ইসলামিক মৃৎশিল্প

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ইসলামিক মৃৎশিল্পের সাথে সম্পর্কিত প্রধান স্থানসমূহ।
প্রতিফলনের পাত্র, ১৩ শতকের গোড়ার দিকের ইরান। ব্রুকলিন জাদুঘর।

মধ্যযুগীয় ইসলামিক মৃৎশিল্প চীনা মৃৎশিল্পের, তারপর ইউরেশীয় উৎপাদনের অবিসংবাদিত নেতাদের, এবং তারপর কনস্ট্যাণ্টিনোপল সাম্রাজ্য এবং ইউরোপের মৃৎশিল্পের মধ্যবর্তী এক ভৌগোলিক অবস্থানে অধিকৃত ছিল। ওই যুগের অধিকাংশ সময়ের জন্যে এটি সঙ্গতভাবেই বলা যায় যে তা নান্দনিক অর্জন এবং প্রভাব এই দুই ক্ষেত্রের মধ্যে সেইসাথে, চীন থেকে ধার করা এবং কনস্ট্যাণ্টিনোপল আর ইউরোপে রপ্তানি এবং প্রভাব ফেলার মধ্যে অবস্থিত ছিল। মদ্যপান এবং খাদ্যগ্রহণের জন্যে সোনা এবং রুপোর পাত্র ব্যবহার করার প্রচলন, এই আদর্শটি প্রাচীন রোম এবং পারস্যে, সেইসাথে মধ্যযুগীয় খ্রিষ্টীয় সমাজে হাদিসের[১] দ্বারা নিষিদ ছিল্ধ, ফলাফল হিসেবে মুসলিম অভিজাতেরা মাটির পাত্র এবং কাচের খাবার পাত্র ব্যবহার করতেন, যেহেতু মাটির পাত্র (কিন্তু কাঁচের পাত্রের পরিমাণ অল্প ছিল) চীনেও ছিল, কিন্তু ইউরোপ এবং কনস্ট্যান্টিনোপলে অনেক বিরল ছিল। একইভাবে ইসলামী বিধিনিষেধ আলঙ্কারিক দেয়াল-চিত্রকে ভীষণভাবে নিরুৎসাহিত করত, স্থাপত্যে আলঙ্কারিক নকশার এবং প্রায়শই জ্যামিতিক-প্যাটার্নের টালির ব্যবহারকে উৎসাহিত করত, যা ইসলামি মৃৎশিল্পের সবচেয়ে স্বতন্ত্র এবং মৌলিক বৈশিষ্ট্য।

ইসলামি মৃৎশিল্পের যুগ ৬২২ সালের দিকে শুরু হয়। ৬৩৩ সাল থেকে, মুসলিম সেনাবাহিনীসমূহ দ্রুত পারস্য, কনস্ট্যাণ্টিনোপল, মেসোপটেমিয়া, আনাতোলিয়া, মিশর এবং পরবর্তী আন্দালুসিয়ার দিকে অগ্রবর্তী হতে থাকে। ইসলামি মৃৎশিল্পের আদি ইতিহাস কিছুটা ধোঁয়াটে এবং জল্পনাকল্পনার বিষয় থেকে যায় যেহেতু অল্পই প্রমান টিকে আছে। দালান এবং মসজিদ স্থাপত্যসংক্রান্ত অলংকরণের জন্যে তাদের ব্যবহৃত টালিসমূহ যা ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে গেছে সেগুলো ছাড়া, মধ্যযুগের গোড়ার দিকের অনেক মৃৎশিল্প বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

মুসলিম বিশ্ব মেসোপটেমিয়া, পারস্য, মিশর, উত্তর আফ্রিকা (আফ্রিকান লাল মাটির পাত্র) এবং পরবর্তীতে অন্যান্য এলাকায় উল্লেখযোগ্য মৃৎশিল্প পায়। বস্তুত, চীনামাটির মৃৎশিলের উদ্ভব মিশরে খুঁজে পাওয়া যায় যেখানে তা চতুর্থ খৃষ্টপূর্বে প্রথম প্রবর্তিত হয়। যাইহোক, এইসব ঐতিহ্যের বেশিরভাগ আলঙ্কারিক নকশার প্রচুর ব্যবহার করত, যা অনেকটাই কমে যায়, যদিও সম্পূর্ণভাবে নয়, ইসলামের অধীনে।

মধ্যযুগের প্রথমদিকে (৬২২-১২০০)[সম্পাদনা]

সুত্র-লিপি সম্বলিত পাত্র। কুফিক লিপিতে লেখাঃ "মহানুভবতার প্রথম স্বাদ তিক্ত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা মধু'র চেয়ে বেশি মিষ্টি মনে হয়। স্বাস্থ্য কামনা [মালিকের প্রতি]।" পোড়ামাটি, শ্বেত ফালির জমিন এবং অল্পপোড়া ফালির সজ্জা, খুরাসান (ইরান), ১১দশ-১২দশ শতাব্দি।

