বিষয়বস্তুতে চলুন

পিঁপড়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

পিঁপড়া
সময়গত পরিসীমা: অন্ত্য ক্রিটেশিয়াস–হলোসিন
সেনা পিঁপড়াদের সেতু নির্মাণ
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: আর্থ্রোপোডা
শ্রেণী: পতঙ্গ
বর্গ: Hymenoptera
উপবর্গ: Apocrita
মহাপরিবার: Vespoidea
পরিবার: ফর্মিসিডি
Latreille, ১৮০৯
Subfamilies
  • Aenictogitoninae
  • Agroecomyrmecinae
  • Amblyoponinae (incl. "Apomyrmiae")
  • Aneuretinae
  • Cerapachyinae
  • Dolichoderinae
  • Ecitoninae (incl. "Dorylinae" and "Aenictinae")
  • Ectatomminae
  • Formiciinae
  • Formicinae
  • Heteroponerinae
  • Leptanillinae
  • Leptanilloidinae
  • Martialinae
  • Myrmeciinae (incl. "Nothomyrmeciinae")
  • Myrmicinae
  • Paraponerinae
  • Ponerinae
  • Proceratiinae
  • Pseudomyrmecinae
ক্ল্যাডোগ্রাম

Martialinae

Leptanillinae

Amblyoponinae

Paraponerinae

Agroecomyrmecinae

Ponerinae

Proceratiinae

Ecitoninae

Aenictinae

Dorylini

Aenictogitoninae

Cerapachyinae*

Leptanilloidinae

Dolichoderinae

Aneuretinae

Pseudomyrmecinae

Myrmeciinae

Ectatomminae

Heteroponerinae

Myrmicinae

Formicinae

A phylogeny of the extant ant subfamilies.[]
*Cerapachyinae is paraphyletic

পিঁপড়া বা পিপীলিকা হল ফর্মিসিডি (Formicidae) গোত্রের অন্তর্গত সামাজিক কীট বা পোকা। পিঁপড়া এদের ঘনিষ্ঠ প্রজাতি বোলতামৌমাছির

পিঁপড়া
সময়গত পরিসীমা: অন্ত্য ক্রিটেশিয়াস–হলোসিন
সেনা পিঁপড়াদের সেতু নির্মাণ
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: আর্থ্রোপোডা
শ্রেণী: পতঙ্গ
বর্গ: Hymenoptera
উপবর্গ: Apocrita
মহাপরিবার: Vespoidea
পরিবার: ফর্মিসিডি
Latreille, ১৮০৯
Subfamilies
  • Aenictogitoninae
  • Agroecomyrmecinae
  • Amblyoponinae (incl. "Apomyrmiae")
  • Aneuretinae
  • Cerapachyinae
  • Dolichoderinae
  • Ecitoninae (incl. "Dorylinae" and "Aenictinae")
  • Ectatomminae
  • Formiciinae
  • Formicinae
  • Heteroponerinae
  • Leptanillinae
  • Leptanilloidinae
  • Martialinae
  • Myrmeciinae (incl. "Nothomyrmeciinae")
  • Myrmicinae
  • Paraponerinae
  • Ponerinae
  • Proceratiinae
  • Pseudomyrmecinae
ক্ল্যাডোগ্রাম

Martialinae

Leptanillinae

Amblyoponinae

Paraponerinae

Agroecomyrmecinae

Ponerinae

Proceratiinae

Ecitoninae

Aenictinae

Dorylini

Aenictogitoninae

Cerapachyinae*

Leptanilloidinae

Dolichoderinae

Aneuretinae

Pseudomyrmecinae

Myrmeciinae

Ectatomminae

Heteroponerinae

Myrmicinae

Formicinae

A phylogeny of the extant ant subfamilies.[]
*Cerapachyinae is paraphyletic

পিঁপড়া বা পিপীলিকা হল ফর্মিসিডি (Formicidae) গোত্রের অন্তর্গত সামাজিক কীট বা পোকা। পিঁপড়া এদের ঘনিষ্ঠ প্রজাতি বোলতামৌমাছির মত একই বর্গ হাইমেনপ্টেরার (Hymenoptera) অন্তর্গত। এরা মধ্য-ক্রেটাশাস পর্যায়ে ১১ থেকে ১৩ কোটি বছর পূর্বে বোলতা জাতীয় প্রাণী হতে বিবর্তিত হয় এবং সপুষ্পক উদ্ভিদের উদ্ভবের পর বহুমুখী বিকাশ লাভ করে। এখন পর্যন্ত অনুমান করা ২২,০০০-এরও বেশি পিঁপড়া প্রজাতির মধ্যে ১৫,৭০০ টিরও বেশি প্রজাতি এবং উপ-প্রজাতি শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।[][][][] কনুই-সদৃশ শুঙ্গ এবং গ্রন্থির মত যে কাঠামো দিয়ে তার সরু কোমর গঠিত হয় তার মাধ্যমে পিঁপড়াকে সহজেই শনাক্ত করা যায়।

একটি কর্মী পিঁপড়ার রেখাচিত্র
একটি কর্মী পিঁপড়ার রেখাচিত্র

পিঁপড়া উপনিবেশ তৈরি করে বাস করে যা প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি হওয়া কয়েক ডজন শিকারী পিঁপড়া থেকে শুরু করে বিশাল এলাকাজুড়ে বাস করা লক্ষ লক্ষ পিঁপড়ার সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে। বড় দলগুলি প্রধানত অনুর্বর, পাখাবিহীন নারী পিঁপড়াদের সমন্বয়ে তৈরি হয় যারা কর্মী, সৈন্য এবং অন্যান্য বিশেষায়িত বাহিনীতে বিভক্ত থাকে। প্রায় সব পিঁপড়ার উপনিবেশেই কিছু প্রজননক্ষম পুরুষ পিঁপড়া (ড্রোন) এবং এক বা একাধিক উর্বর নারী পিঁপড়া থাকে, যাদের রাণী পিঁপড়া বলা হয়।

পিঁপড়াদের এই উপনিবেশকে কখনো কখনো সুপার-অর্গানিজম বা দলগতস্বত্তাও বলা হয়, কারণ এরা সবাই মিলে কেবল একটি প্রাণীর মত আচরণ করে এবং অস্তিত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ ভাবে সংগ্রাম করে।[]

পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র পিঁপড়ার দেখা মেলে, একমাত্র এন্টার্কটিকা ও এ ধরনের কিছু এলাকা ছাড়া। পিঁপড়া প্রায় যেকোনো বাস্তুসংস্থানে বিকাশ লাভ করতে পারে এবং এরা ভূমিগত বায়োমাসের প্রায় ১৫-২৫% গঠন করে। তাদের এই সাফল্যের কারণ হল তাদের সামাজিক সংগঠন, দ্রুত বাসস্থান পরিবর্তনের ক্ষমতা, রসদ জোগাড় করার দক্ষতা এবং নিজেদের রক্ষা করার পারদর্শিতা। অন্য প্রাণীদের সাথে তাদের দীর্ঘ দিনের সহবিবর্তনের ফলে অন্য প্রানীর আচরণ নকল/কপি করা, পরাশ্রয়ী, পরজীবী এবং মিথোজোবী সম্পর্কের পত্তন ঘটিয়েছে।[]

