লাদাখের ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
লে প্যালেসের থেকে ভূমিদৃশ্য

লাদাখ (তিব্বতি: ལ་དྭགས) উত্তরে কুনলুন পর্বতশ্রেণী এবং দক্ষিণে হিমালয় দ্বারা বেষ্টিত ভারতের একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল।এই এলাকার অধিবাসীরা ইন্দো-আর্য এবং তিব্বতী বংশোদ্ভুত। [১] ঐতিহাসিককাল ধরে বালটিস্তান উপত্যকা, সিন্ধু নদ উপত্যকা, জাংস্কার, লাহুল ও স্পিটি, রুদোকগুজ সহ আকসাই চিন এবং নুব্রা উপত্যকা লাদাখের অংশ ছিল। বর্তমানে লাদাখ শুধুমাত্র লেহ জেলাকার্গিল জেলা নিয়ে গঠিত।

প্রাচীন ইতিহাস[সম্পাদনা]

লাদাখের বিভিন্ন অংশে প্রাপ্ত খোদিত প্রস্তরখন্ড থেকে জানা যায় যে নব্য প্রস্তর যুগেও এই অঞ্চলে মানুষের বসবাস ছিল।[২] এই অঞ্চলের প্রথমদিককার অধিবাসীদের মধ্যে মিশ্র ইন্দো-আর্য মোনদর্দ জাতির মানুষ ছিলেন। হিরোডোটাস গান্দারিওই এবং জারেক্সেসের গ্রীস আক্রমণের উল্লেখ করার সময় দাদিকাই নামে এক জাতির উল্লেখ করেন। মেগাস্থিনিসনিয়ার্কোস ও প্রথম শতাব্দীতে প্লিনি স্বর্ণ প্রস্তুতকারক দর্দ জাতির উল্লেখ করেছেন। টলেমি সিন্ধু নদ উপত্যকার উপরের অংশে দারাদাই নামক জাতির উল্লেখ করেন। কা-লা-র্ৎসে বা খালাতসের নিকটে প্রাপ্ত উভিমা কভথিসাখরোষ্ঠী লিপি থেকে জানা যায়, প্রথম শতাব্দীতে লাদাখ কুষাণ সাম্রাজ্যের অন্তর্গত ছিল।[৩]

৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে বৌদ্ধ পরিব্রাজক হিউয়েন সাং চুলুডুয়ো বা কুলু থেকে লুয়োহুলুয়ো বা লাহুল পর্যন্ত এক যাত্রার উল্লেখ করে বলেন যে চুলুডুয়ো থেকে এক হাজার আটশো বা নয়শো লি উত্তরে পর্বত ও উপত্যকার কঠিন পথ ধরে গেলে লুয়োহুলুয়ো দেশে পৌছানো যায়। সেখান থেকে আরো দুই হাজার লি উত্তরে কঠিন বাঁধার মধ্যে দিয়ে শীতল ঝড় ও তুষারপাতের মধ্যে দিয়ে গেলে মার-সা দেশে যাওয়া যায়"[৪] এই মার-সা বা মো-লো-সো লাদাখের অপর নাম মার‍্যুলের সঙ্গে সমার্থক। এই ভ্রমণ রচনা থেকে জানা যায় যে এই মো-লো-সো সুবর্ণগোত্র রাজ্যের পার্শ্ববর্তী রাজ্য। গ্যুসেপ তুচ্চির মতে সপ্তদশ শতাব্দীতে ভারতীয়দের কাছে ঝাংঝুং বা তার দক্ষিণ অংশ সুবর্ণগোত্র বা সুবর্ণভূমি বা স্ত্রীরাজ্য নামে পরিচিত ছিল।[n ১]

