সূরা আল-মুলক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(আল-মুলক থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আল-মুলক
الملك
Sura67.pdf
শ্রেণীমাক্কী সূরা
নামের অর্থসার্বভৌম কর্তৃত্ব
পরিসংখ্যান
সূরার ক্রম৬৭
আয়াতের সংখ্যা৩০
পারার ক্রম২৯
রুকুর সংখ্যা
সিজদাহ্‌র সংখ্যানেই
শব্দের সংখ্যা৩৩৭
অক্ষরের সংখ্যা১৩১৬
← পূর্ববর্তী সূরাসূরা আত-তাহরীম
পরবর্তী সূরা →সূরা আল-কলম
আরবি পাঠ্য · বাংলা অনুবাদ

সূরা আল-মুলক (আরবি ভাষায়: الملك) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ৬৭ তম সূরা, এর আয়াত অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ৩০ এবং রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ২। সূরা আল-মুলক মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।

নামকরণ[সম্পাদনা]

এই সূরাটির প্রথম আয়াতের تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ বাক্যাংশের الْمُلْكُ অংশ থেকে এই সূরার নামটি গৃহীত হয়েছে; অর্থাৎ, যে সূরার মধ্যে الملك (‘মুলক‌’) শব্দটি আছে এটি সেই সূরা।[১]

নাযিল হওয়ার সময় ও স্থান[সম্পাদনা]

এ সূরাটি কোন সময় নাযিল হয়েছিলো তা কোন নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে জানা যায় না। তবে বিষয়বস্তু ও বর্ণনাভংগী থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, সূরাটি মক্কী জীবনের প্রথম দিকে অবতীর্ণ সূরাসমূহের অন্যতম।

শানে নুযূল[সম্পাদনা]

এ সূরাটিতে একদিকে ইসলামী শিক্ষার মূল বিষয়সমূহ তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে যেসব লোক বেপরোয়া ও অমনোযোগী ছিল তাদেরকে অত্যন্ত কার্যকরভাবে সজাগ করে দেয়া হয়েছে। মক্কী জীবনের প্রথম দিকে নাযিল হওয়া সূরাসমূহের বৈশিষ্ট হলো, তাতে ইসলামের গোটা শিক্ষা ও রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী করে পাঠানোর উদ্দেশ্য সবিস্তারে নয় বরং সংক্ষেপ্তভাবে বর্ণন করা হয়েছে। ফলে তা ক্রমান্বয়ে মানুষের চিন্তা-ভাবনায় বদ্ধমূল হয়েছে। সেই সাথে মানুষের বেপরোয়া মনোভাব ও অমনোযোগিতা দূর করা, তাকে ভেবে চিন্তে দেখতে বাধ্য করা এবং তার ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে তোলার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

প্রথম পাঁচটি আয়াতে মানুষের এ অনুভূতিকে জাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, যে বিশ্বলোকে সে বাস করছে তা এক চমৎকার সুশৃংখ ও সুদৃঢ় সাম্রাজ্য। হাজারো তালাশ করেও সেখানে কোন রকম দোষ-ত্রুটি , অসম্পূর্ণতা, কিংবা বিশৃংখলার সন্ধান পাওয়া যাবে না। এক সময় এ সাম্রাজ্যের কোন অস্তিত্ব ছিল না। মহান আল্লাহই একে অস্তিত্ব দান করেছেন , এর পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও শাসনকার্যের সমস্ত ইখতিয়ার নিরংকুশভঅবে তারই হাতে। তিনি অসীম কুদরতের অধিকারী। এর সাথে মানুষের একথাও বলে দেয়া হয়েছে যে, এ পরম জ্ঞানগর্ভ ও যুক্তিসংগত ব্যবস্থাসঙ্গত ব্যবস্থার মধ্যে তাকে উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করা হয়নি। বরং এখানে তাকে পরীক্ষা করার জন্য পাঠানো হয়েছে। তার শুধু সৎকর্ম দ্বারাই সে এ পরীক্ষায় সফলতা লাভ করতে সক্ষম।

আখেরাতে কুফরীর যে ভয়াবহ পরিণাম দেখা দেবে ৬ থেকে ১১ নং আয়াতে তা বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে মানুষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, মহান আল্লাহ তাঁর নবীদের পাঠিয়ে এ দুনিয়াতেই সে ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে সামাধান করে দিয়েছেন। এখন তোমরা যদি এ পৃথিবীতে নবীদের কথা মনে নিয়ে নিজেদের আচরণ ও চাল-চলন সংশোধন না করো তাহলে আখেরাতে তোমরা নিজেরাই একথা স্বীকার করতে বাধ্য হবে যে, তোমাদের যে শাস্তি দেয়া হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে তোমরা তার উপযোগী।

