লাদাখের ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বিতর্কিত কাশ্মীর অঞ্চলের মানচিত্রটি লাদাখের ভারত-শাসিত অঞ্চল দেখাচ্ছে
হেমিস মঠ, ১৮৭০ এর দশকে

নবম শতাব্দীর সময় লাদাখে রাজত্বের জন্মের আগে লাদাখ সম্পর্কে তথ্য খুবই কম। ৯৫০ খ্রিস্টাব্দে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার আগে স্বতন্ত্র ভূখণ্ড হিসেবে লাদাখকে আদৌ বিবেচনা করা হতো বলে জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে তিব্বতীয় সাম্রাজ্যের পতনের পরে সীমান্ত অঞ্চলগুলি স্বাধীন শাসকদের অধীনে স্বাধীন রাজ্য হয়ে ওঠে, যাদের বেশিরভাগ তিব্বত রাজপরিবারের শাখা থেকে এসেছিল।[১][২]

প্রাচীন ইতিহাস[সম্পাদনা]

লাদাখের প্রথম জনসংখ্যার স্তরটি সম্ভবত দারদী নিয়ে গঠিত। হেরোডোটাস দু'বার দাদিকাই নামক এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন, প্রথমে গ্যান্ডারওয়ের সাথে এবং আবার রাজা জেরক্সেসের গ্রীসে আক্রমণের ক্যাটালগে। হেরোডোটাস মধ্য এশিয়ার সোনার খননকারী পিঁপড়ার কথাও উল্লেখ করেছেন, যা আলেকজান্ডারের অ্যাডমিরাল নেওয়ার্কাস এবং মেগাস্থিনিস দ্বারা দারদী লোকদের সাথেও উল্লেখ করেছে।

খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে, প্লিনি দ্য এল্ডার পুনরাবৃত্তি করেছিলেন যে দার্ডস (লাদাখিতে ব্রুকপা) সোনার দুর্দান্ত উৎপাদনকারী। হারমান যুক্তি দেখান যে কাহিনীটি শেষ পর্যন্ত লাদাখ এবং বালতিস্তানে স্বর্ণ-ধোয়ার শিক্ষার দিকে ফিরে যায়। [উদ্ধৃতি প্রয়োজন]। টলেমি সিন্ধুর পাড়ে দারাদ্রীতে ছিলেন এবং দারদা নামটি ভৌগোলিক তালিকায় ব্যবহৃত হয়,পুরাণ এও তা উল্লেখ আছে ।

রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রথম ঝলক পাওয়া যায় সিন্ধু নদীর কা-লা-আর্টসে (খালাতসে) সেতুর নিকটে আবিষ্কৃত "উভিমা কাবথিসার" খরোস্তি শিলালিপিতে, যা দেখায় যে ১ ম শতাব্দীতে লাদাখ কুশন সম্রাজ্যের অংশ ছিল। আরও কয়েকটি সংক্ষিপ্ত ব্রাহ্মী এবং খরোস্তির শিলালিপি লাদাখে পাওয়া গেছে।

চীনা-তীর্থযাত্রী সন্ন্যাসী, জুয়ানজং৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে, চুলুডুও (কালুটা, কুলু) থেকে লুহুলুও (লাহুল) যাওয়ার যাত্রা বর্ণনা করেন এবং বলেন যে, "রোম, উত্তর দিকে যাওয়ার রাস্তাটি এক হাজার, আটশ বা নয় শতাধিক লি-র জন্য বিপদজনক পথ এবং এটি পাহাড় এবং উপত্যকাগুলির ওপারে লাহুলের দেশে চলে যায়। শীতল বাতাসে এবং ওয়েফিং স্নোফ্লেকগুলিতে অসুবিধা এবং বাধায় পরিপূর্ণ পথ ধরে উত্তর দিকে আরও দু' হাজার লি'র উপরে গিয়ে মার্সা দেশে পৌঁছতে পারে; (এছাড়াও)যা সানবোহে নামে পরিচিত) "[৩]মোলুওসুও বা মার-সা রাজত্ব লাদাখের একটি সাধারণ নাম মার-ইউলের সমার্থক বলে মনে হয়। অন্য কোথাও বলা হয় যে মো-লো-তাই সান-পো-হো সীমান্তকে সুবর্ণগোত্রা বা সুভর্ণভূমি (স্বর্ণের ভূমি) বলে অভিহিত করে যা মহিলাদের স্ত্রীরাজ্য এর সমান। টুকির মতে, ঝাংঝুং রাজ্য বা কমপক্ষে এর দক্ষিেণর জেলাগুলির ভারতীয়রা সপ্তম শতাব্দীতে এই নামে পরিচিত ছিল। ৬৪৩/৫ সালে ঝাংজুং প্রথমবারের মত তিব্বতীয় সুজারত্বকে স্বীকার করে এবং ৬৫৫/৩ সালে সেখানে একটি তিব্বত কমিশনার (মান্নান) নিযুক্ত হন। এখানে নিয়মিত প্রশাসন ৬৬২ সালে চালু হয়েছিল এবং ৬৭৭ সালে একটি ব্যর্থ বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল।