অষ্টম শতাব্দীতে লাদাখে পশ্চিম দিক থেকে তিব্বতের ও মধ্য এশিয়া থেকে চীনের আধিপত্য বিস্তার শুরু হয়। ৭৩৭ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বত ব্রু-জা বা গিলগিট আক্রমণ করলে সেখানকার রাজা চীনের সহায়তা প্রার্থনা করেন কিন্তু পরবর্তীকালে তিব্বতকে কর প্রদানে বাধ্য হন। কোরীয় বৌদ্ধ সন্ন্যাসী হায়েচো ভারত থেকে মধ্য এশিয়ার পথে চীন যাওয়ার পথে [৫] কাশ্মীরের উত্তর পূর্বে অবস্থিত তিনটি রাজ্য সম্বন্ধে তাঁর ভ্রমণ কাহিনী ওয়াং ওচেওনচুকগুক জেওন গ্রন্থে বলেন যে এই রাজ্যগুলি তিব্বতের শাসনাধীনে থাকলেও বৌদ্ধমঠ ও বুদ্ধের শিক্ষার কোন অস্তিত্ব সেখানে ছিল না।[n ২] রিজভির মতে এই উক্তি প্রমাণ করে যে অষ্টম শতাব্দীর শুরুর দিকে লাদাখ তিব্বতের অধীনে থাকলেও সেখানকার মানুষ তিব্বতী ছিলেন না। [৬]

৭৪৭ খ্রিষ্টাব্দে চীনের সেনাপতি গাও জিয়ানঝি মধ্য এশিয়াকাশ্মীরের মধ্যে যোগাযোগের রাস্তা খোলার চেষ্টা করলে লাদাখ অঞ্চলে তিব্বতের প্রভাব কিছুটা হ্রাস পায়। কিন্তু ৭৫১ খ্রিষ্টাব্দে তালাস নদীর তীরে আরবদের বিরুদ্ধে গাও পরাজিত হলে তিব্বতের প্রভাব ফিরে আসে।

প্রথম পশ্চিম তিব্বত রাজবংশ[সম্পাদনা]

১০০০ খ্রিষ্টাব্দে রাজা স্ক্যিদ-ল্দে-ন্যিমা-গোনের আমলে লাদাখ রাজ্যে বিস্তার

৮৪২ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বত সাম্রাজ্যের পতন হলে অন্তিম তিব্বত সম্রাট গ্লাং-দার-মার পৌত্র স্ক্যিদ-ল্দে-ন্যিমা-গোন প্রথমবার লাদাখে রাজবংশ তৈরী করেন। সপ্তদশ শতাব্দীতে সম্পাদিত লা-দ্ভাগ্স-র্গ্যাল-রাব্স বা লাদাখের রাজাদের ধারাবিবরণীতে বলা হয় যে রাজা স্ক্যিদ-ল্দে-ন্যিমা-গোন তাঁর তিন পুত্রের মধ্য তাঁর সাম্রাজ্য ভাগ করে দেন। এই বিবরণীতে বলা হয় তিনি তাঁর তাঁর জ্যৈষ্ঠ পুত্র দ্পাল-গ্যি-ঙ্গোনকে মার‍্যুল, হ্গোগের স্বর্ন খনি, রু-থোগ, ল্দে-ম্চোগ-দ্কার-পো ও রা-বা-দ্মার-পো প্রদান করেন। এই বিবরণী থেকে বোঝা যায় যে, রু-থোগ বা রুদোক এবং ল্দে-ম্চোগ-দ্কার-পো বা দেমচোক মার‍্যুল বা লাদাখের অংশ ছিল।[n ৩] এই সময়ে লাদাখ সম্পূর্ণ রূপে তিব্বতী সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়ে। এর ফলে লাদাখে তিব্বতী জনসংখ্যা বেড়ে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিতে পরিণত হয়। এই সময়ে লাদাখের নতুন রাজবংশ কাশ্মীর ও উত্তর পশ্চিম ভারতে বৌদ্ধ ধর্ম বিস্তারে সচেষ্ট হন। ৮৭০ থেকে ৯০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত শাসনকারী ল্দে-দ্পাল-হ্খোর-ব্ৎসান লাদাখ অঞ্চলে বোন ধর্ম বিস্তারের উদ্দেশ্যে আটটি মঠ তৈরী করেন[৮] ন্যিমা-গোনের বংশের বাকি রাজাদের সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানা যায় না। এই রাজ্যের পঞ্চম রাজা ল্হাচেন উৎপল কুলু, মুস্তাংবালটিস্তানের কিছু অংশ জয় করেন। [৯]

নামগ্যাল রাজবংশ[সম্পাদনা]

ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ইসলামের ভারত বিজয়ের সময়কাল থেকে লাদাখ তিব্বতের কাছ থেকে ধর্মীয় পথপ্রদর্শনের সহায়তা নিতে থাকে। ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী মুসলিম রাজ্যগুলি বহুবার লাদাখ আক্রমণ করলে কিছু লাদাখি নূরবকশিয়া ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন।[১০][১১] এই সব কারণে লাদাখ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বাসগো ও তেমিসগাম থেকে রাজা তাকপাবুম উত্তর লাদাখ ও লেহশে থেকে রাজা তাকবুমদে নিম্ন লাদাখ শাসনকার্য পরিচালনা করতে থাকেন। ১৪৭০ খ্রিষ্টাব্দে বাসগোর রাজা ল্হাচেন ভগন লেহর রাজাকে পরাজিত করে লাদাখকে এক রাজ্যে পরিণত করেন। তিনি নামগ্যাল বা বিজয়ী উপাধি ধারণ করে নামগ্যাল রাজবংশ স্থাপন করেন। ১৫৫৫ থেকে ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত শাসনকারী রাজা তাশি নামগ্যাল মধ্য এশিয়ার আক্রমণকারীদের বিতাড়িত করতে সক্ষম হন। সেওয়াং নামগ্যাল তাঁর রাজ্য নেপাল পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। [১১] রাজা জাম্যাং নামগ্যালের আমলে মুসলমান্দের দ্বারা প্রচুর বৌদ্ধ পুরাকীর্তি ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। [১১] ১৬১৬ থেকে ১৬৪২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত শাসনকারী রাজা সেংগে নামগ্যাল মুসলমানদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হেমিস বৌদ্ধবিহার সহ বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহার ও কারুকীর্তিগুলির পুনর্নির্মাণ করে লাদাখের পুরাতন গৌরব ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হন। তিনি তাঁর রাজপ্রাসাদ শে প্রাসাদ থেকে নবনির্মিত লেহ প্রাসাদে সরিয়ে আনেন। তাঁর আমলে লাদাখের সীমানা জাংস্কারস্পিটি পর্যন্ত প্রসারিত হয়, কিন্তু মুঘলদের কাছে তিনি পরাজিত হন।

সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিব্বতের সাথে ভূটানের দ্বন্দ্ব শুরু হলে লাদাখ ভূটানের পক্ষ নেয়। এর ফলে তিব্বত লাদাখ আক্রমণ করলে ১৬৭৯ থেকে ১৬৮৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিব্বত-লাদাখ-মুঘল যুদ্ধ হয়। [১২][১৩][১৪][১৫] এই যুদ্ধে ফিদাই খাঁর নেতৃত্বে মুঘল অধিকৃত কাশ্মীর লাদাখকে সহায়তার বিনিময়ে লেহ শহরে মসজিদ নির্মাণ ও লাদাখের রাজা দেলদান নামগ্যালকে ইসলাম ধর্মগ্রহণের শর্ত রাখে। [১৬] ফিদাই খাঁ পঞ্চম দলাই লামাকে চারগ্যালের সমতলভূমিতে পরাজিত করার পর ১৬৮৪ খ্রিষ্টাব্দে টিংমোসগাংয়ের চুক্তিতে লাদাখতিব্বতের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান হলেও লাদাখের স্বাধীনতা এতে অনেকাংশে খর্ব হয়।[১১]

