শন ম্যাকব্রাইড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(শন্‌ ম্যাকব্রাইড থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শন ম্যাকব্রাইড
Seán MacBride 1984.jpg
১৯৮৪ সালের অক্টোবর মাসে আমস্টারডামে শন ম্যাকব্রাইড
আয়ারল্যান্ড সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ – ১৩ জুন ১৯৫১
প্রধানমন্ত্রীজন এ. কোস্টেলো
পূর্বসূরীএয়ামন ডি ভ্যালেরা
উত্তরসূরীফ্রাঙ্ক আইকেন
প্রজাতন্ত্রের সন্তান দলের নেতা
কাজের মেয়াদ
২১ জানুয়ারি ১৯৪৬ – ৩ জুন ১৯৬৫
পূর্বসূরী"পদ প্রতিষ্ঠিত"
উত্তরসূরী"পদ অবলুপ্ত"
আইরিশ প্রজাতন্ত্রী সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধান
কাজের মেয়াদ
২৪ এপ্রিল ১৯৩৬ – ৯ জুলাই ১৯৩৯
পূর্বসূরীমস টুমে
উত্তরসূরীটম ব্যারি
আয়ারল্যান্ডীয় আইনসভার নিম্নকক্ষের সদস্য
কাজের মেয়াদ
১৯৪৮ – ১৯৫৭
সংসদীয় এলাকাডাবলিন দক্ষিণ-পশ্চিম
কাজের মেয়াদ
১৯৪৭ – ১৯৪৮
সংসদীয় এলাকাডাবলিন কাউন্টি
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম(১৯০৪-০১-২৬)২৬ জানুয়ারি ১৯০৪
প্যারিস, ফ্রান্স
মৃত্যু১৫ জানুয়ারি ১৯৮৮(1988-01-15) (বয়স ৮৩)
ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড
সমাধিস্থলগ্লাসনেভিন গোরস্তান, ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড
জাতীয়তাআইরিশ
রাজনৈতিক দলপ্রজাতন্ত্রের সন্তান
দাম্পত্য সঙ্গীক্যাটালিনা বালফিন
(বি. ১৯২৪; মৃ. ১৯৭৬)
সন্তান
পিতামাতা
  • জন ম্যাকব্রাইড
  • মাউড ঘোইন
প্রাক্তন শিক্ষার্থীডাবলিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ

শন ম্যাকব্রাইড (২৬ জানুয়ারি ১৯০৪ – ১৫ জানুয়ারি ১৯৮৮) একজন আইরিশ রাজনীতিবিদ ছিলেন যিনি প্রজাতন্ত্রের সন্তান রাজনৈতিক দলের যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৬৫ সাল প্রজাতন্ত্রের সন্তান দলের প্রধান ও ১৯৩৬ সাল থেকে ১৯৩৯ পর্যন্ত আইরিশ প্রজাতন্ত্রী সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডের আইনসভার নিম্নকক্ষের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।[১]

আয়ারল্যান্ডের ঘরোয়া রাজনীতি থেকে উঠে আসা শন ম্যাকব্রাইড বিংশ শতাব্দীতে বিভিন্ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা প্রতিষ্ঠার সাথে যুক্ত ছিলেন ও সংস্থার সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন এবং সংস্থার সাথে যুক্ত ছিলেন যার মধ্যে জাতিসংঘ, কাউন্সিল অব ইউরোপঅ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অন্যতম। তিনি ১৯৭৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার, ১৯৭৫–১৯৭৬ সালের জন্য লেনিন শান্তি পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে সেবায় ইউনেস্কো রৌপ্য পদক লাভ করেন।

গোড়ার দিকের বছরগুলো[সম্পাদনা]