অষ্টম শতাব্দীতে লাদাখ পূর্ব থেকে তিব্বতি সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে সংঘর্ষে জড়িত ছিল এবং মধ্য এশিয়া থেকে উত্তরের মধ্য দিয়ে চীনা প্রভাব বিস্তার করেছিল। এখানে ৭১৯ সালে একটি আদমসুমারি নেওয়া হয় এবং ৭২৪ সালে প্রশাসন পুনর্গঠিত হয়। ৭৩৭ সালে তিব্বতিরা ব্রু-জা (রাজা গিলগিট) এর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়েছিল, যিনি চীনের সাহায্য চেয়েছিলেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি তিব্বতকে শ্রদ্ধা জানাতে বাধ্য হয়েছিলেন। কোরিয়ান সন্ন্যাসী হাইচো (৭০৪-৭৮৭) (পিনয়িন: হুই চাও) সমুদ্রপথে ভারতে পৌঁছে মধ্য এশিয়ার মধ্য দিয়ে ৭২৭ সালে চীনে ফিরে এসেছিল। [৪] তিনি কাশ্মীরের উত্তর-পূর্বে পাড়ে থাকা তিনটি রাজ্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন যা ছিল:

"under the suzerainty of the Tibetans. . . . The country is narrow and small, and the mountains and valleys very rugged. There are monasteries and monks, and the people faithfully venerate the Three Jewels. As to the kingdom of Tibet to the East, there are no monasteries at all, and the Buddha's teaching is unknown; but, in [these] countries, the population consists of Hu; therefore, they are believers. (Petech, The Kingdom of Ladakh, p. 10).

অর্থাৎ;

"তিব্বতীদের আধিপত্য বিস্তারের আওতায়...... দেশটি সংকীর্ণ এবং ছোট, পাহাড় এবং উপত্যকা খুব রয়েছে । সেখানে মঠ এবং সন্ন্যাসী রয়েছে এবং লোকেরা তিনটি রত্নকে বিশ্বস্তভাবে শ্রদ্ধা করে ।পূর্ব দিকে তিব্বতের রাজত্ব সম্পর্কে......... এখানে কোনও মঠ নেই, এবং বুদ্ধের শিক্ষা অজানা; তবে, [এই] দেশগুলিতে, জনসংখ্যা হু দ্বারা গঠিত; তাই তারা বিশ্বাসী (পেটেক, কিংডম অফ লাদাখ, পৃষ্ঠা ১০)। "[২]

রিজভী উল্লেখ করেছেন যে এই অনুচ্ছেদটি কেবল এটিই নিশ্চিত করে না যে, অষ্টম শতাব্দীর গোড়ার দিকে আধুনিক লাদাখ অঞ্চলটি তিব্বতীয় আধিপত্যের অধীনে ছিল, তবে লোকেরা তিব্বতীয় মজুতের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

৭৪৮-এ, চীনা জেনারেল গাও জিয়াঞ্জির প্রচারণায় তিব্বতের হস্তক্ষেপ ছিল, যিনি মধ্য এশিয়া ও কাশ্মীরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ পুনরায় উন্মুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তালাস নদীর উপর কার্লুকস ও আরবদের বিরুদ্ধে গাওর পরাজয়ের পরে (৭৫১), চীনা প্রভাব দ্রুত হ্রাস পায় এবং তিব্বতের প্রভাব আবার শুরু হয়।