পিপীলিকা সমাজে শ্রমবিভাগ, ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগ এবং জটিল সমস্যা সমাধানের দক্ষতা রয়েছে। মানুষের সাথে এই সাযুজ্যগুলো তাদেরকে গবেষণার জন্য খুব আকর্ষণীয় প্রাণী করে তুলেছে। অনেক মানব সমাজে আবার পিঁপড়াকে খাদ্য, ঔষধ এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হয়। পিঁপড়ার কিছু প্রজাতি জৈব কীটনাশক হিসেবেও গুরত্বপূর্ণ। তবে পিঁপড়া মানুষের জন্যে মাঝে মাঝে ক্ষতিরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পিঁপড়া ফসলের ক্ষতি করে এবং দালান-কোঠার ধ্বংস সাধন করে। এর কিছু প্রজাতি যেমন Red imported fire ant কে কোথাও কোথাও আগ্রাসী প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ এরা ঘটনাচক্রে নতুন কোন পরিবেশে গিয়ে পড়লেও খুব সহজে সেখানে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করে নিতে পারে।

শ্রেণিবিন্যাস ও বিবর্তন

[সম্পাদনা]
Aculeata

Chrysidoidea

 
 

Vespidae

Rhopalosomatidae

 
 

Pompilidae

Tiphiidae

 

Scolioidea

 

Apoidea

Formicidae

Phylogenetic position of the ফর্মিসিডি[]

ফর্মিসিডি পরিবারটি হাইমেনপ্টেরা বর্গের অন্তর্ভুক্ত যে বর্গের মধ্যে পিঁপড়া ছাড়াও রয়েছে মৌমাছি, বোলতা এবং সফ্লাই। ভেসপয়েড বোলতাদের একটি বংশধারা থেকে পিঁপড়াদের বিবর্তন ঘটেছে।[] However, since Apoidea is a superfamily, ants must be upgraded to the same rank.[১০] জীবাশ্মের রেকর্ড থেকে জানা গেছে ১৫ কোটি বছর পূর্বে অর্থাৎ জুরাসিক যুগের শেষদিকেও তাদের অস্তিত্ব ছিল।

২০২০ সালে একটি আরও বিশদ মৌলিক শ্রেণিবিন্যাস প্রস্তাব করা হয়েছিল। বিলুপ্তপ্রায় মধ্য- ক্রিটাসিয়াস বংশের তিনটি প্রজাতি ক্যামেলোমেসিয়া এবং ক্যামেলোসফেসিয়াকে ফরমিসিডির বাইরে সাধারণ সুপারফ্যামিলি ফর্মিকয়েডিয়ার মধ্যে একটি পৃথক ক্লেডে বিন্যাস করা হয়েছিল , যা অ্যাপোডিয়ার সাথে একত্রে গঠন করে।[১১]

১০ কোটি বছর পূর্বে সপুষ্পক উদ্ভিদের বিকাশের পর তারা আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠে এবং আনুমানিক ৬ কোটি বছর পূর্বে বাস্তুতান্ত্রিক প্রতিপত্তি অর্জন করে।[১২] ১৯৬৬ সালে ই ও উইলসন ও তার সহকর্মীরা অ্যাম্বারে ফাঁদে আটকে পড়া ক্রিটেশাস যুগের একটি পিঁপড়ার জীবাশ্ম আবিষ্কার করেন যার প্রজাতির নাম Sphecomyrma freyi. ৮ কোটি বছরের পুরনো এই জীবাশ্মটিতে পিঁপড়া ও বোলতা উভয়ের বৈশিষ্ট্যই পাওয়া যায়।[১৩] স্ফেকোমারমা সম্ভবত ভূপৃষ্ঠে বসবাসকারী সংগ্রাহক ছিল, অনেকে অবশ্য মনে করেন Leptanillinae এবং Martialinae শ্রেণীর প্রাণীদের মত প্রাচীন পিঁপড়ারা মাটির নিচে শিকার করে খেতো।

ক্রেটাশাস যুগে, প্রাচীন কিছু পিপড়ার কিছু প্রজাতি Laurasian সুপারকন্টিনেন্টে (উত্তর গোলার্ধ) ছড়িয়ে পড়ে। অন্য পতঙ্গের তুলনায় তাদের সংখ্যা ছিল অপ্রতুল, পুরো প্রতঙ্গের সংখ্যার তুলনায় ধরলে প্রায় ১% মত। Paleogene যুগের শুরুতে পিঁপড়েরা দ্রুত বিবর্তন ও উপজাতীকরনের কারণে প্রভাবশালী হতে থাকে। ওলিগোসিন এবং মিয়োসিন যুগে এসে তাদের সংখ্যা ২০-৪০% দাড়ায়। ইয়োসিন সময়ে পাওয়া প্রজাতিগুলোর ১০টির মধ্যে একটি প্রজাতি আজও দেখা যায়। যে সমস্ত প্রজাতি বেচে আছে তাদের ৫৬%ই বাল্টিক এমবার (ওলিগোসিনের প্রথম দিক) ফসিলে পাওয়া গিয়েছে এবং ডমিনিকান এমবারে (মিওসিনের প্রথমদিক) ৯২% ফসিল পাওয়া যায়।[১২][১৪]

Termites উইপোকাও কলোনিতে বাস করে কখনো কখনো এদের সাদা পিঁপড়া বলা হয় কিন্তু উইপোকারা পিঁপড়ে নয়। তারা ইসোপ্টেরার উপ-গোত্র এবং তেলাপোকাকে নিয়ে তারা অন্য একটি গোত্র ব্লাটোডি গঠন করে। পিঁপড়ের মত উইপোকারাও সামাজিক, অনুর্বর কর্মী নিয়ে গঠিত কিনতু তাদের প্রজনণের জিনগত বৈশিষ্ট্য ভিন্নl উইপোকা এবং পিঁপড়ের যে সামাজিক গঠন তার মিলকে কোভারজেন্ট ইভোলুসন বা সমগোত্রীয় কিন্তু স্বাধীন (একটি অপরটির সাথে কোন সম্পর্ক নেই) বলে।[১৫] ভেলভেট পিঁপড়া দেখতে বড় পিঁপড়ার মত কিন্তু তারা আসলে পাখাবিহীন স্ত্রী বোলতা।[১৬][১৭]

বন্টন ও অভিযোজন

[সম্পাদনা]
অঞ্চলপ্রজাতির সংখ্যা[১৮]
নিওট্রপিকস২১৬২
নিআর্কটিক৫৮০
ইউরোপ১৮০
আফ্রিকা২৫০০
‌এশিয়া২০৮০
মেলানেশিয়া২৭৫
অস্ট্রেলিয়া৯৮৫
পলিনেশিয়া৪২

পিপড়ারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছে। এদের সব মহাদেশেই দেখা যায় শুধুমাত্র এন্টার্কটিক ও কিছু দ্বীপ ছাড়া যেমন গ্রীনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, পলিনেশিয়ার কিছু অংশ এবং হাওয়াইয়ান দ্বীপ[১৯][২০] পিঁপড়ারা স্থানভেদে বিভিন্ন বাস্তুসংস্থান গড়ে তোলে এবং বিভিন্ন রকম খাদ্যের উপর নির্ভর করে যা তারা সরাসরি অথবা অন্যান্য শিকারী প্রানী, তৃণভোজী প্রানী বা শিকার করা প্রানীর অবশিষ্টাংশ খেয়ে থাকে এমন প্রানীদের থেকে সংগ্রহ করে। বেশিরভাগ পিঁপড়ার প্রজাতীই হল সর্বভুক কিন্তু কিছু প্রজাতী আছে যারা শুধু বিশেষ খাদ্যাভাসে নির্ভরশীল। স্থানভেদে এদের সংখ্যার তারতম্য দেখা যায়। এদের যেমন কঠিন পরিবেশে পাওয়া যায় তেমনি আর্দ্র গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে প্রচুর পরিমানে দেখতে পাওয়া যায়।[২১] বায়োম্যাস (কোন নির্দিষ্ট স্থানে সমগ্র জীবের সমষ্টি ভিত্তিক গনণা) পদ্ধতীতে ২০০৯ সালে কীটতত্ত্ববিদ ই. ও. উইলসন ধারণা করেন পিঁপড়ার মোট সংখ্যা ১ থেকে ১০ কোয়াড্রিলিয়ন এবং এই গনণা অনুসারে ধারণা করা যায় যে পিঁপড়ার বায়োম্যাস ও মানব জাতির বায়োম্যাস প্রায় কাছাকাছি।[২২]