শন ম্যাকব্রাইড ১৯০৪ সালে প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মেজর জন ম্যাকব্রাইড ও মায়ের নাম মাউড গোন।[২] শনের প্রথম ভাষা ছিল ফরাসি। এর দরুন তার ইংরেজিতে ফরাসি টান ছিল ও তার জীবনের বাকি সময়েও তার ইংরেজিতে ফরাসি টান হারিয়ে যায় নি।[৩] তিনি প্রথমে লিসি সেন্ট-লুইস-ডি-গোঞ্জাগে ভর্তি হন। ১৯১৬ সালে ইস্টার বিদ্রোহে অংশ নেবার দরুন তার বাবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পূর্বে তিনি প্যারিসে ছিলেন। তার বাবার মৃত্যুর পর তাকে আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি ওয়েক্সফোর্ডের গোরের মাউন্ট সেন্ট বেনেডিক্টসের একটি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার জন্য পাঠানো হয়। ১৯১৯ সালে ১৫ বছর বয়সে তিনি আইরিশ স্বেচ্ছাসেবকে যোগদান করেন। সংগঠনটি আইরিশ প্রজাতন্ত্রী বাহিনীর অংশ হয়ে আইরিশ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। ১৯২১ সালে সম্পন্ন ইঙ্গ-আইরিশ চুক্তির বিরোধিতা করেন ও গৃহযুদ্ধের সময় তাকে কারাগারে পাঠায় আইরিশ ফ্রি স্টেট।[৪]

১৯২৪ সালে মুক্তি পাওয়ার পর শন ম্যাকব্রাইড ডাবলিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভর্তি হন ও আইরিশ প্রজাতন্ত্রী বাহিনীর সাথে কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন।[৫] তিনি এয়ামন ডি ভ্যালেরার ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। তিনি তার সাথে রোমে বিশিষ্টজনদের সাথে সাক্ষাটূ করেছিলেন।

১৯২৫ সালে তার ২১ তম জন্মদিনের দিনে তিনি ক্যাটালিনা "কিড" বুলফিনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ক্যাটাকিনা তার চার বছরের বড় ছিলেন। তারা দুজন একই রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন।[৬] ক্যাটালিনা ছিলেন আইরিশ জাতীয়তাবাদী প্রকাশক ও ভ্রমণবিষয়ক গ্রন্থ লেখক উইলিয়াম বুলফিনের কন্যা।

১৯২৭ সালে ডাবলিনে আসার পূর্বে তিনি প্যারিসলন্ডনে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। ডাবলিনে তিনি আইরিশ প্রজাতন্ত্রী বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। ডাবলিনে আসার অল্পদিনের মাঝে তিনি কেভিন ও'হিগিন্স নামের এক রাজনীতিবিদকে হত্যার দায়ে গ্রেফতার হন। কাউন্টি ডাবলিনের বুটার্সটাউনে নিজ বাসভবনে আততায়ীর হাতে নিহত কেভিন ও'হিগিন্সের হত্যার সাথে শন ম্যাকব্রাইড যুক্ত ছিলেন না কেননা, তিনি তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি সে সময়ে শ্রমিক নেতা থেকে রাজনীতিবিদে রূপান্তরিত হওয়া "গায়েলস সমাজ" রাজনৈতিক দলের নেতা ব্রায়ান কুপারের সাথে একই নৌকায় ছিলেন। কিন্তু তিনি তাকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করতে ব্যর্থ হন। ফলশ্রুতিতে তাকে কেভিন হিগিন্স হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয় ও মাউন্টজয় কারাগারে পাঠানো হয়।[৭]

১৯২০ এর দশকের শেষভাগে দলের অনেক কর্মী "ভবিষ্যতের যোদ্ধা" দলে যোগ দিলে আইরিশ প্রজাতন্ত্রী বাহিনীর কিছু সদস্য বামপন্থী মতাদর্শকে ভিত্তি কাজ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু, আইরিশ প্রজাতন্ত্রী বাহিনী পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে এ দাবি নাকচ হয়ে যায়।এ দাবি নাকচ হবার পর শন ম্যাকব্রাইড "স্বাধীন আয়ারল্যান্ড" নামের নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করেন। বেসামরিক সংগঠন হলেও সংগঠনটি আইরিশ প্রজাতন্ত্রী বাহিনী, গায়েলস সমাজ ও অন্যান্য ৯টি সংগঠনের সাথে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করে। এরই মাঝে শন ম্যাকব্রাইডের নাম ব্রিটিশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হন।[৮]

