রাম মন্দির, অযোধ্যা

স্থানাঙ্ক: ২৬°৪৭′৪৪″ উত্তর ৮২°১১′৩৯″ পূর্ব / ২৬.৭৯৫৬° উত্তর ৮২.১৯৪৩° পূর্ব / 26.7956; 82.1943
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাম মন্দির, অযোধ্যা
श्री राम मंदिर, अयोध्या
Ram Temple miniature not to scale replica Diwali New Delhi 1.jpg
প্রস্তাবিত মন্দিরের মডেল
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিহিন্দুধর্ম
ঈশ্বররাম লালা (রামের শিশু রূপ)
উৎসবসমূহরাম নবমী, দিওয়ালি, দশহরা
অবস্থান
অবস্থানরাম জন্মভূমি, অযোধ্যা, উত্তর প্রদেশ, ভারত
রাম মন্দির, অযোধ্যা ভারত-এ অবস্থিত
রাম মন্দির, অযোধ্যা
ভারতে অবস্থান
রাম মন্দির, অযোধ্যা উত্তর প্রদেশ-এ অবস্থিত
রাম মন্দির, অযোধ্যা
ভারতে অবস্থান
স্থানাঙ্ক২৬°৪৭′৪৪″ উত্তর ৮২°১১′৩৯″ পূর্ব / ২৬.৭৯৫৬° উত্তর ৮২.১৯৪৩° পূর্ব / 26.7956; 82.1943
স্থাপত্য
স্থপতিচন্দ্রকান্ত সোমপুরা[১]
নিখিল সোমপুরা ও আশীষ সোমপুরা[২]
সৃষ্টিকারীশ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র
সম্পূর্ণ হয়২ বছর, ৩ মাস ও ১ দিন নির্মাণ অধীনে রয়েছে
মন্দির

রাম মন্দির হল একটি হিন্দু মন্দির যা রামায়ণ অনুযায়ী হিন্দু ধর্মের প্রধান দেবতা রামের জন্মস্থান ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় রাম জন্মভূমির স্থানে নির্মিত হচ্ছে।[৩] মন্দির নির্মাণের তত্ত্বাবধান করছে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র। এর ভিত্তিপ্রস্তরের অনুষ্ঠানটি ৫ আগস্ট ২০২০-এ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বারা সঞ্চালিত হয়েছিল। মন্দির চত্বরে দেবতা সূর্য, গণেশ, শিব, দুর্গা, বিষ্ণুব্রহ্মার মন্দিরগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।[৪]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

পটভূমি[সম্পাদনা]

দেবতা বিষ্ণুর অবতার রাম ব্যাপকভাবে পূজিত হিন্দু দেবতা। প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণ অনুযায়ী রাম অযোধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৬শ শতাব্দীতে মুঘলরা বাবরি মসজিদ নামক একটি মসজিদ নির্মাণ করে যা রাম জন্মভূমির স্থান তথা রামের জন্মস্থান বলে মনে করা হয়।[৫] ১৮৫০-এর দশকে এটি নিয়ে একটি সহিংস বিরোধ দেখা দেয়।

১৯৮০-এর দশকে হিন্দু জাতীয়তাবাদী পরিবার সংঘ পরিবারের অন্তর্গত বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) হিন্দুদের জন্য জায়গাটি পুনরুদ্ধার করার জন্য ও এই স্থানে শিশু রাম (রাম লালা) নিবেদিত একটি মন্দির নির্মাণের জন্য একটি নতুন আন্দোলন শুরু করে। ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে ভিএইচপি বিতর্কিত মসজিদ সংলগ্ন জমিতে একটি মন্দিরের ভিত্তি স্থাপন করে। ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২-এ, ভিএইচপি ও ভারতীয় জনতা পার্টি ১,৫০,০০০ স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে যুক্ত স্থানে একটি সমাবেশের আয়োজন করে, যারা কর সেবক নামে পরিচিত। সমাবেশটি হিংসাত্মক হয়ে ওঠে ও জনতা নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিভূত করে এবং মসজিদটি ভেঙে ফেলে[৬][৭]