পিঁপড়ার আকার ০.৭৫ থেকে ৫২ মিলিমিটার (০.০৩০-২.০ ইঞ্চি), সবচেয়ে বড় প্রজাতি হল জীবাশ্ম টাইটানোমাইর্মা গিগান্টিয়াম, যার রানী ছিল ৬ সেমি ( ২+১ ⁄ ২  ইঞ্চি) লম্বা যার ডানা ১৫ সেমি (৬ ইঞ্চি)। সেমি (+ ইঞ্চি) ডানার মাপ ১৫ সেমি (৬ ইঞ্চি).[২৩] পিঁপড়ার রং ভিন্ন হয়; বেশিরভাগ পিঁপড়া হলুদ থেকে লাল বা বাদামী থেকে কালো, তবে কিছু প্রজাতি সবুজ এবং কিছু গ্রীষ্মমন্ডলীয় প্রজাতির ধাতব দীপ্তি থাকে। গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে সর্বাধিক বৈচিত্র্য সহ ১৩৮০০ টিরও বেশি প্রজাতি[২৪] বর্তমানে পরিচিত (প্রায় ২২০০০ এর সম্ভাব্য অস্তিত্ব আছে হিসেবে অনুমান করা হয়)। ট্যাক্সোনমিক অধ্যয়নগুলি পিঁপড়ার শ্রেণিবিন্যাস এবং পদ্ধতিগত সমাধান করতে সাহায্য করে থাকে। AntWeb এবং Hymenoptera Name Server সহ পিঁপড়ার প্রজাতির অনলাইন ডাটাবেসগুলিপরিচিত এবং নতুন বর্ণিত প্রজাতির ট্র্যাক রাখতে সাহায্য করে৷[২৫] বাস্তুতন্ত্রে পিঁপড়াদের নমুনা এবং অধ্যয়ন করা যে আপেক্ষিক সহজতার সাথে জীববৈচিত্র্য অধ্যয়নে সূচক প্রজাতি হিসাবে তাদের উপযোগী করে তুলেছে।

জেনিকুলেট (কনুইযুক্ত) অ্যান্টেনা , মেটাপ্লুরাল গ্রন্থি এবং নোডের মতো পেটিওলে তাদের দ্বিতীয় পেটের অংশ সংকুচিত হওয়ার কারণে পিঁপড়ারা তাদের আকারবিদ্যায় অন্যান্য পোকামাকড় থেকে আলাদা । মাথা, মেসোসোমা এবং মেটাসোমা শরীরের তিনটি স্বতন্ত্র অংশ (আনুষ্ঠানিকভাবে ট্যাগমাটা )। পেটিওল তাদের মেসোসোমা ( থোরাক্স এবং প্রথম পেটের অংশ, যা এটিতে মিশে যায়) এবং গ্যাস্টার (পেটিওলে পেটের অংশের চেয়ে কম পেট) এর মধ্যে একটি সরু কোমর তৈরি করে। পেটিওল এক বা দুটি নোড (দ্বিতীয় একা, বা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পেটের অংশ) দ্বারা গঠিত হতে পারে।[২৬] টারগোস্টেরনাল ফিউশন, যখন একটি অংশ টারগাইট এবং স্টারনাইট একসাথে ফিউজ হয়, তখন দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ পেটের অংশে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ঘটতে পারে এবং সনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়। চতুর্থ পেটের টেরগোস্টেরনাল ফিউশনটি পূর্বে চরিত্র হিসাবে ব্যবহৃত হত যা তাদের ক্লেডের মধ্যে পোনেরোমর্ফ সাবফ্যামিলি, পোনেরিনা এবং আত্মীয়দের সংজ্ঞায়িত করেছিল, কিন্তু এটিকে আর সিনাপোমরফিক বৈশিষ্ট্য হিসাবে বিবেচনা করা হয় না।[২৭]

অন্যান্য আর্থ্রোপডের মতো পিঁপড়ার একটি এক্সোস্কেলটন আছে। যা শরীরের চারপাশে একটি প্রতিরক্ষামূলক আবরণ এবং পেশীগুলির জন্য সংযুক্তির বিন্দু প্রদান করে যা মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর অভ্যন্তরীণ কঙ্কালের থেকে ভিন্ন। পোকামাকড়ের ফুসফুস নেই ফলে অক্সিজেন এবং অন্যান্য গ্যাস, যেমন কার্বন ডাই অক্সাইড, স্পাইরাকল নামক ছোট ভালভের মাধ্যমে তাদের এক্সোস্কেলটনের মধ্য দিয়ে যায়। এছাড়াও পোকামাকড়ের রক্তনালী নেই পরিবর্তে তাদের শরীরের উপরের অংশে একটি দীর্ঘ, পাতলা, ছিদ্রযুক্ত টিউব থাকে (যাকে "ডোরসাল অ্যাওর্টা" বলা হয়) যা হার্টের মতো কাজ করে এবং হেমোলিম্ফকে মাথার দিকে পাম্প করে, এইভাবে অভ্যন্তরীণ তরলগুলির সঞ্চালন চালায়। স্নায়ুতন্ত্র একটি ভেন্ট্রাল নার্ভ কর্ড নিয়ে গঠিত যা শরীরের ছড়িয়ে আছে। এই কর্ডের মধ্যে বেশকিছু গ্যাংলিয়া এবং শাখা রয়েছে যা মাথা থেকে উপাঙ্গের প্রান্তে ছড়িয়ে আছে। [২৮]

একটি পিঁপড়ার মাথায় অনেক সংবেদী অঙ্গ থাকে। বেশিরভাগ পোকামাকড়ের মতো, পিঁপড়ার যৌগিক চোখ রয়েছে যা একসাথে সংযুক্ত অসংখ্য ছোট লেন্স দিয়ে তৈরি। পিঁপড়ার চোখ তীব্র গতিবিধি সনাক্তকরণের জন্য ভাল, তবে উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি অফার করে না। তাদের মাথার উপরে তিনটি ছোট ওসেলি (সরল চোখ) রয়েছে যা আলোর মাত্রা এবং পোলারাইজেশন সনাক্ত করে।[২৯] মেরুদণ্ডী প্রাণীদের তুলনায়, পিঁপড়ার দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়, বিশেষ করে ছোট প্রজাতির মধ্যে[৩০] এবং কিছু ভূগর্ভস্থ প্রজাতিগুলো সম্পূর্ণ অন্ধ।[৩১] যাইহোক, অস্ট্রেলিয়ার বুলডগ পিঁপড়ার মতো কিছু পিঁপড়ার চমৎকার দৃষ্টি রয়েছে এবং তারা প্রায় এক মিটার দূরে সরে যাওয়া বস্তুর দূরত্ব এবং আকার বুঝতে সক্ষম।[৩২] আলোর নির্বাচিত তরঙ্গদৈর্ঘ্যের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা আছে কিনা তা বোঝার জন্য পিপড়ার উপর পরিচালিত পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে জানা যায় ক্যাম্পোনোটাস ব্লান্ডাস, সোলেনোপসিস ইনভিক্টা এবং ফরমিকা কুনিকুলারিয়ার মতো কিছু পিঁপড়া প্রজাতির রঙ বুঝতে পারে।