ভৌগোলিক গ্রন্থ হুদুদ-আল-আলাম (৯৮২) বোলোরিয়ান (বোলার = বলু, বালতিস্তান)তিব্বতএর কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে লোকেরা প্রধানত বণিক এবং তারা ঝুপড়িতে বাস করে। পাথরে খোদাই করা নেস্টোরিয়ান ক্রস, স্পষ্টতই স্রেগডিয়ান খ্রিস্টান বণিকদের উপস্থিতির প্রমাণ যা ছিল ড্র্যাংটসে (ট্যাংটসে) এবং প্রায় একই সময়ে আরবি শিলালিপি পাওয়া এই অঞ্চলের বাণিজ্যের গুরুত্বের প্রমাণস্বরূপ। ৮৪২ সালে তিব্বতীয় রাজতন্ত্রের পতনের পরে, তিব্বতীয় সুজারেন্টি দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যায়।

প্রথম পশ্চিম তিব্বত রাজবংশ[সম্পাদনা]

১০০০ খ্রিষ্টাব্দে রাজা স্ক্যিদ-ল্দে-ন্যিমা-গোনের আমলে লাদাখ রাজ্যে বিস্তার

৮৪২ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বত সাম্রাজ্যের পতন হলে অন্তিম তিব্বত সম্রাট গ্লাং-দার-মার পৌত্র স্ক্যিদ-ল্দে-ন্যিমা-গোন প্রথমবার লাদাখে রাজবংশ তৈরী করেন। সপ্তদশ শতাব্দীতে সম্পাদিত লা-দ্ভাগ্স-র্গ্যাল-রাব্স বা লাদাখের রাজাদের ধারাবিবরণীতে বলা হয় যে রাজা স্ক্যিদ-ল্দে-ন্যিমা-গোন তার তিন পুত্রের মধ্য তার সাম্রাজ্য ভাগ করে দেন। এই বিবরণীতে বলা হয় তিনি তার তার জ্যৈষ্ঠ পুত্র দ্পাল-গ্যি-ঙ্গোনকে মার‍্যুল, হ্গোগের স্বর্ন খনি, রু-থোগ, ল্দে-ম্চোগ-দ্কার-পো ও রা-বা-দ্মার-পো প্রদান করেন। এই বিবরণী থেকে বোঝা যায় যে, রু-থোগ বা রুদোক এবং ল্দে-ম্চোগ-দ্কার-পো বা দেমচোক মার‍্যুল বা লাদাখের অংশ ছিল।[n ১] এই সময়ে লাদাখ সম্পূর্ণ রূপে তিব্বতী সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়ে। এর ফলে লাদাখে তিব্বতী জনসংখ্যা বেড়ে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিতে পরিণত হয়। এই সময়ে লাদাখের নতুন রাজবংশ কাশ্মীর ও উত্তর পশ্চিম ভারতে বৌদ্ধ ধর্ম বিস্তারে সচেষ্ট হন। ৮৭০ থেকে ৯০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত শাসনকারী ল্দে-দ্পাল-হ্খোর-ব্ৎসান লাদাখ অঞ্চলে বোন ধর্ম বিস্তারের উদ্দেশ্যে আটটি মঠ তৈরী করেন[৫] ন্যিমা-গোনের বংশের বাকি রাজাদের সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানা যায় না। এই রাজ্যের পঞ্চম রাজা ল্হাচেন উৎপল কুলু, মুস্তাংবালটিস্তানের কিছু অংশ জয় করেন। [৬]

ত্রয়োদশ শতাব্দীর দিকে, রাজনৈতিক বিকাশের কারণে, ভারত বৌদ্ধ দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু দেওয়া-নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল এবং লাদাখ তিব্বতের কাছ থেকে ধর্মীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা সন্ধান করতে ও গ্রহণ করতে শুরু করেছিল।

নামগ্যাল রাজবংশ[সম্পাদনা]

ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ইসলামের ভারত বিজয়ের সময়কাল থেকে লাদাখ তিব্বতের কাছ থেকে ধর্মীয় পথপ্রদর্শনের সহায়তা নিতে থাকে। ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী মুসলিম রাজ্যগুলি বহুবার লাদাখ আক্রমণ করলে কিছু লাদাখি নূরবকশিয়া ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন।[৭][৮] এই সব কারণে লাদাখ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বাসগো ও তেমিসগাম থেকে রাজা তাকপাবুম উত্তর লাদাখ ও লেহশে থেকে রাজা তাকবুমদে নিম্ন লাদাখ শাসনকার্য পরিচালনা করতে থাকেন। ১৪৭০ খ্রিষ্টাব্দে বাসগোর রাজা ল্হাচেন ভগন লেহর রাজাকে পরাজিত করে লাদাখকে এক রাজ্যে পরিণত করেন। তিনি নামগ্যাল বা বিজয়ী উপাধি ধারণ করে নামগ্যাল রাজবংশ স্থাপন করেন। ১৫৫৫ থেকে ১৫৭৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত শাসনকারী রাজা তাশি নামগ্যাল মধ্য এশিয়ার আক্রমণকারীদের বিতাড়িত করতে সক্ষম হন। সেওয়াং নামগ্যাল তার রাজ্য নেপাল পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। [৮] রাজা জাম্যাং নামগ্যালের আমলে মুসলমান্দের দ্বারা প্রচুর বৌদ্ধ পুরাকীর্তি ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। [৮] ১৬১৬ থেকে ১৬৪২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত শাসনকারী রাজা সেংগে নামগ্যাল মুসলমানদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হেমিস বৌদ্ধবিহার সহ বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহার ও কারুকীর্তিগুলির পুনর্নির্মাণ করে লাদাখের পুরাতন গৌরব ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হন। তিনি তার রাজপ্রাসাদ শে প্রাসাদ থেকে নবনির্মিত লেহ প্রাসাদে সরিয়ে আনেন। তার আমলে লাদাখের সীমানা জাংস্কারস্পিটি পর্যন্ত প্রসারিত হয়, কিন্তু মুঘলদের কাছে তিনি পরাজিত হন।

সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিব্বতের সাথে ভুটানের দ্বন্দ্ব শুরু হলে লাদাখ ভুটানের পক্ষ নেয়। এর ফলে তিব্বত লাদাখ আক্রমণ করলে ১৬৭৯ থেকে ১৬৮৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিব্বত-লাদাখ-মুঘল যুদ্ধ হয়। [৯][১০][১১][১২] এই যুদ্ধে ফিদাই খাঁর নেতৃত্বে মুঘল অধিকৃত কাশ্মীর লাদাখকে সহায়তার বিনিময়ে লেহ শহরে মসজিদ নির্মাণ ও লাদাখের রাজা দেলদান নামগ্যালকে ইসলাম ধর্মগ্রহণের শর্ত রাখে। [১৩] ফিদাই খাঁ পঞ্চম দলাই লামাকে চারগ্যালের সমতলভূমিতে পরাজিত করার পর ১৬৮৪ খ্রিষ্টাব্দে টিংমোসগাংয়ের চুক্তিতে লাদাখতিব্বতের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান হলেও লাদাখের স্বাধীনতা এতে অনেকাংশে খর্ব হয়।[৮]

