মায়া সভ্যতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

মায়া জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত হচ্ছেন সেইসব মানুষ যারা প্রত্নতাত্ত্বিক সংস্কৃতির এবং আধুনিক জনগণ, যারা মেক্সিকোর দক্ষিণে এবং উত্তর-মধ্য আমেরিকাতে বসবাস করতো এবং তারা মায়াভাষী় পরিবারের মানুষ। প্রথমদিকে এর সময় কাল প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ২০০০-২৫০ অব্দ পর্যন্ত। এর মধ্যে প্রাচীন কালে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অনেক মায়া নগরীগুলোতে তাঁরা উন্নতির উচ্চশিখরে পৌঁছেছিল এবং স্প্যানিশদের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত পুরো পোস্টক্লাসিক জুড়ে চালিয়ে গিয়েছিল। এটি ছিলো বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ঘন জনবসতি এবং সংস্কৃতিভাবে গতিশীল একটি সমাজ।[১]

উচ্চস্তরের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার কারণে এবং সাংস্কৃতিক প্রসারণ করার দরুন অন্যান্য মেসোআমেরিকান সভ্যতার সঙ্গে মায়া সভ্যতাকে অনেক ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যেমন, লেখার উন্নতি-সাধন, গ্রন্থারম্ভে উদ্ধৃত বাক্য এবং বর্ষপঞ্জিকা যা মায়ার সঙ্গে উদ্ভূত হয়নি, তবুও তাঁদের সভ্যতা তাঁদেরকে সম্পূর্ণভাবে বিকশিত করেছিল। হন্ডুরাস, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর এবং যতদূর দেখা যায় মায়া অঞ্চল থেকে ১০০০ কিলোমিটারের (৬২৫ মাইল) চেয়েও বেশি, মধ্যে মেক্সিকোতেও মায়ার প্রভাব লক্ষ করা যায়। এর বাইরেও অনেক মায়া সভ্যতার প্রভাবান্বিত শিল্প এবং স্থাপত্যের খোঁজ পাওয়া যায়, যা বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের চিন্তাধারার ফলস্বরূপ বরং সরাসরি বাহ্যিক জয়। মায়া জনগণ কখনোই অন্তর্ধান হয়নি, প্রাচীনকালেও না, স্প্যানীয় বিজয়ীদের আগমনের সাথেও না, এবং পরবর্তীতে যখন স্পেনীয়রা আমেরিকা মহাদেশে উপনিবেশ স্থাপন করে তখনও না। আজ, পুরো মায়া অঞ্চল জুড়ে মায়া এবং তাদের বংশধরদে বিস্তার। প্রাক কলম্বীয় এবং ভাবতত্ত্বের জয়ের ঐতিহ্য ও ধারণার পাথক্যসূচক একটি সমষ্টির ফলাফল বজায় রাখার অর্ন্তভুক্তি। অনেক মায়াভাষী তাদের প্রাথমিক ভাষা হিসেবে আজও মায়া ভাষায় কথা বলে। রাবিনাল আচি, আচি ভাষায় লিখিত একটি নাটক, যাকে ২০০৫ সালে ইউনেস্কো মানবতার মৌখিক ও স্পর্শাতীত ঐতিহ্যবাহীর শ্রেষ্ঠ অবদান হিসেবে ঘোষণা করেছে।

পরিচ্ছেদসমূহ

ভৌগোলিক বিবরণ[সম্পাদনা]

ধ্রুপদী এবং পোস্ট-ধ্রুপদী মায়া সভ্যতার বিস্তার

মায়া সভ্যতার ভৌগোলিক সীমা মায়া অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। মেক্সিকোর প্রদেশের দক্ষিণে চাপাস, তাবাস্কো এবং ইয়ুকাটান উপদ্বীপের কুইন্টানা রোওকাম্পেছ, এবং ইয়ুকাটান জুড়ে প্রসারিত করেছিল। উত্তরাঞ্চলীয় মধ্য আমেরিকার অঞ্চল, যা বর্তমানে গুয়াতেমালা, বেলিজ, এল সালভাডোর এবং পশ্চিমী হন্ডুরাস জুড়ে মায়া সভ্যতা প্রসারিত করেছিল। মায়া অঞ্চলের জলবায়ু অনেক ভাবে পরিবর্তন হয়েছে। নিচু-অবস্থান এলাকা হওয়ার ফলে মরুভূমির যাত্রীরা নিয়মিত প্রবল হারিকেন ঝড় এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের সম্মুখীন হয়েছেন। মায়া অঞ্চলকে সাধারণভাবে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিচুভূমি, উচ্চভূমি এবং উত্তরাঞ্চলীয় নিচুভূমি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মেক্সিকোর গুয়াতেমালা এবং চাপাস উচ্চভূমি সমস্ত মায়া উচ্চভূমিতে অন্তর্ভুক্ত। দক্ষিণাঞ্চলীয় নিচুভূমি ঠিক দক্ষিণে উচ্চভূমির কাছাকাছি এবং এতে মেক্সিকার চাপাস, গুয়াতেমালার দক্ষিণ উপকূল, বেলিজ এবং উত্তরাঞ্চলীয় এল সালভাডোর একটি অংশ অন্তর্ভুক্ত। উত্তরাঞ্চলীয় নিচুভূমি সম্পূর্ণ ইয়ুকাটান উপদ্বীপে প্রসারিত হয়েছে। এটি মেক্সিকোর ইয়ুকাটান, কাম্পেছ এবং কুইন্টানা রোও, গুয়াতেমালার পেতেন বিভাগ এবং সমস্ত বেলিজ। এছাড়াও মেক্সিকার রাজ্যের তাবাস্কো এবং চাপাসের অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।[২]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাকধ্রুপদী[সম্পাদনা]

পণ্ডিতরা মায়া সভ্যতার যুগের শুরু নিয়ে অবিরত আলোচনা করে যাচ্ছেন। বেলিজের কিউল্লোতে মায়া বসবাসের সাম্প্রতিক আবিষ্কারের কার্বন পরীহ্মা হতে পাওয়া তারিখ অনুযায়ী খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২৬০০ বছর আগের।[৩][৪] তারা বিস্ময়কর কাঠামো নির্মিত করে। মায়ার বর্ষপঞ্জিকা তথাকথিত মেসআমেরিকানর দীর্ঘ গণনীয় বর্ষপঞ্জিকার উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, যা খ্রিস্টপূর্ব ১১ই আগষ্ট, ৩১১৪ খ্রিস্টাব্দের সমতুল্য।

প্রায় ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মায়ারা চাষাবাদ করা শুরু করে এবং কৃষিজীবী গ্রামের উৎপত্তি ঘটে। সবচেয়ে বহুল প্রচলিত গৃহীত প্রদর্শন যে, প্রায় ১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রথম মায়া জনবসতি নিঃসন্দেহে প্রশান্ত উপকূলের সোকোনুস্কো অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই সময়টি প্রাথমিক প্রাকধ্রুপদী নামে পরিচিত,[৫] একে আসনাশ্রিত সম্প্রদায় এবং মৃৎশিল্প প্রবর্তন ও পোড়ানো কাদামাটি মূর্তিসমূহ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।[৬]

প্রায় ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ওল্মেক সভ্যতার শুরু হয়। তারা ছিল মায়াদের পূর্বপুরুষ। পণ্ডিতরা প্রারম্ভিক মায়া এবং প্রতিবেশী প্রাকধ্রুপদী মেসোআমেরিকা সভ্যতাসমূহ, যেমন, টাবাস্কো নিচুভূমি অঞ্চলের ওল্মেক সংস্কৃতি এবং চাপাস ও দক্ষিণের ওআজাচার যথাক্রমে মিক্স-জোক এবং জাপোটেক ভাষাভাষী মানুষের, ভৌত এবং সাংস্কৃতিক বিস্তারের সাথে একমত না। প্রাচীনতম উল্লেখযোগ্য শিলালিপি এবং ভবনের অনেকেই এই অধিক্রমণ অঞ্চলে উপস্থিত এবং এর প্রমাণ থেকে বুঝা যায়, যে এই মায়া সংস্কৃতি এবং গঠনাত্মক পরস্পরকে প্রভাবিত করেছিল।[৭] তাকালিক আবাজ, গুয়াতেমালার প্রশান্তীয় পাড়ে একমাত্র স্থান, যেখানে ওল্মেক বৈশিষ্ট্যসমূহ পরিষ্কারভাবে মায়ার একটি প্রভাবিত স্থানকে বুঝায়। প্রায় ১০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে হন্ডুরাসের কোপায়েন এবং চালচুয়াপা শহরের পতন হয় এবং এখানে তারা বসবাস করতে শুরু করে।

দক্ষিণ মায়া নিচুভূমিসমূহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্ভুক্ত স্থানসমূহের হচ্ছে: নাকবে, এল মিরাডোর, চিভাল, এবং সান বারটোলো। গুয়াতেমালার উচ্চভূমিতে, প্রায় ৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বহিরাগত কামিয়ানালজুয়ু। বহু শতাব্দী ধরে এটি পেতেন এবং প্রশান্ত নিচুভূমিসমূহ জন্য জাদে এবং অবসিদিয়ান উৎসসমূহকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। প্রায় ৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ইযাপা, তাকালিক আবাজ, এবং চোকোলার গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক স্থানসমূহে কোকো প্রধান উৎপাদক ছিল। এছাড়াও মধ্য ও পরের প্রাকধ্রুপদী দিকে উত্তরাঞ্চলীয় মায়া নিচুভূমিসমূহের মাঝা আকারের মায়া সম্প্রদায়ের বিকাশ শুরু হয়। যদিও দক্ষিণাঞ্চলীয় নিচুভূমিসমূহের বৃহৎ কেন্দ্রের আকার, মাপকাঠি এবং প্রভাবের ইঙ্গিতও দেখা গিয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকধ্রুপদী স্থান হল কোমচেন এবং ডজিবিলচাল্টুন। প্রায় ৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এল মিরাডোর শহরে বিশাল বিশাল স্থাপত্যের নির্মাণকার্য শুরু হয়। একই সাথে তারা আধুনিক পদ্ধতিতে জলসেচের সাহায্যে চাষাবাদ শুরু করে। এই সময় তারা টিকাল শহরে বসতি স্থাপন করে এবং পরে এটি মায়াদের বৃহত্তম শহরে পরিণত হয়। ধ্রুপদী যুগে রাজধানীর পরেই এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর ছিল। এই যুগের (প্রায় ২৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) প্রথম লিখিত শিলালিপি মায়া হায়ারোগ্লিফর চিহ্নিত করা হয়েছিল।[৮] ৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তারা একটি শিলাস্তম্ভের উপরে প্রথম মায়া জ্যোতিষ পঞ্জিকা তৈরি করে। ১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে থেকে ২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রাক-কলম্বীয় মেসোআমেরিকান টিয়োটিহকান শহরের নির্মাণ কাজ চলে। এই শহরের দ্বারা সৃষ্ট মায়া সংস্কৃতি অন্যান্য মায়া সংস্কৃতিকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল। প্রথমতম মায়া পিরামিড গঠিত হয়েছিল। ১০০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি, মায়া শহরগুলোর একটি ব্যাপক পতন ও পরিত্যক্ত ঘটে যাকে প্রাকধ্রুপদী পতন বলা হয়। এটি প্রাকধ্রুপদী যুগের সমাপ্তির চিহ্নিত।[৯]

ধ্রুপদী[সম্পাদনা]

কারাকোলে "কাআনা"। এটি ৪২ মিটার (১৪০ ফুট) উচ্চতায় দাঁড়িয়েছে।
৮৩০ খ্রিস্টাব্দে কারাকোলে ১৩ আল্টার।

এই ধ্রুপদী যুগটি (প্রায় ২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ) ছিল মায়াদের শ্রেষ্ঠতম যুগ। এই যুগে বড়-ধরনের নির্মাণ এবং নগরবাদ, বিস্ময়কর শিলালিপির লিপিবদ্ধ এবং উল্লেখযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক এবং শিল্পকর্মের উন্নয়ন, বিশেষ করে দক্ষিণ নিচুভূমি অঞ্চলসমূহের শিখরে পৌছায়।[১০] তারা কৃষিতে অত্যাধিক বিকশিত হয়েছিল। অনেক স্বাধীন শহর-রাজ্যে এবং কিছু ছিল অন্যদের উপযোগী শহর-রাজ্যের মধ্যে শহর-কেন্দ্রিক সভ্যতা গঠিত হয়।[৯] ৪০০ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত নগররাষ্ট্র টিয়োটিহকান এই সময়ে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। এরাই কার্যত মেক্সিকান উচ্চভূমিতে তাদের রাজধানী হয়ে উঠেছিল। ক্যারিকল, তিকাল, পালেকং, কোপান, জুনান্টিনেচ এবং কালাকমুল শহরসমূহ সুপরিচিত, কিন্তু স্বল্প পরিচিত শহরসমূহের মধ্যে রয়েছে লামানাই, ডস পিলাস, কাহাল পেচ, উয়াক্সাক্তুন, আলতুন হা, এবং বোনাম্পাক, প্রমুখ। উত্তরাঞ্চলীয় মায়া নিচুভূমিতে প্রারম্ভিক ধ্রুপদী উপনিবেশ বন্টন দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চল মত পরিষ্কারভাবে পরিচিত নয়, কিন্তু একটি সংখ্যা জনসংখ্যা কেন্দ্র, যেমন, অক্সকিন্টোক, চুনচুকমিল, এবং উক্সমালের প্রারম্ভিক পেশা অন্তর্ভুক্ত করে।