৯ম শতাব্দীর ইরাক (পূর্বের মেসোপটমিয়া), সিরিয়া এবং পারস্যের আগে মৃৎশিল্পে কোন স্বতন্ত্র মুসলিম ধরণ স্থাপিত হয়নি। এই সময়ে শিল্পটি প্রধানত শ্বেত টিন-পোড়া ব্যবহার করত। এর পূর্বের সময়ের তথ্য খুবই সীমিত। এর প্রধান কারণ উদ্দিষ্ট নমুনাগুলোর ভাল অবস্থায় থাকার অভাব যা এই যুগের চীনামাটি নিয়ে গবেষণার আগ্রহও সীমিত করে দেয়। জর্ডানে সম্পন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক খনন উমাইয়া যুগের খুবই অল্প পরিমাণের নমুনা আবিস্কার করে, বেশিরভাগই খিরবাত-আল-মাফজারের জেল্লাহীন পাত্র।[২][৩] পূর্বদিকে, প্রাপ্ত নমুনা প্রমাণ করে যে সমনিদ রাজবংশ যা সমরকন্দ এবং পারস্যের কিছু অংশ ৮৭৪ ও ৯৯৯ সালে শাসন করত সেখানে একটি উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছিল। পাত্র অলঙ্করণের জন্য ক্যালিগ্রাফি ব্যবহার ছিল এই কেন্দ্রের সবচেয়ে প্রশংসিত কৌশল। শুধুমাত্র "শিলালিপির পাত্র" নামে উচ্চ শৈলীর লিপি দ্বারা অলংকৃত ৯ম থেকে ১০ম শতাব্দীর পূর্ব পারস্যের মৃৎশিল্পকে, বর্ণনা করা হয়েছে "সকল পারসিক মৃৎশিল্পের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে পরিমার্জিত এবং সংবেদনশীল"[৪] হিসেবে।

স্বচ্ছ চাকচিক্যের নিচে একটি ফালি দ্বারা সজ্জিত চীনামাটির পাত্র, গরগান, ৯ম শতাব্দী, ইসলামি যুগের প্রারম্ভে, ইরানের জাতীয় জাদুঘর

চৈনিক প্রভাব[সম্পাদনা]

আব্বাসিয় শাসনামলে মৃৎশিল্প উৎপাদন চরম উৎকর্ষ লাভ করে, বেশিরভাগই অস্বচ্ছ শ্বেত চাকচিক্যের আকারে টিনের চাকচিক্য ব্যবহার করে। কিছু অইতিহাসিক, যেমন আর্থার লেন, এ ধরনের শিল্পের উৎকর্ষের জন্যে চৈনিক প্রভাবকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। মুসলমানদের পাণ্ডুলিপি থেকে প্রাপ্ত প্রমাণ, যেমন আকবর আল-সিন ওয়া আল-হিন্দ (৮৫১ সাল) এবং ইবনে কুরদাধবিহ'র সড়ক এবং প্রদেশসমূহের কিতাব (৮৪৬-৮৮৫), ইঙ্গিত করে যে চীনের সাথে লেনদেন দৃঢ়ভাবে স্থাপিত হয়েছিল। লেন মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-বাইহাকি'র রচিত একটি লেখার (১০৫৯) উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি বলেন যে খুরাসানের রাজ্যপাল, 'আলি ইবনে 'ইসা, খলিফা হারুন আল-রশিদকে (৭৮৬-৮০৯) উপহার হিসেবে, "বিশটি চীনা সাম্রাজ্যের মাটির বাসন (চিনী ফ্যাগফুরি), যেমনটা আগে আর কখনও কোন খলিফার দরবারে দেখা যায়নি, সাথে আরও ২,০০০ চীনামাটির বাসন" পাঠান।

ড্র্যাগন সম্বলিত প্লেট। পারস্য, ১৭দশ শতাব্দী, ১৫ শতাব্দীর চৈনিক নীল এবং শ্বেত চীনামাটি দ্বারা প্রভাবিত।

লেনের ভাষ্যমতে, চৈনিক মৃৎশিল্পের প্রভাব তিনটি প্রধান ধাপে এগোয়।চীনের সাথে প্রথম যোগাযোগ হয় ৭৫১ সালে জখন তালাসের যুদ্ধে আরবেরা চীনাদের পরাজিত করে। এটি বিতর্কের বিষয় যে যুদ্ধবন্দী চৈনিক কুমার এবং কাগজ প্রস্তুতকারীরা মুসলমানদের মৃৎশিল্প এবং কাগজ প্রস্তুতের শিল্প শিখিয়ে থাকতে পারে। ৮০০ সালের দিকে চৈনিক পাঁথরের এবং চীনামাটি বাসন আব্বাসীয়দের কাছে পৌঁছায়। দ্বিতীয় ধাপটি সঙ্ঘটিত হয় ১২দশ এবং ১৩দশ শতাব্দীতে, সেলিজুক সাম্রাজ্যের পতনের পরপরই মৃৎশিল্প অবনতির জন্যেএই যুগটি পরিচিত। এই যুগটি মঙ্গোলদের যারা চৈনিক মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য নিয়ে আসে তাদের আক্রমণেরও সাক্ষী।

