রিন-ছেন-ব্জাং-পো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
রিন-ছেন-ব্জাং-পো

রিন-ছেন-ব্জাং-পো (তিব্বতি: རིན་ཆེན་བཟང་པོ་ওয়াইলি: rin chen bzang po) (৯৫৮-১০৫৬) একজন বিখ্যাত তিব্বতী অনুবাদক ছিলেন। তিনি তিব্বত সাম্রাজ্যের পতনের পরে তিব্বতে দ্বিতীয়বার বৌদ্ধধর্ম প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।[১]:৫৮

পরিবার[সম্পাদনা]

রিন-ছেন-ব্জাং-পো ৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমদিককার রচনাগুলিতে তাঁর জন্মস্থান সম্বন্ধে কোন তথ্য জানা না গেলেও পরবর্তীকালে রচিত গ্রন্থগুলিতে গুজ রাজ্যের খ্বা-ত্সে-বিং-গির (ওয়াইলি: khwa tse wing gir) নামক শহরকে তাঁর জন্মস্থান বলে উল্লেখ করেছে। তাঁর পিতার নাম ছিল গ্ঝোন-নু-দ্বাং-ফ্যুগ (ওয়াইলি: gzhon nu dbang phyug) এবং মাতার নাম ছিল চোগ-রো-কুন-ব্জাং-শেস-রাব-ব্স্তান-মা (ওয়াইলি: cog ro kun bzang shes rab bstan ma)। গ্যু-স্গ্রা (ওয়াইলি: g.yu sgra) নামক তাঁর পরিবারগোষ্ঠী তিব্বতী জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্গত ছিল না বলে ধারণা করা হয়। জন্মের সময় তাঁর নাম রাখা হয় রিন-ছেন-দ্বাং-ফ্যুগ (ওয়াইলি: rin chen dbang phyug)। তাঁর জ্যৈষ্ঠ ভ্রাতা শেস-রাব-দ্বাং-ফ্যুগ (ওয়াইলি: shes rab dbang phyug), কনিষ্ঠ ভ্রাতা য়োন-তান-দ্বাং-ফ্যুগ (ওয়াইলি: yon tan dbang phyug) ও ভগিনী কুন-স্রিং-শেস-ম্ত্শো (ওয়াইলি: kun sring shes mtsho) সকলেই বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হন।[২]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

তেরো বছর বয়সে ম্খান-পো-য়ে-শেস-ব্জাং-পো (ওয়াইলি: mkhan po ye shes bzang po) নামক এক বৌদ্ধ ভিক্ষু রিন-ছেন-দ্বাং-ফ্যুগকে বৌদ্ধমতে দীক্ষিত করেন। গুজ রাজ্যের দ্বিতীয় রাজা ব্যাং-ছুব-য়ে-শেস'-ওদের আদেশে ৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি অত্যন্ত কষ্ট সহ্য করে কাশ্মীর যাত্রা করেন। সেখানে তিনি শ্রদ্ধাকরবর্মন নামক এক পন্ডিতের নিকট সাত বছর ধরে দর্শন ও তন্ত্র সম্বন্ধীয় সংস্কৃত গ্রন্থ অধ্যয়ন করেন। এই সময় তিনি রত্নবজ্রের নিকট যোগতন্ত্রযান, নারো পার নিকট গুহ্যসমাজতন্ত্র এবং নোর-বু-গ্লিং-পার নিকট দুর্গতিপ্রতিশোধনতন্ত্র সম্বন্ধে শিক্ষালাভ করেন। এরপর তিনি বিক্রমশীলা যাত্রা করে দীপঙ্করভদ্র, জিনাকর ও দুর্যচন্দ্রের সাতে চক্রসম্বর সম্বন্ধে অধ্যয়ন করে ৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বত ফিরে যান।[২]

অনুবাদকর্ম[সম্পাদনা]

গুজ রাজ্যের তৃতীয় রাজা ল্হা-লামা-ব্যাং-ছুব-ওদের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি থোলিং বৌদ্ধবিহারে সংস্কৃত গ্রন্থগুলির তিব্বতীতে অনুবাদ শুরু করেন। থোলিং বৌদ্ধবিহারে ভারতীয় পন্ডিত ধর্মশ্রীভদ্র তাঁর সাথে বোধিচর্যাবতার অনুবাদ করেন। রিন-ছেন-ব্জাং-পো তিব্বতে অষ্টসহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতাঅভিসময়ালঙ্কার প্রভৃতি বিখ্যাত গ্রন্থের অনুবাদ করেন। এছাড়াও তিনি সর্বতথাগততত্ত্বসংগ্রহের ওপর বহু টীকাভাষ্যের অনুবাদ করেন। তিনি তিব্বতে প্রথম চক্রসম্বর তন্ত্র এবং অনুত্তরযোগতন্ত্রের মহাযোগতন্ত্র ও যোগিনীতন্ত্র সম্বন্ধে প্রচার করেন।[২] এছাড়াও তিনি প্রজ্ঞাবর্মণ দ্বারা রচিত বিশেষস্তবটীকা গ্রন্থটিকে অনুবাদ করেন।[৩]

