মধ্য প্রাচ্যের ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

সভ্যতার শৈশবকালে, মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অনেক পুরোন সংস্কৃতি ও সভ্যতা দেখেছে।এই ইতিহাস শুরু হয় মানব উপনিবেশের শুরুর দিক থেকে,চলতে থাকে বেশ কিছু প্রাক ও পরবর্তি ইসলামিক সম্রাজ্য হয়ে আজকের আধুনিক জাতি-রাষ্ট্রের মধ্য প্রাচ্যে।

৩১৫০ খ্রিষ্টপূর্বে প্রথম ফারাও অধীনে উচ্চ ও নিম্ন মিশরের রাজনৈতিক একীকরণ সঙ্গে মিশরীয় সভ্যতা একসঙ্গে বেড়ে ওঠে।[১] প্রায় পুরো মধ্য প্রাচ্যকে শাসন করতে আসা বেশ কিছু শক্তিশালী সাম্রাজ্য বিশেষ করে ১৩৬৫-১০৭৬ খ্রিষ্টপূর্বের অ্যাসিরিয়ান সাম্রাজ্য এবং ৯১১-৬০৫ খ্রিষ্টপূর্বের নব্য- অ্যাসিরিয়ান সাম্রাজ্য এর জন্য মেসোপোটেমিয়া ছিল বিচরণস্থান। খ্রিষ্টপূর্ব ৭ শতকের শুরুর দিকে এই এলাকা পারসিয়ান সাম্রাজ্যের ইরানিয়ান মিডিরা এবং পরবর্তি ইরানের রাজ্য সাম্রাজ্যের অধীনে থাকে। খ্রিষ্টপূর্ব ১ম শতকে বিস্তৃত রোমান সাম্রাজ্য পুরো পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল দখল করে যার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অনেকাংশই ছিল।বলকান থেকে ইউফ্রেটিস সাম্রাজ্য পর্যন্ত শাসন করেছিল এই পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য যা এখন বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য নামে পরিচিত। এরা ক্রমবর্ধমানভাবে পরিচিতি পেয়েছিল এবং খ্রিষ্টধর্মের প্রতি অন্ধবিশ্বাসী ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে অনেক জায়গাতে তাদের খ্রিষ্টধর্ম মতবাদ প্রতিষ্ঠার হুকুম এবং বিশ্বাসীদের মধ্যে ধর্মীয় ফাটল ধরায়।৩য় থেকে ৭ম খ্রিষ্টাব্দে পুরো মধ্য প্রাচ্য শাসন করেছে বাইজেন্টাইন ও পারস্যের সাসনীয়রা। ৭ম শতাব্দী থেকে মধ্যপ্রাচ্য এ ইসলামের নতুন শক্তি জেগে উঠে,। আরবদের শাসন হঠাৎ করেই ১১ শতকের মাঝামাঝি এসে সেলজুক রাজবংশের তুর্কিদের আগমনের সঙ্গে  শেষ হয়। ১৩ শতকের শুরুর দিকে নতুন আক্রমনকারীর দল, মঙ্গল সাম্রাজ্যের সৈন্য দল মূলত তুর্কীয়রা এ অঞ্চলে আসে। ১৫ শতকের শুরুর দিকে পশ্চিম আনাতোলিয়ায় নতুন শক্তি জেগে উঠে,উসমানীয় সাম্রাজ্য ,ভাষাগত ভাবে তুর্কীয় এবং ধর্মীয় ভাবে মুসলিম, যারা ১৪৫৩ তে কনস্টান্টিনোপল খ্রিস্টান বাইজেন্টাইন রাজধানী দখল করে এবং নিজেদের সুলতান বানায়।

