ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর
Wpdms nasa topo gulf of california.jpg
ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর (উজ্বল রঙ্গে চিহ্নিত)
স্থানাঙ্ক ২৮°০′ উত্তর ১১২°০′ পশ্চিম / ২৮.০০০° উত্তর ১১২.০০০° পশ্চিম / 28.000; -112.000স্থানাঙ্ক: ২৮°০′ উত্তর ১১২°০′ পশ্চিম / ২৮.০০০° উত্তর ১১২.০০০° পশ্চিম / 28.000; -112.000
River sources কলোরাডো, ফোর্ট, মায়ো, সিনালোয়া, সোনারা, এবং ইয়াকু
Ocean/sea sources প্রশান্ত মহাসাগর
অববাহিকার দেশসমূহ মেক্সিকো
সর্বাধিক দৈর্ঘ্য ১,১২৬ কিমি (৭০০ মা)
সর্বাধিক প্রস্থ ৪৮–২৪১ কিমি (৩০–১৫০ মা)
পৃষ্ঠতলীয় ক্ষেত্রফল ১,৬০,০০০ কিমি (৬২,০০০ মা)
দ্বীপ ৩৭
তথ্যসূত্র [১]

ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর (আরো পরিচিত কর্টেজ সাগর, কর্তেস সাগর অথবা সিন্দূর সাগর (ভার্মিলিয়ন সী) নামে; স্থানীয় স্প্যানিশ ভাষায় পরিচিত Mar de Cortés অথবা Mar Bermejo অথবা Golfo de California নামে) হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রান্তীয় সাগর যেটি বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপকে মেক্সিকোর মূলভূখন্ড থেকে পৃথক করেছে। সম্ভব্য ৪,০০০ কিমি (২,৫০০ মা)তটরেখা নিয়ে এর সঙ্গে মেক্সিকোর রাজ্য বাজা ক্যালিফোর্নিয়া, বাজা ক্যালিফোর্নিয়া সার, সোনোরা, এবং সিনালোয়ার সঙ্গে সীমানা রয়েছে। যেসব নদী ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরে পতিত হয়েছে সেগুলোর মধ্যে অর্ন্তভুক্ত হল কলোরাডো, ফোর্ট, মেয়ো, সিনালোয়া, সোনোরা, এবং ইয়াকুই নদী। উপসাগরটির পৃষ্ঠ এলাকা প্রায় ১,৬০,০০০ কিমি (৬২,০০০ মা)।

পৃথিবীর অন্যতম বৈচিত্রপূর্ণ সমুদ্র বলে বিবেচনা করা হয় এই উপসাগরটিকে, এবং ৫,০০০ এর অধিক দীর্ঘ অমেরুদন্ডী প্রজাতির আবাসস্থল।[২] এক মিলিয়ন মানুষের বাসস্থান, বাজা ক্যালিফোর্নিয়া হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম উপদ্বীপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয় উপদ্বীপের পরে।[৩] ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপের কিছু অংশ ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান

ভূগোল[সম্পাদনা]

আর্ন্তজাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থা ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের দক্ষিণ সীমাকে সংজ্ঞায়িত করেছে: "একটি রেখা মিলিত হয়েছে মেক্সিকোর পিয়াস্তলা বিন্দু (২৩°৩৮'উ), এবং নিম্নতর ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ চরমে"।[৪]

ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর ১,১২৬ কিমি (৭০০ মা) দীর্ঘ এবং ৪৮–২৪১ কিমি (৩০–১৫০ মা) প্রশস্থ, আয়তন ১,৭৭,০০০ কিমি (৬৮,০০০ মা), গড় গভীরতা ৮১৮.০৮ মি (২,৬৮৪.০ ফু), এবং পরিমান ১,৪৫,০০০ কিমি (৩৫,০০০ মা)।[১]

ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরে তিনটি প্রাণী অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

  1. উত্তরদিকস্থ ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর
  2. মধ্য ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর
  3. দক্ষিণস্থ ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর

একটি স্বীকৃত স্থানান্তর অঞ্চলকে দক্ষিণপশ্চিম বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপ বলা হয়। স্থানান্তর এলাকাগুলি প্রাণী অঞ্চলের মধ্যে বিদ্যমান, এবং সাধারণত এগুলো প্রতিটি পৃথক প্রজাতির জন্য পরিবর্তিত হয়। (প্রাণী অঞ্চলগুলি সেখানে পাওয়া প্রজাতির নির্দিষ্ট ধরনের উপর ভিত্তি করে বৈশিষ্ট্যসূচক হয়।[৫])

তাপমাত্রা[সম্পাদনা]

ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের পানির সাধারন তাপমাত্রা শীতকালে সর্বনিম্ন ১৬ °সে (৬১ °ফা) এবং গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ ২৪ °সে (৭৫ °ফা)। কিন্তু তাপমাত্রা উপসাগরের মধ্যে অনেক পরিবর্তিত হতে পারে, এবং পানি প্রায় সবসময় খোলা সাগরের তুলনায় উপকূলীয় তটরেখার কারনে গরম থাকে। উদাহরণ স্বরূপ, লা পাজের নিকটের পানির তাপমাত্রা আগস্টে ৩০ °সে (৮৬ °ফা) এ গিয়ে পৌছে, যেখানে পাশ্ববর্তী শহর ক্যাবো সান লুকাস-এ তাপমাত্রা পৌছে কেবল ২৬ °সে (৭৯ °ফা) এ।[১][৬][৭][৮]

মাঝেমধ্যে, উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর উল্লেখযোগ্যভাবে শীতের মধ্য দিয়ে যেতে পারে। উত্তরদিকস্থ সাগরের অংশের তাপমাত্রা কিছু সময় ৮ °সে (৪৬ °ফা) এর নিচে নেমে যেতে পারে, যা একটি বৃহৎ অংশের সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর কারন হতে পারে। জলের এই বিশাল তাপমাত্রা হ্রাসকারী প্রাণীগুলির মধ্যে রয়েছে ম্যাক্রোস্কোপিক শেত্তলা ও প্ল্যাঙ্কটন।[৩]

পুয়ের্তো পেনাস্কোর গড় সমুদ্র তাপমাত্রা[৭]
জানু ফেব্রু মার্চ এপ্রি মে জুন জুলা আগ সেপ্টে অক্টো নভে ডিসে
১৭ °সে

৬৩ °ফা

১৬ °সে

৬১ °ফা

১৭ °সে

৬৩ °ফা

১৯ °সে

৬৬ °ফা

২১ °সে

৭০ °ফা

২৩ °সে

৭৩ °ফা

২৬ °সে

৭৯ °ফা

২৮ °সে

৮২ °ফা

২৮ °সে

৮২ °ফা

২৬ °সে

৭৯ °ফা

২৩ °সে

৭৩ °ফা

১৯ °সে

৬৬ °ফা

লা পাজের গড় সমুদ্র তাপমাত্রা[৬]
জানু ফেব্রু মার্চ এপ্রি মে জুন জুলা আগ সেপ্টে অক্টো নভে ডিসে
১৯ °সে

৬৬ °ফা

১৯ °সে

৬৬ °ফা

২১ °সে

৭০ °ফা

২৩ °সে

৭৩ °ফা

২৫ °সে

৭৭ °ফা

২৭ °সে

৮১ °ফা

২৮ °সে

৮২ °ফা

৩০ °সে

৮৫ °ফা

২৮ °সে

৮২ °ফা

২৭ °সে

৮১ °ফা

২৪ °সে

৭৫ °ফা

২১ °সে

৭০ °ফা

ক্যাবো সান লুকাসের গড় সমুদ্র তাপমাত্রা[৯]
জানু ফেব্রু মার্চ এপ্রি মে জুন জুলা আগ সেপ্টে অক্টো নভে ডিসে
২০ °সে

৬৮ °ফা

১৯ °সে

৬৬ °ফা

১৯ °সে

৬৬ °ফা

১৯ °সে

৬৬ °ফা

২০ °সে

৬৮ °ফা

২১ °সে

৭০ °ফা

২৪ °সে

৭৫ °ফা

২৬ °সে

৭৯ °ফা

২৬ °সে

৭৯ °ফা

২৬ °সে

৭৯ °ফা

২৪ °সে

৭৫ °ফা

২২ °সে

৭২ °ফা

ভূতত্ত্ব[সম্পাদনা]

