জম্মু ও কাশ্মীর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
জম্মু ও কাশ্মীর
جموں و کشمیر
রাজ্য
জম্মু ও কাশ্মীরের পতাকা
পতাকা
জম্মু ও কাশ্মীরের অফিসিয়াল সীলমোহর
সীলমোহর
Location of Jammu and Kashmir in India
Location of Jammu and Kashmir in India
জম্মু ও কাশ্মীরের মানচিত্র
জম্মু ও কাশ্মীরের মানচিত্র
স্থানাঙ্ক (শ্রীনগর): ৩৩°২৭′ উত্তর ৭৬°১৪′ পূর্ব / ৩৩.৪৫° উত্তর ৭৬.২৪° পূর্ব / 33.45; 76.24স্থানাঙ্ক: ৩৩°২৭′ উত্তর ৭৬°১৪′ পূর্ব / ৩৩.৪৫° উত্তর ৭৬.২৪° পূর্ব / 33.45; 76.24
দেশ  ভারত
স্থাপিত ২৬ অক্টোবর, ১৯৪৭
রাজধানী
বৃহত্তম শহর শ্রীনগর
জেলার সংখ্যা ২২
সরকার[*]
 • রাজ্যপাল নরিন্দর নাথ বোহরা
 • মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি (জম্মু ও কাশ্মীর পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি)
 • বিধানসভা দ্বিকক্ষীয় (৮৯ + ৩৬ আসন)
আয়তন
 • মোট ২২২২৩৬ কিমি (৮৫৮০৬ বর্গমাইল)
এলাকার ক্রম ৬ষ্ঠ
উচ্চতা ৩২৭ মিটার (১০৭৩ ফুট)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট ১,২৫,৪৮,৯২৬
 • ক্রম ১৮তম
সময় অঞ্চল ভারতীয় সময় (ইউটিসি+০৫:৩০)
আইএসও ৩১৬৬ কোড IN-JK
মানব উন্নয়ন সূচক বৃদ্ধি ০.৬০১ (মধ্যম)
মানব উন্নয়ন সূচক ক্রম ১৭তম (২০০৫)
সাক্ষরতা ৬৬.৭% (২১তম)
সরকারি ভাষা উর্দু
ওয়েবসাইট www.jammukashmir.nic.in

জম্মু ও কাশ্মীর (উর্দু: جموں و کشمیر‎‎) হল দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত একটি বিতর্কিত অঞ্চল। এর মালিকানা নিয়ে ভারতপাকিস্তানের মধ্যে বিবাদ রয়েছে, যদিও বর্তমানে এটি ভারতের দখলকৃত একটি রাজ্য। এই রাজ্যটি প্রধানত হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত। এই রাজ্যের দক্ষিণে ভারতের হিমাচল প্রদেশপাঞ্জাব রাজ্যদুটি অবস্থিত। জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের উত্তরে ও পূর্বে গণচীন অবস্থিত। এই রাজ্যের পশ্চিমে ও উত্তরপশ্চিমে লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোলের ওপারে কাশ্মীরের পাকিস্তান-শাসিত অংশ আজাদ কাশ্মীরগিলগিত-বালতিস্তান অবস্থিত।

বর্তমান জম্মু ও কাশ্মীর ভূখণ্ডটি অতীতে কাশ্মীর ও জম্মু দেশীয় রাজ্যের অধীনস্থ ছিল। এই রাজ্যের শাসকেরা ঐতিহাসিক বৃহত্তর কাশ্মীর অঞ্চল শাসন করতেন। এখন কাশ্মীর অঞ্চলের মালিকানা নিয়ে ভারত, পাকিস্তানগণচীনের মধ্যে বিবাদ রয়েছে।[১] এই বিবাদের জেরে রাষ্ট্রসংঘ ও অন্যান্য কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যটি "ভারত-অধিকৃত কাশ্মীর" বা "ভারত-শাসিত কাশ্মীর" নামে পরিচিত।[২] অন্যদিকে পাকিস্তানের শাসনাধীনে থাকা অংশটি ভারতে "পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর" এবং পাকিস্তানে "আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর" নামে পরিচিত।[৩][৪][৫][৬][৭]

জম্মু, কাশ্মীর উপত্যকালাদাখ - এই তিন অঞ্চল নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যটি গঠিত। শ্রীনগর এই রাজ্যের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী এবং জম্মু শীতকালীন রাজধানী। কাশ্মীর উপত্যকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। জম্মু অঞ্চলে অনেক হিন্দু মন্দির থাকায় এটি হিন্দুদের কাছে একটি পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। লাদাখ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত। এই অঞ্চলটি "ছোটো তিব্বত" নামেও পরিচিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯২৫ সালে হরি সিং কাশ্মীরের রাজা হন। [৮] ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা লাভ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন কাশ্মীরের শাসক। ১৯৪৭ সালে ভারত-বিভাজনের অন্যতম শর্ত ছিল, ভারতের দেশীয় রাজ্যের রাজারা ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দিতে পারবেন, অথবা তাঁরা স্বাধীনতা বজায় রেখে শাসনকাজ চালাতে পারবেন। ১৯৪৭ সালের ২০ অক্টোবর পাকিস্তান-সমর্থিত আদিবাসীরা কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ করে।[৯]

