বাস্তুতন্ত্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বাস্তুতন্ত্র হচ্ছে জৈব, অজৈব পদার্থ ও বিভিন্ন জীবসমন্বিত এমন প্রাকৃতিক একক যেখানে বিভিন্ন জীবসমষ্টি পরস্পরের সাথে এবং তাদের পারিপার্শ্বিক জৈব ও অজৈব উপাদানের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে একটি জীবনধারা গড়ে তোলে।

বাস্তুতন্ত্রের উপাদানসমূহ[সম্পাদনা]

প্রত্যেক বাস্তুতন্ত্রে মূলত দুটি উপাদান রয়েছে, যথা-

  • অজীব উপাদান এবং
  • সজীব উপাদান

অজীব উপাদান[সম্পাদনা]

অজীব উপাদানের মধ্যে পরিবেশের মৌলিক অজৈব, জৈব ও ভৌত উপাদান অন্তর্ভুক্ত।

  1. জলবায়ু : এতে আলো, তাপ, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত।
  2. ভূ-প্রকৃতি : এতে নির্দিষ্ট অঞ্চলের অক্ষাংশ, পর্বতমালা ও উপত্যকার দিক, ঢাল বা খাড়া অবস্থা প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত।
  3. মাটি সম্পর্কিত উপাদান : এতে নির্দিষ্ট জায়গার মাটির গঠন, এর ভৌত ও রাসায়নিক গুণাগুণ এবং এ সম্পর্কিত বিস্তারিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত।

সজীব উপাদান[সম্পাদনা]

এতে নির্দিষ্ট বাস্তুতন্ত্রে উপস্থিত যাবতীয় সজীব বস্তু, যেমন-প্রাণী, উদ্ভিদ, অণুজীব প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত। সজীব উপাদান তিন রকম, যথা-

  1. উৎপাদক
  2. খাদক এবং
  3. বিয়োজক

উৎপাদক[সম্পাদনা]

এগুলো বাস্তুতন্ত্রের স্বভোজী জীব অর্থাৎ সবুজ গাছপালা যারা সৌরশক্তিকে সংবন্ধন ও সরল অজৈব পদার্থের সমন্বয়ে খাদ্যরূপে জটিল জৈব যৌগ সংশ্লেষ করে। ক্ষুদ্র ও আণুবীক্ষণিক ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন, শৈবাল ইত্যাদি থেকে শুরু করে পানিতে ভাসমান উদ্ভিদ ও ছোট-বড় স্থলজ উদ্ভিদ সবই উৎপাদক।

খাদক[সম্পাদনা]

বাস্তুতন্ত্রে যে সব উপাদান উৎপাদকের তৈরি খাদ্য উপাদানের উপর নির্ভরশীল, সেসব জীবকে খাদক বলে। এগুলো বাস্তুতন্ত্রের প্রাণী সদস্য বা ম্যাক্রোখাদক নামেও পরিচিত। একটি বাস্তুতন্ত্রে তিন ধরণের খাদক পাওয়া যায়।

  1. প্রাইমারী খাদক
  2. সেকেন্ডারী খাদক
  3. তৃতীয় বা টারসিয়ারী খাদক

বিয়োজক[সম্পাদনা]

যে সজীব উপাদান কোনো বাস্তুতন্ত্রে মৃত জীবের কলাভুক্ত জটিল জৈব যৌগগুলোকে বিশ্লিষ্ট বা বিয়োজিত করে তা থেকে কিছু অংশ নিজেরা শোষণ করে এবং বাকি অংশের জটিল যৌগগুলোকে ভেঙে সরল জৈব যৌগে পরিণত করে পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়, তাকে বিয়োজক বলে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • গাজী আজমল ও গাজী আসমত, উচ্চ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র : প্রাণী বিজ্ঞান