এই সময়কালে মায়ার জনসংখ্যা ছিল মিলিয়ন।[১১] তারা একটি বিপুল সংখ্যক রাজত্ব এবং ছোট সাম্রাজ্যসমূহ, বিস্ময়কর প্রাসাদসমূহ এবং মন্দিরসমূহ তৈরি, অত্যন্ত উন্নত অনুষ্ঠানে নিযুক্ত, এবং একটি বিস্তৃত চিত্রলিপিতে লেখার পদ্ধতি বিকশিত করেছিল। তিকালের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল কালাকমুল, যা পেতেন বেসিনের একটি শক্তিশালী শহর ছিল।[১২] দক্ষিণপূর্বে কোপান ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর।[১২] মায়া অঞ্চলের উত্তরে কোবা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মায়া রাজধানী ছিল।[১৩] ৫৬০ খ্রিস্টাব্দের সময়ে বিখ্যাত হন্ডুরান মায়া শহর তিকাল অন্যান্য মায়া নগররাষ্ট্রের দ্বার সৃষ্ট এক অক্ষজোটের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নেয়। ৬০০ খ্রিস্টাব্দে টেওটিহুয়াকানের ক্ষমতা এই সময় থেকে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে, এবং এই শহর তাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে থাকে। ফলে তাদের রাজধানী টিয়োটিহকানের বদলে অন্য শহরে গড়ে ওঠে। এই সমৃদ্ধ সভ্যতার সামাজিক ভিত্তিতে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সামাজিক নেটওয়ার্ক (বিশ্বের পদ্ধতি) মায়া অঞ্চল এবং বিস্তৃত মেসোআমেরিকান বিশ্ব জুড়ে প্রসারিত হয়। কেন্দ্রীয় নিচুভূমিতে ধ্রুপদী মায়া বিশ্ব ব্যবস্থার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ও সাংস্কৃতিকভাবে প্রভাবশালী 'মর্মবস্তু' মায়া দল অবস্থিত ছিল, যখন দক্ষিণাঞ্চলীয় উচ্চভূমি এবং উত্তরাঞ্চলীয় নিচুভূমি অঞ্চলের তার অনুরূপ নির্ভরশীল বা ‘সীমান্তবর্তী’ প্রান্তে পাশে মায়া দল পাওয়া যায়। কিন্তু সমস্ত বিশ্বের ব্যবস্থার মত, মায়া মূল কেন্দ্র সময়ের সাথে স্থানান্তরিত হয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় উচ্চভূমিতে প্রাকধ্রুপদী সময় শুরু করে, ধ্রুপদী যুগে কেন্দ্রীয় নিচুভূমি হয়ে, পরিশেষে পোস্টধ্রুপদী যুগে উত্তরাঞ্চলীয় উপদ্বীপে পৌছায়। এই মায়া বিশ্ব ব্যবস্থা, অর্ধ-সীমান্তবর্তী (মধ্যস্থতার) মূল সাধারণত বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র আকারে গ্রহণ করে।[১৪]

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপত্যসমূহ হল তাদের ধর্মীয় কেন্দ্রে নির্মিত ধাপে ধাপে পিরামিড এবং তাদের শাসকদের সহগামী প্রাসাদসমূহ। কানকুয়েন প্রাসাদ মায়া এলাকায় সর্ববৃহৎ, কিন্তু এই স্থানে কোন পিরামিড নেই। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক অবশিষ্টাংশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত উত্কীর্ণ পাথর স্ল্যাব সাধারণত স্টালি বলা হয় (মায়া তাদেরকে তেতুন বা "গাছ পাথর" বলতো), যা তাদের বংশতালিকা, সামরিক জয়লাভ, এবং অন্যান্য নিষ্পাদনের বর্ণনাকারী চিত্রলিপির পাঠ্যর পাশাপাশি শাসকদের চিত্রিতও বর্ণনা করত।[১৫]

মায়া সভ্যতা অন্যান্য মেসোআমেরিকান সংস্কৃতি, যেমন, কেন্দ্রীয় ও মেক্সিকোর উপসাগরীয়-উপকূলে টিয়োটিহকান, জাপোটেক, এবং অন্যান্য দলের সাথে দীর্ঘ দূরত্বের বাণিজ্য করতো। তারা মেসোআমেরিকান ছাড়াও আরও দূরবর্তী, যেমন, ক্যারিবিয়ার দ্বীপপুঞ্জের তাইনোস, অন্যান্য দলসমূহের সাথে বাণিজ্য ও পণ্য বিনিময় করতো। প্রত্নতাত্ত্বিকরা পানামাচিচেন ইৎজার সেক্রিড সেনোটা থেকে স্বর্ণ খুজে পেয়েছেন।[১৬] গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পণ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল কোকো, লবণ, সমুদ্রখোসা, পাথরবিশেষ, এবং কাচের মতো দেখতে একজাতীয় আগ্নেয়শিলা

৯০০ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণের নিচুভূমিতে স্থিত নগররাষ্ট্রের অবলুপ্তি ঘটে এবং মায়ানরা এইসব অঞ্চল সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করে। তাদের এই উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল পরিত্যাগের কারণ আজ অবধি কোনও পুরাতাত্ত্বিক আবিষ্কার করতে পারেনি। তবে এই সময় থেকেই যে ধ্রুপদী যুগের শেষের সংকেত পাওয়া যাচ্ছিল তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

মায়ার পতন[সম্পাদনা]

৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে একজন মায়া শাসকের কাছে বন্দীর উপস্থাপনা।

দক্ষিণাঞ্চলীয় নিচুভূমি অঞ্চলের মায়া কেন্দ্র ৮ম এবং ৯ম শতাব্দীতে পতন হয় এবং তারপর পরেই পরিত্যক্ত হয়। এই পতনটি স্মারক শিলালিপি এবং বড় ধরনের স্থাপত্য নির্মাণের একটি বিরতির মাধ্যমে ঘটে।[১৭] এই পতনের সর্বজন গৃহীত তত্ত্বের ব্যাখ্যা তা দেয়। ৯২৫ খ্রিস্টাব্দের সময়ে বিখ্যাত মায়া নগররাষ্ট্র চিচেন ইৎজা খুবই প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাধর হয়ে ওঠে। তারাই এই সময়ে মায়া সাম্রাজ্যের কার্যত রাজধানীতে রূপান্তরিত হয়ে আসে। পরবর্তী ২০০ বছর ধরে এটাই ছিল শ্রেষ্ঠতম মায়া শহর। এই সময়ে বিশ্ববিখ্যাত মায়ান পিরামিড চিচেন ইৎজাতে নির্মিত হয়।

মায়া পতনের পরিবেশদূষণহীন তত্ত্ব বেশ কয়েকটি উপবিভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, যেমন, অতিরিক্ত জনসংখ্যা, বিদেশী আক্রমণ, চাষি বিদ্রোহ, এবং বিশেষ বাণিজ্য পথের পতন। পরিবেশগত অনুমানের মধ্যে পরিবেশগত দুর্যোগ, মহামারী রোগ, এবং জলবায়ু পরিবর্তন রয়েছে। মায়া জনগোষ্ঠীরা কৃষি সম্ভাবনাময় অবসাদ ও অতিরিক্ত প্রাণী শিকারের মাধ্যমে পরিবেশের বহন ক্ষমতা অতিক্রম করে ছিল বলে প্রমান রয়েছে।[১৮] কিছু পণ্ডিত সম্প্রতি অনুমান করছে যে ২০০ বছরের একটি তীব্র খরা মায়া সভ্যতার পতনের কারণ।[১৯] খরা তত্ত্বটি ভৌত বিজ্ঞানীরা লেক তলদেশ, প্রাচীন পরাগরেণু[২০] এবং অন্যান্য তথ্য অধ্যয়নের গবেষণা থেকে সম্পাদিত করেছেন, প্রত্নতাত্ত্বিক সম্প্রদায়ের থেকে উত্পত্তি তথ্য থেকে নয়। ২০১১ সাল থেকে নতুন গবেষণায়, উচ্চ-রেজল্যুশনের জলবায়ু মডেল এবং অতীতের প্রাকৃতিক দৃশ্য নতুন পুনর্গঠন ব্যবহারের মাধ্যমে বিবেচনা করা যায় যে, তাদের বনভূমিকে কেটে চাষাবাদের ভূমিতে রূপান্তরনের ফলে বাষ্পের হ্রাস পায় এবং পরে বৃষ্টিপাতের হ্রাস ও প্রাকৃতিক খরা বিবর্ধক ঘটে। ২০১২ সালে বিজ্ঞান প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, মাঝারি বৃষ্টিপাতের হ্রাস, বার্ষিক বৃষ্টিপাতের মাত্র ২৫ থেকে ৪০% পরিমাণ যা মায়া পতনের কারণ হতে পারে বলে চিহ্নিত করেছে। মায়ার প্রধান শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকার হ্রদ এবং গুহার তলানি উপর ভিত্তি করে, গবেষকরা অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নির্ধারণ করতে সহ্মম হয়েছে। ৮০০ এবং ৯৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে সংঘটিত হালকা খরা দ্রুত খোলা পানির উপলব্ধতা যথেষ্ট কমিয়ে দেয়।[২১][২২]

একটি স্টাল্যাগের খনিজ আইসোটোপ বিশ্লেষণের এই সিদ্ধান্ত উপর ভিত্তি করে একই পত্রিকায় আরও নথিপত্রে সমর্থন এবং প্রসাতিত করে। এটি আখ্যা দেন যে, ৪৪০ এবং ৬৬০ খ্রিস্টাব্দে উচ্চ বৃষ্টিপাতের ফলে মায়াকে প্রথম দৃষ্টান্তস্বরূপ বিকাশের অনুমতি দেওয়া এবং পরবর্তীতে হালকা খরা সময় ব্যাপক যুদ্ধবিগ্রহ ও মায়া সভ্যতার পতন নিয়ে আসে। ১০২০ এবং ১১০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে একটি দীর্ঘায়িত খরা হয় যা ছিল চরমভাবে প্রাণঘাতী।[২৩]

পোস্টধ্রুপদী যুগ[সম্পাদনা]

এই যুগে প্রায় সব দক্ষিণাঞ্চলীয় নগররাষ্ট্রের পতন ঘটেছিল। মায়ারা দক্ষিণাংশ ছেড়ে উত্তরাংশে ইয়ুকাটান ও হন্ডুরাস অঞ্চলে চলে গিয়েছিল নতুন করে বাঁচতে। তারা এখানে অনেক নগররাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটিয়েছিল। মূলত উত্তরপূর্ব মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার ক্যারিবিয়ান সাগর অঞ্চলে মায়ারা বসবাস করতে শুরু করেছিল। ৯২৫ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত মায়া নগররাষ্ট্র চিচেন ইৎজা খুবই প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাধর হয়ে ওঠে। তারাই এই সময়ে মায়া সাম্রাজ্যের কার্যত রাজধানীতে রূপান্তরিত হয়ে আসে। পরবর্তী ২০০ বছর ধরে এটাই ছিল শ্রেষ্ঠতম মায়ান শহর। এই সময়ে বিশ্ব বিখ্যাত মায়ান পিরামিড চিচেন ইৎজা নির্মিত হয়।

পদানুবর্তী পোস্ট ধ্রুপদী সময়ে (১০ম থেকে ১৬তম শতাব্দীর প্রারম্ভিক) উত্তরাঞ্চলীয় কেন্দ্রসমূহের উন্নয়ন অব্যাহত থাকে, যা বহিরাগত প্রভাব বৃদ্ধি বৈচিত্র্য দ্বারা চিহ্নিত করা যায়। ইয়ুকাটানের উত্তরাঞ্চলীয় নিচুভূমি অঞ্চলের মায়া শহরগুলো আরও কিছু শতাব্দী ধরে এর উন্নতি অব্যাহত থাকে, এই যুগের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহের মধ্যে রয়েছে চিচেন ইৎজা, উক্সমাল, এদযনা, এবং কোবা। ১২৫০ খ্রিস্টাব্দে চিচেন ইৎজাও মায়াদের দ্বারা পরিত্যক্ত হয়। ১২৮৩ খ্রিস্টাব্দে এই সময়ে অনন্য মায়া নগররাষ্ট্র মায়াপান শহরের উৎপত্তি হয়। এই শহর একটা সংঘ গড়ে মায়া সাম্রাজ্যের অধিকর্তা হয়ে ওঠে। চিচেন ইৎজা এবং উক্সমাল ক্ষমতাসীন রাজবংশের পতনের পরে, ১৪৫০ সালের বিদ্রোহ শুরু না হওয়া পর্যন্ত মায়াপান সমস্ত ইয়ুকাটান শাসন করে। এই শহরের নামের শব্দের উৎস "মায়া" হতে পারে, যা ইয়ুকাটেক এবং ঔপনিবেশিক স্পেনীয় মধ্যে একটি ভৌগোলিক সীমাবদ্ধ অর্থ ছিল এবং শুধুমাত্র ১৯শ এবং ২০শ শতাব্দীতে তার বর্তমান অর্থে পৌঁছয়। ইয়ুকাটান স্পেনীয়দের দখলে না যাওয়া পর্যন্ত অঞ্চলটি প্রতিদ্বন্দ্বী শহর-রাজ্যের মধ্যে অধঃপতিত হয়েছিল।