১৮৩৪ খ্রিষ্টাব্দে লাদাখের রাজা সেপাল নামগ্যালের সামন্ত টিম্বুসের রাজা লাদাখের বিরুদ্ধে ডোগরা সেনাপতি জোরাওয়ার সিং কাহলুরিয়ার সাহায্য চাইলে তিনি লাদাখের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন। প্রথমেই তাঁর ৫০০০ সৈন্য সুরু নদীর তীরে ঐ অঞ্চলের বোটি সৈন্যদের পরাজিত করে। এরপর তিনি কার্গিলের পথে সামন্ত রাজাদের পরাজিত করা শুরু করলে লাদাখের রাজা সেপাল নামগ্যাল তাঁর সেনাপতি বাঙ্কো কাহ্লোনকে জোরাওয়ারের রসদ সংগ্রগের পথটি নষ্ট করতে পাঠান। কিন্তু তীক্ষ্ণবদ্ধির অধিকারী জোরাওয়ার শীতের শুরুতে কার্ৎসে ফিরে আসেন এবং সেখানেই সৈন্যদের নিয়ে শীতকাল কাটান। পরের বছর বসন্তকালে তিনি বাঙ্কো কাহ্লোনের সৈন্যদলকে পরাজিত করে লেহ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। সেপাল নামগ্যাল যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০,০০০ টাকা ও বার্ষিক ২০,০০০ টাকা কর দিতে সম্মত হন। এরপর লাদাখের সামন্তরা জোরাওয়ারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলে জোরাওয়ার পুনরায় হিমালয় অতিক্রম করে এই বিদ্রোহ দমন করেন। এই অভিযানে তিনি জাংস্কারের রাজাকে কর প্রদানে বাধ্য করেন। ১৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দে সেপাল নামগ্যাল জোরাওয়ারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলে জোরাওয়ার দশদিনে লাদাখ পৌছে বিদ্রোহ দমন করেন। এই বার তিনি লেহতে এক দুর্গ তৈরী করেন এবং দলেল সিংয়ের অধীনে তিনশ সৈন্য রেখে যান। সেপাল নামগ্যালকে সরিয়ে এক লাদাখি সেনাপতি ঙ্গোরুব স্তাঞ্জিনকে লাদাখের রাজার সিংহাসনে বসিয়ে দিয়ে যান। কিন্তু ঙ্গোরুব তাঁর আনুগত্যে অস্বীকার করলে ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সেপাল নামগ্যাল পুনরায় লাদাখের রাজা হিসেবে বহাল হন। ১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বত আক্রমণ কালে জোরাওয়ারের মৃত্যু হলে শেষ বারের মতো লাদাখীরা বিদ্রোহ করলে ডোগরারা দ্রুত এই বিদ্রোহ দমন করে তিব্বতীদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। এই ঘটনার পর নামগ্যাল রাজবংশের রাজনৈতিক প্রভাব লাদাখ থেকে লোপ পায় এবং সিন্ধু নদের তীরে স্তোক গ্রামে এক প্রাসাদে বসবাস করতে বাধ্য হয়।

ব্রিটিশ প্রভাব বিস্তার[সম্পাদনা]

নামগ্যাল রাজবংশের পতনের পর লাদাখ কাশ্মীরের অন্তর্গত হয়। ১৮৪৬ খ্রিষ্টাব্দে আলেকজান্ডার কানিংহাম লাদাখতিব্বতের মধ্যে সীমান্ত সমীক্ষার চেষ্টা করে কাশ্মীর ও তিব্বতের শাসকদের অসহযোগিতার জন্য ব্যর্থ হন। ১৮৭১ খ্রিষ্টাব্দে পরিব্রাজক রবার্ট শ এবং লাদাখের উজীর ফ্রেডেরীখ ড্রীউ পুনরায় এই সমীক্ষা করেন।[১৭]:২১৭-২৩৪ ১৮৬৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ভারত সরকার হেনরী কেইলীকে লাদাখ অঞ্চলের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ও গুপ্তসংবাদ আহরণের জন্য লেহ পাঠান। ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ভারত সরকার কাশ্মীর রাজ্যের সাথে এক চুক্তির ভিত্তিতে লেহ শহরে এক ব্রিটিশ যুগ্ম কমিশনার পদের সৃষ্টি করে লাদাখের সঙ্গে মধ্য এশিয়ার বহির্বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কাশ্মীরের সঙ্গে পূর্ব তুর্কিস্তানের বৈদেশিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন।[১৮]:২৩৫-২৪৮

আধুনিক ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত স্বাধীন হলে কাশ্মীরের ডোগরা শাসক হরি সিং অন্তর্ভুক্তি চুক্তিতে সই করে লাদাখ সহ সমস্ত কাশ্মীর রাজ্যকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করেন। এই সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কাশ্মীর উপত্যকা, স্কার্দু এবং জাংস্কারের পাদুম দখল করে লেহ অভিমুখে যাত্রা করলে[১৯][২০]:৩২৬-৪০১ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের মাধ্যমে লাদাখ পাকিস্তানী দখলমুক্ত হয়। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে ভারতপাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলে লাদাখবালটিস্তান রাজনৈতিক ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।[২১] ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে চীন জিনজিয়াংনুব্রা উপত্যকার মধ্যে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে চীন ভারতের দাবিকৃত এলাকা আকসাই চিনের মধ্য দিয়ে জিনজিয়াং ও তিব্বতের মধ্যে সড়ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কারাকোরাম মহাসড়ক নির্মাণ করলে সীমান্তে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে যুদ্ধের মাধ্যমে লাদাখের আকসাই চিন ও পার্শ্ববর্তী এলাকা চীন নিজের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। সামরিক কৌশলগত কারণে ভারত শ্রীনগর থেকে লেহ পর্যন্ত ১ডি নং জাতীয় সড়ক তৈরী করে।[২][২২] ১৯৭১ ও ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তান লাদাখের পশ্চিমাংশের কার্গিল অঞ্চল নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের মাধ্যমে পুনরায় তা ভারতের অধিকারে আসে।

জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের সঙ্গে লাদাখের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সম্পর্ক বহু টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে গেছে। ১৯৭০ এর দশক থেকে এই অঞ্চলের মানুষেরা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদার দাবি জানিয়ে এসেছে। ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে লাদাখে বসবাসকারী বৌদ্ধ ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে হিংসাত্মক দাঙ্গা সৃষ্টি হলে বৌদ্ধরা মুসলিম প্রধান জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের মুসলমানদের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে লাদাখে বসবাসকারী মুসলিম ব্যবসায়ীদের সাথে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়।[২৩]:১২৯-১৫১[২৪]:৬৭-৭৮[২৫]:৪৩-৬৫ ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে লাদাখ স্বায়ত্ত্বশাসিত পার্বত্য উন্নয়ন পরিষদ, লেহ তৈরী হলে এই ক্ষোভ বহুলাংশে প্রশমিত হলেও বর্তমানে জাতীয় স্তরে গুরুত্বলাভের আশায় লাদাখের প্রভাবশালী বৌদ্ধরা ভারতীয় জনতা পার্টিকে সমর্থন করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদার দাবি জানিয়ে চলেছেন।[২৬]:১৯৩-২১৮

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Hsuan-tsang describes a journey from Ch'u-lu-to (Kuluta, Kullu) to Lo-hu-lo (Lahul), then goes on saying that "from there to the north, for over 2000 li, the road is very difficult, with cold wind and flying snow"; thus one arrives in the kingdom of Mo-lo-so, or Mar-sa, synonymous with Mar-yul, a common name for Ladakh. Elsewhere, the text remarks that Mo-lo-so, also called San-po-ho borders with Suvarnagotra or Suvarnabhumi (Land of Gold), identical with the Kingdom of Women (Strirajya). According to Tucci, the Zan-zun kingdom, or at least its southern districts were known by this name by the 7th century Indians.[৩]
  2. under the suzerainty of the Tibetans. . . . The country is narrow and small, and the mountains and valleys very rugged. There are monasteries and monks, and the people faithfully venerate the Three Jewels. As to the kingdom of Tibet to the East, there are no monasteries at all, and the Buddha's teaching is unknown; but, in [these] countries, the population consists of Hu; therefore, they are believers.[৩]:১০[৬]
  3. He gave to each of his sons a separate kingdom, viz., to the eldest Dpal-gyi-ngon, Maryul of Mnah-ris, the inhabitants using black bows; ru-thogs of the east and the Gold-mine of Hgog; nearer this way Lde-mchog-dkar-po; at the frontier ra-ba-dmar-po; Wam-le, to the top of the pass of the Yi-mig rock ...[৭]

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Cunningham, Alexander (1854). LADĀK: Physical, Statistical, and Historical with Notices of the Surrounding Countries. London. Reprint: Sagar Publications (1977).
  • Francke, A. H. (1907) A History of Ladakh. (Originally published as, A History of Western Tibet, 1907). 1977 Edition with critical introduction and annotations by S. S. Gergan & F. M. Hassnain. Sterling Publishers, New Delhi.
  • Zeisler, Bettina. (2010). "East of the Moon and West of the Sun? Approaches to a Land with Many Names, North of Ancient India and South of Khotan." In: The Tibet Journal, Special issue. Autumn 2009 vol XXXIV n. 3-Summer 2010 vol XXXV n. 2. "The Earth Ox Papers", edited by Roberto Vitali, pp. 371–463.

