সূরা বাইয়্যিনাহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(বাইয়্যিনাহ থেকে পুনর্নির্দেশিত)
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
আল বাইয়্যিনাহ
পরিসংখ্যান
সূরার ক্রম ৯৮
আয়াতের সংখ্যা
রুকুর সংখ্যা
পূর্ববর্তী সূরা সূরা ক্বদর
পরবর্তী সূরা সূরা যিলযাল

আরবি পাঠ্য · বাংলা অনুবাদ


সূরা আল বাইয়্যিনাহ (আরবি: سورة البينة‎‎) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ৯৮ নম্বর সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ৮ টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ১। আল বাইয়্যিনাহ সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।

নাযিল হওয়ার সময় ও স্থান[সম্পাদনা]

শানে নুযূল[সম্পাদনা]

বিষয়বস্তুর বিবরণ[সম্পাদনা]

প্রথম আয়াতে রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর আবির্ভাবের পূর্বে দুনিয়াতে কুফল, শিরক, ও মূর্খতার ঘোর অন্ধকারের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, এহেন সর্বগ্রাসী অন্ধকার দূর করার জন্যে একজন পারদর্শী সংস্কারক প্রেরণ করা ছিল অপরিহার্য। রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর জন্ম ও আবির্ভাবের পূর্বে আহ্‌লে-কিতাবরা সবাই তাঁর নবুওয়তের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করত। কেননা, তাদের ঐশীগ্রন্থ তৌরাতইঞ্জীলে রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর নবুওয়ত, তাঁর বিশেষ গুণাবলী ও তাঁর প্রতি কোরআন অবতর সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা ছিল। তাই ইহুদীখ্রীষ্টানদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোন বিরোধ ছিল না যে, শেষ যমানার মোহাম্মদী মোস্তফা (সাঃ) আগমন করবেন, তাঁর প্রতি কোরআন নাযিল হবে এবং তাঁর অনুসরণ সবার জন্যে অপরিহার্য হবে। কোরআনেও তাদের এই ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছেঃ

অথবা তারা মুশরিকদেরকে বলতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর আগমনের পূর্বে আহ্‌লে-কিতাবরা সবাই তাঁর নবুওয়ত সম্পর্কে অভিন্ন মত পোষণ করত, কিন্তু যখন তিনি আগমন করলেন, তখন তারা অস্বীকার করতে লাগল। কোরআনেরও অন্য এক আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ

আলোচ্য আয়াতে এ বিষয়টি এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আশ্চর্যের বিষয়, রসূলের আগমন ও তাঁকে দেখার পূর্বে তো তাদের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে কোন মতবিরোধ ছিল না; সবাই তার নবুওয়ত সম্পর্কে একমত ছিল, কিন্তু যখন সুস্পষ্ট প্রমাণ অর্থাৎ শেষনবী আগমন করলেন, তখন তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়ে গেল। কেউ তো বিশ্বাস স্থাপন করে মুমিন হল এবং অনেকেই কাফের হয়ে গেল।[১]

সবশেষে পরিস্কারভাবে বলে দেয়া হয়েছে, যেসব আহ্‌লি কিতাব ও মুশরিক এই রসূলকে মেনে নিতে অস্বীকার করবে তারা নিকৃষ্টতম সৃষ্টি। তাদের শাস্তি চিরস্তন জাহান্নাম। আর যারা ঈমান এনে সৎ কর্মের পথ অবলম্বন করবে এবং দুনিয়ায় আল্লাহ্‌কে ভয় করে জীবন যাপন করবে তারা সর্বোত্তম সৃষ্টি। তারা চিরকাল জান্নাতে থাকবে। এই তাদের পুরস্কার।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. তফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন (১১ খন্ডের সংহ্মিপ্ত ব্যাখ্যা)।
  2. তাফহীমুল কোরআন।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]