ধ্বংসের ফলে ভারতের হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কয়েক মাস ধরে আন্তঃসাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়, যার ফলে কমপক্ষে ২,০০০ লোক মারা যায় এবং সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে দাঙ্গার সূত্রপাত ঘটে।[৮] মসজিদ ধ্বংসের একদিন পর ৭ ডিসেম্বর ১৯৯২ তারিখে, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদন দেয় যে পাকিস্তান জুড়ে ৩০টিরও বেশি হিন্দু মন্দিরে হামলা হয়, কিছুতে আগুন দেওয়া ও একটি ভেঙে ফেলা হয়। পাকিস্তান সরকার একদিনের প্রতিবাদে স্কুল ও অফিস বন্ধ করে দিয়েছিলো।[৯] বাংলাদেশের হিন্দু মন্দিরেও হামলা হয়।[৬] বাবরি মসজিদের প্রতিশোধের সময় এই হিন্দু মন্দিরগুলোর মধ্যে কিছু আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।[১০]

৫ জুলাই ২০০৫ তারিখে ভারতের অযোধ্যায় ধ্বংসপ্রাপ্ত বাবরি মসজিদের স্থানে অস্থায়ী রাম মন্দিরে পাঁচজন সন্ত্রাসী হামলা চালায়। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বলের (সিপিআরএফ) সাথে পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধে পাঁচজনই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়, যখন গ্রেনেড হামলায় একজন বেসামরিক লোক মারা যায় যেটি আক্রমণকারীরা ঘেরা প্রাচীর লঙ্ঘন করার জন্য শুরু করেছিল। সিপিআরএফ তিনজনের হতাহত জন্য দায়ী ছিলো, যাদের মধ্যে দুজন একাধিক গুলির আঘাতে গুরুতর আহত হয়।[১১][১২]

ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই) দ্বারা ১৯৭৮ ও ২০০৩ সালের প্রত্নতাত্ত্বিক খনন প্রমাণ পাওয়া গেছে যে এই স্থানে হিন্দু মন্দিরের অবশেষ বিদ্যমান ছিল।[১৩][১৪] প্রত্নতাত্ত্বিক কে কে মুহম্মদ অনুসন্ধানগুলো অবমূল্যায়ন করার জন্য অনেক ইতিহাসবিদকে অভিযুক্ত করেছেন।[১৫] বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন শিরোনাম ও আইনি বিরোধও সংঘটিত হয়েছিল, যেমন অযোধ্যা অধ্যাদেশ, ১৯৯৩-এ কিছু নির্দিষ্ট এলাকা অধিগ্রহণ। অযোধ্যা বিরোধে ২০১৯ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে বিতর্কিত জমিটি রাম মন্দির নির্মাণের জন্য ভারত সরকার দ্বারা গঠিত একটি ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ট্রাস্টটি অবশেষে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র নামে গঠিত হয়েছিল। শহর থেকে কিমি দূরে ধন্নিপুর গ্রামে ২২টি মসজিদের জন্য পাঁচ একর জমি বরাদ্দ করা হয় ।[১৬] ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০-এ সংসদে ঘোষণা করা হয়েছিল যে নরেন্দ্র মোদী সরকার মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রাক-নির্মাণ প্রচেষ্টা[সম্পাদনা]

১৯৮০-এর দশকে ভিএইচপ "জয় শ্রী রাম" লেখা দিয়ে তহবিল ও ইট সংগ্রহ করেছিল। পরে রাজীব গান্ধী সরকার শিলান্যাসের অনুমতি দেয়। তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুটা সিং আনুষ্ঠানিকভাবে ভিএইচপি নেতা অশোক সিংগালকে অনুমতি দেন। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলো বিতর্কিত স্থানের বাইরে শিলান্যাসের পরিচালনার বিষয়ে সম্মত হয়। যাইহোক, ৯ নভেম্বর ১৯৮৯-এ ভিএইচপি নেতা ও সাধুদের একটি দল বিতর্কিত জমির সংলগ্ন ২০০-লিটার (৭-ঘনফুট) গর্ত খনন করে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল। গর্ভগৃহের সিংহদ্বার এখানে স্থাপন করা হয়।[১৭] কামেশ্বর চৌপাল (বিহারের একজন দলিত নেতা) পাথর স্থাপনকারী প্রথম ব্যক্তিদের একজন হোন।[১৮]