উপসাগরের স্যাটেলাইট চিত্র।

ভূগর্ভস্থ প্রমাণগুলি থেকে ভূতত্ত্ববিদরা ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করেন যে ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরটি প্রায় ৫.৩ মিলিয়ন বছর আগে এসেছিল টেকটনিক ধাক্কায় উত্তর আমেরিকার প্লেট থেকে বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপটি পৃথক হওয়ার মাধ্যমে।[১০] এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে, ইস্ট প্যাসিফিক রাইজ সমুদ্রতীর বরাবর উপসাগরীয় অঞ্চলের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিস্তৃত। ইস্ট প্যাসিফিক রাইজের এই বিস্তৃতিককে প্রায়ই ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের ফাটল অঞ্চল বলা হয়। কলোরাডো নদী দ্বারা সৃষ্ট প্রকাণ্ড বদ্বীপ ব্যতীত এই উপসাগরীয় অঞ্চলটি ইন্দো, ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত প্রসারিত হবে। এই বদ্বীপটি সমুদ্রকে বেষ্টন করে মেক্সিকালি এবং ইম্পেরিয়াল উপত্যকাকে বন্যা হওয়া থেকে রক্ষা করে। আগ্নেয়ক্রিয়া ইস্ট প্যাসিফিক রাইজকে দখল করে রেখেছে। ইসলা টর্টুগা দ্বীপটি এই চলমান আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের একটি উদাহরণ।[১১] অধিকন্তু, ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর সৃষ্টির সাথে সম্পর্কিত, টেকটনিক আমলের প্রসারের কারনে বাহিয়া ডি কনসেপিসিয়ন, বাজা ক্যালিফোর্নিয়া সার-এ জলপ্রবাহের ভেন্ট পাওয়া যায়।[১২]

আবহাওয়া[সম্পাদনা]

যদিও ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের উপকূল সাধারণত বেশিরভাগ অন্যান্য উত্তর আমেরিকান উপকূল থেকে অনবরত ঢেউয়ের তরঙ্গ থেকে নিরাপদ, চুবাশকো হিসাবে পরিচিত ঝড়গুলো সমুদ্রতটে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি বয়ে আনতে পারে, তাদের সংক্ষিপ্ততা সত্ত্বেও।[৩]

সামুদ্রিক জীবন[সম্পাদনা]

অতিকায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় মনতা রে

সরু এই সাগরটি একটি অনন্য এবং সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্রের আবাস। এছাড়াও একটি বিশাল পরিমান স্থানিক প্রাণীরও, যেমন সমালোচকদের দ্বারা চিহ্নিত বিপন্ন অতি ক্ষুদ্র ভ্যাকুইটা (এক প্রকার শুশুক জাতীয় প্রানী), এটি অনেক পরিযায়ী প্রজাতির আশ্রয়স্থান, যেমন কুঁজো তিমি, ক্যালিফোর্নিয়া ধূসর তিমি, শিকারি তিমি, মনতা রে, হ্যাম্বোল্ট স্কুইড এবং সবচেয়ে বড়ো আকারের সামুদ্রিক কচ্ছপ, এবং বিশ্বের বৃহত্তম প্রানী, নীল তিমি। অস্বাভাবিক বসবাসকারী সংখ্যাক ডানা তিমি এবং শুক্রাণু তিমি বার্ষিক স্থানান্তর হয়না। কলোরাডো নদীর বদ্বীপের কাছাকাছি এলাকায় টোটোয়াবা মাছের একটি অল্পসংখ্যক অবশিষ্ট্যাংশের আবাস রয়েছে। একটি সমৃদ্ধ বিশ্ব রেকর্ডের ইতিহাস নিয়ে, এই অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বব্যাপী মাছ ধরার ক্রীড়া কার্যক্রমের জন্য একটি আকর্ষনীয় স্থান।