"ধ্রুপদী যুগের পতনের" সময় ইত্জা মায়া, Ko'woj, এবং কেন্দ্রীয় পেতেনের ইয়ালাইনের ছোট সংখ্যক দল টিকে থাকে এবং ১২৫০ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী শহর-রাজ্য মধ্যে নিজেদের পুনর্গঠন করে। ইত্জা তাদের রাজধানী তায়াসালেই (এছাড়াও নোহ পেতেন নামে পরিচিত) রাখেন, এটি একটি প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট যা লেক পেতেন ইত্জাতে ফ্লোরেস, এল পেতেনের আধুনিক শহরের তলাচি বলে বিবেচনা করা হয়েছে। এটি পেতেন হ্রদ অঞ্চল জুড়ে প্রসারিত একটি এলাকা শাসন করেছে, যার মধ্যে লেক কুয়েসাইলে একিকসোলের সম্প্রদায়ও ছিল। যাকপেতেনে Ko'woj -দের রাজধানী ছিল। এছাড়াও পোস্টধ্রুপদী মায়া রাজ্য দক্ষিণাঞ্চলীয় উচ্চভূমিতে টিকিয়া থাকে। এই অঞ্চলে মায়া জাতির মধ্যে অন্যতম কি'কে' কুমারকাজের রাজ্য, তারা সবচেয়ে বিখ্যাত মায়া ইতিহাস-রচনা ও পুরাণ পোপোল ভূহ কাজের জন্য অতি পরিচিত। অন্যান্য উচ্চভূমি সাম্রাজ্যের মধ্যে রয়েছে হুয়েহুয়েতেনাঙ্গো-তে মাম ভূমি, ইক্সিমকে-তে কাককিকেলস ভূমি, মেক্সকো ভিয়েজো-তে চাজোমা ভূমি,[২৪] এবং সান মাতিও ইক্সতাতান-তে কুজ ভূমি। ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে উত্তরাঞ্চলীয় ধ্রুপদী যুগ শেষ হয়ে আসে। কেননা স্পেনীয় ফ্রান্সিসকো হার্নান্দেজ দে কর্ডোবা ইয়ুকাটান উপদ্বীপে আসেন এবং তিনি তাদের সাথে বেশ কয়েকটা যুদ্ধ করে তাদের দুর্বল করে দেন।

ঔপনিবেশিক যুগ[সম্পাদনা]

তাদের এই অঞ্চলে প্রথম অভিযানের অল্পসময় পরে যে মায়ারা স্পেনীয় মুকুটের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন ছিল তাদেরকে ক্রীতদাস করার প্রচেষ্টা আরম্ভ হয় এবং মায়া ইউকাটান উপদ্বীপ এবং গুয়াতেমালার পার্বত্য অঞ্চলের মধ্যে তাদের ঔপনিবেশিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করে। এই অভিযানকে, কখনও কখনও, "ইউকাটানের স্পেনীয় বিজয়" বলে আখ্যায়িত করা হত, যা সূত্রপাত থেকে দখলদারদের জন্য একটি সুদীর্ঘ এবং বিপজ্জনক অনুশীলন প্রমাণিত হয়। সমস্ত মায়া ভূমির উপর স্পেনীয় স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করতে সেখান কার শত শত হাজার আদিবাসি এবং প্রায় ১৭০ বছর সময় লেগেছে।

মায়ানদের দৈনন্দিন জীবনযাপন[সম্পাদনা]

অভিজাত জীবন[সম্পাদনা]

একজন মায়া সম্রাট এবং অভিজাতদের জীবন অত্যন্ত সহজ ও বিলাবহুল ছিল। তাদের এমনকি জামাকাপড় ছাড়া কিছু বহনও করতে হত না। তাদের সব ভার বহন করত সাধারণ মায়া অথবা অন্যান্য জাতি হতে আগত ক্রীতদাসরা।

জীবনযাত্রা[সম্পাদনা]

একজন মায়া সাধারণ মানুষের যেমন কষ্টকর তেমনি কঠিন পরিশ্রমে ভর্তি ছিল। মজদুররা সাধারণত কৃষাণ হিসাবে জীবিকা নির্বাহ করত। তারা সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত কাজই শুধু করে যেত। তাদের বৌরা সাধারণত রান্নাবান্না এবং সেলাইয়ের কাজে ব্যস্ত থাকত। ছেলে মেয়ে মানুষ করাটাও তাদের অন্যতম কাজ ছিল। চাষিরা সারাদিন চাষাবাদ করার ফাঁকে দিনে একবারই মাত্র বাড়িতে ফিরে আসত; চান করে খেয়ে নেওয়ার জন্য। চান করাটা ছিল তাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। চান না করলে তারা খুবই অসুবিধা বোধ করত। অবশ্য চান করাটা শুধু চাষিরা নয় সব মায়ারাই করত। এটা তাদের সংস্কৃতির অঙ্গ বলে মনে করা হত।

পোশাক[সম্পাদনা]

পোশাক তাদের সামাজিক স্তরের প্রকারভেদ এর ওপরে নির্ভর করত। অভিজাতদের পোশাক ও সাধারণ মায়াদের পরিধেয় বস্ত্র এক ছিল না। যারা ধনী ও অভিজাত মায়া ছিল; তারা সাধারণত জন্তু জানোয়ারের চর্ম ও লোম হতে তৈরি বস্ত্র পরিধান করত। যা দেখতে যেমন রঙিন হত তেমনই ভারী হত। তারা মহামূল্যবান রত্ন ও সোনা দ্বারা সৃষ্ট গয়না পড়তে পছন্দ করত।

সাধারণ মায়ারা নেংটি পড়ে থাকত। গ্রীষ্মকালে খালি গায়ে থাকলেও শীতকালে পুরুষরা উর্ধ্বাঙ্গে পঞ্চো ধরণের পোশাক পড়ে থাকত। যা কম্বল দিয়ে তৈরি করা হত। মেয়েরাও একই পোশাক পরে থাকত।

তবে মেয়েরা লম্বা স্কার্ট গোছের পোশাক পড়ত। এদের উভয় লিঙ্গের পোশাকআশাক অনেকাংশে অ্যাজটেক সভ্যতার মতন ছিল। আরও দুটি বিষয়ে উভয় লিঙ্গের মধ্যে মিল ছিল। আর তা হল উভয়েই বিয়ের পরে গায়ে উল্কি মেরে রাখত নিজেদের বিবাহিত প্রমাণ রাখতে। এবং উভয়েই একই রকমের বিশাল কেশরাজি বহন করে রাখত।

খাদ্য[সম্পাদনা]

মায়াদের কাছে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ আহার ছিল ভুট্টা বা মেইজে। তারা এই ভুট্টা দিয়ে সব রকমের খাদ্য তৈরি করে খেত। যেমন টর্টিলা, ডালিয়া এবং পনীর জাতীয় খাদ্য। এমনকি ভুট্টা পচিয়ে মদ তৈরি করে খেত। এছাড়া এরা আহার হিসাবে যেসব খাদ্যশস্য ও আমিষ গ্রহণ করত তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল শিম, সব রকমের শুঁটি, স্কোয়াশ, লঙ্কা। এছাড়া হরিণ, হাঁস, বক, টার্কি এবং মাছ। মাছ তারা বেশী করে খেত বিশেষতঃ সমুদ্রের মাছ। তেলাপিয়া ছিল তাদের প্রিয় খাদ্য।

মায়াদের কাছ থেকেই বিশ্ব বিভিন্ন প্রকারের খাদ্য উপহার পেয়েছে। যেমন, চকোলেট, টোম্যাটো, রাঙ্গালু, কালো শিম ও পেঁপে। চকোলেট তৈরি হত কাকাও গাছ থেকে। তারা মনে করত চকোলেট হল ঈশ্বরের অবদান। এবং চকোলেট যে গাছ থেকে উৎপন্ন হত; সেই কাকাওয়ের বীজকে তারা মুদ্রার বিকল্প রূপে ব্যবহার করত। যেমন আমরা এককালে সামুদ্রিক কড়িকে মুদ্রার বিকল্প রূপে ব্যবহার করতাম ওরাও সেইরকমই কাকাওয়ের বীজকে মুদ্রার বিকল্প রূপে ব্যবহার করত।

বাড়িঘর[সম্পাদনা]

অভিজাত ও সম্রাট এর আত্মীয় বর্গের দল শহরের মধ্যে নিখাদ গ্রানাইট পাথরের বাড়িতে বসবাস করতেন। তাতে বাগান বাড়ি ও বিরাট স্নানাগার থাকত। আর মায়া জনসাধারণ গ্রামে ক্ষেতের পাশে কুঁড়েঘর বানিয়ে থাকত। এইসব কুঁড়েঘর তৈরি হত এঁটেল মাটি দিয়ে তাই কোয়ালিটি দারুণ খারাপ ছিল। এইসব বাড়িতে ঘরের সংখ্যা ছিল মাত্র দুটি। এক, প্রার্থনা ঘর এবং রান্না ঘর এবং দুই শয়নকক্ষ এবং শৌচাগার। এইসব বাড়ির ছাদ পাম গাছের পাতা দিয়ে ছাওয়া থাকত। তবে কিছু কিছু মায়া সাধারণ মানুষ পাথরের বাড়িতে বসবাসও করত; তবে তাদের সংখ্যা ছিল অত্যল্প। তবে সব মায়ারাই মাটি থেকে বেশ খানিকটা উঁচুতে পাথর দিয়ে মাচা বানিয়ে তার উপরে বাড়ি বানাত। এতে বন্যার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যেত। কেননা অধিকাংশ মায়া নগররাষ্ট্র এবং সংলগ্ন অঞ্চল ছিল সমুদ্রতীরে। সেই জন্যই এমন সতর্কতা পালন করত। বিশেষতঃ ইউকাটায়েন উপদ্বীপ অঞ্চলে সর্বদাই সুনামি বা সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস প্রায়ই আসত। সেই জন্যই এমন ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল মায়া অঞ্চলে।

বিনোদন[সম্পাদনা]

যদিও মায়ারা অত্যন্ত কঠিন জীবনযাপন করত, তবুও তারা বিনোদন এর ব্যবস্থা করত; বিশেষতঃ ছুটির দিনে কিংবা ধর্মীয় দিবসের দিনগুলিতে। তারা নাচতে, গাইতে এবং খেলতে খুবই উৎসাহ পেত। অনেকেরই ধারণা তারা ছিল ভলিবল এর জনক।

কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য[সম্পাদনা]

  1. মায়ারা ভাবত যে, মঙ্গোলিয়ানদের ন্যায় টানা চোখ, চওড়া কপাল এবং লম্বা ও বড় নাক সৌন্দর্যের প্রতীক। এর কোনওটাই না থাকলে সেই মায়া বিবাহের পক্ষে অযোগ্য বলে মনে হত। এইজন্য তারা অস্ত্রোপচার এবং সাজসজ্জা করে নাক বড় ও চোখ টানা করার ব্যবস্থা করত।
  2. মায়ারা বড় বড় টুপি [অনেকটা বৈষ্ণবদের কানঢাকা টুপির মতন] ও দামী দামী অলঙ্কার পড়া পছন্দ করত, বিশেষ করে যারা অভিজাত তারা। যত উচ্চদরের অভিজাত ততই বড় মাপের টুপি পরিধান করত।
  3. মায়ারা ইনকা বা অ্যাজটেকদের মতই লোহার ব্যবহার জানত না। এমনকি চাকার ব্যবহারও জানত না। তারা পাথরের তীক্ষ্ম অস্ত্র দিয়ে সব কাজ চালিয়ে নিত।
  4. মায়ারা যে ভলিবল গোছের খেলা খেলত; তা কেবল ধর্মীয় উৎসবের দিনেই খেলত। এই খেলায় যে দল হারত, তারা দেবতার প্রতি উৎসর্গিত হত অর্থাৎ নরবলির শিকার হত!
  5. মায়ারা অন্ততঃ ১১১ রকমের নৃত্যকলা জানত। এর মধ্যে প্রায় ১৫ রকমের নৃত্যকলা অদ্যাবধি প্রচলিত। এর মধ্যে বাঁদর নাচ, সাপ নাচ, স্ট্যাগ হরিণের নাচ বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

মায়া সভ্যতার দ্রষ্টব্যস্থল এবং নগররাষ্ট্র[সম্পাদনা]

