হ্যারি লি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
হ্যারি লি
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামহেনরি উইলিয়াম লি
জন্ম(১৮৯০-১০-২৬)২৬ অক্টোবর ১৮৯০
লন্ডন, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২১ এপ্রিল ১৯৮১(1981-04-21) (বয়স ৯০)
লন্ডন, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক, স্লো-মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার, আম্পায়ার, কোচ
সম্পর্কফ্রাঙ্ক লি, জ্যাক লি (ভ্রাতা)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ২৫৮)
১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৩১ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯১১ - ১৯৩৪মিডলসেক্স
১৯০৯ - ১৯৩৪মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)
আম্পায়ারিং তথ্য
এফসি আম্পায়ার১৫৩ (১৯৩৫)
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪৩৭
রানের সংখ্যা ১৯ ২০,১৫৮
ব্যাটিং গড় ৯.৫০ ২৯.৯৫
১০০/৫০ ০/০ ৩৮/৮১
সর্বোচ্চ রান ১৮ ২৪৩*
বল করেছে ২৬,৬৬০
উইকেট ৪০১
বোলিং গড় ৩০.৬১
ইনিংসে ৫ উইকেট ১২
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং –/– ৮/৩৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ০/– ১৮০/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

হেনরি উইলিয়াম হ্যারি লি (ইংরেজি: Harry Lee; জন্ম: ২৬ অক্টোবর, ১৮৯০ - মৃত্যু: ২১ এপ্রিল, ১৯৮১) লন্ডনের মেরিলেবোন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও কোচ ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩০-এর দশকের সূচনালগ্নে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স ও ভারতীয় ক্রিকেটে কোচবিহারের মহারাজা একাদশ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ ব্রেক কিংবা স্লো মিডিয়াম বোলিং করতেন হ্যারি লি

১৯১১ সাল থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত হ্যারি লি’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। তেরো মৌসুমে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। ১৯২০ ও ১৯২১ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। সম্পূর্ণ খেলোয়াড়ী জীবনে ২০,১৫৮ রান ও ৪০১ উইকেট পেয়েছেন।

জনৈক সব্জীবিক্রেতার সন্তান ছিলেন তিনি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর পূর্বেকার মৌসুমে মিডলসেক্সের পক্ষে খেলার জন্যে তাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। এমনকি, যুদ্ধের শুরুরদিকে দলের খেলোয়াড়েরা যুদ্ধে যোগ দিতে থাকলে খেলার সুযোগ নিয়েছিলেন। সেপ্টেম্বর, ১৯১৪ সালে সেনাবাহিনীতে তালিকাভূক্ত হন ও ডিসেম্বর, ১৯১৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। তাকে মৃত ঘোষণা করা হয় ও যুদ্ধবন্দী হিসেবে থাকার কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল। ১৯১৯ সালে মিডলসেক্সের পক্ষে খেলার জগতে ফিরে আসেন। তিন মৌসুম দলের অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। দুইবার শীর্ষ চারে ব্যাটিংয়ে নেমে দুইবার জ্যাক হার্নের সাথে সেঞ্চুরি করেন। ১৯২০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে কম সফল ছিলেন। ঐ দশকের শেষদিকে আবারও বেশ রান তুলতে থাকেন। ১৯৩১ সালে নিজস্ব একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ইংল্যান্ড দলের খসড়া তালিকায় ছিলেন। কিন্তু আঘাত ও অসুস্থতার কারণে শূন্যতা পূরণে তাকে দলে নেয়া হয়। ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে থাকেন। তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে ৪৪ বছর বয়সে মিডলসেক্স কর্তৃপক্ষ তাকে অব্যহতি দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর পূর্ব পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিলেন। এ পর্যায়ে ১৫৩ খেলা পরিচালনা করেছিলেন তিনি।

হার্ন ও প্যাটসি হেনড্রেনের আকর্ষণীয়, দ্রুতগতিতে রান সংগ্রহের তৎপরতায় হ্যারি লি’র সাফল্য ঢাকা পড়ে যায়। তার দুই কনিষ্ঠ ভ্রাতাও প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। জ্যাক লি ও ফ্রাঙ্ক লি মিডলসেক্স দলে স্থান না পেয়ে সমারসেটে চলে যান। ১৯৩১ সালে তিন ভ্রাতাই সেঞ্চুরি করেন। এ কৃতিত্বটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে পেশাদারীভাবে তিন ভাইয়ের প্রথম ঘটনা ছিল। দুই বছর পর তিন ভাইই একটি আউটের সাথে জড়িত হন। কাউন্টি খেলায় জ্যাকের বলে ফ্রাঙ্কের কটে হ্যারি বিদেয় নিয়েছিলেন। ১৯৮১ সালে মৃত্যুকালীন হ্যারি লি দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

২৬ অক্টোবর, ১৮৯০ তারিখে লন্ডনের মেরিলেবোন এলাকায় হ্যারি লি’র জন্ম।[১] তিন ভাইয়ের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন। তাদের সকলেই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। তার পিতা সব্জীবিক্রেতা ছিলেন ও কয়লা ব্যবসায়ী হিসেবে লন্ডনের সান্ধ্যকালীন সংবাদপত্রগুলোয় ক্রিকেট সম্পর্কীয় প্রতিবেদনগুলো গভীরভাবে পাঠ করতেন।[২] যুবক অবস্থায় ল্যাম্প পোস্টের খুঁটিকে ঘিরে ক্রিকেট খেলতেন। নিজ আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেন যে, যদি কোন বোলার ব্যাটসম্যানকে দশবারের মধ্যে নয়বার ল্যাম্প পোস্টে বল লাগাতো, তাহলেও তিনি পূর্ণাঙ্গ উইকেট লাভের অধিকারী হতেন না।[২] বিদ্যালয় জীবনে তার ক্রিকেটীয় প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটে। প্রথম বারেট স্ট্রিট স্কুল ও পরবর্তীতে পোর্টম্যান স্কয়ারের সেন্ট টমাস স্কুলে অধ্যয়ন করেন। উভয় বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষকই ক্রীড়াপ্রেমী ছিলেন। তন্মধ্যে, সেন্ট টমাসের প্রধানশিক্ষক মি. ডেসপিশট ঘোষণা করেন যে, কোন ছাত্র যদি তাকে আউট করতে পারে তাহলে তিনি তাকে এক পেনি পুরস্কার প্রদান করবেন। নিয়মিতভাবে হ্যারি লি এ কৃতিত্বের দাবীদার হতেন। ডেসপিশট তাকে চমৎকারভাবে নিশানা বরাবর বোলিং কৌশল শেখান। বিদ্যালয়ে থাকাকালীন তিনি মূলতঃ বোলার হিসেবেই অংশ নিতেন। সেন্ট টমাসে থাককালীন নিজস্ব শেষ বছরে স্থানীয় চার্চ স্কুলস লীগ শীল্ডে বিদ্যালয় দলকে চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। ছয় উইকেট নিয়ে দলের বিজয়ে তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন।[৩] বিদ্যালয় ত্যাগের পর তার পিতার ন্যায় সব্জীবিক্রেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। এ কাজটি তিনি পছন্দ করতেন। তাসত্ত্বেও, ক্রমাগত মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব কর্তৃপক্ষ বরাবর লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডের মাঠ কর্মী হিসেবে চাকুরী নেবার জন্যে আবেদন করতেন।[৪]