১৬ শতকের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল অংশ উসমানীয় ও ইরানিয়ান সাফাভিদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে পরিনত হয়। ১৭০০ তে উসমানীয়রা হাঙ্গেরি থেকে বিতারিত হয় এবং পশ্চিমের পক্ষে সীমান্তে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতভাবে অপসারিত হয়েছিল। ব্রিটিশরাও পার্সিয়ান উপসাগরে তাদের নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং ফরাসীরা তাদের প্রভাব লেবানন এবং সিরিয়াতেও বাড়িয়েছিল। ১৯১২ তে ইতালিয়ানরা উসমানীয় ভুখন্ডের আনাতোলিয়ার উপকূলের কিছু দূরে লিবিয়া ও ডোডেকানিস দ্বীপ দখল করে। ১৯ শতকের শেষ ও ২০ শতকের শুরুর দিকে ইউরোপিয়ান শক্তির সাথে তাল মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের শাসকরা তাদের রাজ্যকে আধুনিক করতে চেষ্টা করেছিলেন। ১৯০৮ এ পারস্যে এবং পরে সৌদি আরব,লিবিয়া আলজেরিয়াসহ অন্যান্য পারস্য উপসাগরের রাজ্যে তেল আবিষ্কারের পর মধ্যপ্রাচ্য ঘুরে দাড়ায়। পশ্চিমের তেলের উপর নির্ভরতা এবং ব্রিটিশদের প্রভাবের পতনের জন্য আমেরিকার এই অঞ্চলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

১৯২০,১৯৩০,১৯৪০ এ সিরিয়া ও মিশর স্বাধীনতার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিল। ২য় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) সময় ও পরে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু অঞ্চল থেকে ব্রিটিশ,ফরাসী ও সোভিয়েতরা বিদায় নিয়েছিল।১৯৪৭ এ জাতিসংঘের ফিলিস্তিন ভাগের পরিকল্পনা আরব ও ইহুদিদের মধ্যে সংগ্রাম চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। পরে স্নায়ুযুদ্ধের দুশ্চিন্তার মধ্যে,উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ার আরবি ভাষী দেশগুলো একাত্মতা উত্থান হয়। ইউরোপিয়ান শক্তির সরাসরি নিয়ন্ত্রন দূর,ইসরাইলের প্রতিষ্ঠা এবং তৈল শিল্পে গুরুত্ব আধুনিক মধ্যপ্রাচ্য তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশগুলোতে, রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি , অস্ত্র ও প্রতিপত্তি প্রকল্পে বাড়তি খরচ, এবং তেল রাজস্বের উপর অধিক নির্ভরতার জন্য বাজার অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল। অঞ্চলের সফল অর্থনীতি  ছিল কম জনসংখ্যার তেল সম্পদযুক্ত দেশ গুলোতে,যেমন কাতার,বাহরাইন, কুয়েত, এবং আরব আমিরাত।

১৯৭৯ এ ইরানের বিপ্লব(ওরফে ইসলামী বিপ্লব) এবং ১৯৮০ - এর দশকে অন্যান্য মুসলিম-অধ্যুষিত দেশে অনুরূপ পরিবর্তনের কারণে এ অঞ্চল ভাবাদর্শে ইসলামিক।১৯৯১ এ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বৈশ্বিক নিরাপত্তা স্নায়ুযুদ্ধ থেকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই কেন্দ্রিভুত হয় । ২০১০ এর শুরুর দিকে বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্যের এবং মাগরেব দেশের মধ্যে আরব বসন্ত নামে বিপ্লবের ধারা বয়ে গেছে । ৩০ ডিসেম্বর ২০১৩ তে পশ্চিম ইরাকের সংঘর্ষ আইএসআইএল এর উত্থানের প্রাথমিক ধাপ ছিল।

একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে, নিকট প্রাচ্য শব্দটি মধ্যপ্রাচ্যের বদলে ব্যবহার করা যেতে পারে, বিশেষত যখন প্রাচীন কাল নিয়ে আলোচনা হবে,এর সীমিত অর্থ থাকতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে আরামাইক-ভাষী সেমিটিক এলাকা এবং অ্যানাটোলিয়ান ভূখণ্ড সংলগ্ন দুটি মানচিত্রে নিচের দেয়া হল।

সাধারন[সম্পাদনা]

ককেশাস বাদ দিয়ে মিশর সহ মধ্যপ্রাচ্যকে ভৌগলিকভাবে পশ্চিম এশিয়া মনে করা যেতে পারে যা উত্তর আফ্রিকার অমাগরেব অংশ।মধ্যপ্রাচ্য সর্বপ্রথম নবোপলীয় বিল্পব দেখেছিল আবার সর্বপ্রথম তাম্র যুগ ও লৌহ যুগে প্রবেশ করেছিল।