১৮৩৪ খ্রিষ্টাব্দে লাদাখের রাজা সেপাল নামগ্যালের সামন্ত টিম্বুসের রাজা লাদাখের বিরুদ্ধে ডোগরা সেনাপতি জোরাওয়ার সিং কাহলুরিয়ার সাহায্য চাইলে তিনি লাদাখের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন। প্রথমেই তার ৫০০০ সৈন্য সুরু নদীর তীরে ঐ অঞ্চলের বোটি সৈন্যদের পরাজিত করে। এরপর তিনি কার্গিলের পথে সামন্ত রাজাদের পরাজিত করা শুরু করলে লাদাখের রাজা সেপাল নামগ্যাল তার সেনাপতি বাঙ্কো কাহ্লোনকে জোরাওয়ারের রসদ সংগ্রগের পথটি নষ্ট করতে পাঠান। কিন্তু তীক্ষ্ণবদ্ধির অধিকারী জোরাওয়ার শীতের শুরুতে কার্ৎসে ফিরে আসেন এবং সেখানেই সৈন্যদের নিয়ে শীতকাল কাটান। পরের বছর বসন্তকালে তিনি বাঙ্কো কাহ্লোনের সৈন্যদলকে পরাজিত করে লেহ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। সেপাল নামগ্যাল যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০,০০০ টাকা ও বার্ষিক ২০,০০০ টাকা কর দিতে সম্মত হন। এরপর লাদাখের সামন্তরা জোরাওয়ারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলে জোরাওয়ার পুনরায় হিমালয় অতিক্রম করে এই বিদ্রোহ দমন করেন। এই অভিযানে তিনি জাংস্কারের রাজাকে কর প্রদানে বাধ্য করেন। ১৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দে সেপাল নামগ্যাল জোরাওয়ারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলে জোরাওয়ার দশদিনে লাদাখ পৌছে বিদ্রোহ দমন করেন। এই বার তিনি লেহতে এক দুর্গ তৈরী করেন এবং দলেল সিংয়ের অধীনে তিনশ সৈন্য রেখে যান। সেপাল নামগ্যালকে সরিয়ে এক লাদাখি সেনাপতি ঙ্গোরুব স্তাঞ্জিনকে লাদাখের রাজার সিংহাসনে বসিয়ে দিয়ে যান। কিন্তু ঙ্গোরুব তার আনুগত্যে অস্বীকার করলে ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সেপাল নামগ্যাল পুনরায় লাদাখের রাজা হিসেবে বহাল হন। ১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বত আক্রমণ কালে জোরাওয়ারের মৃত্যু হলে শেষ বারের মতো লাদাখীরা বিদ্রোহ করলে ডোগরারা দ্রুত এই বিদ্রোহ দমন করে তিব্বতীদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। এই ঘটনার পর নামগ্যাল রাজবংশের রাজনৈতিক প্রভাব লাদাখ থেকে লোপ পায় এবং সিন্ধু নদের তীরে স্তোক গ্রামে এক প্রাসাদে বসবাস করতে বাধ্য হয়।

ব্রিটিশ প্রভাব বিস্তার[সম্পাদনা]

নামগ্যাল রাজবংশের পতনের পর লাদাখ কাশ্মীরের অন্তর্গত হয়। ১৮৪৬ খ্রিষ্টাব্দে আলেকজান্ডার কানিংহাম লাদাখতিব্বতের মধ্যে সীমান্ত সমীক্ষার চেষ্টা করে কাশ্মীর ও তিব্বতের শাসকদের অসহযোগিতার জন্য ব্যর্থ হন। ১৮৭১ খ্রিষ্টাব্দে পরিব্রাজক রবার্ট শ এবং লাদাখের উজীর ফ্রেডেরীখ ড্রীউ পুনরায় এই সমীক্ষা করেন।[১৪]:২১৭-২৩৪ ১৮৬৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ভারত সরকার হেনরী কেইলীকে লাদাখ অঞ্চলের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ও গুপ্তসংবাদ আহরণের জন্য লেহ পাঠান। ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ভারত সরকার কাশ্মীর রাজ্যের সাথে এক চুক্তির ভিত্তিতে লেহ শহরে এক ব্রিটিশ যুগ্ম কমিশনার পদের সৃষ্টি করে লাদাখের সঙ্গে মধ্য এশিয়ার বহির্বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কাশ্মীরের সঙ্গে পূর্ব তুর্কিস্তানের বৈদেশিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন।[১৫]:২৩৫-২৪৮

আধুনিক ইতিহাস[সম্পাদনা]

উনিশ শতকের শুরুতে মুঘল সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছিল এবং পাঞ্জাব ও কাশ্মীরে শিখ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে জম্মুর ডোগরা অঞ্চল তার রাজপুত শাসকদের অধীনে থেকে যায়। রাজা গোলব সিং, শিখ রাজা রণজিৎ সিংয়ের আধিপত্যের অধীনে অভিনয় করে, তাঁর জেনারেল জোড়োয়ার সিংহকে ১৮৩ সালে লাদাখ আক্রমণ করার জন্য প্রেরণ করেছিলেন। রাজা শেশপাল নামগিয়ালকে ক্ষমতাচ্যুত করে স্টোকে নির্বাসিত করা হয়েছিল। লাদাখ ডোগরা শাসনের অধীনে আসেন এবং পরবর্তীকালে ব্রিটিশ আধিপত্যের অধীনে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্য রাজ্যে অন্তর্ভুক্ত হন। এটি এখনও তিব্বতের সাথে যথেষ্ট স্বায়ত্তশাসন এবং সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ডোগরা – তিব্বতি যুদ্ধের সময় (১৮৪১-৪২) তিব্বত লাদাখ আক্রমণ করেছিল এবং লাদাখিরা তিব্বতীয় সহায়তায় ডোগরদের উৎখাত করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা সবাই পরাজিত হয়েছিল। নামগিয়াল পরিবারকে স্টোকের জগির দেওয়া হয়েছিল, যা এটি আজও নামমাত্র ধরে রেখেছে। ১৮৫০-এর দশকে ইউরোপীয় প্রভাব লাদাখে শুরু হয়েছিল এবং বেড়েছে। ভূতাত্ত্বিক, ক্রীড়াবিদ এবং পর্যটকরা লাদাখ অন্বেষণ শুরু করেছিলেন। ১৮৮৫ সালে, লেহ মোরাভিয়ান গির্জার একটি মিশনের সদর দফতর হয়।

