পর্যায় সারণী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
Simple Periodic Table Chart-en.svg

পর্যায় সারণী, বা ইংরেজীতে যাকে বলা হয় পিরিয়ডিক টেবিল (Periodic Table), হচ্ছে বিভিন্ন মৌলিক পদার্থকে একত্রে উপস্থাপনের একটি আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত ছক। অদ্যাবধি আবিষ্কৃত মৌলসমূহকে তাদের ধর্মাবলী বিবেচনায় নিয়ে এবং সমধর্মীতার ওপর ভিত্তি করে এই ছকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করে যোজনীরমাফিক ক্রমিক পর্যায়ে সাজানো হয়েছে বলে একে “পর্যায় সারণী” নামে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। এখন বর্তমান এ ২০১৬ এর ৮ ই জুন iupac সকল মৌল কে নামকরণ করে।

সংযোজিত তথ্য, বিন্যাস ও জটিলতার ভিত্তিতে পর্যায় সারণীর বেশ কয়েকটি রূপ রয়েছে যথা:

সর্বাধুনিক পর্যায় সারণী[সম্পাদনা]

১৯৮৯ সালে ইউপ্যাকের (IUPAC - International Union Of Pure And Applied Chemistry)সিদ্ধান্তক্রমে মৌলের সর্ববহিঃস্থস্তরের ইলেক্ট্রন সংখ্যা অনুযায়ী মৌলের শ্রেণীসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। আর এভাবেই সর্বাধুনিক পর্যায় সারণীর পত্তন ঘটে। এতে মোট ১৮টি শ্রেণী এবং ৭টি পর্যায় রয়েছে। এতে পর্যায়সমূহকে ইংরেজি 1,2,3,4,5,6,7 সংখ্যা দ্বারা এবং শ্রেণীসমূহকে রোমান হরফের বদলে ইংরেজি 1,2,3,4,5,6,7,8,9,10,11,12,13,14,15,16,17,18 সংখ্যাগুলো দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

কোন মৌল সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে উক্ত মৌলের নামের উপর ক্লিক করুন

শ্রেণী → ১০ ১১ ১২ ১৩ ১৪ ১৫ ১৬ ১৭ ১৮
↓ পর্যায়

H


He

Li

Be


B

C

N

O

F
১০
Ne
১১
Na
১২
Mg

১৩
Al
১৪
Si
১৫
P
১৬
S
১৭
Cl
১৮
Ar
১৯
K
২০
Ca
২১
Sc
২২
Ti
২৩
V
২৪
Cr
২৫
Mn
২৬
Fe
২৭
Co
২৮
Ni
২৯
Cu
৩০
Zn
৩১
Ga
৩২
Ge
৩৩
As
৩৪
Se
৩৫
Br
৩৬
Kr
৩৭
Rb
৩৮
Sr
৩৯
Y
৪০
Zr
৪১
Nb
৪২
Mo
৪৩
Tc
৪৪
Ru
৪৫
Rh
৪৬
Pd
৪৭
Ag
৪৮
Cd
৪৯
In
৫০
Sn
৫১
Sb
৫২
Te
৫৩
I
৫৪
Xe
৫৫
Cs
৫৬
Ba
*
৭২
Hf
৭৩
Ta
৭৪
W
৭৫
Re
৭৬
Os
৭৭
Ir
৭৮
Pt
৭৯
Au
৮০
Hg
৮১
Tl
৮২
Pb
৮৩
Bi
৮৪
Po
৮৫
At
৮৬
Rn
৮৭
Fr
৮৮
Ra
**
১০৪
Rf
১০৫
Db
১০৬
Sg
১০৭
Bh
১০৮
Hs
১০৯
Mt
১১০
Ds
১১১
Rg
১১২
Cn
১১৩
Nh
১১৪
Fl
১১৫
Mc
১১৬
Lv
১১৭
Ts
title="noble gas; Radio; Solid(Predicted)" style="text-align:center; color:টেমপ্লেট:Element color/Solid(Predicted); background:#ecfefc; border:টেমপ্লেট:Element frame/Radio;" | ১১৮
Og

* ল্যান্থানাইড সারি ৫৭
La
৫৮
Ce
৫৯
Pr
৬০
Nd
৬১
Pm
৬২
Sm
৬৩
Eu
৬৪
Gd
৬৫
Tb
৬৬
Dy
৬৭
Ho
৬৮
Er
৬৯
Tm
৭০
Yb
৭১
Lu
** অ্যাক্টিনাইড সারি ৮৯
Ac
৯০
Th
৯১
Pa
৯২
U
৯৩
Np
৯৪
Pu
৯৫
Am
৯৬
Cm
৯৭
Bk
৯৮
Cf
৯৯
Es
১০০
Fm
১০১
Md
১০২
No
১০৩
Lr

বিশেষ দ্রষ্টব্য[সম্পাদনা]