দুটি অ্যান্টেনা ("ফিলার") মাথার সাথে সংযুক্ত। এই অঙ্গগুলি রাসায়নিক পদার্থ, বায়ু প্রবাহ এবং কম্পন সনাক্ত করে। এগুলি স্পর্শের মাধ্যমে সংকেত প্রেরণ এবং গ্রহণ করতেও ব্যবহৃত হয়। মাথার দুটি শক্তিশালী চোয়াল রয়েছে যাকে ম্যান্ডিবল বলা হয়। এটি খাদ্য বহন করতে, জিনিসপত্র চালাতে, বাসা তৈরি করতে এবং প্রতিরক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়। কিছু প্রজাতিতে, মুখের ভিতরে একটি ছোট পকেট (ইনফ্রাবুকাল চেম্বার) খাদ্য সঞ্চয় করে, তাই এটি অন্যান্য পিঁপড়া বা বহনকারীর লার্ভাতে স্থানান্তরিত হতে পারে। [৩৩]

মেসোসোমা ("বক্ষ")-এর সঙ্গে পিঁপড়ের ডানা ও ৬টি পা যুক্ত থাকে। এদের পায়ের শেষভাগে রয়েছে হুকের মতো নখর, যা কোনো কিছুর উপর আঁকড়ে ধরতে ও বেয়ে উঠতে সাহায্য করে ।[৩৪] শুধু প্রজননকারী পিঁপড়েদেরই (পুরুষ ও রানি) ডানা থাকে। রানিরা যখন মিলিত হয়, তারপর ডানা ঝেড়ে ফেলে দেয়, যার ফলে গোড়াগুলো দৃশ্যমান থাকে। এটি রানিদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। কিছু কিছু প্রজাতির মধ্যে ডানাবিহীন পুরুষ (এরগাটয়েড) ও রানিও দেখা যায়।[৩৫]

মেটাসোমা

[সম্পাদনা]

মেটাসোমা, যা পিঁপড়ের "পেট" নামে পরিচিত, এর অভ্যন্তরে প্রজনন, শ্বসন (শ্বাসনালী ব্যবহারের মাধ্যমে), এবং রেচনতন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অঙ্গ অবস্থিত। বিভিন্ন প্রজাতির কর্মী পিঁপড়ের ডিম পাড়ার অঙ্গটি হুলে রূপান্তরিত হতে দেখা যায়, যা তারা শিকারকে কাবু করতে এবং নিজেদের বাসা রক্ষা করতে ব্যবহার করে।[৩৬]

বহুরূপতা

[সম্পাদনা]
শ্রম বিভাগ

কিছু পিঁপড়ের প্রজাতিতে তাদের কলোনির সদস্যদের মধ্যে দৈহিক ভিন্নতা দেখা যায়। শ্রমিক পিঁপড়েরা স্বতন্ত্র আকার ও শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে, যাদেরকে ক্ষুদ্র (মাইক্রগেট), মধ্যম এবং বৃহৎ (ম্যাক্রগেট) হিসাবে উল্লেখ করা হয়। প্রায়শই, এই পিঁপড়েগুলোর বৃহৎ মাথা তাদের শরীরের আকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেশ বড় হয়, এবং সেই অনুসারে তাদের চোয়ালও বেশ শক্তিশালী হয়। যদিও এদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডাইনারগেট বলা হয়, তবে এই ধরনের পিঁপড়েদেরকে কখনো কখনো "সৈনিক" পিঁপড়ে নামেও অভিহিত করা হয়। এর কারণ হল এদের শক্তিশালী চোয়ালগুলি যুদ্ধ করার জন্য তাদের আরও বেশি উপযোগী করে তোলে। তবে, এরাও শ্রমিক এবং সাধারণত মাইনর বা মিডিয়ান শ্রমিকদের তুলনায় এদের "কর্তব্য" খুব একটা আলাদা হয় না।[৩৭] কোনো কোনো প্রজাতিতে আবার মিডিয়ান শ্রমিকদের দেখা যায় না, যা মাইনর এবং মেজরদের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করে।[৩৮] উদাহরণস্বরূপ, উইভার পিঁপড়েদের মধ্যে দ্বিমুখী আকারের সুস্পষ্ট বণ্টন বিদ্যমান। [৩৯][৪০] আবার কিছু প্রজাতিতে শ্রমিকদের আকারে ক্রমাগত পরিবর্তন দেখা যায়। ক্যারেবারা ডাইভার্সা (Carebara diversa) প্রজাতির সবচেয়ে ছোট এবং সবচেয়ে বড় শ্রমিকদের শুষ্ক ওজনের মধ্যে প্রায় ৫০০ গুণ পর্যন্ত পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।[৪১]

শ্রমিকরা প্রজনন করতে অক্ষম; তথাপি, পিঁপড়াদের হ্যাপ্লোডিপ্লয়েড লিঙ্গ নির্ধারণ ব্যবস্থার জন্য, কয়েকটি প্রজাতির কর্মীরা নিষিক্ত না হওয়া ডিম দিতে সক্ষম, যা থেকে উর্বর, হ্যাপ্লয়েড পুরুষ পিঁপড়ার জন্ম হয়। শ্রমিকদের দায়িত্ব তাদের বয়সের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে দেখা যায় এবং কিছু প্রজাতিতে, যেমন হানিপট পিঁপড়াদের ক্ষেত্রে, অল্পবয়স্ক শ্রমিকদের বিশেষ প্রক্রিয়ায় খাওয়ানো হতে থাকে যতক্ষণ না তাদের গ্যাস্টার স্ফীত হয়, এবং তারা জীবন্ত খাদ্য ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে। এই খাদ্য সঞ্চয়ী শ্রমিকদের রিপ্লেট বলা হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, উত্তর আমেরিকার হানিপট পিঁপড়া Myrmecocystus mexicanus-এর মধ্যে এই রিপ্লেট শ্রমিকদের বিবর্তন দেখা যায়।[৪২]

সাধারণত কলোনির সবচেয়ে বৃহৎ শ্রমিকরা রিপ্লেটে রূপান্তরিত হয়; এবং, যদি রিপ্লেটদের কলোনি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে অন্যান্য শ্রমিকরা রিপ্লেট হয়ে যায়, যা এক বিশেষ পলিমরফিজমের পরিবর্তনশীলতা প্রদর্শন করে।[৪৩] শ্রমিকদের আকার এবং স্বভাবের এই পলিমরফিজমকে মূলত পরিবেশগত প্রভাবক যেমন খাদ্য এবং হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বলে ধারণা করা হতো যা বিভিন্ন প্রকার বিকাশের পথে পরিচালিত করে; তবে, Acromyrmex sp.- তে শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে বংশগতীয় পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে।[৪৪] এই পলিমরফিজমগুলো সামান্য জিনগত পরিবর্তনের[৪৫] ফলস্বরূপ হয়ে থাকে; সোলেনোপসিস ইনভিক্টা-এর একটি জিনের ভিন্নতাই নির্ধারণ করতে পারে যে কলোনিতে একটি নাকি বহু রানী থাকবে। অস্ট্রেলিয়ান জ্যাক জাম্পার পিঁপড়া (মাইরমেসিয়া পিলোসুলা)-এর মধ্যে শুধুমাত্র একজোড়া ক্রোমোজোম বিদ্যমান (পুরুষদের মধ্যে একটি ক্রোমোজোম থাকে যেহেতু তারা হ্যাপ্লয়েড), যা যেকোনো প্রাণীর মধ্যে সবথেকে কম সংখ্যা হিসেবে পরিচিত, একইসাথে এটিকে সামাজিক পোকামাকড়ের বংশগতি এবং ক্রমবিকাশমূলক জীববিদ্যার গবেষণা করার জন্য একটি আকর্ষণীয় বিষয়ে পরিণত করেছে।[৪৬][৪৭]