দেবতা[সম্পাদনা]

বিষ্ণুর অবতার রামের শিশু রূপ রাম লালা বিরাজমান মন্দিরের প্রধান দেবতা।[১৯] রাম লালার পোশাক সেলাই করেম দর্জি ভাগবত প্রসাদ ও শঙ্কর লাল; শঙ্কর লাল রামের প্রতিমার চতুর্থ প্রজন্মের দর্জি।[২০][২১]

রাম লালা ১৯৮৯ সাল থেকে বিতর্কিত স্থান নিয়ে আদালতের মামলায় একজন মামলাকারী ছিলেন, আইন দ্বারা তাকে "বিচারবাদী ব্যক্তি" হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছিল।[২২] তার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন একজন উর্ধ্বতন ভিএইচপি নেতা ত্রিলোকি নাথ পান্ডে, যিনি রাম লালার পরবর্তী 'মানব' বন্ধু হিসাবে বিবেচিত হন।[১৯]

মন্দির ট্রাস্টের মতে চূড়ান্ত নীলনকশায় মন্দির চত্বরে সূর্য, গণেশ, শিব, দুর্গা, বিষ্ণু ও ব্রহ্মাকে উৎসর্গ করা মন্দিরগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।[২৩]

স্থাপত্য[সম্পাদনা]

রাম মন্দিরের মূল নকশাটি ১৯৮৮ সালে আহমেদাবাদের সোমপুরা পরিবার তৈরি করেছিল।[২২] সোমপুররা সোমনাথ মন্দির সহ কমপক্ষে ১৫ প্রজন্ম ধরে সারা বিশ্বে ১০০ টিরও বেশি মন্দিরের মন্দির নকশা করেছে।[২৪] মন্দিরের প্রধান স্থপতি চন্দ্রকান্ত সোমপুরা। তাকে তার দুই ছেলে স্থপতি নিখিল সোমপুরা ও আশীষ সোমপুরা, যারা নকশায় সাহায্য করে।[১৮]

মূল নকশা পরিবর্তন করে তৈরি একটি নতুন নকশা ২০২০ সালে সোমপুররা বাস্তুশাস্ত্রশিল্পশাস্ত্র অনুযায়ী তৈরি করে।[১৮][২৫] মন্দিরটি হবে ২৩৫ ফুট চওড়া, ৩৬০ ফুট লম্বা ও ১৬১ ফুট উঁচু। একবার সম্পূর্ণ হলে মন্দির কমপ্লেক্সটি হবে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম হিন্দু মন্দির।[১৮] এটি উত্তর ভারতীয় মন্দির স্থাপত্যের গুজরা-চৌলুক্য শৈলীতে নকশা করা হয়েছে।[২৪] ২০১৯ সালে প্রয়াগ কুম্ভ মেলার সময় প্রস্তাবিত মন্দিরের একটি মডেল প্রদর্শন করা হয়েছিল।[২৬]

মন্দিরের মূল কাঠামোটি একটি উঁচু মঞ্চের উপর নির্মিত হবে, এটা তিনতলা হবে। এতে গর্ভগৃহ ও প্রবেশের মাঝখানে পাঁচটি মণ্ডপ থাকবে — তিনটি মণ্ডপ কুডু, নৃত্য এবং রং; এবং অপর পাশে কীর্তনপ্রার্থনার জন্য দুটি মণ্ডপ। নগর শৈলীতে মন্ডপগুলো শিখরা দিয়ে সজ্জিত করা হবে। সবচেয়ে উঁচু শিখরটি হবে গর্ভগৃহের উপরে।[২৭] ভবনটিতে মোট ৩৬৬টি কলাম থাকবে। শিবের অবতার, ১০টি দশাবতার, ৬৪টি চৌসাথ যোগিনী ও দেবী সরস্বতীর ১২টি অবতার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রতিটি কলামে ১৬টি করে মূর্তি থাকবে। সিঁড়ির প্রস্থ হবে ১৬ ফুট। বিষ্ণুকে উৎসর্গকৃত মন্দিরগুলোর নকশার জন্য নিবেদিত শাস্ত্র অনুযায়ী গর্ভগৃহটি অষ্টভুজাকার হবে।[২৫] মন্দিরটি ১০ একর জমিতে নির্মিত হবে ও ৫৭ একর জমিতে একটি প্রার্থনা হল, একটি বক্তৃতা হল, একটি শিক্ষাগত সুবিধা ও একটি জাদুঘর এবং একটি ক্যাফেটেরিয়ার মতো অন্যান্য সুবিধা সহ একটি কমপ্লেক্সে বিকশিত করা হবে।[১৭][২৭]