১৯৩৬ সালে আইরিশ বিপ্লবী বাহিনীর প্রধান মস টুমেকে তিন বছরের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়। তার পদে তখন নিযুক্ত হন শন ম্যাকব্রাইড। সে সময়ে তাদের আন্দোলন ছিল ছত্রভঙ্গ। তাছাড়া বিভিন্ন গোষ্ঠী ও ব্যক্তির মাঝে দ্বন্দ্ব বিদ্যমান ছিল। শন ম্যাকব্রাইডের পর টম ব্যারি আইরিশ প্রজাতন্ত্রী বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। টম ব্যারিকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আক্রমণ বাড়ানোর জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল। শন ম্যাকব্রাইড এই নীতির বিরোধী ছিলেন।[৯]

১৯৩৭ সালে শন ম্যাকব্রাইড আইরিশ বারে যোগদান করেন। তিনি তখন আইরিশ প্রজাতন্ত্রী বাহিনী থেকে পদত্যাগ করেন। সে বছর আয়ারল্যান্ডীয় সংবিধান কার্যকর হয়। আইনজীবী হিসেবে তিনি আইরিশ প্রজাতন্ত্রী বাহিনীর সদস্যদের মামলা লড়া শুরু করেন। প্রায় মামলায় সফল হলেও ১৯৪৪ সালে চার্লি কেরিন্সের মৃত্যুদণ্ড এড়াতে সক্ষম হন নি। চার্লি কেরিন্স ১৯৪২ সালে গার্দা সিওচানা ও গোয়েন্দা ডেনিস ও'ব্রেইনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। ১৯৪৬ সালে শন ম্যাককফির হত্যা তদন্ত চলাকালীন সময়ে কর্তৃপক্ষের সামনে প্রমাণ করেছিলেন যে পোর্টলাওইজে কারাগারের অবস্থা অমানবিক ছিল।[১০]

প্রজাতন্ত্রের সন্তান[সম্পাদনা]

১৯৪৬ সালে শন ম্যাকব্রাইড প্রজাতন্ত্রী/সমাজতন্ত্রী রাজনৈতিক দল "প্রজাতন্ত্রের সন্তান" প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ভেবেছিলেন যে, তার দল আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে "ভবিষ্যতের যোদ্ধা" রাজনৈতিক দলের জায়গা দখল করবে। ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে তিনি উপনির্বাচনে ডাবলিন কাউন্টি থেকে আয়ারল্যান্ডীয় আইনসভার নিম্নকক্ষের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।[১১] তার নির্বাচনে নির্বাচিত হবার ফাইন প্যাট্রিক কিনেন প্রজাতন্ত্রের সন্তান রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে টিপেরারি থেকে আয়ারল্যান্ডীয় আইনসভার নিম্নকক্ষের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।[১২]

এরপর, ১৯৪৮ সালে অনুষ্ঠিত আয়ারল্যান্ডীয় সাধারণ নির্বাচনে মাত্র দশটি আসন জিততে সক্ষম হয়। দলটি "আইরিশদের পরিবার", "শ্রমিক দল", "জাতীয় শ্রমিক দল", "ভূমিপুত্র"সহ অন্যান্য স্বতন্ত্র রাজনীতিবিদদের নিয়ে প্রথমবারের মত জোট সরকার গঠন করে। "আইরিশদের পরিবার" দলের নেতা জন এ. কোস্টেলো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন রিচার্ড মুলকাহি "আইরিশদের পরিবার" দলের প্রধান নেতা হলেও শন ম্যাকব্রাইডসহ অন্যান্য আয়ারল্যান্ডীয় প্রজাতন্ত্রীরা ১৯২০ এর দশকে আইরিশ গৃহযুদ্ধের সময় তার বিতর্কিত ভূমিকার দরুন তাকে নেতা হিসেবে মানতে নারাজ ছিলেন। এর দরুন মুলকাহি কোস্টেলোকে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণের পথ করে দেন। প্রজাতন্ত্রের সন্তান দলের দুইজনকে মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শন ম্যাকব্রাইড পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নোয়েল ব্রাউন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন।[২]