বাণিজ্যিক মৎস্যচাষের স্থান হিসাবে এই অঞ্চলের একটি সমৃদ্ধ ইতিহাসও রয়েছে। যাইহোক, এই তথ্যগুলি প্রজাতিদের উপর আরো গবেষনার মাধ্যমে বিভিন্ন ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, এবং অতিরিক্ত মাছ ধরার কারনে উপসাগরটির পুনরূদ্ধার ক্ষমতা অনিশ্চিত রয়ে গিয়েছে। উপরন্তু, স্থলজ বাস্তুসংস্থানে পরিবর্তনের কারনে, যেমন কলোরাডো নদী থেকে উপসাগর পর্যন্ত পানি প্রবাহ হ্রাস পাওয়াতে, বিশেষ করে উত্তর অঞ্চলে মৎস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর একটি বৃহৎ সংখ্যক সামুদ্রিক স্তন্যপায়ীকে বাঁচিয়ে রেখেছে, যাদের অনেকগুলিই এখন বিরল এবং বিপন্ন। এটির ৯০০ এর অধিক দ্বীপ সামুদ্রিক পাখির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল, এবং এর জল অগনিত পরিযায়ী পাখি ও বাসরত মৎস্য প্রজাতির প্রাথমিক প্রজননস্থল, চারণভূমি ও পরিষেবাকারী । কয়েক দশক ধরে, উপসাগরটি মেক্সিকোর প্রধান দুটি সামুদ্রিক সম্পদ সার্ডিন ও এঙ্কোভিস (হেরিং-জাতীয় ক্ষুদ্র মৎস্য বিশেষ) এর প্রাথমিক উৎস । জল দূষণ ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের একটি প্রধান সমস্যা, কিন্তু আরো তাত্ক্ষণিক উদ্বেগ হচ্ছে অতিরিক্ত পরিমানে মাছ ধরা এবং নীচে বড় টানাজালে মাছ ধরা , যা ইয়েলগ্রাস তল এবং খোলাত্তয়ালা প্রানীদের ধ্বংস করে।

মেক্সিকান সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত অঞ্চল এবং প্রকৃতি সংরক্ষণ তৈরির প্রচেষ্টাগুলি প্রয়োগকারী সংস্থার অভাবে ব্যাহত হয়েছে, পাশাপাশি উপসাগরের সংরক্ষণের এই বিষয়ে একটি রাজনৈতিক মতৈক্যের অভাব রয়েছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এমনকি এটি ঘটছে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের উল্লেখযোগ্য অংশেও। তটরেখার হাজার হাজার মাইল দূরবর্তী যা পুলিশ জন্য কঠিন, এবং রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী বানিজ্যিক মাছ ধরার শিল্পটিও এটি বন্ধে ধীরসম্পূর্ণ এমনকি অর্থনৈতিকভাবে কার্যকরী সংরক্ষণ ব্যবস্থাও, সংরক্ষণের অনেক কম কঠোর ব্যবস্থাই গৃহীত হয়েছে। উপসাগরীয় মৎস্য ও উপকূল সংরক্ষণ এই খাতের অতিরিক্ত নিজ সুবিধার্থে প্রয়োগেরও একটি দীর্ঘ ইতিহাস, যা মেক্সিকো উপকূলবর্তী বাসিন্দাদের জীবিকার উপর সরাসরি, প্রায়ই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে । বর্তমান সময়ে, মেক্সিকান সরকার এবং ব্যবসায়িক স্বার্থগুলি উপসাগরের জন্য পর্যটক উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের উন্নয়নে অগ্রগতি অর্জন করেছে । এটির স্থানীয় বাস্তুসংস্থান এবং সমাজের উপর প্রভাব অনিশ্চিত।