ট্যাং রাজবংশের চীনামাটির প্রভাব দীপ্তিময় পাত্রে, পরিলক্ষিত হয়, মেসোপটেমিয়ার কুমারদের দ্বারা প্রস্তুত, এবং সামারা (আধুনিক কালের ইরাক) থেকে খনন করা কিছু প্রাচীন শ্বেত পাত্রে। এই যুগের চীনামাটির পাত্র নিশাপুর (আধুনিক কালের ইরান) এবং সমরকন্দ (আধুনিক কালের উজবেকিস্তান) থেকে খনন করে পাওয়া গেছে।

প্রাচীন চৈনিক নীল এবং শ্বেত চীনামাটি, ১৩৩৫ সাল, ইউয়ান রাজবংশ,  জিংদেঝেনের গোড়ার দিকে, মধ্য-প্রাচ্যের আকার ব্যবহার করে

মঙ্গোলদের চীন অভিযানের সময়ের মধ্যে ইসলামিক বিশ্বের দিকে এক উল্লেখযোগ্য রপ্তানি বাণিজ্য স্থাপিত হয়, এবং ১২দশ শতাব্দীতে তাদের নিজেদের কাঁচের পাত্রে চৈনিক পাত্রের নকশা অনুকরণ করার ইসলামী প্রচেষ্টা শুরু হয়। কোরিয়ান মৃৎশিল্পের চেয়ে এসব কম সফল ছিল,কিন্তু শেষ পর্যন্ত চৈনিক রপ্তানিকৃত পণ্যের বদলে স্থানীয় আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতা যোগান দিতে সফল হয়।[৫] চৈনিক উৎপাদন বিদেশী বাজারের অনুরক্তির সাথে খাপ খেতে সক্ষম; চীনা বাজারের পছন্দের চেয়ে বৃহৎ সেলাডন পাত্রসমূহ মধ্যপ্রাচ্যের রাজকীয় ভোজসভায় অগ্রাধীকার পেত। এই বিশ্বাস প্রচলিত ছিল যে সেলাডন পাত্রসমূহের ঘামানো বা ভেঙ্গে যাওয়া দ্বারা বিষ সনাক্ত করার ক্ষমতা আছে।[৬]

 চৈনিক নীল এবং শ্বেত মৃৎশিল্পের গোড়ার দিকে ইসলামী বাজার স্পষ্টতই বিশেষভাবে গুরুত্মপূর্ণ ছিল, যা আপাতদৃষ্টিতে প্রধানত মিং যুগ পর্যন্ত রপ্তানি হত। আবার, বৃহৎ পাত্র রপ্তানির এক ধরণ ছিল, এবং ইউয়ান নীল এবং শ্বেতের ঘনভাবে অঙ্কিত নকশা প্রচুরভাবে ধাঁর করা হয় ইসলামী অলঙ্করণের আরবীয় নকশা এবং উদ্ভিদ কাগজ থেকে, সম্ভবত বেশিরভাগ ধাতুর কাজের উদাহরণের শৈলী থেকে নিয়ে, যা কিছু পাত্রের আকারও দান করে। অলঙ্করণের এই শৈলী তারপর নীল এবং শ্বেতের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, এবং সেই সময় চীনাদের নিজেদের মধ্যে অগ্রাধীকার পাওয়া রক্তিম এবং শ্বেত পাত্রে খুঁজে পাওয়া যেত না। নিকেলের নীল যা ব্যবহার করা হত তাকেই পারস্য থেকে আমদানি করা হত, এবং চীনামাটির রপ্তানি বাণিজ্য কুয়ানঝু'র উপনিবেশের মুসলামান বণিকেরা সামলাত, জিংদেঝেনের, এবং দক্ষিণের অন্যান্য অংশের বৃহৎ মৃৎশিল্পের জন্য সুবিধাজনক।[৭]

মিং রাজবংশের সূচনা দ্রুত ১৩৬৮ সালের এক আইন দ্বারা অনুসৃত হয়, বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করে। তা পুরোপুরি সফল হয়নি, এবং কয়েকবার তা পুনরাবৃত্তি করতে হয়, এবং দামী রাজকীয় কূটনীতিক উপহার দেওয়া চলতে থাকে, রেশম এবং চীনামাটির উপর কেন্দ্র করে (১৩৮৩ সালে ১৯,০০০ টুকরো চীনামাটির পাত্র), কিন্তু তা রপ্তানি বাণিজ্যকে ভয়াবহভাবে পিছিয়ে দেয়। আইনটি পরবর্তী সম্রাটের শাসনামলে ১৪০৩ সালে শিথিল করা হয়, কিন্তু ততদিনে ইসলামী বিশ্বতেই চীনা নকশা নকল করে মৃৎশিল্প উৎপাদন ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করে, যা সেই সময়ে কিছু দেশে গুণের ক্ষেত্রে এক উঁচু ধাপে পৌঁছাচ্ছিল (সমসাময়িক ইউরোপীয়দের অনেক ক্ষেত্রে বোকা বানানোর মত যথেষ্ট উঁচু)।[৮]

