জ্যাক ডারস্টন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জ্যাক ডারস্টন
জ্যাক ডারস্টন.jpg
১৯২০ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে জ্যাক ডারস্টন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামফ্রেডরিক জন ডারস্টন[১]
জন্ম১১ জুলাই, ১৮৯৩
ক্লপহিল, ইংল্যান্ড
মৃত্যু৮ এপ্রিল ১৯৬৫(1965-04-08) (বয়স ৭১)[২]
নরউড গ্রীন, ইংল্যান্ড[২]
ডাকনামলং জ্যাক
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট, অফ ব্রেক
ভূমিকাবোলার, কোচ
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৯৬)
১১ জুন ১৯২১ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৮৬
রানের সংখ্যা ৩৯১৮
ব্যাটিং গড় ৮.০০ ১১.৯০
১০০/৫০ -/- -/৬
সর্বোচ্চ রান ৬* ৯২*
বল করেছে ২০২ ৭২১২৪
উইকেট ১৩২৯
বোলিং গড় ২৭.১৯ ২২.০৩
ইনিংসে ৫ উইকেট ৭২
ম্যাচে ১০ উইকেট ১১
সেরা বোলিং ৪/১০২ ৮/২৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং -/- ২৫৭/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১ ডিসেম্বর ২০১৯
ফুটবল খেলোয়াড়ী জীবন
মাঠে অবস্থান গোলরক্ষক
জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের খেলোয়াড়ী জীবন*
বছর দল উপস্থিতি (গোল)
১৯১২ বেডফোর্ড টাউন (০)
রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স
কুইন্স পার্ক র‍্যাঞ্জার্স
১৯১৯ - ১৯২১ ব্রেন্টফোর্ড ৪৪ (০)
নর্থফ্লিট ইউনাইটেড
  • পেশাদারী ক্লাবের উপস্থিতি ও গোলসংখ্যা শুধুমাত্র ঘরোয়া লিগের জন্য গণনা করা হয়েছে।
† উপস্থিতি(গোল সংখ্যা)।

ফ্রেডরিক জন ডারস্টন (ইংরেজি: Jack Durston; জন্ম: ১১ জুলাই, ১৮৯৩ - মৃত্যু: ৮ এপ্রিল, ১৯৬৫) বেডফোর্ডশায়ারের ক্লপহিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯২১ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।[২] দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট কিংবা অফ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকরী ব্যাটিং করতেন ‘লং জ্যাক’ ডাকনামে পরিচিত জ্যাক ডারস্টন

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯১৯ সাল থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত জ্যাক ডারস্টনের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। গ্রামীণ ক্লাবে ক্রিকেট খেলা শিখেন। ১৯১৪ সালে লর্ডসে মাঠকর্মী হিসেবে যোগ দেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে ১৯১৯ সালে লর্ডসের মাঠে ফিরে আসেন। হ্যাম্পশায়ারের বয়োজ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার ই. জি. উইনিয়ার্ডের সুপারিশক্রমে মিডলসেক্সের পক্ষে অভিষেক ঘটিয়ে চার খেলায় অংশ নেন। ১৯২০ সালে পূর্ণাঙ্গ মৌসুম খেলেন। এ মৌসুমে সবগুলো খেলায় অংশ নিয়ে ১১৩ উইকেট পান ও মিডলসেক্সের চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা পালন করেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ছয় মৌসুমে প্রাপ্ত শতাধিক উইকেট লাভের ক্ষেত্রে এটিই প্রথম ছিল। এছাড়াও তিনবার নব্বুই ঊর্ধ্ব উইকেট পেয়েছেন।

ছয় ফুটের অধিক উচ্চতার অধিকারী তিনি। শারীরিক গড়নও বেশ ভালো ছিল। ডানহাতি উদ্বোধনী বোলার হিসেবে ফাস্টের তুলনায় ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়েই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। চমৎকার গতি নিয়ে নিখুঁত নিশানা বরাবর বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন তিনি। ১৯২১ সালে এক মৌসুমে সর্বাধিক ১৩৬ উইকেট পান। ঐ মৌসুমেই মিডলসেক্স কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয় করেছিল।

দীর্ঘদেহের অধিকারী জ্যাক ডারস্টন বলকে পিচে ফেলে ‘ব্রেক ব্যাক’ করাতে পারতেন।[৩] ১৯২০ ও ১৯২১ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী মিডলসেক্স দলের সদস্য ছিলেন।[২] তবে, এরপূর্বে কেবলমাত্র একবারই দলে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। উভয় বছরেই শতাধিক উইকেট লাভে স্বীয় সক্ষমতার পরিচয় দেন।