কাশ্মীরের রাজা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলেও গভর্নর-জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেনের কাছে সহায়তা চাইলেন। কাশ্মীরের রাজা ভারতভুক্তির পক্ষে স্বাক্ষর করবেন, এই শর্তে মাউন্টব্যাটেন কাশ্মীরকে সাহায্য করতে রাজি হন।[১০] ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর হরি সিং কাশ্মীরের ভারতভুক্তির চুক্তিতে সই করেন।[১১] ২৭ অক্টোবর তা ভারতের গভর্নর-জেনারেল কর্তৃক অনুমোদিত হয়।[১২] চুক্তি সই হওয়ার পর, ভারতীয় সেনা কাশ্মীরে প্রবেশ করে অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ভারত বিষয়টি রাষ্ট্রসংঘে উত্থাপন করে। রাষ্ট্রসংঘ ভারত ও পাকিস্তানকে তাদের অধিকৃত এলাকা খালি করে দিয়ে রাষ্ট্রসংঘের তত্ত্বাবধানে গণভোটের প্রস্তাব দেয়। ভারত প্রথমে এই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ১৯৫২ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচিত গণপরিষদ ভারতভুক্তির পক্ষে ভোট দিলে ভারত গণভোটের বিপক্ষে মত দেয়।[১৩] ভারত ও পাকিস্তানে রাষ্ট্রসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি তত্ত্বাবধানে আসে। এই গোষ্ঠীর কাজ ছিল, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা ও তদন্তের রিপোর্ট প্রত্যেক পক্ষ ও রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের কাছে জমা দেওয়া। যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে কাশ্মীর থেকে উভয় পক্ষের সেনা প্রত্যাহার ও গণভোটের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু ভারত গণভোটে অসম্মত হয় এবং এজন্য পাকিস্তান সেনা প্রত্যাহারে অসম্মত হয়। ভারত গণভোট আয়োজনে অসম্মত হয় এজন্য যে, এটা নিশ্চিত ছিল যে গণভোটে মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরের বেশিরভাগ ভোটারই পাকিস্তানের পক্ষে ভোটদান করবেন ও এতে কাশ্মীরে ভারত ত্যাগের আন্দোলন আরো বেশী জোড়ালো হবে।

মুসলিম প্রধান কাশ্মীর ও অন্যান্য কারণকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হয়। এরপর ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধ হয়।

প্রশাসনিক বিভাজন[সম্পাদনা]

জেলাগুলি[সম্পাদনা]

জম্মু ও কাশ্মীরের জেলাসমূহের তালিকা

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Kashmir – Pakistan Mission to UN"। Pakun.org। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০১৩ 
  2. "OHCHR calls for restraint in Indian-administered Kashmir"United Nations। ২৭ আগস্ট ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুলাই ২০১১ 
  3. "No militant returned from Pakistan occupied Kashmir officially"। Ibnlive.in.com। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০১৩ 
  4. "Pakistan's Manipulation of the status of Gilgit- Baltistan | New Europe"। Neurope.eu। ২৪ মার্চ ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০১৩ 
  5. "China makes its presence felt in Pak occupied Kashmir"। Sunday-guardian.com। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০১৩ 
  6. "Pakistan-Occupied Kashmir on the Periphery | Institute for Defence Studies and Analyses"। Idsa.in। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০১৩ 
  7. Pakistan-Occupied Kashmir on the Periphery. Priyanka Singh. Strategic Analysis. Vol. 37, Iss. 1, 2013
  8. Sharma, Vivek। "Kashmir Ki Kahani"Aajkiawaaz। Arpana Singh Parashar। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৩ 
  9. "Quick guide: Kashmir dispute"। BBC News। ২৯ জুন ২০০৬। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০০৯ 
  10. Stein, Burton. 1998. A History of India. Oxford University Press. 432 pages. আইএসবিএন ০-১৯-৫৬৫৪৪৬-৩. Page 368.
  11. "Rediff on the NeT: An interview with Field Marshal Sam Manekshaw"। Rediff.com। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০১৩ 
  12. "Rediff on the NeT Special: The Real Kashmir Story"। Rediff.com। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০১৩ 
  13. "With Friends Like These...": Human Rights Violations in Azad KashmirUnited Nations High Commissioner for Refugees। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০০৭In January 194, 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]