জিনোম

[সম্পাদনা]

কোনো প্রাণীর জিনোমের আকার তার একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। ধারণা করা হয় যে পিঁপড়াদের জিনোম ছোট হয়ে থাকে। জিনের আকার বিবর্তনের কারণ হলো নন-কোডিং অঞ্চলের হ্রাস ও বৃদ্ধি, বিশেষ করে ট্রান্সপোজেবল উপাদান এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ জিনোম প্রতিলিপিকরণ।[৪৮] বসতি স্থাপন প্রক্রিয়ার সাথে এর সম্পর্ক থাকতে পারে, কিন্তু এটি নিশ্চিতভাবে জানার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।[৪৯]

জীবনচক্র

[সম্পাদনা]
'''Meat eater ant''' nest during swarming

একটি পিঁপড়ের জীবনচক্রের শুরু ডিম থেকে। ডিম নিষিক্ত হলে, বংশধর হবে স্ত্রী ডিপ্লয়েড; অন্যথায়, সেটি হবে পুরুষ হ্যাপ্লয়েড। পিঁপড়েরা পূর্ণাঙ্গ রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে বিকশিত হয়, যেখানে লার্ভা দশা পিউপা দশার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পরে পূর্ণ পিঁপড়ে হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। লার্ভা মূলত চলাচল করতে পারে না এবং পিঁপড়ের কর্মীরা তাদের আহার যোগায় ও দেখাশোনা করে। লার্ভাদের ট্রোফ্যালাক্সিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ করা হয়, যেখানে একটি পিঁপড়া তার ক্রপে থাকা তরল খাদ্য উগরে দেয়। একই পদ্ধতিতে বয়স্ক পিঁপড়েরা তাদের "সামাজিক পাকস্থলী"-তে জমা খাদ্য বিতরণ করে। লার্ভা, বিশেষত পরবর্তী পর্যায়ে, কর্মী পিঁপড়েদের দ্বারা আনীত কঠিন খাদ্যও গ্রহণ করতে পারে, যেমন ট্রফিক ডিম, শিকারের মাংসের অংশ এবং বীজ ইত্যাদি। [৫০]

লার্ভা চার বা পাঁচবার খোলস পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে বড় হয় এবং পিউপা দশায় প্রবেশ করে। পিউপার উপাঙ্গগুলো মুক্ত থাকে এবং প্রজাপতির পিউপার মতো শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে না।[৫১] কিছু কিছু প্রজাতিতে রানী ও কর্মী (উভয়েই স্ত্রী) এবং কর্মীদের বিভিন্ন প্রকারভেদের মধ্যে পার্থক্য এই যে, লার্ভার অর্জিত পুষ্টির দ্বারা তাদের বেড়ে ওঠা প্রভাবিত হয় এবং তারা কি হবে তা নির্ধারিত হয়। বংশগত প্রভাব এবং পরিবেশ দ্বারা জিনের বিকাশের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ অতন্ত্য জটিল এবং পিঁপড়ার প্রকারভেদ নির্ধারণ এখনও আলোচনা ও গবেষনার বিষয়। [৫২] ডানাবিশিষ্ট পুরুষ পিঁপড়া, যাদের ড্রোন বলা হয় (আগের সাহিত্যে "অ্যানার" [৫৩] নামে পরিচিত), সাধারণত ডানাবিশিষ্ট প্রজননকারী স্ত্রী পিঁপড়াদের সঙ্গে পিউপা থেকে বের হয়। কিছু প্রজাতি, যেমন আর্মি অ্যান্ট, এর রানি ডানাবিহীন হয়। লার্ভা ও মূককীটের সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করার জন্য মোটামুটিভাবে একই তাপমাত্রায় রাখতে হয়, এবং সেই কারণে প্রায়শই তাদের কলোনির ভেতরের বিভিন্ন ব্রুড চেম্বারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।[৫৪]

একটি নবীন কর্মী পিঁপড়া তার পূর্ণাঙ্গ জীবনের প্রথম কয়েক দিন অতিবাহিত করে রানি ও বাচ্চাদের প্রতিপালন করে। তৎপর, সে মাটি খনন ও বাসার অন্যান্য কর্তব্যকর্মে, এবং পরবর্তীকালে বাসা পাহারা দেওয়া ও খাদ্য আহরণের মতো দায়িত্বে যোগ দেয়। এই পরিবর্তনগুলো মাঝে-মধ্যে বেশ দ্রুত ঘটে এবং যা টেম্পোরাল কাস্ট নামে পরিচিত। ধারণা করা হয় যে বয়স-নির্ভর এই প্রকার কর্ম-বিভাজন অথবা পলিএথিজম খাদ্য সংগ্রহ ও সুরক্ষায় থাকা উচ্চ ঝুঁকির কারণে বিবর্তিত হয়েছে, যা কেবলমাত্র বয়স্ক এবং স্বাভাবিক কারণে শীঘ্র মৃত্যুর দিকে ধাবিত পিঁপড়াদের জন্য একটি উপযুক্ত।[৫৫][৫৬] উদাহরণস্বরূপ, ব্রাজিলের ফোরেলিয়াস পুসিলুস পিঁপড়াদের কলোনিকে প্রতিদিন সূর্যাস্তের সময় শিকারী পিঁপড়া প্রজাতি থেকে বাঁচানোর জন্য বাসার প্রবেশমুখ ভেতর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এক থেকে আট জন কর্মী পিঁপড়া বাইরের দিক থেকে বাসার প্রবেশমুখ বন্ধ করে দেয়, যা কার্যত তাদের আত্মত্যাগের শামিল, কেননা তাদের আর ভেতরে ফেরার সুযোগ থাকে না। [৫৭] এই দৃশ্যত আত্মঘাতী কর্মীরা প্রবীণ কর্মী কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।[৫৮] পিঁপড়ের কলোনি অনেক দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। রানিরা প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে এবং কর্মীরা বাঁচে ১ থেকে ৩ বছর। অন্যদিকে, পুরুষ পিঁপড়েরা ক্ষণস্থায়ী ও স্বল্পজীবী হয় এবং কয়েক সপ্তাহ বাঁচে। [৫৯] ধারণা করা হয় যে পিঁপড়ের রানিরা একই আকারের নিঃসঙ্গ পোকামাকড়ের চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশি দিন বাঁচে।[৬০]

গ্রীষ্মপ্রধান এলাকাগুলোতে পিঁপড়াদের তৎপরতা পুরো বছরজুড়েই দেখা যায়। অপরদিকে, ঠাণ্ডা অঞ্চলে শীতকালে তারা হাইবারনেটবা শীতঘুমের মধ্যে থাকে। এই নিষ্ক্রিয় থাকার প্রক্রিয়া স্থানভেদে বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। কিছু নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের প্রজাতির লার্ভাগুলো সুপ্ত অবস্থায় (ডায়াপজ) চলে যায়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে শুধু বয়স্ক পিঁপড়েরা শীতকালে কম সক্রিয় হয়।[৬১]

শীতকালীন পিঁপড়া (Prenolepis imparis), পুরুষ পিঁপড়া রানীর তুলনায় বেশ ছোট হয়ে থাকে।

বংশবৃদ্ধি

[সম্পাদনা]