ডোগ্রা শাসনামলে লাদাখকে ওয়াজরাত হিসাবে পরিচালনা করা হয়েছিল, একজন গভর্নর একে ওয়াজির-ই-ওয়াজারত বলে অভিহিত করেছিলেন। এটি লেহ, স্কার্দু এবং কারগিল ভিত্তিক তিনটি তহসিল ছিল। ওয়াজারতের সদর দফতর বছরের ছয় মাস লেহে এবং ছয় মাসের জন্য স্কার্দুতে ছিল। ১৯৩৪ সালে প্রজা সভা নামে আইনসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে লাদাখকে বিধানসভায় দুটি মনোনীত আসন দেওয়া হয়েছিল।

লাদাখের শাসকগণ:[১৬][১৭]

সিরিয়াল নাম রাজত্ব
গুলাব সিং ১৮৪৬-১৮৫৭
রণবীর সিং ১৮৫৭-১৮৮৫
প্রতাপ সিং ১৮৮৫-১৯২৫
হরি সিং ১৯২৫-১৯৪৮
করণ সিং (রিজেন্ট) ১৯৪৮-১৯৫২

লাদাখকে তিব্বতের অংশ হিসাবে দাবি করেছিলেন তিব্বত কমিউনিস্ট নেতা ফুংসক ওয়াঙ্গিয়াল।[১৮]

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য[সম্পাদনা]

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত স্বাধীন হলে কাশ্মীরের ডোগরা শাসক হরি সিং অন্তর্ভুক্তি চুক্তিতে সই করে লাদাখ সহ সমস্ত কাশ্মীর রাজ্যকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করেন। এই সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কাশ্মীর উপত্যকা, স্কার্দু এবং জাংস্কারের পাদুম দখল করে লেহ অভিমুখে যাত্রা করলে[১৯][২০]:৩২৬-৪০১ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের মাধ্যমে লাদাখ পাকিস্তানি দখলমুক্ত হয়। ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে ভারতপাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলে লাদাখবালটিস্তান রাজনৈতিক ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।[২১] ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে চীন জিনজিয়াংনুব্রা উপত্যকার মধ্যে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে চীন ভারতের দাবিকৃত এলাকা আকসাই চিনের মধ্য দিয়ে জিনজিয়াং ও তিব্বতের মধ্যে সড়ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কারাকোরাম মহাসড়ক নির্মাণ করলে সীমান্তে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে যুদ্ধের মাধ্যমে লাদাখের আকসাই চিন ও পার্শ্ববর্তী এলাকা চীন নিজের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। সামরিক কৌশলগত কারণে ভারত শ্রীনগর থেকে লেহ পর্যন্ত ১ডি নং জাতীয় সড়ক তৈরী করে।[৮][২২][২৩] ১৯৭১ ও ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তান লাদাখের পশ্চিমাংশের কার্গিল অঞ্চল নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের মাধ্যমে পুনরায় তা ভারতের অধিকারে আসে।

জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের সঙ্গে লাদাখের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সম্পর্ক বহু টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে গেছে। ১৯৭০ এর দশক থেকে এই অঞ্চলের মানুষেরা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদার দাবি জানিয়ে এসেছে। ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে লাদাখে বসবাসকারী বৌদ্ধ ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে হিংসাত্মক দাঙ্গা সৃষ্টি হলে বৌদ্ধরা মুসলিম প্রধান জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের মুসলমানদের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে লাদাখে বসবাসকারী মুসলিম ব্যবসায়ীদের সাথে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়।[২৪]:১২৯-১৫১[২৫]:৬৭-৭৮[২৬]:৪৩-৬৫ ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে লাদাখ স্বায়ত্ত্বশাসিত পার্বত্য উন্নয়ন পরিষদ, লেহ তৈরী হলে এই ক্ষোভ বহুলাংশে প্রশমিত হলেও বর্তমানে জাতীয় স্তরে গুরুত্বলাভের আশায় লাদাখের প্রভাবশালী বৌদ্ধরা ভারতীয় জনতা পার্টিকে সমর্থন করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদার দাবি জানিয়ে চলেছেন।[২৭]:১৯৩-২১৮