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Jina, Prem Singh (১৯৯৬)। Ladakh: The Land and the People। Indus Publishing। আইএসবিএন 8173870578 
  2. Loram, Charlie (২০০৪) [2000]। Trekking in Ladakh (2nd Edition সংস্করণ)। Trailblazer Publications। 
  3. Petech, Luciano (1977). The Kingdom of Ladakh c. 950–1842 A.D. Istituto Italiano per il media ed Estremo Oriente
  4. Li Rongxi (translator). The Great Tang Dynasty Record of the Western Regions. Numata Center for Buddhist Translation and Research, Berkeley, California. আইএসবিএন ১-৮৮৬৪৩৯-০২-৮.
  5. GR Vol. III (2001): Grand dictionnaire Ricci de la langue chinoise. 7 Volumes. (2001). Instituts Ricci (Paris - Taipei). আইএসবিএন ২-২২০-০৪৬৬৭-২
  6. Rizvi, Janet. (1996). Ladakh: Crossroads of High Asia. Second Edition. Oxford India Paperbacks. 3rd Impression 2001. আইএসবিএন ০-১৯-৫৬৪৫৪৬-৪.
  7. Francke, A. H. (1914), 1920, 1926. Antiquities of Indian Tibet. Vol. 1: Personal Narrative; Vol. 2: The Chronicles of Ladak and Minor Chronicles, texts and translations, with Notes and Maps. Reprint: 1972. S. Chand & Co., New Delhi. (Google Books)
  8. Francke, August Hermann (১৯৯২)। Antiquities of Indian TibetVolume 38; Volume 50 of New imperial seriesAsian Educational Services। পৃষ্ঠা 92। আইএসবিএন 81-206-0769-4 
  9. "A Brief History of Ladakh:A Himalayan Buddhist Kingdom"। Ladakh Drukpa.com। ৬ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ৯, ২০০৯ 
  10. Petech, Luciano. The Kingdom of Ladakh c. 950 - 1842 A. D., Istituto Italiano per il media ed Estremo Oriente, 1977.
  11. Loram, Charlie. Trekking in Ladakh, Trailblazer Publications, 2004
  12. Halkias, T. Georgios(2009) "Until the Feathers of the Winged Black Raven Turn White: Sources for the Tibet-Bashahr Treaty of 1679-1684," in Mountains, Monasteries and Mosques, ed. John Bray. Supplement to Rivista Orientali, pp. 59-79
  13. Emmer, Gerhard(2007) "Dga' ldan tshe dbang dpal bzang po and the Tibet-Ladakh-Mughal War of 1679-84," in The Mongolia-Tibet Interface. Opening new Research Terrains in Inner Asia, eds. Uradyn Bulag, Hildegard Diemberger, Leiden, Brill, pp. 81-107
  14. Ahmad, Zahiruddin (1968) "New Light on the Tibet-Ladakh-Mughal War of 1679-84." East and West, XVIII, 3, pp. 340-361
  15. Petech, Luciano(1947) "The Tibet-Ladakhi Moghul War of 1681-83." The Indian Historical Quarterly, XXIII, 3, pp. 169-199.
  16. "See Islam-Tibet, Cultural Interactions (8th-17th centuries)"। ৫ ডিসেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩ 
  17. Howard, Neil. The Development of the Fortress of Ladakh c. 950-1650 AD., East and West, 1989.
  18. Warikoo, K. Central Asia and Kashmir: a study in the context of Anglo-Russian Rivalry., New Delhi, Giant Publishing House, 1989.
  19. Chibber M.L. 1998. Pakistan's Criminal Folly in Kashmir. The Drama of Accesion and Rescue of Ladakh. New Delhi: Manas Publications
  20. Dani A.H. 1989. History of Northern Areas of Pakistan. Islamabad: National Institute of Historical and Cultural Research
  21. Menon, P.M & Proudfoot, C.L., The Madras Sappers, 1947-1980, 1989, Thomson Press, Faridabad, India.
  22. "Government may clear all weather tunnel to Leh today"। ১৬ জুলাই ২০১২। 
  23. Bertelsen, Kristoffer Brix 1997. Protestant Bddhism and Social Identification in Ladakh Archives de Sciences Sociales des Religiions
  24. Bertelsen, Kristoffer Brix 1997. Early Modern Buddhism in Ladakh: on the Construction of Buddhist Ladakhi Identity and its Consequences.
  25. van Beek, Martijn & Bertelsen, Kristoffer Brix 1997. No Present without Past: the 1989 Agitation in Ladakh.
  26. van Beek, Martijn 2004. Dangerous Liaisons:Hindu Nationalism and Buddhist Radicalism in Ladakh. Religious Radicalism and Security in South Asia. Honolulu: Asia-Pacific Cenre for Security Studies