রাম নাথ কোবিন্দ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রামনাথ কোবিন্দ
Ram Nath Kovind official portrait.jpg
ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি
নির্বাচিত
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
২৫ জুলাই ২০১৭
প্রধানমন্ত্রীনরেন্দ্র মোদী
উপরাষ্ট্রপতিমহম্মদ হামিদ আনসারি বেঙ্কাইয়া নাইডু
পূর্বসূরীপ্রণব মুখোপাধ্যায়
বিহারের ৩৫তম রাজ্যপাল
কাজের মেয়াদ
১৬ আগস্ট ২০১৫ – ২০ জুন ২০১৭[১]
পূর্বসূরীকেশরী নাথ ত্রিপাঠী
উত্তরসূরীকেশরী নাথ ত্রিপাঠী
সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
৩ এপ্রিল ১৯৯৪ – ২ এপ্রিল ২০১৬
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (1945-10-01) ১ অক্টোবর ১৯৪৫ (বয়স ৭৩)
পরাউঙ্খ গ্রাম, দেরাপুর, যুক্ত প্রদেশসমূহ, ব্রিটিশ ভারত (এখন উত্তরপ্রদেশ, ভারত)
রাজনৈতিক দলভারতীয় জনতা পার্টি
দাম্পত্য সঙ্গীসবিতা কোবিন্দ (বি. ১৯৭৪)
সন্তানপ্রশান্ত কুমার (পুত্র)
স্বাতি (কন্যা)
পিতামাতামাইকু লাল (পিতা)
কালাওয়াতি(মাতা)
প্রাক্তন শিক্ষার্থীকানপুর বিশ্ববিদ্যালয়
জীবিকা
ধর্মহিন্দু

রামনাথ কোবিন্দ (জন্ম: ১ অক্টোবর, ১৯৪৫) ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি।[২] কোবিন্দ ২০১৫-২০১৭ সালে বিহারের রাজ্যপাল ছিলেন।[৩]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

১লা অক্টোবর ১৯৪৫ সালে উত্তরপ্রদেশের কানপুর দেহাত জেলার পারাউখ গ্রামে তিনি জন্মগ্রহন করেন। তাঁর বাবা মাইকুলাল ছিলেন একজন ভূমিহীন চাষি। ছোট্ট দোকানের উপর নির্ভর ছিল মাইকুলাল কোবিন্দের সংসার। রাম নাথ কোবিন্দ জন্মেছিলেন যে মাটির কুঁড়ে ঘরে যেটি এখন আর নেই। ৫ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সবথেকে ছোট রামনাথ ৫ বছর বয়সে তাঁর মা'কে হারান। গ্রামের পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করার পর রামনাথ প্রতিদিন ৬ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে খানপুর গ্রামে জুনিয়ার স্কুলে পড়তে যেতেন। অদম্য প্রচেষ্টা ও মনোবলকে পাথেয় করে উনি কানপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডক্টর অমিত কুমার শ্রীবাস্তব কলেজ থেকে কমার্স নিয়ে বিএ ও আইন পাশ করেন।[৪]

রাজনীতি[সম্পাদনা]

শ্রী রামনাথ কোবিন্দ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ এর স্বয়ংসেবক ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির সদস্য হন। ১৯৯৮-২০০২ সময়কালে তিনি বিজেপি দলিত মোর্চার ও সর্বভারতীয় কোলি সমাজের সভাপতি পদে নিযুক্ত থাকেন। তিনি বিজেপির জাতীয় মুখপাত্রও ছিলেন। দেরাপুরে তাঁর পৈত্রিক ভিটেবাড়ি তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ দলকে দান করেন। ১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাসে রামনাথ কোবিন্দ রাজ্যসভার এমপি নির্বাচিত হন।[৫] মার্চ ২০০৬ পর্যন্ত একনিষ্ঠ ভাবে তিনি দলিত সম্প্রদায়ের জন্য উন্নতিমূলক কাজে নিযুক্ত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস, সামাজিক ন্যায় বিচার - প্রভৃতি ক্ষেত্রে তিনি দৃষ্টান্ত মূলক কাজ করেছেন। তিনি লখনউর ড. বি আর আম্বেদকার ইউনিভার্সিটির ও আইআইএম কোলকাতারপরিচালন বোর্ডের সদস্য ছিলেন অক্টোবর ২০০২ পর্যন্ত। ৮ই আগস্ট ২০১৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা দেবীসিংহ পাটিল রামনাথ কোবিন্দকে বিহারের রাজ্যপাল নিযুক্ত করেন। ১৬ই আগস্ট ২০১৫ তে পাটনা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ইকবাল আহমেদ আনসারী তাঁকে রাজ্যপালের শপথ বাক্য পাঠ করান।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন[সম্পাদনা]

২০শে জুলাই ১৪তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বিহারের রাজ্যপালের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁর এই পদত্যাগ স্বীকার করেন। ২৫শে জুলাই ২০১৭ তারিখে উনি ভারতের রাষ্ট্রপতির দ্বায়িত্ব ভার গ্রহন করেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

আইন পাশ করার পর রামনাথ দিল্লী চলে আসেন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। পরপর দুইবার ব্যর্থ হওয়ার পর তৃতীয় চেষ্টায় উনি সফল হন কিন্তু মনঃপুত না হওয়ায় চাকরী না করে তিনি ওকালতি করা শুরু করেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৯৩ - দীর্ঘ ১৩ বছর উনি দিল্লী কোর্টে ওকালতি করেন। ওকালতির সাথে সাথে রামনাথ তাঁর সমাজসেবামূলক কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। ১৯৭৪ সালের ৩০শে মে উনি সভিতা কোবিন্দের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুটি সন্তান, পুত্র প্রশান্ত কুমার ও কন্যা স্বাতী।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Press Releases Detail - The President of India"presidentofindia.nic.in 
  2. "দেশের চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ -Eisamay"এই সময়। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১৭ 
  3. Ram Nath Kovind resigns as Bihar Governor (২০ জুন ২০১৭)। "Ram Nath Kovind resigns as Bihar Governor"। The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০১৭ 
  4. http://www.ndtv.com/india-news/presidential-election-2017-who-is-ram-nath-kovind-likely-to-be-next-president-1714149?pfrom=home-lateststories
  5. "কে এই রামনাথ কোবিন্দ যাকে রাষ্ট্রপতি পদের লড়াইয়ে মনোনীত করল বিজেপি"bengali.oneindia.com। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট, ২০১৭  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  6. "কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি! জেনে নিন রামনাথ কোবিন্দ সম্পর্কে ১০ তথ্য"ebela.in। এবেলা। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]