স্তাগ-ত্শাং-রাস-পা-ঙ্গাগ-দ্বাং-র্গ্যা-ম্ত্শো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

স্তাগ-ত্শাং-রাস-পা-ঙ্গাগ-দ্বাং-র্গ্যা-ম্ত্শো (ওয়াইলি: stag tshang ras pa ngag dbang rgya mtsho) (১৫৭৪-১৬৫১) একজন বিখ্যাত বৌদ্ধ পরিব্রাজক ছিলেন যিনি সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে লাদাখে হেমিস বৌদ্ধবিহার সহ বেশ কিছু বৌদ্ধবিহার স্থাপন করেন এবং লাদাখের নামগ্যাল রাজবংশের রাজা সেং-গে-র্নাম-র্গ্যালের প্রথম ধর্মীয় উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করে লাদাখে 'ব্রুগ-পা-ব্কা'-ব্র্গ্যুদ ধর্মসম্প্রদায়ের প্রভাব বিস্তার করেন।

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

স্তাগ-ত্শাং-রাস-পা-ঙ্গাগ-দ্বাং-র্গ্যা-ম্ত্শো ১৫৭৪ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বতের র্গ্যাল-র্ত্সে (ওয়াইলি: rgyal rtse) অঞ্চলে 'খোন পরিবারগোষ্ঠীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ম্গোন-পো-ত্শে-রিং (ওয়াইলি: mgon po tshe ring) ঐ অঞ্চলের শাসনাধিকারিক ছিলেন। জন্মের সময় তাঁর নাম রাখা হয় ত্শে-দ্বাং-ল্হুন-গ্রুব (ওয়াইলি: tshe dbang lhun grub)। ত্শে-দ্বাং-ল্হুন-গ্রুব কৈশোরে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। কুড়ি বছর বয়সে তিনি পরিবারকে ত্যাগ করে ধর্মীয় জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে লাসা শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এই সময় তিনি 'ফ্যোংস-র্গ্যাস (ওয়াইলি: 'phyongs rgyas) নামক স্থানে যাত্রা করে 'ব্রুগ-পা-ব্কা'-ব্র্গ্যুদ ধর্মীয় গোষ্ঠীর ল্হা-র্ত্সে-বা-ঙ্গাগ-দ্বাং-ব্জাং-পো (ওয়াইলি: lha rtse ba ngag dbang bzang po) নামক বৌদ্ধভিক্ষুর নিকট দীক্ষালাভ করেন এবং তাঁর নতুন নাম হয় ঙ্গাগ-দ্বাং-র্গ্যা-ম্ত্শো। এর পরবর্তী কয়েক বছর তিনি গোং-দ্কার (ওয়াইলি: gong dkar) ও স্তাগ-লুং (ওয়াইলি: stag lung) নামক স্থানে শিক্ষালাভ করেন।[১]

ভ্রমণ[সম্পাদনা]