আগেই বলেছি যে, মায়ারা মেক্সিকোর বিভিন্ন স্থান জুড়ে বিভিন্ন নগররাষ্ট্রের মাধ্যমে এক বিশাল সাম্রাজ্য নির্মাণ করেছিল। প্রত্যেক শহর ছিল এক একটা নগররাষ্ট্র। প্রত্যেক নগররাষ্ট্রের চারপাশে কয়েকটা ছোট শহর বা বড় গ্রাম ঘিরে থাকত। তাদের খাজনায় চলত এইসব মায়া নগররাষ্ট্র। মায়ারা অবশ্য অ্যাজটেকদের ন্যায় পরিকল্পিত ও সুগঠিত নগররাষ্ট্র তৈরি করতে পারে নি। তাদের প্রবণতা ছিল যে, প্রথমে একটা মন্দির বানাবে তারপর তার আশপাশে কয়েকটা বড় গ্রাম বানাবে এরপর কয়েকটা বড় গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা বড় শহর বানাবে। এইভাবেই মায়া নগররাষ্ট্র তৈরি হত বলে তা ছন্নছাড়া প্রকৃতির হত। প্রত্যেক নগররাষ্ট্রের একেবারে মাঝখানে সূর্য মন্দির বানানোটা ছিল খাঁটি মায়া রীতি। টাইকাল, কোপায়েন, টেওটিহুয়াকান এবং চিচেন ইটজায় সূর্য মন্দিরের অসাধারণ নমুনা দেখা গিয়েছে। সব সূর্য মন্দির ছিল পিরামিড এর ন্যায়।

প্রত্যেক মায়া নগররাষ্ট্রে একটা করে স্থানীয় রাজা বা আহাও থাকতেন। তিনি বসবাস করতেন এক বিরাট রাজপ্রাসাদে। তার সাথে বিরাট রাজ পরিবারও ঐ রাজপ্রাসাদে থাকত। প্রত্যেক রাজপ্রাসাদের উত্তর প্রান্তে থাকত একটা বাণিজ্য কুঠি, বড় রাস্তা এবং দক্ষিণ প্রান্তে থাকত পিরামিড এবং কৃষিজমি। মায়া সাম্রাজ্যের সেরা কৃষিজমির ধারেই রাজপ্রাসাদের অবস্থান থাকত যাতে সেরা খাদ্য সম্রাটের কাছে দ্রুত পৌঁছে যেত।

এল মিরাডর [ঊষ গরৎধফড়ৎ][সম্পাদনা]

এল মিরাডর হচ্ছে প্রথমতম মায়া নগররাষ্ট্র। ভাবা হয় যে, যখন এই নগররাষ্ট্র উন্নতির সেরা স্থানে পৌঁছেছে; তখন শহরে বসবাস করত প্রায় ১০০০০০ মানুষ। শহরের মধ্যস্থল এর আয়তন প্রায় ৩.১২ স্কোয়ার কিলোমিটার [১.২০ স্কোয়ার মাইল] ছিল এবং এখানে প্রায় ১০০০ অট্টালিকা ছিল। পুরাতাত্ত্বিকরা এখানে তিনটে বিরাট আকৃতিসমপন্ন পিরামিডের খোঁজ পেয়েছেন। এই তিন পিরামিডের নাম হল যথাক্রমে; এল টাইগ্রে [১৮০ ফিট বা ৫৪.৯ মিটার উঁচু], লস মোনোস [১৫৭ ফিট বা ৪৭.৯ মিটার উঁচু] এবং লা ডানটা [২৫০ ফিট বা ৭৬.৫ মিটার উঁচু]। লা ডানটা পিরামিডকে আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম বলে ধরা হয়।

পুরাতাত্ত্বিকরা কার্বন আইসোটোপ পরীক্ষা থেকে অনুমান করেন এল মিরাডর মোটামুটি ৬০০ খৃষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ উদ্ভব হয়েছিল। সেখান থেকে এল মিরাডর খৃষ্টীয় প্রথম শতক অবধি টিকে ছিল। আর এই নগররাষ্ট্রের স্বর্ণযুগ ছিল আনুমানিক খৃষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে দ্বিতীয় শতক নাগাদ। বিভিন্ন পুরাতাত্ত্বিক প্রমাণ থেকে এটাও অনুমান করা হয় মূল শহরটা ১৫০ খৃষ্টাব্দে পরিত্যাগ করে মিরাডরবাসীগণ অন্যত্র চলে যেতে শুরু করে। ৭০০ খৃষ্টাব্দে তারা অন্য জায়গায় অবশেষে বসবাস করতে শুর করে। কোর্টেজ এবং তার সাথীরা এই শহরকে পরিত্যক্ত অবস্থাতেই দেখেছিল বলে জানা গেছে।

কামিনালজুয়ু[সম্পাদনা]

গুয়াটেমালা উচ্চভূমি এবং দক্ষিণ মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী এলাকায় ছিল বিখ্যা মায়া নগররাষ্ট্র কামিনালজুয়ু। বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রমাণ হতে এটা আন্দাজ করা হয় এই নগররাষ্ট্রের আয়ু ছিল প্রায় ২০০০ বছর। অর্থাৎ ১২০০ খৃষ্টপূর্বাব্দ থেকে ৯০০ খৃষ্টাব্দ অবধি এই কামিনালজুয়ু নগররাষ্ট্র টিকে ছিল। তারপর এই শহর পরিত্যক্ত হয় এল মিরাডর শহরের মতই।

টাইকাল[সম্পাদনা]

টাইকাল ছিল মায়া সভ্যতার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ও প্রভাবশালী নগররাষ্ট্র। এই নগররাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটে মায়া ধ্রুপদী যুগে। অর্থাৎ ২৫০ খৃষ্টাব্দ থেকে ৯০০ খৃষ্টাব্দের মধ্যে এই শহর শক্তিশালী নগররাষ্ট্র হিসাবে গণ্য ছিল। এই শহর আয়তনে অন্য মায়া শহরের তুলনায় অনেক ছোট ছিল [মোট আয়তন ১ স্কোয়ার মাইল বা ২.৫ স্কোয়ার কিলোমিটার ছিল] এবং এই শহরে শতাধিক বড় মাপের অট্টালিকা ছিল। তবে টাইকাল শহরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য ছিল ছয়টি পিরামিড। যা যে কোনও মায়া শহরের তুলনায় বেশী। এর মধ্যে চতুর্থ পিরামিডটি [ ৬০০ খৃষ্টাব্দে নির্মিত] ছিল বৃহত্তম পিরামিড। এর উচ্চতা ছিল ২৩০ ফিট বা ৭৬.২৫ মিটার। টাইকাল শহরে তার স্বর্ণযুগে মোট বাসিন্দার সংখ্যা ছিল ৬০০০০ থেকে ৭৫০০০ এর মধ্যে। ১৯৭৯ খৃষ্টাব্দে এই ঐতিহাসিক নগররাষ্ট্র ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের মর্যাদা পায়।

টেওটিহুয়াকান[সম্পাদনা]

টেওটিহুয়াকান শহরের আয়তন ও জনসংখ্যা ছিল অন্যান্য মায়া নগররাষ্ট্রের তুলনায় বেশ কম। তবে বাণিজ্যনগরী হিসাবে এর গুরুত্ব ছিল অসীম। মধ্য মেক্সিকো উপত্যকায় এই নগররাষ্ট্র অবস্থিত ছিল। অনেকেই বলেন এটি একটি টল্টেখ [ঞড়ষঃবপ] নগর, মায়া নগররাষ্ট্র নয়। মেক্সিকো সিটি হতে ৩০ মাইল বা ৪৯.৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই মহান নগররাষ্ট্র। এই নগরের মোট আয়তন ছিল ৮ স্কোয়ার মাইল বা ২১ স্কোয়ার কিলোমিটার। মায়া সংস্কৃতিতে এই নগররাষ্ট্রের প্রচুর অব্দান আছে। এখানে বেশ কিছু বৃহৎ অট্টালিকা ছিল যার মধ্যে চন্দ্রদেবের পিরামিড ও সূর্যদেবের পিরামিড। এখানে ১৫০০০ বাসিন্দা এই নগররাষ্ট্রের স্বর্ণযুগে বসবাস করত বলে জানা গেছে। [পাশের চিত্রটা একশিলাস্তম্ভের তৈরি টেওটিহুয়াকানে অবস্থিত ৪.৬ মিটার বা ১৫.১ ফিট উচ্চতাসমপন্ন টল্টেখ মূর্তি দেখা যাচ্ছে]

খারাখোল[সম্পাদনা]

আনুমানিক ২৫০ খৃষ্টাব্দে খারাখোল শহর এর উৎপত্তি হয়েছিল টাইকাল শহরের যমজ শহর হিসাবে। ঠিক অনেকটা কলকাতা-হাওড়া শহরের মতন। বর্তমানে বেলিজে রাষ্ট্রের রাজধানী বেলিজে শহরের কায়ো জেলায় অবস্থিত। ৬০০ খৃষ্টাব্দে এই শহর টাইকাল এর করদ রাজ্যের তকমা ঝেড়ে স্ববলে মহীয়ান হয়ে ওঠে। অর্থাৎ টাইকাল শহরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। এই শহর আজকের বেলিজে শহরের চেয়ে আকারে ও আয়তনে বড় ছিল। এর আয়তন ছিল আনুমানিক ২০২.৩ স্কোয়ার কিলোমিটার বা ৭৮.১ স্কোয়ার মাইল ছিল। এইভাবেই খারাখোল হয়ে ওঠে মায়া সভ্যতার অন্যতম বৃহত্তম নগররাষ্ট্র। এখানে এর স্বর্ণযুগে প্রায় ২০০০০০ মানুষ খারাখোল শহরে বসবাস করত।

চিচেন ইটজা[সম্পাদনা]

চিচেন ইটজা উত্তর ধ্রুপদী যুগের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী মায়া নগররাষ্ট্র ছিল। এখানে বহু বিখ্যাত একশিলাস্তম্ভের স্থাপত্য ছাড়াও অট্টালিকা ছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল এল কাস্টিল্লো, গ্রেট বল কোর্ট, যোদ্ধাদের মন্দির ইত্যাদি। নীচে এইসব বিখ্যাত স্থাপত্যের বিবরণ দেওয়া হল ঃ

এল কাস্টিল্লো ঃ এক বিশাল পিরামিড যা নির্মিত হয়েছিল মায়া দেবতা কুকুল্কানের উদ্দেশ্যে। এই পিরামিড ৯৮ মিটার [৩২১ ফিট] উচ্চতাসমপন্ন। এই পিরামিড আনুমানিক খৃষ্টীয় ষষ্ঠ শতকে নির্মিত হয়েছিল। এই পিরামিডের প্রত্যেক প্রান্তে মোট একানব্বইটি ধাপ ছিল এবং একেবারে ওপরে আয়তক্ষেত্রাকৃতির ভবন ছিল আসলে ৩৬৫টি ধাপ মিলিয়ে এই পিরামিড গড়া হয়েছিল। অর্থাৎ একটা সিঁড়ির ধাপ এক পার্থিব দিনকে বোঝাত।

গ্রেট বল কোর্ট ঃ এটা ছিল বিখ্যাত মায়ান ভলিবল গোছের খেলার মাঠ। এই মাঠ লম্বায় ৫৫১ ফিট এবং ২৩০ ফিট চওড়া ছিল। সব মিলিয়ে মাঠের মোট আয়তন ছিল ১২৬৭৩০ স্কোয়ার ফিট বা ১১৭৭৩ স্কোয়ার মিটার। মাঠের চারপাশে থাকা দেওয়ালের উচ্চতা ছিল ২৬ ফিট বা ৭.৯ মিটার। উত্তরের দেওয়ালের ওপারে ছিল জাগুয়ার দেবতার মন্দির।

যোদ্ধাদের মন্দির ঃ এটাও একটা পিরামিড ছিল।এর গঠন অনেকটাই চিচেন ইটজার ন্যায় ছিল। তবে সিঁড়ির ধাপ ৩৬৪ এর স্থলে ছিল ২০০ টি। অর্থাৎ চার প্রান্ত থেকে ৫০টি করে ধাপ গঠিত ছিল।

কোপায়েন[সম্পাদনা]

এটি একটি মায়া নগররাষ্ট্র, যা কিনা বর্তমান হন্ডুরাস রাষ্ট্রে অবস্থিত। এই শহরের পূর্বপ্রান্তে রয়েছে কোপায়েন নদী। এই ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর হন্ডুরাসের সান্টা রোজা ডে কোপায়েন শহর হতে ৩৫ মাইল বা ৫৬ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এই শহর বিখ্যাত ছিল জ্যোতির্বিদ্যার এবং সাংস্কৃতিক কারণে। খৃষ্টীয় নবম শতকে এই শহরের মোট বাসিন্দা ছিল ২০০০০ এর বেশী। এখানে বহু একশিলাস্তম্ভ দ্বারা সৃষ্ট অতিকায় গ্রানাইট পাথরের মূর্তি, দুটি পিরামিড এবং বল কোর্ট ছিল এই ঐতিহাসিক নগরীতে। মায়ারা আনুমানিক ৩০০ খৃষ্টাব্দে এই শহরের পত্তন করে এবং ১২০০ খৃষ্টাব্দে এই শহর সমপূর্ণভাবে পরিত্যাগ করে। ১৯৮০ খৃষ্টাব্দে এই শহর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে রূপান্তরিত হয়। এর বার্ষিক আগত পর্যটকদের সংখ্যা আনুমানিক ৭ লাখ।

পালেংখুয়ে[সম্পাদনা]