ঐতিহাসিকভাবে মানব বসতি নদী তীরবর্তি অঞ্চলে বেশি হয় যা আধুনিক জনসংখ্যা ঘনত্বের নমুনায় বোঝা যায়। সেচ ব্যবস্থা কৃষি নির্ভর মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যা আসত মিশরের জন্য নিম্ন নীলনদ ও মেসোপোটেমিয়ার জন্য টাইগ্রিস ও ফেরাত নদী থেকে । ফলস্বরূপ লেভেন্টের বৃষ্টিনির্ভর কৃষির চেয়ে মিসর ও মেসোপটেমিয়ার নদী ভিত্তিক সেচনির্ভর কৃষি বিভিন্ন ফসলের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। সমুদ্রভ্রমণ দ্রুত ও সহজ ছিল বলে,ভুমধ্যসাগরীয় সভ্যতা যেমন ফিনিশিয়া এবং পরে গ্রীস তীব্র বাণিজ্যে যুক্ত হয়েছিল।একইভাবে প্রাচীন ইয়ামেন অন্যান্য আরবীয় উপদ্বীপের তুলনায় বেশি কৃষি পরিচালনা করত তাই আফ্রিকার শিং উপদ্বীপের সাথে ভারী সমুদ্রবাণিজ্য করত যাদের কিছু সেমিটিক ভাষার। শহর রাজ্যে কিছু লোক বসবাস শুরুর আগে আরাবিক আরবরা বসবাস করত মধ্যপ্রাচ্যের শুষ্ক মরুভুমির মধ্যে,যাযাবর মেষপালকের জীবনযাপন করত। ভু-ভাষাগত বণ্টনের জন্য পারস্যের উপদ্বীপ নজদ ও হেজাজ  এ ভাগ হয়েছে,সেইসাথে উপদ্বীপের বাইরে বেদুইন এলাকায়।

প্রাচীন সময় থেকেই মধ্যপ্রাচ্য বেশ কিছু ভাষা ছিল, আক্কাডিয়ান (১৪-৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ শতাব্দী ), আরমানিক(৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ - ৮ খ্রিষ্টাব্দ শতাব্দী ), গ্রিক( ৪ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ -৮ খ্রিষ্টাব্দ শতাব্দী),এবং আরবী (৮ খ্রিষ্টাব্দ -বর্তমান )।[২] ইংরেজির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নয়। সাধারনভাবে আরবী তুর্কি,ইরান ও ইসরাইলে বলে না এবং কিছু আরবীর ভিন্নতা পারস্পারিক বোধগম্যতা কমায়,যদিও স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে একে ধরা ভাষাগত মানদন্ডের জন্য।

মধ্যপ্রাচ্য হল ইব্রাহীমীয়, জ্ঞানবাদী ও অন্যান্য ইরানিয়ান ধর্মের জন্মস্থান। প্রারম্ভিক ভাবে প্রাচীন অধিবাসীরা বেশ কিছু ধর্মীয় জাতিকে অনুসরন করেছিল।কিন্তু অধিকাংশই প্রথমে খ্রিষ্টান(এমনকি মিলান 313 খ্রিষ্টাব্দ ফরমানোর আগে) এবং পরে ইসলাম ধর্মের(৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে আরব উপদ্বীপের বাইরে মুসলিম বিজিতদের বিস্তারের পর) অনুসারি হয়।

যদিও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে নির্দিষ্ট ভাবে ,কিছু বৃহত্তর,জাতিগত স্বতত্র সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান দল আছে, ইসরাইলে ইহুদি এবং ইরানিয়ান ধর্মের অনুসারি আছে,যেমন স্বর্গদূতের উপাসক ও অগ্নি উপাসক।কিছু ক্ষুদ্র ধর্মীয় জাতি সাবাক গোষ্ঠী, ম্যান্ডায়িন,সামারিটান ও অন্তর্ভুক্ত।বিতর্কিত ড্রুজ ধর্ম, ইসলাম ধর্মের শাখা শিয়া ইসলামের নিছক একটি অংশ অথবা স্বতন্ত্র ধর্মও হতে পারে।

পূর্ব ইতিহাস[সম্পাদনা]

পৃথিবীর শুরুর কিছুকাল পরে ম্যামালদের যুগের অলিগছিন উপযুগ পর্যন্ত যখন আরবিক প্লেট আফ্রিকান প্লেটের অংশ ছিল। লোহিত সাগর ফাটল ধরে ইওছিন কালে কিন্তু আফ্রিকা ও আরব আলাদা হয় অলিগছিনে এবং ইউরেশীয় প্লেট এর দিকে ধীরে ধীরে আরব প্লেট আগাচ্ছে।

