ইসলামি স্থাপত্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(Islamic architecture থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সেলিমি মসজিদের গম্বুজ, তুরস্ক
মীর-এ-আরব মাদ্রাসা, বুখারা, উজবেকিস্তান
১৬৭১ সালে আওরঙ্গজেব কর্তৃক নির্মিত বাদশাহী মসজিদ, লাহোর, পাকিস্তান

ইসলামি স্থাপত্য শব্দটি ইসলামী স্থাপত্যশৈলীকে নির্দেশ করে, যা মুসলিমদের ধর্মীয় রীতি প্রকাশ করে। এই স্থাপত্যশৈলী বাইজেন্টাইন[১][২], ইরানীয়, ভারতীয় স্থাপত্যেচৈনিক স্থাপত্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

প্রারম্ভ[সম্পাদনা]

অনেকের মতে ইসলাম ধর্মের আগমন সপ্তদশ শতাব্দীতে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর মাধ্যমে[৩] তখম থেকে ইসলামী স্থাপত্যর যাত্রা শুরু হয়,যেমন ইরিত্রিয়ায় সাহাবিদের মসজিদ।[৪] বা মদিনার কুবা মসজিদ, যা মুসলিমদের প্রথম মসজিদ[৫]

আবার অনেকে কুরআন থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে [৬][৭][৮] বলেন ইসলাম নতুন কোনো ধর্ম নয়, নবী মুহাম্মাদ হলে এ ধর্মের শেষ নবী বা উত্তরসূরী[৯][১০][১১] যার পূর্বসূরীদের মাঝে আছে ইব্রাহীম (আঃ‌) সহ অনেক নবী ও রাসুল[১২] ইব্রাহীম আঃ মক্কায় কাবাঘর (আরবি: كَـعْـبَـة‎‎) নির্মাণ করেন যা প্রথম মসজিদ হিসাবে বিবেচিত হয়।[৫][১৩][১৪][১৫]

স্থাপত্যশৈলী[সম্পাদনা]

প্রাথমিক স্থাপত্যশৈলী গ্রহণ[সম্পাদনা]

৮ শ থেকে ১১ শ শতাব্দী পর্যন্ত ইসলামি স্থাপত্যশৈলী প্রধানত ২ ধরনের স্থাপত্যশৈলী দ্বারা প্রভাবিত:

  1. গ্রেকো-রোমান স্থাপত্যশৈলী: বাজেন্টাইন সাম্রাজ্যের আশেপাশে (দক্ষিণ আনাতোলিয়া, সিরিয়া,মিশর এবং মাগরেব)মুসলিম শাসকদের কাছে স্থাপত্যবিদ,রাজমিস্ত্রী মোজাইক সরবরাহ করে। যাতে বাজেন্টাইন স্থাপত্য মধ্যে গ্রিকের হেলেনিক যুগের এবং প্রাচীন রোমের স্থাপত্যের প্রভাব বিদ্যমান।
  2. প্রাচ্য স্থাপত্যশৈলী : মেসোপ্টেমিয়া এবং পারস্য স্থাপত্যশৈলী যা মূলত সানাসিন স্থাপত্যশৈলী থেকে উদ্ভব হয়।[১৬]

প্রয়াত অনাদিকাল অথবা পোস্ট-ধ্রুপদী এবং ইসলামী স্থাপত্যের রূপান্তর বা বিবর্ত্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে উত্তর সিরিয়া ও ফিলিস্তীনের প্রত্নতত্ত্বসংক্রান্ত তথ্যের মিল পাওয়া যায় ,উদাহরণ হিসাবে উমাইয়া ও আব্বাসীয় রাজবংশের বিলাদ আল-শাম এর ক্থা বলা যায়।এই অঞ্চলের প্রয়াত এন্টিকের, অথবা খ্রীষ্টান, স্থাপত্য ঐতিহ্য বিজয়ী সৈন্যদের স্থাপত্য প্রাক ইসলামী আরব ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে গিয়ে তৈরি।

ইসলামি স্থাপত্যে সাধারণত মসজিদ, মাদ্রাসা এবং রাজপ্রাসাদ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও বিভিন্ন কেল্লা, সৌধ এবং মাজারও এই তালিকায় আছে। এই স্থাপত্যকলায় স্থাপনার ছাদে গম্বুজের ব্যবহার লক্ষণীয়। এছাড়াও এতে হাম্মামখানা এবং ফোয়ারাও দেখা যায়।[১৭]