আনুমানিক ২৫জন বালকের সাথে হ্যারি লিকেও ১৯০৬ সালের শুরুরদিকে লর্ডসে যাচাই-বাছাইয়ের খেলায় অংশগ্রহণের জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আলফ্রেড অ্যাটফিল্ড ও প্রধান মাঠ কর্মকর্তা টম হার্ন বোলিং পর্যবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। লি তার প্রথম ওভার সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, ছয়টি বল পিচে বাজেভাবে ফেলেন যা অন্য কেউ কখনো দেখেছি কি-না সন্দেহ। তবে, তার স্নায়ু স্বাভাবিক আকার ধারণ করলে বোলিংয়ের উত্তরণ ঘটান ও হার্ন কর্তৃক পাঁচজন মাঠ কর্মীর অন্যতম হন।[৫] মাঠ কর্মী হিসেবে হ্যারি লিকে অনেকগুলো কাজের সাথে জড়িত থাকতে হয়েছিল। ধোয়ামোছা, আসন পরিষ্কার, জাল দিয়ে আবদ্ধ স্থান প্রস্তুতকরণ, পিচে চিহ্নিতকরণ ইত্যাদি। খেলার দিনে স্কোরবোর্ড রক্ষণাবেক্ষণ, স্কোরবোর্ড পরিচালনা বা জাল দিয়ে আবদ্ধ স্থানে ফিল্ডিং করা ইত্যাদি।[৬] এ সকল কাজ সম্পন্ন করার ফলে বালকদের নিজেদের অনুশীলনের সময় খুব কম থাকতো। কোন প্রাতিষ্ঠানিক কোচিংয়ের সুযোগ ছিল না। তাসত্ত্বেও, ইংল্যান্ডের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার টেডি উইনিয়ার্ডআলবার্ট ট্রটের কাছ থেকে সহযোগিতা পেতেন।[৭]

১৯০৯ ও ১৯১০ সালে মিডলসেক্স ক্লাবের কাছ থেকে সুনজরে পড়তে শুরু করেন। ১৯০৯ সালে মিডলসেক্স কোল্টসের পক্ষে একটি খেলায় ৩৯ রান তুলেন।[৮] ১৯১০ সালে রিডিং ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ৬০ রান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।[৯] মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) পক্ষেও খেলতে শুরু করেন। নিয়মিতভাবে রান ও উইকেট পেলেও উল্লেখযোগ্য ছিল না।[৯]

কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

১৯১১ সালে বেশ কয়েকজন মিডলসেক্সের খেলোয়াড় ইংল্যান্ডের পক্ষে যাচাই-বাছাইয়ের খেলায় অংশ নিলে শূন্যতা পূরণে হ্যারি লিকে দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের দুই খেলায় সমারসেট ও গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে মুখোমুখি হন তিনি।[১০] মিডলসেক্সের পক্ষে এগারো নম্বরে নামেন। সমারসেটের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলায় একবার মাঠে নামার সুযোগ পান। চার রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। এছাড়াও, বোলিং করার প্রয়োজন পড়েনি তার।[১১] গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে বোলিং করার সুযোগ পেলেও খেলায় নয় ওভার বোলিং করে উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেছিলেন।[১২]

১৯১২ সালে হ্যারি লিকে আরও সুযোগ দেয়া হয়। চ্যাম্পিয়নশীপে মিডলসেক্সের পক্ষে সাত খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।[১৩] এ খেলাগুলোর প্রথমটি এজবাস্টেন ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ছিল। চার্লস বাকেরকে কটে বিদেয় করে নিজস্ব প্রথম প্রথম-শ্রেণীর উইকেট পান।[১৪] খেলায় তিনি মোট পাঁচ উইকেট লাভ করেন।[১৫] এক মাস পর নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে অপর তিন উইকেট পান।[১৬] ঐ মৌসুমে ৯.৫০ গড়ে আট উইকেট দখল করেন ও ঐ মৌসুমের কাউন্টি দলটির বোলিং গড়ে শীর্ষস্থানে পৌঁছেন।[১৭]

১৯১৩ সালে এ. জে. ওয়েবের আমন্ত্রণে এমসিসি’র বোলিং কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।[১৮] কিন্তু, ঐ মৌসুমে খুব কমই তাকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে খেলার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। মিডলসেক্সের পক্ষে মাত্র তিনটি খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, প্রথম খেলায় মিডলসেক্সের ইনিংসের শেষদিকে নেমে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন। এরফলে, তার দল কোনক্রমে ফলো-অন এড়াতে সক্ষম হয়। তার এ সাহসী ইনিংস অধিনায়ক পেলহাম ওয়ার্নারের কাছ থেকে প্রশংসিত হয়।[১৯] এরফলে, চতুর্থ ইনিংসে তাকে পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামানো হয়। ঐ খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।[২০] ১৯১৩ সালে মিডলসেক্স দলে তাকে নিয়মিতভাবে খেলানো না হলেও অধিনায়ক কর্তৃক তাকে কাউন্টি ক্যাপ প্রদানের প্রস্তাবনা দেয়া হয়। তাকে না দেয়ায় ওয়ার্নার বেশ বিস্মিত হন ও পরবর্তীতে দেয়া হবে বলে জানান।[১]

