পরাগায়ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নাইট-ব্লুমিং সিরিয়াস (Night-blooming cereus) থেকে সংগ্রহ করা পরাগরেণু সহ একটি কারপেন্টার বী(carpenter bee)-এর ছবি

পরাগায়ন (ইংরেজি: Pollination), গাছের প্রজননের একটি মৌলিক প্রক্রিয়াবিশেষ। যে পদ্ধতিতে ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু স্থানান্তরিত হয়ে ফুলের গর্ভমুণ্ডে পড়ে, তাকে পরাগায়ন বলা হয়।[১]

উদ্ভিদে পরাগায়ন প্রধানত দুধরণের হয়ে থাকে। যথা:

  • স্ব-পরাগায়ন, এবং
  • পর-পরাগায়ন

স্ব-পরাগায়ন[সম্পাদনা]

পরাগধানী হতে পরাগরেণু আপনাআপনি স্থানান্তরিত হয়ে যখন একই ফুলের বা একই গাছের অন্য কোনো ফুলের গর্ভমুণ্ডে পড়ে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বা সেল্ফ পলিনেশন বলে।[২] স্ব-পরাগায়নে দুটি ফুলের জিনোটাইপ একই রকম হয় তাই উৎপন্ন ফলে যে বীজ হয় তাতে জিনোটাইপের কোনো পরিবর্তন হয় না। ফলস্বরূপ ঐ বীজ থেকে পরবর্তীতে যে গাছ হয় তারও বৈশিষ্ট্য মাতৃ-উদ্ভিদের মত হয়। বলা যায়, এ পদ্ধতিতে প্রজাতির বিশুদ্ধতা অটুট থাকে বা রক্ষিত হয়।[১]

উপকারিতা[সম্পাদনা]

উক্ত জারমেনিয়াম ইকেনাম(Geranium incanum) ফুলটি পরাগরেণু ঝরাচ্ছে এবং তার গর্ভদণ্ডটি এমনভাবে সক্রিয় করেছে যেন নিজের পরাগরেণু তার গর্ভদণ্ডে না পড়ে। তবে, এটি অবশ্য একই উদ্ভিদের আরেকটি স্বল্পবয়স্ক ফুলের পরাগরেণু গ্রহণ করতে পারে।
  • এ পরাগায়নে উদ্ভিদের প্রজাতির বিশুদ্ধতা রক্ষিত হয়।
  • পরাগায়ন প্রায় নিশ্চিত।
  • পরাগরেণু নষ্ট হয় খুবই কম।
  • এক্ষেত্রে বাহকের প্রযো়জন হয় না বললেই চলে।

অপকারিতা[সম্পাদনা]

  • সাধারণত বংশানুক্রমে কোনো নতুন গুণের আবির্ভাব হয় না।
  • নতুন বংশধরদের অভিযোজন ক্ষমতা বা নতুনের সাথে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা কমে।
  • এ প্রজনন অব্যাহত থাকলে, অভিযোজন ক্ষমতা হ্রাসের কারণে কোনো এক পর্যায়ে প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটতে পারে।
  • গাছের ফল-এ কম সহনশীল ও কম জীবনীশক্তিসম্পন্ন বীজের সৃষ্টি হয়।

পর-পরাগায়ন[সম্পাদনা]

একটি ইউরোপীয় মৌমাছির ছবি। ফুল থেকে মধু সংগ্রহের সময় এদের গায়ে পরাগরেণু লেগে যায়

যখন পরাগধানী হতে পরাগরেণু কোনো মাধ্যমের বা বাহকের দ্বারা স্থানান্তরিত হয়ে একই প্রজাতির অন্য একটি গাছের ফুলের গর্ভমুণ্ডে পড়ে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বা ক্রস পলিনেশন বলে। বাহকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাতাস, পোকামাকড় ইত্যাদি। এক্ষেত্রে ফুলগুলোতে জিনোটাইপের ভিন্নতা থাকে বিধায় এর ফল থেকে যে বীজ উৎপন্ন হয় তাতেও জিনোটাইপের পরিবর্তন হয়। ফলস্বরূপ এ বীজ থেকে যে গাছ হয় তার বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি মাতৃ-উদ্ভিদের মতো হয় না; পরবর্তী বংশধরদের মাঝে নতুন প্রকরণ কিংবা নতুন প্রজাতিরও উদ্ভব হতে পারে।[১]

উপকারিতা[সম্পাদনা]

  • নতুন বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণ ঘটে।
  • ভিন্ন প্রকরণ বা ভিন্ন প্রজাতির সৃষ্টি হতে পারে।
  • ফল-এ সৃষ্ট বীজ অধিক সহনশীল হয়।
  • নতুন বংশধরদের অভিযোজন ক্ষমতা বা নতুনের সাথে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

অপকারিতা[সম্পাদনা]

  • এ পরাগায়ন বাহকের উপর নির্ভরশীল।
  • বাহক-নির্ভর পরাগায়ন বলে এ পরাগায়ন প্রায় অনিশ্চিত।
  • অধিকাংশ পরাগরেণু নষ্ট হয়।
  • প্রজাতির বিশুদ্ধতা রক্ষিত হয় না।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই (অধ্যায়-১১; পৃষ্ঠা-১৬০ থেকে ১৬৭), ড. ইকবাল আজীজ মুত্তাকী, নাসিম বানু, ড. মো: আবুল হাসান, গুল আনার আহমেদ; সম্পাদনা: ড. সৈয়দ হাদীউজ্জামান, জাহান আফরোজ বেগম হাবিয়া। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত। সংস্করণ: ডিসেম্বর, ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ: ১২ এপ্রিল ২০১২।
  2. Cronk, J. K.; Fennessy, M. Siobhan (2001)। Wetland plants: biology and ecology। Boca Raton, Fla.: Lewis Publishers। পৃ: 166। আইএসবিএন 1-56670-372-7