মন্ত্রী হিসেবে পোপ দ্বাদশ পিউসের কাছে পাঠানো এক টেলিগ্রামে শন ম্যাকব্রাইড জানান:

  • "...আপনার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে জানাচ্ছি যে আমরা আপনার প্রতি সদা অনুগত থাকব এবং খ্রিষ্টীয় মতাদর্শে আমার সব কাজ পরিচালনা করবে যা আয়ারল্যান্ডীয় সমাজের সকল কাজ খ্রিষ্টীয় মতাদর্শে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে"।[১৩]

শন ম্যাকব্রাইড কাউন্সিল অব ইউরোপের মানবাধিকার ঘোষণা প্রণয়নের সময় আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত কাউন্সিল অব ইউরোপের মন্ত্রী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মানবাধিকার ঘোষণা প্রণীত হবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে মনে করা হয়। অবশেষে রোমে ১৯৫০ সালের ৪ নভেম্বর মানবাধিকার ঘোষণায় স্বাক্ষর করে সদস্য রাষ্ট্রগুলো। ১৯৫০ সালে তিনি কাউন্সিল অব ইউরোপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের সভাপতি ও ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আয়ারল্যান্ডকে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটে অন্তর্ভুক্ত না করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।[১৪]

তিনি বহির্বিশ্বের সাথে সম্পর্ল আইন রদ করতে ও ১৯৪৯ সালে আয়ারল্যান্ডকে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৪৯ সালের ১৮ এপ্রিল ইস্টার মানডেতে আয়ারল্যান্ড কমনওয়েলথ ত্যাগ করে।

১৯৫১ সালে রোমান ক্যাথলিক যাজক ও আইরিশ স্বাস্থ্য সংস্থার নিকট সমালোচনার শিকার হওয়া মা ও স্বাস্থ্য প্রকল্পের জেরে তিনি নোয়েল ব্রাউনকে পদত্যাগ করতে বলেন যা সমালোচনার জন্ম দেয়।[১৫] প্রকল্পের গুণ বা ব্রাউনের দক্ষতা যাই হোক না কেন শন ম্যাকব্রাইড মন্ত্রীসভায় ঘোষণা দেন :

"যাই হোক, ক্যাথলিক হিসেবে, আমরা (যাজকদের) মতামত উপেক্ষা করার দায়ভার নিতে পারি, আমি মনে করি না আমরা এটি করতে পারি, এটা রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব . . . আমাদের ক্যাথলিক গির্জার যাজকদের দৃষ্টিভঙ্গির দিকে নজর দিতে হচ্ছে যার সাথে অধিকাংশ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি জড়িয়ে আছে; এই দৃষ্টিভঙ্গি উপেক্ষা করা যায় না।"[১৬]

১৯৫১ সালে অনুষ্ঠিত আয়ারল্যান্ডীয় সাধারণ নির্বাচনে প্রজাতন্ত্রের সন্তান রাজনৈতিক দলের ২ আসন কমে যায়। শন ম্যাকব্রাইড সেবার ও ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত আয়ারল্যান্ডীয় সাধারণ নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হন। তিনি উত্তর আয়ারল্যান্ডে "সীমান্ত প্রচারাভিযান" (১৯৫৬–১৯৬২) এর সময় আইরিশ প্রজাতন্ত্রী বাহিনীর সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করার বিরোধী ছিলেন এবং ১৯৫৭ ও ১৯৬২ সালে অনুষ্ঠিত আয়ারল্যান্ডীয় সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেন। কিন্তু, তিনি দুবারই নির্বাচনে পরাজিত হন। এরপর তিনি রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন ও আইনজীবী হিসেবে পুনরায় কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ১৯৮৩ সালে আইরিশ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তিনি প্রয়োজনীয় জনসমর্থনের অভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নেন।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি[সম্পাদনা]

