

রাজনীতি

[সম্পাদনা]

কাতারের রাজনীতি একটি পরম রাজতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। কাতারের আমীর হলেন একাধারে রাষ্ট্রের প্রধান ও সরকার প্রধান তামিম বিন হামাদ আল থানি ২০১৩ সালে তার পিতা হামাদ বিন খলিফা আল থানির হাত থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে দেশটির আমীর ছিলেন হামাদ বিন খলিফা আল থানি। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি দেশটির প্রধানমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন নাসের বিন খলিফা আল থানি এর পদত্যাগের পর ৬ষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খালিদ বিন খলিফা বিন আব্দুল আজিজ আল থানি।[১০] কাতারের মোট জনসংখ্যা ১.৮ মিলিয়ন। কাতার বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয়ের রাষ্ট্র। সৌদি আরব, ওমান এর পর কাতার অন্যতম রক্ষণশীল রাষ্ট্র। কাতারের নাগরিক সুযোগ সুবিধার মান খুবই উন্নত।

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ

[সম্পাদনা]

কাতার আটটি পৌরসভায় বিভক্ত হয়েছে

  • আদ-দাওয়াহ (দোহা) (রাজধানী দোহা'র সাথে যুক্ত আল রাইয়ান ও দায়্যান মিউনিসিপ্যালিটি)
  • আল রাইয়ান
  • আল ওয়াকর‍্যা
  • আল খোর
  • আল-শাহানিয়া
  • উম্মে সালাল
  • দায়্যান - লুসাইল শহর এখানেই অবস্থিত
  • আল সামাল

অর্থনীতি

[সম্পাদনা]

তেল আবিষ্কারের আগে কাতারি অঞ্চলের অর্থনীতিটি মাছ ধরা এবং মুক্তো শিকারের দিকে মনোনিবেশ করেছিল। ১৯২০ এবং ১৯৩০ এর দশকে জাপানি চাষ করা মুক্তো বিশ্ব বাজারে প্রবর্তনের পরে, কাতারের মুক্তো শিল্প ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ১৯৪০ সালে কাতারের দুখনে তেলআবিষ্কৃত হয়েছিল। এই আবিষ্কার রাজ্যের অর্থনীতিকে রূপান্তরিত করে। এদেশে বৈধ নাগরিকদের জীবনযাত্রার উচ্চমান রয়েছে। আয়কর না নেয়াতে কাতার বিশ্বের অন্যতম নিম্ন হারের দেশ। জুন ২০১৩-তে বেকারত্বের হার ছিল ০.১%। কর্পোরেট আইন হুকুম দেয় যে, কাতারি নাগরিকদের যে কোনও উদ্যোগের ৫১% থাকতে হবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল অনুসারে ২০১৬ সাল পর্যন্ত কাতারের মাথাপিছু চতুর্থ সর্বোচ্চ জিডিপিতে রয়েছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি করতে বিদেশী শ্রমের উপর প্রচুর নির্ভর করতে হয়। অভিবাসী শ্রমিকরা জনসংখ্যার ৮৬% এবং শ্রমশক্তির ৯৪% রচনা করেছেন। ১৯৪০ সালে শুরু হওয়া পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পের উপর ভিত্তি করে কাতারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় একচেটিয়াভাবে করা হয়েছে। তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ রফতানিকারী দেশ কাতার। ২০১২ সালে, অনুমান করা হয়েছিল যে কাতার আগামী দশ বছরে জ্বালানি খাতে $ ১২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে। দেশটি পেট্রোলিয়াম রফতানিকারী সংস্থাগুলির (ওপেক) সদস্য রাষ্ট্র ছিল, ১৯৬১ সালে যোগদান করে এবং ২০১৯ এর জানুয়ারী মাসে বের হয়ে যায়।

২০১২ সালে, কাতার বিশ্বের তৃতীয়বারের জন্য (মাথাপিছু আয় অনুসারে) শীর্ষে থাকা দেশটির খেতাব অর্জন করে। ২০১০ সালে প্রথম লুক্সেমবার্গকে পেছনে ফেলেছে। ২০১২ সালে কাতারের জিডিপি ১৮২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে এবং জানা যায় যে গ্যাস রফতানি ও তেলের উচ্চমূল্যের কারণে এটি সর্বকালের উচ্চতায় পৌঁছেছিল।

জনসংখ্যা

[সম্পাদনা]