আরবীয় প্লেট ও ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষে ইরানের জগ্রোস পর্বতমালা জেগে উঠেছে। আরবীয় প্লেট ও ইউরেশীয় প্লেটের ধাক্কার কারণে দক্ষিণ পূর্বের তুরস্ক এর মত বেশ কিছু দেশ বিপদে আছে। এই বিপদের মধ্যে আছে ভুমিকম্প,সুনামী ও আগ্নেয়গিরি।

আজ থেকে ১.৮ মিলিয়ন বছর আগে আফ্রিকার বাইরে প্রাক-আধুনিক হোমো এরেক্টাস এর সর্বপ্রথম মানব অভিবাসন মিশরের লেভেন্টাইন গলি দিয়ে হয়।দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার মধ্যে মানব অভিবাসনের একটি অন্যতম রাস্তা হল ইরান।

হ্যাপলোগ্রুপ জে-পি২০৯ হল মধ্যপ্রাচ্যের বহুল পরিচিত মানব ওয়াই-ক্রোমোজোম ডিএনএ হ্যাপলোগ্রুপ যা উদিত হয়েছিল এ অঞ্চলে ৩১৭০০±১২৮০০ বছর আগে।[৩][৪] বর্তমান দুটি উপশাখা হল জে-এম২৬৭ এবং জে-এম১৭২ , যাদের মধ্যে হ্যাপলোগ্রুপের সব অধিবাসী ধারন করেছে ,উভয়ই উদিত হয়েছিল ১০,০০০ বছর আগে। তবু এফ-এম৮৯*আইজে-এম৪২৯* ওয়াই-ক্রোমোজোমগুলো ইরানিয়ান মালভুমিতে দেখা গেছে বলে বলে খবর পাওয়া গেছে।[৫]

ওয়েসিস মরুভুমিতে এবং নীলের সোপানে পাথর খোদাইয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। খ্রিষ্টপূর্ব ১০ম সহস্রাব্দে শিকারী ও জেলে সংস্কৃতি শস্য ভাঙ্গার সংস্কৃতিতে বদলে যায়। ৬০০০ খ্রিষ্টপূর্বে জলবায়ু পরিবর্তন বা অতিরিক্ত গোচারন মিশরের চারনভুমি শুকাতে শুরু করে , সাহারা নির্মাণ হয়। প্রাচীন উপজাতির লোকেরা নীলনদের কাছে চলে আসে , যেখানে তারা স্থায়ী কৃষি অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করে এবং সমাজকে কেন্দ্রীভূত করে।

প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্য[সম্পাদনা]

প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম বার্ষিক কৃষি ও অর্থকেন্দ্রিক বাণিজ্য শুরু করে, দিয়েছে পুরো বিশ্বকে সর্বপ্রথম লেখার ব্যবস্থা, উদ্ভাবন করেছে কুমারের চাকা এবং পরে যানের চাকা ও কলের চাকা,তৈরি করেছিল প্রথম কেন্দ্রিভূত সরকার এবং আইন নিয়মাবলী,উচ্চমাত্রার শ্রম বিভাগ  দিয়ে প্রথম শহর রাজ্যর আতুরঘর হিসেবে নিজেকে জারি করেছিল, সেইসাথে জোতির্বিদ্যা ও গণিতের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। যদিও এই সাম্রাজ্য সামাজিক স্তর বিন্যাস, দাসপ্রথা এবং সংগঠিত যুদ্ধবিগ্রহ চালু করে ছিল।

মিশর[সম্পাদনা]

সুমেরিয়ান সভ্যতার শুরুর পর , নীলের নিম্ন উপত্যকা ও উপরের মিশর একত্রিত হয়েছিল ফারাও এর অধীনে, আনুমানিক ৩১৫০ খ্রিষ্টপূর্বে। তারপর থেকে প্রাচীন মিশরে সভ্যতার ৩টি গুরুত্বপুর্ন দিক দেখা যায়,তা হল রাজ্যকালঃ

  • পুরোন রাজ্য (২৬৮৬-২১৮১)
  • মধ্য রাজ্য (২০৫৫-১৬৫০)
  • নতুন রাজ্য (১৫৫০-১০৬৯)

প্রাচীন মিশরের ইতিহাস শেষ হয় শেষ কাল (৬৬৪-৩৩২খ্রিষ্টপূর্বে),দ্রুত মিশরের ইতিহাস অনুসরন করে চিরায়ত প্রাচীনতা এবং শুরু হয় টলেমির মিশর ।