ধর্মশিক্ষা শেষ করে ঙ্গাগ-দ্বাং-র্গ্যা-ম্ত্শো মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করেন। তিনি মি-লা-রাস-পা নামক বিখ্যাত তিব্বতী যোগীর স্মৃতিবিজড়িত স্থান, কৈলাশ পর্বত, স্ক্যিদ-রোং (ওয়াইলি: skyid rong), ছু-বার (ওয়াইলি: chu bar) প্রভৃতি ব্কা'-ব্র্গ্যুদ ধর্মসম্প্রদায়ের বিভিন্ন তীর্থস্থান ভ্রমণ করেন। এরপর তিনি ল্হা-র্ত্সে-বা-ঙ্গাগ-দ্বাং-ব্জাং-পোর আদেশে 'ফ্রিন-লাস-দ্বাং-ফ্যুগ (ওয়াইলি: 'phrin las dbang phyug) নামক এক বৌদ্ধ লামার নিকট সাত বছর অতিবাহিত করেন। এরপর তিনি স্তাগ-ত্শাং (ওয়াইলি: stag tshang) উপত্যকায় সাধনার জন্য যান এবং ছোস-ক্যি-দ্বাং-ফ্যুগ (ওয়াইলি: chos kyi dbang phyug) তাঁকে স্তাগ-ত্শাং-রাস-পা উপাধি দান করেন। এরপর তিনি চীনের উদ্দেশ্যে কোংপো, ত্সা-বা-স্গাং (ওয়াইলি: tsa ba sgang), দার-র্ত্সে-ম্দো (ওয়াইলি: dar rtse mdo) হয়ে যাত্রা করে দক্ষিণ সিচুয়ানের পবিত্র এমেই শান পর্বত দর্শন করেন। ১৬১২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি তিব্বত ফিরে এলে ল্হা-র্ত্সে-বা-ঙ্গাগ-দ্বাং-ব্জাং-পোর আদেশে লাবচি, ছু-বার, গুজ পেরিয়ে শতদ্রু নদীর তীর ধরে কিন্নর, কাংরা, জলন্ধর হয়ে শ্রীনগর পৌঁছন। কাশ্মীর থেকে দ্রাং-পো-ব্জাং-পো (ওয়াইলি: drang po bzang po) নামক তাঁর সঙ্গীর সঙ্গে তিনি জাংস্কার যাত্রা করেন এবং সেই স্থানে এক বছর অতিবাহিত করেন। এই সময় জাংস্কারের রাজা ত্শে-রিং-দ্পাল-স্দে (ওয়াইলি: ত্শে-রিং-দ্পাল-স্দে) তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। এই সময় লাদাখের রাজা 'জাম-দ্ব্যাংস-র্নাম-র্গ্যাল তাঁকে লাদাখ যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রত্যাখ্যাত হন। এক বছর লাহুল অঞ্চলে কাটিয়ে ১৬১৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সোয়াট উপত্যকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, কিন্তু পথের প্রতিকূলতায় তাঁর সঙ্গীরা পালিয়ে যান এবং তিনি এক দস্যুদলের নিকট বন্দী হয়ে ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি হয়ে যান, কিন্তু সৌভাগ্যবশতঃ এক ব্রাহ্মণ তাঁকে মুক্ত করেন এবং এক বৌদ্ধ যোগীদলের সঙ্গে পুনরায় যাত্রা করেন। এই সময় তিনি পালনাথ নামক এক যোগীর সঙ্গে সোয়াট উপত্যকা পৌঁছন। এরপর তিনি কাশ্মীর, জাংস্কার, লাদাখ হয়ে ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বত ফিরে যান। এইই সময় তিনি গ্ত্সাং-পা রাজবংশের পঞ্চম রাজা ফুন-ত্শোগ্স-র্নাম-র্গ্যাল এবং 'ব্রুগ-পা-ব্কা'-ব্র্গ্যুদ ধর্মীয় গোষ্ঠীর পঞ্চম প্রধান বা র্গ্যাল-দ্বাং-'ব্রুগ-পা দ্পাগ-ব্সাম-দ্বাং-পোর উপদেশে তাঁর ভ্রমণকাহিনী রচনা করেন। এরপর দ্পাগ-ব্সাম-দ্বাং-পোর উপদেশে তিনি পুনরায় পশ্চিমে যাত্রা করেন এবং বাকি জীবন লাদাখের নামগ্যাল রাজবংশের রাজা সেং-গে-র্নাম-র্গ্যালের অধীনে লাদাখে অতিবাহিত করেন। সেং-গে-র্নাম-র্গ্যালের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি হানলে, হেমিসচেমরে বৌদ্ধবিহার নির্মাণ করেন।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Gardner, Alexander (2009-12)। "Taktsang Repa Ngawang Gyatso"The Treasury of Lives: Biographies of Himalayan Religious Masters। সংগ্রহের তারিখ 2014-04-04  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Petech, Luciano. 1977. The Kingdom of Ladakh, c. 950-1842. Rome: IsMEO Seria Orientale Roma, vol. 51.
  • Schwieger, Peter. 1996. “Stag tshang ras pa's Exceptional Life as a Pilgrim.” Kailash 18, pp. 81–107.
  • Snellgrove, David, and Tadeusz Skorupski. 1977. The Cultural Heritage of Ladakh. Boulder: Prajña Press.
  • Tucci, Giuseppe. 1971. Travels of Tibetan Pilgrims in the Swat Valley. In Opera Minora, Rome: Dott. Giovanni Bardi, vol 2, pp. 369–418.