১২থেকে ১৪ নং আয়াতে এ পরম সত্যটি বুঝানো হয়েছে যে, স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে বেখবর থাকতে পারেন না। তিনি তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য প্রত্যেকটি কাজ ও কথা এমনকি তোমাদের মনের কল্পনাসমূহ পর্যন্ত অবগত। তাই নৈতিকতার সঠিক ভিত্তি হলো, মন্দ কাজের জন্য দুনিয়াতে পাকড়াও করার মত কোন শক্তি থাক বা না থাক এবং ঐ কাজ দ্বারা দুনিয়াতে কোন ক্ষতি হোক বা না হোক , মানুষ সবসময় অদৃশ্য আল্লাহর সামনে জবাবদিহির ভয়ে সব রকম মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকবে। যারা এ কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করবে আখেরাতে তারাই বিরাট পুরস্কার ও ক্ষমালাভের যোগ্য বলে গণ্য হবে।

১৫ থেকে ২৩ নং আয়াতে পরপর কিছু অবহেলিত সত্যের প্রতি ইংগিত দিয়ে সে সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করার আহবান জানানো হয়েছে। এগুলোকে মানুষ দুনিয়ায় নিত্য নৈমিত্তিক সাধারণ ব্যাপার মনে করে সন্ধানী দৃষ্টি মেলে দেখে না। বলা হয়েছে, এ মাটির প্রতি লক্ষ্য করে দেখো। এর ওপর তোমরা নিশ্চিন্তে আরামে চলাফেরা করছো এবং তা থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় রিযিক সংগ্রহ করছো। আল্লাহ তা’আলাই এ যমীনকে তোমাদের আনুগত করে দিয়েছেন। তা না হলে যে কোন সময় এ যমীনের ওপর ভূমিকম্প সংঘটিত হয়ে তা তোমাদেরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারে। কিংবা এমন ঝড়- ঝাঞ্চা আসতে পারে যা তোমাদের সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দেবে। মাথার ওপরে উড়ন্ত পাখীগুলোর প্রতি লক্ষ করো। আল্লাহই তো ওগুলোকে শূন্যে ধরে রাখেন। নিজেদের সমন্ত উপায়-উপকরণের প্রতি গভীরভাবে লক্ষ করে দেখো। আল্লাহ যদি তোমাদের শাস্তি দিতে চান তাহলে এমন কে আছে, যে তোমাদেরকে রক্ষা করতে পারে? আর আল্লাহ যদি তোমাদের রিযিকের দরজা বন্ধ করে দেন, তাহলে এমন কে আছে, যে তা খুলে দিতে পারে? তোমাদেরকে প্রকৃত সত্য জানিয়ে দেয়ার জন্য এগুলো সবই প্রস্তুত আছে। কিন্তু এগুলোকে তোমরা পশু ও জীব-জন্তুর দৃষ্টিতে দেখে থাকো। পশুরা এসব দেখে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। মানুষ হিসেবে আল্লাহ তোমাদেরকে যে শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি এবং চিন্তা ও বোধশক্তি সম্পন্ন মস্তিষ্ক দিয়েছেন , তা তোমরা কাজে লাগাও না। আর এ কারণেই তোমরা সঠিক পথ দেখতে পাও না।

২৪ থেকে ২৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, অবশেষে একদিন তোমাদেরকে নিশ্চিতভাবে আল্লাহর সামনে হাজির হতে হবে। নবীর কাজ এ নয় যে, তিনি তোমাদেরকে সেদিনটির আগমনের সময় ও তারিখ বলে দেবেন। তার কাজ তো শুধু এতটুকু যে, সেদিনটির আসার আগেই তিনি তোমাদের সাবধান করে দেবেন। আজ তোমরা তার কথা মানছো ন। বরং ঐ দিনটি তোমাদের সামনে হাজির করে দেখিয়ে দেয়ার দাবী করছো। কিন্তু যখন তা এসে যাবে এবং তোমরা তা চোখের সামনে হাজির দেখতে পাবে তখন তোমরা সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলবে।