১৯১৪ সালে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণের হার প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেন। মৌসুমের শুরুতে অক্সফোর্ডকেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় দলের বিপক্ষে দুই খেলায় অংশ নিয়ে অল্প রান তুলেন। এমসিসি’র সদস্যরূপে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত খেলায় হ্যারি লিকে উভয় ইনিংসেই ছয় নম্বরে ব্যাট হাতে নামানো হয়।[২১] আগস্টের পূর্বে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে মাত্র দুই খেলায় অংশ নেন। উভয় খেলাই ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। আগস্টের শুরুতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে কার্যতঃ উত্তরাঞ্চলের কাউন্টিতে মিডলসেক্সের ভ্রমণ বাতিল হয়ে যায়। তবে, এ সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে অনুকূলে নিয়ে এসে সফরে যায়। এ সফরে মিডলসেক্স দল অত্যন্ত দূর্বলমানের ছিল। নিয়মিত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান উইলিয়াম রবার্টসন ছিলেন না। ফলশ্রুতিতে, হ্যারি লিকে ফ্রাঙ্ক টার‍্যান্টের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামানো হয়।[২২] ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ৩০ ও ১৬ রান করেন।[২৩] এরপর, ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ১ ও ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন।[২৪] মৌসুমের বাদ-বাকী সময়গুলোয়ও তারা মিডলসেক্সের পক্ষে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন। নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে লি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেন। প্রথম ইনিংসে ১৭ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৯ রান তুলেন। অপর শতরান সংগ্রাহক প্যাটসি হেনড্রেনের সাথে ১৮৩ রানের জুটি গড়েন তিনি।[২৫]

বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

হেনরি উইলিয়াম লি
আনুগত্য যুক্তরাজ্য
সার্ভিস/শাখাব্রিটিশ সেনাবাহিনী
কার্যকাল১৯১৪-১৫
পদমর্যাদাপ্রাইভেট
ইউনিটলন্ডন রেজিম্যান্ট
যুদ্ধ/সংগ্রামপ্রথম বিশ্বযুদ্ধ
পুরস্কারসিলভার ওয়ার ব্যাজ
১৯১৪-১৫ স্টার
ব্রিটিশ ওয়ার মেডেল
ভিক্টোরি মেডেল

শুরুতে এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের ঘোষণার পরও হ্যারি লি ভাবতে পারেননি যে তার জীবনে এর কোন প্রভাব পড়বে। ১৯১৫ সালে ক্রিকেট খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এমসিসি ও মিডলসেক্স কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব যুদ্ধের সমর্থনে এগিয়ে আসলে এবং টেরিটোরিয়াল ফোর্সের সদস্যরা লন্ডন অভিমুখে যাত্রা করলে তিনি তার মত পরিবর্তন করেন ও কেনসিংটনভিত্তিক ১৩শ লন্ডন কাউন্টির তালিকাভূক্ত হন।[২৬][২৭] লি কোন ইউনিটে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন তা স্পষ্ট নয়।[২৭]

২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৫ তারিখে ১/১৩শ (লন্ডন কাউন্টি) ব্যাটলিয়নে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় ও এক সপ্তাহ পরই তাদেরকে ফ্রান্সে প্রেরণ করা হয়।[২৮] মার্চের মাঝামাঝি সময় নিউভ চ্যাপেলের যুদ্ধে অংশ নেন।[২৯] ঐ আক্রমণে হ্যারি লি’র পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। বাম পায়ের উরুতে একটি বুলেট আঘাত করে ও ফিমার ফেঁটে যায়।[৩০] তিনদিন মৃতদের জন্যে বরাদ্দ রেখায় তাকে ফেলে রাখা হয়। তার মৃত্যু ঘোষণা করে স্মারক অনুষ্ঠান হয়।[১] তিনদিন পর তাকে জার্মানরা খুঁজে পায় ও ভ্যালেন্সিনেসের হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। রেলগাড়ীর যাত্রীদের বগিতে খড়ের গাদায় দশ ঘণ্টা তিনি পড়ে থাকেন। লিলতে রেড ক্রসের গাড়ীতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। জার্মানদের কাছ থেকে তাকে স্থানান্তরের পর প্রথম সপ্তাহ ফরাসী রেড ক্রসের নিয়ন্ত্রণে থাকেন। এরপর, ছয় সপ্তাহ ভ্যালেন্সিনেসে তাকে রাখা হয়। এ সময়ে তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। দুই দিনের ভ্রমণের প্রথমাংসে তাকে কাঠের আসনে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় রাখা হয় ও তার পা লোহার খাঁচায় ছিল যা তার পিঠে বিরাট ব্যথা দিতে থাকে। এ পর্যায়ে তাকে কোন খাবার দেয়া হয়নি। দ্বিতীয়াংশে রেড ক্রসের রেলগাড়ীতে আরোহণের মাধ্যমে শেষ হয়।[৩০] হ্যানোভারে অবস্থানকালীন তিনি দ্রুত আরোগ্য লাভ করতে থাকেন। তবে, সতীর্থ যুদ্ধবন্দীর পরামর্শক্রমে আঘাতের তীব্রতা বাড়ান ও ইংল্যান্ডে ফিরে যাবার জন্যে মনোনীত হন।[৩১] ১ অক্টোবর, ১৯১৫ তারিখে ভ্রমণ শুরু করেন ও পাঁচ দিন পর নৌকাযোগে ইংল্যান্ডে পৌঁছেন।[৩০] বিরাট আঘাতের নির্দয়তার বিষয়টি প্রকাশ করেন। ইংল্যান্ডে তিনি নিজের একটি পা স্থায়ীভাবে খাঁটো লক্ষ্য করেন ও মাংসপেশীর অবসতার বিষয়টি টের পান। তিনি যুদ্ধ করতে অক্ষম কিংবা আর ক্রিকেট খেলতে পারবেন না বলে জানান।[৩১]