প্রায়ই ইসলামী উৎপাদন সাম্প্রতিক চীনা নকশা নকল করত না, বুরন ইউয়ান এবং প্রাচীন মিংদের।[৯] পালাক্রমে, চৈনিক কুমাররা ১৬শ শতাব্দীর গোড়ার দিকে কিছু জিনিস স্পষ্টতই ইসলামী নকশায় বানাতে শুরু করে, এলোমেলো আরবি লিপিতে। আপাতদৃষ্টিতে এইসব ক্রমবর্ধমান চীনা মুসলিম বাজারের জন্য প্রস্তুত করা হয়, এবং সম্ভবত দরবারের লোকজন ইসলামে সাথে ঝেংদে সম্রাটদের (১৫০৫-১৫২১) প্রেমের ভান টিকিয়ে রাখার ইচ্ছায়।[১০]

ইসলামী প্রবর্তন[সম্পাদনা]

অষ্টম এবং অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে, চকচকে চীনামাটির ব্যবহার ইসলামী শিল্পে বিদ্যমান ছিল, সাধারণত সম্প্রসারিত মৃৎশিল্পের[১১] আকারে। টিনের চকচকে মৃৎশিল্প,  টিন দিয়ে সৃষ্ট অস্পষ্ট জেল্লার উৎপাদনের জন্য, ছিল মুসলমান কুমারদের দ্বারা উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে একটি। প্রথম অস্পষ্ট জেল্লা খুঁজে পাওয়া যায় বসরার নীল রঙ দিয়ে অঙ্কিত পাত্রসমূহে, ৮ম শতাব্দীর দিকে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল ৯ম শতাব্দীর ইরাকে উৎপন্ন পাঁথরের পাত্রের উন্নয়নে।[১২] তা ছিল উন্নতমানের গঠনের কাঁচের বা আধা কাঁচের চীনামাটির পাত্র, প্রাথমিকভাবে অ-দুর্গলনীয় আগুনে কাঁদা থেকে প্রস্তুত।[১৩] ইসলামী বিশ্বে উদ্ভাবিত মৃৎশিল্পের অন্যান্য কেন্দ্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল ফুস্তেৎ (৯৭৫ থেকে ১০৭৫ পর্যন্ত), দামাস্কাস (১১০০ থেকে প্রায় ১৬০০ পর্যন্ত) এবং তাব্রিজ (১৪৭০ থেকে ১৫৫০ পর্যন্ত)।[১৪]

ইরাক থেকে প্রাপ্ত ৯ম শতাব্দীর চকচকে পাত্র

চকচকে পাত্র প্রস্তুত করা হয় মেসোপটমিয়ায় ৯ম শতাব্দীতে; কৌশলটি শীঘ্রই পারস্য এবং সিরিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠে।[১৫] পরবর্তীতে চকচকে পাত্র মিশরে ১০ম-১২দশ শতাব্দীতে ফাতেমীয় খলিফার শাসনামলে। যদিও মধ্য প্রাচ্যে চকচকে পাত্রের উৎপাদন কিছুটা চলতে থাকে, তা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে—প্রথমে  আল-আন্দালুসের হিস্পানো-মূরদের পাত্রে, উল্লেখযোগ্যভাবে মালাগায়, এবং তারপর ভ্যালেন্সিয়ায়, তারপর পরবর্তীতে ইতালিতে, যেখানে তা মাইওলিকা বৃদ্ধি করতে ব্যবহৃত হয়।

আরেকটি আবিষ্কার ছিল আলবারেল্লো, এক ধরণের মাইওলিকা মাটির বয়াম যা ঔষধ বিক্রেতাদের মলম এবং শুকনো ওষুধ রাখার জন্য় নকশা করা হয়। এই ধরণের ওষুধের বয়ামের উন্নতির ভিত্তি ছিল ইসলামী মধ্য প্রাচ্যে। স্পেন থেকে ইতালিতে নিয়ে আসা, সবচেয়ে আদি ইতালীয় নমুনাগুলো ফ্লোরেন্সে ১৫দশ শতাব্দীতে উৎপাদিত হয়।