২০১৭ সাল পর্যন্ত কাতারের মোট জনসংখ্যা ২৬ লক্ষ ৪১ হাজার ৬৬৯ জন। কাতারের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৪ শতাংশ কাতারের বাসিন্দা। আর বাকি ৮৬ শতাংশ লোকই বিদেশী। তারা বিভিন্ন কাজকর্মের জন্য সেখানে বসবাস করে। পৃথিবীর মধ্যে কাতারই এক মাত্র দেশ যেখানে প্রায় ১৫০টি দেশের বেশি লোক বসবাস করে। [১১]আরবি ভাষা কাতারের সরকারি ভাষা। এখানকার প্রায় ৫৬% লোক আরবি ভাষাতে কথা বলেন। প্রায় এক-চতুর্থাংশ লোক ফার্সি ভাষায় কথা বলেন। বাকীরা ভারতীয় উপমহাদেশেরফিলিপিন দ্বীপপুঞ্জের অন্যান্য ভাষাতে কথা বলেন। আন্তর্জাতিক কাজকর্মে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয়। ।

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সংগঠন

[সম্পাদনা]

কাতারে শিক্ষিতের হার প্রায় ৫৮ শতাংশ। কাতারে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের সংখ্যা খুবই কম। সেখানে মোট জনসংখ্যার মাত্র ২০ শতাংশ মেয়ে বসবাস করে। কাতার একটি ইসলামিক রাষ্ট্র হওয়ায় সেখানে কিছু নিয়ম রয়েছে যা সবাইকে মেনে চলতে হয়। যেমন সেখানে মেয়েদের ছোট ছোট পোশাক পড়া একদমই নিষেধ। তাছাড়া পাবলিক প্লেসে মদ্যপান, সেখানে মদ কেনাবেঁচা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। সেখানে পর্নোগ্রাফিও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। [১১]

ইসলামের দ্বারা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হয়ে কাতারের সংস্কৃতি পূর্ব আরবের অন্যান্য দেশের মতোই। কাতার জাতীয় দিবস, ১৮ ডিসেম্বর প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয়, জাতীয় পরিচয়ের অনুভূতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি জসিম বিন মোহাম্মদ আল থানির সিংহাসনে উত্তরাধিকার এবং তার পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন উপজাতির একীকরণের স্মরণে দেখা যায়। ২০০৮ সালের ১ জুলাই থেকে হামাদ বিন আবদুল আজিজ আল কাওয়ারি কাতারের সংস্কৃতি, কলা ও ঐতিহ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

কাতারে বাংলাদেশি কিছু সংগঠন আছে। যেমন, বাংলাদেশ কুরআন সুন্নাহ পরিষদ, আল হেরা শিল্পীগোষ্ঠী, বন্ধুসভা কাতার, বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবক কাতার ইত্যাদি।

আইনি কাঠামো

[সম্পাদনা]

কাতারের সংবিধান অনুসারে, শরিয়া হল কাতারি আইনের একটি প্রধান উৎস। [১২] [১৩] এটি বিশ্বাস করা হয় যে, শরিয়া হলো ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম প্রতিষ্ঠার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব নবী মুহাম্মদের প্রতি ঈশ্বর কর্তৃক প্রদত্ত একটি ঐশ্বরিক প্রত্যাদেশ। ফলে শরিয়া এর উৎপত্তি এবং নিয়মকানুন দ্বারা চিহ্নিত একটি ধর্মীয় কাঠামোকে মূর্ত করে। এই আইনি ব্যবস্থা আপাতদৃষ্টিতে একমুখী, ঈশ্বর থেকে ব্যক্তির কাছে আসে। ইসলামী শরিয়াকে প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার ফলে ইসলামী আইনি নীতির উপর ভিত্তি করে লেনদেন পরিচালনার জন্য আইন ও বিচারিক কাঠামো প্রণয়ন করা আবশ্যক। [১৪] পারিবারিক আইন, উত্তরাধিকার এবং বেশ কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের (ব্যভিচার, ডাকাতি এবং খুনসহ) সাথে সম্পর্কিত আইনগুলিতে শরিয়া প্রয়োগ করা হয়। শরিয়াভিত্তিক পারিবারিক আদালতে কিছু ক্ষেত্রে

এক জন মহিলার সাক্ষ্য পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেকের সমান এবং কিছু ক্ষেত্রে একজন মহিলা সাক্ষী মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। [১৫]