লিভ্যান্ট ও আন্টোলিয়া[সম্পাদনা]

এরপরেই সভ্যতা দ্রুত ছড়িয়ে যায় উর্বর চন্দ্রকলা এলাকা থেকে ভুমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলে এবং লিভ্যান্টের সর্বত্র  সেই সাথে প্রাচীন আনাতোলিয়াতেও। প্রাচীন লিভেন্ট রাজ্য  এবং শহর রাজ্যের অধীন ইবালা শহর,দামেস্ক রাজ্য,ইসরায়েল রাজ্য,জুদাহ রাজ্য,আমোন রাজ্য, মোয়াব রাজ্য,ইদম রাজ্য এবং নাবাতিয়ান রাজ্য। ফিনিসীয় সভ্যতা, ঘিরে ছিল বেশ কিছু শহর রাজ্য নিয়ে ,ছিল ভূমধ্যসাগরের অববাহিকায় ঔপনিবেশিকদের সামুদ্রিক বাণিজ্যচর্চায় ,লক্ষনীয়ভাবে ৮১৪ খ্রিষ্টপূর্বে কারথাগে।

আসিরিয়ান সাম্রাজ্য[সম্পাদনা]

মেসোপটেমিয়া ছিল বেশ কিছু শক্তিশালী সাম্রাজ্যের ঘর যা প্রায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য শাসন করেছিল,বিশেষ করে আসিরিয় ও নব্য আসিরিয় সাম্রাজ্য। অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্য,ঐ সময়ে বিশ্বের সর্বোবৃহৎ রাজ্য ছিল। এরা বর্তমানের ইরাক,সিরিয়া,লেবানন,ইসরায়েল,ফিলিস্তিন,কুয়েত,জর্ডান,মিশর,সাইপ্রাস এবং বাহরাইন ইরান,তুরস্ক,আর্মেনিয়া,জর্জিয়া,সুদান ও আরাবিয়া শাসন করেছিল। মধ্যপ্রাচ্যে অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের,বিশেষ করে ৩য়র ছিল গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব। অ্যাসিরীয় দের কর্তৃত্ব শেষ হওয়ার আগে, পরবর্তিকালের তুলনায় সবথেকে উচ্চ সভ্যতা এনেছিল। কাস্পিয়ান থেক সাইপ্রাস, আন্তোলি থেকে মিশর, অ্যাসিরীয় সার্বভৌম সম্প্রসারণ বয়ে এনেছিল অ্যাসিরীয় যাযাবর বলয় এবং আদিম সম্প্রদায়,দান করেছিল সভ্যতার উপহার।[৮]

নব্য ব্যবলিয়ান ও পারস্য সাম্রাজ্য[সম্পাদনা]

খ্রিষ্টপূর্বে ৬ শতকের শুরুর দিকে, পারস্যের বেশ কিছু রাজ্য এলাকায় কর্তৃত্ব করেছিল,মেডীদের ও নব্য ব্যবলীয়নিয়ায় সাম্রাজ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল, এরপর তাদের উত্তরাধিকারি আখেমেনিয় সাম্রাজ্য ছিল প্রথম পারসীয় সাম্রাজ্য। খ্রিষ্টপূর্বে ৪ শতকের শেষে জিতেছিল, স্বল্পজীবী ম্যাসেডনীয় সাম্রাজ্যের মহান আলেক্সান্ডার এবং তার উত্তরাধিকারী রাজ্য যেমন টলেমীয় মিশর ও পশ্চিম এশিয়ার সোলুওসীড সাম্রাজ্য।

এক শতক পর , পারসীয়ান সাম্রাজ্যের ধারনা পুর্নজাগরিত হয়েছিল পার্থিয়ানদের দিয়ে এবং তা চলতে থাকে তাদের উত্তরাধিকার সাসানীয়দের দ্বারা, খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতক থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের এখনকার এশিয়ান অংশ এই সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল এবং এর প্রভাব চলতে থাকে মধ্যপ্রাচ্যের বাকী এশীয় ও আফ্রিকান অংশে, ৭ শতকের মধ্যভাগে আরবদের পারস্য বিজয় পর্যন্ত। খ্রিষ্টপূর্ব ১ম শতক থেকে খ্রিষ্ট পরবর্তি ৭ শতক এর শুরুর মধ্যে এই অঞ্চল ছিল রোমান, পার্থিয়ান ও সাসানিয়দের দখলে। অন্যদিকে ৭টি দেশের মধ্যে বিভিন্ন রোমান-পারসীক যুদ্ধ চরমে ছিল। খ্রিষ্ঠানদের পূর্বের গীর্জা পারস্য শাসিত মেসোপোটেমিয়া ধরে রেখেছিল,বিশেষকরে আসিরিয়ায়, খ্রিষ্ট পরবর্তি ১ম শতকের পর থেকে এবং এই এলাকা সিরিয়াক-আসিরিয়ান শিক্ষা প্রথার উন্নয়নশীল কেন্দ্রে পরিনত হয়।