কোপায়েন শহরের মতই আরেক বিখ্যাত মায়া নগররাষ্ট্র ছিল এই পালেংখুয়ে। ১৯৫২ খৃষ্টাব্দে জনৈক মার্কিন ইতিহাসবিদ আজকের মেক্সিকোর চিয়াপাস রাজ্যে সমুদ্রের ধারে এক ম্যাংগ্রোভ অরণ্যের মধ্যে এই ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী আবিষ্কার করেন। এই নগরী অনেক অসাধারণ স্থাপত্যের জন্য বিশেষ স্মরণীয়। এর মধ্যে চারতলা ময়দান, একটি পিরামিড, একটি দুর্গ, দুটি ভুলভুলাইয়া এর জন্য প্রসিদ্ধ।। কেননা আর কোনও মায়া শহরে ভুলভুলাইয়া নেই। তবে পালেংখুয়ের সবচেয়ে বিখ্যাত স্থাপত্য হল শিলালিপির মন্দিরের [বষ ঃবসঢ়ষড় ফব ষধ রহংপৎরঢ়পরষ্টহ] জন্য। এই মন্দিরকে বলা হয় সবচেয়ে সুন্দর মায়া মন্দির। এই মন্দিরের ভেতরে বিচিত্র সব শিলালিপি এবং নকশা অঙ্কিত রয়েছে। তবে সবচেয়ে স্মরণীয় নকশা হল এক মহাকাশযাত্রীর। হাজার বছর আগে তো মহাকাশযাত্রী কেমন দেখতে তা ধারণা ছিল না পৃথিবীর বাসিন্দাদের। তবে কেমন করে রকেটে চাপা ঐ মহাকাশযাত্রীর নকশা আঁকল পালেংখুয়ের বাসিন্দারা? নাকি ওটা কোনও দেবতার চিত্র ছিল? এরিক ভন ডানিকেন বলেন দুটিই ঠিক উত্তর। এটা একদিকে দেবতার চিত্র এবং অন্য দিকে মহাকাশযাত্রীর চিত্র। এর চেয়ে কোনও নিখুঁত প্রমাণ আর নেই যে দেবতারা আসলে অন্য গ্রহের মানুষ। মায়া ৬০০ খৃষ্টাব্দে এই শহরের পত্তন করেছিল কিন্তু ১১০০ খৃষ্টাব্দ নাগাদ শহর পরিত্যাগ করে চলে যায়। পাশের চিত্রে পালেংখুয়ের বিখ্যাত শিলালিপির মন্দির [ঞযব ঞবসঢ়ষব ড়ভ ঃযব ওহংপৎরঢ়ঃরড়হ] দেখা যাচ্ছে।

উক্সমাল[সম্পাদনা]

দক্ষিণপূর্ব মেক্সিকোর ইউকাটায়েন রাজ্যে অবস্থিত এক ঐতিহাসিক মায়া নগররাষ্ট্র। আনুমানিক ৬৫০ খৃষ্টাব্দে এই শহরের নির্মাণকার্য শুরু হয় এবং ১০০০ খৃষ্টাব্দ নাগাদ শহরের নির্মাণকার্য অসমপূর্ণ রেখে শেষ করে দেওয়া হয়। এই নগররাষ্ট্র মায়াপান সাম্রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী মিত্র রাষ্ট্র ছিল। যখন মায়াপান নগররাষ্ট্রের পতন হয়; তখন অন্যান্য উত্তরের মায়া নগররাষ্ট্রের মতই আনুমানিক ১৪৫০ খৃষ্টাব্দে উক্সমাল পরিত্যক্ত হয়। এখানে যাদুকরের পিরামিড, কচ্ছপের রাজপ্রাসাদ ও চতুষ্কোণীয় ময়দান ছিল।

মায়া নগররাষ্ট্রের সমপর্কে কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য[সম্পাদনা]

  1. বেশীর ভাগ মায়া শহরে টুরিস্টরা নিয়মিত ভ্রমণ করেন। এর মধ্যে চিচেন ইটজা আর টাইকাল সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই দুটোই ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত।
  2. প্রতি বছর ১২ লাখ টুরিস্ট চিচেন ইটজায় আসেন। এর মধ্যে ১০ লাখের বেশী টুরিস্টই ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসেন। টাইকালে বার্ষিক টুরিস্টদের সংখ্যা ৯ লাখের আশপাশে বলে জানা গেছে।
  3. পুরাতাত্ত্বিকরা সব মিলিয়ে ১৩ টি গ্রেট বল কোর্টের ঢঙে বানান খেলবার মাঠ খুঁজে পেয়েছেন চিচেন ইটজা নগররাষ্ট্রের কাছে।
  4. অন্যান্য মায়া শহরের মধ্যে প্রধান হল খোবা , উক্সমাল, মায়াপান, টুলুম , পালেংখুয়ে এবং কাবাহ।
  5. পালেংখুয়ে এককালে স্প্যানিশদের কাছে সিউডাড লা রোজা বা লোহিত নগরী নামে পরিচিত ছিল। কেননা এই শহরের সব অট্টালিকার বহিরঙ্গ ছিল লাল রঙে রঞ্জিত। এই কারণেই এমন নাম পেয়েছিল পালেংখে।
  6. টাইকাল নগররাষ্ট্রের প্রধান অনেক ক্ষেত্রে নারী হয়েছেন। বেশ কিছু রাজার নাম বেশ মজাদার যেমন; জাগুয়ারের থাবা, কুঞ্চিত মুন্ডু, রক্ষিত খুলি এবং জোড়া পাখি। এমন বিচিত্র নামকরণের কারণ অদ্যাবধি জানা যায় নি।

অঙ্কন[সম্পাদনা]

অনেকেই বিবেচনা করে মায়া শিল্প প্রাচীন যুগের (সি. ২৫০ থেকে ৯০০ এ.ডি.), প্রাচীন নতুন বিশ্বের সর্বাপেক্ষা সফিস্টিকেট এবং সুন্দর শিল্প হইবে। অতীতের অনেক সভ্যতার মত, মায়ার জনগণরা অন্যান্য কেন্দ্রীয় আমেরিকার লোকদেরমত ভাস্কর্য এবং রঙিন ভবন ব্যবহার করার বৈশিষ্ট্য ছিল। বিভিন্ন মন্দিরের কবর গুলোর ভিতর কম্পন সজ্জিত এবং প্রাসাদ গুলোতে খাটি গাঢ় লাল, মেঝেতে নীল। বিষয়বস্তু: গায়করা, নর্তকীরা, মহিলাদের ছাতার সঙ্গে সেবীকা যারা পাখির পালকের দিয়ে ঢাকা ছিল, জলজ প্রাণী বৈশিষ্ট মুখোস, উৎসবের ধর্মযাজকরা এবং প্রভুরা, শাসনকর্তারা এবং মহৎ উদার হ্মমতা সম্পূর্ণ শহর গুলোর, মহিলা নাপিতদের, দেবতার মুখোস, যুদ্ধারা, জীবন থেকে মৃত্যুতে পরিবর্তনের, জয়লাভ উদযাপনের, ধর্মের প্রথাপদ্ধতি গুলোর, হিংসার এবং মানবিক উৎসগের দৃশ্য, সাপের, জাগুয়ারের। সর্বাপেক্ষা এক লক্ষণীয় মায়ার শিল্পসম্মত দানের, দ্বিধা ছাড়া আঁকা নির্দিষ্ট বক্রতা, একটি ধারণা প্রসুত যে অনেক দৃশ্যতে এশিয়ার অঙ্কন। প্রাচীন কালে ৫৫০-৯০০ এ.ডি. এর মধ্যে ভাস্কর্য বিকশিত হয়েছিল কোন বাহ্যিক প্রভাব ব্যতীত, এবং খুব সচ্ছল ছিল। আমাদের কেবল প্রাচীন মায়ার উন্নতির আভাসের চিত্র রয়েছে; বেশির ভাগ যা মৃত্যুর পরও বেচে থেকেছে এবং অন্যান্য মায়া মৃৎশিল্প, এবং (Bonampak) তে একটি ভবনের প্রাচীন দেওয়াল গুলোতে অঙ্কন ধরে রেখে সুযোগে বেচে থেকে ছিল। একটি সুন্দর বৈষর্য নীল রং যে শতকের মধ্য দিয়ে বেচে থেকেছে তার এক রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের দরুন যা মায়া নীল অথবা Azul maya হিসেবে জেনেছে, এবং এইটি বৃদ্ধমান Bonampak, Tajín Cacaxtla, Jaina তে এবং এমনকি কিছু ঔপনিবেশিক আশ্রমে। মায়া নীলের ব্যবহার কার্যকরী থেকে ১৬ শতক পর্যন্ত যখন কৌশলটি হারিয়ে যায়।

জ্যোতির্বিদ্যা[সম্পাদনা]

বৈশিষ্ট্যযুক্তভাবে, সেখানে কিছু প্রমাণ আবির্ভূত হয় যা মায়াকে মনে হয় কেবল অদ্বিতীয় প্রে-টেলেস্কোপিক সভ্যতা যাদের ওরিয়ন নীহারিকার (Orion Nebula) অস্পষ্ট জ্ঞান দেখা যায়, যা একটি পিন-পয়েন্ট নাহ্মত্রিকা না। তথ্যটি যে তত্ত্বটি ধরে রাখে তা আসে লোকদের একটি গল্প থেকে, সে আকাশের ওরিয়ন তারামণ্ডলীর অঞ্চলের দেখা-শোনা করতো। তাদের ঐতিহ্যবাহী ঘর একটি ঝাপসা দাগসহ উত্তপ্ত আগুনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত যা ওরিয়ন নীহারিকার অনুরুপ। এইটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র ধারণা সমর্থন করে যা দূরবীক্ষণ আবিস্কারের পূর্বে মায়ারা আকাশের তারকার একটি পরিব্যাপ্ত অঞ্চল পিন-পয়েন্টতে সনাক্ত করেছিল।

মায়ারা জ়েনিয়াল প্রস্থান গুলোতে খুব কৌতূহলী ছিল, যখন সূর্য সরাসরিভাবে মাথার উপর দিয়ে যায়। তাদের নগরীর বেশির ভাগ অক্ষাংশ কর্কটক্রান্তির নিচে হওয়ায, এই প্রকৃত প্রস্থান গুলো নিরহ্মরেখার উপর থেকে সমান দূরত্ব এক বছরে দুইবার ঘটাবে। সূর্য মাথার উপরের এই অবস্থানটি প্রতিনিধিত্ব করতে, মায়ার একটি দেবতা ছিল যার নাম দেবতা ডাভিইং (Diving God)।

ড্রেসডেন কোডেক্স (Dresden Codex) ধারণ করে উচ্চতম ঘনত্বের জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক পর্যবেক্ষণ এবং যে কোন জীবন্ত বিষয় সমূহ নির্ণয় করে (এইটি আবির্ভূত হয় যে এই কোডেক্সতে তথ্য মূলত অথবা আসলে একটি প্রকৃতির জ্যোতির্বিদ্যা)। এই কোডেএক্সের পরীক্ষা এবং বিশ্লেষণে প্রকাশ করে যে শুক্রের জ্যোতির্বিদ্যা মায়ার কাছে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, এমনকি সূর্যের চেয়ে তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

গণিত[সম্পাদনা]

মেক্সিকানের অন্যান্য সভ্যতা গুলোর সাথে মায়া সভ্যতার মিল হলো, মায়া ব্যবহার করতো একটি ২০ ভিত্তি সংখ্যা (vigesimal) এবং ৫ ভিত্তি সংখ্যা (মায়া সংখ্যা দেখুন) পদ্ধতি। তা ছাড়াও, প্রেক্লাসিক মায়া এবং তাদের প্রতিবেশীদের ৩৬ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের মধ্যে শূন্যের ধারণা স্বাধীনভাবে ক্রমবিকাশিত করেছিল। তাদের লেখা হতে বুঝা যায় যে তারা কাজ উপর ভিত্তি করে লাক্ষ লাক্ষ অংকের হিসাব করতো এবং তারিখ গুলো এতো বড় হতো যে তা শুধু লিখতে অনেক লাইনের দরকার হবে। তারা খুব নির্ভূল ভাবে জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ করেছিল; তাদের নকশায় চাঁদ এবং অন্যান্য গ্রহগুলোর পর্যায়কাল সমান অথবা অন্যান্য সভ্যতার খালি চোখে পর্যবেক্ষকগণদের থেকে উন্নত ছিল।

মেক্সিকানের অন্যান্য সভ্যতা গুলোর সাথে মায়া সভ্যতার আরও মিল হলো, মায়া সঠিক এবং নির্ভুলতার সাথে সৌর বছরের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করেছিল। ইউরোপীয়নরা যে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জিকা ব্যবহার করতো তার চেয়েও অনেক বেশি সঠিক এবং নির্ভুল ছিল। যাইহোক; তারা যে অপরিণত বর্ষপঞ্জিকা ব্যবহার করেছিল, এটি ভিত্তি করা হয়েছে এক বছর যথাযথভাবে ৩৬৫ দিন, এর অর্থ এই যে বর্ষপঞ্জিকা প্রতি চার বছরে এক দিন বৃদ্ধি পায়। জুলিয়ান বর্ষপঞ্জিকা ব্যবহার হতো ইউরোপে রোমানদের সময় থেকে ১৬ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত। প্রতি ১২৮ বছরে কেবল এক দিনের ত্রুটি জড়িত হয়েছিল। আধুনিক গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জিকা আরও বেশি নির্ভূল, প্রায় ৩২৫৭ বছরে কেবল এক দিনের ত্রুটি জড়িত হচ্ছে।