২৮ থেকে ২৯ নং আয়াতে মক্কার কাফেরদের কিছু কথার জবাব দেয়া হয়েছে। এসব কথা তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সংগী-সাথীদের বিরুদ্ধে বলতো। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিশাপ দিতো এবং তাঁর ও ঈমানদারদের ধ্বংস হয়ে যাওয়ার জন্য বদ দোয়া করতো। তাই বলা হয়েছে যে, তোমাদেরকে সৎপথের দিকে আহবানকারীরা ধ্বংস হয়ে যাক বা আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুক তাতে তোমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন কি করে হবে? তোমরা নিজের জন্য চিন্তা করো। আল্লাহর আযাব যদি তোমাদের ওপর এসে পড়ে তাহলে কে তোমাদেরকে রক্ষা করবে? যারা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছে এবং যাঁরা তাঁর ওপরে তাওয়াক্কুল করেছে তোমরা মনে করছো তারা গোমরাহ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এমন এক সময় আসবে যখন প্রকৃত গোমরাহ কারা তা প্রকাশ হয়ে পড়বে।

অবশেষে মানুষের সমানে একটি প্রশ্ন রাখা হয়েছে এবং সে সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে দেখতে বলা হয়েছেঃ মরুভূমি ও পবর্তময় আরবভূমিতে যেখানে তোমাদের জীবন পুরোটাই পানির ওপর নির্ভরশীল, পানির এসব ঝরণা ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে এসেছে। এসব জায়গায় পানির উৎসগুলো যদি ভুগর্ভের আরো নিচে নেমে উধাও হয়ে যায় তাহলে আর কোন শক্তি আছে, যে এই সঞ্জীবনী -ধারা তোমাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারে?

বিষয়বস্তুর বিবরণ[সম্পাদনা]


আয়াতসমূহ[সম্পাদনা]

تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

বড়ই কল্যানময় তিনি, যার মুঠোয় মধ্যে রযেছে সমগ্র বিশ্ব-রাজ্য; এবং তিনি প্রত্যেক কিছুর কিছুর উপর শক্তিমান।

الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ

তিনি, ‍যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমাদের পরীক্ষা হয়ে যায়-তোমাদের মধ্যে কার কর্ম অধিক উত্তম এবং তিনিই মহা সম্মানিত, ক্ষমাশীল।

الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا مَّا تَرَى فِي خَلْقِ الرَّحْمَنِ مِن تَفَاوُتٍ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَى مِن فُطُورٍ

যিনি সপ্ত আসমান সৃষ্টি করেছেন একটার উপর অপরটা; তুমি রহমানের সৃষ্টিতে কি পার্থক্য দেখছো? সুতারাং দৃষ্টি উঠিয়ে দেখো তুমি কি কোন ফাটল দেখতে পাচ্ছো।

ثُمَّ ارْجِعِ الْبَصَرَ كَرَّتَيْنِ يَنقَلِبْ إِلَيْكَ الْبَصَرُ خَاسِأً وَهُوَ حَسِيرٌ

অতঃপর আবার দৃষ্টি উঠাও, দৃষ্টি তোমার দিকে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসবে ক্লান্ত ও হতভম্ব অবস্থায়।

وَلَقَدْ زَيَّنَّا السَّمَاء الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَجَعَلْنَاهَا رُجُومًا لِّلشَّيَاطِينِ وَأَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابَ السَّعِيرِ

এবং নিশ্চয় আমি নিম্নতম আসমানকে প্রদীপমালা সজ্জিত করেছি এবং সেগুলোকে শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ করেছি এবং তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি প্রস্তুত করেছি।

وَلِلَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ

এবং যারা আপন রবের সাথ কুফল করেছে তাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে এবং কতোই মন্দ পরিণতি ।

إِذَا أُلْقُوا فِيهَا سَمِعُوا لَهَا شَهِيقًا وَهِيَ تَفُورُ

যখন (তাদেরকে) নিক্ষেপ করা হবে, তখন সেটার চিৎকারের শব্দ শুনবে-তা জোশ মারছে ।

تَكَادُ تَمَيَّزُ مِنَ الْغَيْظِ كُلَّمَا أُلْقِيَ فِيهَا فَوْجٌ سَأَلَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَذِيرٌ

মনে হবে যে ভীষণ ক্রোধে ফেটে পড়ছে। যখনই কোন দলকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে তখন সেটার দারোগা তাদেরকে জিজ্ঞেস করবে, ‘‘তোমাদের নিকট কি কোন সর্তককারী আসে নি’’?