গ্রিক ও রোমান সাম্রাজ্য[সম্পাদনা]

খ্রিষ্টপূর্ব ১ম শতকে, বিস্তৃত রোমান প্রজাতন্ত্র পুরো পূর্ব ভুমধ্য গ্রহণ করে যাতে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় অংশই ছিল।  রোমান সাম্রাজ্য ইউরোপের অধিকাংশ এবং উত্তর আফ্রিকাকে একক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে একীভুত করেছিল। এমনকি সরাসরি রাজ্যভুক্ত নয়,এমন এলাকাও এই সাম্রাজ্যের শক্তিশালী প্রভাবে ছিল,যা কয়েক শতাব্দী শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সত্তা ছিল। যদিও রোমান সংস্কৃতি এই অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল, মেসোডেনিয়ান সাম্রাজ্য সর্বপ্রথম গ্রিক ভাষা ও সংস্কৃতি এই অঞ্চলে প্রতিষ্ঠা করেছিল,রোমান সময়ের সর্বত্র অধীনে নিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের শহর,আলেক্সান্দ্রিয়া, সম্রাজ্যের প্রধান শহরকেন্দ্রে পরিনত হয়েছিল এবং এই এলাকা কৃষি উৎপাদনের জন্য সাম্রাজ্যের রুটির ঝুড়িতে পরিনত হয়েছিল। এইজিপ্টাস ছিল সবচেয়ে ধনী রোমান প্রদেশ।[৯][১০]

রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যে খ্রিষ্ঠান ধর্ম ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে, এটা মধ্যপ্রাচ্যের গোড়ায় চলে যায় এবং আলেক্সান্দ্রিয়া ও এডিসার মত শহরগুলো খ্রিষ্ঠান পান্ডিত্যের প্রধান কেন্দ্রে পরিনত হয়। ৫ শতকে মধ্যপ্রাচ্য খ্রিষ্ঠানদের অধিনে ছিল, অন্যান্য ধর্মের সক্রিয়ভাবে নিপীড়িত হচ্ছিল। রোমে শহরের সাথে মধ্যপ্রাচ্য যুক্ত ছিল যা সাধারণত সাম্রাজ্যের পূর্ব ও পশ্চিমকে বিভক্ত করেছিল, মধ্যপ্রাচ্যের সাথে রোমান রাজধানী কন্সটান্টিপোল যুক্ত ছিল। পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর এই এলাকায় এর যতসামান্য প্রভাব পরেছিল।   

ব্রাজেন্টান সাম্রাজ্য বা পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য[সম্পাদনা]

বলকান থেকে ইউফ্রেটিস সাম্রাজ্য পর্যন্ত শাসন করেছিল এই পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য যা এখন বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য নামে পরিচিত।এরা ক্রমবর্ধমানভাবে পরিচিতি পেয়েছিল এবং খ্রিষ্টধর্মের প্রতি অন্ধবিশ্বাসী ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে অনেক জায়গাতে তাদের খ্রিষ্টধর্ম মতবাদ প্রতিষ্ঠার হুকুম এবং বিশ্বাসীদের মধ্যে ধর্মীয় ফাটল ধরায়।এই সময়ে গ্রিকরা এই অঞ্চলের লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা তে পরিনত হয়, যদিও সিরিয়াক ও হিব্রু জাতি তখন টিকে ছিল। বাইজেন্টাইন বা গ্রিক শাসনকালে লেভেন্টমেট এলাকা স্থায়িত্ব ও উন্নতির যুগে।

মুসলিম খিলাফত[সম্পাদনা]