সময়[সম্পাদনা]

অতীতের একটি অপরিবর্তনীয় বিন্দু থেকে মায়ার ইতিহাস গণনা করা হয়েছিল। যেমন, খ্রিস্টান ধর্মের অংশ হচ্ছে যিশুর জন্ম, গ্রিকের প্রথম অলিম্পিক গেমস এবং রোমান সাম্রাজ্যের জন্মের রোম থেকে। তাদের বর্ষপঞ্জিকার একটি তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়েছে (দীর্ঘের পরিমাণ), অনুবাদ করা হয়েছিল ৩১১৪ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ হিসেবে, সম্ভবত পরস্পর সম্পর্কযুক্ত একটি কাল্পনিক ঘটনাতে যেমন একটি ভীষণ বিপর্যয়ের পরে একটি নতুন বিশ্বের সৃষ্টি। খ্রীষ্টান যুগের আগের শতক থেকে, তাদের পুরোহিত জ্যোতির্বিজ্ঞানী নির্ভুলতার সঙ্গে চন্দ্র, সূর্যের গ্রহণ এবং শুক্রের কক্ষ পথ সম্পূর্ণভাবে নির্দিষ্ট করতে পারতো।

বর্ষপঞ্জিকা[সম্পাদনা]

K'in হল মায়া বর্ষপঞ্জিকার একটি সময় যা একটি দিনের অনুরুপ; আর উইনাল (মাস) হল মায়া বর্ষপঞ্জিকার একটি চক্র যা ২০ দিনের একটি পর্যায়কাল সংশ্লিষ্ট হয়। ১৮ উইনাল হল ১ হাব (বছর) এর একটি চক্র যা ৩৬০ দিন বুঝায়। এগুলোর সাথে যোগ করা হয়েছিল ৫ দিন যা ওয়েব ডাক হতো। এই ৫ দিনকে তারা বিশেষভাবে অমঙ্গলজনক হিসাবে বিবেচনা করা হতো। এই ৫ দিন যোগ করে ৩৬৫ দিনের একটি বর্ষপঞ্জিকার ঋতু চক্রে সংযোগ করা হয়েছিল। বর্ষপঞ্জিকা গঠন করা হয়েছিল ২০ দিনের ১ "মাস" আর ১৯ মাসে ১ বছর। মাসগুলোর নাম হলঃ

# মাস অর্থ
Pop মাদুর
Wo কাল যুক্তাক্ষর
Sip লাল যুক্তাক্ষর
Sotz' বাদুড়
Sek  ?
Xul কুকুর
Yaxk'in নতুন সূর্য
Mol জল
Ch'en কাল ঝড়
১০ Yax সবুজ ঝড়
১১ Sak সাদা ঝড়
১২ Keh লাল ঝড়
১৩ Mak পরিবেষ্টিত
১৪ K'ank'in হলদে সূর্য
১৫ Muwan পেঁচা
১৬ Pax গাছ লাগানোর সময়
১৭ K'ayab' কচ্ছপ
১৮ Kumk'u শস্যভান্ডার
১৯ Wayeb' অমঙ্গলজনক ৫ দিন

তাদের একটি গৌণ বর্ষপঞ্জিকার উপরে চেইন দিয়ে বেধে দেওয়া হয়েছিল, যেটি ধর্মীয় প্রথা উদ্দ্যেশ্যের জন্য ব্যবহার করা হতো এবং দেবতদের জন্য ২৬০ দিনের একত্র করে একে গঠন করেছিল, ২০ দিনের ১ "মাস" আর ১৩ মাসে ১ বছর এবং ৫২ বছর ১ শতাব্দী ছিল। এক K'atun ২০ বছর, ৩৬০ দিনের একটি চক্র যা পুনরাবৃত্তি হতো তাৎপর্য্য ব্যতীত। ২০ বছরের শুরুতে অথবা প্রান্তে K'atun প্রতিনিধিত্ব করতে গুরুত্বপূর্ণ প্রধান নগরীগুলো নির্মিত করা হয়েছিল। দিন, মাস এবং ঋতুর চিরস্থায়ী প্রবাহের তালগুলো একটি অলৌকিক ঘটনা যা প্রতি সূর্যদয় এবং প্রতি সূর্যাস্ত মায়াদের ধাক্কা দিতো একটি গভীর পবিত্রে। প্রতি ভাবভঙ্গী, প্রতি মানবিক ক্রিয়াকর্ম তার আর্দশের চিহ্ন হয়েছিল যা দিন তার সাথে আন্তো, সূর্যের প্রকৃতিগুলো যা প্রত্যেক ভোরে নরকের রাজ্য থেকে আসে স্বর্গ পৌঁছতে।

লেখা এবং সাক্ষরতা[সম্পাদনা]

লিখনপদ্ধতি[সম্পাদনা]

মায়া একমাত্র প্রচীন কলম্বীয় সভ্যতা যা রেখে গিয়েছে অনেক উৎকীর্ণলিপি। একটি বড় পরিমাণ মায়ার উৎকীর্ণলিপি নহ্মত্রদের মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এবং ইতিহাস তাদের এই তথ্যগুলোর ধারণের সাহ্মী। মায়া লিখন ছিল একটি logosyllabic, যেটিতে প্রত্যেক চিহ্ন বা বর্ণ, নিজে থেকেই প্রতিনিধিত্ব করতে পারতো এক একটি শব্দ বা অর্থের প্রকাশ। নির্দেশ করতে পারতো একটি শব্দের উচ্চারণের কন্ঠস্বর। অতি প্রাচীন মায়া লেখার সময় কাল সনাক্ত করা হয়েছে খ্রিষ্টপূর্ব ২০০-৩০০ শতাব্দীর প্রথম দিকে। মায়ারা একটি ভাষা লেখার ব্যবহার শিখার আরম্ভের সময় ধরে খ্রীষ্টান যুগের প্রথম দিকে ফিরে যাওয়া যায়। এইটি প্রাচীন কলম্বিয়ার নতুন বিশ্বের একমাত্র লিখন পদ্ধতি, যেটি এ সম্প্রদায়ের কথ্য ভাষা সম্পূর্ণভাবে বর্ণনা করে। মোট, এক হাজার চেয়েও বেশি আলাদা বর্ণ লিপি রয়েছে, যদিও কয়েকটি একই চিহ্ন অথবা অর্থের পরিবর্তনশীলতা আছে এবং অনেক গুলোকে দূলর্ভ মনে হয় অথবা বিশেষ স্থানে সীমাবদ্ধ করা হয়। যে কোন সময়ে, প্রায় ৫০০ টির চেয়ে বেশি বর্ণ ব্যবহার হত না, এগুলোর মধ্যে প্রায় ২০০ টি ধ্বনি অথবা শব্দের (পরিবর্তনশীলতা সহ) অনুবাদ করা হয়েছিল।

লেখার সরঞ্জাম[সম্পাদনা]

যদিও প্রত্নতাত্ত্বিক রেকর্ড কোনো দৃষ্টান্ত না দিলেও মায়ার শিল্পে দেখা যায় যে, তারা পশুর চুল বা লোম দ্বারা তৈরি তুলী এবং পাখির পালক দ্বারা তৈরি কলম দিয়ে লেখাতো। লেখতে তারা সাধারণত কালো কালিতে কোডেক্স-স্টাইলের সঙ্গে লাল কালিতে গাঢ় করা হতো। মায়া অঞ্চলের অ্যাজটেক স্থানকে নাম দেওয়া হয়েছে "লাল এবং কালোর জমি" হিসেবে।

সাক্ষরতা[সম্পাদনা]

মায়ার আদালতগুলোতে লেখকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখে ছিল। মায়া শিল্পে প্রায়ই ছবির অঙ্কন গুলোতে নিদের্শনা করতো তারা লেখক অথবা অন্তত লিখতে সক্ষম। তা ছাড়া, অনেক শাসকদেরকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে যারা লিখার সরঞ্জামের সঙ্গে যুক্তা করেছে খোসা অথবা কাদা কালি। যদিও লোগোগ্রামসের সংখ্যা এবং সঙ্কেতের চিহ্নগুলো সম্পূর্ণভাবে শতকের ভাষা লেখতে প্রয়োজন বোধ হতো, সাক্ষরতা অভিজাত শ্রেণীর প্রয়োজনীয় ভাবে বহুবিস্তৃত ছিল না। গ্রাফফিট বিভিন্ন প্রসঙ্গগুলোতে উম্মুক্ত ছিল, রান্নার কাজসহ, লিখন পদ্ধতি আনুকরণেতে অর্থহীন প্রচেষ্টায় দেখায়।

মায়াদের দেবতা ও পুরাণ[সম্পাদনা]

মায়াদের জীবনযাত্রায় এমন কোনও দিক ছিল না যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রয়োগ ছিল না। তারা এতটাই ধর্মবিশ্বাসী ছিল মতান্তরে ধর্মান্ধও বলা যেতে পারে। তারা ঈশ্বরের ভয়ে সর্বদাই ভীত ছিল। অধিকাংশ পুরাতাত্ত্বিক মায়া ধর্ম সম্বন্ধে জেনেছেন তাদের দ্বারা লিখিত পুরাণ আর শিলালিপি হতে। বিশেষতঃ পালেংখুয়েতে অবস্থিত শিলালিপির মন্দির থেকে। সেখানে বেশ কিছু পাথুরে এবং পোড়ামাটির পুঁথি হতে তাদের ধর্মবিশ্বাস সম্বন্ধে প্রচুর তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এইসব মায়ান পুঁথিকে বলা হয় কোডেক্স। এর মধ্যে বিখ্যাততম জীবিত মায়া কোডেক্স হল প্যারিস কোডেক্স, মাড্রিড কোডেক্স এবং ড্রেসডেন কোডেক্স। ড্রেসডেন কোডেক্স সাধারণভাবে পোপোল ভুহ নামে পরিচিত। এই কোডেক্স মায়ান ভাষা খুইচ্যে এবং স্প্যানিশ লিপিতে লেখা হয়েছিল। সম্ভবতঃ ১৫৫৪ থেকে ১৫৫৮ খৃষ্টাব্দে এই মহামূল্যবান কোডেক্স তৈরি করা হয়েছিল জাগুয়ারের চামড়ার ওপরে। এতে সব মায়া সম্রাটের বংশলতিকার তালিকাও ছিল। জনৈক গুয়াটেমালান স্প্যানিশজাত ক্যাথলিক পুরোহিত ফ্রান্সিস্কো জিমেয়নেজ আবিষ্কার করেন ১৭৮৭ খৃষ্টাব্দে।

মায়া দেবতা[সম্পাদনা]

মায়ারা হিন্দুদের মতই বহু দেবতায় বিশ্বাস রাখত। তবে তার মধ্যে সামান্য কিছু দেবতা অন্যান্য দেবতার চেয়ে বেশী গুরুত্ব, সম্মান ও মর্যাদা পেতেন মায়া জনসাধারণের কাছে। এরা যেমন শক্তিশালী ছিলেন তেমনই ছিলেন রাগী।

ইটজাম্না ঃ মায়াদের কাছে সম্ভবতঃ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেবতা ছিলেন এই ইটজাম্না। মায়াদের কাছে ইনিই ছিলেন সৃষ্টির দেবতা। অনেকটা ইনকাদের ভিরাকোচার মতই। মায়া পুরাণ অনুসারে তিনিই এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা। তিনিই নাকি দিন এবং রাত্রির সৃষ্টি করেছেন। মায়ারা বিশ্বাস করত যে তিনি স্বর্গের দেবতা। তারা এটাও বিশ্বাস কোর্ট যে, এই ইটজাম্নাই তাদে লিখতে ও দিনপঞ্জী তৈরি করতে শিখিয়েছেন। মায়ান ভাষায় ইটজাম্না শব্দের অর্থ টিকটিকির বাড়ি। চিচেন ইটজার পিরামিড এই দেবতার সম্মানে গঠিত হয়েছিল।

কুকুল্কান ঃ হিন্দুধর্মে যেমন মা মনসা সর্পদেবী; সেরূপই মায়াদের কাছে সর্পদেবতা হলেন কুকুল্কান। মায়া ভাষায় এর অর্থ পালক দ্বারা আবৃত সাপ। তবে প্রাক ধ্রুপদী যুগে এই দেবতার মর্যাদা তুলনায় কম ছিল। তিনি শক্তিশালী হয়ে ওঠেন কেবল যখন মায়ারা ধ্রুপদী যুগে মেক্সিকো শাসন করতে থাকে। বিভিন্ন মায়া দেওয়ালচিত্রে, এবং ভাস্কর্যে কুকুল্কানের চেহারা অবিকল চৈনিক ড্রাগনের মতন। প্রায় সব মায়া মন্দিরেই এর নামে পিরামিড গড়া হয়েছে।