লাদখের ভারতীয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল[সম্পাদনা]

৩১ অক্টোবর ২০১৯-এ ভারতের সংসদ কর্তৃক একটি আগে থেকেই বিদ্যমান থাকা আইন পুনরায় পাস হয়েছিল, যে আইনের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের অংশ থেকে পৃথক করে লাদাখকে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে পুনর্গঠনের বিধান ছিল।[২৮][২৯][৩০] এই আইনের শর্তে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে কাজ করে একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর দ্বারা পরিচালিত হত এবং কোনও নির্বাচিত আইনসভা বা মুখ্যমন্ত্রী থাকত না। নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে প্রতিটি জেলা পূর্বের মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত জেলা কাউন্সিল নির্বাচন করতে থাকবে ।[৩১]

মানচিত্র[সম্পাদনা]

লাদাখ
জাতিসংঘ কর্তৃক চিত্রিত লাদাখের মানচিত্র

লাদাখের ইতিহাসের উৎস[সম্পাদনা]

লাদাখের ইতিহাসের প্রধান লিখিত উৎস হ'ল ১৭ শতাব্দীর লাদাখ ক্রনিকলস[৩২][৩৩] লাদাখ ক্রনিকলগুলি ১৯-শতাব্দীর পূর্বের দুটি সাহিত্যের উৎসগুলির মধ্যে একটি, অন্যটি ১৬৬৩ সালের sTag-ts'ah-ras-pa(সহ স্যাটাগ-তসাহ-রস-পা)-এর জীবনী হিসাবে আছে। ইতিহাসের সাতটি মূল পুঁথির অস্তিত্ব রয়েছে বলে জানা যায়, যার মধ্যে মাত্র দুটি আধুনিক যুগে টিকে আছে।[৩৪]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Cunningham, Alexander (1854). LADĀK: Physical, Statistical, and Historical with Notices of the Surrounding Countries. London. Reprint: Sagar Publications (1977).
  • Francke, A. H. (1907) A History of Ladakh. (Originally published as, A History of Western Tibet, 1907). 1977 Edition with critical introduction and annotations by S. S. Gergan & F. M. Hassnain. Sterling Publishers, New Delhi.
  • Zeisler, Bettina. (2010). "East of the Moon and West of the Sun? Approaches to a Land with Many Names, North of Ancient India and South of Khotan." In: The Tibet Journal, Special issue. Autumn 2009 vol XXXIV n. 3-Summer 2010 vol XXXV n. 2. "The Earth Ox Papers", edited by Roberto Vitali, pp. 371–463.

টীকা[সম্পাদনা]

