হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস
Juan Manuel Santos and Lula (cropped).jpg
কলম্বিয়ার ৩২তম রাষ্ট্রপতি
অধিকৃত অফিস
৭ আগস্ট ২০১০
উপরাষ্ট্রপতি অ্যাঞ্জেলিনো গারজন
জার্মান ভারগাস লেরাস
পূর্বসূরী অ্যালভারো উরাইব
জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
অফিসে
১৯ জুলাই ২০০৬ – ১৮ মে ২০০৯
রাষ্ট্রপতি অ্যালভারো উরাইব
পূর্বসূরী ক্যামিলো অসপিনা বার্নাল
উত্তরসূরী ফ্রেডি পাদিল্লা ডি লিয়ন (ভারপ্রাপ্ত)
অর্থমন্ত্রী
অফিসে
৭ আগস্ট ২০০০ – ৭ আগস্ট ২০০২
রাষ্ট্রপতি আন্দ্রেস পাসত্র্রানা আরাঙ্গো
পূর্বসূরী হুয়ান ক্যামিলো রেস্ত্রেপো সালাজার
উত্তরসূরী রবার্তো জাঙ্গুইতো বনেট
বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী
অফিসে
১৮ নভেম্বর, ১৯৯১ – ৭ আগস্ট, ১৯৯৪
রাষ্ট্রপতি সিজার গাভিরিয়া
পূর্বসূরী সৃষ্ট পদ
উত্তরসূরী দানিয়েল মাজুইরা গোমেজ
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস কল্ডেরন
(১৯৫১-০৮-১০) ১০ আগস্ট ১৯৫১ (বয়স ৬৬)
বোগোতা, কলম্বিয়া
রাজনৈতিক দল লিবারেল পার্টি (২০০৫-এর পূর্বে)
সোশ্যাল পার্টি অব ন্যাশনাল ইউনিটি (২০০৫-বর্তমান)
দাম্পত্য সঙ্গী সিলভিয়া আমায়া লন্ডনো (বিবাহ-বিচ্ছেদ)
মারিয়া ক্লেমেন্সিয়া রড্রিগুয়েজ মুনেরা (১৯৮৭-বর্তমান)
সন্তান মার্টিন
মারিয়া অ্যান্টোনিয়া
এস্তেবান
বাসস্থান কাসা দে নারিনো
প্রাক্তন ছাত্র কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়, লরেন্স
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়
ধর্ম রোমান ক্যাথলিক
পুরস্কার নোবেল শান্তি পুরস্কার (২০১৬)
স্বাক্ষর

হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস কল্ডেরন (স্পেনীয়: [xwan maˈnwel ˈsantos kaldeˈɾon]; জন্ম: ১০ আগস্ট, ১৯৫১) বোগোতায় জন্মগ্রহণকারী বিশিষ্ট কলম্বীয় রাজনীতিবিদ। ৭ আগস্ট, ২০১০ তারিখ থেকে অদ্যাবধি কলম্বিয়ার ৩২তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।[১] ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

এনরিখ সান্তোস কাস্তিলো ও তাঁর স্ত্রী ক্লেমেন্সিয়া কল্ডারন নাইতো দম্পতির সন্তান তিনি।[২] চার ভাইয়ের মধ্যে তাঁর অবস্থান তৃতীয়।[৩] অভিজাত ও প্রভাবশালী সান্তোস পরিবারের সদস্য তিনি। এ পরিবারটি ১৯১৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এল তাইম্পো সংবাদপত্রের অধিকাংশ শেয়ারের অধিকারী ছিল। পরবর্তীতে অবশ্য ২০০৭ সালে প্লানেতা দিঅগস্তিনি’র কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল।

বোগোতার ব্যক্তিমালিকানাধীন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কলেজিও স্যান কার্লোসে অধ্যয়ন করেন।[৪] ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয় জীবনের অধিকাংশ সময় এখানেই কাটান। এরপর কলম্বিয়ান নেভিতে তালিকাভুক্ত হন ও কার্টাজেনায় এডমিলা পাদিল্লা ন্যাভাল ক্যাডেট স্কুলে স্থানান্তরিত হন। ১৯৬৯ সালে সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত নৌবাহিনীতে ছিলেন। তাঁর নেভাল ক্যাডেট র‌্যাঙ্ক ছিল এনএ-৪২ ১৩৯।[৫]

নৌবাহিনী থেকে চলে আসার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে ক্যানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ও আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচিত ছিলেন। ডেল্টা আপসিলন ভ্রাতৃসংঘের সদস্য[৬] সান্তোস ১৯৭৩ সালে অর্থনীতি ও ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।[৭]

