সেং-গে-র্নাম-র্গ্যাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সেংগে নামগ্যাল দ্বারা নির্মিত লেহ প্রাসাদ

সেং-গে-র্নাম-র্গ্যাল (ওয়াইলি: seng ge rnam rgyal) (১৫৭০ - ১৬৪২) লাদাখের নামগ্যাল রাজবংশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাজা ছিলেন। লাদাখে তিনি সিংহ রাজা নামেও সমাদৃত।

বাসগো বৌদ্ধবিহার নির্মাণ[সম্পাদনা]

১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে সেং-গে-র্নাম-র্গ্যালের পিতা 'জাম-দ্ব্যাংস-র্নাম-র্গ্যালের শাসনকালে তিনি বাসগো বৌদ্ধবিহার নির্মাণ করেন। সেই বৌদ্ধবিহারে তিনি একটি ২৪ ফুট উচ্চ মৈত্রেয় মূর্তি ও লাদাখের দ্বিতীয় বৃহত্তম একটি ৩২ ফুট উচ্চ বুদ্ধ মূর্তি নির্মাণ করেন। [১]

লাদাখ শাসন[সম্পাদনা]

সেংগে নামগ্যাল ও স্তাগ-ৎসাং-রাস-পা দ্বারা নির্মিত হানলে বৌদ্ধবিহার

১৬১৬ খ্রিষ্টাব্দে সেং-গে-র্নাম-র্গ্যাল লাদাখের সিংহাসনে বসে পশ্চিম তিব্বতের মালভূমির বেশ কিছু অংশ দখলে আনেন। লাদাখের সঙ্গে পূর্বে তিব্বত ও পশ্চিমে কাশ্মীরের ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়।

নির্মাণ[সম্পাদনা]

সেং-গে-র্নাম-র্গ্যাল মুসলমানদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহার ও কারুকীর্তিগুলির পুনর্নির্মাণ করে লাদাখের পুরাতন গৌরব ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হন। তিনি লেহ প্রাসাদ নির্মাণ করে রাজধানী শে থেকে লেহতে সরিয়ে আনেন। ১৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি হেমিস বৌদ্ধবিহার নির্মাণ করেন। [২] তিব্বতী বৌদ্ধভিক্ষু স্তাগ-ত্শাং-রাস-পা-ঙ্গাগ-দ্বাং-র্গ্যা-ম্ত্শোর সহায়তায় হানলে বৌদ্ধবিহার নির্মাণ করেন ও তাঁর প্রভাবে দ্রুগপা গোষ্ঠীতে অন্তর্ভুক্ত হলে সেং-গের আমল থেকেই লাদাখের নামগ্যাল রাজবংশের প্রত্যক্ষ সহায়তায় লাদাখে হলুদ টুপি গেলুগ বৌদ্ধ ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়ে। [৩] এছাড়াও সেংগে স্পিটির টাবো বৌদ্ধবিহারের স্বর্ণ মন্দিরের সংস্কার করেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৬৪২ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বতের ঊ-সাং প্রদেশ মঙ্গোলদের অধিকার থেকে মুক্ত করার এক অভিযান থেকে ফিরে এসে হানলেতে তাঁর মৃত্যু হয়। [৪][৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Singh Jina, Prem (১৯৯৬)। Ladakh: the land and the people। Indus Publishing। পৃষ্ঠা 77। আইএসবিএন 81-7387-057-8 
  2. "The Hemis Festival - Ladakh"। Indian Festival Tours। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ৯, ২০০৯ 
  3. Ladakh: Crossroads of High Asia. Second Edition. (1996), pp. 67-68. Janet Rizvi. Oxford University Press, New Delhi. আইএসবিএন ০-১৯-৫৬৪৫৪৬-৪.
  4. Ladakh: Crossroads of High Asia. Second Edition. (1996), p. 70. Janet Rizvi. Oxford University Press, New Delhi. আইএসবিএন ০-১৯-৫৬৪৫৪৬-৪
  5. "Chemrey Gompa"। Buddhist-temples.com। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ৯, ২০০৯