৪ ডিসেম্বর, ১৯১৫ তারিখে সেনাবাহিনী থেকে তাকে অবমুক্ত করা হয় ও তার সেবাদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সিলভার ওয়ার ব্যাজ লাভের অধিকারী হন। এরপর, ১৯১৪-১৫ স্টার, ব্রিটিশ ওয়ার মেডেল ও ভিক্টোরিয়া মেডেল লাভ করেন।[২৮] সেনাবাহিনী থেকে চলে আসার পর মিডলসেক্স কর্তৃপক্ষ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে হ্যারি লি’র উন্নত চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করে। ১৯১৬ সালের শুরুতে আর্মি সার্ভিস কোরের সদস্যরূপে ল্যান্সিং কলেজের বিপক্ষে একটি খেলায় অংশ নেন। তিনি খেলায় শতরান করেন।[৩১]

ভারত গমন[সম্পাদনা]

সেনাবাহিনী থেকে অক্ষমতা বিবেচনায় তাকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। এরপর তিনি ফাইলিং ক্লার্ক হিসেবে ওয়ার অফিসে কাজ করতে থাকেন। এ পদে থাকাকালীন এমসিসি দলসহ অন্যান্য যুদ্ধকালীন খেলায় অবসর সময়ে খেলার সুযোগ পান। ১৯১৬ সালের গ্রীষ্মকাল শেষে ফ্রাঙ্ক টার‍্যান্টের পত্নীর সাথে সাক্ষাৎ হলে তাকে স্বামীর সাথে ভারতে কাজ করার পরামর্শ দেন। তিনি এ প্রস্তাবনায় সাড়া দেন। তবে, যাত্রার পূর্বে মাতৃদেবীর মৃত্যুতে ছোট দুই ভাইকে দেখাশোনার জন্যে বাড়ীতে থেকে যান। এক বছর পর গৃহে স্থিরতা আসার পর টার‍্যান্টের প্রস্তাবনায় যাত্রা শুরু করেন। বোম্বে অভিমুখে নিয়াঞ্জায় আরোহণের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে নাগোয়ায় সরাসরি কলকাতা অভিমুখে পাড়ি জমান।[৩২] নিয়াঞ্জা প্লাইমাউথে ২০ মাইল (৩২ কিমি) দূরে টর্পেডোর আঘাতের কবলে পড়ে। বন্দরে আসার পূর্বে এর ৪৯জন যাত্রী প্রাণ হারান।[৩৩] নাগোয়ায় ভ্রমণকালে ভূমধ্যসাগরে জার্মান ইউ-বোট ইউবি-৫০ পাশ দিয়ে চলে যায়। ৮,০০০ টন কার্গো স্টিমার সিটি অব লখনৌড় ডুবে যায়।[৩৪] এ ভ্রমণের বাদ-বাকী সময় কোনরূপ দূর্ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়। এ পর্যায়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, জার্মান লাইট ক্রুইজার এমডেনের আঘাতে এ জাহাজটি ডুবে যায়।[৩২]

ভারতে কোচবিহারের মহারাজা জীতেন্দ্র নারায়ণের অধীনে ফুটবল ও ক্রিকেট কোচ হিসেবে কাজ করতেন। তবে, অর্থের বিনিময়ে কাজ করার চেয়ে স্বেচ্ছায় কাজ করতেই অধিক পছন্দ করতেন।[৩৫] ভারতে অবস্থানকালে কয়েকটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ঐ দেশে মহারাজা একাদশের সদস্যরূপে লর্ড উইলিংডন্স একাদশের বিপক্ষে খেলেন। এ পর্যায়ে লি তার প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব দেখান। এরজন্যে তিনি মাত্র এগারো রান খরচ করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি আরও তিন উইকেট নিয়ে খেলায় সেরা বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান।[৩৬] নভেম্বর, ১৯১৮ সালে ইংল্যান্ডের সদস্যরূপে ভারতের বিপক্ষে খেলেন। তবে, ১৯৩২ সালের পূর্ব-পর্যন্ত ভারত দলের টেস্ট মর্যাদার অধিকারী হয়নি।[৩৭] তবে, দলটি বেশ শক্তিধর ছিল ও ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে প্রতিনিধিত্বকারী দলের তুলনায় খেলায় বেশ প্রভাব বিস্তার করে।[৩৮] খেলায় ১৭৭ রান খরচ করে হ্যারি লি চার উইকেট লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে আট ও নয় রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন তিনি।[৩৯] ভারতে লি তার সর্বোচ্চ রান করেন ও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে একমাত্র শতরানের সন্ধান পান। কোচবিহারের মহারাজা দলের বিপক্ষে খেলেন তিনি। এমসি বার্ডস একাদশের সদস্যরূপে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ১০৪ রান তুলেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি সাত উইকেট পান। ঐ খেলায় তার দল ইনিংস ব্যবধানে জয় পায়।[৪০]

ইংল্যান্ডে প্রত্যাবর্তন[সম্পাদনা]