পিঁপড়ার বিভিন্ন প্রজাতিতে বিভিন্ন প্রকার প্রজনন প্রক্রিয়া দেখা যায়। এটা জানা যায় যে অনেক প্রজাতির স্ত্রী পিঁপড়া থেলিটোকাস পার্থেনোজেনেসিসের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন করতে পারে।[৬২] কিছু প্রজাতির পুরুষ পিঁপড়ের বিশেষ গ্রন্থি থেকে নির্গত তরল স্ত্রী পিঁপড়ার প্রজনন অঙ্গ বন্ধ করে দিতে পারে, যা স্ত্রী পিঁপড়েদের আবারও সঙ্গম করা থেকে বিরত রাখে।[৬৩] অধিকাংশ পিঁপড়ের প্রজাতিতে এমন একটি পদ্ধতি বিদ্যমান, যেখানে শুধুমাত্র রানী এবং প্রজনন করতে সক্ষম স্ত্রী পিঁপড়েরাই সঙ্গম করতে পারে। বহুল প্রচলিত ধারণার বিপরীতে, কিছু পিঁপড়ের বাসায় একাধিক রানী দেখা যায়, আবার কোনো কোনো বাসায় রানী ছাড়াও কলোনি গঠিত হতে পারে। প্রজনন করার ক্ষমতা রয়েছে এমন কর্মী পিঁপড়াগুলোকে "গেমারগেট" বলা হয়ে থাকে, এবং যেসব কলোনিতে রানী থাকে না, সেগুলোকে গেমারগেট কলোনি বলা হয়; রানী আছে এমন কলোনিগুলোকে রানী-যুক্ত কলোনি বলা হয়।[৬৪]