অর্থসংগ্রহ, প্রচারণা ও অভিযোগ[সম্পাদনা]

মন্দির ট্রাস্ট ৫৫-৬০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি দেশব্যাপী "গণ যোগাযোগ ও অবদান প্রচার" চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।[২৮] স্বেচ্ছায় দান ১০ (US$ ০.১৪) এবং উচ্চতর গ্রহণ করা হবে।[২৯] ১৫ জানুয়ারী ২০২১-এ ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ ৫,০১,০০০ (US$ ৬,৭৬৩.৭৫) অনুদান দিয়ে রাম মন্দির নির্মাণে প্রথম অবদান রাখেন।[৩০] এর পর দেশব্যাপী বেশ কয়েকজন নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অনুসরণ করেন। এপ্রিল ২০২১ নাগাদ প্রায় ৫,০০০ কোটি (US$ ৬৭৫.০৩ মিলিয়ন) সারাদেশ থেকে অনুদান হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছিল।[৩১][৩২] প্রায় ১.৫০ লক্ষ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কর্মী সারা দেশ থেকে তহবিল সংগ্রহ করে। মন্দির ট্রাস্ট শুধুমাত্র হিন্দু ভক্তদের কাছ থেকে অনুদান পায়নি বরং খ্রিস্টানমুসলিম সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি সদস্যের কাছ থেকেও অনুদান পেয়েছিল।[৩৩][৩৪][৩৫]

কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামীসিদ্দারমাইয়া সহ কয়েকজন ব্যক্তি তহবিল সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে কঠোরভাবে প্রশ্ন তোলেন।[৩৬][৩৭] তহবিল সংগ্রহে অক্ষমতার পরে একটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অধিভুক্ত বিদ্যালয় উৎপীড়নের সম্মুখীন হয়৷[৩৮] দুর্নীতির অভিযোগের পর অ্যাকাউন্টগুলোকে ডিজিটালকরণের জন্য টাটা কন্‌সাল্টেন্সি সার্ভিসেসকে যুক্ত করা হয়েছিল।[৩৯]

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে[সম্পাদনা]

২০২১ সালে রাজপথে উত্তরপ্রদেশের মূকনাট্য।
নয়াদিল্লির একটি কেনাকাটার বাজারে ২০২০ সালের দীপাবলির সময় প্রস্তাবিত রাম মন্দিরের মডেল৷[৪০][৪১]

রাজপথে ২০২১ দিল্লি প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ চলাকালীন সময় উত্তরপ্রদেশের মূকনাট্য রাম মন্দিরের একটি প্রতিরূপ প্রদর্শন করেছিল।[৪২] ২০২১ সালের দীপাবলিতে মন্দিরের ছোট আকারের প্রতিলিপি তৈরি করা হয়েছে।[৪৩]

স্লোগান[সম্পাদনা]

মন্দির ওহি বানায়েঙ্গে (দেবনাগরী: मंदिर वही बनाएंगे, আইএসও: অনু. মন্দির ওখানেই হবে) হল একটি হিন্দি স্লোগান, যার অর্থ হল "মন্দির ওখানেই হবে"। এটি রাম জন্মভূমি ও রাম মন্দিরের সাথে সম্পৃক্ত সবচেয়ে জনপ্রিয় স্লোগান যা ১৯৮৫-৮৬ সালের দিকে জন্ম নেয় এবং ১৯৯০-এর দশকে জনপ্রিয় হয়। এর বেশকিছু বৈচিত্র‍্যপূর্ণ সংস্করণ রয়েছে।[৪৪][৪৫] স্লোগানটি ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। এটি আশার প্রতীক ও এটি একদিকে উৎসবের একটি অংশ হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে এটি উপস্থিত রসিকতা, হাস্যরস এবং মিমসের একটি অংশ হয়ে উঠেছে।[৪৬] ২০১৯ সালে, স্লোগানটি ভারতের সংসদে,[৪৬] ও গণমাধ্যম দ্বারা ব্যবহার করা হয়েছে।[৪৭][৪৮] স্লোগানটি হুমকির পাশাপাশি ব্রত হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছে।[৪৯]