কাঁচের পাত্র বলতে এক ধরণের মৃৎশিল্পকে বোঝায় যা প্রথমে উৎপাদিত হয় অদূর প্রাচ্যে, যেখানে উৎপাদনের সাল নির্ধারিত করা যায় প্রথম সহস্র বছরের শেষ থেকে দ্বিতীয় সহস্র বছর পছন্দ। কাঁচ ছিল একটি গুরুত্মপূর্ণ উপাদান। আবু'ল কাশিম কর্তৃক রচিত "কাঁচের পাত্র" তৈরির ১৩০০ সালের একটি প্রণালীতে বলা আছে যে স্ফটিক, "কাঁচ" আর সাদা কাঁদার অনুপাত হল ১০ঃ১ঃ১।[১৬] এই ধরণের মৃৎশিল্পকে আরও অনেক নামের মধ্যে "পাঁথরের পাত্র" এবং "পালিশ করা চিত্রবিচিত্র মাটির বা চীনেমাটির পাত্র" নামেও পরিচিত।[১৭]  বাগদাদ থেকে প্রাপ্ত নবম শতাব্দীর "প্রাচীন-পাঁথরের পাত্রের" কাপড়ে "প্রাচীন কাঁচের টুকরো পাওয়া গেছে।[১৮] কাঁচটি হচ্ছে ক্ষার-চুন-সীসা-বালু দ্বারা প্রস্তুত, যখন কাইটি গরম বা শীতল করা হয়, কাঁচের টুকরোগুলোর মধ্যে উলাস্টোনাইট এবং ডাইওসাইড স্ফটিক তৈরি হয়।[১৯] "চূর্ণ মৃৎশিল্পের অন্তর্ভুক্তির" অভাব ইঙ্গিত করে যে এইসব টুকরো আগুনে পোড়ান থেকে আসেনি।[২০] তাদের সংযোজনের কারণ হবে কোন পরিবর্তন হিসেবে কাজ করার জন্য, আর তাই “অপেক্ষাকৃত নিম্ন তাপমাত্রায় কাঁচীভবন তরান্বিত, এবং এভাবে চীনামাটির কঠোরতা এবং ঘনত্ব বাড়ানোর জন্য।"

মধ্যযুগ(১২০০–১৪০০)[সম্পাদনা]

ফ্লার-ডে-লিস অলংকরণসহ আল্বারেল্লো, ১৪দশ শতাব্দীর গোঁড়ার দিকে, সিরিয়া, ল্যুভর মিউসিয়াম

এই সময়ের মধ্যে অলংকৃত টালির স্বতন্ত্র ইসলামী ঐতিহ্যের আবির্ভূত হয়, এবং পাত্রের মৃৎশিল্পের সাথে বিকশিত হতে থাকে ইসলামী শিল্পের অনন্য এক উপায় হিসেবে। ইবনে নাজি'র বর্ণনা অনুযায়ী (১০১৬ সালে) খলিফা, টালির সাথে, “বাগদাদ থেকে একজন মানুষ" পাঠান কাইরাওয়ানে মহান মসজিদের (এখনও ভালভাবে সংরক্ষিত) মিহরাবের জন্যে আগুনে পোড়ান টালি বানানোর জন্যে। জর্জেস মারকাইস ইঙ্গিত করেন যে ইরাকী কুমারেরা আসলেই কাইরাইওয়ানে এসেছিলেন। এইসব বাগদাদি কুমারদের আগমন নিশ্চয়ই কাইরাইওয়ানে মৃৎৃৎশিল্প উৎপাদনের একটি উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপনের দিকে চালিত করে, কিন্তু এই ইঙ্গিত নিশ্চিত বা অস্বীকার করার জন্য কোন তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।[২১]

১১৭১ সালের ফাতেমিয় শাসনের পতনের পেছনের ঘটনাগুলো চীনামাটির পাত্র উৎপাদনের কেন্দ্রগুলোকে নতুন কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, উপরে বর্ণিত ইরাকের প্রক্রিয়ার অনুরূপ প্রক্রিয়ায়। ফলাফল হিসেবে, পারস্য সেলিজুক শাসনামলে (১০৩৮-১৩২৭) পুনরুত্থানের এক কেন্দ্রে পরিণত হয়। সেলজুকেরা যখন তাদের শাসন পারস্য, ইরাক, সিরিয়া, এবং প্যালেস্টাইন, সেই সাথে আনাতোলিয়া এবং মুসলিম এশিয়া মাইনরে বিস্তৃত করে তার সাথে এইসব সমকালীন নয়। এই সকল স্থান, বেশ কিছু সময়ের জন্য, প্রাচীন মৃৎশিল্পের জনে কেন্দ্র ছিল।