স্বর্গীয় বাগান[সম্পাদনা]

বাগান ও পানি অনেক শতাব্দী ধরে ইসলামী সংস্কৃতি একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেছে এবং প্রায়ই জান্নাতের বাগানের সাথে তুলনা করা হয়েছে। যার উৎপত্তি আচেমিড্ড সাম্রাজ্য থেকে।জেনোফোনসক্রেটিস তার ওঅোমিকনিকাস কথোপকথনে স্পাটানকান জেনারেল লিস্যান্ডার পারস্য সাম্রাজ্য ভ্রমণের ঘটনায় যুবরাজ সাইরাসের স্বর্গীয় বাগানের কথা উল্লেখ করেন।[১৮]

আঞ্চলিক বৈচিত্র্য[সম্পাদনা]

পারস্য[সম্পাদনা]

তারিখিয়া মন্দির, ইসলাম পূর্ব সানাসিদ সাম্রাজ্যের একটি স্থাপত্য।

বিখ্যাত মুসলিম স্থপতি[সম্পাদনা]

গ্যালারী[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Krautheimer, Richard. Early Christian and Byzantine Architecture Yale University Press Pelican History of Art, Penguin Books Ltd., 1965, p. 285.
  2. Fletcher, Banister A History of Architecture on the Comparative Method 4th Edition, London, p. 476.
  3. Watt, William Montgomery (২০০৩)। Islam and the Integration of Society। Psychology Press। পৃষ্ঠা 5আইএসবিএন 978-0-415-17587-6 
  4. Reid, Richard J. (১২ জানুয়ারি ২০১২)। "The Islamic Frontier in Eastern Africa"A History of Modern Africa: 1800 to the PresentJohn Wiley and Sons। পৃষ্ঠা 106। আইএসবিএন 978-0470658987। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০১৫ 
  5. Palmer, A. L. (২০১৬-০৫-২৬)। Historical Dictionary of Architecture (2nd সংস্করণ)। Rowman & Littlefield। পৃষ্ঠা 185–236। আইএসবিএন 978-1442263093 
  6. কুরআন 2:7–286
  7. কুরআন 3:96 অনুবাদ করেছেন ইউসুফ আলী)
  8. কুরআন 22:25–37
  9. Esposito, John (১৯৯৮)। Islam: The Straight Path (3rd ed.)। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 9, 12। আইএসবিএন 978-0-19-511234-4 
  10. Esposito (2002b), pp. 4–5.
  11. Peters, F.E. (২০০৩)। Islam: A Guide for Jews and Christians। Princeton University Press। পৃষ্ঠা 9। আইএসবিএন 978-0-691-11553-5 
  12. Alli, Irfan (২০১৩-০২-২৬)। 25 Prophets of IslameBookIt.comআইএসবিএন 978-1456613075 
  13. Michigan Consortium for Medieval and Early Modern Studies (১৯৮৬)। Goss, V. P.; Bornstein, C. V., সম্পাদকগণ। The Meeting of Two Worlds: Cultural Exchange Between East and West During the Period of the Crusades21। Medieval Institute Publications, Western Michigan University। পৃষ্ঠা 208। আইএসবিএন 978-0918720580 
  14. Mustafa Abu Sway। "The Holy Land, Jerusalem and Al-Aqsa Mosque in the Qur'an, Sunnah and other Islamic Literary Source" (PDF)Central Conference of American Rabbis। ২০১১-০৭-২৮ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  15. Dyrness, W. A. (২০১৩-০৫-২৯)। Senses of Devotion: Interfaith Aesthetics in Buddhist and Muslim Communities7Wipf and Stock Publishers। পৃষ্ঠা 25। আইএসবিএন 978-1620321362 
  16. Hoag, John D. (২০০৪)। Islamic architecture। Milan: Electaarchitecture। পৃষ্ঠা 7–9। আইএসবিএন 978-1-904313-29-8 
  17. "A Tour of Architecture in Islamic Cities"। ১৭ মার্চ ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  18. Xenephon (জানুয়ারি ১৯৯৮)। OeconomicusGutenberg Press। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০১৫