  • অ্যাক্টিনাইডল্যান্থানাইড সিরিজের মৌলসমূহকে একত্রে "বিরল মৃত্তিকা ধাতু" নামে অভিহিত করা হয়। এই মৌলগুলোর শ্রেণী সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্যের জন্য এখানে ক্লিক করুন।
  • ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, অবস্থান্তর মৌল, অন্তঃঅবস্থান্তর মৌল, ল্যান্থানাইড, অ্যাক্টিনাইড এবং দুর্বল ধাতু এই সবগুলোকে একত্রে ধাতু বলা হয়।
  • হ্যালোজেন এবং নিষ্ক্রিয় গ্যসসমূহও অধাতু।

অবস্থা[সম্পাদনা]

আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপ (0°সে. এবং ১ atm) ধর্তব্য

  • যে সমস্ত মৌলের ব্লক red রংয়ের সেগুলো বায়বীয়
  • যে সমস্ত মৌলের ব্লক green রংয়ের সেগুলো তরল
  • যে সমস্ত মৌলের ব্লক black রংয়ের সেগুলো কঠিন

প্রকৃতিগত সাংগঠনিক বৈশিষ্ট্যসমূহ[সম্পাদনা]

  • যে মৌলগুলোর ব্লকে অবিচ্ছিন্ন সীমারেখা আছে সেগুলো আদিম মৌল, অর্থাৎ তাদের যেকোন একটি স্থিতিশীল আইসোটোপের বয়স পৃথিবীর বয়সের চেয়ে বেশী।
  • যে মৌলগুলোর ব্লকে ড্যাশ আকারের সীমারেখা আছে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্যান্য মৌলের তেজস্ক্রিয় ভাঙনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় এবং এগুলোর এমন কোন স্থিতিশীল আইসোটোপ নেই যেটির বয়স পৃথিবীর বয়সের চেয়ে বেশী। তবে এগুলোর মধ্যে কয়েকটিকে কিছু তেজস্ক্রিয় আকরিকের মধ্যে খুব সামান্য পরিমাণে পাওয়া যায়।
  • যে সমস্ত মৌলের ব্লকে ডট আকারের সীমারেখা রয়েছে সেগুলো কৃত্রিম মৌল হিসেবে পরিচিত, অর্থাৎ এগুলো প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয়না।
    • দ্রষ্টব্য: ক্যালিফোর্নিয়াম (Cf) নামক মৌলটি যদিও পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয়না, তথাপি ক্যালিফোর্নিয়াম এবং এর তেজস্ক্রিয় ভাঙনের মাধ্যমে সৃষ্ট অন্যান্য কিছু মৌল মহাবিশ্বের অন্যান্য স্থানে পাওয়া যায়। বিভিন্ন সুপারনোভা থেকে প্রাপ্ত বর্ণালীতে এ মৌলসমূহের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ রেখার অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
  • যে মৌলগুলোর ব্লকে কোন সীমারেখা নেই সেগুলো প্রকৃতিতেও পাওয়া যায় না এবং কৃত্রিমভাবেও সেগুলোকে এখন পর্যন্ত তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

মৌলের অবস্থান চিহ্নিতকরণ[সম্পাদনা]

উপশক্তিস্তর: S G F D P
পর্যায়
1 1s
2 2s 2p
3 3s 3p
4 4s 3d 4p
5 5s 4d 5p
6 6s 4f 5d 6p
7 7s 5f 6d 7p
8 8s 5g 6f 7d 8p
9 9s 6g 7f 8d 9p

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৭৮৯ সনে, অ্যান্তনি ল্যভয়সিয়ে ৩৩ টি রাসায়নিক উপাদান এর সারণী প্রকাশ করেন। যদিও ল্যভয়সিয়ে উপাদান সমূহকে বায়বীয়, ধাতব, অ-ধাতব এবং শিলা -তে বিভক্ত করেন, সমসাময়ীক রসায়নবিদগণ আরও উন্নত শ্রেণীবিণ্যাসকরণ পদ্ধতির সন্ধান করছিলেন।ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহনকারী বিজ্ঞানী জন নিউল্যান্ড ১৮৬৪ সালে মৌলগুলোকে তাদের ভর অনুসারে সাজিয়ে মৌলগুলোর প্রতি অষ্টম মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের মধ্যে মিল পান । পরবর্তিকালে ১৮৬৯ সালে রুশ বিজ্ঞানী ম্যান্ডেলিফ এবং জার্মান বিজ্ঞানী লুথার মেয়র মিলে আধুনিক পর্যায় সারণি প্রকাশ করেন । তখন ৬৭ টি মৌল নিয়ে পর্যায় সারণি গঠিত হয়েছিল যার মধ্যে ৬৩ টি আবিষ্কৃত হয়েছিলো । ১৯০০ সালের মধ্যে আরও ৩০ টি মৌল পর্যায় সারণিতে যুক্ত হয় । এভাবেই সূচনা হয় আধুনিক পর্যায় সারণির । [চলবে]

নিবন্ধের উৎস[সম্পাদনা]

  • উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র - প্রফেসর মো. মহির উদ্দিন, লায়লা মুসতারিন, ড. তানভীর মুসলিম, হাছিনা বেগম মাছুমা।
  • উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র - ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী, হারাধন নাগ।
  • রসায়ন - নবম দশম শ্রেণী ।

প্রাসঙ্গিক নিবন্ধসমূহ[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]