শিকারিসহ পাত্র, পারস্যের মৃৎশিল্প ১২দশ-১৩দশ শতাব্দীর।

সেলজুকেরা মুসলিম বিশ্বে নতুন এবং তাজা অনুপ্রেরণা নিয়ে আসে, মিশরসহ সকল এলাকার শিল্পী, কারিগর এবং কুমারদের আকর্ষণ করে। একই ধরণের (যদিও আরও বেশি পরিমার্জিত) টিন এবং আগুনে পোড়ান চীনামাটির উৎপাদনের সাথে সাথে,সেলজুকদের (পারস্যে) নতুন ধরণের পাত্র মাঝেমাঝে "ফেইএন্স" নামে পরিচিত সূচনার জন্যে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। এটাকে প্রস্তুত করা হত স্বচ্ছ চকচকেভাবসহ আলকাইনের কাঁচের এক দৃঢ় শ্বেত কাই থেকে।

হিসপানো-মুরদের পাত্র উদিত হয় আল-আন্দালুজেl ১৩দশ শতাব্দীতে, সম্ভবত ফাতেমিয়দের পতনের পর অস্থিতিশীলতা থেকে কুমারদের পালানোর পর। এটি ইউরোপে আগুনে পোড়ানো পাত্রের উৎপাদন প্রবর্তিত করে এবং শুরু থেকেই খৃষ্টান রাষ্ট্রসমূহে অভিজাতদের কাছে রপ্তানি করা হয়। প্রথম কেন্দ্রটি ছিল মালাগা, ঐতিহ্যবাহী ইসলামী নকশায় পাত্র তৈরি করে, কিন্তু ১৩দশ শতাব্দী থেকে মুসলিম কুমাররা পুনর্দখলকৃত খৃষ্টান শহর ভ্যালেন্সিয়ায় প্রব্রজন করে, প্রত্যন্ত শহরতলীগুলো যেগুলোর মধ্যে ম্যানিসেস এবং প্যাটেরনা সবচেয়ে গুরুত্মপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়, ইউরোপিয়ান অলঙ্করণ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সেই নকশার পাত্র প্রধানত খৃষ্টান বাজারের জন্যে উৎপাদন করে, যদিও একটি স্বতন্ত্র চরিত্র বজায় রেখে। বেশিরভাগ কুমার ছিল মুসলমান বা মূর।[২২]

১৩০১ সালের কাশাম থেকে প্রাপ্ত আবুলকাশিম দ্বারা সঙ্কলিত এক বিরল পাণ্ডুলিপিতে, কিভাবে ফেইএন্স উৎপাদন সম্পন্ন করা হত তার এক সম্পূর্ণ বর্ণনা দেওয়া আছে। কাঁচ তৈরি করা হত দশ ভাগ স্ফটিকের গুড়ো, এক ভাগ কাঁদা এবং এক ভাগ চকচকে  মিশ্রণ দিয়ে। কাঁদার একটি বড় অংশ সংযোজন ফেইয়েন্সের চাকা ঘোরান আরও সহজ করে তোলে, এবং আরও ভাল গুণমানের উৎপাদনে সহায়তা করে, কারণ তা নাহলে উপাদানটির অল্পই নমনীয়তা আছে।[২৩] চকচকেভাবটি নিজে “মুটামুটিভাবে গুঁড়ো করা স্ফটিক এবং মরুভূমির গাছ যা ক্ষার লবণের এক চড়া অনুপাত বহন করে তার ছাইয়ের এক সমান অংশ দিয়ে তৈরি। এগুলি পরিবর্তন হিসেবে কাজ করে এবং স্ফটিককে একটি পরিচালনীয় তাপমাত্রায় কাঁচে পরিণত করে।[২৪] লেন এই উপাদানকে তুলনা করেন ফরাসী প্যাটে টেন্ডারের সাথে, যা ১৮দশ শতাব্দী পর্যন্ত কুমারেরা ব্যবহার করতেন। এই শরীরী উপাদান এবং নতুন চকচকে ভাব কুমারকে আরও ভাল কাজ করার এবং দক্ষতা সরবরাহ করে। এতে কুমারেরা পাত্রের গুণমান এবং আকার উন্নত করার সুযোগ দেয়, সাথে আরও পরিমার্জিত অলংকৃত নকশা এবং আঁকার সংযুক্ত করে। এর ফলাফল ছিল প্রচুর পরিমাণের বৈচিত্রশীল পণ্য যেমন বিভিন্ন আঁকার এবং আকৃতির বাটি, জগ, ধূপদান, বাতি, মোমবাতি, ট্রে, টালি এবং এরকম আরও অনেক কিছু। এইসব সুবিধা খোঁদাই নকশা আরও ভাল নিয়ন্ত্রণ দেয়, যার ব্যবহার সেলজুকেরা পরিমার্জিত এবং বর্ধন করে ১২দশ শতাব্দীতে।[২৫]

মৃৎশিল্পের উপরে খোঁদাই করা নকশা, সগ্র্যাফিতো, হচ্ছে নবম শতাব্দীতে ব্যবহৃত এক প্রাচীন ঐতিহ্য; এটি  নকশা খোঁদাই করার একটি কৌশল একটি সাদা চিলতের মধ্যে দিয়ে কোন তীক্ষ্ণ যন্ত্র দিয়ে নকশা করার মাধ্যমে লাল মাটির পাত্রের আঁকার প্রকাশের উপর নির্ভর করে। পাত্রটিকে তারপর আগুনে পোড়ান হয়।