বিশ্বযুদ্ধে আঘাতপ্রাপ্তির ক্ষত বহমান থাকলেও এবং ১৯১৯ সালে কাউন্টি ক্রিকেট পুণরায় শুরু হলে তিনি মহারাজার কাজ থেকে ছুটি নেন। ইংল্যান্ডে ফিরে মিডলসেক্সের পক্ষে পুণরায় খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের খেলাগুলো দুই দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে এ খেলাগুলো হ্যারি লি’র কাছে মনঃপুত হয়নি। তিনি একে ‘দুঃস্বপ্নের মৌসুমরূপে’ আখ্যায়িত করেন।[৪১] এ ধরনের ক্ষুদ্রতর খেলা আয়োজন করা সত্ত্বেও প্রথমবারের মতো তিনি তার খেলোয়াড়ী জীবনে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।[১৩] মিডলসেক্স দলে তাকে নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা দেয়া হয়।[৪২] ঐ মৌসুমে চারটি শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। তন্মধ্যে, ওভালে সারের বিপক্ষে অর্থ তহবিল সংগ্রহের খেলায় উভয় ইনিংসে করেছিলেন। প্রথম ইনিংসে ১৬৩ রান তুলেন। এ পর্যায়ে জ্যাক হার্নের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ২২৬ রান সংগ্রহ করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১২৬ রান।[৪৩] ঐ মৌসুমে তিনি ৪০.৭৬ গড়ে রান তুলেন। খেলোয়াড়ী জীবনে তিনবার ৪০ গড়ে রান সংগ্রহের এটি প্রথমবার ছিল।[১৩] ১৯২০ সালে চ্যাম্পিয়নশীপের খেলা তিনদিনে গড়ায়। এ মৌসুমে ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বাধিক সফলতা পান। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে উপর্যুপরী শতরান করেন। লর্ডসে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ১০২,[৪৪] ও তারপর একই মাঠে সাসেক্সের বিপক্ষে ১১৯ রান করেন। তন্মধ্যে, সাসেক্সের বিপক্ষে মিডলসেক্সের শীর্ষসারির চারজন ব্যাটসম্যানদের প্রত্যেকেই শতরান করেছিলেন। হ্যারি লি’র ১১৯ রানের পাশাপাশি পেলহাম ওয়ার্নার ১৩৯, নাইজেল হেগ ১৩১ ও হার্ন ১১৬ রানে অপরাজিত থাকা অবস্থায় দলের ইনিংস ঘোষণা করা হয়।[৪৫] চারজন ব্যাটসম্যানের শতরান করার ঘটনা প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে এটিই প্রথম ছিল।[১][৪৬] পরবর্তীতে, সাউদাম্পটনে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে তিন বছর পর অবশ্য এইচ. এল. ডেলস, এইচ. ডব্লিউ. লি, জে. ডব্লিউ. হার্ন ও ই. হেনড্রেন এ কৃতিত্বের সাথে নিজেদেরকে যুক্ত করেছিলেন। এছাড়াও, ঐ খেলায় তিনি এগারো উইকেট দখল করেছিলেন। প্রথম ইনিংসে পাঁচটি ও দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় উইকেট লাভের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো খেলায় দশ উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।[৪৫] ফলশ্রুতিতে, মিডলসেক্সের আটজন ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে একই খেলায় শতরানের পাশাপাশি দশ উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন।[৪৭] পরের মাসে সাউদাম্পটনের কাউন্টি গ্রাউন্ডে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে প্রথম দ্বি-শতরানের ইনিংস খেলেন। ২২১ রানে অপরাজিত থাকা অবস্থায় মিডলসেক্স ইনিংস ঘোষণা করে। দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি অপরাজিত থাকেন। এরফলে, খেলার পুরোটা সময় পিচে অবস্থান করেছিলেন তিনি।[৪৮] সবমিলিয়ে ১৯২০ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪৩.৩৭ গড়ে ১,৫১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন।[১৩] কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে মিডলসেক্সের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে রান সংগ্রহ ও গড়ের দিক দিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করেন।[৪৯] এরফলে, কাউন্টি দলটি স্বল্প ব্যবধানে তাদের শেষ খেলায় শেষ অধিবেশনে জয়ের সন্ধান পায়।[৫০] এইচ. এস. অ্যাল্থামই. ডব্লিউ. সোয়ানটনের ‘এ হিস্ট্রি অব ক্রিকেট’ গ্রন্থে ঐ মৌসুমে লি’র অল-রাউন্ডারের দক্ষ প্রদর্শনীর কথা তুলে ধরা হয়।[৫০] রানের পাশাপাশি ২২.৪০ গড়ে ৪০ উইকেট পান।[৫১]

দক্ষিণ আফ্রিকা গমন[সম্পাদনা]

হ্যারি লি’র সুন্দর ক্রীড়াশৈলীর কারণে ১৯২০-২১ মৌসুমের শীতকালে অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্যে দলে রাখা হয়। তবে, এক পর্যায়ে তাকে বাদ দেয়া হয়।[৪২] এর পরিবর্তে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনেকগুলো সফরের প্রথমটিতে যান ও ঐ দেশে খেলেন ও প্রশিক্ষণ কার্যে নিযুক্ত থাকেন। জোহেন্সবার্গের ওয়ান্ডারার্স ক্লাব থেকে প্রস্তাবনা পান।[৫২] উপর্যুপরী দ্বিতীয় মৌসুমে ১৯২১ সালে সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে দেড় হাজারের অধিক রান সংগ্রহ করেন।[১৩] এ পর্যায়ে খেলোয়াড়ী জীবনের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান তুলেন। নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে ২৪৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ছয় ঘণ্টারও অধিক সময় নিয়ে এ সংগ্রহ করে মিডলসেক্স দলকে ইনিংস ব্যবধানে বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।[৫৩] ঐ মৌসুমে তিনি আর একটিমাত্র শতরানের সন্ধান পেয়েছিলেন। সাসেক্সের বিপক্ষে ১২১ রান তুলেন।[৫৪] তবে, নয়বার পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।[১৩] তাসত্ত্বেও বোলার হিসেবে তিনি তার সেরা মৌসুম অতিবাহিত করেন। ১৯.৬৬ গড়ে ৭২টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেন। এ সংগ্রহটি তার খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা ছিল।[হ ১][৫৫] মিডলসেক্স দল আরও একবার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয় করে। ব্যাটিং ও বোলিংয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেন। তন্মধ্যে, হার্ন ও হেনড্রেন ব্যাটসম্যান হিসেবে তার তুলনায় এগিয়েছিলেন।[৫৬] আর, বোলারদের মধ্যে জ্যাক ডারস্টন ও নাইজেল হেগ অধিক উইকেট লাভ করেন।[৫৭]

এ মৌসুম শেষে তিনি আরও একবার দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। এ পর্যায়ে ব্লুমফন্তেইনের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ স্কুল ও গ্রে কলেজের উভয় প্রতিষ্ঠানে কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।[৫৮] উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমেনাকে তার শোকসংবাদে মন্তব্য করা হয় যে, ১৯২১ সালের পর তার সেরা বছরগুলো গত হয়ে যায়।[৪২]