এই স্লোগানের বিভিন্ন ধরন রয়েছে যেমন লাল কৃষ্ণ আদভানির ব্যবহৃত একটি: "সাওগাঁদ রাম কি খাত-এ হ্যাঁয়; হা মান্দির ওহিঁ বানায়েঙ্গে" (অনু. আমরা রামের নামে ব্রত নিয়েছি: আমরা ঠিক সেখানেই মন্দির তৈরি করব)।[৪৪] অন্যান্য বৈচিত্র্য এবং অভিযোজনের মধ্যে রয়েছে "ওহি বানেগা মান্দির" (অনু. ওখানেই হবে মন্দির),[৪৭] "জাহা রাম কা জান্মা হুয়া থা, হাম মান্দির ওহি বানায়েঙ্গে" (অনু. যেখানে রাম জন্মেছে সেখানেই মন্দির হবে),[৪৫] "রাম ললা হাম আয়েঙ্গে; মান্দির ওহি বানায়েঙ্গে" (অনু. রাম লালা আমরা আসছি, মন্দির ওখানেই হবে)[৪৫] এবং "পেহলে মান্দির, ফির সারকার" (অনু. প্রথমে মন্দির, তারপর সরকার)।[৫০]

বই ও চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

২০২০ সালে কঙ্গনা রানাওয়াত অযোধ্যা বিবাদ নিয়ে অপরাজিত অযোধ্যা নামে একটি চলচ্চিত্র পরিচালনার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন, যার লেখক ছিলেন ভি. বিজয়েন্দ্র প্রসাদ; ছবিতে ভূমিপূজাও থাকবে।[৫১]