قَالُوا بَلَى قَدْ جَاءنَا نَذِيرٌ فَكَذَّبْنَا وَقُلْنَا مَا نَزَّلَ اللَّهُ مِن شَيْءٍ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا فِي ضَلَالٍ كَبِيرٍ

তারা বলবে, ‘কেন নয়? নিশ্চয় আমাদের নিকট সর্তককারী তাশরীফ এনেছেন অতঃপর আমরা অস্বীকার করেছি এবং বলেছি ‘‘ আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেননি। তোমরা তো নও, কিন্তু জঘন্য পথভ্রষ্টতাঁর মধ্যে।

وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ

এবং     বলবে,    ‘যদি    আমরা    শুনতাম    অথবা বুঝতাম, তবে দোযখবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না’।

فَاعْتَرَفُوا بِذَنبِهِمْ فَسُحْقًا لِّأَصْحَابِ السَّعِيرِ

এখন তারা নিজেদের পাপ স্বীকার  করলো।  সুতরাং দোযখীদের প্রতি ধিক্কার!

إِنَّ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِالْغَيْبِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ

নিশ্চয়  ওই সব  লোক, যারা  না  দেখে আপন রবকে        ভয়       করে,       তাদের       জন্য      রয়েছে      ক্ষমা       ও মহাপুরস্কার।

وَأَسِرُّوا قَوْلَكُمْ أَوِ اجْهَرُوا بِهِ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ

এবং   তোমরা   নিজেদের   কথা   নীরবে   বলো  কিংবা সরবে, তিনি তো অন্তর্যামী।

أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ

তিনি  কি   জানেন    না,   যিনি   সৃষ্টি   করেছেন? এবং         তিনিই       হন        প্রত্যেক       সূক্ষ্ম       বিষয়ের        জ্ঞাতা, অবহিত।

هُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ ذَلُولًا فَامْشُوا فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُوا مِن رِّزْقِهِ وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

তিনিই,     যিনি      তোমাদের        জন্য      ভূ-পৃষ্ঠকে সুগম করে দিয়েছেন সুতরাং সেটার রাস্তাগুলো দিয়ে চলো         এবং       আল্লাহ্‌        প্রদত্ত         জীবিকাগুলোর       থেকে আহার করো। আর তাঁরই দিকে উত্থিত হতে হবে।

أَأَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاء أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ

তোমরা কি নির্ভিক হয়ে গেছো তাঁরই থেকে, যার বাদশাহী   আস্‌মানে  রয়েছে, এ থেকে  যে, তিনি  তোমাদেরকে ভূ-গর্ভে ধ্বসিয়ে ফেলবেন। তখনই তা কাঁপতে থাকবে।

أَمْ أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاء أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ

অথবা   তোমরা  কি  ভয়হীন  হয়ে   গেছো  তাঁর থেকে, যার বাদশাহী আস্‌মানে রয়েছে,  এ থেকে যে তোমাদের           প্রতি           তিনি           কঙ্করবর্ষী           ঝঞ্ঝা           প্রেরণ  করবেন? সুতরাং এখন জানতে পারবে কেমন ছিলো আমার ভয় প্রদর্শন। ।

وَلَقَدْ كَذَّبَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ

এবং    নিশ্চয়     তাদের     পূর্ববর্তীগণ     অস্বীকার  করেছে।    সুতরাং    কেমন    হয়েছে    আমাকে    অস্বীকার  করা?’

أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَى الطَّيْرِ فَوْقَهُمْ صَافَّاتٍ وَيَقْبِضْنَ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا الرَّحْمَنُ إِنَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ بَصِيرٌ

এবং                তারা               কি               নিজেদের              উপরে  পাখীগুলোকে দেখে  নি? সেগুলো   পাখা  বিস্তার  করে ও   সংকুচিত     করে।   সেগুলোকে   কেউ   স্থির   রাখে    না রহমান ব্যতীত। নিশ্চয় তিনি সবকিছু দেখেন।

أَمَّنْ هَذَا الَّذِي هُوَ جُندٌ لَّكُمْ يَنصُرُكُم مِّن دُونِ الرَّحْمَنِ إِنِ الْكَافِرُونَ إِلَّا فِي غُرُورٍ

অথবা তোমাদের সে কোন্‌ বাহিনী আছে, যা রহমানের   মোকাবেলায়  তোমাদের   সাহায্য   করবে?  কাফিররা তো ধোকার মধ্যেই রয়েছে।

أَمَّنْ هَذَا الَّذِي يَرْزُقُكُمْ إِنْ أَمْسَكَ رِزْقَهُ بَل لَّجُّوا فِي عُتُوٍّ وَنُفُورٍ

অথবা    কে     এমন     আছে,     যে     তোমাদেরকে জীবিকা           দেবে        যদি        তিনি        আপন         জীবিকা        বন্ধ  রাখেন? বরং তারা অবাধ্য এবং ঘৃণার মধ্যে অবিচল হয়ে আছে।

أَفَمَن يَمْشِي مُكِبًّا عَلَى وَجْهِهِ أَهْدَى أَمَّن يَمْشِي سَوِيًّا عَلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

তবে   কি     ওই   ব্যক্তি   যে   আপন     মুখমণ্ডলের উপর ভর করে ঋজু হয়ে  চলে সে অধিক সরল  পথে রয়েছে,   না   ওই   ব্যক্তি,   যে    সোজা    হয়ে   চলে,   সরল পথের উপর?