পরবর্তী কয়েকবছর হ্যারি লি’র খেলার মান দূর্বলমানের ছিল। ১৯২৩ থেকে ১৯২৫ সাল অবধি ব্যাট হাতে ২৫-এর কম গড়ে রান তুলেন। কেবলমাত্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনবার সহস্র রান সংগ্রহের ন্যায় মাইলফলকের প্রথমটি স্পর্শ করতে পেরেছিলেন।[১৩] খেলোয়াড়ী জীবনের দ্বিতীয়বারের মতো চারজন শীর্ষসারির ব্যাটসম্যানদের সাথে তিনিও শতরান করতেন। সাউদাম্পটনে হ্যামশায়ারের বিপক্ষে লি ১০৭, উদ্বোধনী সঙ্গী হিউ ডেলস ১০৩, হার্ন ২৩২ ও হেনড্রেন ১৭৭ রান অপরাজিত থাকলে মিডলসেক্স ৬৪২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে।[৫৯] ১৯২৩ সালে নিজস্ব সেরা বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। চেল্টেনহামের কলেজ গ্রাউন্ডে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে খেলার প্রথম ইনিংসে ৮/৩৯ পান। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি আরও চার উইকেট লাভ করে মিডলসেক্স দলকে আট উইকেটের বিজয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন।[৬০] ঐ মৌসুমে তিনি তৃতীয় ও শেষবারের মতো ৫০ উইকেটের সন্ধান পান।[৫৫] এ পর্যায়ে মিডলসেক্স দলে তিনি তৃতীয় বোলার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিলেন।[৬১]

১৯২৩-২৪ কিংবা ১৯২৪-২৫ মৌসুমের কোনবারই দক্ষিণ আফ্রিকা গমনের সুযোগ পাননি। এর প্রধান কারণ ছিল, ১৯২৪ ও ১৯২৫ সালে তার খেলার মান দূর্বলতর ছিল। ১৯২৬ সালে আবারও দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। কেপটাউনে উপর্যুপরী তিনটি শীতকালের প্রথমটি কাটান। সাউথ আফ্রিকান কলেজ স্কুলসে প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকেন।[৬২] পাশাপাশি কাউন্টি ক্রিকেটের ব্যাটিংয়ের মানেরও উত্তরণ ঘটাতে সচেষ্ট হন। দুই বছর বাদে ১৯২৬ সালে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে সক্ষম হন।[১৩]

স্বর্ণালী সময়[সম্পাদনা]

১৯২৮ ও ১৯২৯ সালে হ্যারি লি তার স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। উভয় মৌসুমেই ৩৫-এর অধিক গড়ে রান তুলেন। প্রথম বছরটিতে ১,৭১৫ ও দ্বিতীয়টিতে ১,৯৯৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় বছরে খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বোচ্চ রান তুলেছিলেন তিনি।[১৩] কেবলমাত্র একবারই ১৯২৮ সালে পেশাদারী প্লেয়ার্স বনাম জেন্টলম্যানের খেলার জন্যে মনোনীত হন। জুনের শুরুতে ওভালে তিনি ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ৫৬ রান সংগ্রহ করেন। চূড়ান্ত দিন বৃষ্টির কারণে খেলা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি ও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।[৬৩]

১৯২৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো খেলার উভয় ইনিংসে শতরানের সন্ধান পান। ল্যাঙ্কাশায়ারের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ রুখে দিয়ে ১২৪ ও অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।[৪২][৬৪] ঐ মৌসুমের শেষদিকে নিজস্ব তৃতীয় ও সর্বশেষ দ্বি-শতরানের ইনিংস খেলেন। ওভালে সারের বিপক্ষে ২২৫ রান তুলেন। এ পর্যায়ে দ্বিতীয় উইকেটে গাবি অ্যালেনের সাথে ৩১৯ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি।[৬৫] ১৯২৯ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে মিডলসেক্সের পক্ষে ১,৬১৭ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। তবে, হার্ন ও হেনড্রেন সহস্র রান তুলে গড়ের দিকে এগিয়েছিলেন।[৬৬]

পরের মৌসুমে ২৬.০৫ গড়ে ১,৪৮৫ রান সংগ্রহ করেন। এ মৌসুমে অন্য যে-কোন সময়ের তুলনায় সর্বাধিক ৩৪ খেলায় অংশ নেন। কেবলমাত্র একবার শতরানের ইনিংস খেলতে পেরেছিলেন।[১৩] টানটনের কাউন্টি গ্রাউন্ডে সমারসেটের বিপক্ষে ১৫০ রান সংগ্রহ করেন।[৬৭]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন হ্যারি লি। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে জোহেন্সবার্গে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

১৯৩০-৩১ মৌসুমের শীতকালে দক্ষিণ আফ্রিকার সেন্ট অ্যান্ড্রুজ কলেজ ও রোডস বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন।[৬৮] ১৯৩০-৩১ মৌসুমের শীতকালে এমসিসি দল দক্ষিণ আফ্রিকায় পদার্পণ করে। আঘাত ও অসুস্থতার কবলে পড়ে দলটি। বিভিন্ন কারণে দলের সাতজন নিয়মিত খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি ছিল।[৬৮] ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক পার্সি চ্যাপম্যান লিকে প্রশিক্ষণে দায়িত্ব থেকে ছুটি নিয়ে সফররত দলের সাথে যুক্ত হবার অনুরোধ জানান।[১] তিনি অনুমিত নিয়েছেন ভেবে নাটালের বিপক্ষে তাকে প্রথম খেলার সুযোগ দেয়া হয়। একমাত্র ইনিংসে তিনি ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন।[৬৯] এরপর তিনি আরও তিনটি প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশ নেন। দুইবার চল্লিশের কোটায় অবস্থান করলেও এ সফরে কোনটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেননি।[৭০]

সিরিজের চতুর্থ টেস্টে একমাত্র খেলায় অংশ নেন হ্যারি লি। বব ওয়াটের সাথে ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ১৮ ও ১ রান সংগ্রহ করতে সমর্থ হন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়।[৭১] খেলা চলাকালীন এমসিসি কর্তৃপক্ষ একটি স্কুলের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন যে, তিনি অনুমতিবিহীন অবস্থায় খেলে চুক্তিভঙ্গ করেছেন।[১] লি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। বিদ্যালয়ের ক্রীড়াশিক্ষক জ্যাক হোয়াইটকে বলেছেন যে, তিনি অনুমতি নিয়েছেন। তবে, এমসিসি তার অবস্থানে অনড় থাকে ও ক্ষমাপ্রার্থনা না করা পর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ডের ক্যাপ ও ব্লেজার পরিধান করতে পারবেন না।[৬৮] লি ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য দেননি এবং ক্যাপ কিংবা ব্লেজার লাভ করেননি। তবে, সমঝোতা হওয়ায় জ্যাক হবস তাকে দেন।[১]