ক্যাটগ্লিফিস হিস্পানিকা পিঁপড়ার কর্মী পিঁপড়াগুলো দুটি আলাদা বংশের মধ্যে সংকরায়ণের ফল, যেখানে পুরুষ ও স্ত্রী জননক্ষম পিঁপড়াগুলো (অযৌন) পার্থেনোজেনেসিসের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে।[৬৫] যখন অসংকর রানি ও পুরুষ পিঁপড়েরা আশেপাশে থাকে, তখন সংকর কর্মী পিঁপড়া তৈরির এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় "সামাজিক সংকরায়ণ"।[৬৬] মেসর, পোগোনোমিরমেক্স, ক্যাটগ্লিফিস এবং সলেনোপসিস গণগুলোতে এটি দেখা যায়।[৬৭] স্ত্রী পিঁপড়াদের অন্য প্রজাতির শুক্রাণু ব্যবহারের ঘটনাকে শুক্রাণু পরজীবিতা নামে ডাকা হয়।[৬৮] ২০২৫ সালে আরও গভীর একটি বিষয় নজরে আসে, যেখানে দেখা যায় মেসর আইবেরিকাস প্রজাতির রানিরা কিছু ডিম পাড়ে যা কর্মী পিঁপড়েতে পরিণত হয় এবং এদের জিনগত গঠন মেসর স্ট্রাক্টর নামের অন্য এক প্রজাতির সাথে মেলে। যদিও এই দুটি প্রজাতি তাদের বসবাসের কিছু জায়গায় একসঙ্গে দেখা যায়, কিন্তু গবেষনাটি যে কলোনিগুলো নিয়ে করা হয়েছে, সেগুলো সিসিলি দ্বীপে ছিল। ঐ দ্বীপে শুধু মেসর আইবেরিকাস প্রজাতিই পাওয়া যায়। এই অঞ্চলের মেসর আইবেরিকাস প্রজাতির রানিরা তাদের স্পার্মাথেকা-তে রাখা শুক্রাণুর ক্লোনিং করে এবং সেই ক্লোন করা শুক্রাণু দিয়ে ডিম্বাণু নিষিক্ত করে মেসর স্ট্রাক্টর প্রজাতির পুরুষ পিঁপড়ে তৈরি করতে পারত, যা থেকে সংকর কর্মী পিঁপড়ের জন্ম হয়। এই সংকর কর্মী পিঁপড়েগুলোর মধ্যে মেসর স্ট্রাকটরের ফিনোটাইপ এবং মেসর আইবেরিকাসের মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ পাওয়া যায়। এই বিশেষ প্রজনন পদ্ধতিকে "জেনোপ্যারাস" বলা হয়, যার মানে হলো একটি প্রজাতি অন্য প্রজাতির বংশধর তৈরি করতে সক্ষম।[৬৯]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Ward, Philip S (২০০৭)। "Phylogeny, classification, and species-level taxonomy of ants (Hymenoptera: Formicidae)" (PDF)Zootaxa১৬৬৮: ৫৪৯–৫৬৩।
  2. Ward, Philip S (২০০৭)। "Phylogeny, classification, and species-level taxonomy of ants (Hymenoptera: Formicidae)" (PDF)Zootaxa১৬৬৮: ৫৪৯–৫৬৩।
  3. "Hymenoptera name server. Formicidae species count."। Ohio State University। ১৮ জুন ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০১৩
  4. La nueva taxonomía de hormigas. Pages 45–48 in Fernández, F. Introducción a las hormigas de la región neotropical. (পিডিএফ)। Instituto Humboldt, Bogotá। ২০০৩। {{বই উদ্ধৃতি}}: অজানা প্যারামিটার |coauthors= উপেক্ষা করা হয়েছে (|author= প্রস্তাবিত) (সাহায্য)
  5. জেইন্ড, জারা (২০ সেপ্টেম্বর ২০২২)। "পৃথিবীতে মোট কতটি পিঁপড়া বাস করে? বিজ্ঞানীরা তা বের করেছেন"বিজ্ঞানবার্তা। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২
  6. Schultheiss P, Nooten SS, Wang R, Wong MKL, Brassard F, Guénard B (২০২২)। "The abundance, biomass, and distribution of ants on Earth"Proceedings of the National Academy of Sciences১১৯ (40)। ডিওআই:10.1073/pnas.2201550119পিএমসি 17635পিএমআইডি 36122199{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  7. Oster GF, Wilson EO (১৯৭৮)। Caste and ecology in the social insects। Princeton University Press, Princeton। পৃ. ২১–২২। আইএসবিএন ০-৬৯১-০২৩৬১-১
  8. Hölldobler & Wilson (1990), p. 471
  9. 1 2 Johnson BR, Borowiec ML, Chiu JC, Lee EK, Atallah J, Ward PS (অক্টোবর ২০১৩)। "Phylogenomics resolves evolutionary relationships among ants, bees, and wasps"Current Biology২৩ (20): ২০৫৮–৬২। ডিওআই:10.1016/j.cub.2013.08.050পিএমআইডি 24094856
  10. Fernando Fernández; Roberto J. Guerrero; Andrés F. Sánchez Restrepo (এপ্রিল ২০২১)। "Systematics and diversity of Neotropical ants"Revista Colombiana de Entomología (ইংরেজি ভাষায়)। ৪৭ (1): e১১০৮২। ডিওআই:10.25100/socolen.v47i1.11082এইচডিএল:11336/165214
  11. Brendon E. Boudinot; Vincent Perrichot; Júlio C. M. Chaul (ডিসেম্বর ২০২০)। "†Camelosphecia gen. nov., lost ant-wasp intermediates from the mid-Cretaceous (Hymenoptera, Formicoidea)"ZooKeys (ইংরেজি ভাষায়) (1005): ২১–৫৫। বিবকোড:2020ZooK.1005...21Bডিওআই:10.3897/zookeys.1005.57629পিএমসি 7762752পিএমআইডি 33390754
  12. 1 2 Grimaldi D, Agosti D (২০০১)। "A formicine in New Jersey Cretaceous amber (Hymenoptera: Formicidae) and early evolution of the ants"Proceedings of the National Academy of Sciences৯৭ (25): ১৩৬৭৮–১৩৬৮৩। বিবকোড:2000PNAS...9713678Gডিওআই:10.1073/pnas.240452097পিএমসি 17635পিএমআইডি 11078527
  13. Wilson E O, Carpenter FM, Brown WL (১৯৬৭)। "The first Mesozoic ants"Science১৫৭ (3792): ১০৩৮–১০৪০। বিবকোড:1967Sci...157.1038Wডিওআই:10.1126/science.157.3792.1038পিএমআইডি 17770424{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  14. Hölldobler & Wilson (1990), pp. 23–24
  15. Thorne, Barbara L (১৯৯৭)। "Evolution of eusociality in termites" (পিডিএফ)Annu. Rev. Ecol. Syst.২৮ (5): ২৭–৫৩। ডিওআই:10.1146/annurev.ecolsys.28.1.27পিএমসি 349550। ৩০ মে ২০১০ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: অজানা প্যারামিটার |নামের-তালিকার-বিন্যাস= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  16. "Order Isoptera – Termites"। Iowa State University Entomology। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৪। ১৫ জুন ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০০৮
  17. "Family Mutillidae – Velvet ants"। Iowa State University Entomology। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৪। ৩০ জুন ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০০৮
  18. Hölldobler & Wilson (1990), p. 4
  19. Jones, Alice S। "Fantastic ants – Did you know?"National Geographic Magazine। ৩০ জুলাই ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০০৮
  20. Thomas, Philip (২০০৭)। "Pest Ants in Hawaii"। Hawaiian Ecosystems at Risk project (HEAR)। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুলাই ২০০৮
  21. Fayle, Tom M.; Klimes, Petr (১৮ অক্টোবর ২০২২)। "Improving estimates of global ant biomass and abundance"Proceedings of the National Academy of Sciences (ইংরেজি ভাষায়)। ১১৯ (42): e২২১৪৮২৫১১৯। বিবকোড:2022PNAS..11914825Fডিওআই:10.1073/pnas.2214825119আইএসএসএন 0027-8424পিএমসি 9586285পিএমআইডি 36197959
  22. Holldobler B, Wilson EO (২০০৯)। The Superorganism: The Beauty, Elegance, and Strangeness of Insect Societies। New York: W. W. Norton। পৃ. আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৯৩-০৬৭০৪-০
  23. Schaal, Stephan (২৭ জানুয়ারি ২০০৬)। "Messel"। Encyclopedia of Life Sciencesডিওআই:10.1038/npg.els.0004143আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪৭০-০১৬১৭-৬
  24. "AntWeb"। ৭ মে ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ আগস্ট ২০২৪
  25. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; AntWeb2 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  26. Borror, Triplehorn & Delong (1989), p. 737
  27. Ouellette, Gary D.; Fisher, Brian L.; Girman, Derek J. (২০০৬)। "Molecular systematics of basal subfamilies of ants using 28S rRNA (Hymenoptera: Formicidae)"Molecular Phylogenetics and Evolution৪০ (2): ৩৫৯–৩৬৯। বিবকোড:2006MolPE..40..359Oডিওআই:10.1016/j.ympev.2006.03.017এইচডিএল:10211.1/1549আইএসএসএন 1055-7903পিএমআইডি 16630727
  28. Borror, Triplehorn & Delong (1989), pp. 24–71
  29. Fent K, Wehner R (এপ্রিল ১৯৮৫)। "Oceili: a celestial compass in the desert ant cataglyphis"Science২২৮ (4696): ১৯২–১৯৪। বিবকোড:1985Sci...228..192Fডিওআই:10.1126/science.228.4696.192পিএমআইডি 17779641এস২সিআইডি 33242108
  30. Palavalli-Nettimi R, Narendra A (এপ্রিল ২০১৮)। "Miniaturisation decreases visual navigational competence in ants"The Journal of Experimental Biology২২১ (Pt 7): jeb১৭৭২৩৮। ডিওআই:10.1242/jeb.177238পিএমআইডি 29487158
  31. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; Ward নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  32. Eriksson ES (১৯৮৫)। "Attack behaviour and distance perception in the Australian bulldog ant Myrmecia nigriceps" (পিডিএফ)Journal of Experimental Biology১১৯ (1): ১১৫–১৩১। ডিওআই:10.1242/jeb.119.1.115। ৯ অক্টোবর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)
  33. Eisner T, Happ GM (১৯৬২)। "The infrabuccal pocket of a formicine ant: a social filtration device"Psyche: A Journal of Entomology৬৯ (3): ১০৭–১১৬। ডিওআই:10.1155/1962/25068
  34. Holbrook, Tate (২২ সেপ্টেম্বর ২০০৯)। "Ask a Biologist: Face to Face with Ants"। ASU School of Life Sciences। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০১৮