২০০৬ খ্রিস্টাব্দে পারিবারিক আইন সংহিতা চালু করা হয়েছিল। বাস্তবে, কাতারের আইনি ব্যবস্থা হল সিভিলে বা নাগরিক আইন এবং ইসলামী আইনের মিশ্রণ। [১৬] [১৭]


কাতারে কখনো পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হয়নি এবং এটি আইনি শাস্তি হিসেবে বাতিল করা হয়েছে। [১৮] কাতারে ধর্মত্যাগ একটি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। [১৯] ধর্ম অবমাননা করার শাস্তি সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ধর্মান্তরিত করার শাস্তি ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। [১৯] সমকামিতা মুসলিমদের জন্য মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। [২০]

২০১৪ খ্রিস্টাব্দে কাতার পর্যটকদের শালীন পোশাকের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য একটি শালীনতা প্রচারণা শুরু করে। [২১] মহিলা পর্যটকদের জনসমক্ষে লেগিংস, ছোট স্কার্ট, হাতাবিহীন পোশাক এবং ছোট বা আঁটোসাঁটো পোশাক না পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পুরুষদের কেবল শর্টস এবং সিঙ্গেলস পরার বিরুদ্ধে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। [২২]

বাণিজ্যিক সম্পর্ক কাতারের সিভিল কোড বা দেওয়ানি সংহিতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

সাহস করে যারা কথা বলে তাদেরকে গ্রেপ্তার এবং হুমকি দেয়ার জন্য কাতার সরকার সমালোচিত হয়েছে। [২৩] ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাতারের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদে আইনে বর্ণিত শর্ত ও পরিস্থিতি অনুসারে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে কাতারি কর্তৃপক্ষ "কাতারি সংবিধান এবং এর আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করা করেও কিছু আইন ও নীতি বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে", এবং "ব্যক্তিদের তাদের ইচ্ছামত ভাব ও মত প্রকাশের অধিকার এবং প্রকাশনা, সমাবেশ এবং সংগঠনের স্বাধীনতার অধিকার শান্তিপূর্ণভাবে প্রয়োগ করতে সক্ষম করে এমন সংস্কার ত্বরান্বিত করার" আহ্বান জানিয়েছে। [২৪]

কাতারে মদ্যপান আংশিকভাবে বৈধ, কিছু পাঁচ তারকা বিলাসবহুল হোটেল অমুসলিমদেরকে মদ বিক্রয় করার অনুমতি পেয়েছে। [২৫] [২৬] কাতারে মুসলমানদের মদ্যপান নিষিদ্ধ এবং মুসলমান মদ্যপান করে ধরা পড়লে তাদের বেত্রাঘাত বা নির্বাসনের শাস্তি দেওয়া হয়। অমুসলিম প্রবাসীরা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য মদ্য ক্রয়ের অনুমতি পেতে পারেন। কাতার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কাতার এয়ারওয়েজের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান) মদ‌ এবং শুয়োরের মাংস আমদানির অনুমতিপ্রাপ্ত; এটি দেশে একমাত্র মদের দোকান পরিচালনা করে যা মদের লাইসেন্সধারীদের কাছে শুয়োরের মাংসও বিক্রয় করে থাকে। [২৭] কাতারি কর্মকর্তারা ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে "ফ্যান জোনে" মদ্যের অনুমতি দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। [২৮]

সম্প্রতি পর্যন্ত দ্য পার্ল আইল্যান্ডের (দোহার কাছে একটি মানবসৃষ্ট দ্বীপ) রেস্তোরাঁগুলিতে মদ্যপ পানীয় পরিবেশনের অনুমতি ছিল। [২৫] [২৬] তবে, ২০১১ সালের ডিসেম্বরে দ্য পার্লের রেস্তোরাঁগুলিকে অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। [২৫] [২৯] নিষেধাজ্ঞার কোন ব্যাখ্যা দেয়া হয় নাই। [২৫] [২৬] এর কারণ সম্পর্কে জল্পনা-কল্পনার মধ্যে রয়েছে দেশের প্রথম রাজকীয় উপদেষ্টা সংস্থার নির্বাচনের আগে সরকারের আরো পবিত্র ভাবমূর্তি তুলে ধরার ইচ্ছা এবং সরকার এবং রিসোর্টের বিকাশকারীদের মধ্যে আর্থিক বিরোধের গুজব। [২৯] নিষেধাজ্ঞার অর্থনৈতিক পরিণতি সত্ত্বেও অনেকে বিশ্বাস করেন যে, বিশ্বকাপে ভক্তদের নিরাপত্তা এবং বিনোদন নিশ্চিত করার জন্য এটি একটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল। কাতার বিশ্বকাপের ডেলিভারি অ্যান্ড লিগ্যাসির সুপ্রিম কমিটির প্রধান নির্বাহী নাসের আল খাতের বলেছেন যে, মনোনীত স্থানগুলোর উদ্দেশ্য ছিল ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। [৩০]