১৯৮৬ সালে শন ম্যাকব্রাইড

১৯২৯ সালে "সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংঘ" এর আয়ারল্যান্ড শাখা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এর সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হন।[১৭]

শন ম্যাকব্রাইড অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন এবং ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৬৩ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ কমিশনের সভাপতি ছিলেন। এর পর তিনি জেনেভায় আন্তর্জাতিক শান্তি ব্যুরোর চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার সহসভাপতি ও ১৯৫০ সালে কাউন্সিল অব ইউরোপের মন্ত্রী কমিশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক বিবেকের কয়েদি তহবিলের সাথে যুক্ত ছিলেন ও ১৯৭৭ সালে তাকে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সমস্যা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত করা হয়েছিল।[১৮][১৯]

তিনি আফ্রিকা ঐক্য সংস্থার সংবিধান প্রণয়নের সাথে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া তিনি ঘানার (ঘানা আফ্রিকায় যুক্তরাজ্যের প্রথম উপনিবেশ হিসেবে স্বাধীনতা লাভ করেছিল) সংবিধান প্রণয়নের সাথে যুক্ত ছিলেন যেটি ১৯৬৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটনের পূর্ব পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

শন ম্যাকব্রাইড ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সহায়তা চুক্তি, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা চুক্তি (১৯৪৯) ও ইউরোপীয় মানবাধিকার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। তিনি ঘানা, জাম্বিয়াতানজানিয়ার সংবিধান প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।[২০]

জাতিসংঘের নানা পদে তিনি যুক্ত ছিলেন। এগুলো হল:

মানবাধিকার[সম্পাদনা]

ঊনবিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশ, ষাট ও সত্তরের দশকে শন ম্যাকব্রাইড বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেছেন। বহু সন্দেহভাজন আইরিশ প্রজাতন্ত্রী বাহিনীর সদস্যদের ১৯৫৮ সালে বিনা বিচারে কারাগারে প্রেরণ করা হলে তিনি দে মামলা ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনিসহ একদল আইনজীবী "জাস্টিস" নামে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক এক মানবাধিকার ও আইন সংস্কার সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটি মূলত ১৯৫৬ সালে বুদাপেস্ট গণআন্দোলনের উন্মুক্ত বিচার পর্যবেক্ষণ করার জন্য গঠিত হয়েছিল। এটি পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ কমিশনের যুক্তরাজ্য শাখায় রূপান্তরিত হয়। তিনি মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক বিবেকের কয়েদি তহবিলের ট্রাস্টি ছিলেন।

১৯৭৩ সালে তাকে নামিবিয়ায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত পদে নিযুক্ত করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। পদটি ছিল জাতিসংঘের যুগ্ম মহাসচিব পদের সমতুল্য। তার পিতা জন ম্যাকব্রাইড বুয়রদের হয়ে আইরিশ ট্রান্সভাল বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ও দ্বিতীয় বুয়র যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর হয়ে লড়েছিলেন। এটি দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সরকারের সাথে যোগাযোগের পথ তৈরি করে দেয়। ১৯৭৭ সালে তিনি ইউনেস্কো কর্তৃক যোগাযোগ সমস্যা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কমিশনের সভাপতি পদে নিযুক্ত হন। ১৯৮০ সালে তাকে ইউনেস্কোর সভাপতি পদে নিযুক্ত করা হয়। তিনি ডানস স্টোরস ধর্মঘটের পক্ষে ছিলেন ও ১৯৮৫ সালের মে মাসে এই ধর্মঘটের কমপক্ষে একটি সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন।[২০]

শন ম্যাকব্রাইড তার কাজের জন্য ১৯৭৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।[২১] তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সম্পর্কে পৃথিবীর মানুষকে সচেতন করার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেছিলেন। তিনি এরপর লেনিন শান্তি পুরস্কার (১৯৭৫-৭৬) ও সেবায় ইউনেস্কো রৌপ্য পদক (১৯৮০) লাভ করেন। তিনি "রূঢ় সমর যুদ্ধ" এর বিরোধিতা করার দরুন লাভ করেছিলেন লেনিন শান্তি পুরস্কার। তিনি লিনাস পলিংয়ের পর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে লেনিন শান্তি পুরস্কার ও নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।[২২]

আশির দশকে তিনি পারমাণবিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের নিয়ে আপিল করেন।[২৩] এই প্রক্রিয়ায় তাদের সাথে ছিল আন্তর্জাতিক শান্তি ব্যুরো ও আন্তর্জাতিক প্রগতি সংঘ। আন্তর্জাতিক প্রগতি সংঘের ফ্রান্সিস বয়েল ও হ্যান্স কোচলারের সাতগে মিলে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের নিকট থেকে পারমাণবিক অস্ত্রের বৈধতা সংক্রান্ত রায় বিষয়ক প্রস্তাব পেশ করার প্রচেষ্টা চালান। অবশেষে, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত ১৯৯৬ সালে পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি বা পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার সংক্রান্ত পরামর্শমূলক রায় পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে দেয়।

১৯৮২ সালে তিনি লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের সময় ইসরাইল কর্তৃক আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। এই কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন রিচার্ড ফাল্ক, কাদের আজমল, ব্রায়ান বারকুসন, গেরৌদ ডি লা প্রাডেলে ও স্টেফান ওয়াইল্ড। এই কমিশন তদন্ত শেষে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে "ইসরাইলি সরকার আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী কাজ করেছে" । তাদের প্রতিবেদন লেবাননে ইসরাইল শিরোনামে ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয়।[২৪]

১৯৮৪ সালে তিনি ম্যাকব্রাইড নীতি নামের একটি পরিকল্পনা পেশ করেন। এতে তিনি উত্তর আয়ারল্যান্ডে রোমান ক্যাথলিক কর্মীদের বৈষম্য হ্রাস করার বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেন। তার এই পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ও আয়ারল্যান্ডীয় আমরা আমরাই রাজনৈতিক দলের সমর্থন লাভ করে। তার দি নীতি আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য সরকারের নিকট সমালোচিত হয়। এছাড়া, এই নীতি অধিকাংশ উত্তর আয়ারল্যান্ডীয় রাজনৈতিক দলের নিকট সমালোচনার শিকার হয়। উত্তর আয়ারল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল সামাজিক গণতন্ত্রী ও শ্রমিক দল নীতিটিকে কর্ম ও উৎপাদন বিমুখী বলে অভিহিত করে।

শন ম্যাকব্রাইড সেল্টিক জাতীয়তাবাদেও আগ্রহী ছিলেন।

শেষজীবন ও মৃত্যু[সম্পাদনা]

শেষজীবনে শন ম্যাকব্রাইড তার মায়ের বাড়ি রোয়েবাক হাউসে ও প্যারিসিয়ান জেলায় বাস করতেন। তার মায়ের বাড়িটি বহু বছর ধরে আইরিশ জাতীয়তাবাদীদের বৈঠকস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। প্যারিসিয়ান জেলায় তিনি তার মায়ের সান্নিধ্যে বেড়ে উঠেছিলেন এবং সেখানে তার বাল্যকালের বহু স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তিনি খ্যাতির অধিকারী হলেও মৃদুভাষী ছিলেন ও তার চালচলনে খ্যাতির প্রভাব ছিল না। ১৯৭৯ সালে পম্পিদৌ কেন্দ্র জাদুঘরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সংক্রান্ত একটি প্রদর্শনীতে তিনি তার এক সহকর্মী কানে কানে বলেছিলেন "অ্যামনেস্টি, তুমি জানো, তুমি আমার এক সন্তান ছিলে।"[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