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৩০-এর দশকের শুরুতে চল্লিশ বছর বয়সী হ্যারি লি মিডলসেক্স দলের নিয়মিত সদস্য হিসেবে খেলতে থাকেন। ১৯৩১ সালে দুইটি শতরানের ইনিংসসহ ৩০.০২ গড়ে ১,২৯১ রান তুলেন।[১৩] তার উভয় ভ্রাতা জ্যাক লি ও ফ্রাঙ্ক লি ঐ মৌসুমের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে শতরানের ইনিংস খেলেন।[৭২] সমারসেটের সদস্যরূপে জ্যাক লি নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে ১১৩ রান তুলেন।[৭৩] সমারসেটের সদস্যরূপে ফ্রাঙ্ক লি সাসেক্সের বিপক্ষে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে ১৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন।[৭৪] একই মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের পেশাদারী পর্যায়ে তিন ভ্রাতার শতরানের কৃতিত্বের এটিই প্রথম ঘটনা ছিল।[১] দুই বছর বাদে তিন ভাই একটি ডিসমিসালের সাথে নিজেদের জড়িত রাখেন। জ্যাকের বোলিংয়ে হ্যারি লি ৮২ রানে ফ্রাঙ্কের কটে পরিণত হন।[১][৭৫]

১৯৩২ ও ১৯৩৩ সালের উভয় মৌসুমেই সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেও রান সংগ্রহের হার ছিল ২৫-এর নীচে।[১৩] ১৯৩৪ সালে দলে তরুণ খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের প্রশ্নে তাকে বাদ দেয়া হয়।[১] ঐ মৌসুমে এমসিসি দলের সাথে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। জুলাইয়ের শুরুতে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে শতরানের ইনিংস খেলেন।[৭৬] আগস্টে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে মিডলসেক্স দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন। ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ১১৯ রানের সর্বশেষ শতরানের ইনিংস খেলেন।[৭৭] এছাড়াও, সারের বিপক্ষে পরবর্তী খেলায় ৬৫ ও অপরাজিত ৩৮ রান তুলেন।[৭৮] ঐ মৌসুম শেষে মিডলসেক্স কর্তৃপক্ষ তার সাথে চুক্তিচ্ছেদ ঘটায় ও তাকে নিরাশ করে।[১] সবমিলিয়ে ৪৩৭টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৩৮টি শতরান সহযোগে ২৯.৯৫ গড়ে ২০,১৫৮ রান তুলেন। তেরো মৌসুমে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।[১][১৩]

খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করার পর প্রায় সরাসরি আম্পায়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটান। এমসিসির প্রথম-শ্রেণীবিহীন খেলা পরিচালনা করেন। মিডলসেক্স বরাবর পরবর্তী মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর খেলা পরিচালনার জন্যে আবেদন করেন ও তা মঞ্জুর হয়। কাউন্টি দলগুলোর অধিনায়কদের কাছ থেকে অনুমোদিত হবার পর ১৯৩৫ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেন।[৭৯][৮০] এরপর তিনি কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। সমারসেটের ডাউনসাইড স্কুলে ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত কোচ হিসেবে নিযুক্তি পান।[৪২] জীবনের বাদ-বাকী সময় লর্ডসে নিয়মিতভাবে উপস্থিত থাকতেন। ১৯৮১ সালে মৃত্যুকালীন তিনি ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদা পেয়েছিলেন।[১]

২১ এপ্রিল, ১৯৮১ তারিখে ৯০ বছর বয়সে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় হ্যারি লি’র দেহাবসান ঘটে।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

হ্যারি লি তার নিজস্ব ভাষায় মন্তব্য করেন যে, জ্যাক হার্ন কিংবা ডেনিস কম্পটনের ন্যায় প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় ছিলেন না; বরঞ্চ সাধারণমানের গড়পড়তা কাউন্টি ক্রিকেটার ছিলেন।[১৪] তার এ বক্তব্য সত্ত্বেও, তিনি মিডলসেক্সের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৮,৫৯৪ রান তুলেন। এ সংখ্যাটি সর্বকালের তালিকায় একাদশ ছিল।[৮১] কাউন্টি দলটির পক্ষে মাত্র সতেরোজন ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে ৫,০০০-এর অধিক রান ও ৩০০-এর অধিক উইকেট পেয়েছেন।[৮২]