৭ শতক থেকে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তি জেগে উঠে, মুসলিম, যখন রোমার পারস্য যুদ্ধের সময় বাইজেন্টাইন রোমান ও সাসনিড পারসীয়ান সাম্রাজ্যের দুর্বল হয়ে পরে। দ্রুত মুসলিম বিজয়ের ধারায়,আরব সৈন্যবাহিনী ইসলামে অনুপ্রাণিত হয়ে, খলিফাদের নির্দেশে এবং খালিদ ইবনে আল ওয়ালিদের মত দক্ষ সামরিক সেনাপতিরা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পরে। বাইজেন্টাইন অংশের অর্ধেকের বেশি কমানো এবং পুরো পারস্য দখল করে নিয়েছিল। আনাতোলিয়ায়,বুলগেরীয়দের সহায়তায় বাইজেন্টাইনরা তাদের ছড়িয়ে পড়া থামিয়ে দেয়।

রোমান সিরিয়ার বাইজেন্টাইন প্রদেশ,উত্তর আফ্রিকা এবং সিসিলি তেমন বাধা দিতে পারেনি এবং মুসলিম বিজেতারা এইসব এলাকা দ্রুত বেগে অতিক্রম করেন। একেবারে পশ্চিমে, তারা ফ্রাংকদের দ্বারা দক্ষিন ফ্রান্স এ থামার আগে সাগর অতিক্রম করে ভানডল স্পেন দখল করে। এই বিশাল বিস্তারে,আরব সাম্রাজ্য ছিল প্রথম সাম্রাজ্য যারা পুরো মধ্যপ্রাচ্য নিয়ন্ত্রন করেছিল একইসাথে ভুমধ্য এলকার ৩/৪অংশ। অন্য সাম্রাজ্যের মধ্যে শুধু রোমানরা পেরেছিল অধিকাংশ ভুমধ্যসাগর নিয়ন্ত্রন করতে।[১১] মধ্যযুগের আরব খলিফারাই মধ্যপ্রাচ্যকে স্বতন্ত্র এলাকা হিসেবে একীভুত করেছিল এবং আরব হিসেবে আজকের জাতিগত পরিচিতি দিয়েছিল। সেলজুগ সাম্রাজ্য ও পরে এ এলাকা শাসন করেছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান মুসলিম কেন্দ্রের সীমানবর্তী এলাকা ছিল অধিকাংশ উত্তর আফ্রিকা কিন্তু আইবেরিয়া(আল-আন্দালুস) এবং মরোক্কো দূরবর্তি নিয়ন্ত্রন থেকে ভেঙ্গে পরে এবং ঐ সময়ে বিশ্বের সবথেকে উন্নত সমাজ গড়ে তোলে পুর্ব ভূমধ্যের বাগদাদকে নিয়ে।

৮৩১-১০৭১ এ , ভূমধ্যে মুসলিম সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ন কেন্দ্র ছিল সিসিলির আমিরাত।  এটি নর্মানদের বিজয়ের পর, এই দ্বীপ পশ্চিমা ও বাইজেন্টাইনদের প্রভাবে, আরবদের সংমিশ্রণে নিজেদের সংস্কৃতি তৈরি করে। পালের্মো মধ্যযুগে ভুমধ্যের অগ্রবর্তি শৈল্পিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র থাকে।  

আফ্রিকা পুনর্জাগরিত হচ্ছিল,১২ শতকের রেনেসার পর,মধ্যযুগের শেষে আরও সংগঠিত ও কেন্দ্রীভূত রাজ্য গঠন শুরু হয়েছিল । মুলসিম শক্তি ফেরানো ও পবিত্র ভূমি উদ্ধারের জন্য ইউরোপের রাজারা বেশ কিছু ধর্মযুদ্ধ চালিয়ে ছিল, ধর্মে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং বিজয়ের স্বপ্নে।ধর্মযুদ্ধ ব্যর্থ ছিল, কিন্তু তারা প্রায় নড়বড়ে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যকে দুর্বল করতে কিছুটা কার্যকর ছিল, যা হারাতে বসেছিল বেশ কিছু এলাকা উসমানীয় তুর্কিদের কাছে। মুসলিম বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্বিন্যাস হিসেবে মিশর আবার পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় একটি প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।

তুর্কি ,ধর্মযোদ্ধা ও মঙ্গল[সম্পাদনা]