  1. Schettler (1981), p. 78.
  2. Rizvi (1996), p. 56.
  3. Li (1996), p. 121.
  4. Francke, A. H. (1914), 1920, 1926. Antiquities of Indian Tibet. Vol. 1: Personal Narrative; Vol. 2: The Chronicles of Ladak and Minor Chronicles, texts and translations, with Notes and Maps. Reprint: 1972. S. Chand & Co., New Delhi. (Google Books)
  5. Francke, August Hermann (১৯৯২)। Antiquities of Indian TibetVolume 38; Volume 50 of New imperial seriesAsian Educational Services। পৃষ্ঠা 92। আইএসবিএন 81-206-0769-4 
  6. "A Brief History of Ladakh:A Himalayan Buddhist Kingdom"। Ladakh Drukpa.com। ৬ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ৯, ২০০৯ 
  7. Petech, Luciano. The Kingdom of Ladakh c. 950 - 1842 A. D., Istituto Italiano per il media ed Estremo Oriente, 1977.
  8. Loram, Charlie. Trekking in Ladakh, Trailblazer Publications, 2004
  9. Halkias, T. Georgios(2009) "Until the Feathers of the Winged Black Raven Turn White: Sources for the Tibet-Bashahr Treaty of 1679-1684," in Mountains, Monasteries and Mosques, ed. John Bray. Supplement to Rivista Orientali, pp. 59-79
  10. Emmer, Gerhard(2007) "Dga' ldan tshe dbang dpal bzang po and the Tibet-Ladakh-Mughal War of 1679-84," in The Mongolia-Tibet Interface. Opening new Research Terrains in Inner Asia, eds. Uradyn Bulag, Hildegard Diemberger, Leiden, Brill, pp. 81-107
  11. Ahmad, Zahiruddin (1968) "New Light on the Tibet-Ladakh-Mughal War of 1679-84." East and West, XVIII, 3, pp. 340-361
  12. Petech, Luciano(1947) "The Tibet-Ladakhi Moghul War of 1681-83." The Indian Historical Quarterly, XXIII, 3, pp. 169-199.
  13. "See Islam-Tibet, Cultural Interactions (8th-17th centuries)"। ৫ ডিসেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩ 
  14. Howard, Neil. The Development of the Fortress of Ladakh c. 950-1650 AD., East and West, 1989.
  15. Warikoo, K. Central Asia and Kashmir: a study in the context of Anglo-Russian Rivalry., New Delhi, Giant Publishing House, 1989.
  16. Jina, Prem Singh (১৯৯৬)। Ladakh: The Land and the People (ইংরেজি ভাষায়)। Indus Publishing। আইএসবিএন 978-81-7387-057-6 
  17. Kaul, Shridhar; Kaul, H. N. (১৯৯২)। Ladakh Through the Ages, Towards a New Identity (ইংরেজি ভাষায়)। Indus Publishing। আইএসবিএন 978-81-85182-75-9 
  18. Gray Tuttle; Kurtis R. Schaeffer (১২ মার্চ ২০১৩)। The Tibetan History Reader। Columbia University Press। পৃষ্ঠা 603–। আইএসবিএন 978-0-231-14468-1 
  19. Chibber M.L. 1998. Pakistan's Criminal Folly in Kashmir. The Drama of Accesion and Rescue of Ladakh. New Delhi: Manas Publications
  20. Dani A.H. 1989. History of Northern Areas of Pakistan. Islamabad: National Institute of Historical and Cultural Research
  21. Menon, P.M & Proudfoot, C.L., The Madras Sappers, 1947-1980, 1989, Thomson Press, Faridabad, India.
  22. Kaul, H. N. (১৯৯৮-০১-০১)। Rediscovery of Ladakh (ইংরেজি ভাষায়)। Indus Publishing। আইএসবিএন 9788173870866 
  23. "Government may clear all weather tunnel to Leh today"। ১৬ জুলাই ২০১২। ৮ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩ 
  24. Bertelsen, Kristoffer Brix 1997. Protestant Bddhism and Social Identification in Ladakh Archives de Sciences Sociales des Religiions
  25. Bertelsen, Kristoffer Brix 1997. Early Modern Buddhism in Ladakh: on the Construction of Buddhist Ladakhi Identity and its Consequences.
  26. van Beek, Martijn & Bertelsen, Kristoffer Brix 1997. No Present without Past: the 1989 Agitation in Ladakh.
  27. van Beek, Martijn 2004. Dangerous Liaisons:Hindu Nationalism and Buddhist Radicalism in Ladakh. Religious Radicalism and Security in South Asia. Honolulu: Asia-Pacific Cenre for Security Studies
  28. https://www.ndtv.com/india-news/bill-to-bifurcate-jammu-and-kashmir-into-2-union-territories-passed-by-rajya-sabha-2080688
  29. https://www.businesstoday.in/current/economy-politics/jammu-and-kashmir-crisis-live-updates-governor-reviews-security-situation-in-state/story/370856.html
  30. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি" (PDF)। ৬ মে ২০২১ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০২১ 
  31. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি" (PDF)। ৯ আগস্ট ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০২১ 
  32. https://books.google.com/books?id=w5APvy1TldcC
  33. https://books.google.com/books?id=4oduAAAAMAAJ
  34. https://en.wikipedia.org/wiki/Brill_Publishers

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


উদ্ধৃতি ত্রুটি: "n" নামক গ্রুপের জন্য <ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="n"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি