প্রবেশদ্বার:তুরস্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সকালে ইস্তাম্বুল

ম্যারহাবা! তুরস্ক প্রবেশদ্বারে স্বাগতম

Flag of Turkey
Location of Ukraine on the map of Asia

তুরস্ক (/ˈtɜːrki/ (এই শব্দ সম্পর্কেশুনুন); তুর্কি: Türkiye), সরকারী নাম প্রজাতন্ত্রী তুরস্ক (Turkish: এই শব্দ সম্পর্কেTürkiye Cumhuriyeti বা ত্যুর্কিয়ে জুম্‌হুরিয়েতি ), পূর্ব ইউরোপের একটি রাষ্ট্র। তুরস্কের প্রায় পুরোটাই এশীয় অংশে, পর্বতময় আনাতোলিয়া (তুর্কি: Antalya আন্তালিয়া) বা এশিয়া মাইনর উপদ্বীপে পড়েছে। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা আনাতোলিয়াতেই অবস্থিত। তুরস্কের বাকী অংশের নাম পূর্ব বা তুর্কীয় থ্রাস এবং এটি ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্ব কোনায় অবস্থিত। এই অঞ্চলটি উর্বর উঁচু নিচু টিলাপাহাড় নিয়ে গঠিত। এখানে তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তানবুল অবস্থিত। সামরিক কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি জলপথ এশীয় ও ইউরোপীয় তুরস্ককে পৃথক করেছে --- মার্মারা সাগর, এবং বসফরাস প্রণালীদার্দানেল প্রণালী। এই তিনটি জলপথ একত্রে কৃষ্ণ সাগর থেকে এজীয় সাগরে যাবার একমাত্র পথ তৈরি করেছে।

তুরস্ক মোটামুটি চতুর্ভুজাকৃতির। এর পশ্চিমে এজীয় সাগর ও গ্রিস; উত্তর-পূর্বে জর্জিয়া, আর্মেনিয়া ও স্বায়ত্বশাসিত আজারবাইজানি প্রজাতন্ত্র নাখচিভান; পূর্বে ইরান; দক্ষিণে ইরাক, সিরিয়াভূমধ্যসাগর। তুরস্কের রয়েছে বিস্তৃত উপকূল, যা দেশটির সীমান্তের তিন-চতুর্থাংশ গঠন করেছে।

তুরস্কের ভূমিরূপ বিচিত্র। দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমে আছে উর্বর সমভূমি। পশ্চিমে আছে উঁচু, অনুর্বর মালভূমি। পূর্বে আছে সুউচ্চ পর্বতমালা। দেশের অভ্যন্তরের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হলেও ভূমধ্যসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু মৃদু।

ইউরোপ সঙ্গমস্থলে অবস্থিত বলে তুরস্কের ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিবর্তনে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব পড়েছে। গোটা মানবসভ্যতার ইতিহাস জুড়েই তুরস্ক এশিয়া ও ইউরোপের মানুষদের চলাচলের সেতু হিসেবে কাজ করেছে। নানা বিচিত্র প্রভাবের থেকে তুরস্কের একটি নিজস্ব পরিচয়ের সৃষ্টি হয়েছে এবং এই সমৃদ্ধ সংস্কৃতির প্রভাব পড়েছে এখানকার স্থাপত্য, চারুকলা, সঙ্গীত ও সাহিত্যে। গ্রামীণ অঞ্চলে এখনও অনেক অতীত ঐতিহ্য ও রীতিনীতি ধরে রাখা হয়েছে। তবে তুরস্ক বর্তমানে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানকার অধিকাংশ লোকের ধর্ম ইসলাম এবং মুখের ভাষা তুর্কি ভাষা।

বহু শতাব্দী ধরে তুরস্ক ছিল মূলত কৃষিপ্রধান একটি দেশ। বর্তমানে কৃষিখামার তুরস্কের অর্থনীতির একটি বড় অংশ এবং দেশের শ্রমশক্তির ৩৪% এই কাজে নিয়োজিত। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে তুরস্কে শিল্পসেবাখাতের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, বিশেষত অর্থসংস্থান, পরিবহন, এবং পেশাদারী ও সরকারী সেবায়। অন্যদিকে কৃষির ভূমিকা হ্রাস পেয়েছে। টেক্সটাইল ও বস্ত্র শিল্প দেশের রপ্তানির প্রধান উৎস।

অর্থনৈতিক রূপান্তরের সাথে সাথে নগরায়নের হারও অনেক বেড়েছে। বর্তমানে তুরস্কের ৭৫% জনগণ শহরে বাস করে। ১৯৫০ সালেও মাত্র ২১% শহরে বাস করত। জনসংখ্যার ৯০% তুরস্কের এশীয় অংশে বাস করে। বাকী ১০% ইউরোপীয় অংশে বাস করে।