قُلْ هُوَ الَّذِي أَنشَأَكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ

আপনি    বলুন!    ‘তিনিই,   যিনি    তোমাদেরকে সৃষ্টি   করেছেন   এবং   তোমাদের   জন্য   কান,   চোখ   ও  অন্তর     সৃষ্টি      করেছেন।     কত      কম     লোকই     কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছো!’

قُلْ هُوَ الَّذِي ذَرَأَكُمْ فِي الْأَرْضِ وَإِلَيْهِ تُحْشَرُونَ

আপনি    বলুন!     তিনিই,     যিনি     তোমাদেরকে পৃথিবীতে  বিস্তার  করেছেন   এবং    তাঁরই   প্রতি  উত্থিত  হবে।

وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ

এবং  বলে,   ‘এ প্রতিশ্রুতি  কবে  আসবে যদি তোমরা সত্যবাদী হও?’

قُلْ إِنَّمَا الْعِلْمُ عِندَ اللَّهِ وَإِنَّمَا أَنَا نَذِيرٌ مُّبِينٌ

আপনি  বলুন,  ‘এ  জ্ঞান  তো  আল্লাহ্‌র  নিকট রয়েছে এবং আমি তো এ-ই সুস্পষ্ট সতর্ককারী।

فَلَمَّا رَأَوْهُ زُلْفَةً سِيئَتْ وُجُوهُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَقِيلَ هَذَا الَّذِي كُنتُم بِهِ تَدَّعُونَ

অতঃপর  যখন   ওটা  সন্নিকটে  দেখতে    পাবে তখন     কাফিরদের   মুখমণ্ডল   বিকৃত   হয়ে    যাবে   এবং তাদেরকে         বলে         দেওয়া          হবে,         ‘এটাই          হচ্ছে-যা তোমরা চাচ্ছিলে’।

قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَهْلَكَنِيَ اللَّهُ وَمَن مَّعِيَ أَوْ رَحِمَنَا فَمَن يُجِيرُ الْكَافِرِينَ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ

আপনি     বলুন,      ‘ভালো,      দেখো      তো!      যদি  আল্লাহ্‌     আমাকে     ও     আমার      সঙ্গপ্রাপ্তদেরকে        ধ্বংস করে   দেন  কিংবা   আমাদের  উপর  দয়া  করেন,   তবে সে  কে  আছে,  যে  কাফিরদেরকে  বেদনাদায়ক  শাস্তি  থেকে রক্ষা করবে?’

قُلْ هُوَ الرَّحْمَنُ آمَنَّا بِهِ وَعَلَيْهِ تَوَكَّلْنَا فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ

বলুন, তিনি পরম করুণাময়, আমরা তাতে বিশ্বাস রাখি এবং তাঁরই উপর ভরসা করি। সত্ত্বরই তোমরা জানতে পারবে, কে প্রকাশ্য পথ-ভ্রষ্টতায় আছে।আপনি বলুন,   ‘তিনিই   রহমান,  আমরা  তাঁর উপর ঈমান এনেছি এবং তাঁরই উপর নির্ভর করেছি। সুতরাং এখন  জানতে পারবে  কে সুস্পষ্ট  পথভ্রষ্টতার মধ্যে রয়েছে’।

قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَصْبَحَ مَاؤُكُمْ غَوْرًا فَمَن يَأْتِيكُم بِمَاء مَّعِينٍ

আপনি       বলুন,        ‘ভালো,         দেখোতো!       যদি সকালে    তোমাদের    পানি   ভূ-গর্ভে     ধ্বসে   যায়,   তবে এমন    কে       আছে,    যে    তোমাদের    নিকট    পানি     এনে দেবে, যা চোখের সামনে প্রবহমান?’


বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

  1. "সূরার নামকরণ"www.banglatafheem.comতাফহীমুল কোরআন, ২০ অক্টোবর ২০১০। ২২ আগস্ট ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)