শন ম্যাকব্রাইড ডাবলিনে ১৯৮৮ সালের ১৫ জানুয়ারি তার ৮৪তম জন্মদিনের ১১ দিন পূর্নে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৭৬ সালে তার স্ত্রী মৃত্যুবরণ করেছিলেন। শন ম্যাকব্রাইডকে গ্লাসনেভিন গোরস্তানে তার মা ও স্ত্রীর পাশে সমাহিত করা হয়।

নামিবিয়ার উইন্ডহোকের একটি রাস্তার নামকরণ তার নামে করা হয়েছে। তার মৃত্যুতে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের অলিভার তাম্বো বলেছিলেন "শন ম্যাকব্রাইড সর্বদা স্বাধীনতা আন্দোলনের দৃঢ়চেতা নেতা এবং নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণের প্রতি তার কর্মের দরুন স্মরিত হবেন। তার ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক গুণাবলির বিকাশ ঘটেছিল আইরিশ স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়. . . তার প্রতি আমাদের ঋণ কোনোদিন শোধ হবে না।"[২০]

কর্মজীবনের সারাংশ[সম্পাদনা]

  • ১৯৪৬–১৯৬৫ প্রজাতন্ত্রের সন্তান রাজনৈতিক দলের নেতা
  • ১৯৪৭–১৯৫৮ আয়ারল্যান্ডীয় আইনসভার নিম্নকক্ষের সদস্য
  • ১৯৪৮–১৯৫১ জোট সরকারে আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • ১৯৪৮–১৯৫১ ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সহায়তা সংস্থার সভাপতি
  • ১৯৫০ কাউন্সিল অব ইউরোপের মন্ত্রী কমিটির সভাপতি
  • ১৯৫৪ আয়ারল্যান্ড সরকারের মন্ত্রণালয় বিষয়ক কার্যালয়ে কাজ করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
  • ১৯৬৩–১৯৭১ আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞ কমিশনের মহাসচিব
  • ১৯৬৬ ন্যায়বিচার ও শান্তি সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিশনের পরামর্শক
  • ১৯৬১–১৯৭৫ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি
  • ১৯৬৮–১৯৭৪ আন্তর্জাতিক শান্তি ব্যুরোর কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান
  • ১৯৭৫–১৯৮৫ আন্তর্জাতিক শান্তি ব্যুরোর কার্যনির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট
  • ১৯৬৮–১৯৭৪ জেনেভায় মানবাধিকার সংক্রান্ত বেসরকারি সংস্থার বিশেষ কমিটির সভাপতি
  • ১৯৭৩ বিশ্ব শান্তিশক্তি সম্মেলনের সহসভাপতি (মস্কো, অক্টোবর ১৯৭৩)
  • ১৯৮৩ ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব ইউনাইটেড নেশনস অ্যাসোসিয়েশনসের সহসভাপতি
  • ১৯৭৩–১৯৭৭ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক নামিবিয়ায় জাতিসংঘের যুগ্ম মহাসচিব পদমর্যাদায় জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবে নিযুক্ত
  • ১৯৭৭–১৯৮০ ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত কমিশনের সভাপতি
  • ১৯৮২ লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের সময় ইসরাইল কর্তৃক আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতি

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • অ্যান্থনি জে., জর্ডান (১৯৯৩)। শন ম্যাকব্রাইড–আ বায়োগ্রাফি: আইআরএ কমান্ডার বিকামস ফরেন মিনিস্টার। ব্ল্যাকওয়াটার প্রেস। 
  • কেয়ানে, এলিজাবেথ (২০০৬)। অ্যান আইরিশ স্টেটসম্যান অ্যান্ড রেভুলেশনারি: দ্য ন্যাশনালিস্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনালিস্ট পলিটিকস অব শন ম্যাকব্রাইড। টরিস। 