২০২১ সালের অক্টোবরে সালমান খুরশিদ সানরাইজ ওভার অযোধ্যা: নেশনহুড ইন আওয়ার টাইমস নামক আরেকটি বই প্রকাশ করেন, যেটি অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের বিষয়ে ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতার পতন সম্পর্কে ছিল। বইটি বিজেপির সদস্যদের মধ্যে বিতর্কিত হয়ে ওঠে কারণ এর একটি অধ্যায় হিন্দুত্বকে ইসলামি সন্ত্রাসবাদের সাথে তুলনা করেছে।[৫২][৫৩]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Umarji, Vinay (১৫ নভেম্বর ২০১৯)। "Chandrakant Sompura, the man who designed a Ram temple for Ayodhya"Business Standard। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০২০ 
  2. Pandey, Alok (২৩ জুলাই ২০২০)। "Ayodhya's Ram Temple Will Be 161-Foot Tall, An Increase Of 20 Feet"NDTV। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৩ 
  3. Bajpai, Namita (৭ মে ২০২০)। "Land levelling for Ayodhya Ram temple soon, says mandir trust after video conference"The New Indian Express। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০২০ 
  4. "Six temples of different deities in Ayodhya Ram temple's final blueprint"The Hindu (ইংরেজি ভাষায়)। PTI। ২০২১-০৯-১৩। আইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-২২ 
  5. Jain, Meenakshi (২০১৭), The Battle for Rama - Case of the Temple at Ayodhya, Aryan Books International, আইএসবিএন 978-8-173-05579-9 [পৃষ্ঠা নম্বর প্রয়োজন]
  6. Anderson, John Ward; Moore, Molly (৮ ডিসেম্বর ১৯৯২)। "200 Indians killed in riots following mosque destruction"Washington Post। সংগ্রহের তারিখ ২৯ আগস্ট ২০২০ 
  7. Fuller, Christopher John (২০০৪), The Camphor Flame: Popular Hinduism and Society in India, Princeton University Press, পৃষ্ঠা 262, আইএসবিএন 0-691-12048-X 
  8. Kidangoor, Abhishyant (আগস্ট ৪, ২০২০)। https://time.com/5875380/modi-ram-temple-ayodhya-groundbreaking/?amp=true। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০২০  |শিরোনাম= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  9. "As a reaction to Babri Masjid demolition, What had happened in Pakistan and Bangladesh on 6 December, 1992"The New York Times। Reuters। ৮ ডিসেম্বর ১৯৯২ [1992]। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০২০ – The Morning Chronicle-এর মাধ্যমে। 
  10. Khalid, Haroon (১৪ নভেম্বর ২০১৯)। "How the Babri Masjid Demolition Upended Tenuous Inter-Religious Ties in Pakistan"। The Wire। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মে ২০২০ 
  11. PTI, UNI (৬ জুলাই ২০০৫)। "Front Page: Armed storm Ayodhya complex"The Hindu। ২০০৫-০৭-০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  12. "Indian PM condemns the attack in Ayodhya"people.com.cn। Xinhua। People's Daily Online। ৬ জুলাই ২০০৫। 
  13. Bhattacharya, Santwana (৬ মার্চ ২০০৩)। "I found pillar bases back in mid-seventies: Prof Lal"The Indian Express Archive। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-০৭ 
  14. "Proof of temple found at Ayodhya: ASI report"Rediff (ইংরেজি ভাষায়)। PTI। ২৫ আগস্ট ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-০৭ 
  15. Shekhar, Kumar Shakti (১ অক্টোবর ২০১৯)। "Ram Mandir existed before Babri mosque in Ayodhya: Archaeologist KK Muhammed"The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২১ 
  16. "Dhannipur near Ayodhya already has 15 mosques, local Muslims want hospital and college too"। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। 
  17. "Grand Ram temple in Ayodhya before 2022"The New Indian Express। IANS। ১১ নভেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০২০ 
  18. Bajpai, Namita (২১ জুলাই ২০২০)। "280-feet wide, 300-feet long and 161-feet tall: Ayodhya Ram temple complex to be world's third-largest Hindu shrine"The New Indian Express। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০২০ 
  19. "Ayodhya Case Verdict: Who is Ram Lalla Virajman, the 'Divine Infant' Given the Possession of Disputed Ayodhya Land"News18। ৯ নভেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০২০ 
  20. "अयोध्या: 5 अगस्त को इस टेलर का सिला पोशाक पहनेंगे रामलला"News18 India (হিন্দি ভাষায়)। ২৭ জুলাই ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০২০ 
  21. "What the idol of Ram Lalla will don for the Ayodhya temple 'bhoomi pujan' - Divine Couture"The Economic Times। ৪ আগস্ট ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৪ আগস্ট ২০২০ 
  22. Pandey, Alok (২৩ জুলাই ২০২০)। "Ayodhya's Ram Temple Will Be 161-Foot Tall, An Increase Of 20 Feet"NDTV। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুলাই ২০২০ 
  23. Press Trust of India (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১)। "6 temples of different deities to be constructed in Ram Janmabhoomi premises"India Today (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-২২ 
  24. Sampal, Rahul (২৮ জুলাই ২০২০)। "Somnath, Akshardham & now Ram Mandir – Gujarat family designing temples for 15 generations"ThePrint (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুলাই ২০২০ 
  25. Misra, Leena (২০২০-০৮-০৬)। "Meet the Sompuras, master architects who are building the Ram Temple in Ayodhya"The Indian Express। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৮-১৪ 
  26. "Ayodhya Ram Mandir construction to begin in April this year: Trustee"Business Standard India। Press Trust of India। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৯ মে ২০২০ 