বোলোন টজাখাব ঃ মায়াদের কাছে এই দেবতা অনেক ক্ষেত্রেই হুরাখান নামে পরিচিত। অনেকেই মনে করেন এর নাম থেকেই স্প্যানিশ বিকৃত উচ্চারণে তা হ্যারিকেনে পরিণত হয়েছে। কেননা ইনি ছিলেন একত্রে ঝড়ের, বজ্রপাতের এবং আগুনের দেবতা। তবে ইউকাটায়েন উপকূলে হ্যারিকেনের উৎপাত সবচেয়ে বেশী এবং এই দেবতার পুজাও তাই ঐ অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশী করা হত। মায়া ভাষায় হুরাকান বা বোলোন ট জাখাব শব্দের অর্থ একপদবিশিষ্ট দেবতা। মায়া পুরাণ অনুসারে যখন এই দেবতা ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন তখনই নাকি তিনি বন্যা পাঠিয়ে মানুষকে উচিত শিক্ষা দেন।

চায়াখ ঃ হুরাখানের মতই তিনিও বজ্রপাতের দেবতা। সাথে তিনি বৃষ্টির দেবতা এমন ধারণা ছিল মায়া কৃষকদের মধ্যে। তাই কৃষকরা ভাল বৃষ্টির জন্য তার কাছেই প্রার্থনা করতেন। তিনি নাকি প্রথমে মেঘ তৈরি করেন, তারপর বজ্রপাত উৎপন্ন করেন; শেষে বৃষ্টি নামান। এই রকমই ছিল প্রচলিত মায়া বিশ্বাস।

ঐশ্বরিক সম্রাট[সম্পাদনা]

মায়া বিশ্বাস অনুসারে সম্রাট ছিলেন ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী। তিনি নাকি মানুষ ও দেবতার মধ্যে মধ্যস্থতা করেন, এরকমই মায়ারা ভাবত। এই কারণেই রাজার যে কোনও আদেশকেই তারা ঈশ্বরের আদেশ হিসাবে মান্য করত। এমনকি তারা এটাও ভাবত যে, রাজা হলেন ইটজাম্নার পুত্র। অর্থাৎ দেব পুত্র।

পুরোহিত[সম্পাদনা]

ধর্মের দিক দিয়ে দেখলে মায়া সাম্রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ হলেন এই পুরোহিত বা ংধপবৎফড়ঃব। এরা এমনকি মায়া আহাওয়ের চেয়ে বেশী শক্তিশালী ছিল। তারা চাইলে রাজাদেশ নাও মানতে পারত; কিন্তু তাদের আদেশ মানতে বাধ্য থাকত। এতটাই শক্তিশালী ছিল এই পুরোহিতকূল। তারা বিভিন্ন রকমের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করত যাতে দেবতারা মানুষের ওপরে ক্রুদ্ধ না হন। বিখ্যাত স্প্যানিশ বই দ্য বুক অফ জাগুয়ার প্রিস্ট থেকে জানা যায় যে, তাদের ওপরে কতরকমের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। নীচে সেইসব দায়িত্ব পালনের তালিকা দেওয়া হল।

  1. ঈশ্বরকে তুষ্ট রাখা।
  2. যথার্থ ভবিষ্যৎবাণী করার ক্ষমতা।
  3. অলৌকিক বা ব্যাখ্যাতীত কার্যকলাপের অনুষ্ঠান করা।
  4. সূর্যগ্রহণের এবং চন্দ্রগ্রহণের তালিকা প্রস্তুত করা
  5. ভূমিকমপ, খরা, দুর্ভিক্ষ, প্লেগ এইসব প্রাকৃতিক বিপর্যয় আটকানো।
  6. যাতে সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত হয় সে জন্য চায়াখ দেবতাকে তুষ্ট করা।

পুরোহিতকূল যদি কোনও কারণে এর কোনও একটা কাজ ঠিকমতন করতে না পারতেন; তবে চাকরিটা খোয়াতে হত।

মৃত্যু পরবর্তী জীবন[সম্পাদনা]

মিশরীয় বা অ্যাজটেক, ইনকাদের মতই মায়ারাও তীব্রভাবে মৃত্যু পরবর্তী জীবন আছে বলে বিশ্বাস করত। তারা ভাবত যেহেতু বেশীর মানুষ পাপী তাই তাদের নরকে যেতে হয় যেখানে দুষ্ট দেবতা তাদের গিলে খেয়ে ফেলার জন্য তৈরি থাকেন। তাদের বিশ্বাস অনুসারে কেবলমাত্র যে মহিলা শিশুর জন্ম দেওয়ার পরেই মারা গিয়েছেন এবং যাকে নরবলি দেওয়া হয়েছে তারাই কেবল স্বর্গে যেতে পারবেন।

পিরামিড[সম্পাদনা]

সব পিরামিডই ছিল দেবতার প্রতি উৎসর্গিত। অধিকাংশ পিরামিড ছিল হয় কুকুল্কান নয় ইটজাম্নার প্রতি সমর্পিত। এইসব পিরামিডে সিঁড়ি বেয়ে কেবল উঠত পুরোহিতকূল। তারা বছরে কেবল পাঁচদিন বাদে বাকি সব দিনেই পিরামিডের চুড়ায় উঠত। সেখানে তারা নরবলি এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করত। সাধারণ মানুষের সাথে এমনকি রাজারও সেখানে যাওয়া বারণ ছিল। কেবল যেসব দিন শুভ ছিল সেসব দিনে রাজা এবং অভিজাতরা পিরামিডে উঠতেন। সাধারণ মানুষের জন্য বছরে মাত্র একদিনই পিরামিডে ওঠার সৌভাগ্য হত। সেটা হল রাজার জন্মদিন উপলক্ষ্যে!

মায়া ধর্ম ও পুরাণ সমপর্কে কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য[সম্পাদনা]

  1. মায়ারা বিশ্বাস করত যে আধুনিক সাল অনুযায়ী ৩১১৪ খৃষ্টপূর্বাব্দে তাদের উৎপত্তি হয়েছে। তাদের দিনপঞ্জীতে এটা একটা বিচিত্র পন্থায় চিহ্নিত করা হয়েছে।
  2. খুইচ্যে ভাষাগোষ্ঠীর ইন্ডিয়ানরা, যারা গুয়াটেমালার সব চেয়ে বড় জাতি তারা আদতে মায়াদের উত্তরপুরুষ। এদের তরফ থেকে বেশ কিছু দিক থেকে আজও মায়া ধর্ম পালন করা হয় ও দেবতার পূজা করা হয়।
  3. এক মায়া অনুসারে ভুট্টা নাকি ভগবানের সৃষ্টি নয়, মানুষই নাকি ভুট্টার জন্ম দিয়েছে।
  4. মায়া পুরাণ অনুসারে দুই মায়া দেবতা নরকের দেবতার সাথে যুদ্ধ করে পরাজিত করে তাদের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে মানুষকে স্বর্গে নিয়ে যায়। এই যমজ দেবতার নাম যথাক্রমে হুনাহপু এবং এক্সবালাংখুয়ে।

যমজ দেবতা হুনাহপু এবং এক্সবালেংখুয়ের কাহিনী[সম্পাদনা]

এই যমজ দেবতার কাহিনী মায়া পুরাণের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায় বলে মনে করা হয়। এই কাহিনী যে কটা অদ্যাবধি জীবিত মায়া পুরাণ টিকে আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত। এই কাহিনী বিখ্যাত পোপোল ভুহ গ্রন্থে লিখিত হয়েছে খুইচ্যে ভাষায়; স্প্যানিশ লিপিতে। এখানে গল্পের সংক্ষিপ্তসার দেওয়া হল।

বাবা ও কাকা[সম্পাদনা]

এই যমজ দেবতার কাহিনী শুরু হয়েছে যমজ বাচ্চা ছেলের কাহিনী দিয়ে। তাদের নাম ছিল এক হুনাহপু এবং সাত হুনাহপু দিয়ে। এই হুনাহপুদ্বয় বিখ্যাত মায়া বল গেম [ভলিবলের মতন খেলা] খেলতে ভাল বাসত। তারা খুব প্রতিভাবান ছিল, সবসময়েই এই খেলায় তারাই জিতত। জিতলে কী হয়, তারা খেলবার সময়ে বড্ড জোরে জোরে চিৎকার করত। তাদের ক্রমাগত চিৎকার শুনে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল তথাকথিত মায়া নরক দেবতা এক্সিবালবার। তিনি এইরকম চীৎকারে প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে নরকের দুটি দূত পাঠিয়ে যমজ দেবতাকে সমন দিলেন। এই এক্সিবালবা অত্যন্ত বদরাগী এবং নিষ্ঠুর চরিত্রের দেবতা ছিলেন। মায়ারা সচরাচর এর নাম মুখে আনতে চাইত না। কেননা মায়াদের বিশ্বাস ছিল কেউ যদি ভুল করেও এর নাম মুখে আনে তবে তার আয়ু দ্রুতই ফুরিয়ে যাবে।

সে যাই হোক, যমজ দেবতা তো সমন পেয়ে দ্রুত নরকে এসে হাজির হল। তখন নরক দেবতা তাদের বেশ কয়েকটা কঠিন পরীক্ষার সামনে ফেললেন। প্রথমে তাদের বলা হল যে তারা যেন যেভাবেই হোক কাঁটার সেতু পেরোয়। এই সেতুর তলা দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল রক্তের নদী। তারা সেই পরীক্ষায় সফল হয়ে নরকের দেবতার কাছে পৌঁছালেন। সেখানে নরক দেবতা একটা কাঠের ছড়ি কাঁধে ঠেকিয়ে অভিবাদন করলেন। তারপর জিজ্ঞাসা করলেন যে দেবতাদ্বয় কি তাদের চিনতে পারেন। দেবতাদ্বয় তাকে চিনতেন না। ফলে এই পরীক্ষায় তারা অসফল হলেন। তখন এক্সিবালবা তাদের শয়তানি করে একটা নিরীহ কাঠের বেঞ্চিতে বসতে বললেন। দুই ভাই তার চক্রান্ত ধরতে না পেরে সরল বিশ্বাসে সেই বেঞ্চিতে বসলেন। সঙ্গে সঙ্গে তারা বিস্ময়ের সাথে দেখলেন সে বেঞ্চিতে আগুন ধরে গেল। তারা আগুনে বেঞ্চি থেকে বেরুতে না পেরে পুড়ে মারা গেলেন।

হুনাহপু ও এক্সবালাংখুয়ে জন্মালেন[সম্পাদনা]

এক হুনাহপু এবং সাত হুনাহপু তো মারা গেলেন। তারপর কি হল? পুরাণ অনুসারে এক হুনাহপুর একটি সন্তান জীবিত ছিল। তিনি ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মায়া দেবী। যথাসময়ে তার দুটি সন্তানের জন্ম হল। এই যমজ সন্তানের নাম হল এক্সবালাংখুয়ে ও হুনাহপু। তারা তার বাবা ও কাকার মতই ভাল বল খেলোয়াড় ছিলেন। কিন্তু তাদের তুলনায় বেশী বুদ্ধিমান ও শক্তিমান ছিলেন। তারাও বাবা-কাকার মতই খেলবার সময়ে প্রচন্ড জোরে জোরে চিৎকার করতেন। তাদের একটানা জোরে জোরে চিৎকার শুনে অত্যন্ত বিরক্ত হলেন নরকদেব এক্সিবালবা। আগের বারের মতই এবারেও তিনি দুটি দূত পাঠালেন সমন পাঠিয়ে যে, তারা যেন এক্সিবালবার সাথে দেখা করে। এবং সেখানে এসে খেলে এক্সিবালবাকে হারিয়ে দেয়।

যমজ দেবতার নরকে অভিযান[সম্পাদনা]

অতঃপর দুই ভাই নরকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করল। তারা মার কাছ থেকে আগেই জেনে মিয়েছিল যে, তারা বাবা ও কাকা কি কি ভূল করেছিল। সেই মতন জেনে তারা নরকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল তারা নরকের দেবতার পাতা ফাঁদে পা দিল না। এক্সিবালবা যতগুলি পরীক্ষায় বসতে দিল ততগুলিই পরীক্ষায় তারা সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হল।

তখন ক্ষিপ্ত এক্সিবালবা প্রতারণার আশ্রয় নিল। তিনি একজন মশার রূপ নিয়ে কামড়ালেন দুই ভাইকে। কিন্তু কিছুই হল না। তারা মশা মারার জন্য খন্তির মতন একরকম কাঠের টুকরো নিয়ে সে মশাকে তাড়া করতেই মশা জীবন বাঁচাবার জন্য পালাতে বাধ্য হল। তারপর এক্সিবালবা তাদের কাঠের বেঞ্চিতে বসতে আদেশ দিলে তারা সুকৌশলে সে আদেশ অমান্য করল। হুনাহপু এবং এক্সিবালেংখুয়ে নরকদেবকে বলল তারা খেলতে এসছে, বসতে আসে নি। নরক দেবতা কি ওদের সাথে হেরে যাবার ভয়েই খেলতে চাইছেন না? তাই কি এমন করে সময় নষ্ট করছেন?