সেলজুকেরা আরও উন্নত করে তথাকথিত ছায়াবৃত পাত্র যা তাদের কাল পটভূমির জন্যে বিশিষ্ট। এইসব প্রস্তুত হত একটি কৌশল দ্বারা যা গঠিত হয় শ্বেত কাঁচের পাত্রের কাঠামো ঘন কাল এক ফালি দিয়ে আবৃত করা হয়, যার থেকে তখন নকশাটি খোঁদাই করা হয়। পরবর্তীতে, রঙহীন অথবা রঙিন এক আবরণ, সাধারণত নীল বা সবুজ, স্বচ্ছ চকচকে ভাব ব্যবহার করা হয়। লেনের ভাষ্যমতে, এই কৌশলটি ব্যবহৃত হয়, আরও সহজ উপায়ে, সমরকন্দে নবম এবং দশম শতাব্দীর মধ্যে। তখন এই প্রক্রিয়াটির অন্তর্ভুক্ত ছিল রঙগুলোকে এক ঘন অস্বচ্ছ কাঁদার ফালির সাথে মিশিয়ে।

শেষ/মধ্যযুগ-পরবর্তী (১৪০০-পরবর্তী)[সম্পাদনা]

ইজনিক মৃৎশিল্পের মোমবাতি, অটোম্যান তুরস্ক
ইজনিক পাত্র

ইউয়ান এবং মিং রাজবংশের নীল এবং সাদা চিনামাটির প্রভাব মুসলিম কুমারদের তৈরি প্রচুর চীনামাটির পাত্রে স্পষ্ট। আনাতোলিয়ার ইজনিকের ইজনিক মৃৎশিল্প অটোম্যান দরবার পৃষ্ঠপোষকতা করত এবং মৃৎশিল্পে ও টালির প্যানেল উৎপাদনে সবচেয়ে নিখুঁত অটোম্যান কাজ, চৈনিক অলঙ্করণ থেকে প্রাপ্ত একই ধরণের গাঢ় এবং সুন্দর ফুলেল নকশার তালিকা ব্যবহার করে। স্বভাবগত এক গাঢ় লাল উদ্ভাবিত হয়। ইজনিক পাত্র ইউরোপিয়ান নকশা শিল্পে এক বিশাল প্রভাব রাখেঃ উদাহরণস্বরূপ, ইতালিয়ান মাইওলিকার উপরে। মৃৎশিল্পটি প্রায় ১৫দশ শতাব্দীর মত প্রাচীনামলে প্রস্তুত হয়, এবং একই এলাকার মিলেটাস পাত্রের পূর্ববর্তী হয়।[২৬] এর শ্রেষ্ঠ সময় ১৬দশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত টিকে। এটি গঠিত ছিল একটি আকৃতি, ফালি, এবং চকচকে ভাব, যেখানে আকৃতিটি এবং  চকচকে ভাবটি হল "স্ফটিক-কাঁচ তৈরির উপাদান।"[২৭] উভয় ক্ষেত্রে “কাঁচ” হচ্ছে “অস্বাভাবিক কারণ উভয়ই লেড অক্সাইড সেইসাথে সোডাযুক্ত"; লেড অক্সাইড চীনামাটির উষ্ণতায় সম্প্রসারণের সহগ কমাতে সাহায্য করে।[২৮] আণুবীক্ষণিক বিশ্লেষণ প্রকাশ করে যে "কাঁচ" হিসেবে যে উপাদানকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তা হচ্ছে “অন্তর্বর্তী কাঁচ” যা স্ফটিকের ক্ষুদ্রাংশগুলোকে সংযুক্ত করার কাজ করে।[২৯] মাইকেল এস। টাইট তর্ক করেন যে এই কাঁচকে কাঁচ তৈরির উপাদান হিসেবে যোগ করা হত এবং অন্তর্বর্তী কাঁচটি উষ্ণতায় তৈরি হত।[৩০]

১৫দশ শতাব্দী ভ্যালেন্সিয়ার হিসপ্যানো-মুরদের পাত্রের সবচেয়ে উত্তম সময়ের সাক্ষী, বেশিরভাগই খৃষ্টান রাজ্যে মুসলিম কুমারদের দ্বারা তৈরি, যদিও মালাগায় কেন্দ্রীভূত দক্ষিনি শিল্প মধ্য শতাব্দীর মধ্যে সমাপ্ত হয়ে যায়। সাফাভিদ রাজবংশের (১৫০২ শতাব্দী থেকে) পারসীয় মৃৎশিল্পও চৈনিক নীল এবং শ্বেত চীনামাটি দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়, যা এটাকে বিশাল পরিমাণে দরবার মণ্ডলে প্রতিস্থাপন করে; ১৬দশ-শতাব্দীর পরিমার্জিত পারসীয় নমুনাসমূহ খুব বিরল।[৩১]