স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর কলম্বিয়ার জাতীয় উৎপাদনকারী সংস্থায় অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন ও লন্ডনে আন্তর্জাতিক কফি সংগঠনে নেতৃত্ব দেন।[৮] সেখানকার লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স ও পলিটিক্যাল সায়েন্সে ভর্তি হন ও স্নাতকসহ অর্থনীতি বিভাগ থেকে ১৯৭৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।[৯] ১৯৮১ সালে পারিবারিকভাবে নিয়ন্ত্রিত এল তাইম্পো’র উপ-পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন। এর দুই বছর পর পরিচালক হন।

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি সিজার গাভিরিয়া ত্রুজিলো সরকারের বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। কলম্বিয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধিকল্পে কাজ করেন।[১০] সেলক্ষ্যে প্রোএক্সপোর্ট, ব্যানকল্ডেক্স ও ফিদুকল্ডেক্সের ন্যায় বিভিন্ন এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি আন্দ্রেজ পাস্ত্রানা আরাঞ্জো’র মন্ত্রীসভায় ৬৪তম বাণিজ্য ও পাবলিক ক্রেডিটমন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন।[১১]

২০০৮ সালে পেন্টাগনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটসের সাথে

রাষ্ট্রপতি আলভারো উরাইব ভেলেজ সরকারের সময়কালে সান্তোসের উত্তরণ ঘটতে থাকে ও প্রভাবশালী হয়ে উঠেন। ২০০৫ সালে উদার-রক্ষণশীল দলের জোট হিসেবে সোশ্যাল পার্টি অব ন্যাশনাল ইউনিটি রাজনৈতিক দল গঠনে সহঃ প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। এ দলটি রাষ্ট্রপতি উরাইবের গৃহীত নীতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সমর্থন সফলতার সাথে প্রয়োগ করতো। এরফলে উরাইব সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে। দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করায় উরাইব সরকারের অধীনে সান্তোস জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন ও সরকারকে সহায়তা প্রদান করে। এ সময়ে ফার্ক ও অন্যান্য গেরিলা দলগুলোর বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নেয়।

পরবর্তীতে কলম্বিয়ায় দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব-সংঘাত দূরীকরণে প্রাণান্তকর চেষ্টার জন্য বিশ্বে পরিচিতি পান। ২০১৬ সালে তাঁর আপ্রাণ চেষ্টার ফলস্বরূপ ফার্ক বিদ্রোহীদের সাথে শান্তি চুক্তিতে আবদ্ধ হন। ১৯৬০-এর দশকে কলম্বিয়া সরকারের সাথে ফার্কের সংঘাত চলে আসছিল।

৯ জুন, ২০১০ তারিখে সান্তোস ও মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট হিলারি ক্লিনটন

২০ জুন, ২০১০ তারিখে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে জয়যুক্ত হন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি অ্যালভারো উরাইবের স্থলাভিষিক্ত হন। তবে, তিনি উরাইবের কাছ থেকে স্বকীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। সান্তোস দেশের সামাজিক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা কথা ভেবে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের দিকেও নজর দিয়েছেন। তাঁর এ জয়ে নতুন নেতার আত্মপ্রকাশের চিহ্নস্বরূপ সামাজিক সমস্যা দূরীকরণ ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কলম্বিয়ার বিদ্বেষপূর্ণ সম্পর্ক উত্তরণের দিকে মনোনিবেশ ঘটান। উদ্বোধনী ভাষণে তিনি বলেন যে,

আমি জাতীয় ঐক্যমতের সরকার প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। এর ফলে সকল কলম্বীয়ের সামাজিক সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে। যদি আমরা অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতি ঘটাতে চাই তাহলে আমাদের মাঝে একতাবোধ গড়ে তুলতে হবে।

নোবেল শান্তি পুরস্কার[সম্পাদনা]

জুন, ২০১৬ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার পর থেকেই কিছু লোক বলে আসছিল যে, সান্তোস ও অন্যান্য আলোচকগণ হয়তোবা নোবেল পুরস্কার লাভ করতে পারেন। কিন্তু উরাইব এ চুক্তির বিপক্ষে অবস্থান করছিলেন। উরাইবের মতে ফার্কের জন্য তা বেশ অনুকূলে চলে গেছে। ২০১৬ সালে তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।[১২]

৭ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে ঘোষণা করা হয় যে, দেশের গেরিলাদের সাথে শান্তি চুক্তির ফলে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি। শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটের আয়োজন করেও তিনি প্রয়োজনীয় সমর্থন লাভ না করা স্বত্ত্বেও তিনি শান্তি আলোচনায় অগ্রসর হয়েছিলেন।[১৩]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