এক্সিবালবা বনাম এক্সিবালেংখুয়ে আর হুনাহপু[সম্পাদনা]

এক্সিবালবা বলাই বাহুল্য দুই ভাইয়ের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা শুনে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল। তার ধারণা হল যে, নরকে অবস্থিত সব নরকের দূতদের সামনে এমন কথা বলে দুই ভাই তাকে অপমান করছে। সে রেগে গিয়ে দুই ভাইকে বলল না, তিনি ভয় পান নি। এবার খেলতে বসা যাক। এক্সিবালেংখুয়ে আর হুনাহপু এমন কথা শুনে হাসল। এটাই তো তারা চেয়েছিল।

এক্সিবালবা জানত সঠিক ভাবে খেললে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে তিনি জিততে পারবেন না। কারণ তার বয়স হয়েছে; ওদিকে দুই ভাইয়ের বয়স কম, ক্ষিপ্রতা বেশী তাই ওদের জেতার সম্ভাবনা বেশী। তাই তিনি কাঁটাওয়ালা বলের সাহায্যে খেলা শুরু করলেন। তার দুই হাত ছিল মোটা কাপড়ে মোড়া। ফলে তার হাত কাটবার ভয় ছিল না। কিন্তু দুই ভাইয়ের তো তা ছিল না। তারা রেগে গেল এক্সিবালবার ওপরে এমন অন্যায় খেলার অপচেষ্টার কারণে। তারা পরিষ্কার বলল তারা এক্সিবালবা ন্যায্যভাবে না খেললে খেলতেই রাজি নয়। তখন বাধ্য হয়ে ভাল ও কাঁটা মুক্ত বলের সাহায্যে খেলতে শুরু করল।

দুই ভাইয়ের এটা ভালই জানা ছিল যে, তারা জিতলে নরক থেকে জীবন্ত বেঁচে ফিরবে না। তাই চালাকি করে তারা হারবার জন্য খেলতে শুরু করল। তাতে ফল হল। এক্সিবালবা সহজেই জিতলেন। তারপর বরফের খেলা আগুনের ওপরে ঝাঁপ দেবার খেলা শুরু করলেন। প্রতিবারই ইচ্ছা করে হারলেন দুই ভাই।

দুই ভাইয়ের মৃত্যু হল[সম্পাদনা]

অবশেষে দুই ভাইয়ের সাথে নরকদেবের শেষ খেলায় সত্যকারের খেলা শুরু হল। প্রত্যেকটা ম্যাচে হারতে আর ভাল লাগছিল না দুই ভাইয়ের। আর তাই তারা শেষ ম্যাচে সত্য সত্যই জিতলেন। তাতেই এক্সিবালবা বুঝলেন, দুই ভাই তার সাথে প্রতারণা করেছেন। তারা সব ম্যাচেই যে ইচ্ছাকৃত ভাবে হেরেছেন তাও বুঝতে পারলেন। তাতে ক্রুদ্ধ হয়ে দুই ভাইকে এক বিশাল চুল্লিতে ঝাঁপ দিতে বললেন। দুই ভাই তাতে ঝাঁপ দিতে সম্মত হলেন। তাতে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হল। তারপর নরকদেব তাদের ছাইকে রক্তের নদীতে ফেলে দিলেন। তিনি জানতেন না যে, এটাই ছিল দুই ভাইয়ের গোপন খেলা। দুই ভাইয়ের জানা ছিল যে, ঐ নদীতে তাদের ছাই ফেললেই তারা আবার বেঁচে উঠবেন। তবে মনুষ্যরূপে নয়, কাটলফিশ মাছের রূপে। সেই জন্যই তারা ঝাঁপ দিতে রাজি হয়েছিলেন। এর জন্য একটা গোপন মন্ত্র বলতে হত। ঝাঁপ দেবার পূর্বে দুই ভাই মনে মনে এই মন্ত্র বলে নিয়েছিলেন। ফলে কাটলফিশের রূপে জীবন নিয়ে ফিরতে অসুবিধা হল না।

তাদের এমন চমকপ্রদ যাদু দেখে এক্সিবালবা চমকে গেলেন। তিনি দুই ভাইকে কাটলফিশের রুপ থেকে মনুষ্য রূপে ফিরিয়ে আনলেন। তারপর জীবিত অবস্থায় ফিরে আসবার গোপন রহস্য কি তা জানতে চাইলেন। দুই ভাই তাকে জানাল কীভাবে তারা এই ব্যাপারটা সম্ভব করেছে। শুধু জানাল না যা, তা হল আসল মন্ত্রের পংক্তিটা। তারা একটা মন্ত্র মিথ্যা মিথ্যা বানিয়ে বলল যে এই মন্ত্র বলে ঝাঁপ দিলেই হবে। তারা যেভাবে বেঁচে ফিরেছে, নরকের রাজাও সেভাবেই ফিরে আসবেন। নির্বোধ এক্সিবালবা সে কথা বিশ্বাস করে ঐ বিশাল চুল্লিতে ঝাঁপ দিলেন। এর ফলে তিনি মারা গেলেন। তার ছাইকে মাটিতে পুঁতে দিলেন। এর ফলে এক্সিবালবার ফিরে আসবার কোনও সম্ভাবনা রইল না। এই ভাবে এক্সিবালেংখুয়ে আর হুনাহপু জিতে গেলেন!

এক্সিবালেংখুয়ে আর হুনাহপু সমপর্কে কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য[সম্পাদনা]

  1. অন্যান্য মেসো আমেরিকান সভ্যতাতেও অনেকটা এই যমজ নায়কের সমতুল্য কাহিনী পাওয়া যায়।
  2. মায়ারা বিশ্বাস করত যে, এক্সিবালেংখুয়ে এবং হুনাহপু ছিলেন যথাক্রমে পৃথিবীর শাসক এবং আকাশের দেবতা। পরে দুজন যথাক্রমে চন্দ্রদেব এবং সূর্যদেবে রূপান্তরিত হন।
  3. পুরাণ অনুযায়ী দুই ভাই পরে তার বাবা ও কাকাকে নরক থেকে জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন।
  4. মায়ারা বিশ্বাস করত যে, মায়া সম্রাট আসলে হয় এক্সিবালেংখুয়ে নয় হুনাহপু দেবের পুত্র। এই কারণেই মায়ারা আহাওকে এত মান্য করত।
  5. মায়াদের বহু সাহিত্যে এই দুই ভাইয়ের সমপর্কে অনেক ছড়া আছে। এবং অনেক পিরামিডে দুজনের অনেক চিত্র অঙ্কিত আছে।

ভবিষ্যৎবাণী[সম্পাদনা]

মায়া ধর্মের অন্যতম অঙ্গ ছিল এই দিনপঞ্জী তৈরি করা এবং যত্ন করে রাখা। তাদের দিনপঞ্জী ছিল অবিশ্বাস্য রকমের নিখুঁত। তারা এমন কিছু দিনপঞ্জী তৈরি করেছিল যা ৫৪ কোটি বছরের অসাধারণ ত্রুটিহীন হিসাব রাখতে সক্ষম হয়েছে। তাদের সবচেয়ে বিখ্যাত ভবিষ্যৎবাণীর কথা তোমরা নিশ্চয়ই জান। হ্যাঁ ২০১২ এর ২১শে ডিসেম্বরে পৃথিবী ধ্বংস হবার কথা বলা হচ্ছে। বাস্তবে এটা মায়া ভাষা পড়তে না পারার মাসুল। তারা আদপেই পৃথিবী ধ্বংসের কথা বলে নি। তারা বলেছিল যে, এর পর পৃথিবীতে নতুন যুগ শুরু হবে। সেটাকেই ধরে নেওয়া হয়েছিল দুনিয়া ধ্বংসের ভবিষ্যৎবাণী! তারা প্রত্যেক পৃথিবী হতে দ্রষ্টব্য তারার আবর্তন, আগত দিনক্ষণ এর হিসাব অতি নিখুঁত ভাবেই করেছিল। তারা মনে করত যে, বছরের বেশ কিছু দিন তাদের কাছে পয়া এবং বছরের পাঁচ দিন অপয়া (এই পাঁচদিন + বাকি ৩৬০ দিন = ৩৬৫ দিন)। যে পাঁচদিন অপয়া ছিল সেদিন কোনও শুভকাজ তারা করত না, উপবাসে থাকত, কাজে বেরত না। কেবল বিছানায় শুয়ে দিনটা পার করে দেওয়ার চেষ্টা করত। আর যেসব দিন অত্যন্ত শুভ ছিল, সেসব দিনেই তারা ধর্মীয় উৎসব পালন করত।

কৃষি[সম্পাদনা]

প্রাচীন মায়ার বিবিধ এবং খাবার উৎপাদনের সফিস্টিকেট পদ্ধতি ছিল। এইটি ইতিপূর্বে বিশ্বাস করা হয়েছিল যে চাষ পরিবর্তন করে (সুইডেনরা) কৃষক তাদের খাবারের সর্বাপেক্ষা জোগান দিয়েছিল কিন্তু এইটি এখন চিন্তা করা হয় যে স্থায়ী জমি উত্তোলন করা হয়েছিল, গৃহের ছাদ, বন বাগান, অনাবাদী (জমি) পরিচালনা করার জন্য এবং কিছু এলাকাতে বন্য শস্য কাটাতে প্রাচীন কালে অনেক জনসংখ্যা সমর্থন করছে তাদের খাদ্যের চাহিদা পূর্ণের জন্য। বাস্তবিকপক্ষে, এই আলাদা কৃষিবিষয়ক পদ্ধতির প্রমাণ আজও টিকে আছেঃ জমি উত্তোলন সংযোগ ছিল খালগুলো দ্বারা যা আকশীক ছবিতে মধ্যে দেখা গিয়েছিল, সমকালীন মৌসমীয় অঞ্চল প্রজাতির গ্রন্থে প্রাচীন মায়ার উচ্চতর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক মূল্যয়ন রয়েছে, এবং হ্রদের পলিগুলোতে পরাগ রেকর্ড ইঙ্গিত করে যে মেসোআমেরিকাতে বন ধ্বংস করে ভুট্টা, সূর্যমুখী বীজ, তুলা এবং অন্যান্য ফসল চাষ করা হয়েছে, অন্তত ২৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে।

মায়ান স্থানসমূহ[সম্পাদনা]

এখানে গুরুত্বপূর্ণ মায়া স্থানের শতশত জায়গা আছে এবং ছোট এক হাজার জায়গা আছে। বৃহত্তম এবং সর্বাপেক্ষা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্ভুক্ত করে:

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Painted Metaphors:Pottery and Politics of the Ancient Maya"University of Pennsylvania Almanac। University of Pennsylvania। 4/7/2009। সংগৃহীত 2009-06-17 
  2. Coe, Michael D. (1999)। The Maya (6th সংস্করণ)। New York: Dante Reed। পৃ: 31। আইএসবিএন 0-500-28066-5 
  3. "Radiocarbon chronology for early Maya occupation at Cuello, Belize"। Nature.com। 1976-04-15। সংগৃহীত 2010-08-01 
  4. "Maya Archaeological Sites of Belize, Belize History"। Ambergriscaye.com। সংগৃহীত 2010-08-01 
  5. See, for example, Drew (2004), p.6.
  6. Coe, Michael D. (2002)। The Maya (6th সংস্করণ)। Thames & Hudson। পৃ: 47। আইএসবিএন 0-500-05061-9 
  7. Coe, Michael D. (2002)। The Maya (6th সংস্করণ)। Thames & Hudson। পৃ: 63–64। আইএসবিএন 0-500-05061-9 
  8. Robert Port। "History Of Writing And Religion"। Cs.indiana.edu। সংগৃহীত 2010-08-01 
  9. ৯.০ ৯.১ Acemoglu,Robinson, Daron, James A. (2012)। Why Nations Fail। পৃ: 143–149। আইএসবিএন 978-0-397-71921-8 |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) 
  10. Coe, Michael D. (2002)। The Maya (6th সংস্করণ)। Thames & Hudson। পৃ: 81। আইএসবিএন 0-500-05061-9 
  11. Sharer & Traxler 2006, p.1.
  12. ১২.০ ১২.১ Olmedo Vera 1997, p.36.
  13. Sharer & Traxler 2006, p.554.
  14. Carmack, Robert M. А. Historical টেমপ্লেট:Sic Perspective on the Maya Civilization. Social Evolution & History. Volume 2, Number 1 / March 2003. pp.71–115 [১]
  15. "Maya Art Return"। সংগৃহীত 2006-12-25 
  16. See Coggins (1992).
  17. Coe, Michael D. (2002)। The Maya (6th সংস্করণ)। New York: Thames & Hudson। পৃ: 151–155। আইএসবিএন 0-500-28066-5 
  18. "University of Florida study: Maya politics likely played role in ancient large-game decline, Nov. 2007"। News.ufl.edu। 2007-11-08। সংগৃহীত 2010-08-01 
  19. Gill, R. (2000)। The Great Maya Droughts। Albuquerque: University of New Mexico Press। আইএসবিএন 0-8263- 2194-1 
  20. Hodell, David A.; Curtis, Jason H.; Brenner, Mark (1995)। "Possible role of climate in the collapse of Classic Maya civilization"। Nature 375 (6530): 391–394। ডিওআই:10.1038/375391a0  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  21. "Classic Maya Civilization Collapse Related to Modest Rainfall Reductions, Research Suggests"Science Daily। 2012-02- 23। সংগৃহীত 2012-02-25  See full Science article citation at the end of the article.
  22. "Mild drought caused Maya collapse in Mexico, Guatemala"BBC News। 2012-02-25। সংগৃহীত 2012-02-25 
  23. http://www.sciencemag.org/content/338/6108/788.full
  24. Love 2007, p.305. Sharer 2006, pp.621, 625.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]