তুরস্কের ইতিহাস দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল। প্রাচীনকাল থেকে বহু বিচিত্র জাতি ও সংস্কৃতির লোক এলাকাটি দখল করেছে। ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে এখানে হিটাইটদের বাস ছিল। তাদের সময়েই এখানে প্রথম বড় শহর গড়ে ওঠে। এরপর এখানে ফ্রিজীয়, গ্রিক, পারসিক, রোমান এবং আরবদের আগমন ঘটে। মধ্য এশিয়ার যাযাবর তুর্কি জাতির লোকেরা ১১শ শতকে দেশটি দখল করে এবং এখানে সেলজুক রাজবংশের পত্তন করে। তাদের শাসনের মাধ্যমেই এই অঞ্চলের জনগণ তুর্কি ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে মিশে যায়। ১৩শ শতকে মোঙ্গলদের আক্রমণে সেলজুক রাজবংশের পতন ঘটে। ১৩ শতকের শেষ দিকে এখানে উসমানীয় সাম্রাজ্যের পত্তন হয়। এরা পরবর্তী ৬০০ বছর তুরস্ক শাসন করে এবং আনাতোলিয়া ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব ইউরোপ এবং উত্তর আফ্রিকার এক বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃতি লাভ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সাম্রাজ্যটির পতন ঘটে।

১৯২৩ সালে উসমানীয় সাম্রাজ্যের তুর্কিভাষী এলাকা আনাতোলিয়া ও পূর্ব থ্রাস নিয়ে মুস্তাফা কেমাল (পরবর্তীতে কেমাল আতাতুর্ক)-এর নেতৃত্বে আধুনিক তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৩৮ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আতাতুর্ক তুরস্কের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনি একটি শক্তিশালী, আধুনিক ইউরোপীয় রাষ্ট্র হিসেবে তুরস্কের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তার সরকারের মূলনীতিগুলি কেমালবাদ নামে পরিচিত এবং এগুলি পরবর্তী সমস্ত তুরস্ক সরকারের জন্য নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করেছে। আতাতুর্কের একটি বিতর্কিত মূলনীতি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। কেমালের কট্টর অনুসারীরা মনে করেন ব্যক্তিগত জীবনের বাইরে ধর্মের স্থান নেই এবং রাজনৈতিক দলগুলির ধর্মীয় ইস্যু এড়িয়ে চলা উচিত।

১৯৫০-এর দশক থেকে রাজনীতিতে ধর্মের ভূমিকা তুরস্কের একটি বিতর্কিত ইস্যু। তুরস্কের সামরিক বাহিনী নিজেদেরকে কেমালবাদের রক্ষী বলে মনে করে এবং তারা ১৯৬০, ১৯৭১, ১৯৮০ এবং ১৯৯৭ সালে মোট চারবার তুরস্কের রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার স্বার্থে হস্তক্ষেপ করেছে।


বাছাইকৃত নিবন্ধ - আরেকটি দেখান

The Turkish Army's entry into Izmir.jpg

তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধ (Turkish: İstiklâl Harbi, literally "Independence War" or Kurtuluş Savaşı, literally "Liberation War"; ১৯ মে ১৯১৯ – ২৪ জুলাই ১৯২৩) তুর্কি জাতীয়তাবাদী এবং মিত্রশক্তির পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে সংঘটিত হয়। এসময় পশ্চিমে গ্রীকদের সাথে, পূর্বে আর্মেনিয়ার সাথে, দক্ষিণে ফরাসিদের সাথে এবং ব্রিটেন ও ইটালির সাথে কনস্টান্টিনোপলে লড়াই হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর উসমানীয় সাম্রাজ্যকে বিভক্ত করা হয়েছিল।

আনাতোলিয়ায় মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক‌ ও তার সহযোগীদের মাধ্যমে গ্র্যান্ড ন্যাশনাল এসেম্বলি গঠন হওয়ার পর তুর্কি জাতীয় আন্দোলন উৎপত্তি লাভ করে। তুর্কি-আর্মেনীয়, ফরাসি-তুর্কি, গ্রীক-তুর্কি যুদ্ধ (এগুলোকে যথাক্রমে যুদ্ধের পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম রণাঙ্গন বলে অবিহিত করা হয়) শেষ হওয়ার পর সেভ্রেস চুক্তি বাতিল করা হয়ে ১৯২৩ সালের জুলাই মাসে লুসানের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মিত্রশক্তি আনাতোলিয়া ও পূর্ব থ্রেস ত্যাগ করে এবং গ্র্যান্ড ন্যাশনাল এসেম্বলি তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর এই প্রজাতন্ত্র ঘোষিত হয়। (সম্পূর্ণ নিবন্ধ...)
বাছাইকৃত নিবন্ধের তালিকা