শ্রমিক

[সম্পাদনা]

১৬ জানুয়ারী ২০২০ খ্রি: তারিখে কাতার ঘোষণা করেছে যে, বেশির ভাগ অভিবাসী কর্মী, যাদের আগে কাতার ত্যাগের জন্য বহির্গমন অনুমতির প্রয়োজন ছিল, তাদের আর অনুমতির প্রয়োজন হবে না। [৩১]

অভিবাসী শ্রমিকদের সাথে দুর্ব্যবহারের ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। কাতারে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত মায়া কুমারী শর্মা আমিরাতকে "খোলা কারাগার" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। [৩২]কাতারে জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য মান বা নির্দেশিকা নেই এবং কর্মক্ষেত্রে আঘাত দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর তৃতীয় সর্বোচ্চ কারণ। [৩৩] ২০১২ সালের মে মাসে, কাতারি কর্মকর্তারা একটি স্বাধীন ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়ার তাদের ইচ্ছার কথা ঘোষণা করেন। [৩৪]

২০২২ সালের আগস্টে, ৬০ জন অভিবাসী শ্রমিককে তাদের নিয়োগকর্তা, একটি প্রধান নির্মাণ ও আতিথেয়তা সংস্থা, আল বান্দারি ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের দ্বারা বেতন না দেওয়ার প্রতিবাদ করার জন্য গ্রেপ্তার করে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কিছু নেপাল, বাংলাদেশ, ভারত, মিশর এবং ফিলিপাইনের ছিল যাদের সাত মাস ধরে বেতন দেওয়া হয়নি। [৩৫] ফ্রান্স ২৪- এর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুসারে, জননিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের জন্য বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছিল এবং আদালতের আদেশে সংখ্যালঘু বিক্ষোভকারীদের নির্বাসিত করা হয়েছিল যারা শান্তিপূর্ণ থাকতে ব্যর্থ হয়েছিল এবং কাতারের জননিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন করেছিল। কাতারের শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তারা আল বান্দারির কর্মীদের বেতন দেবে এবং বেতন পরিশোধে ব্যর্থতার জন্য তদন্তাধীন কোম্পানির বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেবে। [৩৬]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Population structure"। Ministry of Development Planning and Statistics। ৩১ জানুয়ারি ২০১৭। ২৬ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০১৭
  2. "Populations"। Qsa.gov.qa। ৯ জুলাই ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১০
  3. 1 2 3 "Report for qatar (PPP valuation of country GDP)"। IMF। অক্টোবর ২০১৬।
  4. "Report for Selected Countries and Subjects (PPP valuation of country GDP)"। IMF। অক্টোবর ২০১৬।
  5. "GINI index"। World Bank। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১৩
  6. "2015 Human Development Report" (পিডিএফ)। United Nations Development Programme। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫
  7. "List of left- & right-driving countries - World Standards"। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুন ২০১৭
  8. Johnstone, T. M. (২০০৮)। "Encyclopaedia of Islam"Ķaṭar। Brill Online। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১৩ (সদস্যতা প্রয়োজনীয়)
  9. "Indices & Data | Human Development Reports"। United Nations Development Programme। ১৪ মার্চ ২০১৩। ১২ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১৩
  10. "কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহর পদত্যাগ"। বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০২০
  11. 1 2 "কোটিপতিদের দেশঃ কাতার" {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  12. "The Permanent Constitution of the State of Qatar"। Government of Qatar। ৬ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।"The Permanent Constitution of the State of Qatar". Government of Qatar. Archived from the original on 2014-10-06.
  13. "Constitution of Qatar"According to Article 1: Qatar is an independent Arab country. Islam is its religion and Sharia law is the main source of its legislation."Constitution of Qatar". According to Article 1: Qatar is an independent Arab country. Islam is its religion and Sharia law is the main source of its legislation.
  14. Abdullah, Abdullah (৩১ ডিসেম্বর ২০২০)। "The Legal Impact of Islamic Law in the Identity and Provisions of Qatari Legal System: Conceptual Frame and Legislative Directions"Al-Jami'ah: Journal of Islamic Studies (আরবি ভাষায়)। ৫৮ (2): ৪৫১–৪৮২। ডিওআই:10.14421/ajis.2020.582.451-482আইএসএসএন 2338-557X {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |hdl-access= এর জন্য |hdl= প্রয়োজন (সাহায্য)