৫৮ বছর বয়সী সান্তোস কলম্বিয়ার রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী পরিবারে জন্ম। চলচ্চিত্র পরিচালক ও টেলিভিশন উপস্থাপিকা সিলভিয়া আমায়া লন্ডনো’র সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু নিঃসন্তান অবস্থায় তিন বছর পর তাঁদের সম্পর্ক বিবাহ-বিচ্ছেদে রূপান্তরিত হয়।[১৪][১৫] এরপর ‘তুতিনা’ নামে পরিচিত যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত সচিব ও শিল্প নকশাকার মারিয়া ক্লেমেন্সিয়া রড্রিগুয়েজ মুনেরা নাম্নী এক রমণীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তখন তিনি এল তাইম্পো’র উপ-পরিচালক ছিলেন।[১৫] এ দম্পতির মার্টিন, মারিয়া অ্যান্টোনিয়া ও এস্তেবান নাম্নী তিন সন্তান জন্মগ্রহণ করে।[১৬][১৭]

রচিত গ্রন্থসমগ্র[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Historical Challenge"। Semana International। ১৩ আগস্ট ২০১০। সংগৃহীত ১৯ আগস্ট ২০১০ 
  2. "Pefil: ¿Quién es Juan Manuel Santos?" [Profile, Who is Juan Manuel Santos?]El Tiempo। ১৮ মে ২০০৯। সংগৃহীত ৪ জুলাই ২০১৩ 
  3. "Colombia: murió el ex editor de El Tiempo, Enrique Santos" [Colombia:Dies the Former Editor of El Tiempo]La Nación (Spanish ভাষায়)। ২৩ নভেম্বর ২০০১। সংগৃহীত ৪ জুলাই ২০১৩ 
  4. "El Colegio San Carlos ha sido un gran formador de líderes, destacó el Presidente Santos" (Spanish ভাষায়)। Bogotá: Colombia, Office of the President। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১১। সংগৃহীত ৫ জুলাই ২০১৩ 
  5. "Colombia tiene un nuevo Presidente. Juan Manuel Santos Calderon, Cadete NA 42" [Colombia has a new President. Juan Manuel Santos Calderon, Cadet NA 42] (Spanish ভাষায়)। Escuela Naval de Cadetes। ২০১০-০৮-০৬। সংগৃহীত ২০১০-১০-০৩ 
  6. Esau, John (নভেম্বর ২০১২)। "Colombian President Juan Manuel Santos Visits Delta Upsilon Chapter at the University of Kansas"Delta Upsilon Quarterly (Indianapolis, IN: Delta Upsilon Fraternity) 130 (4): 38–39। ওসিএলসি 6644516। সংগৃহীত ৫ জুলাই ২০১৩ 
  7. "Colombian president to visit KU Sept. 24"। Lawrence, KS: University of Kansas। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১২। সংগৃহীত ৫ জুলাই ২০১৩ 
  8. International Coffee Organization
  9. "LSE Leaders"। London School of Economics। 
  10. "Retos del Nuevo Gabinete"El Tiempo (Spanish ভাষায়) (Bogotá)। ১০ নভেম্বর ১৯৯১। আইএসএসএন 0121-9987ওসিএলসি 28894254। সংগৃহীত ২৮ মে ২০১৪ 
  11. "En Sus Puestos"El Tiempo (Spanish ভাষায়) (Bogotá)। ১৮ জুলাই ২০০০। আইএসএসএন 0121-9987ওসিএলসি 28894254। সংগৃহীত ২৮ মে ২০১৪ 
  12. "The Nobel Peace Prize for 2016"The Nobel Peace Prize for 2016। Nobelprize.org। ০৭/১০/২০১৬। 
  13. "The Nobel Peace Prize 2016 - Press Release"www.nobelprize.org। সংগৃহীত ২০১৬-১০-০৭ 
  14. García Vásquez, Julio Cesar (২০০৯-০৮-১৪)। "Francisco Y Juan Manuel Santos Calderon, Familiares Y Parentela" [Francisco and Juan Manuel Santos Calderon, Family and Kin]Genealogía Colombiana, Volumen IV (Spanish ভাষায়) (Interconexion Colombia)। সংগৃহীত ২০১০-১০-০১ 
  15. "Familia Santos" [Santos Family]Telemundo (Spanish ভাষায়)। সংগৃহীত ৪ জুলাই ২০১৩ 
  16. "Los nuevos inquilinos de la Casa de Nariño" [The New Occupants of the Nariño House]El País (Spanish ভাষায়)। ৪ আগস্ট ২০১০। আইএসএসএন 1134-6582। সংগৃহীত ৪ জুলাই ২০১৩ 
  17. "Mi papá, Juan Manuel Santos" [My Dad, Juan Manuel Santos]Semana (Spanish ভাষায়)। ১৮ মে ২০১০। আইএসএসএন 0124-5473। সংগৃহীত ৪ জুলাই ২০১৩ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

রাজনৈতিক দপ্তর
পূর্বসূরী
অ্যালভারো উরাইব
কলম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি
২০১০-বর্তমান
নির্ধারিত হয়নি