সাধারণ চিত্র

নিম্নোক্ত ছবিগুলো গলো উইকিপিডিয়ার তুরস্ক সম্পর্কিত বিভিন্ন নিবন্ধগুলোর চিত্র।

আপনি জানেন কি - ভিন্ন ভুক্তি দেখান

লুয়া ত্রুটি মডিউল:Transclude_DYK এর 13 নং লাইনে: No content for page প্রবেশদ্বার:তুরস্ক/আপনি জানেন কি/আর্কাইভ।

বাছাইকৃত চিত্র

বাছাইকৃত জীবনী - আরেকটি দেখান

পিরি রেইসের ভাস্কর্য

আহমেদ মুহিদ্দীন পিরি (১৪৬৫/১৪৭০–১৫৫৩/১৫৫৪), যিনি পিরি রেইস (তুর্কি: পিরি রেইস; বা, হাছি আহমাদ মহিউদ্দীন পিরি বিইএ) নামেই অধিক পরিচিত, ছিলেন একজন উসমানীয় সামরিক প্রশাসক, যোগাযোগবিদ, মধ্যযুগের ভূগোলবিদ এবং মানচিত্রাঙ্কনবিদ

বর্তমানে পিরি রাইস তার মানচিত্র ও তালিকার সংকলনের বই কিতাব-ই বাহরিই (পরিচালনাবিদ্যা সম্পর্কিত পুস্তক) গ্‌রন্তটির জন্য সমধিক পরিচিত। এতে তিনি সেসময়ের পরিচিত বিশ্বের জন্য একটি অধযনিক মানচিত্র অঙ্কন করেছিলেন যেটি 'পিরি রেইসের মানচিত্র' নামে পরিচিত। এতে তিনি সাহারাকে কেন্দ্র করে একটি পুর্নাঙ্গ বিম্ব মানচিত্র অঙ্কন করেন। (সম্পূর্ণ নিবন্ধ...)

বাছাইকৃত ভিডিও - আরেকটি দেখান

"প্রবেশদ্বার:তুরস্ক/বাছাইকৃত ভিডিও/৭" নামক কোন পাতার অস্তিত্ব নেই।

বাছাইকৃত উক্তি - আরেকটি দেখান

"প্রবেশদ্বার:তুরস্ক/উক্তি/আর্কাইভ/২" নামক কোন পাতার অস্তিত্ব নেই।

স্বীকৃত বিষয়বস্তু

Featured article star.svg মোল্লা নাসিরুদ্দিন, প্রথম সুলাইমান, তুরস্ক, তুর্কি ভাষা, আল্প আরসালান, বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য, রোক্সেলানা, রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, তুর্কীয় জাতিসমূহ, তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধ, গ্যালিপলির যুদ্ধ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক, সাইদ নুরসি, নাজিমউদ্দিন এরবাকান, প্রথম মুহাম্মদ (উসমানীয় সুলতান), কনস্টান্টিনোপল বিজয়, মুহতেশেম ইউযিউয়েল, ফেতিহ ১৪৫৩, ফাতিহ আকিন, মেসুত ওজিল, আরদা তুরান, উসমানীয়-ওয়াহাবি যুদ্ধ, আদনান ওকতার, ফেতুল্লাহ গুলেন

প্রদেশ

বিষয়বস্তু

বিষয়শ্রেণী

Category puzzle
বিষয়শ্রেণী দেখতে [►] বাছাই করুন

সম্পর্কিত প্রবেশদ্বার

উইকিমিডিয়া

Wikinews-logo.svg
উইকিসংবাদে তুরস্ক
উন্মুক্ত সংবাদ উৎস

Wikiquote-logo.svg
উইকিউক্তিতে তুরস্ক
উক্তি-উদ্ধৃতির সংকলন

Wikisource-logo.svg
উইকিসংকলনে তুরস্ক
উন্মুক্ত পাঠাগার

Wikibooks-logo.png
উইকিবইয়ে তুরস্ক
উন্মুক্ত পাঠ্যপুস্তক ও ম্যানুয়াল

Wikiversity-logo.svg
উইকিবিশ্ববিদ্যালয়ে তুরস্ক
উন্মুক্ত শিক্ষা মাধ্যম

Commons-logo.svg
উইকিমিডিয়া কমন্সে তুরস্ক
মুক্ত মিডিয়া ভাণ্ডার

Wiktionary-logo.svg
উইকিঅভিধানে তুরস্ক
অভিধান ও সমার্থশব্দকোষ

Wikidata-logo.svg
উইকিউপাত্তে তুরস্ক
উন্মুক্ত জ্ঞানভান্ডার

Wikivoyage-Logo-v3-icon.svg
উইকিভ্রমণে তুরস্ক
উন্মুক্ত ভ্রমণ নির্দেশিকা

প্রবেশদ্বার

সার্ভার ক্যাশ শোধন