১৯৩৩ সাল পর্যন্ত মিডলসেক্সের পক্ষে খেলেছিলেন।[৪] অফ-স্পিন বোলিংয়ে উত্তরোত্তর শাণিত হতে থাকেন। ১৩১৪ উইকেট পান। এছাড়াও বয়সের সাথে সাথে ব্যাটিংয়ের মানও বৃদ্ধি পায়। ১৯২৭ সালে লেটনে এসেক্সের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় খেলার উপহার দেন। প্যাটসি হেনড্রেনের সাথে নবম উইকেটে জুটি গড়ে মাত্র ৮০ মিনিটে নিরবচ্ছিন্নভাবে ১৬০ রান তুলেন। ২০১১ সাল পর্যন্ত এ সংগ্রহটি মিডলসেক্সের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।[৫][৬]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন জ্যাক ডারস্টন। ১১ জুন, ১৯২১ তারিখে লর্ডসে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এরপর তিনি আর কোন টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। এটিই তার সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

১৯২১ সালে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের নেতৃত্বাধীন সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে এমসিসি’র সদস্যরূপে ১১ উইকেট পেয়েছিলেন।[২][৭] লর্ডসে নিজের শহরে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলার জন্যে মনোনীত হন।[৮] একমাত্র টেস্টের উভয় ইনিংসে সি. জি. ম্যাককার্টনিকে আউট করাসহ অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংকে শূন্য রানে বিদেয় করেন। ঐ খেলায় ১৩৬ রান খরচায় পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন।[৯] এরফলে, দল থেকে বাদ পড়েন ও আর তাকে ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলতে দেখা যায়নি।[২]

অবসর[সম্পাদনা]

এর কিছুদিন পরই লর্ডসে প্লেয়ার্সের সদস্যরূপে জেন্টলম্যানের বিপক্ষে আট উইকেট লাভ করেছিলেন। ছয়বার প্লেয়ার্সের প্রতিনিধিত্ব করলেও আর লর্ডসে খেলার সৌভাগ্য হয়নি তার। ১৯২২ সালে ফেনার্স ও পরের বছর পার্কসে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষেই হ্যাট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন। কিছু সফলতা প্রদর্শনের প্রেক্ষিতে ১৯২৯ সালের শুরুরদিকে জুলিয়েন কানের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে জ্যামাইকা গমন করেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পরও স্যার থিওডর ব্রিঙ্কম্যানের দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন ও ১৯৩৭-৩৮ মৌসুমে আর্জেন্টিনা গমন করেন। ১৯৩৩ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটকে বিদেয় জানান। অবসর গ্রহণের পূর্বেকার শেষ দুই বছরে ধীরগতিতে অফ-স্পিন বোলিং করে কিছুটা সফলকাম হয়েছিলেন। সকল প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ১৩২৯ উইকেট ২২.৩০ গড়ে ২৯২৭৯ রান খরচ করে পান। এছাড়াও, ডানহাতে মারমুখী ভঙ্গীমায় প্রায় চার হাজার রান তুলেন। ১৯৩০ সালে লর্ডসে নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ৯২ রান তুলেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স বিভাগে কাজ করেছেন।[২] ১৯২৪ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত লন্ডনের অ্যাকটনে অভ্যন্তরীণ ক্রিকেট স্কুল পরিচালনা করেছেন।[৬] মিডলসেক্স হল অব ফেমের সদস্য তিনি।[১০] বিস্ময়করভাবে ত্রিশ বছরের অধিক সময় ধরে উইজডেনে ভুলবশত তার জন্ম ও মৃত্যুর তথ্যাদি উল্লেখ ছিল।

তরুণ অবস্থায় পেশাদারী পর্যায়ে ফুটবল খেলতেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। গোলরক্ষক হিসেবে রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স, কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্স, ব্রেন্টফোর্ডে[১১] নর্থফ্লিট ইউনাইটেড ও বেডফোর্ড টাউনের পক্ষে খেলেছেন।[৮][১২]

৮ এপ্রিল, ১৯৬৫ তারিখে ৭১ বছর বয়সে ইলিংয়ের নরউড গ্রীন এলাকার সাউথ হলের হাসপাতালে জ্যাক ডারস্টনের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Joyce, Michael (২০১২)। Football League Players' Records 1888 to 1939। Nottingham: Tony Brown। পৃষ্ঠা 88। আইএসবিএন 190589161X 
  2. "Jack Durston"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  3. "Wisden – Fred Durston"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  4. "The Home of CricketArchive"www.cricketarchive.com। ৯ জুলাই ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  5. "Berg and Murtagh put Middlesex on brink"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  6. "'Long Jack' played in only one Test", The Cricketer, 7 May 1965, p. 31.
  7. "The Home of CricketArchive"www.cricketarchive.com। ৪ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  8. Haynes, Graham (১৯৯৮)। A-Z Of Bees: Brentford Encyclopaedia। Yore Publications। পৃষ্ঠা 51–52। আইএসবিএন 1 874427 57 7 
  9. "2nd Test, Australia tour of England at Lord's, Jun 11-14 1921"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  10. "Middlesex County Cricket Club"www.middlesexccc.com। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  11. White, Eric, সম্পাদক (১৯৮৯)। 100 Years Of Brentford। Brentford FC। পৃষ্ঠা 365–366। আইএসবিএন 0951526200 
  12. "Player list 1908-38X.xlsx"google.com। সংগ্রহের তারিখ ২০ অক্টোবর ২০১৫ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]