সূরা আল-বালাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আল-বালাদ
البلد
Sura90.pdf
শ্রেণীমাক্কী সূরা
নামের অর্থনগর
অন্য নামস্বদেশ, ভূমি
পরিসংখ্যান
সূরার ক্রম৯০
আয়াতের সংখ্যা২০
পারার ক্রম৩০
রুকুর সংখ্যা
সিজদাহ্‌র সংখ্যানেই
← পূর্ববর্তী সূরাসূরা আল-ফাজ্‌র
পরবর্তী সূরা →সূরা আশ-শাম্‌স
আরবি পাঠ্য · বাংলা অনুবাদ

সূরা আল-বালাদ (আরবি: البلد‎‎ al-balad, নগরী, দেশ) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ৯০ তম সূরা; এর আয়াত অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ২০ এবং রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ১। সূরা আল-বালাদ মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।

নামকরণ[সম্পাদনা]

এই সূরাটির প্রথম আয়াতের َآ اٌقْسِمُ بِهآذَا الْبَلَدِ বাক্যাংশের الْبَلَدِ শব্দটি অনুসারে এই সূরার নামটি গৃহীত হয়েছে; অর্থাৎ, যে সূরার মধ্যে البلد (‘বালাদ’) শব্দটি আছে এটি সেই সূরা।[১]

নাযিল হওয়ার সময় ও স্থান[সম্পাদনা]

বিষয়বস্তু ও লেখনী থেকে ধারণা করা যায় এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ প্রথম সূরাগুলোর একটি। তবে সূরাটিতে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় যা থেকে মনে হয় এটি এমন এক সময়ে নাযিল হয়েছিল যখন মক্কার অবিশ্বাসী গোষ্ঠীভুক্ত মানুষেরা মুহাম্মদের (সা.) বিরুদ্ধে তাদের বিরোধ ঘোষণা করেছিল এবং তার উপর অত্যাচার করাকে আইণতঃ সিদ্ধ বলে স্থাপন করে নিয়েছিল।

শানে নুযূল[সম্পাদনা]

সাইয়ীদ আবুল আল মওদুদি (মৃত্যু ১৯৭৯) বর্ণিত তাফসীর তাফহিম আল-কুরআনে উল্লেখ রয়েছে, এই সুরার মূল উদ্দেশ্য পৃথিবীতে মানুষের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে বর্ণনা দেওয়া। আর এ কথা জানানো যে, সৃষ্টিকর্তা মানুষের সামনে ভালো ও খারাপ দুই পথের দিশা দেখিয়েছেন এবং কোন পথটি সঠিক এবং অনুসরণীয় সেটি বিবেচনা করার ক্ষমতা প্রদান করেছেন। এখন এটি মানুষের সিদ্ধান্ত যে সে কোন পথটি বেছে নেবে। সে কি সৎকর্ম করে প্রকৃত সুখী হবে নাকি অপকর্মে লিপ্ত হয়ে ধ্বংসের পথে অগ্রসর হবে।

বিষয়বস্তুর বিবরণ[সম্পাদনা]

আয়াত সমূহ[সম্পাদনা]

لَا أُقْسِمُ بِهَذَا الْبَلَدِ

আমি এই নগরীর শপথ করি

وَأَنتَ حِلٌّ بِهَذَا الْبَلَدِ

এবং এই নগরীতে আপনার উপর কোন প্রতিবন্ধকতা নেই।

وَوَالِدٍ وَمَا وَلَدَ

শপথ জনকের ও যা জন্ম দেয়।

لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ فِي كَبَدٍ

নিশ্চয় আমি মানুষকে শ্রমনির্ভররূপে সৃষ্টি করেছি।

أَيَحْسَبُ أَن لَّن يَقْدِرَ عَلَيْهِ أَحَدٌ

সে কি মনে করে যে, তার উপর কেউ ক্ষমতাবান হবে না ?

يَقُولُ أَهْلَكْتُ مَالًا لُّبَدًا

সে বলেঃ আমি প্রচুর ধন-সম্পদ ব্যয় করেছি।

أَيَحْسَبُ أَن لَّمْ يَرَهُ أَحَدٌ

সে কি মনে করে যে, তাকে কেউ দেখেনি?

أَلَمْ نَجْعَل لَّهُ عَيْنَيْنِ

আমি কি তাকে দেইনি চক্ষুদ্বয়,

وَلِسَانًا وَشَفَتَيْنِ

জিহবা ও ওষ্ঠদ্বয় ?

وَهَدَيْنَاهُ النَّجْدَيْنِ

বস্তুতঃ আমি তাকে দু’টি পথ প্রদর্শন করেছি।

فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ

অতঃপর সে ধর্মের ঘাঁটিতে প্রবেশ করেনি।

وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْعَقَبَةُ

আপনি জানেন, সে ঘাঁটি কি?

فَكُّ رَقَبَةٍ

তা হচ্ছে দাসমুক্তি

أَوْ إِطْعَامٌ فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ

অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান।

يَتِيمًا ذَا مَقْرَبَةٍ

এতীম আত্বীয়কে

أَوْ مِسْكِينًا ذَا مَتْرَبَةٍ

অথবা ধুলি-ধুসরিত মিসকীনকে

ثُمَّ كَانَ مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ وَتَوَاصَوْا بِالْمَرْحَمَةِ

অতঃপর তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, যারা ঈমান আনে এবং পরস্পরকে উপদেশ দেয় সবরের ও উপদেশ দেয় দয়ার।

أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ

তারাই সৌভাগ্যশালী।

وَالَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِنَا هُمْ أَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ

আর যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে তারাই হতভাগা।

عَلَيْهِمْ نَارٌ مُّؤْصَدَةٌ

তারা অগ্নিপরিবেষ্টিত অবস্থায় বন্দী থাকবে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "সূরার নামকরণ"www.banglatafheem.com। তাফহীমুল কোরআন। ২০ অক্টোবর ২০১০। ২৮ আগস্ট ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]