মধ্য ১১ শতকে , মধ্য এশিয়ার তুর্কিদের জন্মভুমি থেকে দক্ষিণে অভিবাসিত সেলজুগ তুর্কিদের আগমনের সাথে হটাৎ করে মুসলিমদের কর্তৃত্ব শেষ হয়ে যায়। যারা পারস্য,ইরাক,সিরিয়া,ফিলিস্তিন ও হেজায জয় করেছিল। ১১৬৯ পর্যন্ত ফাতেমীয় খেলাফতের অধীনে ছিল, যখন তুর্কিদের কাছে এটা ভয়ংকর ছিল।

৭ শতকে বেশ এলাকা হারানো সত্ত্বেও , খ্রিষ্টান বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভুমধ্যের একটি শক্তিশালী সৈন্য ও অর্থনৈতিক দলে পরিনত হতে চেয়েছিল, ইউরোপে আরবদের আগ্রাসন ঠেকাতে। ১১ শতকে সেলজুগ্রা বাইজেন্টাইন সৈন্যদের পরাজয় ও আন্তোলিয়া দখল কার্যকর ভাবে এই এলাকায় বাইজেন্টাইনদের প্রভাব শেষের ইংগিত দিয়েছিল। সেলজুগরা পরবর্তি ২০০ বছর মধ্যপ্রাচ্য শাসন করেছিল,কিন্তু তাদের সাম্রাজ্য দ্রুত ভেঙ্গে পরে কিছু সংখ্যক ক্ষুদ্র সুলতানাতে।

৭ শতক থেকে দুর্ভোগ সত্ত্বেও ১১ শতকে পশ্চিম ইউরোপ অর্থনৈতিক ও জনতাত্ত্বিক উদ্ধার করতে সমর্থ হয়। মধ্যপ্রাচ্যের খন্ডাবস্থা যৌথ সৈন্যের অনুমোদন দেয়,প্রধানত ইংল্যান্ড, ফ্রান্স থেকে এবং এই এলাকায় ঢোকার জন্য পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের উদয় হয়। ১০৯৫ এ,পোপ আরবান ২  ঝিমন্ত ব্রাজেন্টান সাম্রাজ্য আবেদনে সাড়া দিয়েছিলেন, ইউরোপের অভিজাতদের ডেকেছিলেন খ্রিষ্টানদের পবিত্র ভুমি উদ্ধার করতে এবং ১০৯৯ এ বীররা প্রথম ধর্মযুদ্ধে জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করেছিল। তারা জেরুজালেম রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল,যা টিকেছিল ১১৮৭ পর্যন্ত যখন সালাউদ্দিন পুনরায় নিয়ে নেয়। ক্ষুদ্র ধর্মযুদ্ধ টিকেছিল ১২৯১ পর্যন্ত।

মঙ্গল আক্রমণ[সম্পাদনা]

১৩ শতকের শুরুতে একটি নতুন আক্রমনকারীদের দল আসে, মঙ্গল সাম্রাজ্যের সৈন্যদল, ১২৫৮ এ বাগদাদ ধংস এবং লুট করে এবং মিশর সীমান্তের দক্ষিণে আগাতে থাকে।  মামলুক আমির বাইবার দামেস্ক ছেড়ে কায়রোতে যান যেখানে সুলতান কুতুস তাকে গ্রহণ করেন। দামেস্ক জয়ের পর, খানাত-২ প্রতিষ্ঠা করে এবং হালাকু দাবী করে সুলতান কুতুস মিশর সমর্পন করেছে,কিন্তু সুলতান কুতুস হালাকুর দূতকে মেরে ফেলে ,বাইবারদের সাহায্যে তার সৈন্যকে সংহত করে।

যদিও উত্তরের সংদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মহান মংক খানের মৃত্যুতে হালাকুকে পূর্বে চলে যেতে হয়েছিল, সে তার প্রতিনিধিকে রেখে গিয়েছিল,খ্রিষ্টান কিবুগাকে। অরন্টিস নদীর কাছে মঙ্গল সৈন্যদের ফাঁদে ফেলে,আইন জালুতের যুদ্ধে টেনে আনে এবং কিতবুকাকে আটক এবং হত্যা করেছিলেন। এই বিজয়ে মামলুক তূর্কী মিশরের সুলতান এবং আসল শক্তিতে পরিণত হয় এবং ফিলিস্তিন ও সিরিয়ায় নিয়ন্ত্রন  অর্জন করে। উসমানীয়রা আসার আগে যখন তুর্কি সুলতানরা ইরাক ও আনাতোলিয়া নিয়ন্ত্রন করত।