এইচ. এস. অ্যাল্থাম ও ই. ডব্লিউ. সোয়ানটন মন্তব্য করেন যে, এ সংখ্যার মাধ্যমেই তার গুরুত্বতা বোঝা যায়। ঐ সময়ে লর্ডসের পিচ ব্যাটসম্যানদের অনুকূলে ছিল না ও তার খেলোয়াড়ী জীবন ব্যাটসম্যানদের স্বর্গ হিসেবে অন্যান্য মাঠের পিচে খেলার মাধ্যমে তার মূল্য সঠিকভাবে উপলব্ধ হয়।[৮৩] তার ব্যাটিং উল্লেখযোগ্যভাবে গুটিয়ে থাকতো ও লেগ সাইডেই তিনি রান সংগ্রহে তৎপরতার স্বাক্ষর রাখতেন।[৪২] তার খেলার ধরন তেমন দর্শনীয় ছিল না। তবে, কার্যকর ছিল। হার্ন ও হেনড্রেনের খেলা ক্রিকেটবোদ্ধাদের কাছে বেশ বর্ণাঢ্যময় হলেও লি তার দৃঢ়তা ও সাহসের কারণে প্রশংসিত হবেন।[১][৮৩]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. When bowling over 300 deliveries. ৩০০ ওভারের অধিক বোলিং করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Player Profile: Harry Lee"ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০১১ 
  2. Lee & Thompson (1948), p. 8.
  3. Lee & Thompson (1948), pp. 9–11.
  4. Lee & Thompson (1948), p. 11.
  5. Lee & Thompson (1948), pp. 12–13.
  6. Lee & Thompson (1948), pp. 14–15.
  7. Lee & Thompson (1948), p. 19.
  8. "Marylebone Cricket Club v Middlesex Colts: Other matches in England 1909"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১১ 
  9. Lee & Thompson (1948), p. 26.
  10. Lee & Thompson (1948), pp. 26–27.
  11. "Somerset v Middlesex: County Championship 1911"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১১ 
  12. "Gloucestershire v Middlesex: County Championship 1911"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১১ 
  13. "First-class Batting and Fielding in Each Season by Harry Lee"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  14. Lee & Thompson (1948), p. 29.
  15. "Warwickshire v Middlesex: County Championship 1912"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  16. "Nottinghamshire v Middlesex: County Championship 1912"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  17. "Bowling for Middlesex: County Championship 1912"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  18. Lee & Thompson (1948), p. 30.
  19. Lee & Thompson (1948), pp. 32–33.
  20. "Middlesex v Lancashire: County Championship 1913"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  21. "Marylebone Cricket Club v Hampshire: Other First-Class matches in England 1914"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  22. Lee & Thompson (1948), pp. 35.
  23. "Yorkshire v Middlesex: County Championship 1914"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  24. "Lancashire v Middlesex: County Championship 1914"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  25. "Middlesex v Nottinghamshire: County Championship 1914"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  26. Lee & Thompson (1948), pp. 41–43.
  27. "Service record in WO 364" (fee or subscription required to view images of original record)UK military records at Ancestry.com। Licensed from The National Archives। পৃষ্ঠা 1–5। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০০৯ 
  28. WO/372/12 44640/5700.
  29. WO/95/1730 1/398, pp. 69–78.
  30. WO/161/98 6/2, pp. 2–3.
  31. Lee & Thompson (1948), pp. 42–43.
  32. Lee & Thompson (1948), pp. 44–46.
  33. CAB/24/59 15/0015, p. 61.
  34. Helgason, Guðmundur। "Ships hit during WWI: Steamer City Of Lucknow"German and Austrian U-boats of World War I - Kaiserliche Marine - Uboat.net। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  35. Lee & Thompson (1948), p. 46.
  36. "Lord Willingdon's XI v Maharaja of Cooch-Behar's XI: Other First-Class matches in India 1917/18"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  37. Altham & Swanton (1938), p. 367.
  38. Lee & Thompson (1948), pp. 50–51.
  39. "India v England: Other First-Class matches in India 1918/19"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  40. "MC Bird's XI v Maharaja of Cooch-Behar's XI: Other First-Class matches in India 1918/19"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  41. Lee & Thompson (1948), p. 52.
  42. "Obituaries in 1981"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১  Originally from Woodcock, John, সম্পাদক (১৯৮২)। Wisden Cricketer's Almanack 1982 (119 সংস্করণ)। London: Queen Anne Press। আইএসবিএন 0-356-08590-2 
  43. "Surrey v Middlesex: Other First-Class matches in England 1919"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  44. "Middlesex v Warwickshire: County Championship 1920"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  45. "Middlesex v Sussex: County Championship 1920"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  46. Lee & Thompson (1948), pp. 54–55.
  47. "100 Runs and 10 Wickets in a Match for Middlesex"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  48. "Hampshire v Middlesex: County Championship 1920"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  49. "Batting and Fielding for Middlesex: County Championship 1920"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  50. Altham & Swanton (1938), p. 386.
  51. "Bowling for Middlesex: County Championship 1920"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  52. Lee & Thompson (1948), pp.87–88.
  53. "Middlesex v Nottinghamshire: County Championship 1921"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  54. "Middlesex v Sussex: County Championship 1921"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  55. "First-class Batting and Fielding in Each Season by Harry Lee"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  56. "Batting and Fielding for Middlesex: County Championship 1921"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  57. "Bowling for Middlesex: County Championship 1921"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  58. Lee & Thompson (1948), pp.92.
  59. "Hampshire v Middlesex: County Championship 1923"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  60. "Gloucestershire v Middlesex: County Championship 1923"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  61. "Bowling for Middlesex: County Championship 1923"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  62. Lee & Thompson (1948), p. 93–94.
  63. "Gentlemen v Players: Other First-Class matches in England 1928"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  64. "Middlesex v Lancashire:County Championship 1929"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  65. "Surrey v Middlesex: County Championship 1929"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  66. "Batting and Fielding for Middlesex: County Championship 1929"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  67. "Somerset v Middlesex: County Championship 1930"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  68. Lee & Thompson (1948), pp. 94–95.
  69. "Natal v Marylebone Cricket Club: Marylebone Cricket Club in South Africa 1930/31"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  70. "First-class Batting and Fielding for Marylebone Cricket Club: Marylebone Cricket Club in South Africa 1930/31"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  71. "South Africa v England: Marylebone Cricket Club in South Africa 1930/31 (4th Test)"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  72. "First-class Batting and Fielding in England for 1931 (Ordered by Average)"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  73. "Northamptonshire v Somerset: County Championship 1931"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  74. "Somerset v Sussex: County Championship 1931"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  75. "Middlesex v Somerset: County Championship 1933"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  76. "Marylebone Cricket Club v Cambridge University: University Match 1934"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  77. "Warwickshire v Middlesex: County Championship 1934"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  78. "Middlesex v Surrey: County Championship 1934"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  79. Lee & Thompson (1948), pp. 175–176.
  80. "Harry Lee as Umpire in First-Class Matches (153)"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  81. "Most Runs for Middlesex"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  82. "5000 Runs and 300 Wickets in a Career for Middlesex"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  83. Altham & Swanton (1938), p. 388.

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

  • Altham, H.S.; Swanton, E.W. (১৯৩৮) [1926]। A History of Cricket (Second সংস্করণ)। London: George Allen & Unwin Ltd.। 
  • Lee, H. W. (১৯৪৮)। Thompson, Laurence, সম্পাদক। Forty Years of English Cricket (with excursions to India and South Africa)। London: Clerke & Cockeran। 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]