  35. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; insectmorph2 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  36. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; insectmorph3 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  37. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; :1 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  38. Wilson EO (জুন ১৯৫৩)। "The origin and evolution of polymorphism in ants"। The Quarterly Review of Biology২৮ (2): ১৩৬–১৫৬। ডিওআই:10.1086/399512পিএমআইডি 13074471এস২সিআইডি 4560071
  39. Weber, NA (১৯৪৬)। "Dimorphism in the African Oecophylla worker and an anomaly (Hym.: Formicidae)" (পিডিএফ)Annals of the Entomological Society of America৩৯: ৭–১০। ডিওআই:10.1093/aesa/39.1.7। ৯ অক্টোবর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)
  40. Wilson EO, Taylor RW (১৯৬৪)। "A Fossil Ant Colony: New Evidence of Social Antiquity" (পিডিএফ)Psyche: A Journal of Entomology৭১ (2): ৯৩–১০৩। ডিওআই:10.1155/1964/17612। ৯ অক্টোবর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)
  41. Moffett MW, Tobin JE (১৯৯১)। "Physical castes in ant workers: a problem for Daceton armigerum and other ants" (পিডিএফ)Psyche: A Journal of Entomology৯৮ (4): ২৮৩–২৯২। ডিওআই:10.1155/1991/30265। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
  42. Børgesen LW (২০০০)। "Nutritional function of replete workers in the pharaoh's ant, Monomorium pharaonis (L.)"। Insectes Sociaux৪৭ (2): ১৪১–১৪৬। ডিওআই:10.1007/PL00001692এস২সিআইডি 31953751
  43. Rissing SW (১৯৮৪)। "Replete caste production and allometry of workers in the Honey Ant, Myrmecocystus mexicanus Wesmael (Hymenoptera: Formicidae)"। Journal of the Kansas Entomological Society৫৭ (2): ৩৪৭–৩৫০।
  44. Hughes WO, Sumner S, Van Borm S, Boomsma JJ (আগস্ট ২০০৩)। "Worker caste polymorphism has a genetic basis in Acromyrmex leaf-cutting ants"Proceedings of the National Academy of Sciences of the United States of America১০০ (16): ৯৩৯৪–৯৩৯৭। বিবকোড:2003PNAS..100.9394Hডিওআই:10.1073/pnas.1633701100পিএমসি 170929পিএমআইডি 12878720
  45. Ross KG, Krieger MJ, Shoemaker DD (ডিসেম্বর ২০০৩)। "Alternative genetic foundations for a key social polymorphism in fire ants"Genetics১৬৫ (4): ১৮৫৩–১৮৬৭। ডিওআই:10.1093/genetics/165.4.1853পিএমসি 1462884পিএমআইডি 14704171
  46. Crosland MW, Crozier RH (মার্চ ১৯৮৬)। "Myrmecia pilosula, an ant with only one Pair of chromosomes"। Science২৩১ (4743): ১২৭৮। বিবকোড:1986Sci...231.1278Cডিওআই:10.1126/science.231.4743.1278পিএমআইডি 17839565এস২সিআইডি 25465053
  47. Tsutsui ND, Suarez AV, Spagna JC, Johnston JS (ফেব্রুয়ারি ২০০৮)। "The evolution of genome size in ants"BMC Evolutionary Biology (64): ৬৪। বিবকোড:2008BMCEE...8...64Tডিওআই:10.1186/1471-2148-8-64পিএমসি 2268675পিএমআইডি 18302783
  48. Moura, Mariana Neves; Cardoso, Danon Clemes; Cristiano, Maykon Passos (২০২১)। "The tight genome size of ants: diversity and evolution under ancestral state reconstruction and base composition"Zoological Journal of the Linnean Society১৯৩ (1): ১২৪–১৪৪। ডিওআই:10.1093/zoolinnean/zlaa135আইএসএসএন 0024-4082
  49. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; moura2 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  50. Hölldobler B, Wilson EO (১৯৯০)। The Ants। Harvard University Press। পৃ. ২৯১আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৭৪-০৪০৭৫-৫
  51. Gillott, Cedric (১৯৯৫)। Entomology। Springer। পৃ. ৩২৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩০৬-৪৪৯৬৭-৩
  52. Anderson KE, Linksvayer TA, Smith   Chris R. (২০০৮)। "The causes and consequences of genetic caste determination in ants (Hymenoptera: Formicidae)"Myrmecol. News১১: ১১৯–১৩২। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: ভ্যাঙ্কুভার শৈলীর ত্রুটি: 3 নামে লাতিন নয় এমন অক্ষর (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অতিরিক্ত বিরামচিহ্ন (লিঙ্ক)
  53. Gaul AT (১৯৫১)। "A Glossary of Terms and Phrases Used in the Study of Social Insects"Annals of the Entomological Society of America৪৪ (3): ৪৭৩–৪৮৪। ডিওআই:10.1093/aesa/44.3.473আইএসএসএন 1938-2901
  54. Hölldobler & Wilson (1990), pp. 351, 372
  55. Traniello JFA (১৯৮৯)। "Foraging strategies of ants"। Annual Review of Entomology৩৪: ১৯১–২১০। ডিওআই:10.1146/annurev.en.34.010189.001203
  56. Sorensen A, Busch TM, Vinson SB (১৯৮৪)। "Behavioral flexibility of temporal sub-castes in the fire ant, Solenopsis invicta, in response to food"Psyche: A Journal of Entomology৯১ (3–4): ৩১৯–৩৩২। ডিওআই:10.1155/1984/39236
  57. Tofilski, Adam; Couvillon, Margaret J.; Evison, Sophie E. F.; Helanterä, Heikki; Robinson, Elva J. H.; Ratnieks, Francis L. W. (২০০৮)। "Preemptive Defensive Self-Sacrifice by Ant Workers"। The American Naturalist১৭২ (5): E২৩৯ – E২৪৩বিবকোড:2008ANat..172E.239Tডিওআই:10.1086/591688আইএসএসএন 0003-0147পিএমআইডি 18928332এস২সিআইডি 7052340
  58. Shorter, J. R.; Rueppell, O. (২০১২)। "A review on self-destructive defense behaviors in social insects"Insectes Sociaux৫৯ (1): ১–১০। বিবকোড:2012InSoc..59....1Sডিওআই:10.1007/s00040-011-0210-xআইএসএসএন 0020-1812এস২সিআইডি 253634662
  59. Keller L (১৯৯৮)। "Queen lifespan and colony characteristics in ants and termites"। Insectes Sociaux৪৫ (3): ২৩৫–২৪৬। ডিওআই:10.1007/s000400050084এস২সিআইডি 24541087
  60. Franks NR, Resh VH, Cardé RT, সম্পাদকগণ (২০০৩)। Encyclopedia of Insects। San Diego: Academic Press। পৃ. ২৯–৩২আইএসবিএন ৯৭৮-০-১২-৫৮৬৯৯০-৪
  61. Kipyatkov VE (২০০১)। "Seasonal life cycles and the forms of dormancy in ants (Hymenoptera, Formicoidea)"। Acta Societatis Zoologicae Bohemicae৬৫ (2): ১৯৮–২১৭।
  62. Heinze J, Tsuji K (১৯৯৫)। "Ant reproductive strategies" (পিডিএফ)Res. Popul. Ecol.৩৭ (2): ১৩৫–১৪৯। বিবকোড:1995PopEc..37..135Hডিওআই:10.1007/BF02515814এস২সিআইডি 21948488। ২৭ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০০৯
  63. Mikheyev AS (২০০৩)। "Evidence for mating plugs in the fire ant Solenopsis invicta"। Insectes Sociaux৫০ (4): ৪০১–৪০২। বিবকোড:2003InSoc..50..401Mডিওআই:10.1007/s00040-003-0697-xএস২সিআইডি 43492133
  64. Peeters C, Hölldobler B (নভেম্বর ১৯৯৫)। "Reproductive cooperation between queens and their mated workers: the complex life history of an ant with a valuable nest"Proceedings of the National Academy of Sciences of the United States of America৯২ (24): ১০৯৭৭–১০৯৭৯। বিবকোড:1995PNAS...9210977Pডিওআই:10.1073/pnas.92.24.10977পিএমসি 40553পিএমআইডি 11607589
  65. Leniaud, Laurianne; Darras, Hugo; Boulay, Raphael; Aron, Serge (২০১২)। "Social Hybridogenesis in the Clonal Ant Cataglyphis hispanica"Current Biology (English ভাষায়)। ২২ (13): ১১৮৮–১১৯৩। বিবকোড:2012CBio...22.1188Lডিওআই:10.1016/j.cub.2012.04.060আইএসএসএন 0960-9822পিএমআইডি 22683263{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  66. Eyer, P. A.; Leniaud, L.; Darras, H.; Aron, S. (২০১৩)। "Hybridogenesis through thelytokous parthenogenesis in two Cataglyphis desert ants"Molecular Ecology (ইংরেজি ভাষায়)। ২২ (4): ৯৪৭–৯৫৫। বিবকোড:2013MolEc..22..947Eডিওআই:10.1111/mec.12141আইএসএসএন 0962-1083পিএমআইডি 23216892
  67. Kuhn, Alexandre; Darras, Hugo; Paknia, Omid; Aron, Serge (২০২০)। "Repeated evolution of queen parthenogenesis and social hybridogenesis in Cataglyphis desert ants"Molecular Ecology (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ (3): ৫৪৯–৫৬৪। বিবকোড:2020MolEc..29..549Kডিওআই:10.1111/mec.15283আইএসএসএন 0962-1083পিএমআইডি 31644831
  68. Umphrey, Gary J. (২০০৬)। "Sperm parasitism in ants: selection for interspecific mating and hybridization"Ecology (ইংরেজি ভাষায়)। ৮৭ (9): ২১৪৮–২১৫৯। ডিওআই:10.1890/0012-9658(2006)87[2148:SPIASF]2.0.CO;2আইএসএসএন 0012-9658পিএমআইডি 16995614
  69. Juvé, Y.; Lutrat, C.; Ha, A.; Weyna, A.; Lauroua, E.; Afonso Silva, A. C.; Roux, C.; Schifani, E.; Galkowski, C.; Lebas, C.; Allio, R.; Stoyanov, I.; Galtier, N.; Schlick-Steiner, B. C.; Steiner, F. M. (২০২৫)। "One mother for two species via obligate cross-species cloning in ants"Nature (ইংরেজি ভাষায়)। ৬৪৬ (8084): ৩৭২–৩৭৭। বিবকোড:2025Natur.646..372Jডিওআই:10.1038/s41586-025-09425-wআইএসএসএন 0028-0836পিএমসি 12507663পিএমআইডি 40903579

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]