উপকূলীয় সম্প্রদায় বাণিজ্যিক ও ক্রীড়া উভয় মাছ ধরার ক্ষেত্রেই অত্যন্ত নির্ভরশীল, এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সান ফেলিপে, সান কার্লোস, সোনারা, ক্যাবো সান লুকাস, লা পাজ, লোরেটো, গুয়ামাস, বাহিয়া কিনো, পুয়ের্তো পেনাস্কো, টোপোলোবাম্পো এবং মুলেগ। মেক্সিকান মূল ভূখন্ডের প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী মাজাটলান অঞ্চলের উন্নত চিংড়ি এবং সার্ডিনগুলি উপসাগরের দক্ষিণে বাণিজ্যিক মৎস্যজীবীদের দ্বারা ব্যপকভাবে আহরিত হয়।

অনেক সামুদ্রিক প্রাণীই কেবল একটি নির্দিষ্ট লবণাক্ততার পরিসরে বাঁচতে পারে, যা লবণাক্ততাকে ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরে পাওয়া সম্ভাব্য বাণিজ্যিক প্রাণীর ধরন নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য উপাদান করে তোলে। ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের লবণাক্ততার গড়ের বার্ষিক পরিসর পৃষ্ঠতলে ৩.৫ এবং ৩.৫৮% এর মধ্যে রয়েছে।[১] অধিকন্তু, এখানকার উত্তর অঞ্চলে বাষ্পীভবনের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের উত্তরের জলের লবণাক্ততা সাধারণত মধ্য ও দক্ষিন অঞ্চলের থেকে বেশী।[৩]

তীর ও জোয়ার[সম্পাদনা]

তিন ধরনের তীর ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরে দেখা যায়। এতে অর্ন্তভুক্ত রয়েছে পাথুরে তীর, বালুর তীর, এবং জোয়ার সমতল। কিছু সমৃদ্ধ জীব বৈচিত্র্য এবং উচ্চ স্থানিকতা যেগুলো ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরকে বৈশিষ্ট্যময় করেছে এবং এটিকে মাছ ধরার জন্য একটি হটস্পট স্বরুপ তৈরি করেছে যেমন এক ধরনের শিলা যেটি একটি তীর তৈরি করে। নরম ও অধিক সচ্ছিদ্র যুক্ত পাথরের (যেমন:- কোকিনা লাইমস্টোন, রায়োলাইটস, গ্রানাইট পাথর, অথবা ডায়োরাইট) সমুদ্র তীরে সাধারনত শক্ত ও মসৃণ পাথরের (যেমন:- আগ্নেয় শিলা অথবা ডাইঅবেস) তীরের তুলনায় প্রানী বৈচিত্র্যে অধিক সমৃদ্ধশালী হয়। সচ্ছিদ্র পাথরগুলি স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে আরও ফাটল ও খসে প ড়বে, যাতে তারা অনেক প্রাণীর জন্য আদর্শ জীবন্ত স্থান তৈরি করে। সাধারনত পাথরগুলো তীরে নিজেদেরকে স্থায়ী ভাবে স্থিতিশীল করাতে সেখানে সুস্থিরভাবে থাকতে হয়। উপরন্তু, পাথরগুলোর রঙ তীরে বসবাসকারী জীবিত প্রাণীদেরও প্রভাবিত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গাঢ় পাথর উজ্বল পাথরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উষ্ণতর হবে, এবং যেসব প্রানী অতি গরম সহ্য করতে পারেনা সেগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে।[৩] ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের উত্তরে ৫ মি (১৬ ফু) এর চেয়ে উঁচু ঢেউ প্রবাহিত হয়। উপসাগরের অধিকাংশ এলাকা জুড়েই মিশ্র জোয়ার-ভাটা পরিলক্ষিত হয়।

মোহনা[সম্পাদনা]

ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরে, বিপরীত মোহনা রয়েছে, যার মধ্যে সমুদ্র জলের বাষ্পীভবন তাজা জলের ইনপুটের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বড়। এসকল ক্ষুদ্র দ্বীপের পানিতে লবনাক্ততা সাগরের পানি থেকে বেশি। উপসাগরের তাপমাত্রার তুলনায় এখানে অধিক তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হয়।

এটি সম্ভব যে এক সময়ে এই মোহনাগুলি ইতিবাচক ছিল, যার মধ্যে সমুদ্রের পানিতে উপাদান দ্রবীভূত হয়; এ কারনে, জল লবণাক্ত ও সমুদ্রের তুলনায় লবণাক্ততা কম।