ইসলামী মৃৎশিল্পের অধ্যয়ন[সম্পাদনা]

মুসলিম মৃৎশিল্পের ইতিহাস এবং গুণ বোঝার জন্যে আরথার লেন রচিত দুইটি বই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। প্রথম বইটি উৎসর্গ করা হয় আব্বাসিয় যুগ থেকে সেলজুক যুগের প্রথম দিকের মৃৎশিল্প অধ্যয়নের প্রতি, বিশিষ্ট ধরণের উত্থান এবং পতনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করা বিভিন্ন ঘটনা অঙ্কন করে। তার দ্বিতীয় বইয়ে, লেন প্রথম গ্রন্থে ব্যবহৃত একই আলঙ্কারিক রীতি অবলম্বন করেন, এইবার মঙ্গোলদের থেকে উনিশ-শতাব্দীর ইজনিক এবং পারস্য মৃৎশিল্পের পরবর্তী যুগে তার মনোযোগ নিযুক্ত করে।

লেনের রচনা অনুসরণ করে, অসঙ্খ্য গবেষণা আবির্ভূত হয়। সাধারণ দর্শন অবলম্বন করে সবচেয়ে ব্যাপক রচনাসমূহ রচিত হয় আর.এল. হবসন, আরনেস্ট জে. গ্রুব, রিচার্ড এটিংগাউসেন, এবং আরও সাম্প্রতিককালের এলান কাইগার- স্মিথ এবং গেসা ফেবেরভানি দ্বারা। আরও অবদান রাখেন তাঁরা যারা মুসলিম মৃৎশিল্পের বিশেষ কালগত বা এলাকাভিত্তিক ইতিহাসের উপর বিশেষজ্ঞ ছিলেন যেমন উত্তর আফ্রিকার উপরে জর্জেস মারকেইস, পারস্যের উপরে অলিভার ওয়াটসন এবং আব্বাসিয় মৃৎশিল্পের উপরে জে.আর. হ্যালেট।

অন্যান্য[সম্পাদনা]

টীকা[সম্পাদনা]

  1. Hadithic texts against gold and silver vessels
  2. Baramki, D.C., "The pottery from Khirbet El-Mefjer", The Quarterly of the Department of Antiquities in Palestine (QDAP 1942), vol. 10, pp.65-103
  3. Sauer, J.A., "Umayyad pottery from sites in East Jordan2, Jordan, Vol.4, 1975, pp.25-32.
  4. Arts, p. 223. see nos. 278-290
  5. Vainker, Ch. 5, pp. 134, 140-141 especially
  6. Vainker, 136-137
  7. Vainker, 137-140
  8. Vainker, 140-142
  9. Vainker, 140-141
  10. Vainker, 142-143
  11. Mason (1995) p.1
  12. Mason (1995) p.5
  13. Standard Terminology Of Ceramic Whiteware and Related Products. ASTM Standard C242.
  14. Mason (1995) p.7
  15. Ten thousand years of pottery, Emmanuel Cooper, University of Pennsylvania Press, 4th ed., 2000, আইএসবিএন ০-৮১২২-৩৫৫৪-১, pp. 86–88.
  16. A.K. Bernsted 2003, Early Islamic Pottery: Materials and Techniques, London: Archetype Publications Ltd., 25; R.B. Mason and M.S. Tite 1994, The Beginnings of Islamic Stonepaste Technology, Archaeometry 36.1: 77
  17. Mason and Tite 1994, 77.
  18. Mason and Tite 1994, 79-80.
  19. Mason and Tite 1994, 80.
  20. Mason and Tite 1994, 87.
  21. Marcais G., Les faiences a reflets metalliques de la grande Mosquee de Kairouan, Paris, 1928, pp.10-11
  22. Caiger-Smith, Alan, Lustre Pottery: Technique, Tradition and Innovation in Islam and the Western World, Chapters 6 & 7, (Faber and Faber, 1985) আইএসবিএন ০-৫৭১-১৩৫০৭-২
  23. W. J. Allan,The History of So-Called Egyptian Faience in Islamic Persia[১]
  24. Watson, O., Persian Lustre Ware, London 1985, .p.32. Cited in Febervari Gesa (2000), op., cit, .p.96
  25. Lane, A. (1947) Early Islamic Pottery, Faber and Faber, London
  26. M.S. Tite 1989, İznik Pottery: An Investigation of the Methods of Production, Archaeometry 31.2: 115.
  27. Tite 1989, 120.
  28. Tite 1989, 129.
  29. Tite 1989, 120, 123.
  30. Tite 1989, 121.
  31. Jones and Mitchell, p. 262, no. 395

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]