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Mr. Seán MacBride"Oireachtas Members Database। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০০৯ 
  2. Saturday Evening Post; 23 April 1949, Vol. 221 Issue 43, pp. 31–174, 5p
  3. https://www.youtube.com/watch?v=Vxp9OVvqDuE
  4. Jordan, Anthony J. (১৯৯৩)। Seán MacBride: A Biography। Dublin: Blackwater Press। পৃষ্ঠা 26–35। আইএসবিএন 0-86121-453-6 
  5. Jordan (1993), p. 41.
  6. Jordan (1993), p. 42.
  7. Jordan (1993), p. 47.
  8. Jordan (1993), p. 57.
  9. Jordan (1993), p. 70.
  10. Hanley, Brian (২০১০)। The IRA: A Documentary History 1916–2005। Dublin: Gill & Macmillan। পৃষ্ঠা 122। আইএসবিএন 0717148130 
  11. "Seán MacBride"ElectionsIreland.org। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০০৯ 
  12. Jordan (1993), pp. 86–98
  13. Irish Times, November 18, 2014; Patrick Semple's article "Previous generations would be astounded at attitudes to churches in Ireland today A 60-year journey from obsequious conformity". Accessed 25 September 2018.
  14. Jordan (1993), p. 115
  15. Jordan (1993), pp. 125–140
  16. Ronan Fanning (6 December 2009) The age of our craven deference is finally over. The Independent.
  17. https://books.google.ie/books?id=Wa5nAAAAMAAJ&q=sean+macbride+league+against+imperialism&dq=sean+macbride+league+against+imperialism&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjM1dv9-bjhAhXuThUIHTbVAcoQ6AEITzAH
  18. Jordan (1993), pp. 157–165
  19. https://www.britannica.com/biography/Sean-MacBride
  20. https://www.historyireland.com/20th-century-contemporary-history/sean-macbride-and-namibia/
  21. United Nations Chronicle, Sep95, Vol. 32 Issue 3, p. 14, 2/5p, 1c; (AN 9511075547)
  22. https://www.nytimes.com/1988/01/16/obituaries/sean-macbride-of-ireland-is-dead-at-83.html
  23. Appeal by Lawyers against Nuclear War. I-p-o.org. Retrieved 30 July 2012.
  24. MacBride, Seán; A. K. Asmal; B. Bercusson; R. A. Falk; G. de la Pradelle; S. Wild (১৯৮৩)। Israel in Lebanon: The Report of International Commission to enquire into reported violations of International Law by Israel during its invasion of the Lebanon। London: Ithaca Press। পৃষ্ঠা 191। আইএসবিএন 0-903729-96-2 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

পূর্বসূরী
প্যাট্রিক ফোগার্টি
(ভবিষ্যতে যোদ্ধা)
আয়ারল্যান্ডীয় আইনসভার নিম্নকক্ষে ডাবলিন কাউন্টি আসনের সদস্য
১৯৪৭–১৯৪৮
উত্তরসূরী
আসনটি ৩ টি আসনে বিভক্ত
নতুন নির্বাচনকেন্দ্র আয়ারল্যান্ডীয় আইনসভার নিম্নকক্ষে ডাবলিন দক্ষিণ-পশ্চিম আসনের সদস্য
১৯৪৮–১৯৫৭
উত্তরসূরী
নোয়েল লেমাস
(ভবিষ্যতের যোদ্ধা)
রাজনৈতিক দপ্তর
পূর্বসূরী
এয়ামন ডি ভ্যালেরা
আয়ারল্যান্ড সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
১৯৪৮–১৯৫১
উত্তরসূরী
ফ্রাঙ্ক আইকেন
পার্টির রাজনৈতিক কার্যালয়
নতুন রাজনৈতিক দল প্রজাতন্ত্রের সন্তান রাজনৈতিক দলের নেতা
১৯৪৬–১৯৬৫
উত্তরসূরী
দল অবলুপ্ত