যাইহোক, ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের চারপাশে জমি ব্যবহারে মানুষের পরিবর্তন এবং পৌর ও কৃষি ব্যবহারের জন্য জল প্রবাহের কারনে, এখন অনেকগুলি নদী আর নেই যেগুলো উন্মক্তভাবে খালি হয়ে ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের মধ্যে গিয়ে পড়তো। কলোরাডো নদীর বদ্বীপ একটি ঐতিহাসিকভাবে প্রধান মোহনা এবং জলাভূমি বাস্তুতন্ত্রের একটি উদাহরণ, যা ২০শ শতাব্দী থেকে নদী বাঁধ নির্মাণ এবং কলোরাডো নদীতে কৃত্রিম জল-প্রণালী তৈরি, এসবের কারনে অবশেষে এটি এখন একটি ছোট ক্ষণজীবী মোহনা। এটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান এর তালিকায় অর্ন্তভুক্ত। উপসাগরের অন্যান্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপগুলি এখনও গুরুত্বপূর্ণ মাছের বিভিন্ন প্রজাতি, কবচী, এবং শামুকের জন্য যেগুলো বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়।[৩]

দ্বীপ[সম্পাদনা]

ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরে ৩৭টি প্রধান দ্বীপ রয়েছে – সবচেয়ে বড় দুটি হল ইস্লা অ্যাঞ্জেল ডি লা গার্ডা এবং টাইবুরন দ্বীপ। বেশিরভাগ দ্বীপ এই উপসাগরের উপদ্বীপের পাশে পাওয়া যায়। কার্যত, এসকল দ্বীপের অনেকগুলোই আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের ফল, যা বাজা ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাথমিক ইতিহাসের সময় ঘটেছিল। ইস্লাস মারিয়াস, ইস্লাস সান ফ্রান্সিসকো, এবং ইস্লা পার্তিদা দ্বীপগুলোকেও এই ধরনের বিস্ফোরনের ফল বলে মনে করা হয়। তবে দ্বীপগুলির গঠন একে অপরের উপর নির্ভরশীল নয়। একটি পৃথক কাঠামোগত ঘটনার ফলে এগুলোর গঠন হয়েছিল।[৩]

এই উপসাগরে ৯০০ এর অধিক ইসলেট (ক্ষুদ্র দ্বীপ) এবং দ্বীপ রয়েছে যেগুলোর সবগুলো মিলে আয়তন ৪২০ হেক্টর। ২ আগস্ট, ১৯৭৮-এ সবগুলো দ্বীপকে "Area Reserve and Migratory Bird Refuge and Wildlife" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। জুন ২০০০-এ, দ্বীপগুলোকে "বন্যপ্রাণী সংরক্ষিত এলাকা" হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করা হয়। মেক্সিকান সরকারের এই প্রচেষ্টা ছাড়াও বিশ্বব্যাপী এটির গুরুত্ব ও স্বীকৃতির জন্য, এই উপসাগরের সবগুলো দ্বীপ আর্ন্তজাতিক কর্মসূচী "মানুষ ও জীবমণ্ডল" (MAB) এর অংশ এবং বিশ্ব সংরক্ষন নেটওর্য়াক ইউনেস্কো জীবমণ্ডলের বিশেষ জীবমণ্ডল সংরক্ষনের অংশ। ফেডারেল সুরক্ষিত এলাকা সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃক এটির বিশাল খরচ নির্বাহের কারণে কো-অর্ডিনেটের মাধ্যমে চারটি আঞ্চলিক দপ্তরের একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি পরিচালিত হয়। বাজা ক্যালিফোর্নিয়া, বাজা ক্যালিফোর্নিয়া সার, সোনোরা এবং সিনালোয়া-এ চারটি আঞ্চলিক দপ্তর রয়েছে। অগ্রবর্তী হওয়া সত্ত্বেও, দ্বীপগুলিতে সরাসরি এবং পরোক্ষ সংরক্ষণ কাজটি একটি একক ব্যবস্থাপনা কর্মসূচী দ্বারা পরিচালিত হয়, প্রকাশিত হয় ২০০০ সালে, যা স্থানীয় এবং নির্দিষ্ট পরিচালন (ব্যক্তি) কর্মসূচী দ্বারা সম্পন্ন হয় । বাজা ক্যালিফোর্নিয়ার বন্যপ্রাণী সুরক্ষিত এলাকার দপ্তরের (APFF-GCR) অধীনে রাজ্যের উপকূলবর্তী ৫৬টি দ্বীপের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব রয়েছে। এগুলো চারটি দ্বীপমালায় বিভক্ত: সান লুইস গনজাগা বা এনচান্টেড, গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল, বাহিয়া ডি লস এঞ্জেলেস এবং সান লরেঞ্জো।[১৩][১৪]