  15. "Qatar Gender Equality Profile" (পিডিএফ)। UNICEF। ৫ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
  16. "The World Factbook"। U.S. Central Intelligence Agency। জুলাই ২০২২।
  17. "Qatar" (পিডিএফ)US Department of State
  18. "In Dialogue with Qatar, Experts of the Human Rights Committee Commend Legislative Revision Efforts and Ask about Stance on Capital Punishment | OHCHR"। ২ জুন ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৫
  19. 1 2 Jenifer Fenton। "Religious law, prison for "blasphemy", severe sexual inequalilty: Qatar's human rights review"। ২৯ এপ্রিল ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  20. "What are the worst countries in the world to be gay?"
  21. Elgot, Jessica (২৮ মে ২০১৪)। "'Leggings Are Not Pants' Qatar's New Modesty Campaign Aimed At Westerners'"Huffington Post
  22. Aningtias Jatmika (২৯ মে ২০১৪)। "Qatar Bans Tourists from Wearing Leggings in Public"
  23. "To silence dissidents, Gulf states are revoking their citizenship"The Economist
  24. Monitor, Euro-Med Human Rights। "Qatar: Reforms must include the right to assembly and association"Euro-Med Human Rights Monitor (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২২
  25. 1 2 3 4 Alex Delmar-Morgan (৭ জানুয়ারি ২০১২)। "Qatar, Unveiling Tensions, Suspends Sale of Alcohol"The Wall Street Journal। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০১২
  26. 1 2 3 Jenifer Fenton (১৬ জানুয়ারি ২০১২)। "Qatar's Impromptu Alcohol Ban"। The Arabist। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০১২
  27. "Purchasing Alcohol in Qatar"। Qatar Visitor। ২ জুন ২০০৭। ১ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ মে ২০১১
  28. Walid, Tamara (১১ নভেম্বর ২০০৯)। "Qatar would 'welcome' Israel in 2022"The National। সংগ্রহের তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৩
  29. 1 2 James M. Dorsey (১৭ জানুয়ারি ২০১২)। "Debate Questions Emir's Powers To Shape Qatar's Positioning As Sports Hub And Sponsor of Revolts – Analysis"। The Eurasia Review। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০১২
  30. "Drunk fans will be sent to special zones to sober up, says Qatar World Cup boss"Sky News (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০২৪
  31. "Qatar: End of Abusive Exit Permits for Most Migrant Workers | Human Rights Watch" (ইংরেজি ভাষায়)। ২০ জানুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১২ এপ্রিল ২০২৫
  32. Pattisson, Pete (২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩)। "Revealed: Qatar's World Cup 'slaves'"The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩So entrenched is this exploitation that the Nepalese ambassador to Qatar, Maya Kumari Sharma, recently described the emirate as an "open jail".Pattisson, Pete (25 September 2013). "Revealed: Qatar's World Cup 'slaves'". The Guardian. Retrieved 26 September 2013. So entrenched is this exploitation that the Nepalese ambassador to Qatar, Maya Kumari Sharma, recently described the emirate as an "open jail".
  33. "Occupational health"। National Health Strategy। ১৬ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।"Occupational health". National Health Strategy. Archived from the original on December 16, 2012.
  34. "Qatar to allow trade union, scrap 'sponsor' system"। Al Arabiya। মে ২০১২।"Qatar to allow trade union, scrap 'sponsor' system". Al Arabiya. May 2012.
  35. "Qatar deports migrant workers protesting alleged abuse before World Cup"The Washington Post (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0190-8286। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০২২"Qatar deports migrant workers protesting alleged abuse before World Cup". The Washington Post. ISSN 0190-8286. Retrieved 2022-10-04.
  36. "Qatar deports migrants after wage protest, rights group says"France 24 (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ আগস্ট ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০২২

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]