  27. Husain, Yusra (৩১ জুলাই ২০২০)। "Ram Mandir design: Nagara style of architecture for Ayodhya's Ram temple"The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৮-১১ 
  28. Rashid, Omar (২০২১-০১-০৪)। "Work on Ayodhya Ram temple foundation to begin by January-end, says trust"The Hindu (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-০৯ 
  29. Pandey, Neelam (২০২০-১২-১৫)। "Ram Mandir trust to launch nationwide fund collection drive next month for temple construction"ThePrint (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-০৯ 
  30. "President Kovind donates Rs 5 lakh for Ram temple construction as fund-raising drive kicks off"The Indian Express (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২১-০১-১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৬-১৮ 
  31. Sharma, Sanjay (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১)। "Ayodhya Ram temple fundraising drive concludes. Rs 21000000000 collected"India Today 
  32. "Ayodhya Ram temple donation: 15,000 bank cheques worth Rs 22 crore bounce"Zee News (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২১-০৪-১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৬-১৮ 
  33. "Karnataka Dy CM, Christian organisations donate over Rs 1 crore for Ram temple's construction"Business World। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০২১ 
  34. "Muslim community in Faizabad donates for Ayodhya Ram Temple"Hindustan Times। ANI। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০২১ 
  35. Pandey, Neelam (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১)। "Muslims too are giving donations for Ram temple construction, says BJP minority cell chief"The Print 
  36. "Ram Mandir: Siddaramaiah questions fund drive, HDK says he was threatened"The News Minute (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২১-০২-১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-১৭ 
  37. Johari, Aarefa (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১)। "Ram temple fundraisers leave behind stickers on doors – sparking fear and concern"Scroll.in (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-১৭ 
  38. "After refusing to pay donation for Ram Mandir, headmistress of RSS-backed school alleges harassment"Edex Live (ইংরেজি ভাষায়)। ১ নভেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-২১ 
  39. Khan, Arshad Afzaal (২৪ অক্টোবর ২০২১)। "tcs: TCS to digitise accounts of Ram mandir trust"The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-২১ 
  40. "Delhi's Pacific Mall installs 32-foot-tall replica of Ayodhya's Ram temple ahead of Diwali"India Today (ইংরেজি ভাষায়)। ২৫ অক্টোবর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-০৯ 
  41. "With replica of Ayodhya's Ram Temple, West Delhi's Pacific Mall mall showcases faith"The New Indian Express। ২৪ অক্টোবর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-০৯ 
  42. "Ayodhya on Rajpath: UP's Republic Day tableau showcases replica of Ram temple"Zee News। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ 
  43. Harigovind, Abhinaya (২০২১-১১-০৩)। "For Delhi govt's Diwali event, makeshift Ram Mandir made of thermocol, plywood; sound and lights show"The Indian Express (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-২১ 
  44. Verma, Nalin (৪ আগস্ট ২০২০)। "'Mandir Wahin Banayenge' Said L.K. Advani 30 Years Ago, But Will Stay Home on August 5"The Wire। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-০২ 
  45. Hemanth, S. A. (২০১৯-১১-১০)। "'Slogans we shouted in '85 have come true today'"Deccan Chronicle (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-০২ 
  46. Kundu, Swapnajit (২০২০-০৮-০৫)। "How 'Mandir Wahin Banega' gained prominence"Deccan Herald (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-০২ 
  47. "'Sir Ram': A look at how some Hindi and English newspapers covered the #AyodhyaVerdict"Newslaundry। ১০ নভেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-০২ 
  48. Krishnan, Revathi (২০২০-০৮-০৪)। "ABP News all excited about Ram temple, India Today & NDTV 24x7 focus on J&K woes"ThePrint (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-০২ 
  49. Sharma, Sandipan (২০২০-০৮-০৪)। "Mandir Wahin Banayenge: After 30 years, BJP's tryst with Hindutva destiny"The Federal (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-০২ 
  50. "Uddhav Wonders For How Long Will People be 'Fooled' With 'Mandir Wahi Banayenge' Slogan"News18 (ইংরেজি ভাষায়)। PTI। ২০১৮-১১-২২। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০২-০২ 
  51. Sahu, Sushri (২০২০-০৮-০৬)। "'Aparajitha Ayodhya': Director Kangana Ranaut Reveals Film On 'Ram Rajya' Will Span Across Six Centuries"Mashable India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-২১ 
  52. Ghosh, Poulomi (২০২১-১১-১১)। "'Version of Hindutva similar to ISIS': Complaints filed against Salman Khurshid over new book on Ayodhya"Hindustan Times (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-২১ 
  53. Shakil, Marya (১১ নভেম্বর ২০১১)। "'Hindu Religion is Beautiful, No Greater Insult than Filing Complaint': Salman Khurshid Amid Row Over Book"News18 (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-২১ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]