গভিরতা[সম্পাদনা]

উপসাগরটির গভীরতার পরিমাপ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন পরিমানের হয়, ইয়ুমা, অ্যারিজোনা মোহনার নিকটে এর গভীরতম অংশের গভীরতা ৩,০০০ মিটার (৯,৮০০ ফু)। জলের গভীরতা এটির তাপমাত্রা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, অগভীর গভীরতা সরাসরি বাতাসের স্থানীয় তাপমাত্রা দ্বারা প্রভাবিত হয়, যেখানে বাতাসে তাপমাত্রা পরিবর্তনের জন্য গভীর জল কম সমর্থ।[৩]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Brusca, Richard C. (Editor) (২০১০)। The Gulf of California: Biodiversity and Conservation। University of Arizona Press। পৃষ্ঠা 354 pages।  Studies by researchers, on both sides of the border, on the threats to the diversity of species in the gulf's waters.

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Rebekah K. Nix। "The Gulf of California: A Physical, Geological, and Biological Study" (PDF)। University of Texas at Dallas। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ১০, ২০১০ 
  2. Ernesto Campos, Alma Rosa de Campos & Jesús Angel de León-González (২০০৯)। "Diversity and ecological remarks of ectocommensals and ectoparasites (Annelida, Crustacea, Mollusca) of echinoids (Echinoidea: Mellitidae) in the Sea of Cortez, Mexico"। Parasitology Research105 (2): 479–487। doi:10.1007/s00436-009-1419-8 
  3. Richard C. Brusca (১৯৭৩)। A Handbook to the Common Intertidal Invertebrates of the Gulf of California। Tucson, Arizona: University of Arizona Press। পৃষ্ঠা 10–15। আইএসবিএন 0-8165-0356-7 
  4. "Limits of Oceans and Seas, 3rd edition" (PDF)International Hydrographic Organization। ১৯৫৩। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১০ 
  5. "The Gulf of California Invertebrate Database: The Invertebrate Portion of the Macrofauna Golfo Database"Arizona-Sonora Desert Museum: Center for Sonoran Desert Studies। 
  6. [১] আর্কাইভ December 21, 2011, at the Wayback Machine.
  7. "Archived copy"। ২০১২-০৭-১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১২-০৬-১২ 
  8. "Marine Biology of Baja California"। Math.ucr.edu। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-১২-০৮ 
  9. "San Jorge Water Temperature (Sea) and Wetsuit Guide (Baja Sur, Mexico)"। Surf-forecast.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-১২-০৮ 
  10. Hamilton, W.B., 1961, Origin of the Gulf of California: GSA Bull., 72, 1307-1318.
  11. "Science Plans RCL"। review.nsf-margins.org। সংগ্রহের তারিখ মে ২৭, ২০০৮ 
  12. Leal-Acosta, M.L., Prol-Ledesma, R.M., (২০১৬)। "Caracterización geoquímica de las manifestaciones termales intermareales de Bahía Concepción en la Península de Baja California" (PDF)Boletín de la Sociedad Geológica Mexicana (Spanish ভাষায়)। 68 (3): 395–407। 
  13. "Valle de los Cirios. Tesoro de Baja California"। ১৪ জুলাই ২০১০। 
  14. "Área de Protección de Flora y Fauna Islas del Golfo de California en Baja California" 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]