মন্দির সংস্কার[সম্পাদনা]

তিনি দ্পাল-দ্পে-মেদ-ল্হুন-গ্যিস-গ্রুব-পা (ওয়াইলি: dpal dpe med lhun gyis grub pa) এবং গ্সের-ক্যি-ল্হা-খাং (ওয়াইলি: gser kyi lha khang) নামক দুইটি বৌদ্ধ মন্দিরে নির্মাণে অংশগ্রহণ করেন। এরপর তিনি ছয় বছর ধরে ভারতের বিভিন্ন স্থানে যাত্রা করে নতুন মন্দিরগুলির জন্য চিত্র ও স্থাপত্যকলা নির্মাণের জন্য কারিগর জোগাড় করেন। এই কারিগরদের মধ্যে ভিধক নামের একজনের উল্লেখ পাওয়া যায় যিনি খা-ত্সে শহরে অবস্থিত গো-খার-ল্হা-খাং মন্দিরে অবলোকিতেশ্বরের মূর্তি নির্মাণ করেন। এছাড়া তিনি উত্তরপশ্চিম লাদাখ অঞ্চলের লাংকা শহরের নিকটে 'খাব-ছার মন্দির, কিন্নর অঞ্চলে পু বৌদ্ধবিহার[৪] এবং ৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে স্পিতি অঞ্চলে তাবো বৌদ্ধবিহার নির্মাণ করেন।[১]:২৫৬[২]

শিষ্য[সম্পাদনা]

রিন-ছেন-ব্জাং-পোর প্রধান শিষ্য মাল-ব্লো-গ্রোস-গ্রাগ্স-পা ধর্মকীর্তি রচিত প্রমাণবার্তিক অনুবাদ করেন। তাঁর অপর প্রধান শিষ্য ছিলেন র্ঙ্গোগ-লো-ত্সা-বা-ব্লো-ল্দান-শেস-রাব (ওয়াইলি: rngog lo tsA ba blo ldan shes rab), গ্রাগ্স-রিন (ওয়াইলি: grags rin), র্গ্যা-য়ে-ত্শুক (ওয়াইলি: rgya ye tshuk), গুং-পা-য়ে-শেস (ওয়াইলি: gung pa ye shes), দ্কোন-ম্ছোগ-ব্র্ত্সেগ্স (ওয়াইলি: dkon mchog brtsegs) প্রভৃতি।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Rizvi, Janet. (1996). Ladakh: Crossroads of High Asia. Second Revised Edition. Oxford University Press. আইএসবিএন ০-১৯-৫৬৪৫৪৬-৪
  2. Gardner, Alexander (২০১১-০৭)। "Rinchen Zangpo"The Treasury of Lives: Biographies of Himalayan Religious Masters। সংগৃহীত ২০১৩-০৮-১০ 
  3. Schneider, Johannes (1993). Der Lobpreis der Vorzüglichkeit des Buddha. Bonn: Indica et Tibetica Verlag. p. 21
  4. Handa, O. C. (1987). Buddhist Monasteries in Himachel Pradesh. Indus Publishing Company, New Delhi.

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Gangnegi, Hira Paul. 1998. "A Critical Note on the Biographies of Lo chen Rin chen bZang po." Tibet Journal 23, pp. 38–48.
  • Luczanits, Christian. 2004. Buddhist Sculpture in Clay: Early Western Himalayan Art, Late 10th to Early 13th Centuries. Serindia.
  • Martin, Dan. 2008. "Veil of Kashmir — Poetry of Travel and Travail in Zhangzhungpa’s 15th-Century Kāvya Reworking of the Biography of the Great Translator Rinchen Zangpo (958-1055 CE)." Revue d’Etudes Tibétaines vol. 14, pp. 13–56.
  • Roerich, George, trans. 1996. The Blue Annals. 2nd ed. Delhi: Motilal Banarsidas.
  • Snellgrove, David, and Skorupski, Tadeusz. 1977-1980. The Cultural Heritage of Ladakh. London: Aris & Phillips, Warminster. pp. 85–116.
  • Tsepak Rigdzin. 1984. "Rinchen Zangpo: The Great Tibetan Translator." Tibet Journal 9, pp. 28–37.*
  • Tucci, Giuseppe. 1988 (1932). Rin-chen bzaṅ-po and the Renaissance of Buddhism in Tibet Around the First Millenium. New Delhi: Aditya Prakashan.
  • Van Schaik, Sam. 2011. Tibet: A History. New Haven: Yale University Press, pp. 52–59.
  • Kapadia, Harish. (1999). Spiti: Adventures in the Trans-Himalaya. Second Edition. Indus Publishing Company, New Delhi. আইএসবিএন ৮১-৭৩৮৭-০৯৩-৪.
  • McKay, Alex (ed.). (2003). Tibet and Her Neighbors: A History. Walther Konig. আইএসবিএন ৩-৮৮৩৭৫-৭১৮-৭